রাত বারোটা পার হয়ে গেল অথচ এখনও ইমদাদের আসার কোন নাম নেই। কলি অস্থির হয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে ঘরের মাঝে পায়চারি করছে। একটু আগে এসে খাদিজা বুঝিয়ে রেখে গেছে যে কিছু হবে না। কাজ শেষ হলে চলে আসবে ইমদাদ। কিন্তু তাও কলির মন মানতে চাইছে না। মন মানবেই বা কি করে ফোনটাও তো রিসিভ করছে না ছেলেটা।
কলির মাঝে মাঝে ইমদাদের মাথাটা ফাটিয়ে দিতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে ইমদাদের মাথার চুল গুলো সব টেনে ছিঁড়তে। ঘাড়ের উপর উঠে বসে কিল লাগাতে ইচ্ছে করে। এত অসভ্য, বেয়াদব আর গা ছাড়া ছেলে কলি জীবনে কখনো দেখেনি। আরে বাবা কাউকে না বললি অন্তত নিজের বউকে তো বলতে হয় যে কোথায় যাচ্ছে, কখন ফিরবে, এখন কি অবস্থা।
কলির এসব ভাবনার মাঝেই ঘরের দরজার কাছে শব্দ হলো। দরজার দিকে তাকাতেই দেখল ইমদাদ ঘরে ঢুকে দরজার ছিটকিনি লাগাচ্ছে। ইমদাদ যে কলির দিকে এগিয়ে আসবে এতোটুকু সময় কলির সহ্য হলো না। তাড়াহুড়ো করে নিজেই ইমদাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে উদ্বিগ্ন গলায় বলল,
“কোথায় ছিলে তুমি? নিজে কল করে নাই জানালে যে কি অবস্থায় আছো। অন্তত আমার কলটা তো রিসিভ করতে পারো। কি এমন জরুরী কাজ ছিল তোমার যে আমার কল রিসিভ করারও সময় পাওনা?”
পিছন ঘুরে তাকিয়ে ইমদাদ কিছুক্ষণ কলির মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। মেয়েটার চোখ মুখের অবস্থা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে কতটা চিন্তায় ছিল ইমদাদকে নিয়ে। আচ্ছা কেন চিন্তা করছিল? ভয় পাচ্ছিল? হয়ত এই ভয়ে ছিল যে ইমদাদের কিছু হয়ে গেলে কলির কি হবে?
“ধর আমি বাড়ি ফিরলাম না। কি করতি তুই?”
“অদ্ভুত তো! বাড়ি ফিরবে না কেন? কোথায় যাবে? ওহ্, এই শহরে তো আবার তোমার প্রেমিকার বাড়ি আছে।”
“আজেবাজে কথা বাদ দে। ধর আমি কারো বাড়িতেই গেলাম না। তোর কাছেও ফিরলাম না। তখন তোর অবস্থাটা ঠিক কেমন হবে?’
কলি বিরক্তিকর গলায় বলল,
“আরে বাবা ফিরবে না কেন সেই কারণটা তো জানাতে হবে আমায়। অযথা ফিরবে না বললেই হলো? কোথায় যাবে?”
“ধর আমার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে গেল। স্পট ডে'ড। এদিকে তুই বাড়িতে আমার জন্য অপেক্ষা করে বসে আছিস। কিন্তু আমি ফিরলামই না। হঠাৎ করে তোর কাছে হসপিটাল থেকে একটা কল এলো যে ইমদাদ ম'রে গেছে। তখন…...”
ইমদাদ নিজের কথাটা সম্পূর্ণ করার আগেই কলি একহাতে ইমদাদের মুখ চেপে ধরে উৎকণ্ঠিত গলায় বলল,
“কি যা তা বলছো। এইভাবে অ্যাক্সিডেন্ট হয় নাকি? তাও আবার স্পট ডে'ড। ধুরু! এসব বলতে নেই।”
ইমদাদ মুখ থেকে কলির হাতটা নামিয়ে নিয়ে ফের বলল,
“রোজ কত মানুষ এভাবে ম'র'ছে। ধর কোন একদিন তাদের মাঝে আমার নামও চলে এলো। বল না তুই তখন কি করবি? কষ্ট পাবি? কাঁদবি আমার জন্য? কতদিন কাঁদবি? কতদিন মনে থাকবে আমার কথা? কতদিন পর আবার বিয়ে করবি?”
কলি এবারে রাগান্বিত গলায় বলল,
“আর একটা আজেবাজে কথা বললে অ্যাক্সিডেন্টের দরকার পড়বে না কিন্তু। আমি নিজেই তোমার মাথা ফাটিয়ে দেবো। এমনিতেই তোমার এইসব গা ছাড়া আচরণের জন্য আমার মাথা গরম হয়ে আছে। তার মধ্যে কি ম'রা, বিয়ে করা লাগিয়েছো। পাগল কোথাকার!”
কথাটা বলে কলি চলে যেতে ধরলে ইমদাদ ওর হাত টেনে ধরল। একটানে নিজের কাছে নিয়ে এলো। কলি হুমরি খেয়ে পড়লো ইমদাদের উপরে। তাল সামলাতে না পেরে একটু পিছিয়ে গেল ইমদাদ। তবুও কলিকে ছাড়লো না।
কলির দু হাত তখন ইমদাদের কাঁধে আর ইমদাদ নিজের দুই হাতে কলির কোমর আঁকড়ে ধরে আছে। ইমদাদের তপ্ত নিশ্বাস কলির মুখের উপরে আছড়ে পড়তেই কলির গা শিউরে উঠছে।
কলির আবারো মনে হচ্ছে ইমদাদের চোখ গুলো যেন কিছু বলতে চাইছে কলি কে। যেটা কলি ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। খুব আকুলতা ইমদদের চোখ দুটোর মাঝে। যেন কোন কিছু চাইছে কলির থেকে। কিন্তু মুখ ফুটে সেটা বলতেও পারছে না। কলি বুঝে উঠতে পারলো না কিসের এত আকুলতা, কিসের এত অসহায়ত্ব ইমদাদের। আর কলির কাছে কিইবা এমন আছে ইমদাদ কে দেওয়ার মতন। ও তো নিজেই ইমদাদের উপর নির্ভরশীল।
কলির এসব ভাবনার মাঝেই ইমদাদ কন্ঠে তুমুল আকুলতা নিয়ে বলল,
“আমি না থাকলে কি তোর কিচ্ছু যায় আসবে না কলি? আমার কথা কি একটুও মনে পড়বে না? আমি কি তোকে এতগুলো দিনেও আমার ভালোবাসা অনুভব করাতে পারিনি?”
আজ আবারও দ্বিতীয়বারের মতন ইমদাদের মুখ থেকে ভালোবাসা শব্দটা শুনতেই কলি মৃদু কেঁপে উঠলো। তড়িৎ গতিতে পাল্টা প্রশ্ন করলো,
“ভালোবাসো?”
“বুঝতে পারিস না?”
“মন মানতে চায় না।”
“কেন?”
“তোমার থেকে অবহেলা পেয়ে আমি অভ্যস্ত। সেই তোমার মুখে হঠাৎ করে আবার ভালোবাসার কথা শুনে বিব্রত হই। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।”
“যদি বলি সত্যি ভালোবাসি? যদি বলি তোর সাথে সারা জীবন কাটাতে চাই? যদি বলি আমার অবহেলার মাঝেও তোর প্রতি একটা সূক্ষ্ম ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে যেটা তুই বুঝতে পারিস না তবে বিশ্বাস করবি?”
তৎক্ষণাৎ কোন উত্তর দিল না কলি। একটু যেন ভাবনার মাঝে পড়লো। কিছুক্ষণ ভাবনা চিন্তা করে আর উত্তর দেওয়ার ইচ্ছে হলো না কলির। এই বিষয়ে আর ভাবারও কোন ইচ্ছে হলো না। ইমদাদের থেকে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করলো। তবে ইমদাদ ছাড়লো না। আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল কলিকে।
আগেই আর কোন কিছু না বলে নিজের উষ্ণ অধর জোড়া কলির কপালে ছোঁয়ালো। ইমদাদের এই ভালোবাসাময় স্পর্শ শুধু কলির কপাল অব্দিই সীমাবদ্ধ থাকলো না। ধীরে ধীরে গাল, নাক, ঠোঁটের কোনা, তারপরে গলার ভাঁজেও নেমে এলো।
কলির সর্বাঙ্গ শিউড়ে উঠলো। হুট করে কেমন যেন অস্থিরতা অনুভব করলো নিজের মাঝে।খুব করে চেষ্টা করলো ইমদাদের থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য। কেননা ইমদাদ শুধু নিজের ঠোঁটের ছোঁয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই। ধীরে ধীরে ইমদাদের হাত কলির পিঠ, কোমর সর্বত্র নিজের বিচরণ চালাচ্ছে। যা কলিকে আরো অস্থির করে তুলছে। কেমন যেন হাঁসফাঁস করছে কলি। একপর্যায়ে যখন এই অস্থিরতা কলির জন্য তুমুল বিরক্তিকর হয়ে উঠলো তখন বাধ্য হয়ে ইমদাদ কে বলল,
“ছাড়ো।”
ইমদাদ ছাড়লো না কলিকে। কলির গলার ভাঁজ থেকে মুখ তুলে কলির কপালের সাথে নিজের কপাল ঠেকালো। কলি অনুভব করতে পারলো ওর শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি যেমন কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, ঠিক তেমনি ইমদাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। দুজনের হৃদস্পন্দনের গতিও বেড়ে গেছে। দুজনের মাঝেই তুমুল অস্থিরতা কাজ করছে।
“যদি আমার এই ছোঁয়ার মাঝে তোর কোনো অস্বস্তি না হয়, যদি তুই আমার অস্থিরতার আসল কারণ বুঝতে পারিস। তবে খুব ভালোভাবে অনুভব করতে পারবি কলি আমার ভালোবাসা। আর যদি তোর অস্বস্তি হয় তাহলে আমি সত্যি তোকে আমার ভালোবাসা বোঝাতে ব্যর্থ।”
ইমদাদ খুব শঙ্কায় ছিল কলির উত্তর নিয়ে। কেননা ইমদাদ খুব ভালো করেই জানে যে কলি হয়তো ইমদাদের ভালোবাসাটা অনুভব করতেই পারবে না। হয়ত একটা দ্বিধা দ্বন্দ্বের মাঝে পড়বে। তবে ইমদাদের সেই সমস্ত ধারণাকে মিথ্যে প্রমাণ করে দিয়ে কলি বলে উঠলো,
“আমার অস্বস্তি হচ্ছে না।”
ইমদাদ যেন একটু হলেও ইতিবাচক সাড়া পেল কলির থেকে। তবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারলো না। এখনো কলি কে কিছু কথা বলা বাকি রয়ে গেছে।
“সেদিন তোকে জোর করে বিয়ে করেছিলাম ঠিকই। তবে তোর খারাপের জন্য না, তোকে কষ্ট দেওয়ার জন্যও না। তোর নিরাপত্তার জন্য করেছিলাম। তোকে নিজের কাছে রাখার জন্য করেছিলাম। এ ছাড়া তোকে বিয়ে করার কোন উপায় ছিল না।”
“বুঝেছি আমি। আগে অভিযোগ ছিল এখন আর নেই। মাঝে মাঝে নিজের ভালোর জন্য নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েও কিছু কাজ করতে হয়। যার কারণে পরে আর আফসোস হয় না।”
“ভালোবাসিস আমায়?”
“বিশ্বাস করি তোমায়। নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি তোমার উপরে। তোমার কষ্ট দেখলে কষ্ট লাগে। তোমায় হাসতে দেখলে আমারও হাসতে ইচ্ছে করে। তোমায় ছাড়া একা একা দিন কাটতে চায় না।”
কলি হয়তো বলল না ঠিকই যে ভালোবাসে ইমদাদ কে। তবে ওর এই কথাগুলোর দ্বারা ইমদাদ অনেক কিছুই বুঝে গেল। আর যেন ইমদাদের মনে কোন শঙ্কা রইল না। কোন দ্বিধাদ্বন্দ রইল না। ইমদাদ ঠোঁটে আলতো হাসি ফুটিয়ে তুলে বলল,
“আজকের পর থেকে আর আমায় ছাড়া একা একা রাতও কাটতে চাইবে না।”
কথাটা বলে ইমদাদ কলি কে কোলে তুলে নিলো। কলি ইমদাদের পাঞ্জাবি খামচে ধরলো। দুজনের পূর্ণ মনোযোগ তখন দুজনের চোখে। দুজনেই বুঝতে পারছে তাদের মাঝে কি হতে যাচ্ছে। দুজনেই বুঝতে পারছে আজ তাদের সম্পর্কটা পূর্ণতা পাবে। দুজনেই বুঝতে পারছে আজ তারা অনেকটা দূর এগিয়ে যাবে। দুজনেই বুঝতে পারছে আজ কোন কিছু না বলেও দুজনের মাঝে ভালোবাসার আদান-প্রদান হয়ে যাবে।
এতোটুকুই তো প্রয়োজন ছিল। দুজনের দুজনকে ভালোবাসার একটা সুযোগ প্রয়োজন ছিল। দুজনের কাছে আসার জন্য একটা সুযোগ প্রয়োজন ছিল। আজ সেটা পেয়ে গেল।
___________
সকালে ঘুম ভাঙতেই ইমদাদ পাশে কলিকে খুঁজে পেল না। কলির নাম ধরে কয়েকবার ডাকলো কিন্তু তাও মেয়েটার দেখা পেল না। ঘুমটা ভেঙে গেলে ইমদাদের। উঠে বসে ঘড়িতে সময় দেখলো সকাল নয়টা বাজে। এত দেরি অবধি কি করে ঘুমোলো ইমদাদ? এত দেরি তো হওয়ার কথা না।
পরক্ষণেই মনে পড়ে গেল গতকাল রাতের কথা। অনেক রাত অব্দি তো জেগে ছিল দুজনে। ঘুমিয়েই তো ছিল ভোরের দিকে।
গতকাল রাতের কথা মনে পড়তেই ঠোঁটে এমনিতেই হাসি ফুটে উঠলো ইমদাদের। একটু যেন লজ্জাও পেল। পাশে খুলে রাখা নিজের পাঞ্জাবিটার দিকে তাকাতেই লজ্জাটা যেন আরো বাড়লো। একহাতে মাথা চুলকে ভাবলো যদি ওরই এই অবস্থা হয়ে থাকে তাহলে না জানি কলির কি অবস্থা। মেয়েটা আদৌও এই বাড়িতে আছে তো! নাকি আবার দেশ ছেড়ে পালালো!
___________
ফ্রেশ হয়ে ইমদাদ সকালের নাস্তা করতে এলো। দেখলো চেয়ারে খাদিজা বসে আছে। এক হাতে বই আর এক হাতে খাচ্ছে। আর পড়ছে।
“পরীক্ষা আছে নাকি?”
খাদিজা ব্যস্ত ভঙ্গিতে বলল,
“হ্যাঁ ভাইয়া। দোয়া করো।”
খাদিজার সাথে টুকটাক আরো কিছু কথাবার্তা বলে ইমদাদ বলা উঁচিয়ে রান্নাঘরে থাকা জাবেদা বেগম কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“বড় আম্মু খেতে দাও।”
জাবেদা বেগম তখন পরোটা ভাজছেন। কলি ওনার পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। এতক্ষণ টুকটাক সাহায্য করেছে কলি। তবে রান্নাবান্নাতে তো একেবারে ঢেঁড়স। সেই জন্য খুব বেশি সাহায্য করতে পারেনি। ইমদাদের গলাটা ভেসে আসতেই তিনি তড়িঘড়ি করে কলি কে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“কলি, একটা বাটিতে পায়েস দাও। ফ্রিজে দেখো মিষ্টি আছে সেটাও নিয়ে এসো। ততক্ষণে আমি ডিম ভাজি। তারপর খাবারটা দিয়ে এসো ইমদাদ কে।”
সব ঠিক ছিল। কিন্তু ইমদাদের সামনাসামনি যেতে হবে এই কথাটা শুনতেই কলি আঁৎকে উঠে বলল,
“না না বড় আম্মু। আমি যাব না। তুমি যাও।”
জাবেদা বেগম ভ্রুঁ কুঁচকে বললেন,
“কিন্তু কেন? আচ্ছা ঠিক আছে তোমাকে কিছু করতে হবে না। আমি সব তৈরি করে দিচ্ছি। তুমি গিয়ে শুধু প্লেটটা দিয়ে এসো ইমদাদ কে।”
কলি ফের তড়িঘড়ি করে জাবেদা বেগমের কথায় অসম্মতি জানিয়ে বলল,
“না। আমি যাব না। তুমি যাও না! কি হবে একটু গেলে! একটু তো বোঝো।”
“অদ্ভুত তো! যাবে না কেন? তুমি সেই কারণটা তো আমাকে বলো। ইমদাদ কি বাইরের মানুষ? তোমার স্বামী।”
কলি মিনমিন করে বলল,
“ওটাই তো সমস্যা।”
কলি মুখ কাচুমাচু করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো। জাবেদা বেগম নিজেই প্লেটে সবকিছু সাজিয়ে দিয়ে প্লেটটা কলির হাতে দিয়ে জোর করে ওকে ইমদাদের কাছে পাঠিয়ে দিল।
রান্নাঘর থেকে বেরোতেই কলি দেখল ইমদাদ চেয়ারে বসে আছে। ইমদাদ কে দেখতেই গতকাল রাতের কথা মনে পড়ে গেল কলির। সঙ্গে সঙ্গে খিঁচে দুচোখ বন্ধ করে দিল। কি লজ্জা! কি লজ্জা!
কি দরকার ছিল গতকাল রাতে আগ বাড়িয়ে পাকনামি করে সম্মতি দেওয়ার। এখন ইমদাদের সামনে যাবে কি করে? আর এই ছেলেটাও তো খুব একটা সুবিধার না। কলি কে খোঁচাবে না? অবশ্যই খোঁচাবে। একবার না একবার যেকোনো ভাবে হলেও গতকাল রাতের কথা ঠিক মনে করিয়ে দেবে। আর কলি তখন কি করবে? কোথায় পালাবে?
কলির এসব ভাবনার মাঝেই পিছন থেকে জাবেদা বেগম বলে উঠলেন,
“কি হলো কলি যাও। পরোটা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তো।”
জাবেদা বেগমের কণ্ঠস্বরটা ইমদাদের কানেও গেল। ঘাড় কাত করে তাকাতেই দেখলো কলি ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। ইমদাদকে তাকাতে দেখে কলি নড়েচড়ে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে নিজের দৃষ্টি নামিয়ে নিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করল। জোরে জোরে কয়েকটা শ্বাস ফেলে ইমদাদের দিকে এগিয়ে এসে ওর সামনে প্লেটটা রাখলো।
প্লেটটা রেখেই কলি চলে যেতে চাইলো। তবে ইমদাদ ওর হাত টেনে ধরলো। মুহূর্তের মাঝে আবারো জমে গেল কলি। একেই তো ইমদাদ কে দেখে লজ্জা পাচ্ছে তার উপরে আবার পাশে বসে আছে খাদিজা। আর এর মাঝে টেনে ধরলে ওর হাত। ছিঃ! এই মুখ কলি কাউকে দেখাবে কি করে!
কলির এসব ভাবনার মাঝে ইমদাদ বলে উঠলো,
“তুমি খেয়েছো?”
কলি এতক্ষণ খিঁচে দুচোখ বন্ধ করে রেখেছিল। ইমদাদের মুখে তুমি সম্মোধনটা শুনতেই চোখ খুলে জিজ্ঞেস করলো,
“কাকে বললে?”
“তোমায়। খেয়েছো?”
কলির ঠিক হজম হলো না ব্যাপারটা। আবারো জিজ্ঞেস করলো,
“আমাকে বলছো? আমাকেই বলছো?”
ইমদাদ এবারে কিঞ্চিৎ বিরক্তিকর গলায় বলল,
“হ্যাঁ রে বাবা তোমাকেই বলছি। খেয়েছো তুমি?”
ইমদাদা বুঝতে পেরেছে কলির এই অবিশ্বাসের কারণটা। তবে সেটা কলিকে বুঝতে দিল না। পাশের চেয়ারে বসা খাদিজা ঠোঁট টিপে হেসে বলল,
“এক রাতের মাঝে হঠাৎ করে তুই থেকে তুমি তে সম্পর্কটা কি করে এসে গেল ভাইয়া? ব্যাপারটা কিন্তু খুবই ইন্টারেস্টিং।”
খাদিজা যে ঠিক কি বোঝাতে চাইলো সেটা ইমদাদ কিংবা কলি কারোরই আর বুঝতে বাকি রইলো না। সঙ্গে সঙ্গে লজ্জায় মিইয়ে গেল কলি। এক ঝটকায় ইমদাদের থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে দৌড়ে আবার রান্নাঘরে গেল। ইমদাদের নিজেরও একটু অস্বস্তি হচ্ছে খাদিজার সামনে বসে থাকতে। খাদিজা সেটা বুঝতে পারলো। তাড়াহুড়ো করে খাবার শেষ করে উঠে দাড়িয়ে বলল,
“থাক হয়েছে। আর লজ্জা পেতে হবে না। তেমন কিছু বলিনি আমি। তোমারই বউ। তুমি করে ডাকতেই পারো। আমার কি।”