“ওকে আমি বিয়ে করবো না। ম’রে গেলেও ওকে আমি বিয়ে করবো না।”
মেয়েদের মুখে মুখে তর্ক করা একদমই পছন্দ করেন না কামাল সরদার। ফলস্বরূপ কলির তর্ক করা তার পছন্দ হলো না। গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন,
“তোমার থেকে তোমার মতামত জানতে চাইনি আমি। আমার সিদ্ধান্ত জানাচ্ছি তোমায়। আগেকার দিনে তো কার সাথে বিয়ে হচ্ছে সেটা দেখারও সুযোগ পেত না মেয়েরা, সেখানে কৃতজ্ঞ থাকো যে আমরা তোমাকে জানাচ্ছি।”
কলি রাগান্বিত গলায় বলল,
“সে সব আগেকার দিনে হতো দাদু, এখন হয় না। এর আগের বার আমার আপত্তি সত্ত্বেও কিন্তু বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম। তাই বলে যার তার সাথে বিয়ে দেবে আর মেনে নেব নাকি।”
“সমস্যা কি? শাহিন আমাদের বাড়ির ছেলে
ছোটবেলা থেকে ওকে দেখছো, চেনো।”
“চিনি জন্যই তো বিয়ে করব না। তোমার নাতি যদি এতই ভালো হয় তাহলে আমার সাথে বিয়ে দিচ্ছ কেন? আমি তো ভালো মেয়ে না। আর শুনলে না আমার তো বিয়ে হয়েই গেছে। তাহলে আবার বিয়ে হবে কি করে?”
কামাল সরদার অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালেন কলির দিকে। শাম্মি বুঝলেন পরিস্থিতি খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে। কলির বাহু ধরে নিজের দিকে ঘুরে দাঁড় করিয়ে শাসিয়ে বললেন,
“দাদু যা বলছে চুপচাপ সেটা শোন। মুখে মুখে তর্ক করা উনি পছন্দ করেন না জানিস না তুই?”
কলি এক ঝটকায় শাম্মির থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বিরক্তিকর গলায় বলল,
“তুমি থামো তো মা। এতগুলো বছর ধরে তো বাকির যা পছন্দ করে তাই করে এলাম, আর পারব না। আমার জীবনে তো দেখছি কোন স্বাধীনতাই নেই। আগের বার বিয়ে ঠিক করেছিলে মেনে নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম তোমরা আমার পরিবার, নিশ্চয় আমার ভালোর জন্যই এই বিয়েটা দিচ্ছ। কিন্তু এখন তো আমার মনে হচ্ছে তোমরা আমার ভালো চাও না। শুধু কোনমতে আমার বিয়েটা দিতে পারলেই বেঁচে যাও। পাত্র হোক মানুষ কিংবা অমানুষ।”
অনেকক্ষণ থেকে করিম সরদার চুপচাপ সবকিছু সহ্য করে যাচ্ছিলেন। তবে আর সহ্য করা গেল না মেয়ের বেয়াদপি। তবে মেয়ের আগে মেয়ের মাকে সোজা করতে হবে। কেননা মেয়ে তো মায়ের থেকেই এমন শিক্ষা পেয়েছে।
স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সাবধানী বার্তা ছুড়ে বললেন,
“তোমার মেয়েকে থামতে বলো শাম্মি। ওর মাথায় একটা কথা ভালোভাবে ঢুকিয়ে দাও এই বাড়িতে মেয়েরা এত উঁচু গলায় কথা বলে না। ওর বাপ দাদা যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই হবে।”
করিম সরদার ভেবেছিলেন ওনার কথায় হয়তো মেয়ে থেমে যাবে এবারে। কলি একটু ভয় পাবে, তবে তেমন কিছুই হলো না। বরং কলি পুনরায় বলে উঠলো,
“বললাম তো বাবা আমার বিয়ে হয়ে গেছে ইমদাদ ভাইয়ের সাথে। আবার বিয়ে সম্ভব না।গতকাল সবাই জেনে গেছে আমি ইমদাদ ভাইয়ের বউ। তুমি আবার কি করে আমার বিয়ে দিতে চাও?”
“কার বউ তুই?”
রাশভারি কণ্ঠের প্রশ্নটা শুনতেই কেঁপে উঠল কলি। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই দেখলো সাঈদ দাঁড়িয়ে আছে। কলি কে নিজের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে এসে প্রশ্ন করলো,
“কি হলো? উত্তর দে কার বউ তুই?”
কলি কম্পিত গলায় উত্তরে বলল,
“তোমার বন্ধু, ইমদাদের বউ।”
সাঈদ চুপ করে শুধু শুনলো কলির বলা কথাটা। সাঈদের অভিব্যক্তি দেখে বোঝা যাচ্ছে ভীষণ অবাক হয়েছে কলির কথাটা শুনে। কিছুতেই এই কথাটা সাঈদ বুঝতে পারল না যে কলি কি করে ইমদাদের বউ হয়ে গেল।
আর তাছাড়া কলি এখন এই বাড়িতে করছেটা কি? কলির তো গতকালই শ্বশুর বাড়ি চলে যাওয়ার কথা ছিল। আজ তো এই বাড়িটা এতো শান্ত থাকার কথা না। আজতো কলির বৌভাতের অনুষ্ঠানে সবার যাওয়ার কথা। আবার এখন বলছে কলি নাকি ইমদাদের বউ। সাঈদের অনুপস্থিতে হলো কি বাড়িতে?
সাঈদ পুনরায় জিজ্ঞাসু গলায় বলল,
“তুই ইমদাদের বউ কি করে হলি? তোর বরের নাম তো ইমদাদ ছিল না।”
কলির ভয়টা এবার একটু কমেছে। যেহেতু সাঈদ এখনো শান্ত আছে তাই। কলি এবার একটু কঠোর গলায় বলার চেষ্টা করলো,
“সেটা তোমার বন্ধুকে গিয়ে জিজ্ঞেস করো যে আমি কি করে ইমদাদের বউ হলাম।”
কথাটা বলে কলি সেখান থেকে চলে গেল। সাঈদ হা করে কলির যাওয়ার পথে তাকিয়ে রইল। ওর মাথার উপর দিয়ে গেল পুরো ব্যাপারটা।
কলি সেখান থেকে চলে যেতেই করিম সরদার শাম্মি কে উদ্দেশ্য করে রাগান্বিত গলায় বললেন,
“তোমার মেয়ের দেমাগ দেখেছো? এসব তুমি ওকে ছোটবেলা থেকে শেখাচ্ছো যে কি করে বাপ, দাদা, পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে যেতে হয় তাই না? ভদ্রতা শেখাওনি। মানে তুমি একা আমাকে জ্বালিয়ে যখন সুবিধা করতে পারোনি তখন ভেবেছো আমার মেয়েকেই আমার বিরুদ্ধে দাঁড় করাবে?”
শাম্মি চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন। একে একে যে যার ঘরে চলে গেল। বসার ঘর তখন একেবারে ফাঁকা। ছোট টেবিলটার উপর থেকে এক গ্লাস পানি হাতে নিয়ে সোফায় বসে পানিটুকু খেয়ে আবারো গ্লাসটা পূর্বের জায়গায় রেখে দিলেন শাম্মি। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে গা টা সোফায় এলিয়ে দিলেন। আজ যেন তার খুশির দিন।
_________
“ম্যাডাম! প্লিজ ম্যাডাম একটু দরকারী কথা ছিল আপনার সাথে। প্লিজ ম্যাডাম একটু সময় দিন। অনেকগুলো জীবনের ব্যাপার।”
রোজ এমন অসংখ্য আবদার আসে আফসানার কানে যে সে যেন একটু সময় দেয়, দরকারি কথা আছে। তবে অনেকগুলো জীবনের ব্যাপার এই কথাটা কেউ কখনো বলেনি, যার ফলে আফসানা কে থামতেই হলো।
সানগ্লাসটা খুলে ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই দেখল ওদের থেকে একটু দূরে দুজন যুবক দাঁড়িয়ে আছে। মস্তিষ্কে একটু চাপ প্রয়োগ করতেই আফসানার মনে পড়লো সকালে যখন অফিসে এসেছিল তখনও এই দুটো ছেলেকে এখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলো। এখন বিকেল চারটে বাজছে। ছেলেগুলো এখনো এখানেই দাঁড়িয়ে আছে।
মাথার ওপরে ওঠা সূর্যের প্রখর রোদে ঘেমে নাজেহাল অবস্থা। মুখগুলো কালো হয়ে উঠেছে। আফসানার দেখে একটু হলেও মায়া হলো।
আফসানার পাশে দাঁড়ানো ওর অ্যাসিস্ট্যান্ট তূর্য আফসানা কে তাড়া দিয়ে বলল,
“ম্যাডাম চলুন। এরা রোজই আসে। এদের কথায় এত কান দিতে হবে না।”
আফসানা হাত উঠিয়ে তূর্য কে থামিয়ে দিল। আফসানা কে নিজের দিকে তাকাতে দেখে ইমদাদ চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
“ম্যাডাম পাঁচ মিনিট সময় লাগবে। একবার কথা বলবেন প্লিজ! আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছি না আমরা।”
তূর্য ফের বলে উঠলো,
“ম্যাডাম বাদ দিন এদের কথা। এদের সাথে কথা বলা মানে ঝামেলা বাড়ানো।”
আফসানা আবারো হাত উঠিয়ে তূর্যকে থামিয়ে দিয়ে ইশারায় ইমদাদকে কাছে ডাকলো। একটা সুযোগ পেয়ে ইমদাদ আর সময় নষ্ট করতে চাইলো না। তড়িঘড়ি করে এসে কৃতজ্ঞতার কন্ঠে আফসানা কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ম্যাডাম। চির কৃতজ্ঞ থাকবো।”
“অনেকগুলো জীবনের ব্যাপার মানে কি?”
“এই ব্যাপারে শেষে বলছি আপনাকে। আগে পরিচয় দেই। ম্যাডাম আমি ইমদাদ। আর ও আমার বন্ধু সাদিক। আমাদের কাছে একটা বিজনেস আইডিয়া আছে। আমি হান্ড্রেড পারসেন্ট গ্যারান্টি দিয়ে বলছি আপনাকে, যদি আপনি একবার আমাদের আইডিয়াটা শোনেন আপনি বুঝতে পারবেন এই বিজনেসটা ফ্লপ হবেনা। আপনি নিজেও আগ্রহ দেখাবেন।”
আফসানা ভ্রুঁ উঁচিয়ে বলল,
“এত ভালো বিজনেস আইডিয়া যখন আছে তাহলে শুরু করে দিন। আমার পেছনে পড়ে টাইম ওয়েস্ট করছেন কেন?”
“ম্যাডাম আসলে আমাদের কাছে বিজনেস আইডিয়া থাকলেও বিজনেসটা শুরু করার মতন টাকা নেই। যারা নতুন বিজনেস শুরু করে আপনি তো ইনভেস্ট করেন তাদের বিজনেসে। আসলে আমরা সেই আশাতেই এসেছি আপনার কাছে। যদি আপনি একবার আমাদের বিজনেস আইডিয়াটা শুনতেন তাহলে আমরা খুব উপকৃত হতাম।”
আফসানা একটু ভেবে বলল,
“ঠিক শুনেছেন। তবে রোজ আমার কাছে হাজার হাজার মানুষ এই একই রিকুয়েস্ট করে যেন আমি তাদের বিজনেসে ইনভেস্ট করি। কিন্তু আমি এখন আর কোথাও ইনভেস্ট করছিনা কিছু পার্সোনাল প্রবলেমের জন্য। তারা যেহেতু আগে এসেছে আমার কাছে ইনভেস্ট করলে তাদের বিজনেসেই করা উচিত। তাদের কে রেখে আপনার বিজনেসে ইনভেস্ট করবো কেন?”
ইমদাদ দু সেকেন্ড মতন ভেবে বলল,
“তার কারণ হলো আমার বিজনেস আইডিয়া। আমি তো আপনাকে শুরুতেই হান্ড্রেড পারসেন্ট গ্যারান্টি দিয়ে বললাম ম্যাডাম আপনি একবার আমাদের বিজনেস আইডিয়াটা শুনলে পছন্দ করতে বাধ্য হবেন। তার জন্য একটু সময় দরকার।”
“আর যদি আপনাদের বিজনেস আইডিয়া পছন্দ না হয় তাহলে আমার যে সময়টা নষ্ট হবে তার মূল্য কে দেবে? আপনার ধারনা আছে আমি কতটা ব্যস্ত থাকি সারাদিন?”
ইমদাদ আলতো হেসে বলল,
“ব্যস্ত তো আমরাও থাকি ম্যাডাম। আপনাকে তো শুধু ব্যবসা চালাতে হয়, আর আমাদেরকে ব্যবসার সাথে সংসারও চালাতে হয়। এত ব্যস্ততার মাঝেও দিনশেষে আপনি নিজের জন্য সময় ঠিকই রাখেন। সময়মতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন, ইচ্ছে হলে ঘুরতে যেতে পারেন, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পারেন, তবে আমরা তো সেটুকুও করতে পারি না আমরা এতটাই ব্যস্ত। ব্যস্ততার মাঝেই আজ প্রায় এক মাস হলো আপনার একটা অ্যাপোয়েন্টমেন্ট এর জন্য ঘুরছি। তাহলে ভাবুন তো আমরা কতটা সময় নষ্ট করেছি। আর সেখানে আমরা তো আপনার থেকে মাত্র দশ মিনিট সময় চাইছি। এতোটুকুও আপনি দিতে পারবেন না ম্যাডাম?”
আফসানা তৎক্ষণাৎ কোন উত্তর দিল না। আফসানা কে চুপ করে থাকতে দেখে তূর্য ভাবলো আফসানা বোধহয় বিরক্ত হচ্ছে ওদের কথাবার্তায়। ইমদাদ কে একটু ঝাড়ি মেরে বলল,
“এই ছেলে, ম্যাডামকে সময় নষ্টের কথা বলছো আবার ম্যাডামের কাছ থেকে সাহায্য চাইছো। সাহস তো তোমার কম না। তোমার ভাগ্য ভালো যে ম্যাডাম তোমার সাথে কথা বলছে। একমাস ঘুরেছো তো কি হয়েছে? ম্যাডামের দেখা পেতে গেলে এতটুকু সময় দিতেই হয়। আবার সময় নষ্ট দেখাচ্ছো?”
ইমদাদ বেশ শান্ত দৃষ্টিতে তূর্যর দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপনার ম্যাডামের থেকে আমার সময়ের মূল্য অনেক বেশি। উনি যদি একদিন ঘরে বসে থাকেন ওনার কোন সমস্যা হবে না, কিন্তু আমার মতন মানুষ যদি একদিন কাজে না যায় তাহলে পরিবারের লোকজনের পেটে ভাত উঠবে না। সেখানে দীর্ঘ একটা মাস নষ্ট হয়েছে আমার। মনের ভেতরে যে কি আ'গু'ন জ্ব'ল'ছে সেটা তো দেখাতে পারব না আর আপনাদের। তাই শুধু সময় নষ্টের কথাটুকুই বললাম। সময়ের মূল্য সবারই আছে। ম্যাডামের সময় নষ্ট হলে আমার মতন সাধারণ মানুষদেরও সময় নষ্ট হয়।”
আফসানা তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করলো ইমদাদ কে। ইমদাদের কথাগুলো বেশ ভালো লাগলো, তবে তূর্যর পছন্দ হলো না। আবারও কিছু বলে উঠতে ধরলে আফসানা ওকে থামিয়ে দিয়ে তূর্যর দিকে মৃদু রাগূ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“আমি কথা বলছি তো।”
থেমে গেল তূর্য। সানগ্লাসটা আবারো পরে নিয়ে আফসানা ব্যস্ত ভঙ্গিতে ইমদাদ কে বলল,
“কাল সকাল দশটা। দশটা মানে দশটা। এক সেকেন্ডও যেন এদিক ওদিক না হয়। তোমাদের সময় বিশ মিনিট। এর মাঝে যদি আমাকে কনভিন্স করতে পারো তাহলে ভালো। আর না পারলে ইওর ব্যাড লাক। গুডবাই।”
কথাটা বলে আফসানা সেখানে এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না। হিলের গটগট আওয়াজ তুলে সেখান থেকে চলে গেল গাড়িতে করে।
আফসানা সেখান থেকে চলে যেতেই সাদিক একটা স্বস্তির বিশ্বাস ফেলে বলল,
“কি মেয়ে রে ভাই। বড়লোক জন্য দেমাগ দেখিয়ে গেল।”
ইমদাদ একটু হেসে সাদিকের পিঠ চাপড়ে বলল,
“চিন্তা করিস না। ভাগ্য সহায় হলে একদিন দেমাগ আমাদেরও হবে। তবে পার্থক্য শুধু একটাই থাকবে, মানুষকে এত ঘোরাবো না। যদি দেখা করার সময় না হয় তাহলে সেটা আগেই সবাইকে জানিয়ে দেবো। রোজ রোজ গরীব মানুষগুলোর সময় নষ্ট করবো না।”
_______
সবে মাত্র একটা বন্ধুর বাড়িতে এসে উঠলো ইমদাদ। হাত মুখ ধুয়ে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই আবার ফোনটা বেজে উঠলো। পকেট থেকে ফোনটা বের করে সাঈদ নামটা দেখতেই চমকে উঠলো। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল। নিজে নিজেই হাসলো আগে। কিছুক্ষণ হেসে তারপরে কলটা রিসিভ করে কানে ধরে ব্যঙ্গাত্মক গলায় বলল,
“কিরে গিরগিটির বাচ্চা গিরগিটি, হঠাৎ এতদিন পর আমায় মনে পড়লে যে?”
ইমদাদের খোঁচা দেওয়া কথার কোন উত্তর দিল না সাঈদ। নিজে পাল্টা প্রশ্ন করল,
“কলিকে বিয়ে করেছিস তুই?”
ঠোঁট কামড়ে নিজের হাসি সংবরণ করার চেষ্টা করলো ইমদাদ। প্রথমে ভাবলো সত্যিটা বলে দেবে, কিন্তু পরক্ষণে মনে হলো সত্যিটা কেন বলবে। বিয়ে তো করেছে কলিকে।
বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল,
“করেছি তো বিয়ে। গতকাল রাতেই করেছি। কেন তোর বোন বলেনি? শুধু বাসর বাকি আছে। বোন কে পাঠিয়ে দিস, সেটাও হয়ে যাবে।”
“আমি মজা করার মন মানসিকতায় নেই ইমদাদ। সত্যি করে বল কলির সাথে তোর বিয়ে হয়েছে? ও বারবার কেন নিজেকে তোর বউ বলছে?”
ইমদাদ চমকে উঠে বলল,
“কলি বলেছে তোকে যে ও আমার বউ?”
“হ্যাঁ। ও তো সমানে এটাই জপে যাচ্ছে। কেন বিয়ে করেছিস তোরা? তোদের মাঝে ভালোবাসা তো দূরে থাক একটা স্বাভাবিক সম্পর্কও তো কখনো ছিল না? কি করতে চাইছিস তুই আমার বোনের সাথে ইমদাদ?”
ইমদাদ কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে বসে রইলো। হুট করেই ঠোঁটে ফুটে উঠলো কুটিল হাসি। গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“বিয়ের পরে সবাই বউয়ের সাথে যা করে আমিও তাই করতে চাইছি।”
সাঈদ দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলল,
“ভদ্র ভাবে কথা বল ইমদাদ। তোকে আমি ভালোভাবে চিনি। তুই কলি কে বিয়ে করতে পারিস না।”
ইমদাদ হো হো করে হেসে উঠে বলল,
“তুই আমায় চিনতি, এখন আর চিনিস না। প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মানুষ খু'ন অব্দি করতে পারে আর আমি সামান্য বিয়ে করতে পারবো না? করেছি বিয়ে। কলি আমার বউ। আর তুই আমার শালা।”
কথাটা বলে ইমদাদ ফোনটা কেটে দিল। ফোনটা পাশে রেখে আরামে ঘুমিয়ে গেল। এদিকে সাঈদ বুঝতে পারছেনা ইমদাদের উদ্দেশ্য কি? কেনই বা হঠাৎ করে কলি কে বিয়ে করলো? আচ্ছা, সত্যি বিয়ে করেছে তো ওরা?