অলিতে গলিতে প্রেম

পর্ব - ১০

🟢

ইমদাদের বাড়ি থেকে চলে আসার পর মাঝে দুটো দিন কেটে গেছে। এই দুটো দিন বেশ ভালোভাবে কাটিয়েছে কলি। এ দুটো দিনে জীবনটাই যেন অন্যরকম লাগলো কলির কাছে। মনে হলো এতগুলো বছর এই বাড়িতে এতটা আনন্দে কাটেনি, যতটা আনন্দে আর নিশ্চিন্তে এই দুটো দিন কেটেছে। কোথাও কোন ঝামেলা নেই, কোন জোরজবরদস্তি নেই, কলি নিজের ইচ্ছেমত সব করতে পেরেছে, কেউ একটা বারের জন্যও কলির বিয়ের কথা তোলেনি, শাহিনের মুখটাও দেখতে হয়নি।

আজ দুপুরের দিকে সাঈদ কে শহরের বাইরে যেতে হলো ওদের পারিবারিক ব্যবসার কাজে। কামাল সরদার সব থেকে বেশি ভরসা করেন সাঈদ কে। কাফিলকে তিনি একটুও ভরসা করেন না। বরং কাফিলের প্রতি ভীষণ বিরক্ত। ওনার সব নাতি-নাতনির মাঝে কামাল সরদার সব থেকে বেশি ভালোবাসেন আবার ভরসাও করে সাঈদ কে। ভবিষ্যতে তিনি ব্যবসার পুরো দায়িত্বটাও সাঈদকেই দেবেন।

দুপুরের পরপরই সাঈদ বেরিয়ে গেল। সাঈদ বাড়িতে থাকা না থাকায় তেমন একটা প্রভাব ফেলে না কলির উপর। কেননা সাঈদ বাড়িতে থাকলে খুব বেশি একটা কথা হয়না দুজনের মাঝে। কাফিলের থেকে কলির সাঈদের সাথে সম্পর্কটা ভালো, তবে সব সময় যে স্বাচ্ছন্দ্যে গিয়ে কথা বলতে পারে কিংবা গল্পগুজব করতে পারে এমনটা না। আর তার কারণ সাঈদের গাম্ভীর্যতা তার রগচটা স্বভাব।

বিকেলের দিকে কলি ছাদে গেল। ঘরে কেমন যেন দম বন্ধ লাগছিল। সেই জন্য ভাবলো খোলা বাতাসে গিয়ে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়া যাবে। ছাদে রেলিং ধরে দাঁড়ালে রাস্তাটা খুব ভালোভাবে দেখা যায়। অনেকদূর পর্যন্তই দেখা যায়।

কলি খেয়াল করলো ওদের বাড়ির সামনে একটা রিক্সা এসে থামলো। রিকশা থেকে নামলো শাহিন।

প্রথম দফায় কলির নিজের চোখকে ঠিক বিশ্বাস হলো না। ভাবলো ভুল দেখছে। শাহিনের তো এই বাড়িতে আসার কথা না। ওর দাদু তো কথা দিয়েছিল যে শাহিন আর এই বাড়িতে পা রাখবে না। তাহলে কোথা থেকে এলো?

কিন্তু পরে বুঝলো যে কলি ভুল দেখছে না। সত্যি শাহিন এসেছে এবং ভেতরেও প্রবেশ করল। কলি আর ছাদে দাঁড়াতে পারলো না। দৌড়ে নিচে নামলো।

বসার ঘরে তখন কামাল সরদার সহ বাড়ির বাকিরাও উপস্থিত ছিল। কলি নিচে নামতেই শাহিনও ঘরে পা রাখলো। কলি সরাসরি কামাল সরদার কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“দাদু, ও এখানে কেন এসেছে? তুমি না বলেছিলে ও এখানে আর কখনো আসবে না। তুমি তো ভাইয়াকে কথা দিয়েছিলে, তাহলে ও আবার কেন এসেছে?”

কামাল সরদার শুধু একবার তাকালেন নাতনির দিকে। কয়েক সেকেন্ড কলির মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে তিনি আবার তার মুখ ঘুরিয়ে নিলেন অন্যদিকে। কোন উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলেন না কলিকে।

কামাল সরদারের থেকে কোন উত্তর না পেয়ে কলির একটু রাগই হলো। কিঞ্চিত রাগান্বিত গলায় একটু চেঁচিয়ে উঠে বলল,

"কিছু জিজ্ঞেস করলাম তো আমি দাদু। শাহিন কেন এসেছে এই বাড়িতে? কথা দিয়ে যদি কথা নাই রাখতে পারো তাহলে সেই কথা দাও কেন? কেন বড় মুখ করে বলেছিলে যে কামাল সরদার এক কথার মানুষ? যদি আমাদের কোন মূল্য নাই থেকে থাকে তোমার কাছে তাহলে আমাদেরকে ফিরিয়ে এনেছিলে কেন এ বাড়িতে? জবাব দাও।”

কলি নিজের কথা শেষ করতেই কামাল সরদার অগ্নিদৃষ্টিতে কলির দিকে তাকিয়ে সাবধানী গলায় বলল,

“গলার আওয়াজ নিচু করে আমার সাথে কথা বল। তুমি আমার বাড়িতে থাকো, তুমি আমার টাকায় খাও, তুমি আমার ওপরে নির্ভরশীল। আজই যদি কামাল সরদার তোমাদের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে তাহলে না খেয়ে ম'র'বে। আর আগেও বলেছি এখনও বলছি, বাড়ির মেয়েদেরকে আমি কৈফিয়ত দেই না। মেয়ে মেয়ের মতন থাকো। বেশি গলার জোর দেখাতে এসো না।”

“অবশ্যই গলার জোর দেখাবো। আমি অন্যায় কিছু বলছি না। আচ্ছা ঠিক আছে, শাহিন যদি তোমাদের কাছে এতই প্রিয় হয় তবে তোমরা শাহিনকে নিয়েই থাকো। আমি বেরিয়ে যাচ্ছি বাড়ি থেকে।”

কথাটা বলে কলি সত্যি সদর দরজার দিকে পা বাড়ালো, তবে বেশি দূর যেতে পারলো না। পিছন থেকে হাতে টান অনুভব করলো। করিম সরদার মেয়েকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দাঁড় করিয়ে গালে কষিয়ে একটা চ’ড় বসালেন।

হঠাৎ করে পরিবেশটা কেমন যেন থমথমে হয়ে গেল। কলি চ’ড় খাওয়া গালে হাত দিয়ে করিম সরদারের দিকে তাকিয়ে বিস্ময় ভরা কন্ঠে বলল,

“তুমি মা’রলে আমায় বাবা!”

“আর একবার মুখে মুখে তর্ক করলে এখানেই গলা টিপে মা’রবো তোকে। তোর মা ছিল পাপি, চরিত্রহীন, জন্মও দিয়েছে তোর মতন একটা পাপি, চরিত্রহীনকে। কি ভেবেছিস আমরা বুঝবো না যে ইমদাদের সাথে তোর বিয়ে হয়নি? চরিত্রহীন মেয়ে কোথাকার বিয়ে হয়নি তারপরও ওই ছেলের সাথে গিয়ে একই বাড়িতে রাত কাটিয়ে এলি। আমার বলতে লজ্জা করছে যে তোর শরীরে আমার র’ক্ত বইছে। এখন আমরা যা বলছি চুপচাপ তুই সেটাই করবি।”

কলির গাল বেয়ে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে পড়ল। কলি বুঝলো ইমদাদ একটা কথাও মিথ্যে বলেনি। করিম সরদার এক কথার মানুষ না। কথা দিয়ে কথার খেলাফ করাই ওনার স্বভাব। তবে কলি তো হার মানবে না। দু হাতে চোখের জল মুছে করিম সরদার কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“করবো না। আমার জীবন, আমার যা ইচ্ছে হবে আমি তাই করবো। আর চরিত্রহীন আমার মা ছিলো না, চরিত্রহীন ছিলে তুমি যে আমার মাকে ঠকিয়ে বিয়ে করেছিলে। নির্লজ্জ ছিলে তুমি, যে ঘরে একজন স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও আরেকটা বিয়ে করেছিলে। আর শুধু তুমি একা না তোমার পুরো বংশই নির্লজ্জ।”

কলি কথাটা বলার সাথে সাথে করিম সরদার আবারও ওর গালে কষিয়ে একটা চ’ড় বসালেন। তাল সামলাতে না পেরে কলি মেঝের ওপরে হুমড়ি খেয়ে পড়লো। করিম সরদারের তাও দয়া হলো না নিজের মেয়ের উপরে।

কলির চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে আবার দাঁড় করালো। কলি ব্যথায় আর্তনাদ করলো, তবে তাও করিম সরদার ছাড়লেন না। অবাক করার বিষয় হলো কেউ এগিয়েও এলো না কলিকে বাঁচানোর জন্য।

কলি সাহায্যের জন্য একবার তাকালো দূরে দাঁড়ানো শাম্মির দিকে। খেয়াল করলো শাম্মি শুধু অঝোরে চোখের জল ফেলছে। অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কলির দিকে। কলি ওনার অসহায়ত্ব বুঝলো। কলি জানে এখন যদি শাম্মি ওকে বাঁচাতে আসে তাহলে পরিস্থিতি আরোও খারাপের দিকে চলে যাবে।

করিম সরদার দাঁত কিড়মিড়িয়ে বললেন,

“আর একটা শব্দ উচ্চারণ করলে আজ এই মুহূর্তে এখানে তোকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলব আমি। অনেক সম্মান নষ্ট করেছিস আমাদের। কয়েক বছর আগে তোর মা সবার সামনে আমায় বদনাম করেছিলো আর এখন তুই করতে চাইছিস। পুরো পাড়া জেনে গেছে যে করিম সরদারের মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছে আবার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে রাতও কাটিয়ে এসেছে। তোর জন্য ইমদাদ আমায় চোখ রাঙানোর সাহস পেয়েছে। এই সবের শাস্তি তোকে পেতেই হবে।”

কলি ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠে বলল,

“বাবা ছাড়ো আমায়। কি করতে চাইছো তোমরা আমার সাথে?”

“যা করলে আমাদের সম্মান রক্ষা হবে সেটাই। শাহিনের সাথে বিয়ে হয়ে গেলে এমনিতেই সবাই বুঝে যাবে আগের বিয়েটা নাটক ছিল। তাও না বুঝলে কি করে বোঝাতে হয় সেসব আমার জানা আছে।”

করিম সরদারের কথায় কলি তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলল,

“অসম্ভব। ওকে আমি বিয়ে করবো না। ওর থেকে ইমদাদ ভাই অনেক ভালো আছে। প্রয়োজনে আমি ইমদাদ ভাইয়ের সাথেই সংসার করবো।”

করিম সরদার আরেকটু শক্ত করে কলির চুলের মুঠি ধরলেন। নিচ থেকে এত চেঁচামেচির আওয়াজ পেয়ে ওপর থেকে নেমে এলেন ফরিদা বেগম। ছেলের কাছ থেকে আগে নাতনিকে ছাড়িয়ে নিয়ে ধমকের সুরে বললেন,

“চুপ করো করিম। এত বড় মেয়ের গায়ে কেউ হাত তোলে? এই তোমাদের সভ্য পরিবারের নমুনা?”

করিম সরদার নিজে পাল্টা ধমকে উঠে বললেন,

“আপনি চুপ করুন আম্মা। আমাকে ব্যাপারটা বুঝে নিতে দিন।”

ফরিদা বেগম থেমে গেলেন। যেই সংসারে তার কথার কোনো মূল্যই নেই সেখানে আর কথা বলবেই বা কি করে।

কলি ক্রন্দনরত গলায় ফরিদা বেগম কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“দাদি, আমি এই বিয়ে করবো না। তুমি কিছু একটা করো।”

ফরিদা বেগম অসহায় দৃষ্টিতে তাকালেন নাতনির দিকে। কিচ্ছু করার নেই ওনার। ওনার চুপ থাকার মাঝেই করিম সরদার বলে উঠলেন,

“কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না। ভেবো না তোমার ভাই কে কল করে নালিশ করবে। সেই ব্যবস্থাও আগেই করে রেখেছি। এই বাড়িতে যার যার তোমার ওপরে দয়া হতে পারে সবার থেকেই ফোন কেড়ে নিয়েছি। আজ রাতেই তোমার বিয়ে হবে শাহিনের সাথে।”

বিজ্ঞাপন

শাম্মি ডুকরে কেঁদে উঠলেন। রোকসানা ভাইয়ের কথায় সায় জানিয়ে বলল,

“ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছো ভাই। এই মেয়ের সাথে এমনই হওয়া উচিত।”

কলি আশেপাশে তাকালো সাহায্যের জন্য, তবে কাউকে খুঁজে পেল না। একটা মানুষও নেই যে একটু কলি কে সাহায্য করতে পারবে।

এই চরম সংকটময় পরিস্থিতি তে কলির মনে পড়লো ইমদাদের কথা। মনে হলো ইমদাদ যেমনই হোক না কেন অন্তত এদের থেকে ভালো ছিল। আজ এখানে থাকলে কলি কে বাঁচাতো।

নিজের অজান্তেই কলি বিরবির করে বলল,

“তুমি কোথায় ইমদাদ ভাই?”

__________

“বেরিয়েছে কলি?”

ইমদাদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ফোনের অপর পাশে থাকা ব্যক্তি ফিসফিস করে বলল,

“আর দশ মিনিটের মাঝে বেরিয়ে যাবে। তুমি কোথায়?”

ইমদাদ সামান্য হেসে বলল,

“সরদার বাড়ি থেকে একটু দুরে দাঁড়িয়ে আছি। অপেক্ষা করছি কলির। অপেক্ষা করছি নিজের বিজয়ের। কলির হেরে যাওয়া মুখটা দেখার অপেক্ষায় আছি। তাড়াতাড়ি পাঠাও ওকে। আজ সরদার বাড়ির লোকজনের বিরাট হার হবে ইমদাদের কাছে।”

___________

আজও কলির পরনে বিয়ের লাল বেনারসি। গা ভরতি গয়না, মুখে বিয়ের সাজ। তবে ঠোঁটে নেই হাসি, চোখে নেই কোনো তৃপ্তি বরং অশ্রু তে টলমল করছে।

সরদার বাড়ির লোকজনের চোখ ফাঁকি দিয়ে, বিয়ের সমস্ত আয়োজন ফেলে রেখে অবশেষে কলি বের হতে পেরেছে। কলির একার পক্ষে এই দুঃসাহসিক কাজটা করা সম্ভব ছিল না। কলি ভাবেওনি যে কারোর থেকে সাহায্য পাবে। তবে অপ্রত্যাশিত ভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত একজনের থেকে কলি সাহায্য পেয়েছে। কলি জানে না সেই মানুষটা কেন কলি কে সাহায্য করলো। এতকিছু ভাবারও সময় পায়নি কলি। শুধু জানতো কলি কে যে করেই হোক এই বাড়ি থেকে বের হতে হবে।

পাড়ার রাস্তায় এখন খুব বেশি মানুষজনের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। কলির গন্তব্য ইমদাদের বাড়ি। কলি ছুটে সেদিকে যাচ্ছে আর বারবার পিছন ফিরে তাকাচ্ছে যে কেউ আবার দেখে ফেলল কিনা।

হঠাৎ করেই বেশ শক্ত পোক্ত একটা বুকের সাথে ধাক্কা খেল কলি। পড়ে যেতে ধরলে একটা বলিষ্ঠ হাত কলির কোমর আঁকড়ে ধরলো। কলি মুখ তুলে তাকাতেই দেখলো ইমদাদ দাঁড়িয়ে আছে ওর সামনে। নিজের চোখ কে বিশ্বাস হলো না কলির।

আজ প্রথমবার ইমদাদ কে দেখে আনন্দে কলির চোখে জল চলে এলো। কলি কে দেখে মনে হলো ইমদাদকেই খুঁজছিলো। কলির মনে হলো ইমদাদই এখন একমাত্র নিরাপদ আশ্রয় কলির জন্য।

কলি কে নিজের দিকে তাকিয়ে থেকে কাঁদতে দেখে ইমদাদ আলতো হেসে বলল,

“বলেছিলাম তোকে ওদেরকে বিশ্বাস করিস না। থেকেও যেতে বলেছিলাম আমার কাছে, থাকলি না। আসলে কুকুরের পেটে ঘি সহ্য হয় না বুঝলি।”

ইমদাদ কথাগুলো বলতেই কলি ডুকরে কেঁদে উঠলো। ইমদাদকে অবাক করে দিয়ে জড়িয়ে ধরল কলি ইমদাদকে। দুহাতে ইমদাদের পিঠের পাঞ্জাবি খামচে ধরে ক্রন্দনরত গলায় বলল,

“আমাকে তোমার সাথে নিয়ে চলো ইমদাদ ভাই। ওরা কেউ আমার নিজের লোক না। ওরা কেউ আমার ভালো চায় না। ওরা সবাই শুধু বোঝে নিজেদের সম্মান। আমার জীবনের, আমার ভালো লাগার কোন পরোয়া নেই ওদের কাছে। জানো, আমি শুধু তোমাকেই খুঁজছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল তুমি থাকলে ওরা আর আমার গায়ে হাত তুলতে পারতো না।”

ইমদাদ নিজেও পাল্টা জড়িয়ে ধরতে চাইলো কলিকে, তবে কি ভেবে যেন আর মন সায় দিলো না। আবার কলিকে নিজের থেকে ছাড়ানোর কোন প্রচেষ্টাও করলো না। তবে মনে হলো মেয়েটাকে একটু সান্ত্বনা দেওয়া দরকার। মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,

“আমার মতন অসভ্যকে কেন খুঁজছিলি? মনে নেই আগেরবার তোর বিয়ে আমি ভেঙেছিলাম? আমি তোকে বদনাম করেছিলাম? ভুলে গেলি সেসব।”

কলি মাথা তুলে ইমদাদের দিকে তাকিয়ে ক্রন্দনরত স্বরে বলল,

“সব জানি আমি। কিচ্ছু ভুলে যাইনি। তবে তাও তুমিই ভালো। তুমি যা করেছিলে ভালোই করেছিলে। আমি জানতাম ওখানে বিয়ে করলেও আমি ভালো থাকবো না কিন্তু তাও রাজি হতে হয়েছিল। তুমি যেমনি হও না কেন ইমদাদ ভাই তুমি মানুষ, তোমার মাঝে হৃদয় আছে। কিন্তু ওরা ওরা কেউ মানুষ না। আমায় নিয়ে চলো তোমার সাথে।”

কথাটা বলে কলি ছেড়ে দিল ইমদাদকে। ইমদাদ এবারে কলির হাত ধরে বলল,

“বেশ চল, তোকে এক জায়গায় নিয়ে যাব। যেতে পারবি তো ভরসা করে আমার সাথে?”

“তোমার বাড়িতে যাব না?”

“যাব তো। আমার বাড়িতে অবশ্যই নিয়ে যাব, কিন্তু পরে। তার আগে অন্য একটা জায়গায় যেতে হবে এবং আমি যা বলব তোকে তাই করতে হবে।”

“কিন্তু......”

কলি কিন্তু শব্দটা উচ্চারণ করতেই ইমদাদ নিজের আঙ্গুল কলির ঠোঁটের ওপরে রেখে বলল,

“আর একটা কথাও না। চল।”

কলি আর কোন প্রশ্ন করার সুযোগ পেল না। একটা টোটো এসে দাঁড়ালো ওদের সামনে। গাড়ির চালককেও চিনতে পারল। সেই রাতে ইমদাদ যার টোটো তে তুলেছিল আজকেও সেই এসে দাঁড়িয়েছে, খলিল মামা।

কলির মনের মাঝে প্রশ্ন জাগলো যে ইমদাদ কোথায় নিয়ে যেতে চাইছে, তবে কোন প্রশ্ন করল না। আজ প্রথমবার কলির মনে হলো ইমদাদ কে ভরসা করা যায়। ইমদাদ কে ভরসা করা উচিত। এছাড়া তো আর কোন উপায়ও নেই।

চুপচাপ উঠে পড়ল গাড়িতে। কলি জানেনা গন্তব্য কোথায়, তবে ভরসা একটাই যে পাশে ইমদাদ আছে। আর কলির এটাও ভরসা আছে যে ইমদাদ ওর ভরসা রাখবে।

_________

“কোথায় নিয়ে এলে এটা আমায় ইমদাদ ভাই? এই জায়গায় তো আগে কখনো আসিনি।”

কলি কথাটা বলতেই ইমদাদ হাতের ইশারায় কিছু একটা দেখালো। কলি ইমদাদের হাত অনুসরণ করে সেদিকে তাকাতেই দেখল বড় বড় অক্ষরে লেখা ❝কাজী অফিস❞

কলি চমকে উঠে বলল,

“এখানে কেন এসেছি আমরা? এখানে কি কাজ আমাদের?”

ইমদাদ বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,

“বিয়ে করবো আমরা। আজ এই মূহুর্তে তুই আর আমি বিয়ে করবো। অনেক হয়েছে এই স্বামী-স্ত্রীর নাটক। এবারে সত্যি তুই আমার বউ হবি। ইমদাদের বউ হবি তুই।”

বিজ্ঞাপন
অলিতে গলিতে প্রেম গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও সামাজিক গল্প