অলিতে গলিতে প্রেম

পর্ব - ১১

🟢

বিস্ময়ভরা দৃষ্টিতে কলি তাকিয়ে আছে ইমদাদের দিকে। কলির বিশ্বাসই হচ্ছে না ইমদাদের বলা কথাগুলো। কলি অবাক হচ্ছে এটা ভেবে যে এই মানুষটার কাছে কলি সাহায্যের জন্য ছুটে এসেছে। বিপদে পড়ার পর এই মানুষটার কথা কলির বারবার মনে পড়ছিল। আচ্ছা কলির সারাটা জীবন কি শুধু বোকামি করেই কেটে যাবে? শুধু কি ভুল মানুষদের প্রতি বিশ্বাস করেই কেটে যাবে? কলি কি এমন কাউকে কখনো পাবেনা যে একটু কলির বিশ্বাস রাখবে?

এদিকে বেশ অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়ে গেল তাও কলির কোন উত্তর পেল না। কলি শুধু ড্যাব ড্যাব করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ইমদাদ ধৈর্য হারালো। বিরক্তি মাখানো গলায় বলে উঠলো,

“কি এত দেখছিস আমাকে? কোনদিন দেখিসনি?”

কলি অবিশ্বাস্য গলায় বলল,

“তুমি সত্যি আমায় বিয়ে করবে? কিন্তু কেন? আমাদের মাঝে তো কোন ভালোবাসার সম্পর্ক নেই, তাহলে কেন আমায় বিয়ে করে নিজের আর আমার দুজনের জীবনটা নষ্ট করতে চাইছো?”

“তোর কি মনে হয় আমি এমনি এমনি তোকে আমার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাখবো? আমরা যতই গলা ফাটিয়ে বলি না কেন আমাদের বিয়ে হয়েছে কিন্তু সবাই জানে যে আমাদের বিয়ে হয়নি। আর তাছাড়া এই অবস্থায় যদি তোকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাই তোকে আটকে রাখার কোন অধিকার আমার থাকবে না। যখন তখন তোর বাপ দাদা এসে তোকে নিয়ে যাবে। আর তাছাড়া আমার ভাই বোনের উপর কি প্রভাব পড়বে? ওরা কি শিখবে? তাই আমার বাড়িতে যদি থাকতে হয়, তবে আমাকে বিয়ে করতে হবে। আমার বউ হয়েই কেবল মাত্র তুই আমার বাড়িতে পা রাখতে পারবি।”

ছেড়ে দিল কলি ইমদাদের হাতটা। ইমদাদের থেকে ছিটকে দূরে সরিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

“এটা অসম্ভব। আমি তোমায় ভালোবাসি না, বিয়ে করবো কি করে?”

“তো তোর কি মনে আমি তোকে ভালোবাসি? তোর কি মনে হয় তোকে বিয়ে করার জন্য আমি ম’রে যাচ্ছি? বলেছিলাম না আমার দয়ার শরীর। আমার বাবার খুব প্রিয় ছিলি তুই। সেজন্য তোর জীবনটা ধ্বংস হয়ে যাক সেটা আমি চাই না। আমার বাবা কষ্ট পাবে। তাই তোর প্রতি দয়া করে তোকে বাঁচাতে চাইছি। তোকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনের পরোয়া করছি না। না হলে তোর মতন মেয়েকে কে বিয়ে করবে?”

“তো করো না বিয়ে। আমি তো করতে বলিনি। আমি প্রাপ্তবয়স্ক, বাবারা এলেও আমায় নিয়ে যেতে পারবে না যদি আমি না চাই। আর তাছাড়া আমি তোমার ওখানে বেশি দিন থাকবো না। ভাইয়া এলেই আমার কোন একটা ব্যবস্থা করবে। আমি চলে যাব তখন।”

ইমদাদ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,

“তোর ভাইয়াও চায় যেন তোর আর আমার বিয়েটা হয়ে যায়। আমার কথা হয়েছে তোর ভাইয়ার সাথে। তোর ভাই আমাকে বলেছে তোকে বাঁচানোর জন্য যদি তোকে আমার বিয়েও করতে হয় আমি যেন তাই করি। তবুও যেন তোর জীবনটা বাঁচাই।”

কলি দু দিকে মাথা নাড়িয়ে আবারও অবিশ্বাস্য গলায় বলল,

“এটা হতে পারে না। ভাইয়া কখনো আমার খারাপ চাইতে পারে না। ভাইয়া কখনো আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে এই বিয়েটা করতে বলতে পারে না।”

ইমদাদ এবারে বিরক্ত হলো। ইমদাদের সেই বিরক্তি ভাব ওর চোখে মুখে স্পষ্ট ফুটে উঠলো। পকেট থেকে ফোন বের করে সাঈদের নাম্বারে কল করতে করতে বলল,

“তোর ভাইয়ের সাথে কথা বল। তাহলেই তোর বিশ্বাস হবে।”

কলি এবার একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। সাঈদের সাথে কথা বললেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

সাঈদ ফোনটা রিসিভ করতেই ইমদাদ বিরক্তকর গলায় বলল,

“তোর বোনের সাথে কথা বল। মেয়ে মানুষ মানেই ঝামেলা। আমি ঝামেলা মেটাতে চাইছি আর তোর বোন আরো ঝামেলা বাড়াচ্ছে।”

কথাটা বলে ফোনটা কলির দিকে বাড়িয়ে দিল। কলি ফোনটা কানে ধরে ক্রন্দনরত গলায় বলল,

“ভাইয়া তুমি কোথায়? দাদু নিজের কথা রাখেনি ভাইয়া। ওরা আবার জোর করে বিয়ে দিতে চাইছিলো আমার। এখন আবার ইমদাদ ভাই বিয়ে করতে চাইছে আমায় জোর করে। আমি কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। তুমি তাড়াতাড়ি চলে এসো।”

কলি ভেবেছিলো সাঈদ ওর সমস্যার কোন একটা সমাধান দেবে। কলি কে সান্ত্বনা দেবে এই চরম সংকটময় মুহূর্তে। তবে সাঈদ যা বলল সেটা শুনে কলি থমকে গেল।

“ইমদাদকে বিয়েটা করে নে কলি।”

কলি ঠিকঠাক শুনতে পেল না সাঈদের বলা কথাটা এমন ভঙ্গিতে,

“ভাইয়া শুনতে পাইনি। আবার বল।”

“ইমদাদ কে বিয়েটা করে নে। আমি জানি এটা তোর জন্য কঠিন, তবে তোর ভাইয়া বলছে এটাই তোর জীবনের সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। আমি এখন অনেক দূরে আছি। আমি আসছি কিন্তু আমি যেতে যেতে সব শেষ হয়ে যেতে পারে। তোর ভাই আজকে তোকে কোন সাহায্য করতে পারবে না এতো দূর থেকে। এখন যদি তুই বাবাদের হাতে পড়িস আমি জানিনা ওরা তোর সাথে কি করবে। ইমদাদ তোকে বাঁচানোর জন্য একটা শক্তপোক্ত ঢাল কলি।”

কলি অসহায় গলায় বলল,

“শাহিনও তো আমায় জোর করেই বিয়ে করছিল ভাইয়া। ইমদাদ ভাইও জোর করে বিয়ে করতে চাইছে। তবে ওদের দুজনের মাঝে পার্থক্য কি রইল? আমি শাহিনকেই বিয়ে করে নিতাম।”

“তুই নিজেও খুব ভালো করে জানিস শাহিন আর ইমদাদ এক না। আমার কথা মন দিয়ে শোন, শাহিনের হাত থেকে বাঁচার জন্য ইমদাদকে বিয়েটা করে নে। পরে যদি তুই ইমদাদের সাথে সংসার করতে না পারিস আমি নিজে কথা দিচ্ছি তোকে এই সম্পর্ক থেকে বের করে আনার দায়িত্ব তোর ভাইয়ার। কিন্তু শাহিনের সাথে তোর বিয়েটা হয়ে গেলে সেই ক্ষমতাটা আমার থাকবে না। কারণ তখন শাহিনের সাথে দাদু আর বাবা থাকবে। আর শোন, আমি এখন বেশি কথা বলতে পারছি না। ফোনে চার্জ নেই। আমি তাড়াতাড়ি এসে যাবো। আর আমি যা বললাম তুই সেটাই কর।”

কথাটা বলে সাঈদ ফোনটা রেখে দিল। কলির হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল নিচে। ইমদাদ চুপচাপ সেটা তুলে দিয়ে আবারো পকেটে রাখলো।

“তোকে আমায় বিয়ে করতেই হবে কলি। আমি তোকে কথা দিচ্ছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে তোকে মুক্তি দিয়ে দেব। তবে এখন তোকে আমায় বিয়েটা করতেই হবে। এছাড়া তোর কাছে আর কোন উপায় নেই।”

কলি ছলছল দৃষ্টিতে ইমদাদের দিকে তাকিয়ে বলল,

“যদি একদিন মুক্তি দিয়েই দাও তবে এই সম্পর্কের বন্ধনে কেন আমায় বাঁধছো? আমি আর নিতে পারছি না এসব ইমদাদ ভাই। কেন আমাকে এই কঠিন সিদ্ধান্তটা নিতে বাধ্য করছো? আমার জীবনে কি আমার নিজের ইচ্ছে মতো বাঁচার একটু অধিকার নেই? তোমায় ভরসা করে কি আমি ভুল করলাম?”

ইমদাদ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,

“হয়তো করেছিস। আর একবার যখন ভুল করেছিস তার শাস্তি তো তোকে পেতেই হবে। হয় তুই আমাকে বিয়ে করবি নয়তো আমি নিজে গিয়ে তোকে আবার সরদার বাড়িতে রেখে আসবো। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তোর যে তুই স্বামী হিসেবে লম্পট, চরিত্রহীন, গাঞ্জাখোর, মাস্তান শাহিন কে বিয়ে করবি, নাকি রগচটা, বদমেজাজি ইমদাদকে বিয়ে করবি।”

_____________

মেঝের ওপরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে শাম্মি। ওনার নাক দিয়ে র’ক্ত পড়ছে, ঠোঁটের কোনার দিকটা কেটে রক্ত জমাট বেধে আছে। টেবিলের কোণার সাথে কপাল লেগে সেখানেও কেটে গেছে। চুপচাপ মাথা নিচু করে তিনি মেঝের উপরে বসে আছেন।

মানুষটা এভাবে আঘাত পেয়েছে তবুও কেউ এগিয়ে আসছেনা ওনার দিকে। কারো এতোটুকু সাহস কিংবা মানবতা নেই যে ওনাকে একবার জিজ্ঞেস করবে যে উনি ঠিক আছেন কিনা।

এত এত আঘাতের উপরে করিম সরদার ফের একবার স্ত্রীকে একটা চ’ড় মেরে শাসিয়ে বললেন,

“আজ যদি কলিকে ফিরে পেয়েছি তবে ওকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলব। আর যদি ওকে না পেয়েছি তবে তোকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলব। একবার ভুল করেছিলিস ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু এবারে তুই ষড়যন্ত্র করেছিস। আমার মেয়েকে আবার বিপক্ষে নিয়ে গেছিস। তুই আবারো সরদার বাড়ির সম্মান নষ্ট করছিস। এর পরিনতি ভীষণ খারাপ হবে।”

শাম্মি দুর্বল গলায় করিম সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলল,

বিজ্ঞাপন

“আমি সাহায্য করিনি কলিকে। আমি জানিনা ও কখন, কিভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে।”

করিম সরদার গর্জে উঠে বললেন,

“তো তোর খেয়াল থাকে কোথায়? সারাদিন বাড়িতে বসে করিস কি যে মেয়ের খেয়াল রাখতে পারিস না? তোকে বিয়ে করাটাই আমার জীবনের সবথেকে বড় ভুল ছিল। কান খুলে শুনে রাখ, যদি আজ আমার মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে না পারি তবে তোরও আর এই বাড়িতে থাকা হবে না।”

শাম্মি আবারো জোর গলায় বললেন,

“তোমার যা ইচ্ছে তাই করতে পারো। কিন্তু তাও বলবো আমি কলিকে সাহায্য করিনি। আমি চেয়েছিলাম যেন শাহিনের সাথে কলির বিয়েটা হয়ে যায়। আমি মন থেকে চেয়েছিলাম। আমি কলি কে রাজিও করিয়েছিলাম। তবে আমি জানিনা কে সাহায্য করলো ওকে।”

কথাটা বলে শাম্মি সন্দেহি দৃষ্টিতে তাকালেন নিজের বড় ছেলের বউয়ের দিকে। মুনমুন খুব তাড়াতাড়ি ভয়ে নিজের দৃষ্টি নামিয়ে নিল। কাঁপছে যেন ভয়ে সে।

শাম্মি আর কিছু বলল না। করিম সরদারের ফোনে শাহিনের নাম্বার থেকে কল এলো। শাহিন জানালো কলি ইমদাদের বাড়িতে যায়নি। ইমদাদ নাকি শহরেই নেই। আর করিম সরদার এটা খুব ভালো করেই জানেন যদি কলি ইমদাদের বাড়িতে থাকতো তবে ইমদাদ ওকে লুকিয়ে রাখতো না। ওই ছেলের সাহসই একটু বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হলো তাহলে কলি গেল কোথায়। কলির কাছে তো ফোনও নেই। সাঈদের সাথেও হয়তো যোগাযোগ করতে পারেনি। কে আছে যে কলিকে সাহায্য করতে পারে?

_________

“খলিল মামা, একটা গান ধরো। আজ তোমার ভাগ্নের বিয়ে হলো, তুমি খুশি হওনি? দেখে তো বোঝা যাচ্ছে না। শালা তুমিও খুশি না, আমার বউও খুশি না তাহলে বিয়েটা করে হলোটা কি আমার?”

খলিল কে কথাগুলো বলা শেষে ইমদাদ আড় চোখে একবার কলির দিকে তাকালো। ইমদাদের থেকে বেশ খানিকটা দূরত্ব রেখে বসেছে, যেন ভুলেও ইমদাদের গায়ের সাথে টোকা না লাগে। কলি ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে আর কিছুক্ষণ পর পর চোখের জল মুছছে।

ইমদাদের খারাপ লাগল নাকি আনন্দ হলো নিজেই বুঝে উঠতে পারল না। তবে আনন্দ হওয়ারই কথা যেহেতু ইমদাদের চরম শত্রু আজ কাঁদছে। ইমদাদের তো জয় হয়েছে আজ। কিন্তু তাও আনন্দটা ঠিকভাবে অনুভব করতে পারল না।

আবারো খোশগল্পে মেতে গেল খলিলের সাথে। গল্প করতে করতে টোটো এসে ইমদাদের বাড়ির সামনে দাঁড়ালো। ইমদাদ গাড়ি থেকে নেমে কলিকে নামতে বলল, তবে কলি কোন উত্তর দিল না। চুপচাপ বসে রইলো। ইমদাদ রাগ নিয়ন্ত্রণ করে আরো একবার কলিকে শান্তভাবে নামতে বলল। তবে কলি তাও নিরুত্তর রইলো। এবার আর ইমদাদ নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না। কলি কে ধমক দিয়ে বলে উঠলো,

“নামতে বললাম না আমি। যদি খলিল মামার বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছে থেকে থাকে তাহলে সেটা সোজা ভাষায় আমায় বলে দে। তোর জন্য এখানে আমি সারা রাত দাঁড়িয়ে থাকতে পারবো না। হয় নাম, নয়তো চলে যা।”

কলি কেঁপে উঠল। ফুপিয়ে একটু কেঁদে উঠলো। খলিলের খুব মায়া হল কলির জন্য। ধীর গলায় ইমদাদ কে বলল,

“নতুন বউ কে এত ধমক দিতে নেই বাবা। আমাদের এত বছরের সংসারেও তো তোমার মামীকে আমি কখনো এভাবে ধমক দেয়নি। এমন করলে কি বউ থাকবে নাকি।”

ইমদাদ আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল,

“থাকবে মামা থাকবে। এই বউ যাই করি না কেন থেকে যাবে। কেননা বউরা রাগ করে তো বাপের বাড়ি যায়, কিন্তু আমার বউয়ের বাপের বাড়িই ঠিক নেই।”

কলি গাড়ি থেকে নেমে অশ্রূসিক্ত নয়নে ইমদাদের দিকে তাকিয়ে বলল,

“দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছো? বেশ নাও। তোমায় আলাদা ভেবেছিলাম আমি, কিন্তু তুমিও এক। তুমিও ওদের মতন অমানুষ।”

ইমদাদ গাছাড়া ভাব নিয়ে বলল,

“আমি কি বলেছিলাম আমি মানুষ? তুই বলেছিলি। ভালোভাবে যাচাই বাছাই না করে অযথা একজনকে মানুষ বলিস কেন? তোর মাঝে বিচক্ষণতা শব্দটার কোন অস্তিত্বই নেই। মাথায় পুরো গোবর ভরতি। গাধা কোথাকার। চল ঘরে।”

ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে কলি কে নিয়ে বাড়ির দিকে গেল। কলিংবেল বাজাতেই ভেতর থেকে এসে ইয়াসমিন দরজাটা খুলে দিল। ইমদাদের সাথে কলিকে দেখে চোখ বড় বড় করে তাকালো ওদের দিকে। উদ্বিগ্ন গলায় বলল,

“কলিকে কেন নিয়ে এসেছো? ওর বাড়ির লোক এসেছিল ওকে এখানে খুঁজতে। ওরা তো আবার আসতে পারে। ওকে এখানে পেয়ে গেলে আমাদের সমস্যা হবে।”

ইয়াসমিনের কথায় খুব একটা বেশি গুরুত্ব দিলো না ইমদাদ। চুপচাপ ওকে পাশ কাটিয়ে ভিতরে চলে যেতে যেতে ইয়াসমিনকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“তোদের ভাবিকে নিয়ে এসেছি ইয়াসিন। ঘরে নিয়ে আয় ওকে। আর কেউ কলি কে নিয়ে যেতে পারবে না। ওকে আমার কাছে রাখার লাইসেন্স আছে আমার কাছে।”

ইমদাদের কথাটা মাথার উপর দিয়ে গেল ইয়াসমিন আর ইমাদের। কলি ওদের ভাবি হলো কি করে। কিসের লাইসেন্স পেয়ে গেল ইমদাদ ।

প্রশ্নটা করলো ইমাদ তবে কোন উত্তর পেল না। বাড়িতে তখন আরো ৪-৫ জন ছেলেও উপস্থিত, ইমদাদের বন্ধু। ইমদাদই ওদেরকে বাড়িতে রেখে গিয়েছিল। কেননা ইমদাদের আন্দাজ ছিল যে ওরা কলিকে খোঁজার জন্য সর্বপ্রথম ইমদাদের বাড়িতেই আসবে। আর ইমদাদ কে না পেলে অত্যাচারটা ওর ভাই বোনের উপরে চলতে পারে। তাই ওরা যেন বেশি তেরিবেরি করতে না পারে সেজন্য নিজের বন্ধুদের রেখে দিয়েছিল এবং কাজও হয়েছে।

কলি নিজেই ঘরের ভেতরে এলো। ওর পিছন পিছন ইয়াসমিনও এলো। ছেলেরা চলে গেল সবাই ইমদাদের থেকে বিদায় নিয়ে। বসার ঘরে একটা থমথমে পরিবেশ বিরাজমান। এই গুমট ভাবটা একেবারে অপছন্দ হলো ইয়াসমিনের।

“ভাইয়া কিছু বলবে আমাদের? কলি আমাদের ভাবি হলো কি করে?”

“বিয়ে করে এনেছি ওর বাড়ির লোকের হাত থেকে বাঁচানের জন্য। চিন্তা করিস না বেশিদিন থাকবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে বের করে দেব। এখন শুধু একটু দয়া করে রাখছি।”

“দয়া করে কেউ বিয়ে করে?”

ইয়াসমিনের প্রশ্নটা শুনে থমকালো ইমদাদ। যৌক্তিকতা আছে ইয়াসমিন এর প্রশ্নে, তবে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলো না। হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলল,

“ইমদাদ সবার থেকে আলাদা, তাই ইমদাদের দয়াও আলাদা। যেটা কেউ করতে পারে না সেটা ইমদাদ করে দেখায়। সেজন্য কেউ দয়া করে বিয়ে করতে পারে না, তাই ইমদাদ করে দেখালো। তোর ভাবিকে নিয়ে ঘরে যা। আমার ঘরে রেখে আয়।”

কলির আর সহ্য হচ্ছে না, না ইমদাদ কে আর না ওর কথা কে। ইয়াসমিন কে বলল,

“আপু, আমায় তোমার একটা জামা দেবে? আমি একটু ফ্রেশ হবো।”

“হ্যাঁ দিচ্ছি। চলো আমার সাথে।”

ইয়াসমিন কলি কে নিয়ে নিজের ঘরে যেতে চাইলে ইমদাদ ওকে বাধা দিয়ে বলল,

“আমার ঘরে পাঠা। এইবাড়িতে ওর শুধু আমার ঘরেই জায়গা হবে।”

সব অত্যাচার মেনে নিলো কলি। ইয়াসমিনের আগে আগে নিজেই ইমদাদের ঘরের দিকে হাঁটা দিল। ইমদাদ হাসলো।

কলি সেখান থেকে চলে যেতেই ইয়াসমিন ইমদাদ কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“কাজটা ঠিক করনি ভাইয়া। আমি কোনদিন তোমার কোন কাজ নিয়ে তোমায় প্রশ্নবিদ্ধ করিনি, তোমার কোন সিদ্ধান্তের দিকে কখনো আমি আঙুল তুলিনি, তবে আজ বাধ্য হচ্ছি। কলির দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছো তুমি। তোমার থেকে এটা আশা করিনি আমি। ওরা যেমন আমাদের বাড়ির মেয়ের জীবন নষ্ট করেছিলো, ঠিক তেমনি প্রতিশোধের নেশায় তুমিও ওদের বাড়ির মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিলে। দুজনের মাঝে আর কোন পার্থক্য রইলো না ভাইয়া। এই প্রথম আমার তোমায় দেখে মনে হচ্ছে তুমিও সরদার বাড়ির ছেলে।”

কথাটা বলে ইয়াসমিন চলে গেল সেখান থেকে। ইমদাদ ওর কথায় গুরুত্ব দিল না। ওরা ছোট মানুষ। যা দেখছে তাই বলছে। ভেতরে কাহিনী তো ওরা জানে না।

বিজ্ঞাপন
অলিতে গলিতে প্রেম গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও সামাজিক গল্প