অলিতে গলিতে প্রেম

পর্ব - ১৩

🟢

ইয়াসমিনের ঘরে মন ম'রা হয়ে বসে আছে কলি। সরদার বাড়িতে যাওয়ার আগে ইমদাদ ওকে বলে গিয়েছিল যে সরদার বাড়ির লোকজনকে দাওয়াত দিতে যাচ্ছে।

কলির মাথায় এখন দুটো কথা ঘুরছে। এক, খুব কি দরকার ছিল অনুষ্ঠান করার? আর দুই, সরদার বাড়ির লোকজন এই খবরটা জানার পর তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? ভয় হচ্ছে কলির। যদি ওরা ইমদাদের গায়ে হাত তোলে! অস্বাভাবিক কিছু তো নয়। হতেই পারে। যদি কোন ঝামেলা তৈরি হয় তাহলে কিভাবে কলি এতদূর থেকে সামলাবে?

কলিকে তাে যেতেও দিলােনা ছেলেটা। যাওয়ার আগে শাসিয়ে গেছে যেন কলি এক পা বাড়ির বাইরে না রাখে। এই ঝামেলা থেকে যে কবে মুক্তি মিলবে কলির কে জানে!

কলির এসব ভাবনার মাঝে কানে কারো পায়ের শব্দ এলো। কেউ বোধহয় এদিকেই আসছে। মাথা তুলে দরজার দিকে তাকাতেই দেখল ইমদাদ।

ইমদাদ কে দেখতেই কলি তাড়াহুড়ো করে উঠে দাঁড়িয়ে ইমদাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে উদ্বিগ্ন গলায় বলল,

“ওদিকে সব ঠিক আছে তো? বাবা, দাদু ঝামেলা করেনি তো? তোমার গায়ে আবার হাত তোলেনি তো?”

কলির কন্ঠে ইমদাদের জন্য চিন্তা প্রকাশ পেল, যা ইমদাদের ঠিক হজম হলো না। ভ্রুঁ উঁচিয়ে বলল,

“বিয়ে হতে না হতেই স্বামীর জন্য এত চিন্তা!আগে যদি জানতাম যে আমাদের বিয়ে হয়ে গেলে তুই আমার জন্য চিন্তা করবি তাহলে তো অনেক আগেই বিয়েটা করে নিতাম।”

এমন গুরুতর মুহূর্তে ইমদাদের গা ছাড়া ভাব আর মশকরা করা একেবারে পছন্দ হলো না কলির। বিরক্তিকর গলায় বলল,

“আমি একটা গুরুতর বিষয়ে প্রশ্ন করেছি আর তুমি মজা করছো? তোমার মনে হয় এটা মজা করার সময়?”

ইমদাদ এবারেও গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল

“জীবনে কাঁদার জন্য অনেক মুহুর্ত পেলেও আনন্দ করার জন্য খুব কম মুহূর্ত পাবি। মশকরা সব সময় তুই করতে পারবি না। তোর মন মেজাজ তেমন থাকবেই না তাই। যখন সুযোগ পাবি একটু মজা করে নিবি। দেখবি ভালো লাগবে।”

কথাটা বলে ইমদাদ চলে যেতে নিলে কলি ওর হাত টেনে ধরে মৃদু রাগী গলায় বলল,

“আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তারপর যেখানে খুশি যেও। কোন ঝামেলা হয়েছে ওই বাড়িতে?”

ইমদাদ বুঝলো কলিকে না বললে ও যেতে দেবে না। তাই বাধ্য হয়ে বলেই ফেলল।

“না। হয়নি কোনো ঝামেলা। তোর বাড়ির লোকজন ভালো হয়ে গেছে রে কলি। দাওয়াত দিয়ে এসেছি সবাইকে বৌভাতের অনুষ্ঠানে। তুই সেজেগুজে থাকিস যেন ওরা বুঝতে পারে যে তুই ভালো আছিস আমার কাছে।”

কলি তাচ্ছিল্য গলায় বলল,

“নাটক করবো আবার? সব সময় কেন আমাকেই নাটক করতে হয় বলোতো? সব সময় কেন আমাকেই অন্যের ইশারায় চলতে হয়? সব সময় কেন আমাকেই খুশি না থেকেও খুশি থাকার অভিনয় করে যেতে হয়?”

“অন্যের ইশারায় তোকে চলতে হয় তার কারণ তুই নিজের লাগাম অন্যের হাতে দিয়ে রাখিস। নিজে নিজেকে চালাতে শিখিসনি তুই। অন্যের ইশারা ছাড়া তুই চলতেও পারবি না কখনো। নিজের হয়ে জোর দিয়ে কিছু বলার বা করার কোনো ক্ষমতাই নেই তোর। পরিবারের মিথ্যে ভালোবাসার, মিথ্যে আবেগে ভেসে যাওয়া গরু তুই।”

ইমদাদের কন্ঠে প্রকাশ পেল তীব্র রাগ। রাগের উদগীরণ ঘটিয়ে চলে যেতে নিলে পিছন থেকে কলি বলে উঠলো,

“পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া তোমার কাছে খুব সহজ মনে হতেই পারে। তবে একটা মেয়ের জন্য এটা এতটাও সহজ না যতটা সহজে তুমি বলে গেলে। মেয়েদের স্বাধীনতা, মেয়েদের ইচ্ছের মূল্য কোনদিন কোথাও থাকে না। আমাকে আর ভাইয়াকেই দেখো না। আমরা একই বাড়িতে থাকি। সেই বাড়িতে আমার ইচ্ছের কোন মূল্য নেই। আর আমার ভাইয়ার সব কথার মূল্য আছে। আর তুমি বললে না পরিবারের প্রতি মিথ্যে ভালোবাসা? এটা ভুল বললে ইমদাদ ভাই। আমার পরিবার আমায় ভালোবেসেছে কিনা জানিনা। তবে আমি ভালোবেসেছি। আমার পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষকে আমি ভালোবেসেছি। ছোটবেলা থেকে ওই পরিবারে বড় হয়েছি আমি। সবার প্রতি মায়া জন্মাবে এটাই কি স্বাভাবিক না? অবশ্য তোমাকে বলে কোনো লাভ নেই। তুমি তো পরিবারে বড় হওনি, তাই তুমি পরিবারের কদর বুঝবে না।”

কলির শেষের কথাটা শুনে ইমদাদ চমকে পিছনে ফিরে তাকালো। তবে ততক্ষণে কলি ঠাস করে ইমদাদের মুখের ওপরে দরজাটা বন্ধ করে দিয়েছে। নিজের অজান্তেই কলি আজ আবারও ইমদাদ কে কষ্ট দিল।

ইমদাদ মলিন হেসে নিজেই বিরবির করলো,

“ঠিকই তো বলেছিস তুই। আমার তো পরিবার ছিল না কখনো। পরিবারের কদর বুঝবো কি করে!”

_________

সকাল থেকে আজ ইয়াসমিনের দেখা খুব কমই পেয়েছে ইমদাদ। যে ক’বার সামনে পড়েছে মনে হয়েছে ইয়াসমিন কেমন যেন এড়িয়ে যেতে চাইছে ইমদাদ কে। যেন কথা বলার কোন ইচ্ছে নেই ইমদাদের সাথে। ইমদাদ দু একটা কথা জিজ্ঞেস করেছে ইয়াসমিন শুধু সেগুলোর উত্তর দিয়েছে। তাও সেই উত্তর দিতেও যেন কত অনীহা। এখন একটু সময় পেয়েছে ইমদাদ। তাই মনে হলো ইয়াসমিনের সাথে গিয়ে একবার কথা বলা উচিত।

খুঁজতে খুঁজতে ইয়াসমিনকে গিয়ে সেই আবার রান্না ঘরেই পেল। ইয়াসমিন কে রান্না করতে দেখে ইমদাদ ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,

“বাড়িতে আবার রান্না করছিস কেন? বাইরে রান্না হচ্ছে তো।”

ইমদাদের কন্ঠ পেয়েও ইয়াসমিনের কাজের মাঝে বিন্দুমাত্র কোন বাধার সৃষ্টি হলো না। বরং আগের মতনই কাজ করতে করতেই স্বাভাবিকভাবে ইমদাদ কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“ওগুলো তো তোমার বিয়ের রান্না। যাদের দাওয়াত দিয়েছো তাদের জন্য। যারা তোমাদের এই বিয়েতে খুশি, যারা তোমার এই জয়ে খুশি তারাই ওগুলো খেয়ে যাবে।”

ইমদাদ ফের ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,

“মানে কি বলতে চাইছিস তুই? কিসের জয়? তুই আমাদের বিয়েতে খুশি হোস নি?”

এবারে ইয়াসমিনের কাজের হাতটা থামলো। ঘাড় ঘুরিয়ে ইমদাদের দিকে তাকিয়ে বলল,

“একটা মেয়ে হয়ে যখন চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি আরেকটা মেয়ের জীবন ধ্বংসের প্রয়াস চলছে তখন কি আমি খুশি হতে পারি ভাইয়া? তাহলে কি তোমার শিক্ষা কে অপমান করা হবে না? গতকাল রাত থেকে তো আমি একটা কথাই মেনে নিতে পারছি না যে আমার ভাইয়াও প্রমাণ করে দিল যে তার শরীরে সরদার বংশের র’ক্ত বইছে।”

এতক্ষণে ইমদাদ বুঝতে পারলো ইয়াসমিনের এত রাগ আর অভিমানের কারণ। অবশ্য ইয়াসমিনের রাগ হওয়াটাও যৌক্তিক।

ইমদাদ এগিয়ে গেলো বোনের দিকে। গ্যাসের চুলাটা বন্ধ করে দিয়ে ইয়াসমিনকে নিজের দিকে ঘুরে দাঁড় করিয়ে শান্ত গলায় বলল,

“বিশ্বাস আছে তোর ভাইয়ের উপর?”

ইয়াসমিন তৎক্ষণাৎ জবাবে বলল,

“নিজের থেকেও বেশি। কিন্তু গতকাল তুমি যেটা করলে সেটা আমি মেনে নিতে পারছি না ভাইয়া। তুমি ভাবতে পারছো যখন কাফিলের সাথে তোমার তুলনা করতে হচ্ছে তখন আমার ঠিক কতটা কষ্ট হচ্ছে। আমিতো জানতাম ও আমার ভাইয়ের নখেরও যোগ্য না। কিন্তু আজ আমি আমার ভাইকে আর ওকে একই দাড়ি পাল্লায় মাপছি। এটা আমার জন্য কতটা কষ্টকর ভাবতে পারছো তুমি?”

ইমদাদ হাসলো ইয়াসমিনের কথায়। ইয়াসমিনের মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,

“নিজের থেকেও যখন বেশি বিশ্বাস করিস তাহলে এত ভাবছিস কেন? এটা ঠিক আমি কলির বিপদের সুযোগ নিয়েছি। এটাও ঠিক কলি কে বিয়ে করার পেছনের মুখ্য উদ্দেশ্য হয়তো আমার সরদার বাড়ির লোকজনকে শায়েস্তা করা। কিন্তু তোর ভাই কলির জীবন নষ্ট করবে না। একবার যখন তিন কবুল বলে ওকে বিয়ে করেছি আমি চেষ্টা করব সারা জীবন ওর সাথে সংসার করার। আমি চেষ্টা করব ধীরে ধীরে ওকে স্বাভাবিক করার। তবে এটাও ঠিক যদি কলি আমার সাথে সংসার করতে রাজি না হয়, যদি ও মুক্তি চায় আমি ওকে মুক্তি দিয়ে দেবো। তবে সেটা এখন না। এখন ও আমার কাছে, আমার স্ত্রী হিসেবে সব থেকে বেশি নিরাপদ ইয়াসমিন। আমি এখন ওকে মুক্তি দিয়ে দিলে ও অনেক ঝামেলায় পড়বে। আমি আর সাঈদ মিলে অনেক কিছু ভেবেই এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।”

ইমদাদের মুখে সাঈদের নামটা শুনতেই ইয়াসমিন কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করলো,

“সাঈদ নামটা এর ভিতরে কি করে এলো?”

“তোকে এসব জানতে হবে না। তুই শুধু এতটুকু জেনে রাখ তোর ভাই কখনোই কাফিল হতে পারবে না। কলি কেও আমি শাস্তি দেব। ওর একটা বিষয়ে শাস্তি প্রাপ্য। সেটা হলো আমার বোনের সম্বন্ধে খারাপ কথা বলার।”

“কিন্তু ভাইয়া…....”

ইয়াসমিন আরো কিছু বলতে চাইলো তবে ইমদাদ ওকে সেই সুযোগ দিলো না।

“আর কোন কিন্তু না। বাইরে গিয়ে দেখ খলিল মামার বাড়িতে সবাই আনন্দ করছে ওদের ইমদাদ ভাইয়ের বিয়ের উপলক্ষে। তুইও গিয়ে আনন্দ কর। আর কখনো কিন্তু সুযোগ পাবি না ভাইয়ের বিয়েতে আনন্দ করার। ভাইয়ের বিয়ের খাবারও আর কখনো পাবি না। তাই বাড়িতে রান্না করা ছেড়ে দিয়ে ভাইয়ের বিয়ের খাবার খা।”

“কিন্তু কেন আর সুযোগ পাবো না? আমি জানি আজ হোক কাল হোক কলি তোমাকে ছেড়ে চলে যাবেই। তারপর সারা জীবন একা থাকার ইচ্ছে আছে নাকি তোমার? তুমিও নতুন করে তোমার জীবন শুরু করবে।”

ইমদাদ মলিন হেসে দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বলল,

“সে আবার হয় নাকি? তুই শুধু ভাবছিস গতকাল কবুল বলার সময় কলির জীবনটা নষ্ট হয়ে গেছে, অথচ থমকে গেছে আমার জীবনও। কলি এগোতে পারবে নিজের জীবনে, তবে আমি আর পারব না।”

“কেন পারবে না? তবে কি ভালোবাসো কলি কে?”

ইয়াসমিন ভেবেছিল এই প্রশ্নের উত্তরটা দিতে ইমদাদকে বোধ হয় একটু ভাবতে হবে। একটু চিন্তার মাঝে পড়ে যাবে, তবে তেমন কিছুই হলো না। আবারো মলিন হেসে কোন সময় ব্যয় না করে জবাব দিলো,

“ভালোবাসা নেই, তবে কোন একটা অনুভূতি আছে ওর প্রতি যে অনুভূতির আসল নামটা আমি জানিনা। ওকে ভালোবাসি না, ওকে ভালোও লাগে না, ওর প্রতি কোন মায়া নেই, ওর প্রতি করুনাও হয় না, তবুও কি যেন একটা অনুভূতি কাজ করে ওর প্রতি যা আমাকে থমকে দেয়। যা আমাকে ওর প্রতি কঠোর হতে দেয় না।”

_________

রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে আবার নিজেদের বাড়িতে ফিরে এলো ইমদাদ। সত্যি খলিলের বাড়িতে ছোট্ট করে বৌভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। নিমন্ত্রণ করেছিলো কিছু নিজের মানুষ কে, যারা বিপদে আপদে সবসময় ইমদাদের পাশে থেকেছে। যারা সর্বক্ষণ ইমদাদকে ভরসা করেছে।

সরদার বাড়ির কেউ আসে না। সাঈদের আসার কথা ছিল, তবে সাঈদও আসেনি। সন্ধ্যে থেকে ফোনটাও বন্ধ। কে জানে ওর কি হয়েছে।

এদিকে নিজের বৌভাতের অনুষ্ঠানে কলি নিজেই যায়নি। কলি তো ভেবেছিল ও যেতে না চাইলে ইমদাদ ওকে জোর করে টেনে হিঁচড়েই নিয়ে যাবে, তবে তেমন কিছুই হয়নি। ইমদাদ ওকে জোরই করেনি।

এদিকে বাড়িতে কোন রান্নাবান্না হয়নি। খিদেতে কলির পেটে ইঁদুর দৌড়ানো শুরু করেছে। ফ্রিজে শুধু কাঁচা শাকসবজি আর কাঁচা মাছ মাংস পেল। নিজে যে রান্না করে খাবে সেই যোগ্যতাটাও কলির নেই। রান্নাবান্নার কিচ্ছু জানে না।

কলি আশা করেছিলো ইমদাদরা বাড়ি ফেরার সময় নিশ্চই ওর জন্য খাবার নিয়ে আসবে, তবে তেমন কিছুই হলো না। ইমদাদ না হয় নাই নিয়ে এলো খাবার। ও তো নিষ্ঠুর, পাষাণ হৃদয়ের। তাই বলে ইমাদ, ইকবাল, ইয়াসমিনেরও ওর কথা মনে হলো না! আর কিছু না হোক অন্তত পোলাও আর রোস্ট তো আনতে পারতো। এই দুটো হলে কলির আর কিছুই লাগতো না। নিজেরা পেট ভরে খেয়ে এসে এখন তো নাক ডেকে ঘুমোবে। এদিকে কলি যে কিছু খাইনি কারো সেদিকে কোন খেয়ালই নেই। কলির বৌভাতের অনুষ্ঠানে নিজেরা গিলে এসেছে। অথচ বউ যে খায়নি সে দিকে কারো খেয়ালই নেই।

দরজা খুলে দিয়ে সবার হাত খালি দেখে কলি আবার ঘরে চলে গেল। কলির হাঁটা দেখেই সবাই যেন বুঝতে পারলো যে কলি ওদের উপর বেজায় চটেছে। ইমাদ আর ইয়াসমিন অসহায় মুখ করে ইমদাদের দিকে তাকালো। ওরা বুঝতে পেরেছে কলির রাগের কারণ। তবে ইমদাদ খুব একটা বেশি পাত্তা দিলো না। চুপচাপ সবাইকে আদেশ করল যে যার ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে।

ইমদাদের হুকুম মতো সবাই যে যার ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। ইমদাদ গেল নিজের ঘরে। গিয়ে দেখল কলি কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়েছে। ইমদাদ ভাবলো ভালোই হলো। অন্তত খাবারের জন্য চেঁচামেচি তো করবে না। এখন ঘুমের মাঝে ক্ষুধার জ্বালায় জ্ঞান হারিয়ে থাকলেও সমস্যা নেই।

ইমদাদ জামা কাপড় বদলে ফোনটা হাতে নিতেই দেখলো একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে দুবার মিসড কল উঠে আছে। রাত তখন দশটার কাছাকাছি। কলটা এসেছিল দশ মিনিট আগে। তাই ইমদাদ ভাবলো এখনও জেগেই আছে নিশ্চয়ই। সে যদি এত রাতে কল দিতে পারে তাহলে ইমদাদ কল ব্যাক করলে খুব বেশি অভদ্রতা হবে না।

ফোনটা নিয়ে বারান্দায় গেল। কলি কাঁথার নিচ থেকে মাথাটা বের করে উঁকি দিয়ে দেখলো ইমদাদ বারান্দায় গেল। সন্দেহ হলো কলির। ভাবলো এত রাতে বারান্দায় গেল কেন? লুকিয়ে কারো সাথে কথা বলবে নাকি?

ইমদাদ নাম্বারটায় কল ব্যাক করলো। একবার রিং হতেই ফোনটা রিসিভ হলো। মানুষটা বোধহয় ইমদাদের কলের অপেক্ষাতেই ছিল। ইমদা সালাম দিল। অপর পাশ থেকে একটা মেয়েলী কণ্ঠস্বর সালামের জবাব দিল। ইমদাদ চিনতে পারল না কন্ঠটা। কিছুক্ষণ নিজে চুপ করে থাকলো। অপর পাশে মেয়েটাও চুপ করে থাকলো। কেউই আগে নিজের পরিচয় জানাতে ইচ্ছুক না।

বেশ কিছুটা সময় চুপচাপ থাকার পর অবশেষে আফসানাই হার মানলো। আফসানাই আগে ধৈর্য হারিয়ে নিজেই নিজের পরিচয় দিল।

“আফসানা বলছি।”

ইমদাদ অবাক হলো আবার অবাক হলো না। ইমদাদ জানতো আফসানা আজ হোক কাল হোক কল করবে। এমনটাই মনে হয়েছিলো। কেন মনে হয়েছিল জানেনা। যোগাযোগটা আবার কেন করতে চাইছে সেটাও ইমদাদ খুব ভালো করেই জানে। তবে তাও মনের মাঝে একটা তীব্র কৌতুহল তৈরি হলো। কেন আফসানা আবার নতুন করে সবটা শুরু করতে চাইছে? তবে সেই কৌতুহল প্রকাশ করলো না। বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,

“হ্যাঁ বলুন। আমার কিন্তু অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেই আপনার সাথে কথা বলার। সময় নষ্ট হবে না তো আবার!”

বিজ্ঞাপন

আফসানার রাগ হলো ইমদাদের কথা শুনে। একটু অপমানিতও হলো। তবে তাও শুধু হাসলো। নিজেও স্বাভাবিক গলাতে বলল,

“বিজনেস পার্টনারের সাথে কথা বলার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগে না। আর বিজনেস নিয়ে আলোচনা করলে সময় নষ্টও হয় না।”

“আমরা আবার বিজনেস পার্টনার হলাম কবে থেকে?”

“আপনি চাইলে আজ এই মুহূর্ত থেকে হতে পারি।”

“আর যদি আমি না চাই?”

“দেখুন, জোর তো করতে পারবো না। যদি আপনি না চান তাহলে আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করবো। সেদিন আপনার ওখান থেকে চলে আসার পর আমি আমার ভুলটা রিয়েলাইজ করতে পেরেছি। বাই দা ওয়ে, আপনার ভাই এখন কেমন আছে?”

নিজের ব্যক্তিগত বিষয় আফসানা কে জানাতে পছন্দ করলো না ইমদাদ। তাই শেষের প্রশ্নটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলল। নিজে পাল্টা প্রশ্ন করলো,

“রিয়েলাইজেশন হয়েছে সেটা ভালো। কিন্তু এতে আমি কি করতে পারি? আমার আপনার সাথে বিজনেস করার কোন ইচ্ছে নেই ম্যাডাম।”

আফসানা কান থেকে ফোনটা নামালো। ভীষণ রাগ হচ্ছে, ভীষণ। ছেলেটার সাহস কত যে আফসানার সাথে এভাবে কথা বলে। তার উপর বলে দিচ্ছে আফসানার সাথে নাকি বিজনেস করবে না। আরে আফসানার বিজনেস পার্টনার হওয়ার জন্য মানুষের লাইন লেগে আছে। আর এই ছেলেটা এত বড় একটা সুযোগ পাওয়ার পরেও মুখের উপর মানা করে দিচ্ছে সাহস কত বড়! এই ছেলেকে তো সোজা করেই ছাড়বে আফসানা। আর সেই জন্য এখন নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

আবারো ফোনটা কানে ধরে শান্ত গলায় বলার চেষ্টা করলো,

“আপনার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর বিজনেস থেকে মাসে কত টাকা ইনকাম করেন?”

আফসানার মুখে থেকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর বিজনেসের নামটা শুনে চমকালো ইমদাদ। ভ্রুঁ কুঁচকে প্রশ্ন করলো,

“আপনি কি করে জানলেন?”

আফসানা চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে বলল,

“আফসানা চাইলে তো কত কিছুই করতে পারে। আর সামান্য আপনার ব্যাপারে খোঁজ নিতে পারব না! তা বলুন কত টাকা ইনকাম করেন?”

“আমার পেছনে গোয়েন্দা লাগিয়েছেন নাকি? অযথা কেন নিজের টাকা আর সময় নষ্ট করছেন বলুন তো? যেখানে আমার আপনার পেছনে ঘোরার কথা, সেখানে আপনি কেন আমার পেছনে ঘুরছেন?”

আফসানা ইমদাদের প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর না দিয়ে বলল,

“কত টাকা আসে ব্যবসা থেকে, যেখানে এতজন মিলে ব্যবসাটা করছেন? তার থেকে আমি আপনাকে একটা অফার দেই, আমার সাথে বিজনেসটা করুন। সেভেন্টি পার্সেন্ট প্রফিট আপনাকে দেব। আর আপনার ওই ব্যবসা থেকে আপনি যা ইনকাম করেন তার থেকে তো দ্বিগুণ টাকা আমার অফিসে চাকরি করলেই পেয়ে যাবেন। কি দরকার অযথা ওই ব্যবসার পেছনে ছোটার। কাল চলে আসুন আমার অফিসে। এবারে আর কোন আপয়েন্টমেন্টও লাগবে না।”

আফসানা ভেবেছিল ওর কথায় বোধহয় কাজ হবে। ইমদাদ নিশ্চয়ই সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাবে। এক্ষুনি বলবে যে কাল দেখা করতে আসবে, তবে তেমন কিছুই হলো না। বরং ইমদাদ হো হো করে হেসে উঠলো।

ইমদাদের হাসিটা ঠিক হজম হলো না আফসানার। প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করলো,

“হাসছেন কেন?”

ইমদাদ নিজের হাসি থামানোর চেষ্টা করে বলল,

“এত বড় একটা ব্যবসা সামলাচ্ছেন অথচ মাথায় বুদ্ধি এত কম? আপনি যে আমায় আকাশে তুলে মাটিতে আছাড় মারতে চাইছেন সেটা আমি বুঝবোনা ভেবেছেন? এত বড় মাপের একজন মানুষ যার একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে গেলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয় সে হঠাৎ করে আমার সাথে ব্যবসা করার জন্য কেন উঠে পড়ে লাগবে এটা কি আমি বুঝতে পারবো না? আপনার ইগোতে লেগেছে আমার করা অপমান। আপনি এটা সহ্য করতে পারছেন না যে আমার মতন একজন তুচ্ছ মানুষ কি করে আপনার মুখের উপর জবাব দেওয়ার সাহস করতে পারে। কি করে আপনাকে অবজ্ঞা করতে পারে তাইতো?”

“ভুল ভাবছেন আপনি ইমদাদ। আমার উদ্দেশ্য খারাপ না।”

“উদ্দেশ্যে যাই হোক ম্যাডাম, ইমদাদের ভাবনার সাথে আপনার ভাবনা মেলে না। দুটো মানুষের ভাবনা না মিললে কখনো একসাথে ব্যবসা করা যায় না। আমি জানি এমন সুযোগ হয়তো আমি আর পাবোনা, আমার দরকারও নেই। ব্যবসার স্বপ্ন আমি ভুলে যাব, তবুও আপনার সাথে আমি নেই। ছোট মুখে হয়তো অনেক বড় কথা বললাম তার জন্য আমি একটুও দুঃখিত নই৷ ভালো থাকবেন। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।”

কথাটা বলে ফোনটা কেটে দিল ইমদাদ। একবার ভাবলো আফসানার নাম্বারটা ব্লক করে দেবে। পরে ভাবলো না বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। ইমদাদের চোখে একটু ঘুমের রেশও চলে এসেছে। তাই ভাবলো গিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে।

যেই ভাবা সেই কাজ। ঘরে যাওয়ার জন্য উদ্দ্যত হলো। বেলকনির দরজাটা খুলতেই কলি হুড়মুড়িয়ে মেঝের উপরে পড়লো। ইমদাদ চমকে দু কদম পিছিয়ে গেল। ভয় পেয়ে গিয়েছিলো।

এদিকে কলিও লজ্জায় মাথা তুলে ইমদাদের দিকে তাকাতে পারছে না। ইমদাদ একটু স্বাভাবিক হলো। বুঝতে আর বাকি রইল না কলি লুকিয়ে লুকিয়ে ওর কথা শুনছিলো। গম্ভীর গলায় বলল,

“আড়ি পাতার স্বভাবও আছে তোর মাঝে? আর কি কি বদভ্যাস লুকিয়ে রেখেছিস নিজের মাঝে বলতো? বেশ অনেকটা সময় তো বাড়িতে একা ছিলি, কিছু চুরি করিসনি তো?”

ইমদাদের করা অপমান খুব আত্মসম্মানে লাগলো কলির। এক লাফে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

“তোমার বাড়িতে চুরি করার মতন আছে নাকি কিছু?”

“ওহ্ তার মানে থাকলে চুরি করতি। শালা তোর পুরো গুষ্টি চোর। আর তুই যে চোর সেটা তো অনেক আগেই বুঝে গেছি।”

“বাজে কথা বলবে না একদম ইমদাদ ভাই। কি চুরি করেছি আমি তোমার যে তুমি বুঝে গেছো আমি চোর?”

ইমদাদ কলির দিকে একটু ঝুঁকে গিয়ে বলল,

“যেদিন বুঝবি তুই আমার কি চুরি করেছিস সেদিন নিজেই অবাক হয়ে যাবে। ভাববি কি করে তুই ইমদাদের এই গোপন জিনিসটা চুরি করলি। তবে আমি জানি তুই কখনো সেটা বুঝবিই না। কারণ তুই একটা গরু।”

কথাটা বলে ইমদাদ কলি কে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। কলি বেশ কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবলো যে কি এমন চুরি করেছে। নাহ, কখনো তো কিছু চুরি করেনি। এই বাড়িতে তো কখনো আসেইনি। তাহলে কিসের অপবাদ দিচ্ছে এই লোকটা।

কলির এসব ভাবনার মাঝে ইমদাদের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,

“ফ্রিজে মাছ, মাংস, শাকসবজি সবই আছে। খিদের জ্বালা একেবারে অসহ্যকর হয়ে উঠলে গিয়ে রেঁধে খেয়ে নিস। আর ভুলেও যেন রান্নাঘরে একটুও শব্দ না হয়। কোন লাইটও জ্বালাবি না।”

কলি ইমদাদের দিকে তাকিয়ে দাঁত পিষে বলল,

“আরেকটা শর্ত বাকি থেকে গেছে। বলো এই ঘর থেকে না বেরিয়ে আমাকে রান্না করে খেতে হবে। কিংবা আগুন না ধরিয়েই আমাকে রান্না করতে হবে তাহলে আরো ভালো হয় না।”

কলির কথাটা শুনে ইমদাদ নিজেই দমে গেল। আর কিছু বলল না। চুপচাপ ঘুমোনোর ভান করলো। কলি গিয়ে বসলো চেয়ারে। কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। না খেলে তো ঘুমও ধরবে না। আবার খাবেই বা কি।

বেশ অনেকটা সময় চুপচাপ বসে থাকার পর অবশেষে যখন খিদের জ্বালা অসহ্যকর হয়ে উঠলো তখন কলি ভাবলো কিছু একটা রান্না ঠিক করে ফেলবে। অন্তত একটা ডিম সেদ্ধ তো করতে পারবেই।

যেই ভাবা সেই কাজ। কলি রান্না ঘরে গিয়ে লাইট জ্বালাতেই ইয়াসমিনকে দেখে ভূত দেখার মতন চমকে উঠলো। আতঙ্কিত গলায় বলল,

“তুমি এখানে কেন? ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম তো।”

ইয়াসমিন উত্তর দিয়ে নিজে আবার পাল্টা প্রশ্ন করলো,

“আমি তো পানি খেতে এসেছি। তুমি এখানে কি করছো এত রাতে?”

“আসলে ক্ষুধা লেগেছে। তোমরা তো একা একাই খেয়ে এলে। আমার জন্য তো কিছুই আনোনি। তাই ভাবলাম কিছু একটা রান্না করে খাই।”

ইয়াসমিন কে পেয়ে কলির সুবিধাই হলো। ইয়াসমিন আর ওকে রান্না করতে দিলো না। নুডুলস বের করে কলির জন্য রান্না করলো। এদিকে এতটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কলিকে ঘরে আসতে না দেখে ইমদাদের একটু চিন্তাই হলো। রান্না ঘরে টুকটাক শব্দও হচ্ছে। ইমদাদ তো জানে কলি রান্নাবান্না কিছুই পারে না। তাহলে মেয়েটা করছে কি এতটা সময় ধরে।।

নিজের কৌতুহল দমিয়ে রাখতে না পেরে রান্না ঘরে গেল। গিয়ে দেখল কলি তখন ডাইনিং টেবিলে বসে নুডুলস খাচ্ছে। ইমদাদ কে দেখে মুখ ভ্যাঙচালো। তারপর চুপচাপ আবার নিজের খাওয়ায় মনোযোগ দিল। ইয়াসমিন ইমদাকে দেখতেই বলে উঠলো,

“ভাইয়া তুমিও বসো। তুমিও তো কিছু খাওনি। তোমাকে একটু দেই?”

ইয়াসমিনের কথাটা শুনে কলি খাওয়া বন্ধ রেখে মাথা তুলে তাকিয়ে বলল,

“তুমি খাওনি? শখ করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে আবার গিলে আসোনি কেন? নিশ্চয়ই রান্না ভালো হয়নি সেজন্য খেতে পারোনি তাই না? ঠিকই হয়েছে। আমাকে না দিয়ে খেলে এই অবস্থাই হবে। খেলেও হজম হতো না তোমার।”

কলি নিজের মতন করেই বকবক করে গেল। ইমদাদ পাত্তাই দিল না ওকে। ইমদাদ সোজা ইয়াসমিন কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“আমি খাব না, খিদে নেই। তুই গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।”

ইমদাদ চলে যেতে ধরলে ইয়াসমিন ফের বলে উঠলো,

“একটু খেয়ে যাও। সেই কোন সকালে খেয়েছিলে।”

ইমদাদ কণ্ঠে একরাশ অনীহা প্রকাশ করে বলল,

“ইচ্ছে নেই। ক্ষুধা লাগেনি আমার। ওকে দিয়ে দে বেশি করে। দেখে মনে হচ্ছে জীবনেও খায়নি। ওর বাড়িতে মনে হয় ওকে ঠিকঠাক খেতেও দিতো না।”

কলির কানে ইমদাদের বলা একটা কথাও গেল না এতটাই খাওয়ায় মনোযোগ দিয়েছে। ইমদাদ চলে গেল সেখান থেকে। কলি নিজের খাওয়া-দাওয়া শেষ করেই ইয়াসমিন কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“ওই খচ্চর খেয়ে আসেনি কেন রাতে? তোমরাও কেউ খাওনি নাকি?”

“না, আমরা খেয়েছি। শুধু ভাইয়া খায়নি।”

“ও কেন খায়নি?”

ইয়াসমিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“মনে হয় তুমি খাওনি জন্য খায়নি।”

কলি কিছুক্ষণ অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো। হুট করে আবার হেসে উঠে বলল,

“ধুর। তোমার আন্দাজ একেবারেই ভুল। নিশ্চয়ই বাইরে কোথাও খেয়েছে জন্য আর ওখানে খেতে পারেনি ।আমার জন্য ইমদাদ ভাই খাবেনা এটা হতে পারে! ও তো চায় যেন আমি না খেয়ে ম'রি।”

কথাটা বলে কলি আবার ঘরের দিকে চলে গেল। ইয়াসমিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এদের দুজনের মাঝে যে কি চলছে, কবে যে সবকিছু ঠিকঠাক হবে, আদৌ ঠিকঠাক হবে কিনা কে জানে!

বিজ্ঞাপন
অলিতে গলিতে প্রেম গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও সামাজিক গল্প