ইমদাদ বাড়ি ফিরে ঘরে আসতে না আসতেই কলি ইমদাদের থেকে ওর ফোনটা চাইলো। যেন মনে হচ্ছিল কলি অপেক্ষাতেই ছিল যে ইমদাদ কখন বাড়িতে আসবে আর কলি ওর থেকে ওর ফোনটা চাইবে। ইমদাদ কোনো প্রশ্ন না করে ফোনটা কলির হাতের দিলো।
কলি ফোনটা হাতে নিয়ে বিছানারা কোণায় গিয়ে বসলো। এমনভাবে বসলো যেন ওর আশপাশে দাঁড়িয়ে কলি ফোনে কি করছে সেটা কেউ দেখতে না পায়।
কলি ইমদাদের কললিস্টে ঢুকলো। দেখলো আফসানা কখন, কয়বার কল করে এবং কতক্ষন ওদের মাঝে কথা হয়। বেশিক্ষণ তো কথা হয় না ওদের মাঝে। তেমন একটা তো কলও আসে না। ঐ দিনে এক থেকে দুবার। এর বেশি তো কল করে না। আরেকটা বিষয় খেয়াল করলো কলি। আফসানার নামের পাশে ম্যাডাম দিয়ে সেভ করা।
বাহ! তাহলে ওনাকে আবার ভালোবেসে আজকাল ম্যাডাম বলেও ডাকা হচ্ছে। ভালো। খুবই ভালো। যা ইচ্ছে করে ডাকুক। ম্যাডাম ডাকবে না স্যার ডাকবে তাতে কলির কি।
ইমদাদ ফ্রেশ হয়ে জামা কাপড় বদলে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েছে। কলির দিকে তাকাতেই দেখলো কলি ফোনের মাঝে এমন ভাবে মনোযোগ দিয়ে রেখেছে যেন কি না কি দেখছে। ইমদাদের যেন বুঝতে ভুল হলো না যে কলি কি এত মনোযোগ দিয়ে দেখতে পারে।
ইমদাদ ভাবলো আফসানার ব্যাপারটা জানিয়ে দেবে কলি কে। অযথা বিরক্ত করার প্রয়োজন নেই। এমনিতেই তো সম্পর্কে ঝামেলার শেষ নেই, আবার নতুন করে ঝামেলা বাঁধানোর কিই বা দরকার।
“আফসানা আমার প্রেমিকা না।”
কলির কানে গেলই না ইমদাদের কথাটা। ও তখনো ফোন দেখতে ব্যস্ত। কলি তখন গণনা করছে এতদিন যাবত আফসানার সাথে ইমদাদের ঠিক কম মিনিট কথা হয়েছে।
কলির এসব গণনার মাঝেই ইমদাদ ফের বলে উঠলো,
“আফসানা আমার প্রেমিকা না।”
এবারে কলির কানে ইমদাদের বলা কথাটা গেল। চমকে উঠে বলল,
“প্রেমিকা না? তাহলে কে? বউ?”
ইমদাদ বিরক্তিতে নাক মুখ কুঁচকে বলল,
“ও কেন আমার বউ হতে যাবে? আমার কি বউ নেই? ও অন্যের বউ।”
“তারমানে তুমি একটা বিবাহিত মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছো? ছিঃ! তোমার নাহয় নিজেট সংসারের প্রতি কোন গুরুত্ব নেই। তাই বলে ওই মেয়েরও কি সংসারের প্রতি গুরুত্ব নেই? আরো একটা ছেলেকে ঠকাচ্ছো তোমরা দুজনে মিলে!”
ইমদাদ নিজেই নিজের চুল খামচে ধরলো। সেই সাথে নিজের উপর রাগ হলো এটা ভেবে যে কেন এই মেয়েকে বোঝাতে গিয়েছিল। তার থেকে যা ভেবে বসে ছিল সেটাই ভাবতো।
এদিকে হঠাৎ করে ইমদাদ কে এমন পাগলের মতন আচরণ করতে দেখে কলি বিছানা থেকে নেমে ইমদাদের দিকে এগিয়ে এসে বলল,
“কি হয়েছে? এমন করছো কেন?”
যেই না ইমদাদ কিছু বলতে যাবে অমনি ওর ফোনটা বেজে উঠলো। ইমদাদের ফোনটা তখন কলির হাতে। ফলস্বরুপ আগে কলিই দেখতে পেল কে কল করেছে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নিজের বাবার নাম্বারটা দেখতেই ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,
“বাবা কল করেছে কেন তোমায়? তোমাদের দুজনের মাঝে যোগাযোগ আছে?”
ইমদাদ কলির হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে রাগান্বিত গলায় বলল,
“হ্যাঁ। আছে তো যোগাযোগ। তোর বাপের সাথে প্রেম করি।”
কলি নিজেও পাল্টে রাগী গলায় বলল,
“সবসময় সব রাগ আমায় দেখাও কেন? একটা সাধারণ কথা বলেছি।”
ইমদাদের আর কোন উত্তরই দেওয়ার ইচ্ছে হলো না কলির কথার। ফোনটা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে ধরলে কলি ওর হাত টেনে ধরে বলল,
“যা কথা বলার এখানেই বলো। আমিও শুনবো কি কথা বলো তোমরা দুজন।”
“ভালোর জন্য বলছি শুনিস না। মাথা ঘুরে উঠবে। সহ্য করতে পারবি না।”
“আমি শুনবোই। সব সময় শুধু আমার বাবা দাদুর নামে আমার কাছে বদনাম করো। আমিও দেখতে চাই ওরা তোমায় কি এমন বলে যে তুমি সবসময় ওদের শুধু খারাপই বলো।”
ইমদাদেরও মনে হলো কলিকে শোনানো দরকার যে আসলে ওর বাপ দাদারা ঠিক কি বলে। তবে কলটা রিসিভ করার আগে কলিকে শাসিয়ে বলল,
“স্পিকার অন করে কথা বলব। কিন্তু যদি তুই তোর মুখ দিয়ে একটা শব্দও বের করেছিস সোজা গলা টিপে ধরবো।”
কলি বাধ্য মেয়ের মতন দু দিকে মাথা নাড়িয়ে বোঝালো ও কিছু বলবে না।
ইমদাদ ফোনটা রিসিভ করে স্পিকার অন করে গম্ভীর গলায় বলল,
“আমার সাথে কি দরকার?”
ইমদাদের কন্ঠটা পেতেই অপর পাশ থেকে করিম সরদার আফসোসের সুরে বলে উঠলেন,
“ফোনটা রিসিভ করে তো আগে শ্বশুরকে সালাম দিতে হয়। জামাইয়ের থেকে সালামও পাবোনা!”
ইমদাদ ব্যাঙ্গাত্মক গলায় বলে উঠলো,
“শয়তান কি সালামের মর্ম বুঝবে! সেজন্য দিলাম না। আর জামাইয়ের থেকে সম্মান আশা করছেন কিভাবে? দু একদিন জামাই আদর করেছিলেন? মেয়েকে তো ফ্রিতে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন। যৌতুকও দিলেন না।”
ইমদাদ কথাটা বলতেই কলি রাগী দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকালো। যেহেতু আগেই ইমদাদ ওকে শাসিয়েছে যে কথা বলা যাবেনা সেজন্য কিছু বলতে পারলো না। নয়তো এখনই লেগে যেত ঝগড়া।
ফোনের অপর পাশ থেকে করিম সরদার আবার বলে উঠলেন,
“আমার মেয়ের বিয়েতে যৌতুক দেইনি জন্য এখন নিজের বোনের বিয়ে যৌতুক ছাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করেছো? কি বাজে ভাবে তোমরা ভাই বোন মিলে আমার ছেলেটাকে ফাঁসালে বলোতো। আদরের ছেলে আমার, আবদার তো ফেলতে পারিনা। তাই ভাবছি বিয়েটা মেনে নেব।”
নিজের বাবার মুখ থেকে এমন কথাটা শুনতেই কলি খুশিতে লাফিয়ে উঠলো। সেই সাথে মনে মনে খুব সন্তুষ্ট হলো নিজের বাবার প্রতি। ভাবলো কত ভালো ওর বাবা। অথচ এই ছেলেটা শুধু শুধু বদনাম করে। কিন্তু ইমদাদের ব্যাপারটা মোটেও ঠিক লাগলো না। সন্দেহী গলায় বলল,
“পরিষ্কার করে বলুন তো কি বলতে চাইছেন?”
কলি ভুলে গেল ইমদাদের হুমকি। যেই না কিছু বলে উঠতে ধরলো অমনি ইমদাদ খপ করে ওর মুখ চেপে ধরলো। কলি ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করলো তবে ইমদাদের চোখ রাঙানিতে ছটফটানি থেমে গেল।
ফোনের অপর পাশ থেকে করিম সরদার হো হো করে হাসতে হাসতে বললেন,
“আমার ছেলে কে সামলানো যাবে না। আবার নিজের ছেলের কোন ক্ষতিও করতে পারবো না। তাই বাধ্য হয়ে এবারেও তোমার বোনকেই রাস্তা থেকে সরাতে হবে। ঠিক যেভাবে তোমার আরেক বোনকে সরিয়েছিলাম। কেন যে তোমরা একই ভুল বারবার করো আমি বুঝিনা। দেখে শুনে আবার নিজের আদরের বোনকে এই বাড়িতে কেউ পাঠায়!”
মুহূর্তের মাঝে কলির ছটফাটালি বন্ধ হয়ে গেল। উচ্ছ্বসিত মুখটা চুপসে গেল। ঠিক বোধগম্য হলো না নিজের বাবার বলা কথাটা। ইমদাদ কলির দিকে তাকিয়ে ওর অভিব্যক্তি দেখে বুঝতে পারল সেসব। ইমদাদের মনে হলো মেয়েটাকে আরো কিছু কথা শোনানো দরকার। যেন বুঝতে পারে ওর বাপ আসলে কেমন।
“মানে কি বলতে চাইছেন? কি করবেন ইয়াসমিনের সাথে যদি আমি ওর আর সাঈদের বিয়ে দেই?”
“খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না আমায়। এখন সাঈদ ইয়াসমিনকে পায়নি বলে ওর জন্য বেশি পাগলামি করছে। কাফিলও তো এক সময় এমনই করেছিল। আসলে কম বয়স তো, বুদ্ধিশুদ্ধিও কম। কিন্তু একবার পেয়ে গেলে পাগলামি ঠিকই কমে যাবে। তখন তো আর গুরুত্ব দেবে না। আর তখনই তোমার বোন কে আ’ত্ম’হ’ত্যা করতে বাধ্য করবো। তোমার বোনও আমার ছেলের জীবন থেকে সরে গেল, আমার ছেলের কোন ক্ষতিও হলো না। কাজটা খুবই সহজ। তার মধ্যে এর আগেও একবার করেছি। বুঝতেই পারছো অভিজ্ঞতা আছে।”
ইমদাদ খিঁচে দুজন বন্ধ করে নিল। হঠাৎ করে কেমন যেন অস্থিরতা বেড়ে গেল। চোখ দুটো বন্ধ করতেই চোখের সামনে ভেসে উঠলো ইকরার মৃ'তদেহ । মনে পড়ে গেল ওর বাবার হাহাকার। ওর মায়ের আর্তনাদের কথা। মৃ'ত সন্তানকে বুকে আগলে ধরে বলা তাদের প্রত্যেকটা শব্দ মনে পড়লো। সেই সাথে মনে পড়লো সেই অমানুষ গুলোর ভালো থাকার কথা। যাকে ভালোবেসে ইকরা নিজের জীবন দিলো সেই মানুষটা আজ অন্য কারো সাথে সুখে শান্তিতে ঘর-সংসার করছে।
আদৌও কখনো তার ইকরার কথা মনে পড়ে কিনা কে জানে। আদৌও সে নিজের ভুলটা উপলব্ধি করতে পারে কিনা কে জানে। করতে পারেনা নিশ্চয়ই। যদি উপলব্ধি করতেই পারতো তবে কি আর সেই ঘরে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী কে নিয়ে বসবাস করতে পারতো যে ঘরে তার প্রথম স্ত্রী আ’ত্ম’হ’ত্যা করেছিল!
ইমদাদের এসব ভাবনার মাঝেই আবার ওর কানে ভেসে এলো করিম সরদারের কণ্ঠস্বর। এবারে আর তার কন্ঠে কোন ব্যঙ্গ ভাব নেই। এবারে আর মজার ছলে তিনি কথাগুলো বললেন না। বরং ঠান্ডা গলায় হুমকি দিয়ে বললেন,
“নিজের বোনকে সামলাও। তোমার বোন আমার বাড়ির বউ কোনদিন হবে না। যদি বোনের ভালো চাও তবে ওকে সামলাও। আর যদি না সামলাতে পারো তবে ঠিক আছে। আমরা আর কিছু বলবো না। তবে ভবিষ্যতে তোমার বোনের সাথে যা হবে তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রেখো।”
“আপনার মেয়েও কিন্তু আমার কাছে আছে। একবারও এই কথাগুলো বলতে ভয় হলো না?”
করিম সরদার ঘৃনা ভরা কন্ঠে বলে উঠলেন,
“কোন কালে যে আমার মেয়ে ছিল সে কথাই আমি ভুলে গিয়েছি। ম'রে গেছে করিম সরদারের মেয়ে। তোমার বাড়িতে এখন যে আছে সে শুধুমাত্র তোমার স্ত্রী। যাকে আমি ঘৃণা করি। ও যদি জা'হা'ন্না'মে যায় তবুও আমার বিন্দু পরিমান আফসোস নেই। যা ইচ্ছে করে নাও তুমি ওর সাথে। আমার কাছে আমার ছেলে গুরুত্বপূর্ণ। আমার ছেলের ভালোর জন্য আমি এমন দশটা মেয়েকে বিসর্জন দিতে পারি। আর কি ভেবেছো যে মেয়ে আমার হতে পারেনি সে তোমার হবে? ভেবেছো খুব সুখে শান্তিতে সংসার করবে? ভুলে যেও না ওর শরীরে ওর মায়ের রক্তও বইছে। দেখবে কিছুদিন পর ও নিজের স্বার্থে তোমায় ছেড়ে চলে যাবে। মায়ের চারিত্রিক দোষ তো মেয়ে পাবেই।”
কথাগুলো বলে কলটা কেটে দিলেন করিম সরদার। ইমদাদ কলির দিকে তাকাতেই দেখলো কলির দুচোখ বেশে ঝরঝর করে জল গড়িয়ে পড়ছে। ইমদাদ বুঝতে পারছে মেয়েটার কষ্ট হচ্ছে। অবশ্য কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই পৃথিবীতে বোধহয় করিম সরদারই একমাত্র বাবা যিনি নিজের মেয়ের সম্বন্ধে এমন নোংরা নোংরা কথা বললেন।
“বলেছিলাম শুনলি না, সহ্য করতে পারবি না। মিললো তো আমার কথা। কেন যে আমার কথা শুনিস না তুই!”
কলি ছল ছল দৃষ্টিতে ইমদাদের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমি জানি আমার বাবা খুব একটা ভালো না। কিন্তু এতটাও খারাপ না আমার বাবা। আমি জানি আমার উপরে বাবা এখন রেগে আছে তাই বলে আমার সম্বন্ধে এসব বলতে পারেনা। আমার পরিবার খু’নি না। ইকরা আপু তো আ’ত্ম’হ’ত্যা করেছিল। তাহলে এতে আমার পরিবারের দোষ কোথায়?”
ইমদাদ তাচ্ছিল্য গলায় বলল,
“এখনো যদি তুই কিছু না বুঝিস কলি তাহলে আমার সত্যি আর কিছু বলার নেই। জীবনে কোন পর্যায়ে পৌঁছালে একটা মানুষ আ’ত্ম’হ’ত্যা’র পথে যেতে পারে সেটা জানিস তুই? তাও আবার যখন সে নিজের মাঝে আরেকটা প্রান কে ধারণ করছিল। হ্যাঁ আমার বোন আ'ত্ম'হ'ত্যা করেছিল ঠিকই, তবে বাধ্য করেছিল তোর পরিবার। বাধ্য করেছিল তোর কু'লা'ঙ্গা'র ভাই যে ভালোবাসার স্বপ্ন দেখিয়ে আমার বোনকে নিয়ে গিয়েছিল।”
কলি ফুঁপিয়ে উঠে বলল,
“আমার বাড়ির লোকজন এতটা খারাপ না ইমদাদ ভাই। একটু মান সম্মান নিয়ে বেশি চিন্তা করে এটা ঠিক। মেয়েদেরকে খুব একটা পছন্দ করে না এটাও ঠিক। মেয়েদের স্বাধীনতা, ভালো মন্দ এসব বিষয় খেয়াল রাখেনা কিন্তু তুমি যতটা খারাপ বলছো ততটা খারাপ না ওরা ইমদাদ ভাই। আমার মনে হচ্ছে তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে। ইকরা আপুর অন্য কোন সমস্যা ছিল।”
ইমদাদের এবারে প্রচন্ড রাগ হলো কলির উপর। মুহূর্তের মাঝে ওর জন্য তৈরি হওয়া মায়াটা উধাও হয়ে গেল। চোয়াল শক্ত করে বলল,
“তাই নাকি? কি সমস্যা ছিল বল?”
“আমি তো জানতাম ইকরা আপুই আমার ভাইয়া কে ঠকিয়েছিল। আমি জানতাম ইকরা আপুর অন্য কারো সাথে সম্পর্ক ছিল। তারপর সেটা জানাজানি হয়ে গেলে ইকরা আপু লজ্জায় আ'ত্ম'হ'ত্যা করেছিল। এমনকি ওই বাচ্চাটাও নাকি….....।”
কলি নিজের কথাটা সম্পূর্ণ করার আগেই ইমদাদ ওর দুই বাহু চেপে ধরে দাঁত পিষে সাবধানী গলায় বলল,
“চুপ। আর একটা শব্দও উচ্চারণ করবি না তুই কলি। দয়া করে তোরা আমার বোনটাকে নিয়ে আর নোংরা খেলা খেলিস না। আমার বোন পবিত্র। তুই তোর মাকে যতটা পবিত্র মনে করিস আমার বোন ঠিক ততটাই পবিত্র। নোংরা ছিল তোর ভাই, তোর পরিবারের লোকজন। তারা আমার মৃ'ত বোনের চরিত্রে কালি ছেটাতে ছাড়েনি। আমার বোনের পেটে যে বাচ্চাটা ছিল সেটা তোর কু'লা'ঙ্গা'র ভাই কাফিলের সন্তানই ছিল।”
“কিন্তু মা যে আমায় বলেছিলো এই কথাগুলো। মা তো মিথ্যে বলে না।”
“তোর বুদ্ধি তো থাকে হাঁটুতে। তুই বুঝবি কি করে কে তোকে মিথ্যে বলে আর কে তোকে সত্যি বলে। আর কবে তোর বুদ্ধি হবে কলি? কেন তুই বারবার এই কথাগুলো বলে আমাকে কষ্ট দেস। ঘুরেফিরে তুই আমার বোনের দোষ খোঁজার জন্য কেন উঠে পড়ে লেগে যাস? কেন আমি তোর থেকে যা আশা করি তুই সব সময় তার বিপরীত কাজটা করিস? আমি চাইলেও তুই আমায় তোকে ভালোবাসতে দেস না। তুই বারবার তোর বোকামির জন্য তোর প্রতি আমার ঘৃণা তৈরি করতে বাধ্য করিস।”
কথাগুলো বলে ইমদাদ কলিকে ছেড়ে দিল। সেখানে এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না। বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।
কলি ধপ করে বিছানার উপরে বসে পড়লো। কয়েক মুহূর্তের মাঝে গোটা পৃথিবীটা যেন ওলট-পালট হয়ে গেল। যাকে যেমন ভাবতো, যে ঘটনা যেমন শুনেছিল সেগুলো সব মিথ্যে ছিল। কলি এখন আরো বেশি দ্বিধা দ্বন্দ্বের মাঝে পড়লো। কাকে বিশ্বাস করবে, কোন ঘটনা কি বিশ্বাস করবে জানে না। কলি বুঝতে পারছে না যে ওই ভুল বুঝেছে নাকি ওকে ভুল বোঝানো হয়েছে।