বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন

পর্ব - ৭

🟢

মেহরিন বসলো।

মায়রার দিকে তাকিয়ে বললো,,

মাম্মা তুমি আংকেল এর কাছ থেকে আমার কাছে এসো।আংকেল কে ডিসটার্ব করো না।

মায়রা শক্ত করে ঋদ্ধর গলা জরিয়ে ধরলো।

না মাম্মা যাবোনা।

"" থাক না মেহু পাখি আমি ডিসটার্ব ফিল করছি না।

""মেহু পাখি ডাকটা শুনলে মেহরিন থমকে যায়।

সে আর চেষ্টা করলো না মায়রাকে নেওয়ার।

"" যেটা বলছিলাম

কাল অ্যানি বললো তুমি নাকি এখানকার ডক্টর। তবে তেমন একটা রুগি দেখো না।

"" হ্যা কিন্তু কার কি হয়েছে।

মায়রা,,মানে মায়রার কিছু দিন হলো বুকে ব্যাথা করছে ও কান্না করে।

তুমি যদি একটু দেখতে তবে ভালো হতো।

মেহরিন ইতস্তত করে বললো।

তুমি ইতস্তত করছো কেনো মেহু পাখি আমি দেখছি।

"" না আসোলে তুমি নাকি রুগি দেখো না এর জন্য আরকি।

"" হুম তবে সবাই আর তুমি,কিউটিপাই কি এক হলো।

বলে সে মায়রাকে বসিয়ে দিলো টেবিলের ওপর।

থমকে গেলো মেহরিন এই একটা কথায়।

গলার টেথোস্কোপ কানে দিয়ে মায়রার হার্টবিট চেক করলো ঋদ্ধ।

মায়রা ভাবুক হয়ে বললো আংকেল তুমি এটা দিয়ে কি করছো?

ঋদ্ধ হেসে বললো আমি তো তোমার হার্টবিট চেক করছি কিউটিপাই?

আমিও শুনবো?

"" মাম্মা বিরক্ত করো না।গম্ভীর গলায় বললো মেহরিন।

মায়রা মুখ কাচুমাচু করে নিলো।

"" তুমি শুনতে চাও কিউটিপাই?

মায়রা একবার মেহরিন এর দিকে তাকিয়ে না জানালো।

"" তুমি মাম্মাকে ভয় কেন পাচ্ছো কিউটিপাই তোমার ঋদ্ধ আংকেল যখব থাকবে তখন কাউকে ভয় পাবে না।

মেহরিন ওবাক চোখে তাকালো।

ততক্ষণে ঋদ্ধ মায়রার কানে টেথোস্কোপ লাগিয়েছে আর মায়রা ঋদ্ধর বুকের হার্টবিট শুনছে।

"" ওয়াও আংকেল এটা শব্দ হচ্ছে মাম্মা তুমি শোনো।

বলে মেহরিন এর কানেও দিলো,,,

মেহরিন ইতস্তত করে ঋদ্ধর দিকে তাকালো। চোখে চোখ পরলো দুজনের।

"" স্যার,,

একজন নার্স এসে দাড়ালো।

ঋদ্ধ চোখ তুলে তাকালো।

কিউটিপাই তুমি এই আন্টিটাকে দেখছো।উনি অনেক ভালো তুমি এখন ওনার সাথে যাবে উনি তোমার কিছু পরিক্ষা করবে।

মায়রা চোখ তুলে তাকিয়ে বললো ব্যাথা দেবে নাতো আংকেল।

"" একদমি না মায়রার আংকেল থাকতে কার এতোবড়ো সাহস তাকে কেউ ব্যাথা দেয়।

মায়রা মাথা নাড়িয়ে চলে গেলো নার্সটার সাথে।

"" কেমন আছো মেহু পাখি।

"" মেহরিন চমকে উঠলো। এতোক্ষণ সে শুধু এটাই দেখছিলো যে ঋদ্ধ

মায়রাকে কতো সুন্দর সামলাতে পারে।আর মায়রাও ঋদ্ধ কে পেলে দুনিয়া ভুলে যায়।

"" আব ভালো।

তুমি কেমন আছো ঋদ্ধ ভাই?

বলেই চোখ নামিয়ে নিলো মেহরিন।

"" আমি আমি তো ভালোই আছি আমার মেহু পাখির দেওয়া ব্যাথা নিয়ে।

"" মেহেরিনের বুকের ভেতর কেপে উঠলো। তারমানে কি ঋদ্ধ এখনো বিয়ে করে নি।

"" ঋদ্ধ ভাই,,,

"" কি মনে করেছো মেহরিন ভুলে গেছি তোমায়।এতো সহজ যাকে নিজের সবটা দিয়ে বুকের ভেতর আগলে

রেখেছিলাম।তাকে ভুলে অন্য কাউকে নিয়ে সংসার করবো আমি।

তার অন্য কোথাও বিয়ে হয়ে গেছে বলে তাকে ভুলে যাবো।

"" শেষের কথাটা চিৎকার করে বললো ঋদ্ধ।

কেপে উঠলো মেহরিন।

"" বলো কেন জানাওনি আমাকে তোমার ডিভোর্স হয়ে গেছে।

তুমি তো জানতে মেহু পাখি কতোটা ভালোবাসতাম তোমায় আমি তবুও আমাকে ছেড়ে বিয়ে করেছিলে তুমি।

আমিও তোমাকে ছেড়ে ছিলাম যাতে তুমি ভালো থাকো।

এই তোমার ভালো থাকা মেহু।তুমি তো বলেছিলে

আমি ভালে থাকবো ঋদ্ধ ভাই,,

আপনি ভুলে যান আমায়,,

"" ফুপিয়ে উঠলো মেহরিন।

কি বলবে সে।আর কি করে ফিরে আসতো সে ঋদ্ধর কাছে।যার

ভালেবাসা কখনো সে স্বীকার করে নি।যাকে নিজের বাবা ভাইয়ের জন্য সার্থপরের মতো ছেড়ে দিয়েছিলো।

আর তাছাড়া তখন তো তার মায়রা ছিলো।ঋদ্ধ কেন মেনে নেবে মায়রাকে।

""কি হলো কথা কেন বলছো না।

"" ঋদ্ধ,,,

"" হঠাৎ মেহরিন এর দিকে ঝুকে তার দুই বাহু চেপে ধরলো ঋদ্ধ।

কি ঋদ্ধ হ্যা তুমি কি এটা বলতে চাও যে তুমি আমায় ভালোবাসতে না হ্যা।

মেহু তুমিও জানো এটা মিথ্যে।

"" ঋদ্ধ প্লিজ ছাড়ো আমায়।

বিজ্ঞাপন

ফট করে ছেড়ে দিলো ঋদ্ধ মেহু কে।

"" দেখো ঋদ্ধ আমি জানতাম না তুমি আজো আমার অপেক্ষায় আছো।

তাছাড়া তোমার জীবন আমার জীবন সম্পুর্ন আলাদা।আমার

একটা মেয়ে আছে ঋদ্ধ। আর তোমার গোটা জীবন পরে আছে এখনো।

তাই ভুলে যাও আমায় এটাই তোমার জন্য ভালো।

""ঋদ্ধ কিছু বলতে যাবে তার আগেই,,

আংকেল,,

ঘুরে তাকালো ঋদ্ধ,,

কিউটিপাই তোমার কি হয়েছে।

কাদছো কেনো?

আন্টি কি তোমায় ব্যাথা দিয়েছে বলেই চোখ গরম করে তাকালো নার্সটির দিকে।

নার্সটি ঢোক গিললো।

স্যার,,বিশ্বাস করুন আমি কিছু করিনি।

তাহলে ও কাঁদছে কেন ইডিয়ট।

"" মেহরিন উঠে মায়রাকে কোলে বসিয়ে দিলো। কি হয়েছে আমার মাম্মাটার কাদছে কেন?

আমার মায়রা বেবি তো গুড গার্ল তাইনা।

"" মায়রা মেহরিন এর কোল থেকে নেমে গেলো ঋদ্ধ দিকে হাত বাড়িয়ে দিতেই চট করে ঋদ্ধ তাকে কোলে নিলো।

রিশার সাথে ওর পাপা এসেছে আংকেল আমার কেন পাপা নেই।

তুমি আমার পাপা হবে না আংকেল?

"" মেহরিন এর বুক কেপে উঠলো।

সে মায়রাকে যতোই বুঝাক মায়রা তো ছোট তার তো খারপ লাগবেই।

"" ঋদ্ধ একবার মেহরিন এর দিকে তাকালো।

তারপর মায়রার পিঠে

হাত বুলিয়ে বললো

কাদেনা কিউটিপাই আমি হবো তোমার পাপা।

মায়রার কান্না চট করে থেমে গেলো।

সত্যি আংকেল।

তাহলে তোমায় আমি পাপা বলে ডাকবো।

"" ঋদ্ধ কিসব বলছো তুমি?

মেহরিন এর কথায় পাত্তা দিলো না ঋদ্ধ।

হ্যা কিউটিপাই অবস্যই তুমি আমাকে পাপা বলে ডাকতে পারো।

ইয়ে আমারো পাপা আছে আমিও পাপার সাথে স্কুলে যাবো ঘুরতে যাবো।

"" মায়রা অনেক হয়েছে আমাকে অফিস যেতে হবে।

চলো।

"" ঋদ্ধ মায়রাকে মেহরিন এর কোলে দিয়ে বললো রিপোর্ট আসতে একদিন সময় লাগবে কাল একবার এসো।

মেহরিন সায় জানালো।

"" চটপট উঠে দারালো সে এখানে এক মূহুর্ত থাকবে না সে।

অ্যানিকে ডাকলে অ্যানি মায়রাকে নিয়ে যেতে থাকে।

"" পালাচ্ছো মেহরিন।

মেহরিন থতমত খেয়ে গেলো।

পা,,পালাবো কেন আজব।

"" তুমি যতই পালাও তোমাকে ঘুরেফিরে এই ঋদ্ধর কেছেই ফিরতে হবে।বাকা হেসে বললো।

"" মেহরিন দ্রুত পা ফেলে চলে গেলো।

ঋদ্ধ তাকিয়ে রইলো তার যাওয়ার পানে।

-------------------------

কি হয়েছে ম্যাম আপনাকে অনেক চিন্তিত দেখাচ্ছে?

আব তেমন কিছু না অ্যানি।

"" ওহ তবে আজ আমাদের বেবিকে অনেক খুশি দেখাচ্ছে ব্যাপার কি মায়রা বেবি।

"" মায়রা উচ্ছসিত কন্ঠে বললো আন্টি ঋদ্ধ আংকেল আমার পাপা হবে বলেছে।

অ্যানি চোখ বড়ো বড়ো করে মেহরিন এর দিকে তাকালো।

"" মেহরিন করুন চোখে তাকালো অ্যানি আর মায়রার দিকে।

অ্যানি ভাবলো পরে ম্যাম কে জিজ্ঞেস করবে।

----------------------

বুঝলে পিটার তোমাকে নিয়ে আমি খুব চিন্তায় আছি।

"" কেন স্যার। অবাক হয়ে বললো পিটার।

"" আজকাল যেখানে শেখানে মেয়েদের সাথে ঝগড়া করছো তুমি।

তোমার তো বিয়ে হবে না পিটার।আমার ও বদনাম হবে প্রচুর নাটকীয় গলায় বললো ঋদ্ধ।

"" থতমত খেয়ে গেলো পিটার।

স্যার আমি মোটেও ঝগড়া করিনা।আসলে ওই মেয়েটাই ঝগরুটে।ওর বিয়ে হবে না কোন দিন দেখবেন।

"" হুম দেখলাম তো হসপিটালের বাইরেও আজ দুজন ঝগড়া করছিলে।

"" পিটার দাঁত দিয়ে জিভ কাটলো।

স্যার কিভাবে জানলো।

ইয়ে মানে স্যার।

চুপ করো। বাচ্চা একটা মেয়ের সাথে ঝগড়া করো লজ্জা করে না।

পিটার মনে মনে বললো ওটা বাচ্চা না স্যার মরিচ।

আমার ফোনটা দাও তো পিটার।

পিটার ফোন এগিয়ে দিলো ঋদ্ধর দিকে।

ঋদ্ধ অনেক ভেবে একটা নাম্বার ডায়াল করলো।

ফোন তুলতেই ঋদ্ধ গম্ভীর গলায় বললো,,,

"" কেমন আছিস আমার বন্ধু নামক শত্রু।

বিজ্ঞাপন
বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক উপন্যাস