পিটার ঋদ্ধর সাথেই আসছিলো। ঋদ্ধ একটি জরুরি কাজে আজ এক বিজনেস পার্টনারের সাথে তার মিটিংয়ে এসেছে।যদিও মিটিং এর জন্য রাজি করাতে পিটার এবং মি.রিচার্ড কে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ঋদ্ধ তো কিছুতেই আসবে না তার নাকি কী ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে।ঋদ্ধ যখন জিজ্ঞেস করলো কি কাজ বলে তার গেম খেলা।লাও ঠ্যালা মুল কথা হলো সে যাবে না।পরে ঋদ্ধ মাও রিকুয়েষ্ট করে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে তাও মাত্র এক ঘন্টা র জন্য। এক মিনিট বেশি সে থাকবে না। তাই বেশ তারায় আছে পিটার ঋদ্ধ হয়তো পৌঁছে গেছে সে ফাইল নিতে গিয়েছিলো। হেটে আসতে আসতেই আচমকা কারো সাথে ধাক্কা খেলো।
"" ইস দেখে চলতে পারেন না সমস্যা কোথায় উফ কতো ব্যাথা পেলাম।
এই যে মিস আপনি দেখে চলতে পারেন না নাকি চশমাও তো পরেছেন দেখি বুঝেছি আপনি কানা।
আমার ফাইলগুলো সব এলোমেলো করে দিলেন তো।
এতেই যেনো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো অ্যানি।
"" এই কি বললেন আপনি আমি কানা।
"" হ্যা অবস্যই আপনি কানা।
----------------------------
ঋদ্ধ ভাবলো বাচ্চাটা হয়তো ভয় পাচ্ছে।
"" তুমি কার সাথে এসেছো কিউটিপাই?
"" একাই।
"" কিহ একা কেনো এসেছো।
তুমি যদি হারিয়ে যাও?
""মায়রার কোনো জবাব নেই সে মূলত কাদতেই ব্যাস্ত।
আনতেল তুমি এখানে রোজ আস
"" না কিউটিপাই আমি তো কাজে এসেছি।আচ্ছা চলো তোমার অ্যানি আন্টিকে খুঁজি। বলে ঋদ্ধ মায়রাকে কোলে তুলে নিলো।
কিছুদুর হাটতেই মায়রা হাত দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে বললো ওইতো আন্টি।
কিন্তু আন্টি ঝগড়া করছে কেনো?
"" ঋদ্ধ তাকিয়ে দেখলো পিটারের সাথে একটা মেয়ে ঝগড়া করছে।
সে এগিয়ে যেতেই অ্যানির চোখে পরলো মায়রাকে ঝগড়া থামিয়ে দিয়ে বললো
"" একি বেবি তুমি কোথায় চলে গেছিলে বলোতো?আমি তোমাকে খুজে শেষ হয়ে যাচ্ছি।
"" কিন্তু আমি তো দেখলাম তুমি ঝগড়া করছিলে ওই আংকেল টার সাথে।
"" অ্যানি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।কি বিচ্ছু মেয়ে ভাবা যায়।
তাড়াতাড়ি ঋদ্ধর কোল থেকে নিয়ে বললো আপনাকে ধন্যবাদ।
"" হুম নেক্সট টাইম খেয়াল রাখবেন।
"" জি।আসি।
দারাও মায়রার কথায় অ্যানি থেমে গেলো।
কি হয়েছে বেবি।
সে ঝটপট কোল থেকে নেমে
ঋদ্ধর সামনে গিয়ে বললো তোমাকে তো বায় দেওয়া হয়নি।
ঋদ্ধ ভ্রু কুচকালো বায় আবার আলাদা ভাবে দেয় নাকি।
অ্যানি অবাক হলো না সে বুঝলো মাম্মার মতো এনাকেও বায় দিবে।
কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো মায়রা তেমন কারো সাথে মেসে না কিন্তু এনাকে সরাসরি বায় কিস।
"" নিচু হও।
"" ঋদ্ধ নিচু হতেই মায়রা তাকে জরিয়ে ধরলো। তারপর গালে একটা কিস করলো।
ঋদ্ধ অবাক হলো বেশ।
"" বায়।
ঋদ্ধ তখনো তাকিয়ে আছে মায়রার যাওয়ার দিকে।
"" বাচ্চাটা কতো কিউট তাইনা স্যার?
"" হুম খুব,,
স্যার চলুন অফিস যেতে হবে।
"" হুম চলো।
------------------------
মেহরিন বাসায় আসতেই মেয়েকে আগলে নিলো।জরিয়ে ধরে চুমু খেলো।
"" তুমি কোথায় গিয়েছিলে মাম্মা?এমন করে কেউ না বলে চলে যায় মাম্মা ভয় পেয়ে গেছি তো।
"" মায়ের ভালোবাসা পেয়ে মায়রা ফুপিয়ে উঠলো।
কান্নামাখা গলায় বললো
রাশি বললো তুমি নাকি পচা।তাই তোমার সাথে পাপা থাকে না।
আমার পাপা কোথায় মাম্মা সবার পাপা আছে আমার কেনো নেই?
আর আমার মাম্মা তো ভালো তাহলে ও কেনো বললো তুমি পচা।
"" মেহরিন মেয়ের অভিযোগ মন দিয়ে শুনলো।
মেয়ের মাথায় চুমু দিয়ে আদুরে গলায় বললো
তোমার কি মনে হয় তোমার মাম্মা পচা?
মায়রা মাথা দুপাশে ঝুকিয়ে না বোঝালো।
আমার মাম্মা তো বেস্ট।
মেহরিন হাসলো।
তাহলে যে যাই বলুক তুমি শুনবে না।
আর তোমার পাপা
সে একটা কাজে দেশের বাহিরে আছে।কাজ শেষ হলেই চলে আসবে। মায়রা উচ্ছসিত কন্ঠে বললো সত্যি মাম্মা?
"" হুম সত্যি তো।
তাহলে তো রিশা পচা মাম্মা আমি ওর সাথে আর কথা বলবো না।
"" না বেবি এমন বলতে নেই রিশা তো তোমার বন্ধু সে হয়তো ভুল করে বলে ফেলেছে।
"" হুম,,তুমি ঠিক বলেছো
এবার এই দুধটা ফিনিস করে ঘুমিয়ে পরবে তাই না মাম্মা।
মায়রা সায় জানিয়ে দুধ খেয়ে নিলো মেহরিন মেয়েকে ঘুম পারাতে ব্যাস্ত হলো।
"" সোফায় বসা অ্যানি দুচোখ ভরে দেখলো তার ম্যাম এর ভালোবাসা।
সে অবাক হয় এটা ভেবে যে মেহরিন কত সুন্দর সবকিছু মেইনটেইন
করে চলে।কতোটা এক্সপার্ট সে একজন সফল বিজনেস ওয়েমেন
আবার পাশাপাশি সিঙ্গেল মাদার। কতো আদর্শ শিক্ষা দিয়ে মেয়েকে
বড়ো করে তুলছে
সে জানেনা কেনো মেহরিন এর ডিভোর্স হয়েছে তবে সে খুবকরে ভাবে
যে তার মাথায় নিশ্চিত স্ক্রু ঢিলা নাহলে ম্যাম কেনো ছেড়ে দিয়েছে।
সে এটাও দোয়া করে ওই লোকটা যেনো কখনও সুখি না হয়।
মায়রা ঘুমিয়ে গেলে মেহরিন এর পিছু পিছু অ্যানিও বেড়িয়ে আসলো।
অ্যানি আমি আগামীকাল মায়রার স্কুলে যাবো আমি চাই না আমার মেয়ের মনে কোন খারাপ চিন্তা ভাবনা আসুক।
"" ওকে ম্যাম।
ম্যাম জানেন আজ মায়রা একটা লোকের কোলে উঠেছিল আর আসার সময় তাকে আপনার মতো করে বায় বলে এসেছে।ভাবুন একবার।
"" মেহরিন অবাক হয়ে বললো সত্যি?
"" হ্যা ম্যাম।
আর আসতে আসতে গল্প করছিলো ওই লোকটাকে নাকি মায়রা তার বাবা বানাবে।
"" মেহরিন চিন্তায় পরলো তার মেয়েটা সবার সাথে মেশে না তাহলে হঠাৎ
এতো ভালো লেগে গেলো একটা মানুষকে অবাক করা বিষয়।
"" আচ্ছা শোনো কাল আমার মিটিং আছে তুমি সব ব্যাবস্থা করে রাখো।
ওকে ম্যাম।
মেহরিন আবার মেয়ের কাছে গেলো।
মায়রা গুটিশুটি মেরে ঠোঁট ফুলিয়ে শুয়ে আছে।কতোটা স্নিগ্ধ
লাগছে তার মেয়েকে। তার মেয়েটার মাঝে তাহসিন এর কোন প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়না সবটাই মেহরিন এর।
কেউ দেখলে এক বাক্যে বলে দেবে এটা মেহরিন এর মেয়ে।
মেয়ের পাশে শুয়ে তার কপালে চুমু দিতেই মায়রার ছোট হাত দুটো মেহরিন এর গলা বেষ্ঠন করলো।
মেহরিনের ঠোঁটে হাসি ফুটলো।এই তো তার দুনিয়া তার সব কিছু।
----------------------------
সকাল সকাল মায়রাকে কিন্ডারগার্ডেনে দিয়ে অ্যানি আর মেহরিন অফিস এ চলে এসেছে।
মেহরিন একটা মিটিং এ আছে তার পাশে দারিয়ে আছে অ্যানি।
সামনের টেবিলের দুইপাশে প্রায় দশজনের মতো ব্যাক্তি আছে।
তবে জে কম্পানির সাথে আজ মেহরিনের মিটিং সেই কম্পানির বসের মিটিংয়ের থেকে মেহরিনের প্রতি মনোযোগ বেশি।
বেশ অনেক্ক্ষণ ধরে মেহরিনকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে লোকটি।
যা অ্যানি বেশ কিছুক্ষণ ধরে দেখছে।তার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে।
মেহরিন যে খেয়াল করেনি এমন নয় তবে সে মিটিং এ মনোযোগী।
মিটিং শেষ হলেই লোকটি বেরিয়ে যাওয়ার আগে মেহরিন এর সামনে এসে দারিয়ে বললো,,
মিস মেহরিন আপনার সাথে এককাপ কফি তো খাওয়াই যায় যেহেতু আপনার কোম্পানির সাথে ডিলটা হয়েই গেলো।
মেহরিন না করলেও লোকটি নাছোরবান্দা যার কারনে সে রাজি হলো।
অ্যানি রাগে ফুসছে শুধু।
মেহরিন আর লোকটি একটা কফিশপে এসে বসেছে।
অ্যানি বাহিরে আছে।
"" So Miss Mehereen, you are a very se**xy lady, if you want, you can give me some of your time,,
লোকটির বাজে ইঙ্গিতে মেহরিন এর চোখমুখ শুক্ত হয়ে উঠলো তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বললো দেখুন মি.মেহতাব আমার কারো সঙ্গর দরকার নেই,,
"" লোকটি নাছোরবান্দা স্বরে নিজের কথা জারি রাখতে বললো
ওহ মিস,প্লিজ আপনি লজ্জা কেনো পাচ্ছেন আমি জানি আপনি একজন ডিভোর্সি নারী তাই আপনারো তো কিছু চাহিদা আছে,,যা আমি পূরণ করতেই পারি,,,
বাকি কথা বলার আগেই শক্ত হাতের চর পরলো লোকটির গালে,,
মেহরিন রাগে থরথর করে কাপছে,,
Dirty man, if you say one more word, I'll pull out your tongue and hand you over.
"" লোকটি রেগে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরেকটা শক্ত ঘুষি এসে পরলো মুখে।
মেহরিন টেনে অ্যানিকে থামিয়ে দিলো। ওখান তেকে বেড়িয়ে আসলো।
------------------------
অ্যামেরিকায় এখন মার্চ মাস।এসময় মাঝে মাঝেই হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যায়। তেমনি আজ ভোর পাচটায় জরুরি অপারেনের জন্য হসপিটালে যেতে হয়েছিলো।ফেরার পথে আচমকা বৃষ্টি দেখা দিলো।