বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন

পর্ব - ১০

🟢

মেহরিন বাহিরে দারিয়ে আছে কারনটা ঋদ্ধ। মায়রা তার পাপাকে বায় না বলে যাবেনা।

নেহরিন মেয়ের জেদ রাখতে দারিয়ে আছে।

কিছুক্ষণ পর ঋদ্ধ কে দেখা গেলো।

মূলত সে জানে তাকে বায় না বলে মায়রা বাসায় যাবেনা তাই তাড়াতারি বের বের হলো।

"" পাপা,,উচ্ছ্বসিত গলায় বলে উঠলো।

ঋদ্ধ তারাতাড়ি তার কিউটিপাই কে আগলে নিলো।

মায়রা তার স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বায় বলে দিলো ঋদ্ধ কে।

ঋদ্ধ নিজেও এ কদিনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

"" স্যার,,,?

"" বলো পিটার,,?

"" কল এসেছে।

"" এনেছে,,

""ঋদ্ধ সোজা তার গাড়ির দিকে চলে গেলো।

-----------------------------

মেহরিন মেয়েকে আর কিছু বোঝায় না তার মেয়ের মন কোমল জোর দিয়ে কিছু বললে আঘাত পাবে এটা ভেবেই মূলত সে চাচ্ছে না।

তারপর সে এটা ভেবেও দোটানায় আছে।ঋদ্ধ কে সে চেনে ঋদ্ধ যেমন পাগল তাতে সে মেহরিন কে নিজের করেই ছারবে তবে ঋদ্ধর একটা পরিবার আছে আর মেহরিন এর মায়রা আর মেহরিন কোনোভাবে চায়না তার মেয়েকে কেউ আঘাত দিক।

তার ঋদ্ধ ওপর বিশ্বাস থাকলেও তার পরিবার পরিজনের ওপর নেই।

"" ম্যাম কি চিন্তা করছেন,,?

"" না অ্যানি তেমন কিছু না। চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রির সাথে মিটিং তুমি কাল সেট করো।

"" ওকে ম্যাম।

-----------------------

ঘুটঘুটে অন্ধকার চারিদিকে ভ্যাপসা গন্ধ একপাশে ফুটন্ত তেল বড়োসরো একটা কড়াইতে গরম হচ্ছে।

তারি নিচে কিছু রড গরম হচ্ছে।

তার কিছুটা দুরে একটা লোককে বেধে রাখা হয়েছে চেয়ারের সাথে লোকটির তখনো জ্ঞান ফিরেনি।তার পোশাক দেখে বোঝা যাচ্ছে বেশ বড়োলোক বাড়ীর ছেলে।

তার সামনে আরেকটি লোক বসে আছে তার দু পাসে দুজন পালোয়ানের মতো দেখতে লোক।লোকটি মূলত তাদের বস।

বস লোকটি একজনকে ইশারা করতেই সে দেরি না করে পুরো একবালতি পানি তার ওপর ছুড়ে ফেলতেই।

লোকটিই ধরপরিয়ে উঠলো কিন্তু নিজের হাত-পা বাধা দেখে ভয় পেলো সে।

বারবার কিছু বলার জন্য ছটপট করছে তবে মুখ বাধা থাকার কারনে পারছে না।

সামনে বসা লোকটি আরেকবার ইশারা করতেই তার মুখের বাঁধন খুলে দেওয়া হলো।

"" হেই কে তুই কেনো বেধে রাখা হয়েছে এখানে আমায় তুই জানিস না আমি কে?

লোকটির মুখে তিব্র রাগ।

তবে এতে সামনে বসা লোকটির মাঝে কোনো ভাবান্তর হলো না।

তার মুখ তখনো ঠান্ডা।

সামনের লোকটিকে কোনো রেসপন্স না করতে দেখে কিছুটা ভয় পেলো ব্যাক্তিটি।আবারো নিম্ন গলায় বলে উঠলো,,

কেনো তুলে এনেছো আমায় কি করেছি আমি?

"" সামনে বসা লোকটি এবার চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলো,,

বারবিকিউ করার জন্য।

"" What,,, মজা করছিস আমার সেথে।আমার বাবা জানতে পারলে তোকে খুন করে রেখে দেবে জোর গলায় বললো লোকটি।

"" সামনে বসা ব্যাক্তিটির হয়তো এতো শব্দ পছন্দ হলো না।

গার্ডগুলো তাদের বসের মনোভাব বুঝতে পেরে আবারো লোকটির মুখ বেধে দিলো।

"" এবার লোকটি নিজের পায়ের ওপর পা তুলে বললো,,

তুই বড্ড বেশি চিৎকার করিস যা আমার একদমি পছন্দ না।

তোর বিশ্বাস হলোনা এখানে বারবিকিউ হবে ঠিকাছে তোকে বিশ্বাস করতে হবে না একটু পর প্র্যাক্টিক্যালি বুঝতে পারবি সব।

লোকটির চোখে এবার ভয় দেখা গেলো সে আসেপাসে তাকালো বড়ো কারাই রড দেখে যা বোঝার বুঝে গেলো সে।

"" তবে তোর তো জানা উচিৎ তোকে কেন তুলে আনা হয়েছে তাই না।

তাহলে শোন কদিন আগে একটা মেয়েকে তুই বাজে প্রস্তাব দিয়েছিলি মনে পরে,,,

"" এবার লোকটি থরথর করে কাপতে আরম্ভ করল তার চোখে ভয় কান্না উভয় দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে এতে করে সামনের ব্যাক্তির মাঝে কোনো ভাবান্তর দেখা গেলো না।

আচমকাই সামনে বসা লোকটির দুই চোখের মাঝে লোহার গরম শিক ঢুকিয়ে দিলো লোকটি।

লোকটি চিৎকার করতে চাইলো তবে তা সম্ভব হলো না পর পর কয়েকবার এমনটা করায় খুব তাড়াতাড়ি ছটপটিয়ে মারা গেলো লোকটি।

তবে সামনের ব্যাক্তিটি এতেও শান্তি পেলো না তাই লোকটির নিথর দেহ গরম কড়াইতে দিলো টগবগিয়ে ফুটতে শুরু করলো লোকটির দেহ।

এমন হিংস্র দৃশ্য হয়তো লোকটির অ্যাসিসট্যান্ট সহ্য করতে পারলো না তাই বেড়িয়ে গেলো ঘরটি থেকে।

বস নামক লোকটি তাকিয়ে দেখছে একমনে।

একসময় বিরবির করে বলে উঠলো ওকে যে কষ্ট দেবে তার অস্তিত্ব রাখবোনা আমি।পৃথিবীর সব দুঃখ কষ্ট থেকে দুরে রাখবো ওকে।যখন আমি তার পাশে ছিলাম না তখন তোরা কষ্ট দিয়ে পার পেয়ে গেছিস কিন্তু এখন আমি এসে গেছি।আর আমি থাকতে ওকে কোনো কষ্ট ছুতে পারবেনা।

একসময় বেড়িয়ে আসলো সে ঘর থেকে।

-----------------------------

মেহরিন বসে আছে মূলত সে অপেক্ষা করছে চৌধুরী কোম্পানির ওনারের জন্য।

কিছুক্ষণ পরেই একজন লোক ঢুকলো।

মেহরিন উঠে হ্যান্ডস্যাক করতেই যাবে আচমকা বলে উঠলো,,,

আ,,আংকেল,,,,

বিস্ময় নিয়ে কথাটা বললো মেহরিন কারন তার সামনে দারিয়ে আছেন ঋদ্ধর বাবা।

মি.অ্যারন রিচার্ড চৌধুরী,,,

"" সামনের ব্যাক্তিটির মুখেও হাসি ফুটলো।

তবে তিনি মেহরিনের মতো অবাক হননি কারন তিনি যানতেন আজ তার মেহরিন এর সাথে দেখা হবে।মূলত সে সবটা রিসার্চ করেই এসেছেন।

"" আংকেল আপনি মানে এটা আপনার কোম্পানি।

"" লোকটি আবার ঠোঁট এলিয়ে হাসলো যেই হাসি স্পষ্ট ঋদ্ধর মতো।

"" সারপ্রাইজ মামুনি,,,

বলেই তিনি মেহরিনকে জরিয়ে ধরলেন মেহরিন ও মি.রিচার্ড এর বুকে ঝাপিয়ে পরলো। এতো বছর পর বাবা সমতুল্য একজন ব্যাক্তিকে দেখে সে অনেকটাই ইমোশনাল হয়ে গেছে।

কেমন আছো মামুনি,,,কিন্তু আমি যতদুর জানতাম আমার মামুনি তো অনেক বুদ্ধিমতি সে এটা কেন জানতে পারলো না এটা তার

আংকেল এর কোম্পানি।

"" আংকেল তুমি কেন জানাওনি তোমার মেয়ে নাহয় ছোট মানুষ ভুল করেছে কিন্তু তুমি এমন ভুল কি করে করলে।

"" উপস্থিত সকলে বিস্ময় নিয়ে তখনো দেখছে আর ভাবছে এনাদের দুজনের সম্পর্ক কি?

"" হঠাৎই দুজনেই বুঝতে পারলো তারা দুজনে তাদের কাজের যায়গায় আছে এবং আনপ্রফেশনাল বিহেভ করছেন।

সরি,,সরি,,আপনারা মিটিং শুরু করুন প্লিজ।

মেহরিন এর কথায় সবাই স্বাভাবিক হয়ে তাদের মিটিং শুরু করলো।

--------------------------

স্যার,,স্যার,,

"" কি হয়েছে কি তোমার এমন গাধার মতো চ্যাচাচ্ছো কেন পিটার।

পিটার থতমত খেয়ে গেলো। তার স্যার কি কোনোভাবে তাকে গাধা বললো।নিজের কৌতুহল দমাতে না পেরে বলেই বসলো স্যার আপনি কি কোনোভাবে আমাকে গাধা বললেন?

"" ঋদ্ধ সরু চোখে তাকিয়ে বললো,,,

হ্যা তাতে কোনো সন্দেহ নেই আমার।

পিটার কাঁদো কাঁদো চেহারা বানিয়ে ফেললো।কিছু বলবে তার আগেই ঋদ্ধ তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো,,

যেটা বলতে এসেছো বলো,,

আসোলে স্যার আপনার বাবা,,

ঋদ্ধ তাকাতেই,,,

না মানে মি.রিচার্ড এসেছেন অ্যামেরিকায় আগামীকাল।

"" তো আমি কি করবো।

"" উনার আজ মিটিং ছিলো,,,

"" ঋদ্ধ প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে বললো,,,

এই এমন মিনমিন করছো কেন,,

কি হয়েছে বলোতো উনি যদি অ্যামেরিকা এসেও থাকেন তাতে আমার কোনো মাথাব্যাথা নেই।

"" আসোলে বিষয়টা হলো স্যার ওনার আজ মিটিং আছে

ম্যাম এর সাথে।

"" What,,,

"" জি স্যার আর ওনারা এতোক্ষণে মিটিং রুমে ঢুকেও পরেছেন,,,,

বিজ্ঞাপন
বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক উপন্যাস