বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন

পর্ব - ১৪

🟢

মেহরিন রান্নাঘরে অ্যানির সাথে আছে তাকে হেল্প করছে।মেহরিন আজ নিজের হাতে মেয়ের জন্য পাস্তা রান্না করছে।তার মেয়ের আবদার এটা।অবস্য মেহরিন জানে এটা মেয়ের নয় ঋদ্ধর আবদার।ঋদ্ধ তার হাতের পাস্তা অনেক পছন্দ করতো।

"" ম্যাম,,

"" বলো অ্যানি?

"" আজ বেবি কতো খুশি তাইনা,,?মনে হচ্ছে এতোগুলো বছরেও বেবিকে এতোটা প্রফুল্ল দেখিনি আমি।

মেহরিন এর মুখেও হাসি ফুটলো। হুম তা যা বলেছো আমার মেয়েটা ঋদ্ধ বলতে পাগল।তাইতো আমি রাজি হলাম।শেষের কথাটা বিরবির করে বললো।

আচ্ছা তুমি এগুলো সার্ভ করো আমি দেখে আসি তারা কি করছে।

--------------------------------

এক মিনিট পাপা তুমি নরো না তাহলে আইলানার নষ্ট হয়ে যাবে,দারাও লিপিস্টিক দিয়ে দিচ্চি তো আমি।

"" আর কতক্ষণ কিউটিপাই,,

"" এই তো হয়ে গেতে পাপা তোমাকে বিউতিফুল লাগবে, দালাও।

ঋদ্ধ চুপচাপ মেয়ের আবদার মেনে নিচ্ছে।

মেহরিন রুমে আসতেই চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো এ কি অবস্থা করেছে তার মেয়ে ঋদ্ধর।

সে নাই চাইতেও জোরে হেসে ফেললো।

"" বহুদিন পর এমন হাসির শব্দ শুনে যেনো ঋদ্ধ থমকে গেলো অবাক হয়ে তাকালো মেহেরিন এর দিকে।কতোগুলো বছর পর এতো প্রফুল্লময় হাসি দেখতে পাচ্ছে সে।নাহলে এতোগুলো দিনে এমন হাসতে দেখেনি সে তার মেহুপাখি কে।

ঋদ্ধ কে এমন ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেহেরিন নিজের হাসি থামিয়ে দিলো। ইতস্তত করে তাকালো সে।যেনো কোনো অসম্ভবনীয় কাজ করে ফেলেছে।যা তার সাথে একদমি যায় না।নিজেকে সামলে নিয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,,

কি অবস্থা করেছো তুমি ঋদ্ধর।

"" কেনু মাম্মা দেকো পাপাকে কি মিষ্টি লাগতে তাইনা।মেহেরিন আরও একবার ঋদ্ধর দিকে চাইলো কোনোমতে নিজের হাসি চেপে রেখে বললো হ্যা মাম্মা তোমার পাপা কে অনেক মিষ্টি লাগছে।

ঋদ্ধ বেশ বুঝছে তাকে জোকারের থেকে কোনো অংশে কম লাগছে না।তবে তার কিউটিপাই আর মেহুপাখির জন্য সে সব করতে পারে আর সামন্য জোকার সাজা তো কোনো বেপারই নয়।

"" এখন কি আমার মা টার খিদে পায়নি আমি যে তার জন্য পাস্তা রান্না করলাম।মায়রা সাথে সাথে মাথা ঝুকালো।

তাহলে যাও টেবিলে গিয়ে বসো।

মায়রা চলে গেলে মেহরিন ঋদ্ধর দিকে আবারো চাইলো সে না চাইতেও হেসে বললো

নিজের কি অবস্থা করেছো ঋদ্ধ একবার আয়নায় দেখো।

"" তোমার খুব হাসি পাচ্ছে না মেহু পাখি হুহ,,মেহেরিন নিজের হাসি চেপে রাখার চেষ্টায় উত্তর করলো একদমি নয় মায়রার পাপা তোমাকে তো বেশ কিউট লাগছে বলেই ঋদ্ধ র দুই গাল টিপে দিয়ে দিলো এক দৌড়।

ঋদ্ধ কি কম যায় নাকি ঋদ্ধ মায়রার পিছু ছুটতে শুরু করলো। দারাও পাখি তুমি এটা ঠিক করলে না দারাও বলছি।

"" পারলে আমাকে ধরে দেখাও।বলে তারা দৌড়াতে দৌড়াতে নিচে চলে আসলো মাত্রই পিটার এসেছিলো গেট দিয়ে নিজের স্যার আর ম্যামের এমন দৌড় দেখে থমকে গেলো অ্যানিরও একি অবস্থা এতোগুলো বছরে কখনো তার ম্যায়কে এভাবে মন খুলে হাসতে দেখে নি।

এদিকে মায়রার খুশি দেখে কে।

সে হাত তালি দেয়ে বলছে পাপা তোমাকে জিততেই হবে তালাতালি মাম্মাকে দলো বলছি।

"" মেহেরিন আর ঋদ্ধ র যেনো কোনো হুস নেই।তারা ফিরে গেছে সেই অতীত এ যেখানে একবার ঠিক মায়রার মতো করেই ঋদ্ধর ঘুমের সুযোগ নিয়ে মেহেরিন ঋদ্ধ কে সাজিয়েছিলো আর এভাবেই সেদিন ঋদ্ধ মেহেরিনের পিছু নিয়েছিলো।

দৌড়ানোর এক পার্যায়ে গিয়ে ঋদ্ধ খপ করে মেহেরিন কে ধরে ফেললো।তারা দুজনেই হাঁপাচ্ছে।

"" আমার গাল টেপা না পাখি তোমায় আমি ছেড়ে দিবো।

"" না,,একদম আমার গাল ধরবে না ঋদ্ধ,, কে শোনে কার কথা ঋদ্ধ মেহরিনের গাল টেনেই ছাড়লো।সাথে সাথে মেহেরিন নিজের গাল ফুলিয়ে নিলো।

তিনজনের তিব্র হাসির শব্দে নিজেদের ধ্যান থেকে বেড়িয়ে এলো।মায়রা হাততালি দিচ্ছে আর হাসছে কারন তার পাপা জিতে গেছে।এদিকে পিটার আর অ্যানিও হেসে চলেছে অনবরত।

মেহেরিন এবার বেশ লজ্জা পেলো।ছি,,সে হঠাৎ করেই কেমন বাচ্চামি করে ফেললো।

ঋদ্ধ র থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো সে।

"" পিটার হাসতে হাসতে বললো স্যার আপনাকে এতো সুন্দর করে কে লিপস্টিক পরিয়েছে।

"" ঋদ্ধ যেনো এবার বেশ লজ্জায় পরলো। এভাবেই নিচে কেন আসলো এবার পিটার তাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে।

"" এই ঝগলুটে আনতেল একদম আমাল পাপাকে দেকে হাসবে না। আমাল পাপাকে মিস্তি লাগতে।

বিজ্ঞাপন

মায়রা গাল ফুলিয়ে বললো যেনো সে নিজের পাপাকে দেখে হাসার কারনে বেশ রেগেছে।

উপস্থিত চারজনেই এবার তাদের হাসি বন্ধ করে মায়রার দিকে তাকালো।

ঋদ্ধ বেশ মজা পেলো। সে মায়রাকে কোলে তুলে বললো দেখেছো আমার কিউটিপাই থাকতে তোমাদের এতো সাহস তার পাপাকে দেখে হাসো তোমাদের শাস্তি পেতে হবে তাই না কিউটিপাই।

"" মায়রা সাথে সাথে মাথা ঝাকালো।

ওকে তুমি থাকো কিউটিপাই আমি ফ্রেশ হয়ে এসে খাবার খেয়ে দুজনে মিলে ডিসাইড করবো পিটারকে কি শাস্তি দেওয়া যায়।

"" ওকে পাপা।

ওয়াসরুমে এসে ঋদ্ধ নিজের দিকে তাকিয়ে নিজেই হেসে দিলো।কি করেছে তার সাথে তার কিউটিপাই। লিপস্টিক দিয়েছে তাও একদম ছড়িয়ে। গালের দুইপাশে গাঢ় করে ব্লাস টকটকে গোলাপি।চোখের ওপরে আইলানারের আর স্যাডোর ছোড়াছুড়ি। তাড়াতাড়ি সে ফ্রেশ হতে নিলো।

---------------------------------

৫০,৫১,৫২,৫৩,

স্যার প্লিজ এবারের মতো মাফ করে দিন।আর হাসবো না আমি কখনো।

"" উহু পিটার আমার কিউটিপাই তোমাকে থামতে না বলা পর্যন্ত তুমি থামবে না।

ঋদ্ধ তুমি কী শুরু করলে বলোতো।

"" উহু মেহু পাখি মুখে আঙুল দাও।

সাথে সাথে আবার ও চুপ করে গেলো মেহেরিন।

খাবার শেষে ই বাবা আর মেয়ের আসর বসেছিলো কি শাস্তি দেওয়া যায় পিটারকে।আর মায়রা তাকে কান ধরে উঠবস করতে বলেছে।বেচারা পিটার পরেছে মহা ফ্যাসাদে।মেহেরিন চাইলেও কিছু বলতে পারেনি।তাকে বলতে দেয় নি ঋদ্ধ।এদিকে অ্যানি মিটমিট করে হেসেই চলেছে এটা দেখে পিটারের যেনো আরো রাগ হচ্ছে থেকে থেকে সে অ্যানির দিকে কটকমটিয়ে তাকাচ্ছে।

এতে যেনো অ্যানি আরো বেশি হরে হাসছে।

"" বেবি প্লিজ এবারের মতো মাফ করে দাও আংকেল কথা দিচ্ছি আর সে জীবনে হাসবেনা।বেশ ইনোসেন্ট ফেস করে বললো পিটার।

এবার হয়তো মায়রার মন গোললো।

"" তিক আতে মাপ কলে দিলাম যাও।

পিটার ঠাস করে বসে পরলো সে হাপিয়ে গেছে।

মেহেরিন এবার রেগে বললো অনেক হয়েছে বাবা মেয়েতে অ্যানি যাও মায়রাকে শুইয়ে দাও।

পিটার তুমি তোমাকে যে রুম দেওয়া হয়েছে চলে যাও।

তারা চলে যেতেই মেহেরিন নিজেও যেতে নিলে ঋদ্ধ তার হাত চেপে ধরলো। মেহরিন জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চাইতেই ঋদ্ধ তাকে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে কোমর জরিয়ে ধরলো।

"" ঋ,,ঋদ্ধ কি,,কি করছোটা কি এসব।হকচকিয়ে বলে উঠলো মেহেরিন।

"" ঋদ্ধ মেহেরিন এর ঘারে নাক ঘসলো শ্বাস টেনে বললো,, তুমি অনেক সাহসী হয়ে গেছো পাখি।

আমার ছোটো পাখিটা আমায় জমের মতো ভয় পেতো সে এখন আমাকেও ভয় দেখায় আর আমি অ্যারন ঋদ্ধ চৌধুরী। সেই পুচকে মেয়েকে এখন ভয় পাই।এটা ভেবে যে সে আমায় ছেড়ে দেবে।

মেহেরিন এর মনে পরে গেলো তার কলেজ লাইফের কথা যেই সময়ে সে সত্যি ঋদ্ধ কে অনেক ভয় পেতো।কিন্তু তাকে জালাত ও ওনেক।

"" সেসব অনেক আগের কথা ঋদ্ধ আমি আর আগের মেহেরিন নই আমি এখন এক সন্তানের মা।

"" ঋদ্ধ এবার মেহরিন কে নিজের দিকে ঘুরলো তার কপালে আলতো ঠোঁটের স্পর্শ দিলো। মেহেরিন নিজের চোখ বন্ধ করে নিলো।

ফিসফিসিয়ে বললো,,

কিন্তু আমি সেই আগের মেহরিনকে চাই যে আমার ওপর রাগ করে গাল ফুলিয়ে থাকলে তার রাগ ভাঙানোর জন্য তাকে মাঝরাতে ঘুরতে নিয়ে যেতে হতো নিজের ঘুম নষ্ট করে। সবার থেকে লুকিয়ে।

মেহরিন বেশ বুঝলো এই রাতে ঋদ্ধ তাকে নিয়ে বেরতে চাচ্ছে।

"" ঋদ্ধ মায়রা যেগে যাবে।

তার জন্য অ্যানি আছে পাখি।বলেই মেহেরিনকে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই তাকে কোলে রাখা অবস্থায় বাইরে নিয়ে আসলো।

তাকে নামিয়ে দিতেই দেখলো সামনে কালো বাইক রাখা মেহেরিন অবাক হলো বাইক কোথা থেকে আসলো। ঋদ্ধ তার মনের ভাব বুঝতে পেরে বললো পিটারকে দিয়ে আনিয়েছিলাম এবার কি তুমি আসবে পাখি।

মেহেরিনের কাছে আর কোনো উপায় নেই এই ঋদ্ধ যে বড্ড বেপরোয়া তাকে মানানো দায়।

বিজ্ঞাপন
বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক উপন্যাস