বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন

পর্ব - ১৭

🟢

আর তার এই অসুখ টা এমন পর্যায়ে গিয়েছে।এখন অপারেশন করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

মুখ চেপে শব্দ করে কেদে উঠলো মেহেরিন।

"" ঋদ্ধ সাথে সাথে আগলে নিলো তার মেহুপাখি কে।

প্লিজ পাখি শান্ত হও।

"" আ,,আমি কি করে শান্ত হবো ঋদ্ধ। আমার,,আমার ওইটুকু বাচ্চা মেয়ে।মাত্র চার বছর বয়স আমার বাচ্চাটার সে কি করে এতো ব্যাথা সহ্য করবে বলো।অপারেশন এর ব্যাথা কিভাবে সহ্য করবে ও।আমার বাচ্চাটার যদি কিছু হয়ে যায় আমি কি নিয়ে বাচবো বলো।ওই যে আমার বাচার একমাত্র অবলম্বন। আমার মায়রার খুব কষ্ট হচ্ছে তাইনা ঋদ্ধ।

"" অ্যানিও মুখ চেপে কেদে ফেললো।

পিটার এর ও প্রচন্ড খারাপ লাগছে। এতটুকু একটা মেয়ের এতো বড়ো অসুখ।

"" মেহুপাখি তুমি প্লিজ নিজেকে সামলাও তুমি এমন করলে মায়রা আরও অসুস্থ হয়ে পরবে। এখন আমাদের সবাইকে ওর পাশে থাকতে হবে ওকে হাসিখুশী রাখতে হবে। ওর মন খারাপ হয় বা ও হার্ট হয় এমন কোনো কাজ আমাদের করলে চলবে না।

কিন্তু মেহেরিন যেনো এসব কিছু বোঝার মধ্যেই নেই।মায়ের মন বরাবরই সন্তানের জন্য উতলা।

ঋদ্ধ তাকে ঘরে নিয়ে গেলো।

অ্যানি তখনও ফোঁপাচ্ছে।

"" পিটারের খুব খারাপ লাগছে। এই কয়দিনে বাচ্চাটার প্রতি তারও একটা মায়া তৈরি হয়ে গেছে।আর হবে নাই বা কেন বাচ্চাটা যে পরিমাণ কিউট।তারপর এতো সুন্দর কথা বলে।

""পিটার ধিরে ধিরে গিয়ে অ্যানির কাছে বসলো।

ঝগরুটে মহিলা দেখি আজকাল কান্নাও করছে।তুমি জানো তোমায় কান্না করলে একদম পেত্নির মতো লাগে।

অ্যানি আচমকাই পিটারকে জরিয়ে ধরলো।

""আমার খুব কষ্ট হচ্ছে জানেন আমি মায়রা বেবি কে সেই দুমাস বয়স থেকে দেখছি ও তো আমার ও মেয়ে বলুন।ওকে আমি নিজের হাতে বড়ো করেছি।

"" পিটার থমকে গেলো।পিটার বিদেশি কালচারে বড়ো হলেও মেয়েদের সাথে বেশি ঘেষাঘেসি তার বরাবরই অপছন্দ।এক প্রকার মেয়েদেরকে এরিয়ে চলতো সে।

এই প্রথম সে কোনো মেয়ের সংস্পর্শে আসায় তার ভেতরে অদ্ভুত এক অনুভুতি হচ্ছে। তবে সেই অনুভুতি র নাম তার জানা নেই।

"" একটা ঢোক গিললো সে,,

শান্ত হও ঝগরুটে মহিলা এরপর মায়রা বেবি ঘুম থেকে উঠে যখন দেখবে তার অ্যানি আন্টি আমাকে জরিয়ে ধরে কাদছে তখন বলবে আমি কিছু করেছি। বেবি তার পাপাকে বলবে তখন বাবা মেয়ে মিলে আমার ক্লাস নিবে।পিটার কথাগুলো এমন নাটকীয় ভাবে বললো যে অ্যানি না হেসে পারলো না।

পিটার হাফ ছেড়ে বাচলো।কেন যেনো মেয়েটাকে কান্না করতে দেখে তার ভালো লাগছিলো না।

--------------------------

"" ঋদ্ধ অনেক কষ্টে মেহেরিন কে ঘুম পারিয়ে দিলো।

একন বিকেল হয়ে এসেছে।মেহেরিন নিজেও অসুস্থ হয়ে পরেছে কিছুটা।

"" পিটার,,?

"" জী স্যার।

"" সামনের ফ্ল্যাট এ কে থাকে?

"" জ,,জি স্যার,,থতমত খেয়ে জিজ্ঞেস করলো পিটার।মূলত সে বুঝতে পারেনি ঋদ্ধ র করা প্রশ্ন টা।

"" ততলাচ্ছো কেন পিটার?

মেহেরিন এর বাসার সামনের ফ্ল্যাট টা আমার চাই।

"" এটা কেমন কথা স্যার যদি মালিক বিক্রি করতে না চায়।

"" ঋদ্ধ খেয়ে ফেলা লুক নিয়ে তাকালো পিটার এর দিকে,,

পিটার কিছুটা হাসার চেষ্টা করলো।

"" কেন খালি করবে না অবস্যই করতে হবে ঋদ্ধ স্যার চেয়েছেন আর পাবে না তা কিভাবে হয়।দরকার হলে খুন করে,,না মানে টাকা দিয়ে হলেও এনে দিবো স্যার।

পিটার চুপচাপ কেটে পরলো।

"" ব্যাটা খাটাশ নিজের মেহু পাখির সামনে তো ভেজা বেড়াল এর মতো হয়ে থাকিস আমার কাছে আসলেই তোর যতো ত্যারামো।বড়ো বড়ো চোখ করে তাকানো।

এসেছিলো হবু বউয়ের কাছে থাকতে দিলো তো বের করে।তুইও ভেজা বেড়াল এর মতো চলে যাচ্ছিস।

"" এই আপনি কি বিরবির করছেন?

সামনে অ্যানিকে দেখে চুপ করে গেলো পিটার।

আব,,কিছু না।

--------------------------------

মাম্মা,, মাম্মা,, কুতায় টুমি?

"" কি হয়েচে কিউটিপাই কাদছো কেন?

ভয় পেয়েছো তুমি,,বলো পাপাকে খারাপ স্বপ্ন দেখেছো কিউটিপাই?

ঋদ্ধ কোলে তুলে নিলো মেয়েকে।কিন্তু মেয়ে থাকতে নারাজ তার তো মাম্মা চাই।

"" কিউটিপাই আপনার মাম্মা তো ঘুমিয়েছে।

"" টুমি আমাল পাপা নাও পাপা।

"" এসব তোমায় কে বলেছে কিউটিপাই?

""আমাল ক্লাসের বন্ধু বলেছে মাম্মা পচা,, টুমি আমাল পাপা নও।টোমাল সাথে মাম্মাল বিয়ে হয় নি।

আমাল পাপা নেই।

""কিন্তু মাম্মা পাপা কি তোমায় কম ভালেবাসে?

বিজ্ঞাপন

"" না,,পাপা মাম্মা আমায় অনেক ভালোবাসে।

"" তাহলে ওরা যাই বলুক তুমি রাগবানা।তুমি সবসময় মাম্মা আর পাপার কথা শুনে চলবে।

"" আচ্ছা পাপা শুনো?

"" বলো কিউটিপাই?

""বিয়ে না কললে মানুষ পচা বলে?

তাহলে তুমি আমাল মাম্মাকে বিয়ে কলো তালাতালি।

"" করবো তো মা?

মেহেরিনের আওয়াজ পেয়ে ফিরে চাইলো

ঋদ্ধ ও মায়রা।

"" সত্যি মাম্মা

"" হুম সত্যি,, তবে বিয়েটা হবে তোমার নানু বাড়িতে মানে বাংলাদেশে।

মায়রার খুশি যেনো ধরছে না এবার।

আমলা কবে যাবো,,

"" খুব তারাতাড়ি আম্মা।

এখন তুমি অ্যানি আন্টির কাছে যাও।সে তোমার পছন্দের খাবার রান্না করছে।

----------------------------

"" স্যার বাসা ফাকা হয়েছে।

কোন বাসা?

জিজ্ঞেস করলো মেহেরিন।

"" তুমি তো আমায় তোমার কাছে রাখবেনা পাখি তাই আমি তোমার সামনের ফ্ল্যাট কিনে নিয়েছি।

"" কিহ,,?

হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞেস করলো মেহেরিন।

"" জী এবার তো তোমার কোনো সমস্যা নেই পাখি।

মেহেরিন আর কিছু বললো না সে জানে ঋদ্ধ শুনবে না।

"" বডিতে ফেরার ব্যাবস্থা করো ঋদ্ধ।

হঠাৎ মেহেরিন বেশ সিরিয়াস হয়ে উঠলো।

"" ঋদ্ধ অবাক হয়ে তাকালো

কিন্তু পাখি আমাদের তো আরও কিছুদিন পর যাওয়ার কথা ছিলো তাইনা?

"" আমার কাছে আমার মেয়ের সেফটি সবার আগে। তার কষ্ট আমি নিতে পারিনা। সে যখন চায় আমি তোমায় বিয়ে করি তারমানে আমি বিয়ে করবো।

আমার মেয়েটাকে ওরা এসব বলে কষ্ট দেয় ঋদ্ধ,,আমার মেয়েটা অবুঝ,, কেদে ফেললো মেহেরিন।

আমার যেই মেয়েকে আজ পর্যন্ত এতটুকু কষ্ট পেতে দেইনি সে রোজ কোনোনা কোনো বাহানায় কান্না করে।

"" কুল ডাউন পাখি আমি সব ব্যাবস্থা করছি তবুও তুমি কেদোনা প্লিজ পাখি।

------------------------------

"" আবারও সেই অন্ধকার ঘর,, সেই একি রুম।

তবে এবার দুজন মেয়েকে তুলে আনা হয়েছে।পরনে বেশ হাইফাই ক্লসি ড্রেস।

"" মেয়ে দুটো ভিতো চোখে সামনে তাকালে একটু সুদর্শন মুখ ভেষে উঠলো। তবে লোকটির চেহারায় এতুটুকু মায়াদয়া দেখা যাচ্ছে না।

"" আমাদের প্লিজ ছেড়ে দিন আমার ছোট বাচ্চা আছে।আমাদের কিছু হলে তাদের কি হবে। কান্নামাখা গলায় বললো।

"" লোকটা উচ্চস্বরে হেসে উঠলো।

কেন যখন অন্যের বাচ্চাকে ম্যানুপুলেট করে বাচ্চাটার ছোট্ট হৃদয়ে কষ্ট দিস তখন মনে পরে না তার কেমন লাগছে।

"" কা,,কার কথা বলছেন?

"" মায়রা,,মেহেরিন মির্জার মেয়ে।

"" মেহে দুটো এবার ভয়ে কেদেই দিলো।

আমাদের ভুল হয়ে গেছে প্লিজ ক্ষমা করে দিন আসলো আমাদের মেহেরিন কে দেখে হিংসা হতো।সে একজন ডিভোর্সি হয়েও এতো সুন্দর লাইফ লিড করে।কতো অহংকার তার কেউ তাকে দমাতে পারে না।অন্যজন বলে উঠলো আবার আমাকে সেদিন হুমকি দিয়েছিলো সেই রাগ থেকে এমনটা করেছি প্লিজ আমাদের ছেড়ে দিন। আর এমন করবো না।অন্তত আমাদের বাচ্চাদের কথা চিন্তা করুন।

""ছেলেটি বাকা হাসলো।

কেমন পাগলের মতো লাগলো তার হাসি। এই সময় যে কেউ দেখলে বলবে ছেলেটি কোনো সাইকো।

হ্যা সে সাইকো ওই বাচ্চা মেয়েটার সেফটির জন্য সে সাইকো।

"" উম তোদের তো মেরে ফেলতে চাইনা আমি কারন তোদের ছোট ছোট বাচ্চা তবে ফারদার এমন হলে বেচে ফিরবিনা।

--------------------------

"" পিটার ওই ফ্ল্যাট ওয়ালা এতো সহজে ফ্ল্যাট দিতে রাজি হলো,,?

"" রাজি কেন হবে না স্যার প্রথম দিকে ভালোভাবে তাকে গিয়ে বললাম সে কিছুতেই রাজি নয়।পরবর্তীতে একটু টাকা বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলতেই সে রেন্ট এ দিতে রাজি হলো।

"" নাখমুক কুচকে নিলো ঋদ্ধ রেন্টে নিয়েছে মানেটা কি?

তোমাকে দিয়ে একটা কাজ যদি হয় পিটার।অ্যামেরিকার বেস্ট হার্ট সার্জন দ্যা গ্রেট অ্যারন ঋদ্ধ চৌধুরী কিনা রেন্ট করা বাসায় থাকবে।

"" পিটার ঠোঁট বাকালো,,যার হবু বউ বাড়ি থেকে বের করে দেয় তার আবার এতো অহংকার,,

বিজ্ঞাপন
বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক উপন্যাস