বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন

পর্ব - ১৮

🟢

পিটার মুখে ভেংচি কাটলো ইহ ভাব টাকা থাকলেই মনে হয় দুনিয়া ওনার।

"" কি বিরবির করছো তুমি?

"" আব ,,না স্যার কিছু না।

"" ঋদ্ধ এবার ঘুরে তাকালো পিটার এর দিকে ,, তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো।

"" পিটার ঘাবরে গেলো ,, কি ,,কি হয়েছে স্যার ,,

"" আমার মনে হচ্ছে আজকাল তুমি একটু বেশি মনে মনে আমার নামে বদনাম করছো ,,?

"" তওবা তওবা এসব আপনি কী বলছেন স্যার আপনি আমার গুরু আমি আপনা শীর্ষ ,, শীর্ষ কখনো গুরুকে নিয়ে বদনাম করতে পারে।

""জানোতো পিটার অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ বলে একটা কথা আছে। বেশি তেরিবেরি করলে সোজা জেলে পাঠিয়ে দিবো কিন্তু।

""পিটার এবার বলে উঠলো ,, আমায় কেন জেলে পাঠাবেন কি করেছি আমি ,,

"" সত্যি কিছু করোনি তুমি ,,?

থতমত খেয়ে গেলো পিটার একটা ঢোক গিললো সে চোরা চোখে চাইলো ঋদ্ধ র দিকে।

"" আরেহ এতো কেন ভয় পাচ্ছো তুমি তো কিছুই করোনি আমি জাস্ট মজা করছি। তুমি এমন ভাব করছো যেনো দু'চারটা মার্ডার করেছো তুমি যা আমি জানিনা।

""পিটার হাসার চেষ্টা করলো কিছুটা ,,

"" অনেক হয়েছে দেশে যাওয়ার ব্যাবস্থা করো পিটার যতো তারাতাড়ি সম্ভব বিয়ের ঝামেলা মিটিয়ে কিউটিপাই এর অপারেশন এর ব্যাবস্থা করতে হবে।তাছাড়া মেহুপাখি আর আমার চলাফেরা নিয়ে আজকাল নানা ধরনের মানুষ নানা ধরনের কথা বলছে এসব শুনে মেহুপাখি র তো খারাপ লাগছে সাথে কিউটিপাই এর ওপর ও খারাপ প্রভাব পরছে।

"" জ ,,জী ,,স্যার আমি সব ব্যাবস্থা করছি যতো তারাতাড়ি সম্ভব।

--------------------------

মেহেরিন অফিস এ ব্যাস্ত যেহেতু দেশে যাবে তাই সব কাজ নিজের স্টাফ ম্যানেজার সবাইকে যতো তারাতাড়ি সম্ভব বুঝিয়ে দিতে হবে।

অ্যানি তোমার পাসপোর্ট কোথায় আছে তারাতাড়ি বের করে আমাকে দাও।

"" আব ম্যাম আপনারা বরং যান আমি এদিকটা সামলে নেবো।

নিচু স্বরে কথাটা বললো অ্যানি।

"" মেহেরিন এর হাত থেমে গেলো ,,শান্ত চোখে চাইলো অ্যানির দিকে ,,

কেন হঠাৎ এ সিদ্ধান্ত র কারন?

""ন ,, না মানে ,,

"" আমি কিছু শুনতে চাইনা অ্যানি তুমি যাচ্ছো আমাদের সাথে ,,

"" অ্যানি অসহায় চোখে চাইলো ,,

"" তাছাড়া আমার মেয়ে নিশ্চয়ই তার মা ছাড়া কোথাও যেতে চাইবে না ,, তার তখন মন খারাপ হবে ,, মন খারাপ করে তার শরীর ও খারাপ করবে এটা নিশ্চয়ই তুমি চাও না ,,

"" অ্যানি আর কিছু বললো না ,, এটা সত্যি যে মেহেরিন এর পর মায়রার আরেক মা অ্যানি ,, অ্যানি ছারা মায়রার একটা বেলাও সম্পূর্ণ হয় না ,, অ্যানি না গেলে যে মায়রা কান্না কাটি করে অসুস্থ হয়ে যাবে তা বেশ যানা অ্যানির।

তখন মায়রার তিন বছর বয়স নিজের বাবা মা র মৃত্যুর বার্ষিকী উপলক্ষে সে নিজের বাসায় গেছিলো দুদিনের জন্য ,, তখন মায়রার সে কি কান্না মেহেরিন কোনোভাবে মেয়েকে সামলাতে পারে না তার কাথা একটাই তা হলো অ্যানি আন্তি চাই ,, অ্যানি সাতদিন এর ছুটিতে গেলেও দুদিন পরেই তাকে ফিরে আসতে হয়েছিলো পরে ,, রাতে মা কে পেলেও দিনে সে অ্যানি আন্টি বলতে পাগল ,, এসব ভেবে অ্যানির মুখে এক চিলতে হাসির দেখা দিলো ,,

"" মেহেরিন ট্যারা চোখে এতক্ষণ তাকেই অবলোকন করছিলো ,,অ্যনিকে স্বাভাবিক দেখে আবারও নিজের কাজে মনোযোগ দিলো ,,

------------------------------

"" সরি মায়রা,,

তিনটা বাচ্চা মেয়ে পর পর কথাটি বললো এতে মায়রা ও রিশার কপালে ভাজ পরলো।

বিজ্ঞাপন

এরাই তিনজন ছিলো যারা তার মা আর পাপা কে নিয়ে খারাপ কথা বলেছিলো।সাথে সাথে মায়রার ঠোট ফুলে উঠলো ,, রিশা লাফিয়ে উঠে বললো ,, তোরা আবার এসেছিস মায়রাকে জালাতে এবার কিন্তু আমি তোদের নাক ফাটিয়ে দেবো।

বাচ্চা তিনটে ভয় পেয়ে গেলো কারন মায়রা শান্ত স্বভাবের হলেও রিশা স্বভাবে বেশ ঝগড়ুটে চটপট মেরেও দেয়।তাই তারা ঝটপট বলে উঠলো না না আমরা মায়রা কে জালাতে আসিনি আমরা তো সরি বলতে এসেছি আসলে আম্মা আমাদের বলেছে বাবা-মা অনেক ভালো।

এতে মায়রার ফোলানো ঠোঁটের মাত্রা কমে এলো ভ্রুকুচকে তাকালো সে।রিশা ও কপাল ভাঁজ করে তাকালো।

""তোরা তো কালকেই বলছিলি মায়রা আর মায়রার বাবা-মা অনেক খারাপ আজ হঠাৎ ভালো কিভাবে হয়ে গেলি?

আসলে আমাদের মা বলেছে মায়রার বাবা-মা অনেক ভালো।

""ঠিক আছে এবারের মতো তোদের ক্ষমা করে দিলাম। কিন্তু পরের বার আমার মা বাবাকে নিয়ে বুলি করলে তোদের নামে আমি বিচার দিব।

বাচ্চা তিনটে চলে গেল।

এবার মায়রার মন বেশ ফুরফুরে হলো তার বেশ খুশি খুশি লাগছে।

তা দেখে রিশাও বেশ খুশি হলো।

তার স্কুল ছুটি হলে দেখলো তাকে নিতে মাম্মা পাপা দু'জনে এসেছে।মায়রার খুশি এবার যেনো ডাবল হলো।

মাম্মা পাপা তোমলা দুজনেই এসেছো।

ঋদ্ধ চটপট নিজের মেয়েকে কোলে তুলে নিলো।

হ্যা তো কিউটিপাই তোমাকে নিতে তোমার মাম্মা পাপা দুজনে এসেছে তুমি খুশি হওনি?

"" মায়রা চটপট ঋদ্ধ র গালে একটা চুমু খেলো আমি অনেক খুশি হয়েছি পাপা।

""বাহ তাহলে আমি তুমি তোমার মাম্মা ঘুরতে যাব।

মায়রার খুশি এবার দেখে কে।

"" মেহেরিন এতক্ষণ দুজনের খুনশুটি গুলো উপভোগ করছিলো কিন্তু এবারের কথা শুনে অবাক হলো সে মূলত এসেছিলো মায়রার স্কুলে কথা বলতে কারন দেশে গেলে বেশ কিছু দিন মায়রা স্কুলে আসবে না।

এক আবার ঘুরতে যেতে হবে মেহেরিন এর এখনো অফিস এ অনেক কাজ।তাও ঋদ্ধ র জানা।

কিন্তু ঋদ্ধ এসব ইচ্ছে করে করলো ,, মূলত সে মেহুপাখি আর তার কিউটিপাই এর সাথে সময় কাটাতে চাচ্ছে আর মেহেরিন ও তা বুঝেছে কিন্তু এটাও তো বুঝতে হবে অফিস এ অনেক কাজ। এই ছেলে নিজে কোনো কাজ করবে না তাকেও করতে দিবে না।মেহেরিন মনে মনে গজগজ করতে লাগলো।

ঋদ্ধ তা দেখে ঠোঁট কামরে হাসলো শুধু।

ফেরার পথে মায়রা এটাও বললো যে তার সেই ক্লাসমেটগুলো ক্ষমা চেয়েছে আর সে ক্ষমাও করে দিয়েছে।

নেহেরিন এতে বেশ অবাক হয়েছে ,, ঋদ্ধ র দিকে দুবার চাইলো তবে ঋদ্ধ যেনো কিছুই শোনেনি এমন ভান করলো।

মায়রা ঋদ্ধ মেহেরিন ফিরলো সন্ধার দিকে ঋদ্ধ অবশ্য ভেতরে আসেনি সে সামনের বাসায় ফিরে গেছে। যা সে রেন্ট এ নিয়েছিলো।

---------------------------------

জানতো মায়রা তোমার অ্যানি আন্তি আমাদের সাথে বাংলাদেশ যেতে চায়না ,,

থমকে গেলো অ্যানির হাত এতক্ষন সে মায়রার প্যাকিং করছিলো।

অসহায় চোখে তাকালো মেহেরিন এর দিকে তারপর মায়রার দিকে।

মায়রা এতক্ষণ ড্রয়িং করছিলো। নিজের মাম্মার কথায় অ্যানির দিকে তাকালো ,, শুরুর দিকে স্বাভাবিক মনে হলেও ধিরে ধিরে মায়রার ঠোট ফুলে ভেঙে কেঁদে উঠলো৷অ্যানি এই ভয়টাই পাচ্ছিলো সে চটপট মায়রার কাছে এগিয়ে গিয়ে তাকে জরিয়ে ধরলো।

না বেবি মাম্মা তো মজা করেছে আমি তো আমার মায়রা বেবিকে ছাড়া থাকতেই পারি না তাহলে তার সাথে কেন যাবো না।

তাহলে মাম্মা যে বলছে তুমি যাবে না?

" মাম্মা মজা করছে বেবি।

"" সত্যি?

"" একদম তিন সত্যি। আমি যাবো তো বেবি।

এতক্ষণ মেহেরিন শুধু মিটমিটিয়ে হাসছিলো।যাবেনা বলা বুঝো এবার ঠেলা।

বিজ্ঞাপন
বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক উপন্যাস