মেহেরিন ঋদ্ধ কে জরিয়ে ধরে তার পিঠে মাথা ঠেকিয়ে আছে আর ঋদ্ধ তার গতিবিধি অনুযায়ী বাইক চালাচ্ছে।
মেহেরিন এর খুব করে পুরোনো দিনের কথা মনে পরছে।ঋদ্ধ র কাছে তার কতো বায়না ছিলো।এমন করে রাগ করে ঋদ্ধ কে মাঝরাতে টেনে নিয়ে যেতো। সে কি জেদ ছিলো তার ঋদ্ধ তার জেদের কাছে হার মেনে তাকে নিয়ে রাতবিরেত বেড়িয়ে পরতো।তাকে বারন করার কেউ ছিলো না কারন ঋদ্ধ কে সবাই প্রচন্ড ভরসা করতো।
"" মেহু পাখি,,?
"" হু,,
"" কেমন লাগছে,,?
"" ভালো।
"" শুধু ভালো?
"" আজ খুব করে পুরোনো দিনের কথা মনে পরছে ঋদ্ধ।
"" আচমকাই ঋদ্ধ বাইক থামিয়ে দিলো।
"" মেহেরিন জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়েই বাইক থেকে নেমে পরলো।
"" ঋদ্ধ তার পরনের হেলমেট মেহরিন কে পরিয়ে দিলে মেহেরিন অবাক হয়ে তাকালো।
"" আমার মেহু পাখির শখ ছিলো বাইক চালানো শিখবে।
"" আজ সেই শখ পূরন করবো আমি।
"" মেহরিন যেনো হতবাক ঋদ্ধ র সে কথা এখনো মনে আছে।
"" কি ভাবছো ভুলে গেছি।উহু,,তোমার প্রতিটা কথা সবসময় আমার মনে থাকে পরে। তবে সে সময় তোমার আবদার আমি রাখতাম না কারন তখন তোমার উর্তি বয়স ছিলো আর বাংলাদেশে মেয়েদের বাইক চালানোর জন্য সেফ না।
"" বুঝেছি।কিন্তু তুমি ভুলে যাচ্ছো আমি এখন একবাচ্চার মা তাই এসব আর আমায় মানায় না ঋদ্ধ,, মেহেরিন হেলমেট খুলতে গেলে ঋদ্ধ বাধ সাধে।
"" মেহেরিন না পেরে উঠে পরে বাইকে।সে অনেকটা চালাতে জানতো কারন মৈনাক তাকে শিখিয়েছিলো।তাই খুব সহজেই চালাতে পারলো সে।
পথে কফি হাউজ দেখলে তারা নেমে পরলো সেখানে। ক্যাফে পুরোটাই ফাকা এখন।তারা কফি অর্ডার করলো।ঋদ্ধ চাইলো নিজের মেহুপাখি র দিকে মেহেরিনের পরনে ছিলো ব্ল্যাক জিন্স আর হাই নেক শর্ট টপস।চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া। বেশ মোহনীয় লাগছে তাকে দেখতে।
"" ঋদ্ধ কে একদৃষ্টিতে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেহেরিন ইতস্তত করে বললো,, কি দেখছো?
"" তোমাকে?
"" আব,,আমাকে দেখার কি আছে রোজই তো দেখো ঋদ্ধ।
"" হুম তোমাকে দেখার তৃষ্ণা যে শেষ হবার নয় মেহুপাখি। আমি চাই আমার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তোমার দিকে দৃষ্টি রেখেই যেনো আমার মৃত্যু হয়।
"" মেহেরিন মাথা নামিয়ে নিলো।তার গাল লাল হয়ে উঠিছে।
"" ঋদ্ধ নিজের মেহুপাখিকে লজ্জা পেতে দেখে ঠোট কামরে হাসলো।
মেহরিন এর দিকে এগিয়ে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,,
তোমাকে লজ্জা পেতে দেখলে আমার টুপ করে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে পাখি।
"" হঠাৎ এমন কথায় থতমত খেয়ে গেলো মেহেরিন।
কি বলছো এসব ঋদ্ধ। লজ্জায় তার কান গরম হয়ে উঠছে।
------------------------------
মেহেরিন-ঋদ্ধ অনেকটা সময় বাইরে কাটিয়ে নিজেদের বাসায় ফিরে আসে।
ড্রইং রুমে আসতেই দুজনের চক্ষু কপালে।
মায়রা মুখ ফুলিয়ে সোফায় বসে আছে আর তার দুইপাশে পিটার ও অ্যানি তাদের দুজনের মুখ ও বেশ সিরিয়াস।
"" মেহেরিন নিজের মেয়ের মুখ দেখে শুকনো ঢোক গিললো। কারন তার সবটাই জানা মেয়ের আচরন সম্পর্কে সে অবগত।
"" ঋদ্ধ ও থতমত খেয়ে মেয়ের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললো।
কি হয়েছে আমার কিউটিপাই এর।এমন মুখ,,
"" স্টপ,,
"" মায়রার কথা শুনে ঋদ্ধ সেখানেই স্থির হয়ে গেলো।
আচমকাই মায়রা ফুপিয়ে উঠলো।
"" কি হয়েছে আমার মা টার।মেহেরিন আগলে নিলো নিজের মেয়েকে।মায়রা মাম্মাকে জরিয়ে কাদছে।
""কিউটিপাই পাপা কে বলো কি হয়েছে।
তোমলা আমাকে লেকে কেন গেছিলে।তোমলা আমায় বুলে গেছো।
"" মেহেরিন কলিজা ছটপটিয়ে উঠলো।সে তার মেয়েকে অবহেলা করছে নাকি?একদিন এই তার মেয়ে তার কাছে অবহেলার পাত্রি হয়ে গেলো।
অ্যানি আর পিটারের ও একি অবস্থা হঠাৎ মায়রার মনে এমন কথা কি করে আসলো তারা কেউই বুঝতে পারছে না। মায়রা ঘুমিয়েই ছিলো মেহেরিন না থাকায় মায়রার কাছে অ্যানি ছিলো হঠাৎ তার ঘুম ভেঙে গেলে মাম্মার খোজ চলায় তখন অ্যানি তাকে জানায় তার মাম্মা পাপা বাহিরে গেছে।আর তখন থেকেই মায়রা এমন গম্ভীর হয়ে আছে।
ঋদ্ধ র বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠলো।মেহেরিন এর মুখের দিকে তাকিয়ে বেশ বুঝলো তার মেহুপাখি কি ভাবছে।সে কখনোই তার কিউটিপাই কে আলাদা ভাবে না এযে তার মেহুপাখির প্রতিচ্ছবি। সে কি করে তাকে অবহেলা করতে পারে।
কিউটিপাই তোমার পাপা কি তোমায় কখনো ভুলতে পারে বলো।বলে মায়রাকে মেহেরিন এর থেকে নিজের কাছে নিলো।মেয়ের কপালে চুমু খেলো। তুমি তো ঘুমিয়ে পরেছিলে কিউটিপাই তাই তো পাপা আর মাম্মা তোমায় সাথে নেয়নি। নাহলে পাপা তো তার কিউটিপাই কে প্রচন্ড ভালেবাসে তাইনা?
"" ফোপাঁতে ফোপাঁতে নিজের মাথা নাড়ালো মায়রা।হ্যা তার পাপা তাকে প্রচন্ড ভালোবাসে।
তাহলে তুমি কাদছো কেন কিউটিপাই তোমার কান্না দেখলে পাপার তো কষ্ট হয় তাইনা।মায়রা আবারও নিজের মাথা নাড়ালো।
তারপর ঝটপট নিজের চোখের পানি মুছে নিলো।
"" ইট’স ওকে পাপা।তুমি আমাকে অন্য তোনো দিন ঘুলতে নিয়ে যেয়ো।
"" অবস্যই নিয়ে যাবো কিউটিপাই। এখন চলো সকালে তো তোমার স্কুল আছে ঘুমতে হবে।
ঋদ্ধ একবার মেহেরিন এর দিকে তাকিয়ে মায়রাকে নিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।
মেহরিন স্থির হয়ে আছে।কিছুক্ষণ পর ধপ করে বসে পরলো সোফায়। নিজের হাত দারা মুখ ঢেকে নিলো।
"" ম্যাম আপনি প্লিজ চিন্তা করবেন না স্যার ঠিক বেবিকে সামলে নেবে দেখবেন।
অ্যানির কথায় মেহেরিন শান্ত হলো না বরং ভাঙা গলায় বললো,,
অ্যানি আমি আমার মেয়েটাকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছি।প্রথম বার আমার মেয়ের মনে হয়েছে তাকে আমি ভুলে গেছি।এটা যে আমি সহ্য করতে পারছি না অ্যানি।আমার মেয়েই যে আমার সব তার খুশি আমার কাছে সবার আগে।
অ্যানি নিজেও মেহেরিন এর বিষয় টা বুঝতে পারছে।মায়রা এর আগে কখনো এমন কথা বলেনি আজ হঠাৎ এমন কথা বললো।সে মেহেরিনকে শান্তনা দেওয়ার মতো কিছু পেলো না।তাই মেহেরিন কে একা ছেড়ে দিলো। তার পিছু পিছু পিটার ও আসলো।
"" হেই মিস ঝগরুটে,,?
অ্যানির এই চিন্তিত মূহুর্তে পিটারের উস্কানিমূলক কথা গায়ে লাগলো না।
এতে পিটার ও বেশ সিরিয়াস হয়ে গেলো।
হেই মিস ঝগরুটে চিন্তা করছো কেন স্যার ঠিক সবটা সামলে নেবে।অ্যানি থেমে গেলো,,
উদাসীন হয়ে বললো আপনি জানেন না মেহেরিন ম্যাম স্যার কে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে শুধু মাত্র মায়রা বেবির জন্য। সেই মায়রা বেবির এমন কথা শুনে না জানি ম্যাম নিজের সিদ্ধান্ত বদলে দেন।এতোগুলো বছরেও আমি বেবি এবং ম্যাম কে কখনো এতো খুশি দেখিনি যা ঋদ্ধ স্যার সাথে থাকায় আমি দেখেছি।
পিটার ও বিষয় টা বুঝলো তার স্যার ও তো কতো খুশি কিন্তু আবার কোনোভাবে মেহেরিন ম্যাম দুরে চলে গেলে এবার তার স্যারকে বাচানো যাবে না। ভেবেই তার গলা শুকিয়ে আসলো।
-----------------------------
মেহেরিন তখনো সেখানেই স্থির হয়ে বসে আছে। মাথা নিচু করে। ঋদ্ধ মায়রাকে ঘুম পারিয়ে মেহেরিন এর রুমে গিয়েছিল তবে তাকে না পেয়ে আবার ফিরে আসলো।মেহুপাখি কে একই ভাবে বসে থাকতে দেখে তার মনটাও ব্যাথিত হলো।সে মেহেরিন এর সামনে হাটুগেরে বসলো মেহেরিন এর দুই হাত নিজের হাতের মুঠোয় পুরে তাতে চুমু খেয়ে বললো,,
তুমি চিন্তা করো না মেহু পাখি। মায়রাকে কখনো আমি অভিযোগ করার সুযোগ দিবো না।সে আমার মেয়ে কখনো তার কাছে নিজেকে সৎ বাবা হিসেবে উপস্থাপন হওয়ার সুযোগ দিবো না।
মেহেরিন এর চোখে পানি চিকচিক করছে।ঋদ্ধ তা দেখে,,
উহু,,আমার কিউটিপাই এবং তার মাম্মা দুজনের কান্না দেখলেই যে আমার কষ্ট হয়।
সাথে সাথে টুপ করে একফোঁটা জ্বল গরিয়ে পরলো মেহেরিন এর চোখ থেকে।ঋদ্ধ তা মুছিয়ে দিয়ে পরম আদরে জরিয়ে ধরলো নিজের মেহুপাখিকে।