রাত প্রায় সাড়ে দশটা।
মায়রাকে অনেক কষ্টে ঘুম পাড়িয়ে রুম থেকে বের হলো অ্যানি।
বের হতেই দেখলো ডাইনিং টেবিলে ল্যাপটপ খুলে বসে আছে মেহেরিন। চারপাশে ফাইলের স্তূপ।
চোখেমুখে স্পষ্ট ক্লান্তি।
অ্যানি ধীরে এগিয়ে এসে বললো
"" ম্যাম আর কতো করবেন? রাত অনেক হয়েছে।
মেহেরিন চোখ না তুলেই বললো
"" আরেকটু। দেশে যাওয়ার আগে সব clear করে যেতে হবে।
"" কিন্তু শরীরও তো দেখতে হবে।
মেহেরিন এবার হালকা হাসলো।
"" তুমি আর ঋদ্ধ এক হয়ে গেছো মনে হচ্ছে। দুজনই শুধু bodyguard-এর মতো পেছনে লেগে থাকো।
অ্যানি কিছু বলার আগেই কলিংবেল বেজে উঠলো।
মেহেরিন ভ্রু কুঁচকালো।
"" এতো রাতে কে?
দরজা খুলতেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে দেখে অ্যানির মুখে চাপা হাসি ফুটে উঠলো।
ঋদ্ধ।
হাতে দুইটা বড় ব্যাগ।
"" কি ব্যাপার? এতো রাতে?
ঋদ্ধ একদম স্বাভাবিক গলায় বললো
"" ক্ষুধা লেগেছে।
"" তো?
"" তোমার বাসায় খেতে এসেছি।
মেহেরিন অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকালো।
"" তোমার বাসায় খাবার নেই?
ঋদ্ধ ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বললো
""এই বাসায় এখনো কুক আসেনি ,,
তাছাড়া আমি তোমার রান্না করা খাবার খেতে এসেছি ,,
অ্যানি মুখ চেপে হাসলো।
মেহেরিন চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো।
এই লোকটার লজ্জা বলে কিছু নেই!
ঋদ্ধ সোফায় বসে চারপাশে তাকিয়ে বললো
"" কিউটিপাই ঘুমিয়ে গেছে?
"" হুম।
"" আর মেহুপাখি?
ঋদ্ধ এবার ইচ্ছে করেই গলা নামিয়ে বললো
"" সে কি আমার জন্য একটু সময় দিবে?
মেহেরিন গম্ভীর থাকার চেষ্টা করেও কেমন যেনো অপ্রস্তুত হয়ে গেলো।
"" তোমার তো কাজ ছিলো।
"" ছিলো। কিন্তু তোমার সাথে দেখা করাটা বেশি জরুরি মনে হলো।
কথাটা শুনে মেহেরিন থমকে গেলো।
অ্যানি পরিস্থিতি বুঝে চুপচাপ সরে গেলো।
ঋদ্ধ ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে মেহেরিনের সামনে এসে দাড়ালো।
"" এতো কাজ করো কেন?
"" কারণ কেউ তো দায়িত্বশীল হতে হবে।
ঋদ্ধ ঠোঁট কামড়ে হেসে বললো
"" indirect আমাকে irresponsible বলছো?
"" আমি কিছু বলিনি।
"" কিন্তু আমি বুঝেছি।
হঠাৎ ঋদ্ধ সামনে থাকা ফাইলগুলো বন্ধ করে দিলো।
"" এই! কি করছো?
"" আজ আর কোনো কাজ না।
"" ঋদ্ধ!
"" না।
একদম বাচ্চাদের মতো মাথা নাড়লো সে।
"" আজকে শুধু আমি, তুমি আর coffee।
মেহেরিন বিরক্ত মুখে তাকালো।
"" impossible।
ঋদ্ধ একটু ঝুঁকে এলো।
"" please?
মেহেরিন থমকে গেলো।
এই মানুষটা যখন soft voice-এ কিছু বলে তখন না চাইলেও না বলা যায় না।
শেষমেশ বিরক্ত ভান করে বললো
"" পাঁচ মিনিট।
ঋদ্ধের মুখে সাথে সাথে বিজয়ী হাসি ফুটে উঠলো।
"" জানতাম আমার মেহুপাখি রাজি হবেই।
মেহেরিন কিছু বলার আগেই হঠাৎ ঋদ্ধ তার কপালে হালকা টোকা দিলো।
"" এতো stress নিও না।
খেয়াল রেখো, তোমাকে নিয়ে কিন্তু আমার অনেক plan আছে।
মেহেরিন ভ্রু কুঁচকালো।
"" কি plan?
ঋদ্ধ রহস্যময় হাসলো।
মেহেরিন এর অনেকটা কাছে এসে তার কোমর জরিয়ে ধরলো নিজের না মেহেরিন এর কাধে স্লাইড করতে করতে বললো
"" আগে বাংলাদেশ যাই… তারপর বলবো।
মেহেরিন ঋদ্ধ র এমন কাছে আসায় জমে গেলো যেনো।দম বন্ধ হয়ে আসতে চাইলো তার ,,
ঠিক তখনই
"" পাপাআআ!
মায়রার ঘুমজড়ানো কণ্ঠ ভেসে এলো।
দুজনেই ছিটকে দুরে সরে গেলো তাকালো মায়রার দিকে ।
ছোট্ট মায়রা চোখ কচলাতে কচলাতে দাঁড়িয়ে।
"" তোমলা আমায় ছাড়া romance করছো?
দুজনেই থমকে গেলো।
মেহেরিন ঋদ্ধ দুজন দু-জনের দিকে চাইলো
তারপর একসাথে হেসে উঠলো।
ঋদ্ধ চট করে উঠে মায়রা কে কোলে তুলে তার কপালে চুমু খেলো ,, আমার কিউটিপাই দেখি উঠে পরেছে ঘুম থেকে ,,
"" তোমলা দুজনে লোমাঞ্চ করছিলে পাপা ,,
"" এসব পচা কথা তোমায় কে শিখিয়েছে আম্মা ,,
"" রিশা বলেচে তাল মাম্মা পাপা লোমাঞ্চ করে ,, ঠোঁট উল্টে জবাব দিলো মায়রা ,,
মেহেরিন হতাশ কি আর বলবে সে ,,
"" আমরা রোমাঞ্চ করছিলাম না বেবি আমি আর তোমার মাম্মা তো কাজ করছিলাম ,,
"" বেবি তুমি কখন উঠলে ,, অ্যানি এতক্ষণ রান্না ঘরে ছিলো খাবার রেডি করছিলো ,,
"" মায়রা সায় জানালো ,,
চলো খেতে আর পিটারকেও ডাকো একসাথে খেয়ে নাও দুজনে , ,
কিছুক্ষণ পর পিটার আসলে দুজনেই খাওয়া শুরু করলো ,, সাথে এটাও জানালো দুদিন পর তাদের ফ্লাইট ,,
----------------------------
দেখতে দেখতে কাঙ্ক্ষিত দিনটি চলেই আসলো ,, আজ তাদের বাংলাদেশের ফ্লাইট সকাল থেকে মায়রার খুশি যেনো ধরছে না যেই নানু মামা মামি কে সে কখনো দেখেনি তাদের দেখা পাবে সকাল থেকে প্রায় দু তিন বার নানু কে কল করেছে সে ,, মেহেরিন শুধু মেয়ের খুশি দেখছে ,, ঋদ্ধ আজ অনেক খুশি নিজের ভালোবাসা নিজের করে পাওয়ার একধাপ এগিয়ে যাচ্ছে সে।
মায়রা তার পাপার সাথে ম্যাচিং করে সাদা বার্বি গ্রাউন পরেছে ঋদ্ধ র পরনে সাদা শার্ট মেহেরিন কালো পুরোটাই কালো , , অ্যানিও ওরনে সাদা ,, পিটার এর পরনে কালো ,, অদ্ভুত ভাবে তাদের কাপলের মতো লাগছে ,,
দেখো পাপা তুমি আর আমি সেম সেম ,,
হুম কিউটিপাই তুমি তো পাপার মেয়ে তাইতো পাপার সাথে ম্যাচিং ,,
প্লেনে ঋদ্ধ র পাশের সিটটায় বসলো মেহেরিন মায়রা ঋদ্ধ র কোলে ,, পিটার ও অ্যানির একসাথে বসেছে তাদের পেছনে ,,
হঠাৎ করে মেহেরিন এর বুকটা ভারি হয়ে আসলো পাঁচ বছর আগে সে এই একই যায়গায় বসে ছিলো একা কোলে ছিলো তার ছোট্ট পরিটা তার পরিটা তখন এইটুকুনি ছিলো চিন্তা করেই সে ঋদ্ধ র কোলের মায়রার দিকে চাইলো ঘুমিয়ে পরেছে ঋদ্ধ র কোলে বাচ্চা টা পরম নিশ্চিন্তে ,, তার মেয়েটা এখন চার বছরের ,, সে তখন শূন্য ছিলো কতো ব্যাথা ছিলো তার চোখে সেদিন তার চোখ ভিজে উঠলো মন চাইলো কাঁদতে ,,
ঠিক তখনি ঋদ্ধ তার কাধে হাত রাখলো মেহেরিন তাকালো এক ফোটা পানি গড়িয়ে পরলো তার চোখ থেকে ঋদ্ধ তা পরম যত্নে মুছে দিলো তাকে আশ্বাস দিলো সে সবসময় তার মেহুপাখির পাশে আছে। মেহেরিন চোখ মুছে নিলো সত্যি তো ঋদ্ধ আছে তারপাশে যে তাকে আকাশ সমান ভালোবাসে মেহেরিন যানে ঋদ্ধ তাকে কোখনো ছেড়ে দেবে না আর না তার মেয়েকে ,,
মেহেরিন ঋদ্ধর কাধে মাথা রাখলো ,,
ঋদ্ধ সেদিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো আবার তার কিউটিপাই এর দিকে তাকালো ,, এই দুজনেই তার সব তার দুনিয়া তার বেচে থাকার কারন এদের ছাড়া সে বাচতে পারবে না ,,