আমারও পাপা আছে।পাপা আমায় অনেক ভালোবাসে ঠিক তোর পাপার মতো।
"" উনি তোর সৎ বাবা উনি তোকে মোটেই আমার পাপার মতো ভালোবাসতে পারে না।
"" সৎ বাবা কী?
"" সৎ বাবা মানে,,ঠোট ফুলিয়ে বললো মায়রা।
এই মায়রা চল ওর সাথে কথা বলতে হবে না আমি জানি ঋদ্ধ আংকেল তোকে অনেক ভালোবাসে।
-----------------------
ঋদ্ধ তোমার সমস্যা কি বলোতো?
"" ঋদ্ধ অবাক হয়ে চাইলো মেহেরিন এর দিকে কিছু না বোঝার ভান করে বললো,,
কেন মেহু পাখি আমি কি করেছি?
মেহেরিন ফোস করে শ্বাস ফেললো,, প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে বললো,,
তুমি যে এতো বড়ো একজন ডক্টর এটা কি তুমি ভুলে গেছো ঋদ্ধ।
"" কথাটা যেনো ঋদ্ধ র কানেই গেলো না।
ঋদ্ধ""
বেশ জোরে বলে উঠলো মেহেরিন।
"" ঋদ্ধ থতমত খেয়ে গেলো।
মেহেরিন প্লিজ আমার বউ আর বাবার যথেষ্ট টাকা পয়সা আছে তাই আমাকে কাজ করার জন্য তুমি ফোর্স করবে না।আমি এখন আমার বউ আর বাবার টাকায় আয়েশ করবো।বাবার টা ফুরিয়ে গেলে বউয়ের টা খরচ করবো। যদিও আমি জানি আমার বউ আর বাবার যতো টাকা আছে তাতে আমার আরো তিন প্রজন্ম বসে খেতে পারবে।
"" তব্দা খেয়ে গেলো মেহেরিন কি বলছে এই ছেলে।এবার তার সন্দেহ হচ্ছে একে কে অ্যামেরিকার বেস্ট হার্ট সার্জন বানিয়েছেন। একে তো অলস কুমার নাম দেওয়া উচিৎ ছিলো।
আচ্ছা খুবি ভালো কথা তুমি তোমার বউ আর বাবার টাকায় আয়েশ করো কিন্তু এটা তো আমার কাজের যায়গা ঋদ্ধ তুমি এখানে গেম খেলছো তাও শুয়ে থেকে এমপ্লয়ি রা যখন আমার ক্যাবিনে ঢুকে তোমার এমন অবস্থা দেখছে তারা কি ভাবছে।
"" তারা এটাই ভাবছে যে তাদের ম্যাম এর হাসবেন্ড তাকে কতো ভালোবাসে কাজের যায়গাতেও এসে তাকে পাহারা দিচ্ছে।
"" এহ,,,
"" হ্যা পাখি আর প্লিজ আমাকে ডিসটার্ব করো না তো আমার কিউটিপাই আসলে তাকে নিয়ে আমি বাহিরে যাবো তুমি এতো ঘেটোনা তো।
"" মেহেরিন এবার বুঝলো এই লোকের এখানে বসে থাকার কারন সে মূলত মায়রার জন্য অপেক্ষা করছে।
মেহেরিন ফোস করে একটা নিঃশ্বাস ছেরে নিজের কাজে লেগে পরলো।এই পাগলকে যে কিছু বলে লাভ নাই তা সে বেশ বুঝতে পেরেছে।
নিজের কাজে মনোযোগ দিলো মেহেরিন।
"" ম্যাম,,,ম্যাম,,অ্যানি হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসলো অ্যানি।
মেহেরিনের কপাল কুচকে গেলো।
"" কি হয়েছে অ্যানি এমন হাপাচ্ছো কেন তুমি?
ততক্ষণে ঋদ্ধ গেম পোজ করে তাদের দিকে নজর দিলো।
"" ম্যাম বেবি,,বেবি,,
"" কি হয়েছে মায়রার?
ঋদ্ধ এবার দারিয়ে পরলো।
"" ম্যাম বেবি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পরেছে ওর স্কুল থেকে কল এসেছিলো।
"" কিহ,,কি হয়েছে আমার মায়রার তুমি শোননি কেন?
অস্থির হয়ে উঠলো মেহেরিন এর মন।
কুল,,মেহুপাখি,, শান্ত হও তুমি।আমরা এখুনি যাবো কিউটিপাই এর কাছে।
"" আমি কি করে শান্ত হবো বলো।আমার মেয়ে টার কি হলো ঋদ্ধ।
ঋদ্ধ বুঝলো মায়ের মন মেয়ের জন্য উতলা হবে এটাই স্বাভাবিক। সে তারাতাড়ি পিটারকে গাড়ি বের করতে বললো।
"" আমার মেয়ের সাথে কখনো এমন হয়নি ঋদ্ধ।হঠাৎ কি হলো।
"" অ্যানি,,মায়রার ঠিক কি সমস্যা হচ্ছে?
"" স্যার,, বেবি বেশ কিছুদিন হলো বলছিলো তার বুকে ব্যাথা করে।মাঝে মাঝেই তার শ্বাস নিতে সমস্যা হতো।এর জন্য তাকে ডক্টর ও দেখানো হয়েছে। পরবর্তী তে সেই ডক্টর আপনাকে রেকোমেন্ড করেছিলো।
ঋদ্ধ র সবে মনে হলো মায়রার রিপোর্ট গুলো তো সে দেখেইনি। এতোসব ঝামেলার মাঝে ভুলেই গেছিলো। খুব ভুল করে ফেলেছে সে।
ঋদ্ধ দেরি করলো না তারাতাড়ি মায়রাকে ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক হসপিটাল এ নিয়ে যেতে বললো।Cleveland Clinic হলো বিশ্বের অন্যতম সেরা হাসপাতাল, বিশেষ করে হার্টের চিকিৎসা (কার্ডিয়াক কেয়ার) এর জন্য এটি কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত। Cleveland, United States আমেরিকা ছাড়াও UAE, UK সহ আরও দেশে শাখা আছে।ঋদ্ধ এই হসপিটালের ই বেস্ট হার্ট সার্জনদের একজন।
----------------------------
মেহেরিন হসপিটালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ততক্ষণে মায়রাকে হসপিটাল এ আনা হয়েছে। ঋদ্ধ খুব দ্রুত নিজের ক্যাবিনে গিয়ে পোশাক বদলে নেয়।ঋদ্ধ কে সচরাচর কোনো সার্জারী ছাড়া হসপিটাল এ দেখা যায়না আজ হঠাৎ সবাই তাকে দেখে বেশ অবাক হচ্ছে। ঋদ্ধ র একজন কলিগ মিস,নোভা ঋদ্ধ কে দেখে প্রশ্ন করলো,,
হেই মি,অ্যারন চৌধুরী,, আজ সূর্য কোন দিকে উঠেছে।আপনি হঠাৎ?
তবে ঋদ্ধ তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বেরিয়ে গেলো। এতে অবস্য ডক্টর বেলা বেশ অপমানিত বোধ করলো।
"" পাপা আমাল বুকে ব্যাতা পাপা,,। মায়রা ঠোঁট ভেঙে কান্না করতে করতে উক্ত কথাটি বললো।পাপা সৎ পাপা কী?ঋদ্ধর কপাল কুচকে গেলো এমন কথা শুনে।মায়রা একটার পর একটা প্রশ্ন করছে।
ঋদ্ধ র এবার নিজেকে বেশ অসহায় লাগছে।তার কিউটিপাই এর হঠাৎ কি হলো।
"" কিছু হবে না কিউটিপাই পাপা আছি না। সব ব্যাথা দুর করে দিবে।
ঋদ্ধ মায়রার কিছু টেস্ট করতে দিলো আবারো। (ECG, Echo, আগের টেস্ট গুলো সে মনোযোগ দিয়ে দেখা শুরু করলো।প্রথম দিকে সে তেমন গুরুত্ব দেয় নি তবে এবার তাকে বিষয় টা বেশ ভাবাচ্ছে।
মেহেরিন ক্যাবিনের বইরে আছে।
তার চোখ দিয়ে শুধু পানি বেরোচ্ছে। তার মেয়েটার হঠাৎ কি হলো।সব তো ঠিক ছিলো তবে এ কোন নতুন বিপদ এলো।পাশেই মায়রার একজন টিচার দারিয়ে ছিলো যিনি মায়রাকে হসপিটালে এনেছে।
মেহেরিন হঠাৎই তাকে প্রশ্ন করলো,,
কি হয়েছিলো আমার মেয়ের সাথে? বলুন তাকে তো আমি সুস্থ অবস্থায় পাঠিয়েছিলাম তবে হঠাৎ আমার মেয়ে এমন প্যানিক করছে কেন?
"" টিচার বেশ হকচকিয়ে গেলো।তিনি মেহেরিনকে চেনেন।মেহেরিন বেশ শান্ত তবে মেয়ের কথা উঠলেই যে মোহেরিন বাঘিনী হয়ে উঠে তা বেশ জানা তার।তাই তিনি কোনোকিছু না লুকিয়ে পুরো ঘটনা জানালেন।
মেহেরিন আবারো মুখ চেপে কেদে উঠলো। সে তো জানতো ঋদ্ধ যতোই মায়রাকে ভালোবাসুক। কিন্তু আশেপাশের কিছু কুৎসিত মন মানুষিকতার মানুষ আছে যারা তার মেয়ে আর ঋদ্ধ র সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।সে সবকিছু মোকাবিলা করতে পারলেও তার মেয়েটাতো বাচ্চা সে তো এসব বোঝে না।
------------------------------
মায়রাকে রাতেই বাসায় এনেছে ঋদ্ধ। মায়রা এখনো অনেক ছোট হসপিটাল এ থাকলে সে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পরবে বলে ধারনা মেহেরিনের। ঋদ্ধ রও তেমনই মনে হলো। আপাতত ঋদ্ধ তাকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ঘুম পারিয়ে রেখেছে। বাচ্চাটা কয়েক ঘন্টার মধ্যে কেমন সুকনো হয়ে গেছে।
মেহেরিনের বুকটা খা খা করছে মেয়ের এমন অবস্থা দেখে এতগুলো বছর এই মেয়ে নিয়েই জীবন কাটিয়েছে সে তার মেয়েই তার সব।
"" ঋদ্ধ মায়রার সবগুলো রিপোর্ট চেক করে মেহেরিন এর দিকে তাকালো।তার চোখে মুখে স্পষ্ট ভয়।
মেহেরিন ঋদ্ধর এমন চেহারা দেখে আরও ভয় পেয়ে গেলো।
"" কি,,কি হয়েছে ঋদ্ধ আমার মেয়েটার?বলছোনা কেন?আমার মেয়েটা ঠিক আছে তো?
"" পাখি রিলাক্স।
"" আমি পারছি না ঋদ্ধ আমার বাচ্চাটার সবে সারে চার বছর বয়স।
"" দেখো পাখি ভয় পেয়ো না। আমি তোমাকে যা বলতে যাচ্ছি তা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনবে।প্যানিক করোনা প্লিজ।
"" দেখো কিউটিপাই এর হার্ট এ একটা ছোট্ট ফুটো আছে।