আপনি কিছু বলবেন না মি.অ্যারন রিচার্ড চৌধুরী,,,
হঠাৎ এমন হুংকার এ কেপে উঠলো মেহরিন।সামনেই ঋদ্ধর বাবা আর মেহরিন কিছু ফাইল নিয়ে কথা বলছিলেন।
আচমকা ঋদ্ধ ক্যাবিনে ঢুকে উক্ত কথাটি বললো।
বাহিরের গার্ড এসে বললো
ম্যাম আমি অনেকবার অনাকে বলেছি কিন্তু উনি জোর করে ক্যাবিনে ঢুকে গেলেন।ওনাকে মিটিং এর কথাও বলেছি আমি।
"" ইট’স ওকে আমি দেখছি বিষয় টা আপনি বাহিরে যান।
গার্ড বিরক্ত হয়ে তৎক্ষনাৎ স্থান ত্যাগ করলো।
মি.রিচার্ড বেশ বুঝতে পেরেছেন ছেলের এখানে আসার কারন।
"" কি হয়েছে ঋদ্ধ এমন আচরণ কেন করছো? আমাকে আগে জানালে আমি বলে রাখতাম গার্ডরা তোমায় ভেতরে আসতে দিতো আর এসো বসো দেখো আংকেল এসেছেন।
"" হ্যা দেখতেই তো পাচ্ছি বলেই সে এগিয়ে আসলো হুংকার দিয়ে বললো কেন এসেছো তুমি আবার ওকে বারন করতে যাতে ও আমার লাইফ থেকে আবার চলে যায়। তুমি না বাবা তাহলে কেন নিজের সন্তানের সুখ দেখতে পারো না তাকে কষ্টে রাখতে চাও বলতো এর আগেও তুমি ওকে আমার হতে দাও নি আবার,,,
"" ঋদ্ধ স্টপ ইট,,তুমি ভুলে যাচ্ছো এটা অফিস এখানে তুমি এমন চিৎকার করতে পারো না,,,গম্ভীর গলায় বললে মি.রিচার্ড।
"" মেহরিন হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ঋদ্ধ কি বলছে সবটাই তার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে।
"" ঋদ্ধ কি বলছো তুমি এসব আংকেল কেন,,
"" তুমি চুপ করো,,,আপনি এখান থেকে যান মি.রিচার্ড,,,
"!কিন্তু ঋদ্ধ,,,
মি.রিচার্ড ছেলের রাগ সম্পর্কে অবগত তাই তিনি মেহরিনকে থামিয়ে দিলো,,
মেহরিন আমি পরে এসে ফাইল নিয়ে আলোচনা করবো আপাতত আসছি,,,
মেহরিন এর খুব খারাপ লাগছে পাশাপাশি ঋদ্ধর ওপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে এই ছেলেটা এমন করলো কেন।তার যতটা মনে আছে ঋদ্ধ তার বাবাকে প্রচন্ড ভালোবাসতো তাহলে হঠাৎ করে কি এমন হলো যে ঋদ্ধ এমন আচরণ করছে।
ঋদ্ধর বাবা চলে যেতেই রাগি চোখে ঋদ্ধর দিকে তাকালো মেহরিন।
এটা কেমন ব্যাবহার ঋদ্ধ আংকেল এর সাথে তুমি এমন ব্যাবহার কেন করলে উনি কষ্ট পেলো না।
আচমকাই ঋদ্ধ ঝাপটে জরিয়ে ধরলো মেহরিনকে এতে করে মেহরিন কিছুটা পিছিয়ে গেলো। হঠাৎ এমন করায় তার বেশ অস্বস্তি হচ্ছে পাশাপাশি লজ্জাও লাগছে।
"" উনি তোমাকে আমার থেকে আবার কেরে নেবে মেহু পাখি। আমি চাইনা তোমাকে হারাতে তোমাকে ছারা একেকটা দিন আমার জন্য কতোটা ভয়ংকর যন্ত্রণার ছিলো আমি বোঝাতে পারবো না পাখি।
"" মেহরিন নজেকে স্বাভাবিক করে নিজের একটা হাত ঋদ্ধর পিঠে রাখলো।
আমাকে কেউ কেড়ে নিচ্ছেনা ঋদ্ধ দেখো। আর আংকেল কেন কেরে নেবে তোমার থেকে আমায়।
"" ঋদ্ধ আরেকটু শক্ত করে জরিয়ে ধরলো মেহরিনকে। যেনো নিজের বুকের মাঝে ঢুকিয়ে নিবে।
কেন উনি তো তোমায় পাঁচ বছর আগে বলেছিলো যেনো আমায় তুমি ছেড়ে দাও।আবারও এটা বলতে এসেছে নিশ্চয়ই।
"" মেহরিন তো অবাক রিচার্ড আংকেল তাকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসতো।তাছাড়া যখন মেহরিন এর বিয়ে ঠিক হয় তিনি নিজে এসে মেহরিনকে রিকুয়েষ্ট করেছিলেন যেনো সে বিয়েটা ভেঙে দেয় আর ঋদ্ধ কে বিয়ে করে তাহলে ঋদ্ধ এসব কি বলছে।
আর ঋদ্ধ কে বিয়ে করতে বারন করেছিল সে তো,,,
মেহরিন আর কিছু ভাবলোনা।
"" তুমি ভুল ভাবছো ঋদ্ধ আংকেল বরাবর ই আমাকে অনেক ভালোবাসতো তুমি তো সেটা যানো তাহলে উনি এমনটা কেন করবেন।
"" আমি জানি,,,
"" তুমি কিছু জানোনা ঋদ্ধ আংকেল এসেছিলেন সেদিন আমার কাছে যেনো তোমায় আমি বিয়ে করি তাহসিন এর সাথে বিয়েটা ভেঙে দেই কিন্তু আমি ওনাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।উনি আমায় অনেক রিকুয়েষ্ট করেছিলেন তবও আমি শুনিনি।
"" ঋদ্ধ থমকে গেলো এমন একটা কথা শুনে। সে কি ভুল শুনছে যদি এমনটাই হয় তাহলে তার বাবা কেন তাকে বললো না সবটা।
সে মেহরিনকে ছেরে দিলো।
মেহরিন মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।
"" তুমি সত্যি বলছো মেহু পাখি বাবা এসেছিলো তোমার কাছে রিকুয়েষ্ট করতে?
মেহরিন মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো।
ঋদ্ধ সাথে সাথে বেরিয়ে গেলো সেখান থেকে।
মেহরিন এর চোখ থেকে এক ফোটা জল গরিয়ে পরলো।
----------------------------
অ্যানি আনতি,,
"" বলো মায়রা বেবি,,,
আনতি ঋদ্ধ আনতেলকে পাপা বনাতে গেলে কি করতে হবে?
অ্যানি মুচকি হাসলো মায়রার কথায়।
"" বেবি তুমি যদি আংকেল কে বাবা বানাতে চাও তাহলে আগে তোমার মাম্মাকে ঋদ্ধ আংকেল এর সাথে বিয়ে দিতে হবে।
"" আমার আর রিশার পুতুল বিয়েল মতো?
"" হুম কিন্তু চিন্তার বিষয় টা কি জানো বেবি তোমার মাম্মা তো তোমার আংকেলকে তোমার পাপা বানাতে চাচ্ছে না।
সাথে সাথে মায়রার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেলো।
কেনু আনতি?
"" তা তো জানিনা বেবি তবে তুমি চাইলেই মাম্মা আংকেলকে বিয়ে করবে।
"" সত্যি,,?
"" হ্যা সত্যি তো কারন মায়রার মাম্মা মায়রার জন্য সব করতে পারে।
মায়রা খুশি হয়ে গেলো সাথে সাথে।
মেহরিন বসে আছে হঠাৎ তার মনে হলো ঋদ্ধ র কথা সেই ছোটবেলা থেকে ঋদ্ধ তাকে ভালোবেসে এসেছে তার জন্য কষ্ট পেয়ে আসছে। নিজের বাবার সাথে পর্যন্ত আজ পাঁচটা বছর হলো সে অভিমান করে আছে অথচ ঋদ্ধ তার বাবা বলতে পাগল ছিলো।কিন্তু সে ঋদ্ধ র জন্য কি করেছে শুধু তাকে কষ্ট ই দিয়ে গেছে তাঁকে। তার কি উচিত ঋদ্ধ কে একটা সুযোগ দেওয়া। কিন্তু তাকে যে বারন করেছে ঋদ্ধর বউ হতে সে কি করে তা অমান্য করবে।
হঠাৎই মেহরিন এর রেস্টুরেন্টে এর ঘটনা মনে পরলো তারপর তাকে জরিয়ে ধরার কতোটা শক্ত ভাবে তাকে জরিয়ে ধরেছিলো ঋদ্ধ তাকে যেনো ছেড়ে দিলেই সে পালিয়ে যাবে ঋদ্ধ র করা পাগলামি গুলো একে একে সব মনে পরতেই মেহরিন এর মুখে হাসি ফুটলো ধিরে ধিরে সেই হাসি বৃদ্ধি পেলো।
"" মাম্মা তুমি হাসছো কেনু তুমি কি পেমে পলেছো মাম্মা,,?
"" মেহরিন চোখ বড়ো বড়ো করে নিজের মেয়ের দিকে তাকালো কি বললো এটা তার মেয়ে,,,
মাম্মা তুমি প্রেমের কি বুঝো আর প্রেম শব্দটা কথা থেকে শিখেছো তুমি?
"" রিশা গল্প করছিলো আমি তকন শুনেচি যে পেমে পললে মুচকি মুচকি হাতে তুমিও তো হাততো,,,
"" মেহরিন কি বলবে ভেবে পেলো না তার মেয়েটাকে দেখছি পাকিয়ে দেবে এই বয়সেই।
অ্যানিও পাশে দাঁড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসছে মেহরিন সেদিকে চোখ পাকিয়ে তাকাতেই তার হাসি বন্ধ হয়ে গেলো।
"" কিন্তু মাম্মা মনে লেখো তুমি পেমে পললেও ঋদ্ধ আনতেল এর পেমে পরবে আমি তাকেই পাপা বানাবো।তার সাতেই তোমাল বিয়ে হবে।
বলে নিজের রুমে চলে যেতে লাগলো সে।
মেহরিন স্তব্ধ হয়ে মেয়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে তখনো।
---------------------------
ঋদ্ধ একটা নদীর ধারে দাঁড়িয়ে আছে। সে মেহরিন এর কাছ থেকে আসার পর থেকে এখানে দাড়িয়ে আছে এখন প্রায় রাত একটা বাজতে চললো।
সে মূলত ভাবছে এতগুলো দিন সে তার বাবার সাথে কেমন ব্যাবহার করেছে কতটা যন্ত্রণা দিয়ে একেকটা কথা বলেছে অথচ তার বাবা তার জীবনের সুপারম্যান ছিলো যে তার জন্য সব করতে পারতো নিজের জীবন টাও দিয়ে দিতো হয়তো আজকের পর থেকে হয়তো ঋদ্ধ নিজের মুখের দিকে নিজেই তাকাতে পারবে না।তার বাবার সাথে করা অন্যায় গুলো ভেবে।
নিজের মাথার চুল গুলো ঝাপটে ধরে বসে পরলো সে।হঠাৎই কেউ তার মাথায় হাত রাখলো সামনে তাকাতেই অস্ফুটে উচ্চারণ করলো
"বাবা"