কেমন আছো ভাইয়া?
"" আলহামদুলিল্লাহ বোন।তুই কেমন আছিস?
আর আমাদের মায়রা কেমন আছে?
"" সেও ভালো আছে ভাইয়া আর আমিও।
রুপসা ভাবিপু কেমন আছে?
"" ও তো ভালোই আছে তবে ওই যে জানিসই তো।
"" মেহরিনের মুখটা ছোট হয়ে আসলো।
তার ভাবিপু অনেক কষ্ট পায় তার একটা সন্তান নেই বলে।
চিন্তা করোনা ভাইয়া আল্লাহ চাইলেই হবে।
"" হুম আমি ওই ভরসায় আছি।
আব,,মেহু,,শোন
"" হুম ভাইয়া বলো?
"" মানে ঋদ্ধর সাথে দেখা হয়েছিলো তোর।
"" মেহরিন জোরে শ্বাস ফেললো। সে জানতো কথাটা তার ভাইয়ের কানে গেছে।
"" হ্যা ভাইয়া তার সাথে দেখা হয়েছিলো।
"" কি,,কি বলেছে তোকে?
"" সে এখনো আমায় বিয়ে করতে চায় ভাইয়া।মায়রাকে তার মেয়ে বানাতে চায়।
"" তুই কেন রাজি হচ্ছিস না। ছেলেটা তোকে এতো ভালোবাসে।
ভুলটা আমি আর বাবা করেছিলাম।যার জন্য আজ তোর গায়ে ডিভোর্সি ত্বকমা লেগে গেছে।
"" চুপ করো ভাইয়া।আমি জানি ঋদ্ধ আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে।কিন্তু ভাইয়া আমার মায়রা তাকে কি
ঋদ্ধ নিজের মেয়ের মতো রাখতে পারবে।তবুও ধরলাম সে পারবে কিন্তু তার বাবা মা আমার মেয়েকে মানতে পারবে।
"" তুমি জানো ভাইয়া আমার জীবনে মায়রার থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই।তার একফোটা চোখের পানিতে আমার বুকে রক্তক্ষরণ হয়।
মৈনাক বুঝলো বোনের বিষয়টা।
আচ্ছা তুই যা ভালো বুঝিস কর।
"" তুমি তো ওকে বুঝিয়ে বলতে পারতে মৈনাক।
"" রুপ আমি প্রথম বারের মতো এবারেও মেহুর ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে চাইনা।
আর রইলো ঋদ্ধ সে মেহুকে
অসম্ভব ভালোবাসে আমার বিশ্বাস তার ভালোবাসা দিয়ে সে মেহুকে নিজের করে নিবে।
"" রুপসাও সায় জানালো।
---------------------------
জানিস আমার পাপা আছে।
"" মায়রার কথায় তার সমবয়সী মেয়েটি বললো
কিন্তু তা কিভাবে সম্ভব।
"" দেখতে পাবি একদিন আমার পাপার সাথে দেখা করিয়ে দেবো তোকে।
এই কথাগুলো বলতে বলতে এগিয়ে আসছিলো গেটের দিকে।
তাদের স্কুল ছুটি হয়ছে।
"" কিউটিপাই,,,
এমন ডাকে মায়রার মুখে হাসি ফুটলো,,
আরে আংকে,,,না,না পাপা তুমি এখানে?
""প্রথমবারের মতো মায়রার মুখে পাপা ডাক শুনে থমকে গেলো ঋদ্ধ।
এই বাচ্চার আসল বাবা সে নয় তবুও কতো টান খুজে পায়। হয়তো তার মেহু পাখির অংশ বলেই এমনটা হয়।
কেন কিউটিপাই তুমি আমাকে দেখে খুশি হওনি।
অদুরে গাড়ির সাথে সাদা শার্ট কালো প্যান্ট পরিহিত চোখে কালো সানগ্লাস পরা দারিয়ে থাকা ঋদ্ধ।
মায়রা দৌড়ে গিয়ে ঋদ্ধ র কোলে চরে বসলো।
আমি অনেক খুশি হয়েছি পাপা।
ঋদ্ধ তাকিয়ে আছে মায়রার দিকে এ যেনো তার মেহুপাখিরই প্রতিচ্ছবি তাইতো এই ছোট বাচ্চাকে কাছে পেলেও তার মনে হয় মেহু তার সাথে আছে।
ততক্ষণে ঋদ্ধ মায়রাকে গাড়িতে বসিয়ে গাড়ি স্টার্ট করলো।
"" আমরা কথায় যাচ্ছি পাপা।
"" গেলেই দেখতে পাবে।
মায়রাও শান্ত বাচ্চার মতো তার পাপার কথা মেনে নিলো।
--------------------------
ম্যাম মায়রা স্কুলে নেই।
"" মেহরিন শান্ত গলায় বললো কোথায় সে।
"" ঋদ্ধ স্যার এর পিএ ছিলো স্কুলে উনি বললেন ঋদ্ধ স্যার নিয়ে গেছে।
মেহেরিন জানতো এমনটাই হবে সে কিভাবে ঋদ্ধ কে বোঝাবে।
""ম্যাম কি করবো।
"" গাড়ী বের করো আর কোথায় গেছে লোকেশন জেনে নাও।
ইয়েস ম্যাম।
"" পাপা,,, আমরা অনেক খেলবো ঠিক আছে।
"" হুম কিউটিপাই।
"" জানো পাপা আমার সব ফ্রেন্ড দের পাপা আছে তারা একসাথে খেলে।কিন্তু আমার তো পাপা ছিলো না।
তাই আমার সাথে কেউ খেলে না।
কথাগুলো বলার সময় মায়রা প্রায় কেঁদে দেওয়া অবস্থা।
"" কোন ব্যাপার না কিউটিপাই আমি পাপা এসে গেছি না এখন থেকে আমি তোমার সাথে খেলবো।
তোমাকে স্কুলে নিয়ে যাবো।
মায়রা খুশি হয়ে গেলো।
"" দুর থেকে সবটা অবলকন করছিলো মেহরিন।
সে জানে ঋদ্ধ তার মেয়েকে নিজের মেয়ের মতোই রাখবে বরঞ্চ তার থেকে বেশি ভালোবাসা দেবে কিন্তু নতুন সম্পর্কে যেতে তার ভয় হয় নতুন সম্পর্কে জরাতে।
"" মেহু পাখি।
ঋদ্ধর ডাকে হুস ফিরলো মেহরিনের। এগিয়ে এলো।
"" মাম্মা কে না বলেই চলে এসেছো।
সরি মাম্মা পাপা বললো তোমাকে বলে দেবে।
মেহেরিনের কপাল কুচকে এলো।
"" তুমি আংকেল কে পাপা কেনো বলছো। কপাল কুচকে বললো মেহরিন।
এতেি মায়রার ঠোঁট ফুলে উঠলো এখনি কান্না করে দেবে সে।
ঋদ্ধ তাকে আদর করে বললো মাম্মা মজা করছে কিউটিপাই।
"" তুমি আমার পাপা না।
ফুপিয়ে বললো মায়রা।
"" কে বলেছে আমি তোমার পাপা নই আমি তোমার পাপা সোনা।
স্টপ ক্রাইং ভালো বাচ্চারা কান্না করেনা কিউটিপাই।
অ্যানিকে ইশারা করলে অ্যানি মায়রাকে বুঝিয়ে তার সাথে নিয়ে গেলো।
এসব কি করছো ঋদ্ধ?
আমি তোমাকে বলেছি আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
"" কেন?
""প্লিজ ঋদ্ধ।
"" ঋদ্ধ আচমকায় মেহরিন এর অনেকটা কাছে চলে আসলো।
দু বাহু চেপে দেওয়ালের সাথে মিশিয়ে নিলো মেহরিনকে।
হিসহিসিয়ে বললো
আমাকে মানুষ মনে হয়না তোর এই যে জীবনের সাতটা বছর আমি তোর বিরহে কাটিয়ে দিলাম। ভেবেছিলাম তোকে কোনোদিন পাবোনা এভাবেই মরার মতোন বেচে থাকতে হবে আমায়।কিন্তু যখন তোকে পাওয়ার আশা আছে তখন তুই নিজেই শেই পথ কেন বন্ধ করছিস মেহুপাখি বল।
সবাই আমায় কষ্টে রাখতে চাস হ্যা।আমি শান্তিতে বাচি চাস না।
বলতে বলতে মেহরিনএর কপালের সাথে কপাল ঠেকালো।
আচমকা মেহরিন ফুপিয়ে উঠলো। তার পুরোনো ভালেবাসা যেনো জেগে উঠেছে যা সে নিজের মনে চাপা দিয়ে এসেছে।এতোকাল বুঝিয়ে এসেছে এই মানুষ টাকে সে ভালোবাসেনা।তাহসিন এর সাথে সংসার করতে করতে একসময় ভুলেও গেছিলো।তারপর মায়রা।কিন্তু এতো বছর পর আবার যেনো নিজেকে সামলানো দায় হয়ে পরছে।
ছারো আমাকে ঋদ্ধ কান্নামাখা গলায় বললো মেহরিন।
নাহ তোকে ছাড়ার জন্য ধরিনি আমি আমার তোকে চাই মেহুপাখি সাথে আমার কিউটিপাইকেও।আর তুই আমায় ভালোবাসিস যতোই নিজেকে লুকাতে চাস।
"" মেহরিন ফুপানো অবস্থাতেই বললো আমি বাসিনা আপনাকে ভালো প্লিজ ছারুন আমায়।
ভালোনা বাসলে কাদছো কেনো মেহু পাখি।হু।
ঋদ্ধর নিঃশ্বাস সরাসরি মেহরিন এর মুখে পরছে দুজন দুজনের এতোটাই কাছে আছে।
তারা রেস্টুরেন্টের ভিআইপি ক্যাবিনে আছে এই ক্যাবিনটা ঋদ্ধর জন্য সবসময় বুকড থাকে।
তাই কেউ তাদের দেখছে না।আর অ্যামেরিকাতে এসব সাধারণ ব্যাপার।
স্যার,,,আব সরি সরি।বলেই পিটার চলে গেলো।
এই শব্দে দুজনের ধ্যান ভাঙলো।
মেহরিন ছাড়িয়ে নিলো নিজেকে চোখমুখ মুছে বেড়িয়ে যেতে নিলে ঋদ্ধ বললো
কিউটিপাই আমার মেয়ে তাই ও আমায় পাপা বলে ডাকবে।তুমি ওকে বাধা দেবে না মেহু পাখি।
মেহরিন বেরিয়ে গেলো কিছু না বলে।
সে বেরিয়ে যেতেই পিটার ভেতরে এলো।
ঋদ্ধ বিরক্তি নিয়ে বললো
তোমার টাইমিং খুব খারাপ পিটার।
পিটার থতমত খেয়ে গেলো। স,,সরি স্যার মানে আমি।
হয়েছে চলো এবার।