ঋদ্ধ ফোনে গেম খেলছিলো হঠাৎ বাহিরে চোখ যেতেই দেখলো একটা বাচ্চা মেয়ে হাটছে।বৃষ্টির কারনে প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে ঠিকি বুঝলো এটা মায়রা তার কিউটিপাই।
ভয় পেয়ে গেলো ঋদ্ধ।
"" পিটার তাড়াতাড়ি গাড়ি থামাও।
বৃষ্টির মাঝে এমন অদ্ভুত কথা শুনে বিরক্ত হলো পিটার।এইতো তার স্যার বললো সে অনেক টায়ার্ড এখনি আবার কি হলো।
"" স্যার এই বৃষ্টির মাঝে গাড়ি কেন থামাবো।
"" তুমি গাড়ি থামাও ইডিয়ট।
থতমত খেয়ে গেলো পিটার এ কেমন ঝামেলা। গাড়ি থামিয়ে দিলো সে।
"" মায়রা ফুপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে।যতসম্ভব নিজের কান্না আটকাতে চাচ্ছে ছোট্ট মায়রা। বৃষ্টিতে বাচ্চা টা আরও ভয় পেয়ে গেছে।কিন্তু ফেরার পথটাও ভুলে গেছে সে।
ঋদ্ধ তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নেমে পরলো। কিউটিপাই?
""মায়রা ছোট্ট চঞ্চল পা দুটি থেমে গেলো।চেনা পরিচিত কন্ঠ শুনে ফিরে তাকালো। ঋদ্ধ কে দেখেই ঝাপিয়ে পরলো তার বুকে।
"" কি হয়েছে কিউটিপাই কাদছো কেনো?
আর এই বৃষ্টির মাঝে তুমি একা একা কোথায় যাচ্ছো কিউটিপাই?
"" মায়রা কোনো জবাব দিচ্ছে না।ছোট্ট শরীর টা ঠান্ডায় কাপছে।
ঋদ্ধ ভয় পেয়ে গেলো এসময় বৃষ্টিতে ভেজা মানেই জ্বর আসবে। সে দেরি না করে মায়রাকে গাড়ির ভেতর নিয়ে গেলো।
গাড়িতে বাচ্চাদের কাপড় না থাকলেও ঋদ্ধ র এক্সট্রা টিশার্ট ছিলো।ওটাই কোনোমতে মায়রার গায়ে জরিয়ে দিলো।তবে মায়রা ঋদ্ধ কে কোনোমতেই ছাড়ছে না।
""তুমি একা এসেছো কিউটিপাই?
"" মায়রা ফোপাঁতে ফোপাঁতে মাথা ঝুকালো।
"" ঋদ্ধ অবাক হলো এমন করে না বেবি তোমার মাম্মা পাপা চিন্তা করবে তো।
"" আমার পাপা নেই। আমি পাপা কেই খুজছি।
"" ঋদ্ধ মায়রার মুখে আবার একি কথা শুনে বললো কেন কিউটিপাই তোমার পাপা কোথায়।
"" মাম্মা বলেছে কাজে গেছে। কিন্তু পাপা কখনো আসেনি আমার কাছে তার এতো কি কাজ।
"" ঋদ্ধ ভাবলো হয়তো মায়রার বাবা কাজের জন্য দেশের বাহিরে থাকে।
"" তো তুমি কাদছো কেনো কিউটিপাই? পাপা নেই মাম্মা আছে তো।
মাম্মা সবসময় ব্যাস্ত থাকে আমার সাথে খেলে না একটুও।
আর,,আর,
"" রিশা বলেছে আমার মাম্মা নাকি মিথ্যা বলা ছে পাপা নেই আমার।
কিন্তু আমি জানি আমার মাম্মা কখনো মিথ্যা বলে না।
বলেই আবার ফোঁপাতে লাগলো।
"" ঋদ্ধ মায়রার চোখের পানি মুছিয়ে দিলো তাকে কোলে নিয়ে বোঝাতে লাগলো।
----------------------
"" অ্যানি তখন ও গাড়ি ড্রাইভ করছে আর জোরে জোরে শ্বাস ফেলছে রাগে।
"" মেহরিন মুচকি হেসে বললো আর কতো রাগবে মারলে তো
ঘুষি অ্যানি তোমার ঘুষিতে সিওর লোকটির নাক ফেটে গেছে।
এতো জোরে কেউ মারে।
"" আপনি এতো জোরে মারার কথা বলছেন ম্যাম আমি তো পারলে
ওই ব্যায়াদবটাকে মার্ডার করতাম।কতবড়ো সাহস ওর।
"" মেহরিন হাসলো।
পাঁচ বছর আগে প্রথম যখন সে অ্যামেরিকা এসেছিলো তখন থেকেই এই মেয়েটা তার সাথে আছে।অ্যানির মা বাবা দুজনেই অ্যামেরিকান তবে সে তার বাবা মায়ের কাছে বড়ো হয়নি,,সে মূলত বড়ো হয়েছে একজন বাংলাদেশির কাছে অ্যানি মেয়ে হওয়ায় তার বাবা তাকে ফেলে দিতে চেয়েছিলো একজন নিঃসন্তান বাংলাদেশি দম্পতি তখন তাকে এডপ্ট করে।
সেই সুত্রে সে বাংলা যানে।এখন তার বাবা মা কেউ বেঁচে নেই তাই মেহরিন তার সাথেই রেখেছে তাকে।মায়রার একমাস বয়স থেকে অ্যানি তার সবটা খেয়াল রেখেছে মেহেরিন ব্যাস্ত ছিলো তার পড়াশোনা নিয়ে।
আর অ্যানি একজন ক্যারাটে চ্যাম্পিওন।তাই এমন দু-চারজন কে এমনিতেই পিটিয়ে হসপিটাল এ পাঠাতে পারে।
মেহরিন এর ফোন এ কল আসলো
স্কুল থেকে কল আসা দেখে মেহরিন এর কপাল কুচকে গেলো।
"" কল তুলেই ওপাশ থেকে ভেসে আসলো
মিস মেহরিন মায়রাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
"" What,,আপনি এসব কি বলছেন,,
"" আসলে ম্যাম মায়রার সাথে ক্লাসের কোন বাচ্চার ঝামেলা হয়েছিল তাই মায়রা কাদতে কাদতে বেরিয়ে গেছে।
কি বলছেন এসব আমার মেয়ের কিছু হলে আপনাকে ছারবো না আমি।
"" কি হয়েছে ম্যাম?
"" অ্যানি মায়রাকে পাওয়া যাচ্ছে না তুমি তাড়াতাড়ি গাড়ি চালাও।
অ্যানি তাই করলো। স্কুলের ভেতরে চলে গেলো অ্যানি মেহরিন কাদছে আর তার মেয়েকে খুজছে।
--------------------------
আংকেল তুমি অনেক ভালো।
আংকেল এই আংকেল টা কে?এ সবসময় তোমার সাথে কেনো থাকে ওর কি কোন কাজ নেই।
"" পিটার ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।
আমি অনেক কাজ করি পিচ্চি।
"" মায়রা গম্ভীর গলায় বললো আমি পিচ্চি নই আমি মায়রা,,
"" হ্যা হ্যা,,
"" ঋদ্ধ মায়রার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে।আসলে কিউটিপাই ও কাজ করে আমিও করি। আমি তো ডক্টর।
"" ওহ তাহলে তুমি সবার হার্ট ফুটো করে দাও?
তুমি তো পচা,,
"" পিটার ফিক করে হেসে দিলো।
"" ঋদ্ধ চোখ গরম করে তাকালো।
কিউটিপাই ডক্টর তো মানুষের প্রান বাচায় তাইনা?
মায়রা মাথা ঝাকালো।
তাহলে ডক্টর পচা কিভাবে হয় ডক্টর তো ভালো।
মায়রা বিজ্ঞদের মতো বললো
হুম।
তুমি তো অনেক ভালো।
ঋদ্ধ মায়রাকে আবার হসপিটাল এ এনেছে। তারা হসপিটাল থেকে খুব একটা দুরে ছিলোনা।পিটার তো মায়রাকে দেখে বেশ অবাকই হয়েছিলো এইটুকুনি বাচ্চা মেয়ে একা একা বের হয়েছে ভাবা যায়।
ভাগ্য ভালো মায়রার তার মাম্মার নাম্বার মনে ছিলো তাইতো পিটার ফোন করে জানালো তাদের বাচ্চা এখানেই আছে।
তাদের কথার মাঝেই কেউ একজন মায়রাকে জরিয়ে ধরলো
"" মাম্মা এমন কেউ করে বলো। এভাবে না বলে কেনো তুমি চলে এসেছো।যদি হারিয়ে যেতে তখন মাম্মার কি হতো।
বলেই মেহরিন মেয়ের মাথায় মুখে আদর দিতে লাগলো।
"" মেহু পাখি,,,
"" দীর্ঘ আট বছর পর এই ডাক শুনে চমকে উঠলো মেহরিন।
মেয়ের পাশে বসা ব্যাক্তির দিকে তাকিয়ে অবাক হলো
"" ঋদ্ধ ভাই,,
"" কিউটিপাই তোমার মেয়ে মেহু পাখি?
""মেহরিন সায় জানালো।
ম্যাম পেয়েছেন বেবি কে।চলুন স্কুলে যেতে হবে।
হুম চলো।
"" আসছি। আর তোমাকে ধন্যবাদ।
"" আব,,আমি ওকে ঔষধ খাইয়ে দিয়েছি হয়তো আর জ্বর আসবে তাই,,
ওকে,, Thanks,,
বলেই মেহরিন মায়রাকে কোলে নিয়ে চলে গেলো।
"" ঋদ্ধ তখনও মলিন চোখে তাকিয়ে আছে মেহরিন এর যাওয়ার দিকে।
-------------------------
"" ম্যাম আপনি ওই লোকটাকে চিনেন?
"" হুম অনেক আগে থেকে।আনমনে বললো প্রায় ১১বছর ধরে তবে।
মেহেরিন মনে মনে ভাবলো খুব কি দরকার ছিল আমাদের আবার দেখা হওয়ার।যার জন্য একসময় মনের মাঝে সুপ্ত কিছু অনুভুতি জন্মেছিলো তা প্রকাশ করার আগেই শেষ করতে হয়েছিলো মেহেরিনকে।
"" ওই লোকটার সাথেই মায়রার সেদিন দেখা হয়েছিল।
"" ওহ।
মেহরিন এসেছে স্কুলে পাশে অ্যানি দারিয়ে আছে। সামনের ব্রেঞ্চ এ প্রিন্সিপাল মেম।
সাথে আছে রিসার মা।
"" আপনি আপনার মেয়েকে মানুষ করতে পারেন নি জার জন্য
আপনার মেয়ে আমার মেয়ের সাথে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করে।
"" মেহরিন হাসলো কিছু সময় শান্ত থেকে মুখ খুললো
আমি নাহয় আমার মেয়েকে মানুষ করতে পারিনি। কিন্তু আপনার
মেয়ে এসব কি বলে একটা ছোট বাচ্চার মন মানুষিকতা কতটা কুৎসিত
হলে তার প্রস্ট্রিটিউট শব্দ মাথায় আশে ডিভোর্সি শব্দ মাথায় আশে।
"" রিশার মা আমতা আমতা করে বললো আমার মেয়ে কখনো এই ধরনের কথা বলতে পারে না।
"" বিনিময়ে মেহরিন আবারো হাসলো
বেশ তো তাহলে ম্যাম
আপনি বরং ক্লাস রুমের সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে আসুন আমরা দেখি।
"" রিশার মা এবার ভরকে গেলো তার চোখমুখ শুকিয়ে উঠলো।
ম্যাম বললেন
দেখুন রিশার ব্যাবহার আমরা অনেকদিন খেয়াল করেছি তার ব্যাবহার আর পাঁচটা বাচ্চার ব্যাবহারের থেকে বেশ উগ্র।
রিশার মা এবার মুখ কালো করে বললো সরি ম্যাম।
মেহরিন এর দিকে তাকিয়ে বললো সরি মিস.মেহরিন।
একটা কথা মাথায় রাখবেন মেয়েটা ডিভোর্সি মানেই সে খারাপ এমন নয় কখনো কখনো বিপরীত পক্ষেরও
দোষ থাকে।তবে আপনাদের মতো কিছু নারীরা নারীদের ছোট করে তাদের মনোবলকে নষ্ট করে দেয়।তখন সেই মেয়েরা ভেঙে পরে।
আর দোষ আপনার বাচ্চার নয় আপনার মনে থাকা কুৎসিত চিন্তাভাবনার যা আপনি আপনার বাচ্চার ভেতর ঢুকিয়েছেন।
এবার প্রিন্সিপাল এর দিকে তাকিয়ে বললো আমি এমনিতে খুব শান্ত তবে কথা যখন আমার মেয়ের আশে তখন আমি সবথেকে বেশি কঠোর কথাটা মাথায় রাখবেন।
মেহরিন সেখান থেকে বেরিয়ে আসলো।
অ্যানি খুশি হলো তার ম্যাম আজ শক্ত গলায় কথা বলেছে।
মেহরিন মেয়েকে নিয়ে বেড়িয়ে আসলো।
মেয়ের মন খারাপ
দেখে বললো কি হয়েছে আমার মাম্মার তার মন খারাপ কেন?
"" মায়রা উদাস হয়ে জবাব দিলো মাম্মা তোমার জন্য আজ আমি ঋদ্ধ আংকেল কে বায় বলতে পারিনি।
"" মেহরিন অবাক হলো,,
আচ্ছা মাম্মা এরপর দেখা হলে আংকেলকে বায় বলে দিও।আর এবার বলতে না পারার জন্য সরি ও বলে দিও।
"" মায়রা খুশি হয়ে গেলো।
সে নানা রকম কথাবার্তা বলতে লাগলো জার বেশিরভাগ ই তার ঋদ্ধ
আংকেলকে নিয়ে।ঋদ্ধ আংকেল এটা বলেছে ওটা বলেছে এটা করেছে সে কতো ভালো।
মেহরিন মনোযোগ দিয়ে মেয়ের কথা শুনছে আর হতাশ হচ্ছে তার
মেয়েটা দুদিনে এমন ঋদ্ধ পাগল কেনো হয়ে গেলো এটা ভেবে।
-----------------------------
ঋদ্ধ আজ অনেকদিন পর গিটার নিয়ে বসেছে বেলকনিতে তাতে টুংটাং শব্দ তোলার চেষ্টা করছে,,,,
পিটার হতাশ হলো ঋদ্ধর গিটারের আওয়াজ পেয়ে।সে জানে তার স্যার কোনো একটা মেয়েকে ভালোবাসতো।
যার বিয়ে হয়ে গেছে মেয়েটা স্যারের এক তরফা ভালোবাসা ছিলো।
তবে সেটা কে তা পিটারের জানা নেই।কিন্তু তার কথা যখনি মনে পরে ঋদ্ধ গিটার নিয়ে বসে গান গায়,,,
এর মাঝেই ভেসে আসলো ঋদ্ধর ঘর থেকে
তুমি ছাড়া আজো একা এ মন,,
সপ্নে লাশ ঘড়
ভেঙে যাওয়া এই বুকের পাজর
ধু ধু মরু প্রান্তর,,
তবু প্রেম এসে ভালোবেসে
আজো দেখা দিয়ে যায়,,,