তোর মতো চরিত্রহীন মেয়ের সাথে আমি সংসার করবোনা।না যানি এতোদিন বাবার বাসায় থেকে কি কি করে বেরিয়েছিস।
তোর বংশের তো সমস্যা আছেই তুইও হয়তো তোর অন্যান্য বোনেদের মতো নষ্টামো করে বেরিয়েছিস।
নিজের স্বামীর মুখে এমন ঘৃন্য কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলো মেহরিন।
নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না সে।
সে বর্তমানে নয় মাসের উচু পেট নিয়ে বসে আছে নিজের বাবার বাড়ি তার নিজের রুমে।ল
ফোন হাতে নিয়ে বেলকনিতে চলে গেলো।
"" তুমি এসব কি বলছো তাহসিন তোমার মাথা ঠিক আছে তো?
কথাটা শান্ত গলায় বললো মেহরিন।
তারপর কিছুটা শক্ত গলায় বললো
তুমি ভুলে যেওনা কার সম্পর্কে কি বলছো তুমি!
"" তাহসিন মেহরিনের শক্ত গলা শুনে কিছুটা দমে গেলো।
পাশেই তার মা ও তার পরকিয়ার গার্লফ্রেন্ড তুলি বসে আছে।
"" আমার ডিভোর্স চাই মেহরিন তোমার মতো মেয়ের সাথে আমি সংসার
করতে চাই না।
আর এখন হয়তো ডিভোর্স পসিবল না তবে কিছুদিনের মাঝেই বাচ্চা হলে ডিভোর্স ফাইল করবো।
"" মেহরিন নিজের চোখটা বুজে নিলো।সে জানতো তাহসিন এই কথা বলতেই তার চরিত্রে আঙুল তুলেছে।
সে তো আগে থেকেই অবগত তার স্বামী তারই অফিসের কর্মচারীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত।
বিষয়টা সে তার ননদ ও শশুরের থেকে জানতে পেরেছে তার প্রেগ্ন্যাসির সাত মাস থেকে।
বিষয় টা নাহয় আমরা কোর্টে বুঝে নেবো তাহসিন আহমেদ।
কথাটা আপনার মা আর আপনার গার্লফ্রেন্ড ওহ সরি আপনার বিছানার সঙ্গী কে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিবেন।
কথাটা শুনেই তাহসিনের গলা শুকিয়ে আসলো।তার যে তুলির সাথে
সম্পর্ক আছে এটা মেহরিন কিভাবে জানলো সে ভেবে পাচ্ছে না।তার এখন
ভয় হচ্ছে মেহরিন এর বাবা ভাই অনেক পাওয়ারফুল তাদের এক সেকেন্ড লাগবেনা তাহসিনকে গুড়িয়ে দিতে।
তাহসিন ভিতু গলায় বললো তুমি এসব কি বলছো মেহরিন। আমার তুলির সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।
"" মেহরিন একটু হাসলো।
সেটা নাহয় আমরা কোর্টে বুঝে নেবো আপাতত রাখছি তাহসিন আহমেদ।
তাহসিনকে আর কিছু বলতে না দিয়েই ফোনটা রেখে দিলো মেহরিন।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফিছনে ঘুরতেই দেখতে পেলো ভাবির ছলছল করে তাকিয়ে থাকা মুখটা।
তা দেখে মলিন হাসলো মেহরিন।
"" তাহসিন ফোন নামাতেই একটা ঢোক গিলে মায়ের দিকে তাকালো।
এবার কি হবে মা।মেহরিন যদি লিগ্যাল একশান নেয় বা তার
বাবার পাওয়ার ইউস করে তাহলে আমরা শেষ হয়ে যাবে।
"" কিন্তু এসব জানলো কিভাবে মেহরিন বললো তুলি।
হঠাৎ আধবয়সী এক পুরুষের হাসির শব্দে তিনজন ঘুরে তাকালো।
দেখলো তাহসিনের বাবা আর বোন দাড়িয়ে আছে।
তাহসিনের মা চোখ বড়ো বড়ো করে বললো তারমানে তুমি সবটা জানিয়েছো।
তুমি কিভাবে পারলে এমনটা করতে।
তুলি বলে উঠলো আংকেল আপনি নিজের ছেলের এতবড় ক্ষতি কিভাবে করতে পারলেন।
এই মেয়ে একদম চুপ তোমার মতো নষ্ট মেয়ে যে অন্যের সংসার নষ্ট
করে তাদের সাথে কথা বলতে রুচিতে বাধে আমার। তাই আমার সাথে কোনো কথা বলবে না তুমি।
তুলি মাথাটা নিচু করে নিলো।
তাহসিন ও বাবার মুখের ওপর কোনো কথা বলে না।
তবে তার মা ফুসে উঠে বললো তাহসিনের বাবা আপনি এসব কি বলছেন কিছুদিন পর মেয়েটা এই বাড়ির বউ হবে।
তুমি চুপ করো ইচ্ছে তো করছে আমি তোমাকে তালাক দেই।
তবে আমি তা করবো না কারন আমার মেয়ে।
তবে তোমাদের মতো নিচু মানুষিকতার মানুষের সাথে এক বাসায় আমি থাকবো না আমি চললাম আমার মেয়ের সাথে।
"" বাবা এসব কি বলছো তুমি।
"" চুপ করো ব্যায়াদব চরিত্রহিন ছেলে যার কিনা বউ বাসায় অন্তঃসত্ত্বা অথচ অন্য নারীর সাথে নষ্টামো করতে ভুলে না।
তাহসিন সাথে সাথে মাথা নিচু করে নিলো।
তাহসিনের বাবা আর বোন বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো।
মা বাবাকে আটকাও।
চুপ কর তো এটা ভাব যে মেহরিন কে কিভাবে আটকাবি।আর তোর বাবা দুদিন পর ঠিকি চলে আসবে।
তাহসিন আর কিছু না বলে নিজের রুমে চলে গেলো।তুলিও বেড়িয়ে গেলো নিজের এপার্টমেন্ট এ।
----------------------
মেহরিন মির্জা যার বিয়ে হয়েছিল তাহসিন আহমেদ এর সাথে
বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছিলো।মেহরিন চায়নি তখন বিয়েটা করতে কারন সে তখন পড়াশোনায় ব্যাস্ত ছিলো।
তার জন্মের সময় মা মারা যাওয়ায় বাবা আর ভাইয়ের চোখের মনি হয়ে
বড়ো হয়েছে সে।
তাই বাবা ভাই যখন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয় তখন সে বিয়েটা করতে না চাইলেও বাধাও দেয়নি তেমন।
তার বিয়ের তিন বছর হয়েছে।তাহসিন মানুষ হিসেবে খারাপ ছিলো না৷ কখনো মেহরিনের সাথে খারাপ ব্যাবহার করেনি।
আর তার বাবা আর বোন তো মেহরিনকে চোখে হারাতো। তাই হয়তো
তার ছেলে ঠকাচ্ছে মেহরিনকে এটা আগেই জানিয়ে দিয়েছে।
মেহরিনের সংসারে কেউ যদি তাকে অপছন্দ করতো সে হলো তাহসিনের মা।
তবে অপছন্দ করলেও মুখ খুলতে পারেনি কখনো তার কারন হলো মেহরিনের বাবা ভাইয়ের পাওয়ার।
বিয়ের তিন বছর তাহসিনের সাথে তার সম্পর্ক খুবি ভালো ছিলো। সে যখন প্রেগন্যান্ট হয় তখনো তাহসিন অনেক খুশি ছিলো তবে মেহরিনের প্রেগ্ন্যাসির সাত মাস যখন চলমান তখন থেকেই তাহসিনের ব্যাবহার বদলে যেতে থাকে।
প্র্যেগন্যান্সির কারনে মেহরিনের খুব মুড সুয়িং হতো এতে তাহসিন বিরক্ত হতো কিছুটা।
নেহরিনের বাচ্চা জন্মের এক মাস আগে মেহরিনে ভাবি ভাই মিলে
ঠিক করে তাকে তাদের বাসায় নিয়াসবে। সেসময় ও তাহসিন যাওয়ার অনুমতি দেয়।এইতো পনেরো দিন হলো সে বাবার বাড়ি।
এতোগুলো দিন মেহেরিন তাহসিন কে কিছু বলেনি কারন সে চাইতো তাহসিন নিজে সবটা জানাক অবশেষে সেইদিন চলে আসলো।
মেহরিন কখনো তার স্বামীর পরকীয়ার বিষয় টের পায়নি তবে তার শশুর আর ননদ নিজে এসে তাকে সবটা জানিয়েছে।
এভাবে কেটে গেলো বেশ কিছু দিন মেহেরিনের ডেলিভারির ডেট চলে আসলো।
বাচ্চা জন্মের পর তার শশুর তার সামনে
মাথা নিচু করে সবটা জানিয়েছিলো তার ননদ তাকে জরিয়ে ধরে
কেঁদেছিল। তবে সবটাতে মেহরিন ছিলো শান্ত নদীর মতো।কোনো রিয়াক্ট করেনি সে।
তাহসিন তাকে দেখতে আসলেও মেহেরিন নিজের মেয়ের মুখটাও দেখতে দেয়নি তাকে।এতে তাহসিন কোনো ঝামেলা ও করেনি অবস্য।
-----------------------
মেহরিন নিজের দশ দিন বয়সী মেয়েকে ঘুম পারাচ্ছে।
মেয়েটা হয়েছে তার খুবই মিষ্টি তার নাম রেখেছে মায়রা।
মায়রা ঘুমিয়ে গেলে মেহরিন তার কানে কানে বললো
তুমি মায়ের শক্তি বাচ্চা। তুমি থাকলে তোমার মা কখনো ভেঙে পরবে না।
বলে একটা চুমু আকলো তার ছোট্ট মেয়ের কপালে।
দরজার দিকে তাকালে দেখলো ভাই ভাবি বাবা তিন জনেই দারিয়ে আছে।
তা দেখে কনো শব্দ ছাড়া মেহরিন মেয়ের পাশ থেকে উঠে এলো।
মেহরিন ড্রইং রুম এ আসলে তার বাবার কোলে মাথা রেখে সোফায় শুয়ে পরলো।
মৈনাক মির্জা বোনের দিকে তাকিয়ে বললো বোন তুই শুধু বল ওই রাস্কেল টার কি শাস্তি চাস তুই?
ওকে যাস্ট মাটির সাথে মিশিয়ে দেবো।
"" মিহির মির্জা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি তার আদরের মেয়েকে বড়ো শখ করে বিয়ে দিয়েছিলেন।মেয়ে
যখন একবার বারন করেছিলো তিনি গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন ছেলেটা খুবি ভদ্র মা তুই সুখী হবি।
কই তার মেয়েটাতো সুখি হলোনা।
বাবা-ভাই আমি শুধু চাই আমার মেয়ে আমার সাথে থাকুক তাকে নিয়েই আমার #বিবশ_হৃদয়ে_বসন্তের_আগমন হয়ে ফুটেছে ও আমার জীবনের সব বসন্ত ও নিয়ে আসবে ওকে সাথে নিয়ে কাটিয়ে দেবো একটা পুরো জীবন।
"" ওর কোম্পানি,,,
কথাটা সম্পুর্ন না করতে দিয়েই মেহরিন বললো না ভাইয়া ওই
কম্পানি আমার শশুর মানে তাহসিনের বাবার তিলে তিলে গড়ে তোলা সম্পদ।
তিনি আমাকে এই তিনটা বছর আগলে রেখেছেন। তাই আমি চাইনা এই কোম্পানির কিছু হোক।
মৈনাক মির্জার চোখ ভোরে উঠলো।
তার বোনটা এতো ভালো কেনো?একটু খারাপ আর কঠর হলে হয়তো তার সংসারটা ভাঙতো না।
কিছুক্ষণ পর মেহরিনের ভাবি রুপসা মির্জা মেহরিনের জন্য খাবার নিয়াসলো।
"" উঠোতো মেহরিন খাবারটা খেয়ে নাও?
"" ইচ্ছে করছে না ভাবি।
"" তা বললে কি হবে তুমি বরং বাবার কোলে শুয়ে থাকো আমি তোমাকে
খাইয়ে দিচ্ছি। না খেলে মায়রা বেবি তো অসুস্থ হয়ে যাবে মেহরিন।
মেহরিন মাথা নাড়ালে রুপসা তাকে খাইয়ে দিলো।
রুপসার বয়স বেশি হবে না মেহরিনের থেকে হয়তো তিন বছরের বড়ো হবে।
মেয়েটা মেহরিনকে ভিষণ ভালোবাসে।
মিহির মির্জা সবটা দেখে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন।তবে এই ভেবে
খুশি হলেন যে তার মেয়েটা একা নয়। তিনি না থাকলেও তার মেয়েটাকে সামলানোর আরো অনেকে আছেন।
মিহিট আর মৈনাক মির্জা জানালেন তারা উকিলের সাথে কথা বলে রাখবেন।
দুদিন পরেই হয়তো কোর্টের হেয়ারিং।
মেহরিন সায় জানিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।
রুপসা সপদিকে তাকিয়ে বললো আপনাদের কতো করে বারন করেছিলাম বিয়ে না দিতে।মেহরিনের ইচ্ছে ছিলো
বিজনেস ওয়েমেন হওয়ার বাহিরের দেশে গিয়ে নিজের স্টাডি শেষ করার বাড়ির বিজনেস এ হাত লাগানো।
বলে সে নিজের রুমে চলে গেলো।
মৈনাক ও নিজের স্ত্রীর পেছন পেছন চলে আসলো রুমে।
স্ত্রীকে আয়নার সামনে দারিয়ে নিজের চুল বাধতে দেখে মৈনাক তাকে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো।
এতে রুপসা কিছুটা কেঁপে উঠল।
"" মেহরিনকে কিভাবে সামলাবো বলুন তো মেয়েটা এতো শান্ত কেনো?মনের কথা মুখে কেনো আনেনা?আমাকে তো অন্তত বলতে পারে।
মৈনাক রুপসার ঘারে নাক ঘসে বললো ও এমনি বউ ছোট থেকেই খুব শান্ত। তুমি চিন্তা করোনা ও একদম ঠিক আছে আমি জানি।
"" রুপসা সায় জানালো।