বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন

পর্ব - ৫

🟢

মায়রা রুমের বিছানায় বসে ড্রইং করছিলো তার খাতায়।

পাসেই মেহরিন ল্যাপটপে তার অফিসের কাজ করছে।হঠাৎ মায়রা প্রশ্ন করলো,,

ঋদ্ধ র ওখান থেকে ফেরার পর কিছুক্ষণ এর মধ্যে মায়রার গায়ে ধুম জ্বর আরলেও তার স্থায়িত্ব কিছু সময় ছিলো কারনটা অবস্য ঋদ্ধ র দেওয়া ঔষধ।

মাম্মা,,

"" মেহরিন ল্যাপটপে চোখ রেখেই বললো,,

জী মাম্মা বলুন,,

"" আমি কাল ঋদ্ধ আংকেলের সাথে দেখা করবো।

মেহরিন এর কপাল কুচকে গেলো।

"" কিন্তু আমার কাছে তো ঋদ্ধ আংকেলের সাথে যোগাযোগ করার কিছু নেই।

আচ্ছা কাল আমি আবার ওই পার্কে যাবো তাহলেই আংকেলের সাথে দেখা হবে আমার উচ্ছসিত কন্ঠে বললো মায়রা।

"" একদম না মায়রা তুমি দিনে দিনে পচা হয়ে যাচ্ছো।না বলেই যেখানে সেখানে চলে যাও।

"" হঠাৎই মায়রা মলিন কন্ঠে বলে উঠলো আমার পাপা সত্যি নেই তাইনা মাম্মা?কিন্তু আংকেল আমার পাপা হলে বেশ ভালো হতো।আংকেল তো আমায় পাপার মতোই আদর করে।

"" মেহরিন তাকালো মেয়ের দিকে মেয়ের চোখ তখন ছলছল করছে।

তা দেখে মেহরিন এর বুকটা খামচে ধরলো কেউ এমন মনে হলো।

"" জানো মাম্মা আমার স্কুলের সবাই তার তার পাপার সাথে স্কুলে আসে।

তাদের পাপারা তাদের কতো আদর করে কতো যায়গায় ঘুরতে যায়,কতোকিছু কিনে দেয়।

বলেই ঠোট ভেঙে কেদে উঠলো মায়রা।

"" মেহরিন এর চোখ ছলছল করে উঠলো

সে মেয়েকে নিজের কোলে বসিয়ে নিলো তার মাথায় চুমু দিয়ে বললো।

"" আমি কি তোমায় ভালোবাসিনা মাম্মা?

"" মায়রা মাথা ঝাকালো।

"" তাহলে কেন তুমি পাপার কথা বলো।

তুমি আর এসব বলবে না

এসব শুনলে তোমার মাম্মা হার্ট হয় তুমি কি চাও মাম্মা কষ্ট পাক।

""মায়রা মেহরিন এর গলা জোরিয়ে ধরলো বলে উঠলো

মায়রা তো তার মাম্মা কে অনেক ভালোবাসে সে কখনো নিজের মাম্মা

কে কষ্ট দিবে না।

তুমি কষ্ট পেয়ো না মাম্মা আমি আর কখনো পাপার কথা বলবো না কখনো পাপাকে চাইবো না।

"" মায়রা কান্না থামিয়ে কথাগুলো বললেও তখনো সে ফোপাচ্ছে।

মেহরিন বোঝে নিজের মেয়ের কষ্ট যখন মায়রার আশেপাশে কোন

বাবা তার বাচ্চাকে আদর করে মায়রা সেদিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকে।

তার চোখ ভোরে উঠে।

কিন্তু মেহরিন ও যে নিরুপায় সে কি করে মায়রার কষ্ট কমাবে।

তাছাড়া সে ও তো জীবনে কম কষ্ট পায় নি মানুষের কম কথা সহ্য করেনি সে ডিভোর্সি বলে তবুও নিজের মনোবল শক্ত রেখে কারো কথায় কান না দিয়ে চলেছে সে।

কিন্তু তার মেয়েটাতো ছোট এতো ছোট বাচ্চা কিভাবে এসব সহ্য করবে।

আচ্ছা মাম্মা এখন চলো তোমাকে খেয়ে ঘুমাতে হবে তো কাল সকালে স্কুল আছে তোমার।

বলে মায়রার খাবার নিয়াসলো মেহরিন তাকে নিজ হাতে খাওয়াতে লাগলো।

সে নিজের মেয়েকে অতটা সময় দিতে পারেনা সবসময় অ্যানি সামলায় মায়রাকে রাতটুকু সে মেয়ের সব ইচ্ছে পূরণ করে তার যত্ন নেয়।

মায়রাকে খাইয়ে শুইয়ে দিলো মেহরিন নিজেও মেয়ের পাশে শুয়ে পরলো।

হঠাৎ করেই তার ঋদ্ধর কথা মনে পরলো।

ঋদ্ধ ছিল মৈনাক এর বন্ধু।

মেহরিন এর যখন ১৮বছর বয়স তখন মেহরিন এর জন্মদিন এ মৈনাক তার বন্ধুদের ইনভাইট করেছিলো।

তারপর থেকেই হঠাৎ করেই ঋদ্ধ বেশি বেশি যাওয়া আশা শুরু করে তাদের বাসায়।

মৈনাক তো বলতো

যেই ছেলের হাত-পা বেঁধে নিয়ে আসা যেতো না আমার বাসায় সেই ছেলে

এখন নিজে থেকেই আশে আমার বাসায় ব্যাপারটা কি?

ঋদ্ধ কিছু না বলে শুধু মেহরিন এর দিকে তাকাতো একবার।

পরে অবশ্য মেহরিন জেনেছিলো ঋদ্ধ তাকে ভালোবাসে।

ঋদ্ধ কম পাগলামি করে নি তাকে পাওয়ার জন্য।

কিশোরী মেহরিন এর প্রথম ভালেলাগা টা ঋদ্ধর ওপরেই ছিলো।

তবে বাবাকে প্রচন্ড ভালেবাসা আর ভাইকে ভালোবাসায় সে ঋদ্ধ কে ফিরিয়ে দিয়েছিলো।

এসব ভেবেই হতাশ শ্বাস ফেললো মেহরিন। সে ঋদ্ধ কে ভালেবাসতো

কিনা জানেনা তবে তার প্রতি ভালোলাগা ছিলো।তবে আজ তাকে দেখে মেহরিন এর তেমন কিছু মনে হয় নি।

মেহরিন নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসলো ভাবলো এতোদিন এ হয়তো ঋদ্ধ বিয়ে করে ফেলেছে।

এসব ভাবতে ভাবতেই এক সময় তলিয়ে গেলো ঘুমের রাজ্যে।

-----------------------

সকাল হতেই ঋদ্ধ কে দেখে থমকে গেলো পিটার।

সারারাত না ঘুমানোর কারনে চোখ গুলো লাল হয়ে গেছে।

ফর্সা মুখে চোখের নিচে কিছুটা কালো দাগ পরেছে।

"" কি হলো এমন করে তাকিয়ে আছো কেন?

"" আব,,না,,না স্যার তেমন কিছু না।

স্যার আসলে একটা কথা বলার ছিলো।

"" বলো?

"" আপনার বাবা মানে আংকেল ফোন করেছিলেন।

"" ঋদ্ধর কপাল কুচকে গেলো।

কেনো ফোন করেছেন তিনি তার এখানকার মিটিং তো করে দিয়েছি আমি তারপরও কি চান উনি।

"" আসোলে স্যার উনি চান আপনি ওনার কম্পানির দায়িত্ব নেন।

বিজ্ঞাপন

আর ডক্টরি ছেড়ে দেন।

"" আর উনি ভাবলেন কিভাবে যে ওনার এই কথা আমি মেনে নিবো।

শুধু ওই লোকটার জন্য আমি আমার ভালোবাসা হারিয়ে ফেলেছি।

"" পিটার হতাশ হলো কবে যে বাপ ছেলের এই জাংক শেষ হবে।

নাহলে দুপাশ থেকে সে পিশে যাবে কোন একদিন। উফ তার হয়েছে যতো জালা।

ঋদ্ধ তার বাবার কোম্পানিতে অ্যামেরিকায় কোন মিটিং থাকলে তখনি শুধু অ্যাটেন্ড করে নাহলে সে অফিস এর কোন

খবর রাখেনা।নিজের ডক্টরি নিয়েই কিছুটা ব্যাস্ত থাকে। তাও মাঝে মাঝে সেটাও বন্ধ করে দেয়

নিজের বাবার আর নিজের আন্ডারওয়ার্ল্ড এর পাওয়ার এর কারনে তার লাইসেন্স ও কাটার ও কারো সাদ্ধ নেই।

আর এই বাপ ছেলের একটা স্পেসালিটি হলো বিশেষ করে আংকেলের

তার ছেলে তার সাথে যতই কথা না বলুক সে নিজের ছেলেকে দুর থেকেই প্রটেকশন দেয়।

যা ঋদ্ধ জানেনা।আবার জানতেও পারে ওই বাপেরই তো ছেলে দুইটাই একেকটা জিনিস।

ভেবেই পিটার দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

তারপর বেড়িয়ে পরলো ঋদ্ধর সাথে আপাতত সে হসপিটাল যাবে গুরুত্বপূর্ণ একটা অপারেশন রয়েছে তার।

------------------

অ্যানি আজ স্কুল থেকে ফিরে তুমি প্লিজ মায়রাকে নিয়ে তার চেকআপ

গুলো করিয়ে নিবে আর প্রয়োজন হলে ডক্টর চেঞ্জ করাও আমি আমার মেয়েকে সুস্থ দেখতে চাই।

"" ইয়েস ম্যাম।

অ্যানি আন্টি আমরা কোথায় যাচ্ছি?

অ্যানি ড্রাইভ করতে করতেই উত্তর দিলো আমরা হসপিটাল যাচ্ছি বেবি তোমার চেক-আপ এর জন্য।

সাথে সাথে মায়রা নাকমুখ কুঁচকে নিলো

"" না আন্টি আমি যাবো না। আমার ভালোলাগে না ওখানে যেতে।

"" অ্যানি হাসলো মায়রা ছোটবেলা থেকে হসপিটাল সহ্য করতে পারেনা তার সেকি কান্না শুরু হয়ে যায়।

"" আমরা বেশি সময় থাকবো না বেবি জাস্ট তোমার জন্য কিছু চেকআপ করাবো।

তোমার কিছুদিন হলো বুকে ব্যাথা করছে তুমি তো বলেছিলে তারজন্য।

"" মায়রা ভোতা মুখ করে সায় জানালো।

-----------------

দেখুন ডক্টর আপনি মায়রাকে কবে থেকে মেডিসিন দিয়েই যাচ্ছেন

তবে তার কোন উন্নতি দেখছিনা আমি।তাই আপনার কাছে আর মায়রাকে দেখাতে চান না ম্যাম।

সামনের ডক্টরটি বেশ অবাক হলো তবে এতে অ্যানির কোন ভাবাবেগ দেখা গেলো না সে বেড়িয়ে আসলো ক্যাবিন থেকে।

হাটতে হাটতেই হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে গেলো অ্যানি।

"" উফ মাগো কে এমন খাম্বার মতো ধাক্কা দিলো আমায়,,

"" আপনি?

"" আরে মিস কানি আপনি আবার পরে গেছেন উঠুন উঠুন বলেই ধরে তুললো অ্যানিকে।

"" আপনি আবার আমায় কানা বললেন,,

"" মায়রা সামনে তাকাতেই তার মুখে হাসি ফুটলো

সে এক দৌড়ে সামনের ক্যাবিনে ঢুকে পরলো

"" আংকেল,,,

"" ঋদ্ধ সবে অপারেশন শেষ করে সবে ফ্রেশ হয়ে বের হলো।মায়রার ডাক শুনে সে অবাক হয়ে তাকালো।

কিউটিপাই তুমি এখানে?

বলে সে মায়রাকে কোলে তুলে নিলো।

"" আংকেল আমি ডক্টর দেখাতে এসেছি।

"" কপাল কুচকে গেলো ঋদ্ধর

কেন কিউটিপাই কি হয়েছে তোমার?

""মায়রা ঠোঁট উল্টে বললো

জানিনা তো আংকেল শুধু বুকে ব্যাথা করে।ঋদ্ধর গোটানো কপাল আরো খানিকটা গুটিয়ে গেলো।

তুমি এখানে কার সাথে এসেছো।

"" মায়রা হাত দিয়ে দেখিয়ে দিলো অ্যনি আন্টি আবার ঝগড়া করছে পিটার আংকেল এর সাথে।

ঋদ্ধ তাকালো সেদিকে একবার।

ফোস করে দম ছারলো।

তার হঠাৎই একটা কথা মনে পরলো।

"" আচ্ছা কিউটিপাই তোমার পাপা কোথায়?

"" সাথে সাথে মায়রার মুখ কালো হয়ে গেলো।

"" নেই।আমি আর কখনো পাপার কথা বলবো না তাহলে মাম্মা কষ্ট পাবে।

"" ঋদ্ধ অবাক হলো,,

কেন মেহরিন কষ্ট পাবে।

কিউটিপাই তোমার পাপা কোথায় থাকে তুমি তাকে দেখোনি।

"" মায়রা না জানালো।

অ্যানি ঝগড়ার মাঝে হঠাৎ খেয়াল হলো মায়রা নেই তার আত্মা কেপে উঠলো দুরে তাকাতেই দেখলো ঋদ্ধর কোলে মায়রা সে শান্তির শ্বাস নিলো।

"" দেখে রাখতে পারেন না মায়রা কে।

অ্যানি কিছু না বলে মায়রাকে কোলে তুলে নিলো। আমি তো দেখলাম আপনি কোলে নিয়ে আছেন।

বলে হনহন করে চলে গেলো।

"" ঋদ্ধ পিটারের দিকে চোখ ছোট ছোট করে বললো তুমি কবে থেকে এতো ঝগরুটে হলে।

"" স্যার আমার কোন দোষ নেই।

"" আচ্ছা মেহরিন এর সব ডিটেইলস চাই আমার আজকের ভেতরেই।

বলে সে হনহন করে চলে গেলো।

"" পিটার অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো সেদিকে।

বিজ্ঞাপন
বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক উপন্যাস