বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন

পর্ব - ৮

🟢

ওপর পাশের ব্যাক্তিটি হয়তো চমকে উঠলো কথাটি শুনে।

"" কি ব্যাপার আমার প্রিয় বন্ধু নামক শত্রু কি আমায় চিনতে পারছে না।

"" ঋ,,ঋ,,ঋদ্ধ,,

"" হ্যা,,

গম্ভীর গলায় বললো ঋদ্ধ,,

"" তুই এটা সত্যি আমার তো বিশ্বাস ই হচ্ছে না যে তুই আমায় কল করেছিস।

কেমন আছিস ভাই,,

"" হা,,হাহাহাহা,, হাহাহোহো,,

পিটার বিরক্ত হলো এ আবার কেমন হাসি তার স্যার কার সাথে কথা বলছে।

"" মি.মৈনাক মির্জা,,, আমার জীবনে পাওয়া সেরা শত্রু এবারেও আমার সাথে শত্রুতা করলি।

"" ম,,মানে তুই কি বলছিস ঋদ্ধ।

আমি কেন তোর সাথে কিছু করতে যাবো।

"" নাটক করিস তুই আমার সাথে

তুই জানতি আমি তোর

বোন কে ভালোবাসি তারপরও তুই তাকে অন্য যায়গায় বিয়ে দিয়েছিস।

"" মৈনাক মিনমিন করে বললো আমি কি করতাম তখন আমি

জানার আগেই তো বাবা মেহরিন এর বিয়ের কথা দিয়ে চলে এসেছিলো।

আর বাবা এক কথার মানুষ ছিলো তুই তা জানিস।

"" তুই চুপ কর তুই তখন তো শত্রুতা করেছিসই এখনো করলি।

"" মৈনাক হতবাক হলো সে আবার কি করলো।ঋদ্ধর সাথে তো

মেহরিন এর বিয়ের পর থেকে তার কোনো যোগাযোগ ই হয়নি।ঋদ্ধ সেই যায়গাটাই রাখেনি।

অতীত,,,

আমি তোর বোনকে ভালোবাসি মৈনাক।

সাথে সাথে মৈনাকের মুখে থাকা সব পানি মাটিতে পড়ে গেলো।বিষম খেলো সে। তাও যে সে বিষম নয় চোখমুখ পুরো লাল হয়ে গেছে তার।

তার অন্যসব বন্ধুরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছিলো তবে ঋদ্ধ তখনো স্থীর দারিয়ে আছে।সে যে এতো বড়ো

একটা কথা বলেছে তাতে যে মৈনাক এর জান যায় যায় অবস্থা সেটা বুঝছে না।

"" তুই এসব কি বলছিস ঋদ্ধ,,,

"" কি বললাম আমি শুধু বলেছি আমি তোর বোনকে ভালোবাসি।

"" মে,,মেহরিন ও তোকে ভালোবাসে,,?

"" না।

"" মৈনাক সস্তির শ্বাস ফেললো। সে যানতো তার বোন এমন টা কখনোই করবে না।

"" দেখ ঋদ্ধ তোর সাথে মেহরিন এর বিয়েটা,,,

হঠাৎই ঋদ্ধ র ফোনে কল আসায় সে তার কথাটা শেষ করতে পারলো না।

ঋদ্ধ হন্তদন্ত হয়ে এসে বললো আজ আমায় অ্যামেরিকা যেতে হবে রাতের ফ্লাইট এ।

সে দিন মৈনাক বলতে চেয়েছিলো যে মেহরিন এর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু সে বলতে পারেনি।

পরে যখন ঋদ্ধ জানতে পারে মেহরিন এর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে তখন শুধু একটা কথায় বলেছিলো।

তুই আমার প্রানের বন্ধু হয়ে প্রানের শত্রুর মতো কাজ করলি।

আমার বেচে থাকার কারনটাকেই কেরে নিলি আমার থেকে।

এরপর আর কখনো মৈনাক চেয়েও ঋদ্ধর সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি।

সবটা ভেবে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো মৈনাক।

কিন্তু এখন সে করলো টা কি।

সে অনেক খুশি হয়েছে যে ঋদ্ধ তাকে কল করেছে।

"" তুই আমায় কেন বলিসনাই মেহরিন এর ডিভোর্স এর কথাটা।

তুই জানিস না ওকে ভালোবাসি আমি।

এই তোর এতো কিসের শত্রুতা আমার সাথে বলতো তুই কেন চাসনা আমি একটু ভালো থাকি।

নিজে তো নিজের ভালেবাসার মানুষকে নিয়ে ঠিকি সংসার করছিস

তবে আমার বেলায় কেন তোরা সার্থপর হয়ে যাস বলতো।

"" মৈনাক অবাক হলো,,

ঋদ্ধ কি এতোটাই ভালোবাসতো তার বোনটাকে। সে যদি তাহসিন

এর সাথে বিয়েটা না দিয়ে ঋদ্ধর সাথে দিতো তবে হয়তো তার বোনটার গায়ে ডিভোর্স এর তকমাটা লাগতো না।

যে ছেলেটা আজো তার বোনের বিরহে পুরে।সে তো ভেবেছিলো এতোদিনে ঋদ্ধর একটা সংসার হয়ছে।

তবে ঋদ্ধ কি এটা জানেনা যে মেহরিন এর একটা মেয়ে আছে।

"" ঋদ্ধ তুই ভুল বুঝছিস মেহরিন এর একটা মেয়ে,,

"" হ্যা তার একটা কিউটিপাই আছে তাতে কি হলো একটা মেয়ে আছে বলেকি তার প্রতি আমার ভালেবাসা শেষ হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আর একটা কতা মাথায় রাখিস তুি যতোই চেষ্টা করিস কিউটিপাই এর বাবা আমি হবো আর মেহুপাখির হাসবেন্ড ও।

"" কিন্তু,, ঋদ্ধ,,

পি,পি,পি

যাহ কেটে দিলো।

কে ফোন করেছিলো গো মৈনাক।

মৈনাক রুপসাকে নিজের কোলে বসিয়ে তার বুকে মুখ গুজে দিলো।

রুপসাও নিজের স্বামীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

"" তোমার ঋদ্ধ র কথা মনে আছে রুপ।

রুপসা উচ্ছসিত গলায় বললো তো ঋদ্ধ ভাইয়ার কথা আমার মনে থাকবে না এটা তুমি কি বললা।

তার জন্যই তো আজ আমি তোমার বউ।

কিন্তু আজ হঠাৎ ঋদ্ধ ভাইয়ার কথা বলছো যে।

অনেক বছর পর শুনলাম।

"" মৈনাক আরেকটু শক্ত করে জরিয়ে ধরলো রুপ কে তার বুকে নাক ঘষে বললো সে মেহু কে ভালোবাসতো।

"" রুপসা অবাক হলো।

কবে থেকে?

"" মেহুর বিয়ের আগে থেকে।

রুপসা মন খারাপ করে বললো তবে তাকে অন্যকোথাও কেন বিয়ে দিয়েছিলে?

"" আমি জানার আগেই মেহুর বিয়ে ঠিক করেছিলো বাবা।

আর বাবাকে তো তুই চিনিস কথা দিয়ে সে কখনোই কথা ভঙ্গ করতো না।

"" হুম।

রুপের মন খারাপ হলো খুব।এই ঋদ্ধ ভাই তার মৈনাক কে পাইয়ে দিয়ে ছে।

আর সে নিজেই নিজের ভালোবাসা পায়নি।

"" এর মাঝেই মৈনাক রুপ এর ঠোট আকরে ধরলো।

স্ত্রীর প্রতি নিজের উন্মাদ অনুভতি ভালেবাসা ঢালতে শুরু করলো।

"" রুপসা প্রথমে হকচকিয়ে গেলেও পরে স্বামীর সাথে রেসপন্স করতে শুরু করলো।

মৈনাক অনেকটা সময় নিয়ে ঠোঁট ছারলো।

রুপসা হাপিয়ে গেছে।জোরে জোরে শ্বাস চালাচ্ছে সে।

এর মাঝেই মৈনাক তাকে সময় না দিয়েই।

শরিরে জরিয়েথাকা শাড়িটা একটানে খুলে ফেললো।

তাকে কোলে তুলে বিছানায় শুয়ে গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো।

হারিয়ে গেলো দুজনে ভালোবাসার সাগরে।

-------------------------

ম্যাম,,,

আমি জানি অ্যানি তুমি কি জানতে চাও।

অ্যানি হাত মোচরাতে লাগলো।

"" বসো।

"" অ্যানি বসে পরলো।

"" উনি আমার ভাইয়ের বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলেন বলতে পারো দুজনের গলায় গলায় ভাব ছিলো।

আর উনি আমাকে ভালোবাসতেন।

"" চমকে তাকালো অ্যানি।

ঋদ্ধ কে তার প্রথম দেখায় ভালোমানুষ বলে মনে হয়েছে।আময়িক তার ব্যাবহার সাথে মায়রা একটা অচেনা বাচ্চা হয়ে তাকে কতো জালিয়েছে তবুও কখনো সে বিরক্ত হয় নি।

"" তুমি হয়তো ভাবছো তাকে আমি ভালোবাসতাম কিনা।

আসোলে তার প্রতি আমার ভালোলাগা ছিলো তবে তা ভালোবাসা কিনা বলতে পারবো না।

"" অ্যানি অবাক চেয়ে আছে।

স্যার বিয়ে করেননি ম্যাম আর আপনি কেন তাকে বিয়ে করেন নি।

"" দেখো আমি বরাবরই আমার বাবা ভাই কে খুব ভালোবাসতাম তারা আমায় মাথায় তুলে রাখতো বলতে পারো তাদের প্রান ছিলাম আমি।

তাই তাদের কথা ফেলতে পারিনি বাবা চেয়েছিলেন আমি তাহসিন কে বিয়ে করি।আর আমি সেটাই করেছিলাম।

"" তারমানে ঋদ্ধ স্যার এখনো আপনাকে ভালোবাসেন।

উচ্ছসিত কন্ঠে বললো অ্যানি।

"" মেহরিন বুঝলো অ্যানির মনোভাব।

তুমি যা ভাবছো তা কখনো

সম্ভব নয় অ্যানি।আমি চাইনা আমার মায়রা কারো সৎ মেয়ে হোক।কেউ তার দিকে কটু দৃষ্টিতে দেখুক।

মেহেরিন চলে গেলো।

তবে অ্যানি ভাবনায় পরলো সে ঋদ্ধ কে যতোটুকু দেখেছে মায়রাকে সে অনেক ভালোবাসতো।যখন মেহরিন ম্যাম এর মেয়ে মায়রা এটা যানতো না তখন থেকে।

তাই ম্যাম যা ভাবছেন তা ভুল।

আর ঋদ্ধ স্যার মেমকে রাজি করিয়েই ছারবে।তার মুখে একটু হাসি ফুটলো।

বিজ্ঞাপন
বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক উপন্যাস