স্যারের আবার কি হলো।
এই মহিলার ডিটেইলস কেন চাইছে। পিটার ঠোঁট উল্টিয়ে ঋদ্ধর পেছন পেছন যেতে লাগলো।
""কি হয়েছে আমার মায়ের মন খারাপ কেন?
"" আমার মন খারাপ না মাম্মা।
"" তুমি তো পার্কে গেছিলে মাম্মা তাহলে তো খুশি হওয়ার কথা।
"" মায়রা জবাব দিলো না।
মেহরিন অ্যানির দিকে তাকাতেই
"" আসোলে ম্যাম পার্কে একটা বাচ্চা তার বাবার সাথে ক্রিকেট খেলছিলো তাই দেখেই হয়তো,,
"" মেহরিন দীর্ঘশ্বাস ফেললো
অ্যানি মায়রাকে ডক্টর দেখিয়ে এনেছো।
না ম্যাম।
"" আমি খোজ নিয়েছি ওই হসপিটালের বেস্ট হার্ট সার্জন মানে হার্ট এর ডক্টর হলো অ্যারন ঋদ্ধ চৌধুরি।
কিন্তু উনি নাকি তেমন রুগি দেখেন না।
"" মেহেরিন ঠোট কামরে ভাবলো কিছু সময় তারপর দির্ঘশ্বাস ফেলে বললো
এ বিষয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না।
আমি দেখছি।
"" ইয়েস ম্যাম।
"" মেহরিন এবার মায়রার দিকে তাকিয়ে বললো,,
অ্যানি ভাবছি আজ আর অফিস জাবোনা বুঝলে আজ আমরা ক্রিকেট খেলবো কেউ যদি আমাদের সাথে খেলতে চায় তাকে আসতে বলো।
"" মায়রা লাফিয়ে উঠলো
আমি খেলবো মাম্মা।
"" অ্যানি মেহরিন হেসে ফেললো।
তারপর তিনজনে গার্ডেনে চলে গেলো খেলতে।
-----------------------
"" কি ব্যাপার পিটার তোমাকে কি বলেছিলাম আমি।
পিটার হকচকিয়ে উঠলো।
স্যার সবে তো দু ঘন্টা গেছে আমার লোকেরা কাজ করছে। একটু ধৈর্য ধরুন প্লিজ।
"" ঋদ্ধ চোখ বুজে শরিরটা কাউচে এলিয়ে দিলো।
ধৈর্য তো ধরতে পারছি না পিটার তাড়াতাড়ি সব ডিটেইলস চাই আমার।
এর মধ্যেই পিটারের ফোনে কল আসলো।
ফোন ধরে কথা শেষ করে বললো।
"" স্যার সব ডিটেইলস পেয়ে গেছি আপনার ফোন চেক করুন।
"" ঋদ্ধ ফট করে চোখ খুললো তারাতাড়ি নিজের ফোন হাতে নিয়ে নোটিফিকেশন চেক করলো।
প্রায় পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে পুরো ডিটেইলস চেক করে তার রাগ উঠে গেলো।
আবার সময় নিয়ে পরলো পুরোটা।
আবার কিছু একটা ভেবেই হেসে উঠলো।
পিটার ঋদ্ধ এমন মুখের পরিবর্তন দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।
পাগল হয়ে গেলেন নাকি স্যার এমন রেগে যাচ্ছেন আবার হাসছেন কেন?
বুঝলে পিটার এতোবছর পর নিজের ভালেবাসা ফেরত পাওয়ার একটা চান্স তো পেলাম।
পিটার চোখ বড়ো বড়ো করে ফেললো।
""তার মানে? মিস মেহরিন,,ই
"" ঋদ্ধ মাথা নাড়ালো।
"" পিটার একলাফে এসে ঋদ্ধ কে জরিয়ে ধরলো।
ঋদ্ধ অবাক হয়ে গেলো।
"" কিরে তুই কেন এতো খুশি বুঝলাম না।
স্যার কি আর বলবো এতোগুলা বছর ধরে আপনাকে কষ্ট পেতে দেখছি ম্যাম এর জন্য।
শেষ মেষ একটা তো চান্স পেলেন।
"" ঋদ্ধ মুচকি হাসলো।
তবে পিটার তুমি যতো সহজ ভাবছো ততো সহজ নয় সব কিছু। মেহরিন সহজে মানবে না।
"" পিটারের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেলো।
কিছুটা সময় ভাবার পর বললো,,
স্যার একটা আইডিয়া আছে?
"" ঋদ্ধ মুখ তুলে তাকালো।
"" মায়রা,,,
"" দেখ পিটার মায়রার ওপর প্রথম থেকেই আমার অদ্ভুত মায়া কাজ করে হয়তো মেহরিন এর মেয়ে বলেই।
আর বাচ্চাটা বাবার অভাবে অনেক কষ্ট পায় যা ওর চোখে মুখে ফুটে উঠে।
"" পিটার মুগ্ধ হলো ঋদ্ধর কথায়।একটা মানুষ একটা মেয়েকে কতোটা ভালোবাসলে এমন কথা বলতে পারে।
আবার নিজেকেই ধমকালো সে তো দেখেছে স্যার কতোটা তরপাতো ওই একটা মেয়ের জন্য।
তার স্যারের পেছনে কম মেয়ে ঘুরেনি।এখনো হাজার হাজার মেয়ে পরে আছে।
কিন্তু ঋদ্ধ কখনো ঘুরেও তাকায়নি।
তবে পিটার আমার মনে হয় মেহরিন এর সাথে আমার খুব তাড়াতাড়ি।
"" কেন স্যার?
"" ঋদ্ধ বাকা হাসলো।
------------------------
মেহরিন চিন্তায় করছে যে ঋদ্ধর কাছে যাবে কিনা তার অদ্ভুত অস্বস্তি হচ্ছে।
সে নিজেও জানে না কেন।কিন্তু হচ্ছে।
ম্যাম,,,
"" হুম অ্যানি বলো?
""কাল কি যাবেন মায়রাকে নিয়ে ডক্টরের কাছে?
"" হুম যাবো।
সবার আগে আমার মেয়ের সুস্থতা। মনে মনে ভাবলো মেহরিন।
"" ওকে ম্যাম।
সকাল হতেই মেহরিন মায়রাকে নিয়ে বেরিয়ে পরলো।
"" আমরা কোথায় যাচ্ছি মাম্মা?
"" হসপিটাল যাচ্ছি মাম্মা।
সাথে সাথে মায়রা নাকমুখ কুঁচকে নিলো।
"" মেহরিন হাসতে হাসতে বললো সেখানে কিন্তু তোমার ঋদ্ধ আংকেল ও থাকবে মাম্মা।
মায়রা সাথে সাথে খুশি হয়ে গেলো। নিজের উচ্ছ্বসিত গলায় বললো সত্যি মাম্মা?
"" মায়রার মাম্মা কি মায়রাকে কখনো মিথ্যা বলে।
"" মায়রা নিজের মাথা ঝুকালো।
তোমার ঋদ্ধ আংকেল ই তোমার ডক্টর হবে মাম্মা।
"" কি মজা আমি তাহলে ঋদ্ধ আংকেল এর সাথে অনেক মজা করতে পারবো।
জানো মাম্মা ঋদ্ধ আংকেল আমাকে অনেক আদর করে একদম পাপার মতো।
"" মেহরিন বিরক্ত গলায় বললো এমন বলতে হয় না মাম্মা উনি তোমার পাপা নন।
"" মায়রার মুখটা চুপসে গেলো সাথে সাথে।
"" মেহরিন হতাশ হলো।
---------------------------
পিটার সেই কখন থেকে বসে আছে আর ঋদ্ধ ফোন টিপছে বসে থেকে।
তার বিরক্ত লাগছে।কারন ঋদ্ধ কোন রুগি দেখে না।শুধু ইম্পর্ট্যান্ট
অপারেশন গুলো করে। কিন্তু আজ হঠাৎ সে সকাল থেকে হসপিটাল এসে বসে আছে। এর কারন কি সে জানেনা।
সেই থেকে গেম খেলছে ঋদ্ধ।
ঋদ্ধ এমনি ছন্নছাড়া, আংকেল ও কিছু বলে না তেমন আর পিটার এরো তেমন কোন কাজ নেই ঋদ্ধর সাথে কিন্তু তবুও জোর করে রেখেছেন ঋদ্ধর সাথে।
ঋদ্ধ প্রথম প্রথম পিটার কে সহ্যই করতে পারতো না।
কতোবার তো পিটার কে মেরেওছে।
কিন্তু একসময় ধিরে ধিরে তাদের দুজনের ভেতর বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক
তৈরি হয়ে গেছে।
ঋদ্ধ বার বার পিটার কে বলে তাকে ভাই ডাকতে তবে পিটার ডাকে না।
হঠাৎই পিটারের চোখ গেলো বাহিরের দিকে।সাথে সাথে তার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো।তারমানে এর জন্যই স্যার এতোক্ষণ ধরে বসে আছে।
"" স্যার,,
"" ডোন্ট ডিস্টার্ব পিটার আমি গেইম খেলছি।
"" পিটার বিরক্ত হয়ে বললো আরে স্যার সামনে তো তাকান।
"" ঋদ্ধর মুখ থেকে চ জাতীয় বিরক্তিকর শব্দ বের হলো। সামনে তাকাতেই সাথে সাথে চোখমুখ ছলকিয়ে উঠলো তার।
মেহরিন আসছে পরনে তার লাল রঙা হাই নেক শর্ট টপস আর জিন্স।
মায়রা তার হাত ধরে আছে।তার চোখে মুখো উচ্ছাস।
তাদের দুজনের পেছনে অ্যানি আসছে।যা দেখেই পিটারের বিরক্ত অনুভব হলো এই মেয়েটা এতো ঝগরুটে।
"" ঋদ্ধর ক্যাবিনের সামনে আসতেই মায়রা মেহরিন এর হাত ছুটিয়ে দৌড় দিলো ঋদ্ধর ক্যাবিনের দিকে।
আস্তে মাম্মা পড়ে যাবে।
কে শোনে কার কথা।
"" আংকেল আমি এসেছি।
"" ঋদ্ধ এতোক্ষণ তাদের না দেখার ভান করে বসে ছিলো।
মায়রার গলার আওয়াজ পেয়ে সামনে তাকাতেই মায়রা ঝাপিয়ে পরলো ঋদ্ধর কোলের ওপর।
"" ঋদ্ধ ও হেসে আগলে নিলো মায়রাকে।
আংকেল আমি তোমাকে এতোগুলো মিস করেছি জানো।
আমিও তোমাকে মিস করেছি কিউটিপাই। বলেই মায়রার গালে চুমু খেলো।
মায়রা হেসে দিলো।
"" মেহরিন চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে ঋদ্ধ আর মায়রার দিকে।
তার মেয়ে তো ঋদ্ধর কাচে আসলে তাকে পাত্তাই দেয় না।
"" এতোক্ষণ পর ঋদ্ধ মেহরিন এর দিকে তাকালো। তার দিকে এমন নজরে তাকিয়ে থাকতে দেখে। ঋদ্ধ কিছুটা হাসার চেষ্টা করলো।
আরে মেহরিন বসো। হঠাৎ এখানে কি মনে করে।
"" এটা হসপিটাল রাইট।
"" ঋদ্ধ মাথা নাড়ালো।
"" তাহলে নিশ্চই ডক্টর দেখাতেই আসবো তাইনা?
"" ঋদ্ধ বোকা বোকা হাসার চেষ্টা করলো।
"" হ্যা হ্যা তুমি বসো না।
মেহরিন বসলো ততক্ষণে পিটার বেরিয়ে গেছে। মায়রা তখনো ঋদ্ধর কোলে।পরম আনন্দে তার গলার টেথোস্কোপ নিয়ে খেলছে।