বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন

পর্ব - ২

🟢

আজ কোর্টের হেয়ারিং।মেহরিন তৈরি হয়ে নিলো সাথে তার পনেরো দিন বয়সী মেয়ে।

পরনে তার নীল রঙা থ্রিপিস। বাচ্চাটাকে গোলাপি রাঙা ফ্রগ পরিয়ে কোলে তুলে নিলো।

বাহিরে আসতেই দেখলো বাবা ভাই ভাবিকে।তার সাথে কেউ যাবেনা।

কেউ যেতে চায়নি এমন নয় মেহরিন নিজেই চায়না কেউ যাক।

সাবধানে যাস মা।

মেহরিন হেসে বললো তুমি চিন্তা করোনা বাবা।

----------------------

কোর্ট এ এসেছে তাহসিন নিজের মেয়ে নিজের অংশকে দেখে মনের মাঝে টান পেলেও কোলে নেওয়ার বা তাকে কাছে নেওয়ার প্রয়াস করলো না।

মেহরিনকে সই করে দেওয়ার কথা বললে সে চুপচাপ সই করে দিলো।

তাহসিন কিছুটা অবাক ই হলো মেহরিন কে এতোটা শান্ত দেখে।

আমার মেয়ের ভরনপোষণ এর টাকা তুমি পেয়ে যাবে।

মেহরিন তাচ্ছিল্য হাসলো।

"" তুমি কি ভাবছো আমার মেয়েকে খাওয়ানোর মতো টাকা নেই আমার কাছে।শুনে নাও তাহসিন আহমেদ আমি মেহরিন মির্জা

চাইলে তোমায় রাস্তায় নামাতে পারতাম তোমার কোম্পানি ডুবিয়ে দিতে পারতাম।আমার সাথে প্রতারনা করার

জন্য তোমায় আর ওই নষ্ট মেয়েকে জেলের ঘানি টানাতে পারতাম।

"" তাহসিন ঘাবড়ে গেলো।ভিতো চোখে তাকালো মেহরিন এর দিকে

এতো বছরে কোনদিন মেহরিন এর এমন শক্ত কন্ঠ শুনেনি।আর না অহংকার

দেখিয়েছে নিজের ক্ষমতার টাকা পয়সার।বরাবরই মেহরিন খুব শান্ত।

"" তবে ভয় পেয়ো না আমি তোমাদের সাথে এমন করবো না প্রথমত

তোমার বাবা আর বোনের জন্য।কারন তারা আমার নিজের।আর

দ্বিতীয়ত আমার মেয়েকে কোনদিন ভুলেও নিজের মেয়ে বলে দাবি করার দুঃসাহস তুমি দেখাবেনা।

বলেই মেহরিন উঠে চলে গেলো।

বাহিরে যেতেই তাহসিন এর বাবা আর বোন কে দেখলো ছলছল চোখে তাকিয়ে থাকতে তাদের দেখে মেহরিন এগিয়ে গিয়ে তাহসিন এর বোনকে জরিয়ে ধরলো।

"" আমাকে ক্ষমা করো মা ছলছল চোখে বললেন তাহসিনের বাবা।

"" ছিহ ছিহ বাবা এসব কি বলছেন।আপনি তো আমার আরেক বাবা।

আজ আসি বাবা।

তিনি মাথা নিচু করে বললেন হুম। পারলে এই বাবাকে ভুলো না কখনো।

"" আমাকে ভুলে যেও না ভাবি।

মেহরিন হেসে বললো ভুলবো কেন তুমি তো আমার বোনের অভাব দুর করেছো।

মেহরিন চলে যেতেই দেখলো ভাই গাড়ি নিয়ে দাড়িয়ে আছে।এতে অবাক

হলো না তার ভাই যে তাকে একা ছাড়বেনা এটা সে জানে।

গাড়ির কাছে যেতেই ভাই দরজা খুলে দিলো।

মায়রা ঘুমিয়ে আছে।

"" তুই ঠিক আছিস তো বোন?

"" মেহরিন মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো তোমাদের মনে হচ্ছে আমি ভেঙে পরেছি কিন্তু সত্যি তো এটাই যে আমি খুব খুশি।

"" মৈনাক কপাল কুচকে নিলো,,

"" মেহরিন ভাইয়ের কপাল কুচকানো দেখে বললো

ভাবো তো যেই লোকটা কোনোদিন আমার সাথে বাজে ব্যাবহার করেনি যার মধ্যে কখনো কোন খারাপ দেখতে

পাইনি সেই লোকটা কিভাবে আমাকে ঠকিয়ে যাচ্ছিলো।

আমি কখনো বুঝতে পারতাম না আর সে অনবরত আমাকে ঠকিয়ে

যেতো তার থেকে তো এটাই ভালো যে আলাদা হয়ে গেলাম। আমার মেয়েটাও এমন পরিবেশে বড়ো হলো না।

মৈনাক ভেতরে ভেতরে খুশি হলো যাক তার বোনটা দুর্বল নয়।

বাসায় এসে মেয়েকে শুইয়ে দিলো মেহরিন রুপসা এসে জানালো তার বাবা তাকে ডাকছে।

মেহরিন নিচে যেতেই মিহির মির্জা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে একটা ফাইল ধরিয়ে দিলো।

মেহরিন জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালে তিনি মেহরিনকে ফাইলটা খুলতে বললেন।

মেহরিন ফাইল খুলে অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো বাবা এসব কি কেন?

কেন তোর তো ইচ্ছে ছিলো তুই বিজনেস ওয়েমেন হবি।

তাই আইন অনুযায়ী আমার কম্পানির ফিপটি পার্সেন্ট শেয়ার তোর বাকিটা তোর ভাইয়ের।

তুই দেশের বাহিরের কোম্পানি টা দেখবি আর মৈনাক বাংলাদেশ আর বাকি যা আছে দেখবে।

আর নিজের পিএইচডি কমপ্লিট করবি ওখানেই। আর এমবিএ তো তোর করাই আছে।

মেহরিন কিছু না বলে নিজের রুমে চলে গেলো।

তার বাড়ির কাজের লোক রহিমা সবকিছু গুছিয়ে রাখছে।

বিজ্ঞাপন

তুমি একটু মায়রার কাছে থাকো রহিমা আমি আসছি।

জি আপা।

মেহরিন চলে গেলে রহিমা মনে মনে বললো আমার আপাডা কত

সুন্দর দেখতে আবার বাচ্চাটাও পরির মতো। ছেলে মাইনসের যে কি

সমস্যা নতুন নতুন মেয়ে মানুষ দেখলে মাথা ঠিক থাকে না।

মেহরিন বসে আছে প্লেনের ছিটে নিজের একমাস বয়সি বাচ্চাকে বুকে জারিয়ে।

এই কয়দিনে সে কাদেনি কিন্তু আজ তার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। তাহসিন

আর তার মাঝে ভালোবাসার কমতি ছিলো না বাচ্চা হবে শুনেও তাহসিনের

খুশি ধরেনি কিন্তু হঠাৎ করেই সব শেষ হয়ে গেলো।

তার সংসার শেষ হয়ে গেলো তার ইচ্ছে ছিলো বাহিরের দেশে গিয়ে পড়াশোনা করবে কিন্তু এভাবে না।

--------------------------

পাঁচ বছর পর

ডক্টর অ্যারন ঋদ্ধ চৌধুরী,,আপনাকে জরুরি অপারেশন বোর্ডে ডাকা হচ্ছে। সুঠাম দেহের ডক্টরটি ঘুড়ে দারালো

"" আপনি যান আমি আসছি নার্সটি তার পা চালালো দ্রুত।

ছেলেটি দ্রুত অ্যাপ্রন পড়তে পড়তে যেতে লাগলো।

৬ফুট সুঠাম ফর্সা দেহের ছেলেটির মাথায় হালকা কোঁকড়ানো চুল। মুখে হালকা চাপ দাড়ি।

অ্যামেরিকার বেস্ট সার্জনের মধ্যে একজন সে।

প্রায় দু ঘন্টায় অপারেশন শেষ করে বেড়িয়ে আসলো সে ক্লান্ত মাথা সিটে এলিয়ে দিতেই কল আসলো তার পি.এ পিটার এর।

"" স্যার ম্যাম আপনাকে কল করছে!

"" হুম।

"" স্যার আপনি অফিসে আসবেন কখন তাহলে আমি গাড়ি নিয়ে আসবো।

"" হুম আসো তুমি।

""ঋদ্ধ নিজের মা কে কল করলো।

হেই কিউটি মম কি অবস্থা তোমার?

"" এই ব্যায়াদব ছেলে তোকে কতবার কল করছি তুলছিস না কেনো।

"" ওহ কিউটি অপারেশন এ বিজি ছিলাম।

"" ঋদ্ধএর মা আফিয়া দমে যাওয়া গলায় বললেন একবার অফিস

একবার ডাক্তারি কিভাবে সামলাস বাবা যেকোনো একটা কর।

আর বয়স তো কম হলো না বিয়ে করবি না।বাবার সাথেও এতো বছর হলো কথা বলিস না কেনো বলতো?

"" বিয়ে তো করতে চেয়েছিলাম মম কিন্তু তোমার স্বামী তাকে এনে দেয়নি।

"" আফিয়া আবার বললো বাবা তার তো বিয়ে হয়ে গেছে তাকে আর কিভাবে এনে দেবো বল।

"" অ্যারন শক্ত গলায় বললো কিন্তু সেদিন তোমার স্বামী পারতো তাকে আমার করে দিতে কিন্তু দেয় নি।

বলেই খট করে কলটা কেটে দিলো।

সামনে থাকা পানির

বোতল থেকে পানি পান করে বাহিরে আসলো দেখলো পিটার গাড়ি নিয়ে দাড়িয়ে আছে।সে উঠে পরলো।

-------------------------

ম্যাম মায়রাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

"" What,,,তুমি এসব কি বলছো অ্যানি ওতো কিন্ডারগার্ডেনে ছিলো।

"" হ্যা ম্যাম ওখানকার কোন বাচ্চা নাকি বলেছে মায়রার বাবা নেই আর মায়রার মা খারাপ আর এসব শুনেই ও বাবা খুজতে গেছে।

"" মেহরিন ফোস করে শ্বাস ফেললো। এসব নতুন কিছু না প্রায় দিন ই

এমন হয় মেহরিন বুঝতে পারে না এতো ছোট ছোট বাচ্চাদের মাঝে এমন কুৎসিত চিন্তাভাবনা আসে কোথা থেকে।

তুমি আশেপাশে খুজে দেখো আমি আসছি।

------------------------

মায়রা গুন গুন করে কাদছে আর হাটছে।সে যে রাস্তা ভুলে গেছে এ নিয়ে তার বিন্দু মাত্র ধারনা নেই।

পাপা,,পাপা,,কোথায় তুমি,, পাপা,,

পরনে তার কালো বার্বি ফ্রগ পায়ে কালো সুজ কান্নার ফলে চোখমুখ

লাল হয়ে আছে।কাধ সমান চুলগুলো সুন্দর করে ক্লিপ দিয়ে আটকানো।

"" আচমকা তার সামনে একটা সুন্দর সুদর্শন মুখ ভেসে উঠলো।

মায়রার মুখ থেকে অস্ফুট স্বরে বেড়িয়ে আসলো পাপা,,

লোকটি তার সামনে হাটুগেড়ে বসলো।

বাচ্চাটাকে দেখে তার চোখের সামনে একজনে মুখ ভেসে উঠলো।

""Hey cutie pie, where is your papa? Are you lost?

"" মায়রা ঋদ্ধ জরিয়ে ধরলো আচমকা।তুমি আমার পাপাকে খুজে দেবে আনতেল?

"" অ্যারন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।

বিজ্ঞাপন
বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক উপন্যাস