বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন

পর্ব - ১৩

🟢

এমন একটা কথা বলে মেহরিন নিজেই যেনো হতবাক। সে তো এমন কিছু বলতে চায় নি। হ্যা সে বিয়েতে রাজি হয়েছে কিন্তু এতো তারাতাড়ি নয় ঋদ্ধর সাথে তার অনেক কথা আছে।তার মেয়ের সেফটি আগে তার কাছে।

""সত্যি পাখি তাহলে চলো,,দারাও আগে বাবাকে ডাকি।

""ঋদ্ধ শোনো,, তবে ঋদ্ধ কি শোনার অবস্থায় আছে তার মনে তো লাড্ডু ফুটছে।

কিছুক্ষণ পরেই ঋদ্ধর বাবার দেখা পাওয়া গেলো।সে এসেই দেখলো মেহেরিন মুখ ভার করে নিয়ে বসে আছে। এতক্ষণ মেহরিন কে ঋদ্ধ একটা কথাও বলতে দেয় নি।

"" কি হয়েছে মেহু মা,,আমার ছেলে কিছু করেছে?

বাবা,,তোমার ছেলে কিছু করতেই পারে না আমি তো শুধু তোমার বউমা বানাতে চাচ্ছি মেহু পাখি কে।

"" মি.রিচার্ড মেহরিন এর মুখ দেখেই বুঝলেন কিছু একটা সমস্যা আছে।ঋদ্ধ তুমি বাহিরে যাও আমি মেহরিন মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাই।

"" ঋদ্ধ মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো,, বেরিয়ে গেলো কেবিন থেকে।

কি হয়েছে মেহু মা তুমি তো হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নেবে না তবে আমার পাগল ছেলে এসব কেন বলছে?

"" মেহরিন হতাশ চোখে তাকিয়ে রইলো।একটা ঢোক গিলে পুরো ঘটনা খুলে বললো।সবটা শুনে ঋদ্ধর বাবা শব্দ করে হেসে দিলেন।মেহরিন হতাশ কি বলবে সে।

"" দেখো মা আমার ছেলেটা তোমায় মারাত্মক রকমের ভালোবাসে।তোমাকে একবার হারিয়ে আর হারাতে চায় না সে তাই তার ভেতর এতো ভয়।

"" কিন্তু আংকেল আমার একটা মেয়ে আছে।

"" তাতে কি ঋদ্ধ তো তার কিউটিপাই কে তোমার মেয়ে জানার আগেই ভালোবেসেছে তাহলে তোমার এতো ভয় কিসের মা।

"" মেহরিন কিছুটা আস্বস্ত হলো।সত্যি তো ঋদ্ধ মায়রাকে অনেক ভালোবাসে।

কিন্তু,,

"" কোনো কিন্তু নয় মেহরিন।

মি.রিচার্ড ঋদ্ধ কে ডাকলেন।

দেখো ঋদ্ধ মেহরিন তোমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে এতে আমি অনেক খুশি। তবে তার পরিবারের সবাই বাংলাদেশ এ আছে।আর এই মূহুর্তে তোমার মম ও বাংলাদেশ তার বোনের কাছে।তাই একটু ধৈর্য ধরো আমি মেহরিন এর বাবা এবং ভাইয়ের সাথে কথা বলে দেখি একটা ডেড ফিক্সড করে বিয়েটা বাংলাদেশ এই করা হবে।

"" মেহরিন খুশি হলো।সে ঋদ্ধ র দিকে তাকালেই দেখলো তার চোয়াল ঝুলে পরেছে।

তা দেখে মেহরিন ফিক করে হেসে দিলো।

"" তুমি হেসো না পাখি,,বলেই মুখটা ছোটো করে ফেললো।

মেহেরিন ঋদ্ধ র দিকে এগিয়ে এলো তার দুই গালে নিজের হাত রেখে চোখের দিকে তাকালো মেহরিন।

ঋদ্ধ বেশ অবাক হয়ে অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে রইলো।

"" তুমি আমায় এতো কেন ভালোবাসো ঋদ্ধ? এতো ভালোবাসার যোগ্য নই আমি।

মেহরিন এর চোখে পানি ছলছল করছে।

"" জানিনা পাখি,,তোমাকে কেন ভালোবাসি আমি তা জানিনা,, শুধু মনে হয় এতোগুলো বছর আমি শুধু শ্বাস নিতাম তাতে কোনো প্রান ছিলো না।আমার জীবন সেই তোমাতেই আটকে ছিলো তারপর হঠাৎ করে আবারো তোমার আগমন ঘটলো আমি আবারো বাচতে শুরু করলাম।

মেহরিন এর গাল দিয়ে পানি গড়িয়ে পরলো।ঋদ্ধ শক্ত করে জরিয়ে ধরলো তাকে।

হুসসস,পাখি ডোন্ট ক্রাই। তুমি তো অনেক স্ট্রং এতোগুলো বছর একা নিজের মেয়েকে নিয়ে সারবাইভ করা সহজ কথা নয়।তুমি ব্রেভ গার্ল।

"" আমার ভয় হয় ঋদ্ধ নতুন জীবন এ পা রাখতে মনে হয় আমার ছোট্ট মেয়েটাকে কেউ হার্ট করবে তাকে আঘাত করবে।

ফুপিয়ে উঠলো।

"" ঋদ্ধ মেহেরিন এর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো তুমি বিশ্বাস করো তো আমায়?মেহরিন সেভাবেই মাথা নাড়ালো।

তাতে ঋদ্ধ ফিচেল হেসে বললো তাহলেই তো হলো আমি তোমার আর কিউটিপাই এর গায়ে একটা আচর ও লাগতে দিবো না।

মেহরিন শান্ত হলো কিছুটা।

"" তুমি এই কয়দিন আমার বাসায় থাকবে।

"" মেহরিন এর মাথায় যেনো বাজ পরলো,

"" ঋদ্ধ প্লিজ,,তুমি যা বলছো তা সম্ভব নয়। আশেপাশের মানুষ বিষয় টা খারাপ চোখে দেখবে।

"" ঋদ্ধ কিছু বললো না।

--------------------------------

বিজ্ঞাপন

রাত ৮ টায়,,,,

মেহরিন বাসায় আসতেই তার মাথায় যেনো ছোটখাটো একটা বাজ পরলো।

"" সে কাদো কাদো চোখে পাশে দারিয়ে থাকা অ্যানির দিকে চাইলো।

অ্যানিও চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে আছে।সামনেই সোফার ওপর বই টুল জামাকাপড় খাবার আরো কতকি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা।

হঠাৎ তার কিছু মনে পরতেই রান্না ঘরের দিকে গেলো।

সেখানে ঋদ্ধ আর মায়রা কিছু একটা রান্না করার চেষ্টা করছে তবে রান্না না হলেও রান্নাঘর এর অবস্থা শেষ। পিচ্চি মায়রা পরনে হাটু পর্যন্ত সিম্পল টপস।আর ঋদ্ধ র পরনে টিশার্ট টাউজার তাদের দুজনেরই পুরো শরিরে ময়দা লেগে আছে।চুল গাল শরিরে।রান্নার সব মশলা এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। দুজনকে চেনার উপায় নেই।তবে মায়রার মুখে লেগে আছে মিষ্টি হাসি ঋদ্ধ অনেক চেষ্টা করছে তার কাজটা সঠিকভাবে করার।

ম্যাম এরা কিচেনকে কি বানিয়ে ফেলেছে।

মেহরিন নিজেও হতাস তার ড্রয়িং রুমে সোফার ওপর এটা ওটা ছড়িয়ে রেখে একদম যাচ্ছে তাই অবস্থা।

"" মাম্মা,,

"" মায়রার কথা শুনে ঋদ্ধ চাইলো সেদিকে দেখলো তার মেহুপাখি আর অ্যানি দারিয়ে আছে।

মেহু পাখি,,,

"" মাম্মা দেখো পাপা আমার জন্য রান্না করছে।

"" মা তোমরা রান্না করছো নাকি দুজনে মিলে আমার বাড়িটাকে আবর্জনার স্তূপ বানাচ্ছ।

"" ঋদ্ধ থতমত খেয়ে গেলো। তাড়াতাড়ি সোজা হয়ে দরালো তারপর চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে দেখলো সত্যি তার মেহুপাখি একটুও ভুল বলেনি কিচেন আর কিচেন নেই।চোরা চোখে চাইলো এবার সে।

"" আর তোমরা নিজেদের দিকে তাকিয়েছো একবার দুজনের কি অবস্থা।

"" মায়রা মাথা নিচু করে নিলো।মুখ ছোট করে বললো সরি মাম্মা।

মেহরিন ফোঁস করে দম ছারলো।

অ্যানি যাও মায়রাকে ফ্রেশ করে নিয়াসো।

"" আসো বেবি।মায়রা ভদ্র বাচ্চার মতো চলে গেলো।

এবার মেহরিন ঋদ্ধ র দিকে চাইলো।

"" আব আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

ঋদ্ধ তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসলো।

ততক্ষণে মেহরিন ড্রয়িং রুম গোছালো।

পাশে ট্রলি ব্যাগ দেখে তার কপাল কুচকে গেলো। সে এগিয়ে ধরতে যাবে,,

"" ওটা আমার।

"" মেহরিন কপাল কুচকে বললো

"" তুমি এখানে কেনো?আর ট্রলি কেন সাথে।

""আমি এখানে থাকবো।

"" কিহ,,?

"" জিহ,,।কিন্তু কেন?

"" কারন তুমি আমার বাসায় থাকবে না।

"" কিন্তু ঋদ্ধ আমি তো বলেছি বিয়ের পর শিফট হবো আপাতত কিছু দিন,,,

"" কোনো কিছু দিন নয় পাখি আমি তোমাদের নিয়ে কোনো রিস্ক নিতে চাই না।আর তুমি তো বলেছো আমার বাসায় গেলে লোকে তোমায় কথা শোনাবে তাই আমি চলে এসেছি তোমার বাসায়।

আর খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করে আমি তোমায় আর আমার কিউটিপাইকে সাথে নিয়ে যাবো।

"" ঋদ্ধ প্লিজ আমার কথাটা বোঝার চেষ্টা করো তুমি,, এটা সম্ভব নয় তোমার সাথে এখনো আমার বিয়ে হয়নি।

"" কিন্তু,,

"" কোনো কিন্তু নয়।

"" ওকে আজকের রাতটা অন্তত থাকতে দাও।

"" মেহেরিন কিছু না বলে চলে গেলো।

বিজ্ঞাপন
বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক উপন্যাস