বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন

পর্ব - ৪৫

🟢

"কেমন দিলাম বলো, পাখি?

​মেহেরিন ড্রেসিংটেবিলের সামনে বসে মুখে প্রসাধনী মাখছিল। ঋদ্ধ পেছন থেকে এসে পরম ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরে মেহেরিনের ঘাড়ে মুখ গুঁজে কথাটা বলল।

​মেহেরিন আয়নায় ঋদ্ধর মুখের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসল,

"খুব ভালো করেছ ওদের সাথে! দুজন দুজনকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতো, অথচ মুখে কিছুতেই স্বীকার করবে না।

​"হুম...

​কথাটা শেষ করার আগেই আচমকা গা গুলিয়ে উঠল মেহেরিনের। বুকের ভেতর থেকে তীব্র একটা বমিভাব ঠেলে আসতেই সে হাত ছাড়িয়ে সোজা ছুটে গেল ওয়াশরুমের দিকে—"ওয়াক...

​ঋদ্ধ এক মুহূর্তের জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ল। কালবিলম্ব না করে সেও দ্রুত মেহেরিনের পেছন পেছন ওয়াশরুমে ছুটল। মেহেরিন বেশ খানিকটা সময় নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বমি করল। স্ত্রীর এমন হঠাৎ অসুস্থতা দেখে ঋদ্ধর চিন্তায় পাগল হওয়ার জোগাড়!

​"পাখি! হোয়াট হ্যাপেনড জান?!

ঋদ্ধর ব্যাকুল গলায় কেবলই একরাশ ভয়।

​মেহেরিন বমি করা শেষ করে ধুঁকতে ধুঁকতে নিজের সবটুকু ভর ছেড়ে দিল ঋদ্ধর ওপর। ঋদ্ধ আর দেরি না করে সাবধানে মেহেরিনকে কোলে তুলে নিল। এনে সোজা বিছানায় শুইয়ে দিয়ে সে অ্যানিকে ডাকার জন্য মুখ খুলতে চাইল। কিন্তু পরমুহূর্তেই মনে পড়ল—আজ অ্যানি আর পিটারের বিশেষ রাত, ওদের ডিস্টার্ব করা একদম ঠিক হবে না।

​জরুরি ভিত্তিতে পারিবারিক ডাক্তারকে ফোন দেওয়ার জন্য ঋদ্ধ পকেট থেকে ফোনটা বের করতেই মেহেরিন শক্ত করে তার হাতটা ধরে বাধ সাধল।

​মেহেরিন মৃদু হেসে ঋদ্ধর হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে এক পাশে সরিয়ে রেখে বলল,

তুমি নিজেই ডক্টর তা কি ভুলে যাও?

"থতমত খেয়ে গেলো ঋদ্ধ। সত্যি ভুলে গেছিলো সে।

মেহেরিন মৃদু হাসলো তার মুখ দেখে

"ডাক্তার ডাকার দরকার নেই, ঋদ্ধ। আমি জানি আমার কী হয়েছে।

​ঋদ্ধ কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ ফেলে বলল,

"মানে? তুমি কী করে জানবে পাখি? দেখছ না কতটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছ!

​মেহেরিন ঋদ্ধর শার্টের কলারটা আলতো করে ধরে তাকে নিজের দিকে একটু টেনে আনল। তারপর ঋদ্ধর হাতটা এনে রাখল নিজের পেটের ওপর।

" ঋদ্ধ অবাক হলো।

"মায়রার বেবি ভাইয়া আসতে চলেছে, ঋদ্ধ...

​কথাটা শোনামাত্রই ঋদ্ধর চোখ-মুখ ভীষণ শক্ত হয়ে উঠল। থমথমে থমথমে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এল ঘরে।

মেহেরিনের দিকে আর এক সেকেন্ডও না তাকিয়ে, কোনো কথা না বলেই সে সপাটে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

​মেহেরিনের পুরো মুখটা মুহূর্তেই মলিন হয়ে গেল। বুকের ভেতরটা এক মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে এল তার। ইস, সে তো ভুলেই গিয়েছিল—ঋদ্ধ আর কোনো সন্তান চায় না! ভেবেছিল এত বড় সুখবরে হয়তো সব বদলে যাবে, কিন্তু ঋদ্ধর এমন কঠিন প্রতিক্রিয়া দেখে তার চোখের কোণ বেয়ে ঝরঝর করে পানি পড়তে শুরু করল।

অনাকাঙ্ক্ষিত এক ভয় আর অপরাধবোধ এসে জাপটে ধরল তাকে।

​বেশ খানিকটা সময় পার করে ঘরে ফিরল ঋদ্ধ। তার হাতে ধোঁয়া ওঠা এক বাটি গরম সুপ। মুখে সেই আগের মতোই কঠিন আর গম্ভীর ভাব। সে কোনো কথা না বলে ধীর পায়ে এসে বিছানার পাশে বসল এবং একদম বাধ্য ছেলের মতো মেহেরিনকে সুপ খাওয়াতে শুরু করল।

​মেহেরিন বেশিক্ষণ এই নীরবতা সহ্য করতে পারল না। ভেজা চোখে অপরাধীর মতো ঋদ্ধর দিকে তাকিয়ে বলল,

"ঋদ্ধ, আই এম সরি...

​ঋদ্ধ এক চামচ সুপ মেহেরিনের মুখের সামনে ধরে শান্ত গলায় শুধাল,

"কেন?

​"তুমি তো সন্তান চাওনি, তাই...

মেহেরিনের গলাটা কান্নায় আটকে এলো।

​ঋদ্ধ সুপের চামচটা বাটিতে রেখে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল,

"তাই বলে তুমি এই কথাটা আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখবে, মেহেরিন?

আজ দু'সপ্তাহ হলো তুমি জানতে পেরেছ যে তুমি প্রেগনেন্ট, অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা আমাকে বা কাউকে জানাওনি!

​মেহেরিন চমকে উঠে চোখ বড় বড় করে তাকাল,

"তু-তুমি কীভাবে জানলে?

​ঋদ্ধ মেহেরিনের চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে নিচু স্বরে বলল,

"তোমার আর আমার মায়রার নাড়িনক্ষত্র সব আমার জানা, মেহেরিন।

সেখানে তোমার শরীরের এত বড় একটা পরিবর্তন আর এত বড় একটা বিষয় আমার চোখ এড়িয়ে যাবে, ভেবেছ?

​মেহেরিন থমথমে গলায় দ্বিধা আর ভয় নিয়ে আবার প্রশ্ন করল,

"ত-তুমি... তুমি কি খুশি হওনি, ঋদ্ধ?

​ঋদ্ধ একদম শান্ত আর গভীর চোখে মেহেরিনের দিকে তাকাল। তার চোখের সেই কঠিন ভাবটা গলে গিয়ে সেখানে জমে উঠল গভীর এক ভালোবাসা। ঋদ্ধ মেহেরিনের হাতটা পরম মমতায় নিজের হাতের তালুতে তুলে নিয়ে বলল—

​"আমি অনেক খুশি, মেহেরিন! ভীষণ খুশি।

​কথাটা শোনামাত্রই মেহেরিনের চোখে-মুখে এক অদ্ভুত সুন্দর হাসির ঝিলিক ফুটে উঠল। বুকের ওপর চেপে থাকা যেন মস্ত বড় একটা পাথর সরে গেল, সব ভয় আর অভিমানের মেঘ কেটে গেল এক নিমেষে।

​ঋদ্ধ মেহেরিনের কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে মিষ্টি করে হেসে বলল,

"হ্যাঁ, আমি একসময় তোমায় বলেছিলাম আমার আর কোনো সন্তান চাই না। মায়রাই হবে আমার একমাত্র সন্তান।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু পরে আমার ভুল ভেঙেছে... আমি ভেবে দেখলাম, আমার কিউটিপাইও তো ঠিক তার মায়ের মতো কোমল, শান্ত আর লক্ষ্মী বুঝদার একটা মেয়ে। সে কখনোই তার পাপাকে ভুল বুঝবে না, বরং একটা পুচকে ভাই বা বোন পেলে সে-ই সবচেয়ে বেশি খুশি হবে।

​মেহেরিন ঋদ্ধর বুকে মাথা রেখে এক অতৃপ্ত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।

-------------------------------

মেহেরিনের গর্ভধারণের খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই পুরো বাসায় যেন এক নতুন আনন্দের বন্যা বয়ে গেল।

ঋদ্ধর ভালেবাসাময় পাগলামি যেনো বেড়ে গেলো সেখানে দেখা দিল এক চরম সতর্ক ও ভালোবাসায় ভরা স্বামী।

মেহেরিনকে এক পা-ও একা হাঁটতে দিত না সে। পান থেকে চুন খসলেই হন্তদন্ত হয়ে ডাক্তার ডাকার জোগাড় করত।

তাকে অফিসেও যেতে দেয়নি ঋদ্ধ। বরং ঋদ্ধ অফিসের সব দায়িত্ব পালন করেছে।

​আর মায়রা? সে তো নিজেকে এখনই বড় বোন হিসেবে তৈরি করে ফেলেছে! প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে মায়ের পেটের কাছে কান রেখে অস্ফুটে কথা বলত পুচকে ভাইটির সাথে, নিজের পছন্দের খেলনাগুলো আলাদা করে গুছিয়ে রাখত ছোট ভাইয়ের জন্য।

পিটার আর অ্যানিও কোনো খামতি রাখেনি;

ব্যবসার কাজ সামলে ঋদ্ধর পাশাপাশি মেহেরিনের প্রতি মুহূর্তের খেয়াল রাখত পিটার, আর অ্যানি ছায়ার মতো মেহেরিনের পাশে থেকে সুষম খাবার আর যত্নের দেখভাল করত। ভালোবাসার এমন ঘেরাটোপে মেহেরিনের দিনগুলো কাটতে লাগল পরম সুখে।

​অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত দিনটি এলো। হাসপাতালের করিডোরে যখন একটি ফুটফুটে কনকনে শিশুর কান্নার আওয়াজ ভেসে এলো, তখন দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ঋদ্ধর চোখ দুটো ভিজে উঠল স্বস্তিতে।

মায়রা আনন্দের চোটে লাফিয়ে উঠে বলল, "পাপা, আমার বেবি ভাইয়া এসেছে!

ঋদ্ধ কিউটিপাই এর দিকে আবারও মেহেরিনের দিকে চাইলো।

----------------------------

​চার বছর পর—

​বিকেলের সোনাঝরা রোদ এসে পড়েছে ড্রয়িংরুমের বারান্দায়। মায়রা আর তার ছোট ভাই ‘ঋহান’ পুরো ঘর জুড়ে দুষ্টুমিতে মেতে আছে।

পাশেই বসে আছে তিন বছর বয়সী এমির।এমির হলো পিটার আর অ্যানির ছেলে।

নয় বছরের মায়রা নিজের ছোট দুই ভাইয়ের রক্ষাকবচের মতো পাশে থাকে সবসময়।

পিটার আর অ্যানি ওদের সামলাতে ব্যস্ত, আর হাসির রোলে মুখরিত চারপাশ।

আজ তারা সবাই অবস্থান করছে

আমেরিকার কলোরাডোর Estes Park। চারদিকে যতদূর চোখ যায়, শুধু পাহাড় আর পাহাড়। দূরের আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রকি মাউন্টেনের বিশাল পাথুরে শৃঙ্গগুলো সন্ধ্যার শেষ আলোয় যেন সোনালি আভা মেখে নিয়েছে। কোথাও কোথাও পাহাড়ের চূড়ায় জমে থাকা বরফ শেষ সূর্যের আলোয় চিকচিক করছে। নিচে ঘন সবুজ পাইন আর ফারের বন, তার ফাঁক দিয়ে বয়ে চলেছে সরু পাহাড়ি ঝরনা। দূরে নীলচে শান্ত Lake Estes, যার জলে পাহাড়ের ছায়া পড়ে পুরো দৃশ্যটাকে ছবির মতো করে তুলেছে।

পাহাড়ের বুক ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা বিলাসবহুল রিসোর্টটির কাঠের বারান্দায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে ঋদ্ধ আর মেহেরিন। রিসোর্টের উষ্ণ আলো পেছন থেকে এসে দুজনের অবয়বকে নরম হলুদ আভায় ভাসিয়ে দিয়েছে। সামনে প্রকৃতির বিশালতা, অথচ দুজনের কাছে এই মুহূর্তে পৃথিবীটা যেন কেবল তাদের দুজনকে ঘিরেই থেমে আছে।

শীতল পাহাড়ি বাতাস মেহেরিনের খোলা চুলগুলো উড়িয়ে দিচ্ছে। সে দুহাত রেলিংয়ের ওপর রেখে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে দূরের পাহাড়ের দিকে।

“এত সুন্দর একটা জায়গা পৃথিবীতে সত্যিই আছে, ঋদ্ধ?”

মেহেরিনের কণ্ঠে বিস্ময়।

ঋদ্ধ তার পাশে এসে দাঁড়াল। কিছুক্ষণ কোনো উত্তর দিল না। শুধু মেহেরিনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।

“জায়গাটা সুন্দর,

ধীর কণ্ঠে বলল সে,

“তবে তোমার চোখে দেখলে হয়তো আরও সুন্দর লাগে।

মেহেরিন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই ঋদ্ধর চোখে চোখ আটকে গেল তার।

দূরে পাহাড়ের গায়ে তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে। আকাশের নীল রং ধীরে ধীরে গাঢ় হচ্ছে, একে একে জ্বলে উঠছে রিসোর্টের ছোট ছোট আলো। আর সেই নিস্তব্ধতার মাঝেও দুজনের নীরবতাটা যেন আলাদা কোনো ভাষায় কথা বলে চলেছে।

মেহেরিন আবার সামনে তাকাল।

পাহাড়ের ওপরে জমে থাকা মেঘগুলোকে দেখে তার মনে হলো—কিছু সৌন্দর্য শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা যায় না। শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে অনুভব করতে হয়।

ঋদ্ধ ধীরে ধীরে তার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিল।

মেহেরিন কোনো আপত্তি করল না।

দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রইল সেই পাহাড়ি সন্ধ্যায়—সামনে রকি মাউন্টেনের অসীম সৌন্দর্য, মাথার ওপর ধীরে ধীরে জেগে ওঠা তারাভরা আকাশ, আর তাদের মাঝখানে নিঃশব্দে জমে থাকা এক টুকরো ভালোবাসা।

হাত দুটো মেহেরিনের কোমর পেঁচিয়ে পিঠের সাথে জড়িয়ে ধরল।

মেহেরিন আড়চোখে স্বামীর দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসল।

​"কী ভাবছ পাখি?

ঋদ্ধ মেহেরিনের ঘাড়ে আলতো করে থুতনি রেখে শুধাল।

​মেহেরিন পেছনের দিকে মাথা হেলিয়ে ঋদ্ধর বুকে ভর দিয়ে বলল,

"ভাবছি একসময় আমার জীবনটা কতটা বিষাদ আর অন্ধকারের ছিল। নিঃসঙ্গতা আর অভিমানে মনটা কেমন পাথর হয়ে গিয়েছিল, তাই না?

​ঋদ্ধ মেহেরিনের কপালে ভালোবাসার ছোঁয়া দিয়ে নিচু আর গভীর গলায় বলে উঠল—

"কিন্তু এখন আর সেই বিষাদ নেই, মেহেরিন। তুমি এসে আমার এই থমথমে ছন্নছাড়া জগতটাকে বদলে দিয়েছ। আমাদের এই সুন্দর পরিবার, বাচ্চাদের খিলখিল হাসি—সবকিছু প্রমাণ করে যে, দুঃখের সেই সব আঁধার ডিঙিয়ে আজ আমাদের এই বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন ঘটেছে।

​মেহেরিন ঋদ্ধর বুকে নিজের মুখটা আরও একটু লুকিয়ে নিয়ে পরম তৃপ্তিতে চোখ দুটো বুজল। বাইরে তখন মিষ্টি হাওয়ায় দুলছে বসন্তের ফুল, আর ভেতরে ভালোবাসায় পূর্ণ এক অখণ্ড পৃথিবীর নিঃশব্দ উদযাপন।

~~ সমাপ্ত ~~


✦ রাইটার'স নোট ✦


13-01-2026 / 18-08-2026
দীর্ঘ প্রায় আট মাসের এই যাত্রায় যারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার পাশে ছিলেন, গল্পটা পড়েছেন, অপেক্ষা করেছেন, মতামত দিয়েছেন এবং ভালোবেসেছেন—সবার প্রতি রইলো আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। গল্পটা চাইলে আমি আরও বড়ো করতে পারতাম,তবে এতে সৌন্দর্য নষ্ট হতো বলে মনে হচ্ছে আমার।
সত্যি বলতে, দ্বিতীয় বিয়ে কিংবা পরকীয়া বিষয়গুলো আমার কাছে সবসময়ই খুব সংবেদনশীল। এসব শুনলেই ভেতরে একধরনের ভয় আর কষ্ট কাজ করে। হয়তো একে ফোবিয়াও বলা যায়। তাই গল্পের চরিত্রগুলোর কষ্ট, দ্বন্দ্ব আর অনুভূতিগুলো লিখতে গিয়ে আমিও অনেকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। জানি না গল্পটা কতটা গুছিয়ে লিখতে পেরেছি, কিংবা চরিত্রগুলোর যন্ত্রণা কতটা নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে পেরেছি। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত—প্রতিটি পর্ব আমি আমার সর্বোচ্চ ভালোবাসা, অনুভূতি আর আন্তরিকতা দিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি। ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন আর উৎসাহই আমার লেখালেখির সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
অসংখ্য ধন্যবাদ সবাইকে।

~জান্নাতী আক্তার সিমি~
লেখিকার প্রোফাইল ঘুরে আসুন

আপনি চাইলে আমাকে এক কাপ কফি খাওয়াতে পারেন
☕☕
বিজ্ঞাপন
বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক উপন্যাস