বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন

পর্ব - ২৯

🟢

বেশ মনোযোগ দিয়ে তাহসিন এর ফাইল গুলো দেখছে ঋদ্ধ।

সামনে বসে থাকা তাহসিন এতে কিছুটা সস্তি পেলো ভেতরে ভেতরে। তারপরও কিছুটা নার্ভাস সে ঋদ্ধ আর মৈনাক জানপ্রাণের বন্ধু ছিলো তার জানামতে মেহেরিনকেও বেশ স্নেহ করতো ঋদ্ধ। তাই এই ডিলে যদি কোনো সমস্যা করে তবে তাহসিন আর নিজের বাবার গড়া কোম্পানি টা বাচাতে পারবে না।

"It's great ,,

ঋদ্ধ র বলা কথায় ধ্যান ভাঙলো তাহসিন এর।

আপনার কাজ আমার অনেক বেশি পছন্দ হয়েছে মি.তাহসিন আহমেদ দেখে মনে হচ্ছে অনেক বেশি কষ্ট করেছেন এই প্রোজেক্ট এর জন্য।

" জী স্যার ,,

চকচক করে উঠলো তাহসিন এর চোখমুখ।

"স্যার তাহলে কি আপনি ডিলটাতে রাজি হচ্ছেন?

" উমমম ডিলের বিষয় টা নিয়ে আমি ভাববো তাছাড়া আমার ড্যাড ফাইলগুলো আরও একবার চেক করবে।

মুখ কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে আসলো তাহসিন এর ভেবেছিলো আজকেই ডিলটা পেয়ে যাবে কিন্তু তা আর হলো কই।

"জী ,,

"Why do you look nervous, Mr. Tahsin?

থতমত খেয়ে গেলো তাহসিন ,, জিভ দ্বারা নিজের ঠোঁট ভিজিয়ে নিলো একবার।

" তে ,তেমন কিছু নয় স্যার আসলে৷

"Ok ,, ok I understand ,,

বলতে বলতেই একটা কার্ড রাখলো ঋদ্ধ তার সামনে।

এটা আমার রিসেপশন এর কার্ড আপনি এবং আপনার পুরো ফ্যামেলি মেম্বার নিয়ে উপস্থিত থাকবেন।

ডিলটা নিয়ে ফাইনাল কথা সেদিনই হবে।

তাহসিন মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো কার্ডটা হাতে তুলো নিলো।

" Now you can go .,

তাহসিন উঠে গেলেই ঋদ্ধ বাঁকা হাসলো।

তাহসিন বেড়িয়ে যেতেই পিটার ভেতরে আসলো।

"স্যার আপনি কী ডিলটা ক্যান্সিল করে দিয়েছেন?

বেশ কৌতুহল নিয়ে প্রশ্ন করলো।

" নাহ৷

পিটার অবাক হলো তাহসিন যে মেহেরিন এর এক্স হাসবেন্ড আর মায়রার বায়োলজিকাল ফাদার তা জানা পিটারের।

তাহলে ঋদ্ধ ডিল ক্যান্সিল কেন করলো না।

ঋদ্ধ হয়তো বুঝলো পিটারের মনোভাব।

উঠে পরলো চেয়ার থেকে রুম থেকে বেরোতে বেরোতে পিটারকে উদ্দেশ্য করে বললো --

"পিটার ডিল এর বিষয় টা তোমার ম্যাম ডিসাইড করবে।আর মনে রেখো আমার রিসেপশনে কিন্তু তাহসিন এর পুরো পরিবার উপস্থিত থাকবে।

" পিটার অবাক চোখে ঋদ্ধ র যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।

অদ্ভুত মানুষ তার স্যার ম্যামকে কষ্ট দেওয়া মানুষটাকে রাস্তায় নামানোর সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করলো কেন?

-----------------------------

মেহেরিন বেশ অবাক হয়েছে আফিয়া চৌধুরীর উপস্থিতিতে তবে আফিয়া চৌধুরী একা আশে ননি সাথে তানিশাকেও নিয়ে এসেছে।

মায়রা নিজের গ্র্যানমম কে দেখে খুশি হলেও তানিশাকে দেখে যে খুশি হয়নি তা উপস্থিত সকলেই বুঝেছে।

"কেমন আছো মায়রা বেবি?

তানিশা হাসি মুখে প্রশ্ন টা করতেও মায়রার গম্ভীর মুখে উত্তর করে৷

" তুমিও এসেছো ,,?

থতমত খেয়ে যায় তানিশা।

সাথে উপস্থিত সবাই।

মেহেরিন শাসিয়ে বলে উঠলো --

মায়রা এসব কেমন কথা আন্টিকে কেউ এভাবে বলে।

মায়রা মুখ টা ফুলিয়ে নিলো।তার তো পছন্দ নয় এই আন্টিকে মাম্মা কেন বোঝেনা এই আন্তিতা তার পাপার সাথে কেমন চিপকে থাকে।

"সমস্যা নেই ওকে বকোনা ছোট তো ও।

হাসি মুখে বললো তানিশা।

মেহেরিন ও হাসার চেষ্টা করলো।

বিজ্ঞাপন

" আর বলোনা দিনে দিনে কি যে পাকা হচ্ছে আর কার থেকে এসব শিখছে আমি সত্যি বুঝে উঠতে পারিনা বসো প্লিজ।

মায়রা তো মহা খুশি নিজের গ্র্যানমম কে দেখে এসে থেকে দাদির কোলেই আছে এটাওটা বলছে আফিয়া চৌধুরী মনোযোগ দিয়ে শুনছে উত্তর করছে।

"গ্র্যান্ডমম জানো পাপা আমাতে একটা ডল কিনে দিয়েছে কাল!

" সত্যি?

"হু৷ তুমি দেকবে?

" হ্যা অবশ্যই মায়রা দৌড়ে নিজের ডল নিতে চলে গেলো।

রুপসা অ্যানি ব্যাস্ত হয়ে পরেছে আফিয়া চৌধুরী আর তানিশার আপ্যায়ন করার জন্য।

অ্যানি আর রুপসা প্রস্থান করলে মেহেরিন শান্ত গলায় বলে উঠলো --

"হঠাৎ আপনাদের আগমনের কারনটা বুঝলাম না?

আফিয়া চৌধুরী যানতেন তিনি এই প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন আর এটাই স্বাভাবিক। তার সাথে তো মেহেরিন এর সম্পর্ক টা স্বাভাবিক নয় জটিল তো তিনি নিজেই করেছেন এবং এটা নিয়ে এখন পস্তাচ্ছেন।

" শুনলাম মায়রার অসুস্থ হয়ে পরেছিলো তাই দেখতে এলাম।

কেন তুমি খুশি হওনি?

"মেহেরিন অদ্ভুত চোখে তাকালো দুদিন আগেও এই মানুষ টা তার সন্তানকে নিজের বংশপরিচয় দিতে অস্বীকার করছিলো তাকে ছেলের বউ বানাবেনা বলে জানিয়েছিল। আজ হঠাৎ এতো দরদ।

" আমাকে ক্ষমা করো মেহেরিন আমি ভুল ছিলাম!

বিস্ময় নিয়ে তাকালো মেহেরিন।

তানিশাও মাথা নিচু করে আছে।

"আমি ছেলের খুশির থেকে নিজের জেদকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে ফেলেছিলাম।

বলতে বলতে তার চোখ ভিজে উঠলো। আচমকা তিনি মেহেরিন এর এক হাত ধরে ফেললেন।

আমার শুধু একটাই চাওয়া আমার সন্তানকে তুমি আমার থেকে আলাদা করোনা।

"কি বলছেন এসব আমি কেন ঋদ্ধ কে আপনার থেকে আলাদা করবো?

একটা ঢোক গিললো আফিয়া চৌধুরী।

" সাত বছর আগে তুমি আমার জন্য ঋদ্ধ কে ছেড়েছিলে অন্য কাউকে বিয়ে করেছিলে এ কথা ঋদ্ধ জানতে পারলে আমাকে কখনোই মা হিসেবে মানবে না সে আমার থেকে আলাদা হয়ে যাবে বলতে বলতে চোখের পানি ছেড়ে দিলেন তিনি।

মেহেরিন বুঝলো সবটা সে এমনিতেও এসব কখনোই ঋদ্ধ কে বলতো না সে কখনোই চায় না ঋদ্ধ তার মায়ের থেকে আলাদা হোক।

"আমাকে মাফ করো মেহেরিন তবুও তুমি আন্টিকে ঋদ্ধ র থেকে আলাদা করো না প্লিজ।

তানিশার কথায় তার দিকেও চাইলো মেহেরিন।

ফোস করে দম ছারলো সে।

আফিয়া চৌধুরী র হাতটা শক্ত করে চেপে ধরলো --

" আমি এতোটা পাষাণ নই আন্টি আপনি চিন্তা করবেন না ঋদ্ধ এসব কখনোই জানতে পারবে না।

মেহেরিন এর কথা শুনে চিন্তা মুক্ত হলেন আফিয়া চৌধুরী। তিনি চেনেন মেহেরিন কে সে কখনো মিথ্যা বলেনা এটা তার জানা।

এর মাঝেই রুপসা বিভিন্ন ফুলমুল মিষ্টি নিয়ে হাজির হলো।

এতে করে তিনজনেই স্বাভাবিক হয়ে গেলো চটপট।

---------------------------------

দুটি ন*গ্ন দেহ একে অপরকে আষ্টেপৃষ্ঠে জরিয়ে আছে।তাদের মাঝে একচুলও ফাক নেই।দুজন দুজনের দে*হকে তৃপ্ত করতে ব্যাস্ত।মধ্যবয়সি পুরুষটি নিজের ঠোঁট ও হাতের স্পর্শে ব্যাকুল করে তুলছে রমনীকে। মেয়েটিও পরম সুখে গু*ঙিয়ে উঠছে থেকে থেকে।

প্রায় দু-ঘন্টা দুজনের এই অ*বৈধ মিলনের পর থামলো।

তুলি মাত্র গোসল শেষ করে আসলো পরনে তার হাঁটু সমান সিল্কের নাইটি যা তার শরী*রে র বেশিরভাগ অংশই দৃশ্যমান করে।

পুরুষটি তখনও বিছানায় শুয়ে তার পরনে কোনো কাপড় অবশিষ্ট নেই তবে কোমর পর্যন্ত ব্ল্যাংকেট টেনে রাখা।

তুলি ধীর পায়ে অর্ধবয়স্ক পুরুষটির কাছে গিয়ে তার কোলের ওপর বসে গলা জরিয়ে ধরলো।

পুরুষটিও বেশ মজা পেলো নিজের হাত দারা মেয়েটির নি*ষিদ্ধ জায়গাগুলো ছুয়ে দিতে লাগলো।

তুলি বাধা দিলো না।

নিজের ন্যাকা কন্ঠে বললো --

"ডার্লিং অনেক তো হলো কবে বিয়ে করছো আমায়?

পুরুষটি ততক্ষণে মেয়েটির দেহে নিজের সুখ খুজতে ব্যাস্ত এমন সময় এই কথাটিতে সে বিরক্ত হলেও তার প্রকাশ করলো না।

" খুব তারাতাড়ি ডার্লিং। কিন্তু তার আগে তো তোমার ডিভোর্স হওয়াটা দরকার বলো।

"এটা ঠিক বলেছো তাহলে আমি দুএক দিনের ভেতরে তাহসিন এর সাথে ডিভোর্স এর কথা বলছি।

কথাগুলো লোকটির কানে ঢুকেছে কিনা বোঝা মুসকিল। সে শুধু মাথা নাড়ালো।তুলি খুশি হয়ে গেলো।

ততক্ষনে পুরুষটি নারী শরীর কে উন্মু*ক্ত করে ফেললো তুলিও সায় জানালো আবারও দুজন দুজনের দে*হে মেতে উঠলো।

বিজ্ঞাপন
বিবশ হৃদয়ে বসন্তের আগমন গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক উপন্যাস