_ আমাকে ছেড়ে যাবি না তুলি, আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না। তুই যা বলবি যেই শাস্তি দিবি সব মাথা পেতে নেবো আমি কিন্তু তুই আমাকে ছেড়ে যাস না। আমি নিজেকে পরিবর্তন করবো, তুই যেভাবে বলবি সেভাবেই চলবো। আমি তোকে অন্য কারো সাথে সহ্য করতে পারবো না , আমি ম/রে যাবো তুলি। তুই অন্য কারো হলে আমি সত্যি সত্যিই ম/রে যাবো।
ইমরান এভাবে পা জড়িয়ে ধরবে কল্পনাও করেনি তুলি। এমন আচরণে থ হয়ে তাকিয়ে রইলো ইমরানের দিকে। ইমরান হাঁটুতে ভর করে ওর হাঁটু জড়িয়ে ধরে মাজার সাথে মাথা ঠেকিয়ে একই বাক্য জপে চলেছে। নিচু হয়ে ইমরানকে সরানোর চেষ্টা করে বলে,
_ কি করছো মাথা খারাপ হয়েছে নাকি ? এভাবে পা জড়িয়ে ধরেছো কেন ? পা ছাড়ো।
_ না ছাড়বো না, তুই আগে বল তুই আমাকে ছেড়ে যাবি না। তুই অন্য কারো বউ হবি না। তুই আমার শুধু আমার, তুই আমার থাকবি , আমার কাছে আমার সাথেই থাকবি বল।
_ না থাকবো না, ছাড়ো এখন।
_ জীবনেও ছাড়বো না। এভাবে বসে ধরে রেখেই ম/রে যাবো তাও ছাড়বো না। আমি ম/রে গেলেও তুই শুধু আমারি থাকবি। তোকে ছোঁয়ার অধিকার ইহ জগতের কারো নেই। তোকে ছোঁয়ার অধিকার যদি কারো থাকে সেটা শুধু মাত্র আমার এই ইমরান মাহমুদুল এর।
_ দেখো ডাক্তার তোমার সাথে কিন্তু এসব যায় না। তোমার পার্সোনালিটি এমন নয়। আমাকে ছাড়ো আর নিজের আসল রূপে ফেরো।
_ আরে রাখ তোর পার্সোনালিটি। আসল রূপ আর পার্সোনালিটি ধুয়ে আমি পানি খাবো নাকি ? তুই এমন কেন করছিস তুলি ? তুই তো আমার সম্পর্কে অবগত বল ! আমি চাইলেও নিজের অনুভূতি কাউকে বোঝাতে পারি না। কারো অনুভূতি বুঝতে পারি না, নিজের অনুভূতিও বুঝতে পারি না। তুই আমাকে হার্ট লেস বলিস না ? আমি আসলেই হার্ট লেস মানুষ। তাইতো এত দিনেও তোকে বুঝতে পারিনি। যখন তোকে বুঝতে পারলাম তখন নিজের ইগোর কারণে তোকে বোঝাতে পারলাম না। তুই তো জানিস আমার ইগো বেশি। পুরোনো সব কিছু বাদ। তুই আমার কাছে থেকে যা। কষ্ট হলে একটু মানিয়ে নিবি। আমি চেষ্টা করবো নিজেকে তোর মনের মতো করে তৈরি করতে। তুই অন্য কারো বউ হলে আমি ম/রে যাবো। তোকে অন্য কেউ ছোঁবে আমি মানতে পারবো না। তোর আশে পাশে কাউকে সহ্য হয় না আমার। তুই আমার কাছ থেকে গিয়ে অন্য কারো বউ হবি , অন্য কেউ তোকে ছোঁবে, অন্য কেউ তোকে ভালোবাসবে , আমি কিভাবে সহ্য করবো তুলি ? তোর ওই কথা গুলো শুনেই আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। ওই কথা গুলো সত্যি হলে আমি শেষ হয়ে যাবো। তুই ওই কথা গুলো আর জীবনেও উচ্চারণ করবি না। আমি নিজের আগের সব অভ্যাস, স্বভাব পরিবর্তন করবো। তোর জন্য নিজেকে পরিবর্তন করবো।
_ আমার জন্য কেন নিজেকে পরিবর্তন করবে ? আমি কি হই তোমার যে আমার জন্য নিজেকে পরিবর্তন করবে ?
_ তুই জানিস না আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক কি ? তুই আমার বউ , আমার স্ত্রী, আমার অর্ধাঙ্গিনী, আমার সহধর্মিনী, আমার অন্তর্বাসিনি, আমার অনন্ত কালের সঙ্গিনী। তুই আমাকে ছেড়ে যাস না তুলি।
ইমরানের কথা গুলো শুনে তুলি ওর দিকে শুধু তাকিয়ে রইলো। মুখ দিয়ে আর কোনো কথা বের হচ্ছে না। ইমরানের বলা কথা গুলো মস্তিষ্কে রিপিট হচ্ছে বার বার। ইমরানকে আর উপেক্ষা করার সাধ্য আছে নাকি তুলির ? কথা গুলোর মধ্যে কি ছিল ? কি ছিল ওই কন্ঠে ? এই কথা , এই কন্ঠ তো ডাক্তার ইমরান মাহমুদুল এর না। তার কণ্ঠে এই সব বাক্য উচ্চারণ হতেই পারে না , অসম্ভব। শেষের বাক্য গুলো তে ছিল কাছে রাখার আকুলতা আর ব্যাকুলতা, তীব্র মায়া আর ভালোবাসা।
তুলি ইমরানের এলোমেলো অবিন্যস্ত চুলে হাত বুলায়। ইমরান মুখ তুলে তাকায়। দুই চোখে টলমলে পানি, চোখ দুটো কেমন লাল লাল হয়ে গেছে। এই ইমরানকে তুলি আজ প্রথম দেখছে। এই ইমরানের সাথে সাক্ষাৎ আজকের আগে কখনো কোনো দিন হয়নি তুলির।
তুলি ইমরানের দুই গালে হাত রাখে। ইমরানের হাতের বাঁধন আলগা হয়। তুলিও হাঁটুতে ভর করে বসে ইমরানের সামনে। ইমরানের হাত তখন তুলির পিঠে।
ইমরানের দুই গালে হাত রেখেই বলে,
_ ভালোবাসো ?
মাথা ঝাঁকায় ইমরান , ভালোবাসে।
_ তুই ভালোবাসিস না আমায় ?
_ বাসি তো , অনেক আগে থেকেই ভালোবাসি তোমাকে।
_ বলিসনি কেন তাহলে ?
_ তুমিও তো বলোনি।
_ তুই তো জানিস আমি কেমন। কিন্তু তুই তো আমার মতন না। তুই কেন বলিসনি ? সব কিছুতেই তো ত্যারামি করিস, তাহলে ত্যারামি করে অধিকার খাটিয়ে কেন আমার কাছে আসিসনি ? ভালোবাসতে কেন বাধ্য করিসনি ? আমি দূরে থেকেছি বলে তুই কেন দূরে থেকেছিস ? জোর খাটাতে পারিসনি ? অধিকার দেখাতে আসিসনি কেন ? তোর তো অধিকার ছিল আছে আমার উপর। ছেলেরা চাপা স্বভাবের হয়। আমরা সব কিছু চেপে রাখতে পারি কিন্তু তুই কেন চেপে রেখেছিস ? তোরা মেয়েরা তো কোনো কিছু চেপে রাখতে পারিস না, তাহলে কেন চেপে রেখেছিস ?
_ এখন সব আমার দোষ ? তুমি আমাকে সব সময় তোমার কাছ থেকে দূরে রেখেছো। নিজের কাছে তো ঘেঁষতেও দাওনি।
_ অধিকার তো ছিল জোর করে কেন আগাসনি ?
_ সব সময় অধিকার খাটালেই সম্পর্ক ঠিক হয় না।
_ সরি।
_ আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছো তুমি।
_ সব কিছুর জন্য সরি। আর কোনো কষ্ট পেতে দেবো না। কোনো কষ্ট আর ছুঁতে পারবে না তোমাকে।
তুলির চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানি মুছে দেয় ইমরান। গালে হাত রেখে বলে,
_ এত ভালোবেসেও আমাকে একা ফেলে বাংলাদেশে ফিরে যেতে চেয়েছিলে কেন ?
_ কে যেতে চেয়েছে ?
_ তুমি।
_ কখন ?
_ কতক্ষন আগেই তো বললে বাংলাদেশে ফিরে যাবে।
_ ওটা তো এমনিই বলেছিলাম।
_ মানে ?
_ বাংলাদেশে যদি ফিরেই যাবো তাহলে এসেছিলাম কেন এত দূর ?
_ তুমি ফিরে যাচ্ছো না ?
_ না।
_ লিয়াম এর কাছে টাকা চাওনি ?
_ নাহ্ ।
_ মিথ্যে বলেছো আমাকে ?
_ হ্যাঁ। মিথ্যে না বললে তো তুমি সত্যি বলতে না। দিনের পর দিন আমাকে কষ্ট পেতে হতো। নিঃসঙ্গতায় ডুবে পাগল হয়ে যেতাম। তোমার অবহেলা , আমার দিকে ফিরে না তাকানো, আমার সাথে কথা না বলা এই সব কিছু আমাকে ভেতর থেকে শেষ করে দিচ্ছিল। সহ্য করতে পারছিলাম না আর। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছিলাম বাংলাদেশে ফিরে যাবো। তারপর মনে হলো আরো কিছু দিন দেখি যদি তোমার মন পরিবর্তন হয়। যদি একটু মায়া জন্মে আমার জন্য, যদি একটু ভালোবাসো।
জড়িয়ে ধরে তুলি কে। বলতে দেয় না আর কিছু। কেন যেনো তুলির বলা কথা গুলো বুকে আঘাত হানছে।
শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখে বলে,
_ আর অবহেলা করবো না, একটুও না। অনেক মায়া জন্মেছে তোমার প্রতি। অনেক ভালোবাসি তোমাকে। নিজেকে পুরোপুরি পরিবর্তন করে ফেলবো। আমার জন্য তোমাকে আর কস্ট পেতে হবে না। তোমার যেমন আমি কে পছন্দ সেরকম ভাবে নিজেকে গড়ে তুলবো। শুধু তুমি বাকি জীবন টা আমার সাথে পাড় করবে আমার সাথে , আমার হাত ধরে।
_ আমি তোমার আছি , তোমার ছিলাম আর তোমারই থাকবো। অনন্ত কাল আমি তোমার , তুমি আমার। তোমাকে পরিবর্তন হতে হবে না। আমি এমন তুমি কেই ভালোবেসে ছিলাম। বেশি কিছু চাই না আমি শুধু চাই, তোমার চব্বিশ ঘণ্টা সময় থেকে কয়েক ঘণ্টা আমাকে দেবে। তোমার ব্যস্ত সময় থেকে সময় বের করে আমার সাথে একটু কথা বলবে। আর রোজ একটু করে ভালোবাসবে, আর তারপর আস্তে আস্তে অনেক বেশি ভালোবাসবে।
_ মাত্র এত টুকু ?
_ হুম , তোমার কাছে এত টুকু মনে হলেও এই টুকুই আমার কাছে অনেক।
_ আর এক ডজন বাচ্চা যে চাইলে ?
_ তুমি চাইলেই হবে।
_ এক ডজন বাচ্চা দিয়ে তুমি সুস্থ থাকবে ?
_ ডাক্তার হয়েছো কি করতে ? তুমি চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ রাখবে আমাকে।
হেসে ওঠে ইমরান।
হঠাৎ লিয়াম এর কথা স্মরণ হয়।
_ তুমি আর লিয়াম প্ল্যান করে আমাকে জ্বালাতে তাই না ?
_ জ্বলতে তুমি ?
_ সে আর বলতে। মাঝে মধ্যে তো ইচ্ছে করতো লিয়ামকে ফুটবলের মতো কিক দিয়ে মাঠের বাইরে আই মিন ফ্ল্যাটের বাইরে পাঠিয়ে দেই।
_ লিয়াম ভাইয়া অনেক ভালো মনের একজন মানুষ।
_ হুম ভালো মনের মানুষ। ও এই পর্যন্ত যত বার গার্লফ্রেন্ড চেঞ্জ করেছে আর মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করেছে তুমি তোমার এত বছরে তত বার ওয়াশরুমেও যাওনি। কোনো ডাক্তার এমন লুচু হয় আমি জীবনে দেখিনি।
ইমরানের কথা শুনে হাসে তুলি। তুলির ও লিয়ামকে দেখে প্রথম দিকে বেশ অবাক লাগতো। ওর জানা মতে ডাক্তাররা হয় গম্ভীর চুপ চাপ স্বভাবের। এদের ঠোঁটে কোনো দিন হাসির দেখা মেলে না। সেখানে লিয়াম একজন সার্জন হয়েও কেমন হাসি খুশি রিল্যাক্স মুডে থাকে। লিয়ামকে একবার ও তুলি গম্ভীর বা চুপ চাপ দেখেনি।
_ আমার মাঝে মধ্যে ভীষণ অবাক লাগে যে লিয়াম আমার ফ্রেন্ড। আমাদের দুজনের পার্সোনালিটি একদম আলাদা। কিন্তু তার পরেও আমরা ফ্রেন্ড। লিয়াম আমাকে প্রচন্ড বিরক্ত করতো আগে। যখন বুঝতো আমি বিরক্ত হচ্ছি তখন আরো বেশি করে বিরক্ত করতো। তবে তুমি ঠিকই বলেছো লিয়াম যেমন চরিত্রের হোক না কেন ফ্রেন্ডের দিক থেকে আসলেই ভালো মনের ছেলে। ওর সাথে থাকলে মন খারাপ ভালো হয়ে যায়।
তুলি ইমরানের বুক থেকে মুখ তুলে ইমরানের মুখের দিকে তাকায়।
_ তুমি যদি আমার সাথে ঠিক ভাবে কথা না বলো, আগের মতো খ্যাক খ্যাক করো তাহলে কিন্তু আমি বাংলাদেশে ফিরে যাবো আর অন্য সুন্দর মিষ্ট ভাষী ছেলেকে বি
আর বলতে পারে না তুলি। ইমরান নিজের ওষ্ঠদয় দিয়ে তুলির ওষ্ঠদয় চেপে ধরে। হঠাৎ আক্রমণে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে তুলি। কিছু সময় পেরিয়ে যায়। ইমরান ছেড়ে দেয় তুলি কে। তুলি যেন এখনো ঘোরের মাঝেই রয়েছে।
_ আরো বলবি এসব কথা ?
তুলি দুদিকে মাথা নাড়ায়। মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না। ইমরান কিছু সময় তুলির মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে আবার চেপে ধরে ওষ্ঠদয়। তুলি
নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা না করে ইমরানের সাথে তাল মেলায়। রেসপন্স পেয়ে ইমরান আর নিজেকে সামলাতে পারে না। আরো শক্ত করে চেপে ধরে তুলিকে , একই সাথে ধরে তুলিও।
শ্বাস ফুরিয়ে এলে দুজনেই দুজন কে ছেড়ে দেয়। জোড়ে জোড়ে শ্বাস টেনে নেয় দুজনেই। ইমরান উঠে দাঁড়ায়। তুলিকে পাঁজা কোলে তুলে বেডে শুইয়ে দেয়। রুমের বড় লাইট অফ করে ড্রিম লাইট অন করে। তারপর দ্রুত এগিয়ে আসে বেডের কাছে। তুলি তাকিয়ে আছে ইমরানের দিকেই।
গায়ের টিশার্ট খুলে ফ্লোরে ফেলে দেয়। আলগোছে তুলির উপর ছেড়ে দেয় নিজের ভর। তুলির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,
_ আমাদের না হওয়া বাসর টা আজ হলে তোমার কোনো আপত্তি আছে ?
তুলির কান গরম হয়ে ওঠে। মুখে বলতে পারে না কিছুই। দুই চোখ খিঁচে বন্ধ করে খামচে ধরে বেড কভার। ইমরান মুচকি হাসে। মুখ তুলে তুলির মুখের দিকে তাকায়। বন্ধ চোখের পাতায় আলতো করে চুমু খায়। আরেকটু উচু হয়ে পুরো মুখে ফু দেয়। চোখ মেলে তাকায় তুলি। ইমরান হেসে আবার মুখ এগিয়ে নেয় তুলির কানের কাছে। ফিসফিস করে বলে,
_ নীরবতা সম্মতির লক্ষণ। তাহলে ধরে নেবো তোমার সম্মতি আছে ?
তুলি তবুও কিছু বলে না। ইমরান আগের মতোই ফিসফিস করে বলে,
_ যা ছিল আজ অপ্রত্যাশিত, অকল্পনীয় তাই হবে। আমাদের দুজনের এই #অযাচিত_প্রণয় আজ পূর্ণতা লাভ করবে।
ইমরানের ফিসফিস করে বলা কথা গুলো শুনে কেঁপে ওঠে তুলি।
ইমরান আবারো ফিসফিস করে বলে,
_ আগামী বছর এই দিনে এক ডজন বাচ্চাদের মধ্য থেকে একজন থাকবে তোমার কোলে, আল্লাহ তায়ালা মুখ তুলে চাইলে দুজন ও থাকতে পারে। আমার তো আবার এনার্জি কম না।
তুলির কান গরম হয়ে ওঠে আবার। কি নির্লজ্জ লোকরে বাবা। এই কি সেই ইমরান ? নাকি জ্বীন ভূ/ত ভর করেছে ?
_ রাত তো ফুরিয়ে যাচ্ছে। তোমার মাঝে ডুবে যেতে আর তর সইছে না, ডুব দেই ?
বলেই তুলির কানের লতিতে চুমু খায়। আবারো কেঁপে ওঠে তুলি। ঘাড়ে আলতো করে কামড় দেয় কয়েক টা।
সময়ের ব্যবধানে তলিয়ে যায় একে অপরের মাঝে।