অযাচিত প্রণয়

পর্ব - ১১

🟢

পরের দিন বেশ বেলা করে ঘুম থেকে ওঠে তুলি। গত রাতে দুটো মুভি দেখে ঘুমিয়েছিল শেষ রাতের দিকে।

তাই এখন আর ঘুম ছুটতে চাইছে না। মনে হচ্ছে আরও কতক্ষন ঘুমিয়ে নিতে। কিন্তু ঘুমোনো যাবে না। ইমরানের জন্য রান্না করতে হবে। ও খাবার খাবে তারপর মেডিসিন খাবে। এমনিতেই অনেক বেলা হয়ে গেছে। বেড থেকে নেমে হেলে দুলে ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। একে বারে শাওয়ার নিয়ে নেবে।

,

রান্না শেষ করতে করতে প্রায় এগারোটা বেজে যায়।

তাড়াহুড়ো করে ডাইনিং টেবিলে খাবার সাজিয়ে রেখে ইমরানের রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। ডোর খোলাই রয়েছে তাই ডোর ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে। পুরো রুম অন্ধকারে তলিয়ে আছে এখনো। মনে হচ্ছে এখনো বোধহয় মাঝরাত। এগিয়ে গিয়ে লাইট অন করে। ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে তুলির চোখ কপালে। রুমের প্রায় অর্ধেক জিনিস এলোমেলো করে ফ্লোরে ছড়িয়ে রেখেছে।

তাকায় বেডের দিকে। বালিশ ছাড়া ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে মাজা অব্দি ঢেকে উপুর হয়ে ঘুমিয়ে আছে। তিন টা বালিশ ই ফ্লোরে পড়ে আছে। বেডে শুয়েও আছে এলোমেলো হয়ে।

তুলি বালিশ তিন টা তুলে বেডের এক পাশে রাখে। ইমরানের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে ডেকে ওঠে,

_ ঘুম থেকে ওঠো।

কোনো সাড়া শব্দ নেই।

গায়ে হাত দিতেই বুঝতে পারে জ্বর এখন আগের মত আর ওঠেনি। ধাক্কা দিয়ে বলে,

_ শুনতে পাচ্ছো ? ওঠো।

নড়ে চড়ে ওঠে ইমরান। চোখ বন্ধ রেখেই ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে পুরো শরীর ঢেকে নেয়। তারপর ঘুম জড়ানো গলায় বলে,

_ দেরি আছে।

_ এগারোটার উপরে বেজে গেছে।

_ তো কি হয়েছে ? আমি তো ঘুমিয়েছিই একটু আগে।

জ্বালাবে না তো যাও।

_ রাত তিন টার সময় ঘুমিয়ে বলছো একটু আগে ঘুমিয়েছি।

_ সকালে আটটার পর ঘুমিয়েছি।

_ কি বললে ?

মাথা তুলে তুলির মুখের দিকে তাকায়।

_ কখন ঘুমিয়েছো ?

_ এক বছর আগে।

বিরক্ত হয় তুলি। টেনে গায়ের উপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে নেয়। ভাঁজ করতে করতে বলে,

_ রাতে মাথায় ভূ/ত চড়ে বসেছিল নাকি ? রুমের এই অবস্থা করেছো কেন ?

ইমরান নিজেও ফ্লোরের দিকে তাকায়। সত্যি বলতে তো রাগে এই অবস্থা করেছিল। কিন্তু কিসের জন্য রাগ হচ্ছিল ইমরান নিজেই বুঝতে পারেনি। একে তো রাগ হচ্ছিল তার উপর আবার ঘুম আসছিল না।

শেষে মেজাজ ঠান্ডা করার জন্য রুমের বারোটা বাজিয়ে ছিল। শুয়ে বসে ছটফট করতে করতে সকালে আটটার পর ঘুমিয়েছিল।

এখনো ঘুম ছাড়েনি, মাথা ভার ভার হয়ে আছে। আরেকটু ঘুমোতে পারলে ভালো লাগতো।

তুলি বালিশ আর ব্ল্যাঙ্কেট জায়গা মত রাখতে রাখতে বলে,

_ যাও ফ্রেশ হয়ে আসো। খাবার খেয়ে মেডিসিন খাও। নয়তো আবার জ্বর বেড়ে যাবে।

_ আমাকে নিয়ে অত ভাবতে হবে না তোমার।

তুলি ঘাড় ঘুরিয়ে ইমরানের দিকে তাকিয়ে বলে,

_ তাহলে কাকে নিয়ে ভাববো ?

_ জানিনা আমি।

_ আমি জানি। সে আসলে তাকে নিয়েই ভাববো, এখন কার মতন তোমাকে নিয়েই ভাবী। তোমাকে নিয়ে ভাবার মতন তো কেউ নেই এখন।

_ তুলি।

_ চিৎকার না করে ওয়াশরুমে যাও। খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।

রাগে গজগজ করতে করতে বেড থেকে নেমে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যায় ইমরান।

তুলি বেডের চাদর টান টান করে রেখে ফ্লোরের সব কিছু গুছিয়ে রাখতে শুরু করে।

,

খাবার খেতে বসেছে দুজন। খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে ইমরানের মুখের দিকে তাকায় তুলি। ইমরানকে দেখতে কেমন রাগী রাগী মনে হচ্ছে। রেগে আছে নাকি ?

খাওয়া শেষের দিকে আসলে তুলি বলে,

_ কিছু হয়েছে ?

খেকি দিয়ে ওঠে ইমরান।

_ কি হবে ?

চমকে ওঠে তুলি। বুকে থু থু দেয়। এভাবে বলতে হয় ? একটু ভালো ভাবে বললে কি হয় ? জীবনেও খ্যাক খ্যাক করা ছাড়বে না ব্যাটা ভন্ড বদ লোক। তুলি তবুও দমে না গিয়ে আবার বলে,

_ এভাবে বলার কি আছে ? একটু ভালো ভাবে কথা বলতে পারো না ? লিয়ামকে দেখো না কিভাবে কথা বলে ? ওতো তোমারি বন্ধু , এক সাথে এত বছর ধরে রয়েছো। ওর কাছ থেকে কিছু শিখতে তো পারো। ওকে দেখে শিখবে কিভাবে কথা বলতে হয়। সব সময় শুধু খ্যাক খ্যাক। আমি বলে তোমার খ্যাক খ্যাক শুনেও চুপ করে থাকি। অন্য কেউ আসলে কিন্তু তোমার এই খ্যাক খ্যাক করা স্বভাব সহ্য করবে না। মুখের উপর লাথি দিয়ে চলে যাবে। তাই লাথি না খেতে চাইলে আগে থেকেই ভালো ভাবে মিষ্টি করে কথা বলার ট্রেনিং নেবে লিয়াম এর কাছ থেকে।

_ চুপ করবি নাকি তুলে একটা আছাড় মারবো ?

_ এই যে আবার খ্যাক খ্যাক করছে। ভালো কথা বলছি ভালো লাগছে না ?

_ তোর মুখ কিন্তু সেলাই করে দেবো আমি।

_ সেলাই করার জন্য সুই সুতা লাগে। তোমার কাছে আছে সুই সুতা ?

_ মেজাজ টা গরম না করে চুপ কর।

_ মেজাজ সারা জীবন ঠান্ডা থাকবে তোমার। কোনো দিন আসবো না তোমার মেজাজ গরম করতে। তার বিনিময়ে আমাকে শুধু একটা বার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দাও। পাঠাতে হবে না শুধু টাকা দাও। প্রমিজ করছি বাংলাদেশে ফিরেই তোমার টাকা ব্যাক পাঠিয়ে দেবো।

বিজ্ঞাপন

ইমরানের রাগ তরতর করে বেড়তে থাকলেও বহু কষ্টে চুপ করে রইলো। রাত থেকে মেজাজ এমনিতেই গরম হয়ে রয়েছে। তুলির কথা গুলো শুনে এখন আরো গরম হচ্ছে।

ইমরানের মুখ লাল বর্ণ ধারণ করতে দেখে তুলি কিছু সময় তাকিয়ে থেকে বলে,

_ থাক তোমার টাকা দেওয়া লাগবে না। আমি নিজেই ম্যানেজ করে নেব।

ইমরান কিছু না বলে হাত ধুয়ে উঠে দাঁড়ায়। গজগজ করতে করতে লম্বা লম্বা কদমে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায়। রাগে মস্তিষ্ক টগবগ করছে।

তুলি খাওয়া শেষ করে টেবিল গুছিয়ে রাখে। এটো থালা বাসন কিচেনে নিয়ে ধুয়ে রেখে দেয়। তখন রান্নার পর কিচেন পরিষ্কার করা হয়নি। তাই এখন পরিষ্কার করে রাখে।

সব কাজ শেষ করে আয়েশি ভঙ্গিতে সোফায় গিয়ে বসে। সোফায় বসতেই রাতের কথা স্মরণ হয়। স্মরণ হতেই মুচকি হেসে ওঠে।

,

সন্ধ্যার পর লিয়াম আসে ওদের ফ্ল্যাটে। লিয়াম এর হাতে দুটো প্যাকেট রয়েছে। প্যাকেট দুটো তুলির দিকে এগিয়ে দেয়।

তুলি প্যাকেট দুটো হাতে নিয়ে বলে,

_ কি এগুলো ?

_ একটা গ্রিল চিকেন, চিংড়ি ফ্রাই আর সফ্ট ড্রিংকস।

_ এগুলো কেন ?

_ আমার খেতে ইচ্ছে করছিল। তারপর ভাবলাম প্যাকেট করে নিয়ে যাই তোমার আর ইমরানের সঙ্গে খাবো। তাই নিয়ে এসেছি, একা একা খাওয়ার চেয়ে কয়েক জন মিলে খেলে বেশি ভালো লাগে।

লিয়াম এর কথা শুনে মুচকি হাসে তুলি। লিয়াম ভুল কিছু বলেনি। একা খাওয়ার চেয়ে কয়েক জন মিলে খেলে আসলেই খাবারের স্বাদ যেন বেড়ে যায় কয়েক গুণ। সেই সঙ্গে একটা ভালো লাগাও কাজ করে মনে, তৃপ্তিও পাওয়া যায়।

_ ইমরান কোথায় ?

_ রুমে।

_ আচ্ছা তুমি এগুলো প্লেটে বেড়ে নাও আমি ইমরানকে ডেকে নিয়ে আসছি।

_ হুম।

তুলি প্যাকেট দুটো হাতে নিয়ে কিচেনের দিকে এগিয়ে যায়। লিয়াম ইমরানের রুমে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু ইমরান নেই রুমে। ওয়াশরুমের ডোরের দিকে তাকিয়ে দেখে ডোর ভেতর থেকে লক করা। তাই রুম থেকে বেরিয়ে আসে।

এসে দাঁড়ায় ড্রইং রুমে।

লিয়াম তুলিকে ছোট বোন বা বন্ধুর বউ ব্যতীত অন্য কিছু ভাবেনি কখনো। তুলি এখানে আসার পর থেকে লিয়াম যতটা হাসি খুশি থাকে তা আগে কখনো হয়নি। লিয়াম হাসি খুশি চঞ্চল স্বভাবের হলেও এখন কার মত ভালো লাগতো না আগে। লিয়াম হাজারো মেয়ের সাথে কথা বলেছে। অনেক মেয়ের সাথে রিলেশন ও করেছে। এখনো মাঝে মধ্যে ডেটে যায় জীবন সঙ্গী নির্বাচনের জন্য। তবে কাউকে সেভাবে কখনো ভালো লাগেনি লিয়াম এর। ও হাজারো মেয়ের সাথে ফ্লার্ট করলেও মন থেকে ভালোবাসতে পারেনি কাউকে। হসপিটালের নার্স, মহিলা ডক্টর , মহিলা পেশেন্ট দের সাথেও ফ্লার্ট করে। তারাও বিরক্ত না হয়ে উল্টো ওর তালে তাল মেলায়।

সেসবের মাঝে সাময়িক সময়ের জন্য আনন্দ পেলেও স্থায়ী আনন্দ পায়নি কখনো। কিন্তু তুলির সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার পর সেই আনন্দ টা অনুভব করে লিয়াম। লিয়াম কোনো মেয়ের সাথে অল্প সময় কথা বললেই মেয়েটার সম্পর্কে সব ধারণা করতে পারে। কিভাবে যেন বুঝতে পেরে যায় সব কিছু।

তুলি মেয়ে টা অন্য সব মেয়েদের থেকে অনেক আলাদা। তাই তুলিকে ভালো লাগে ওর কাছে। তুলির মধ্যে কোনো কিছু পাওয়ার প্রবণতা নেই। লিয়াম এর সাথে কথা বললেও সব সময় দূরত্ব বজায় রাখে। নিজের বড় ভাই না থাকায় লিয়ামকে বড় ভাই বানিয়েছে। লিয়াম আগেই বুঝতে পেরেছে তুলি ইমরানকে ভালোবাসে। তাই লিয়াম ইমরানকে জেলাসি ফিল করানোর জন্য চলে আসে এই ফ্ল্যাটে। ইমরানকে দেখিয়ে দেখিয়ে তুলির সাথে বেশি বেশি কথা বলে, হাসাহাসি করে।

কিন্তু ব্যাটা ইমরান সে সব কিছু যেন অনায়াসে হজম করে নেয়। কিন্তু গত রাতের ঘটনায় যা বোঝার বুঝে গেছে লিয়াম। আগেও একটু একটু বুঝতে পেরেছিল তবে শিওর ছিল না। কাঠখোট্টা, বদমেজাজি, নিরামিষ ইমরানকে দেখে সহজে কিছু অনুমান করা যায় না।

কারণ ইমরান আগে থেকেই এমন।

কিন্তু গত রাতের ঘটনার পর এত টুকু বুঝতে পেরেছে যে তুলিকে ভালো না বাসলেও ওকে তুলির আশে পাশে দেখলে জেলাসিতে জ্বলে পুড়ে যায়।

রাতের ঘটনা স্মরণ করে মুচকি হেসে ওঠে। ভালো না বেসে যাবে কোথায় ? তুলির প্রেমে ফেলেই ক্ষান্ত হবে লিয়াম।

হঠাৎ তুলির চিৎকারে দৌড়ে কিচেনে প্রবেশ করে। তুলি আঙ্গুল ধরে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। টপ টপ করে র/ক্ত পড়ছে হাতের মুঠোয় থেকে।

_ হাতে কি হয়েছে তোমার ?

_ একটু কে/টে গেলো।

_ কিভাবে দেখি কত টুকু কে/টে/ছে ।

_ শসা কা/টতে গিয়ে কে/টে গেছে, বেশি কা/টে/নি।

_ দেখি হাত এদিকে দাও।

বলেই তুলির হাত টেনে নিজের সম্মুখে ধরে।

বাম হাতের একটা আঙ্গুল বেশ খানিক টা কে/টে হা হয়ে গেছে। গলগল করে র/ক্ত পড়ছে সেখান থেকে।

_ ফার্স্ট এইড বক্স টা কোথায় ?

_ আপনার বন্ধুর রুমে।

_ তুমি আঙ্গুল টা শক্ত করে চেপে ধরে রাখো আমি আসছি।

তুলি আঙ্গুল টা চেপে ধরে। লিয়াম কিচেন থেকে বেরিয়ে এক প্রকার দৌড়ে ইমরানের রুমের দিকে এগিয়ে যায়। তুলি কিচেন থেকে বেরিয়ে ড্রইং রুমে আসে।

লিয়াম ইমরানের রুমে এসে দেখে ইমরান ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসেছে। চোখে মুখে এখনো পানি , হাতে টাওয়েল।

_ ফার্স্ট এইড বক্স টা কোথায় ইমরান ?

ইমরান হাত দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

_ কার কি হয়েছে ?

_ তুলির হাত কে/টে গেছে।

বলেই রুম থেকে বেরিয়ে যায়। ইমরান কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে হাতের টাওয়েল ছুঁড়ে ফেলে রুম থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসে।

ড্রইং রুমে এসে দেখে লিয়াম আর তুলি মুখোমুখি হয়ে সোফায় বসে আছে। লিয়াম কটন দিয়ে তুলির হাতের রক্ত পরিষ্কার করছে আর তুলিকে বার বার জিজ্ঞেস করছে অনেক ব্যাথা করছে কিনা।

ইমরান আর আগায় না। ওখানেই দাঁড়িয়ে রইলো। তুলির হাত কে/টে/ছে। তুলি ওকে না ডেকে পাশের ফ্ল্যাট থেকে লিয়ামকে ডেকে এনেছে। ওর থেকে লিয়াম বড় হয়ে গেছে ? ওকে ডাকা যেতো না একবার ? লিয়ামকে কেন ডাকতে হবে ?

চোখ মুখ শক্ত করে সোফায় বসে থাকা দুজনের দিকে তাকিয়ে রইলো। ইচ্ছে তো করছে লিয়ামকে তুলে ফ্ল্যাটের বাইরে নিয়ে ফেলে দিয়ে আসতে। আর তুলিকে ধরে উদ্যম মাধ্যম দিতে। হাসবেন্ড কে না ডেকে ফ্রেন্ড কে ডেকেছে। তাও কার ফ্রেন্ড ? তুলির নিজের ফ্রেন্ড তো না।

আর লিয়াম কেও বলিহারি, ওর ফ্রেন্ড হয়ে ওকে ছেড়ে সারা দিন আর বউয়ের সাথে পটর পটর করে। ও যে ওর ফ্রেন্ড সেটা যেন লিয়াম ভুলেই গেছে। ফ্ল্যাটে আসার পর থেকে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত শুধু তুলি আর তুলি।

রাগ হচ্ছে ভীষণ। রাগে ফোস ফোস করতে করতে আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো।

একবার লিয়াম এখান থেকে বের হোক তার পর দেখাবে মজা। জামাই ছেড়ে জামাইয়ের বন্ধু কে ডাকা !

বিজ্ঞাপন
অযাচিত প্রণয় গল্পটি সানা শেখ-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক লাভস্টোরি