ডাইনিং টেবিলে খেতে বসেছে তিন জন। যদিও ইমরান খেতে চায়নি। ওকে জোর করে বসিয়েছে লিয়াম।
তাই বাধ্য হয়ে ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও খাচ্ছে ওদের দুজনের সাথে। কোনো কিছুই যেন ওর গলা দিয়ে নামছে না। জোর করে করে গিলছে বেচারা ইমরান।
খেতে খেতেও হেসে হেসে কথা বলছে তুলি আর লিয়াম। যা দেখে ইমরানের রাগ আরো বাড়ছে। না পারছে কিছু বলতে আর না পারছে কিছু করতে।
খাওয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথেই লিয়াম এর ফোন বেজে ওঠে। অপরিচিত নাম্বার দেখে ভ্রু কুঁচকে রিসিভ করে। ওপাশ থেকে ভেসে আসে মেয়েলি গলার স্বর। নাম বলতেই চিনতে পারে লিয়াম। ফোন কানে ধরে রেখেই ইমরান আর তুলির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায় নিজের ফ্ল্যাটে।
টরন্টো শহরে যাওয়ার পর ফ্যামিলি থেকে ওর বিয়ের জন্য একটা মেয়ে দেখেছিল। সকলের বেশ পছন্দ হয়েছে। লিয়াম এর ও পছন্দ হয়েছে। তবে কোনো একটা কারণে কথাবার্তা আর আগায়নি। মেয়ের ফ্যামিলি থেকেই আবার যোগাযোগ করেছে ওদের সাথে। সেই মেয়ে টাই কল করেছে এখন। তার সাথে কথা বলার জন্যই চলে গেলো।
ইমরান আর তুলির ও খাওয়া শেষ হয়। খাওয়া শেষ হলেও ইমরান চেয়ারেই বসে রইলো। তুলি এটো প্লেট বাটি গুছিয়ে কিচেনে রেখে আসে। বাড়তি খাবার ফ্রিজে তুলে রেখে দেয়। কিচেনের লাইট অফ করে দিয়ে এসে দাঁড়ায় ইমরানের কাছে ,
_ এভাবেই বসে থেকে রাত পাড় করার চিন্তা করেছো নাকি ?
ইমরান বলে না কিছু। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। কি ভাবছে এক মনে কে জানে ? নড়ছে না চড়ছেও না, চোখের পলক ও ফেলছে না।
তুলি বাম হাত টা উচু করে ইমরানের মুখের সামনে নাড়িয়ে বলে ,
_ মাছের মতো চোখ খোলা রেখে ঘুমিয়ে গেলে নাকি ? ও হ্যালো শুনতে পাচ্ছো আমার কথা ?
তুলির বাম হাত টা খপ করে থাবা দিয়ে ধরে ইমরান । হঠাৎ এভাবে ধরায় চমকে ওঠে তুলি। হাত টান দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে,
_ কি করছো ছাড়ো ব্যাথা পাচ্ছি।
_ খুব সাহস বেড়েছে তোর না ?
_ সাহসের কি করলাম আবার ? আমার একটুও সাহস নেই , আমার কলিজা এই এত টুকুনি। এই টুকুনি কলিজা নিয়ে তোমার মত বাঘের সামনে সাহস দেখানোর সাহস আছে নাকি আমার ? নাইতো এখন হাত ছাড়ো।
_ হাত কে/টে/ছে কিভাবে ?
_ শসা কা/ট/তে গিয়ে।
_ আমাকে না ডেকে লিয়ামকে ডেকেছিস কেন ?
_ আশ্চর্য্য, আমি লিয়ামকে ডাকতে যাবো কেন ? লিয়াম এসেছিল বলেই তো হাত টা কে/টে/ছিল।
_ মানে ?
_ লিয়াম খাবার গুলো নিয়ে এসেছিল। এগুলোর সাথে শসা খাওয়ার জন্য শসা কা/ট/তে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভুল করে আঙ্গুল কে/টে ফেলেছি।
_ আমাকে ডাকলি না কেন ?
_ আমি তো কাউকেই ডাকিনী। হাত ছাড়ো, ডাকাতের মতো চেপে ধরেছে কিভাবে ? ব্যাথা পাচ্ছি ছাড়ো।
তুলির হাত ছাড়লো না ইমরান বরং হাত ধরে রেখেই উঠে দাঁড়ালো। হাতের কব্জি মুঠো করে ধরে টেনে নিয়ে এগিয়ে যায় কিচেনের দিকে।
_ ওদিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো ?
কোনো কথা বলে না ইমরান। তুলির হাত ধরে রেখেই কিচেনের লাইট অন করে। তারপর বেসিনের সামনে এসে দাঁড়ায়।
_ এক চুল নরবি তো ধরে আছাড় মা/র/বো।
ইমরানের রাগী গলার স্বর শুনে মুখ তুলে ওর মুখের দিকে তাকায় তুলি। এমন রেগে আছে কেন ? রেগে যাওয়ার মতন কি করেছে ?
তুলির আঙ্গুলের ব্যান্ডেজ খুলতে শুরু করে ইমরান।
_ আরে কি করছো , ব্যান্ডেজ খুলছো কেন ? ব্যাথা লাগছে ছাড়ো।
বলেই হাত টানাটানি শুরু করে তুলি। ইমরান শক্ত করে ধরে রেখে ব্যান্ডেজ খুলছে। পুরোপুরি ব্যান্ডেজ খুলে আঙ্গুলের দিকে দৃষ্টি স্থির করে। বেশ খানিক টা কে/টে গেছে। ট্যাপ অন করে পানির নিচে তুলির হাত ধরে রাখে। ঘষে ঘষে হাত টা ধুতে শুরু করে। যেন হাত থেকে কিছু তোলার চেষ্টা করছে।
_ আমার হাতে কোনো নোংরা ময়লা নেই। হাত এভাবে ধুচ্ছো কেন ? ব্যাথা পাচ্ছি তো ছাড়ো, র/ক্ত বেরিয়ে গেলো আবার।
আসলেই র/ক্ত বেরিয়ে এসেছে আবার। পানির সংস্পর্শে এসে ক্ষত স্থান ভিজে হা হয়ে গেছে আবার।
_ ডাক্তার হয়ে কসাইয়ের মতো আচরণ করছো কেন ? ও বুঝেছি তুমি তো ধরতে গেলে এক প্রকার কসাই ই। ওদের মতো তুমিও চামড়া মাংস কা/টো। ওদের আর তোমার মধ্যে একটাই পার্থক্য তুমি সেলাই করো ওরা করে না।
একটু চুপ থেকে আবার বলে,
_ একটুও দয়া মায়া নেই নাকি অন্তরে ? এভাবে ব্যাথা দিচ্ছ কেন হাতে ? ডাক্তাররা তো দয়া মায়া হীন পাষাণ হৃদয়ের হয়, তুমিও তাই। একটুও দয়া মায়া নেই তোমার মনে। লিয়াম এর কাছ থেকে দয়া মায়া জন্মানোর ট্রেনিং নেবে।
রেগে তুলির মুখের দিকে তাকায় ইমরান। হাত ধরে টেনে আবার ড্রইং রুমে নিয়ে আসে। সোফায় বসিয়ে টি টেবিলের উপর থেকে টিস্যু পেপার নিয়ে তুলির পুরো হাত মুছিয়ে দিয়ে ফার্স্ট এইড বক্স টা খোলে। তারপর ভায়োডিন লাগাতে শুরু করে ক্ষত স্থানে।
_ আআআ জ্বলছে।
তুলির চিৎকার শুনে তড়িৎ গতিতে ওর মুখের দিকে তাকায় ইমরান। তারপর আবার হাতের দিকে তাকিয়ে আঙ্গুলের ক্ষত স্থানে ফু দিতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ড পর ফু দেওয়া বন্ধ করে তুলির মুখের দিকে তাকায়। চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
_ ভায়োডিন লাগালে জ্বলে ?
তুলি দাঁত কেলিয়ে হেঁসে বলে,
_ ব্যাথা করছে।
_ আঙ্গুল কা/টা/র সময় মনে ছিল না ব্যাথা করবে ? কা/টা/কা/টি করার সময় মন কোথায় থাকে ?
_ তোমার কাছে।
মনে মনে বলে বাক্য গুলো। ইমরান পুনরায় ভায়োডিন লাগিয়ে অয়েটমেন্ট লাগায় তারপর ব্যান্ডেজ করতে শুরু করে।
তুলি সুর ধরে বলে,
_ জ্বলে জ্বলে জ্বলে........
আবার তুলির মুখের দিকে তাকায়।
_ কোথায় জ্বলে ?
তুলি ডান হাত তুলে এক আঙ্গুল ইমরানের বুকের বা পাশে ঠেকিয়ে বলে,
_ এখানে।
ইমরান নিজের বুকের বা পাশে তাকায়। আবার তুলির মুখের দিকে তাকায়। তারপর পুনরায় ব্যান্ডেজ আঁধতে বাঁধতে বলে,
_ গ্যাসের সমস্যা হয়েছে হয়তো। গ্যাসের মেডিসিন খা ঠিক হয়ে যাবে।
তুলি ইমরানের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে দাঁত কটমট করে। মনে মনে বলে,
_ ব্যাটা আনরোমান্টিক খাটাশ, সার ওয়ালা সাদা মুলা কোথাকার। আমার বুকে জ্বলছে না, জ্বলছে তো তোর বুকে। সেজন্যই তো এমন করছিস।
ব্যান্ডেজ বাঁধা হয়ে গেলে তুলি হাত সরিয়ে নেয়।
_ মেয়েটার নাম কি ?
ইমরান অবাক হয়ে বলে,
_ কোন মেয়ে ?
_ আরে তোমার গার্লফ্রেন্ড, জানের জিগার কলিজার টুকরা প্রেমিকা, তোমার জান্টুস পাখি।
_ মুখের ভাষা ঠিক করে কথা বল তুলি। এই সব কি কথা ?
_ যা বাবা কি এমন বললাম ?
_ কি বলেছিস জানিস না ?
_ ওই সব কথা বাদ দাও। এখন বলো মেয়েটার নাম কি, দেখতে কেমন ? মেয়ে টা কে আসতে বলো আমি একটু দেখে যাই।
_ কোন মেয়ে ? কিসের মেয়ে ? পা/গল হয়েছিস নাকি ?
_ পা/গ/ল হতে যাবো কেন ? তোমার গার্লফ্রেন্ডের কথা বলছি আমি। কপাল পোড়া মেয়ে টা কে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে। তোমার মতন খ্যাক শিয়ালের সাথে মেয়ে টা থাকবে কিভাবে ? যেই মুখের ভাষা তোমার। খ্যাক খ্যাক করা ছাড়া তো মুখের ভাষা বের হয় না। সব মেয়ে কিন্তু তুলিকা জান্নাত না, যে তোমার খ্যাক খ্যাক মুখ বুজে চুপ চাপ সহ্য করবে। একটু মিষ্টি করে কথা বইলো মেয়েটার সাথে নয়তো মুখে লাথি দিয়ে চলে যাবে।
_ কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই আমার। উল্টা পাল্টা কথা একদম বলবি না। আগেও সিঙ্গেল ছিলাম এখনো সিঙ্গ
_ এখনো সিঙ্গেল আছি তাইতো ? কিন্তু আমি তো জানি তুমি সিঙ্গেল না। ভয় নেই তোমার গার্লফ্রেন্ড কে কোনো কু বুদ্ধি দেবো না আমি। শুধু একটু দেখবো। যাওয়ার আগে এটাই আমার শেষ ইচ্ছে , তোমার গার্লফ্রেন্ড কে দেখবো।
_ কোথায় যাবি তুই ?
তুলি অন্য দিকে তাকিয়ে বলে,
_ আগামী কাল আমি বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছি।
অবাক হয় ইমরান। অবাক হয়েই বলে,
_ টাকা কোথায় পেলি ? কে দিয়েছে ?
_ কেউ দেয়নি তবে আগামী কাল দেবে।
_ কে ?
_ লিয়াম।
ইমরান রেগে বলে,
_ তুই ওর কাছে টাকা চেয়েছিস কেন ?
_ একেবারে নিচ্ছি নাকি ? বাংলাদেশে ফিরেই ব্যাক করে দেবো।
_ তুই চাইবি কেন ওর কাছে ?
_ তুমি তো দেবে না , আমি কি করবো তাহলে ? বাড়ি থেকেও কেউ দেবে না। আমি এখন টাকা জোগাড় করতে রাস্তায় ভিক্ষা করতে নামবো নাকি ?
_ বেশি বেশি বলছিস কিন্তু তুলি।
_ একদম না , কমই বলেছি। তোমার ফ্ল্যাটে এত দিন ধরে রয়েছি তাই যাওয়ার আগে তোমাকে বলে গেলাম। এখন আমি ঘুমোতে যাই ভোরে দ্রুত ঘুম থেকে উঠতে হবে।
বলেই সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। ধীর পায়ে এগিয়ে যায় নিজের জন্য বরাদ্দকৃত রুমের দিকে।
থম ধরে বসে রইলো ইমরান। রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে।
কত বড় সাহস এই মেয়ের !
তুলি রুমে এসে ফ্রেশ হয়েই শুয়ে পড়ে।
ইমরান এখনো আগের মতোই বসে রয়েছে।
রাত বাড়ে কিন্তু ইমরান সোফা থেকে ওঠে না, রুমেও যায় না। সকালে হসপিটালে যেতে হবে, এখন না ঘুমালে সকালে উঠতে পারবে না। সেদিকে খেয়াল নেই। সব কিছু বাদ দিয়ে তুলির কথাই ভেবে চলেছে।
চোখ যায় টি টেবিলের উপর রাখা ফার্স্ট এইড বক্সের উপর। তখন রাগের মাথায় শুধু শুধু মেয়ে টা কে কষ্ট দিলো। লিয়াম আগেই ফ্ল্যাটে এসেছিল ইমরান বুঝতে পারেনি। ওয়াশরুমে ছিল তাই হয়তো কলিং বেলের শব্দ ওর কানে পৌঁছায় নি। ভেবেছে হাত কা/টা/র পর তুলি ওকে না ডেকে লিয়ামকে ডেকেছে।
লিয়াম তুলিকে ছুঁয়েছে, ধরেছে ওর সহ্য হয়নি। তুলি লিয়াম এর সাথে হেসে হেসে কথা বললে ওর বুকে বড্ড যন্ত্রণা হয়। দুজন কে একসাথে দেখলেই ওর মাথা গরম হয়ে যায়। আর এই দুজন ওর মাথা গরম করার জন্যই যেন আরো বেশি হেসে হেসে কথা বলে। ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে এটা ওটা ছোড়াছুড়ি করে।
ঘড়ির কাঁটা বারোটা পাড় করে যায়। সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায় ইমরান। বড় বড় কদমে এগিয়ে যায় তুলির রুমের সামনে। হাত দিয়ে ডোর ঠ্যালা দিতেই বরাবরের মতো ডোর খুলে যায়। পুরো রুম অন্ধকারে তলিয়ে আছে, ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে ফ্যান। অন্ধকারে অনুমান করে হেঁটে গিয়ে লাইট অন করে। বেডের দিকে তাকিয়ে দেখে চাদর দিয়ে গলা অব্দি ঢেকে ঘুমিয়ে আছে তুলি। লাইটের আলো চোখে মুখে পড়ায় নাক মুখ কুঁচকে নিয়েছে। ফ্যানের বাতাসে ছোট ছোট চুল গুলো উড়ছে।
ঘুমন্ত তুলিকে দেখতে আজ ভারী সুন্দর লাগছে ইমরানের কাছে। ইমরান এগিয়ে আসে বেডের কাছে। তুলির গায়ের উপর থেকে চাদর টেনে সরিয়ে নেয়।
নড়ে চড়ে উঠে আবার শান্ত হয়ে যায়। হাত বাড়িয়ে তুলিকে পাঁজা কোলে তুলে নেয় ইমরান। বড় বড় কদমে রুম থেকে বেরিয়ে আসে।
তুলি ঘুমোরের মধ্যেই বুঝতে পারে হাওয়ায় ভাসছে। ফট করে চোখ খুলে তাকায়। চোখের সামনে ভেসে ওঠে ইমরানের থমথমে গম্ভীর মুখশ্রী। যখন বুঝতে পারে ইমরানের কোলে রয়েছে তখন নড়া চড়া শুরু করে দেয়। বলা যায় কোলের উপর এক প্রকার লাফালাফি শুরু করেছে। ওর লাফালাফির কারণে দাঁড়িয়ে পড়েছে ইমরানের। ইমরানের বুকে দুই হাতে ধাক্কা দিয়ে বলে,
_ কি করছো ? কোথায় নিয়ে যাচ্ছো আমাকে ? ছাড়ো, নামাও কোল থেকে।
ইমরান শান্ত কন্ঠে বলে,
_ ছটফট না করে চুপ করে থাক।
_ আমাকে মে/রে গুম করে দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছো আর বলছো চুপ থাকতে ! আমি ম/রলে কিন্তু তুমি শান্তিতে বাঁচতে পারবে না ডাক্তার। তাই ভালোয় ভালোয় বলছি ছেড়ে দাও আমাকে।
ইমরান তুলিকে কোলে নিয়ে নিজের রুমে প্রবেশ করে। তারপর নিজের বেডে শুইয়ে দেয়।ডোর লক করার জন্য এগিয়ে যায় ডোরের কাছে। তুলি যখন দেখে ইমরানের বেডে শুয়ে আছে তখন লাফিয়ে বেড থেকে নেমে দাঁড়ায়। দৌড়ে ডোরের কাছে এগিয়ে আসে। ততক্ষণে ইমরান ডোর লক করে উল্টো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তুলিকে নিজের সামনে দেখে তুলির হাত ধরে শক্ত করে। তুলি হাত টানাটানি করে বলে,
_ হাত ছাড়ো আমার। এখানে নিয়ে এসেছো কেন আমাকে ? মতলব কী তোমার ?
ইমরান হাত ছেড়ে দেয়। তুলি সাথে সাথেই ইমরানকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে ডোর খোলার জন্য উদ্যত হয়।
পেছন থেকে জাপ্টে ধরে ইমরান। জড়িয়ে ধরে রেখেই উচু করে বেডের দিকে এগিয়ে যায়। বেডের কাছে এসে ছেড়ে দিতেই আবার দৌড় দেওয়ার জন্য উদ্যত হয় তুলি। এবার সামনে থেকেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ইমরান। এমন ভাবে ধরেছে যে তুলির সাধ্য নেই এই বাহু বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করার।