_ হুম হুম না করে ভালো ভাবে বলো যে দু’দিনের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবে কি না ?
_ হু।
_ আবার হু, মুখ ফুটে ভালোভাবে বলো।
ইমরানের আর কোনো সাড়া শব্দ আসে না।
_ কথা বলছো না কেন? কি হলো?
তবুও চুপ করে থাকতে দেখে একটু উচু হয়ে ঝুঁকে ইমরানের মুখের দিকে তাকায়। বজ্জাত ব্যাটা ঘুমিয়ে গেছে। ওর কথা গুলো শুনেছে কি ? নাকি ভালো ভাবে না শুনেই ঘুমিয়ে গেছে ? ঘুমের ঘোরেই হু হা করলো ?
রাগ হয় তুলির। চুল গুলো ধরে টেনে ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু ছিঁড়ল না। অসুস্থ মানুষ তাই বেঁচে গেলো। নিজে তো ঠিকই গিললো অথচ একটা বার জিজ্ঞেস করলো না তুলি দুপুরে খেয়েছে কিনা ?
হাত বাড়িয়ে ইমরানের কপালে হাত রাখে আবার তাপমাত্রা চেক করার জন্য। জ্বর নেমে গেছে, গা ঠান্ডা হয়ে গেছে এখন। শুধু মাথার তালু গরম রয়েছে।
আরো কিছুক্ষন মাথায় মালিশ করতে থাকে।
নয়টা বাজতেই ইমরানের রুম থেকে বেরিয়ে ড্রইং রুমে চলে আসে। গিয়ে বসে ডাইনিং টেবিলে। ওরো ভীষণ খিদে পেয়েছে, দুপুরে খায়নি রাগে জেদে। এখন না খেলেই নয়।
খাবার খেয়ে নিজের রুমে চলে আসে। ফ্রেশ হয়ে এসে বেডে শুতেই ইমরানের কথা স্মরণ হয়। কিন্তু যাবে না আর ওই রুমে। জেদ ধরে শুয়ে পড়ে বেডে। চোখ বন্ধ করতেই ইমরানের অসুস্থ মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। রাতে যদি ইমরানের আবার জ্বর ওঠে ! যদি কিছুর প্রয়োজন হয় ? শুয়েও আবার উঠে বসে। মন মস্তিষ্কের সাথে যুদ্ধ করতে করতে ইমরানের রুমে চলে আসে। ড্রিম লাইটের আলোয় দেখা যাচ্ছে চিৎ হয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে আছে ইমরান।
তুলি সিঙ্গেল সোফায় গিয়ে গা এলিয়ে বসে রইলো। ঘুম আসছে না এখন। ঘাড় কাত করে বেডে শুয়ে থাকা ইমরানের দিকে তাকায়।
______________________
এলার্ম এর শব্দে ঘুম ভাঙ্গে ইমরানের। বেডের পাশে রাখা এলার্ম ঘড়িটার এলার্ম বন্ধ করে কাত হয়ে শোয়। দৃষ্টি যায় সোফায় এলোমেলো হয়ে ঘুমিয়ে থাকা তুলির দিকে। দ্রুত চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড পর আবার তাকায়। না সত্যি সত্যিই তো তুলি বসে আছে। এটা ওর ভ্রম নয়। স্মরণ হয় রাতের কথা। জ্বর এসেছিল তারপর তুলি কি কি করেছে সব মনে পড়ে। এখানে এভাবে ঘুমিয়ে আছে কেন ? সারা রাত এখানেই ছিল ?
স্থির দৃষ্টিতে সোফায় ঘুমিয়ে থাকা তুলির দিকে তাকিয়ে রইলো। এর আগেও বহু বার জ্বর এসেছিল, গত কালের চেয়েও খারাপ অবস্থা হয়েছে। না খেয়ে থেকেছে , খালি পেটে মেডিসিন খেয়েছে। খাবার অর্ডার করলেও সেসব ফ্ল্যাটে পরেই নষ্ট হয়েছে।
একবার জ্বর উঠলে সহজে নামতো না। ইমরানের জ্বর ইমরানের মতোই ঘাড় ত্যাড়া জেদী। একবার আসলে সহজে যেতে চায় না।
এখন আবার জ্বর উঠেছে। মাথা ব্যাথা কমলেও মাথা ঝিমঝিম করছে।
আগামী তিন দিন হসপিটালে যেতে হবে না। দুদিনের ছুটি নিয়ে এসেছে আর একদিন ডে অফ।
শোয়া থেকে উঠে বসে। ওয়াশরুমের চাপ দিয়েছে।
বেড থেকে নেমে ধীরে ধীরে তুলির সামনে এসে দাঁড়ায়।
_ তুলি , তুলি।
তুলি চোখ মেলে তাকায়। ইমরানকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দ্রুত সোজা হয়ে বসে। ঘুম ঘুম চোখের পাতা টেনে তুলে বলে ,
_ এখন কেমন লাগছে ?
_ ভালো লাগছে , তুমি বেডে গিয়ে ঘুমাও। এখানে এভাবে বসে ছিলে কেন ?
_ জ্বর উঠেছে আবার ?
_ একটু একটু। তুমি বেডে গিয়ে ঘুমাও।
_ অসুস্থ্য শরীর নিয়ে উঠেছো কেন ?
_ ফ্রেশ হবো।
বলেই ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যায়। তুলি বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। ফোন টা হাতে নিয়ে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায়।
দ্রুত ফ্রেশ হয়ে রান্না করার জন্য কিচেনে যায়। যা রান্না করা ছিল আগের , সে সব রাতেই শেষ হয়েছে।
ইমরানের পছন্দের সব কিছু রান্না করতে শুরু করে।
ইমরান ফ্রেশ হয়ে এসে বেডে বসে হেলান দিয়ে। ফোন হাতে নিয়ে খাবার অর্ডার করতে নেয়। কি মনে করে আবার অর্ডার না করেই ফোন রেখে দেয়।
বেড থেকে নেমে দুলতে দুলতে রুম থেকে বেরিয়ে আসে। এগিয়ে যায় কিচেনের দিকে।
_ তুমি এখানে কেন ?
_ কফি খাবো।
_ সোফায় গিয়ে বসো আমি নিয়ে আসছি।
_ চিনি বেশি দিও।
_ আচ্ছা।
ভদ্র ছেলের মতো চুপ চাপ কিচেন থেকে বেরিয়ে যায় ইমরান। ওর যাওয়ার পথে তাকিয়ে রইলো তুলি। এই লোক এতো ভালো হলো কবে ? এক কথায় কিচেন থেকে বেরিয়ে চলে গেলো ? জ্বর হয়ে মাথার তার ছিঁড়ে গেলো নাকি ? একা একা কথা বলতে বলতে কফির জন্য পানি গরম বসায় সসপ্যানে।
কয়েক মিনিট পর কফি বানিয়ে কিচেন থেকে বেরিয়ে আসে তুলি। সোফায় বসে থাকা ইমরানের হাতে কফির মগ টা দিয়ে আবার কিচেনে ফিরে আসে।
সাত টার পর পর রান্না শেষ হয়ে যায়। সব কিছু ডাইনিং টেবিলে সাজিয়ে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে।
_ চলো খাবার খাবে।
চুপ চাপ উঠে দাঁড়ায় ইমরান। তুলির আগে আগে গিয়ে চেয়ার টেনে বসে। অবাকের উপর অবাক হচ্ছে তুলি। ভেবেছিল খাবার খেতে বলার পর বরাবরের মতোই নাক মুখ কুঁচকে বলবে ,
_ তোমার খাবার তুমি খাও।
অবাকের রেশ ধরে রেখেই নিজেও একটা চেয়ার টেনে বসে। দুজনের জন্যই খাবার বেড়ে নেয় দুটো প্লেটে।
চুপ চাপ খাওয়া শুরু করে দুজন। তুলি একটু পর পর ইমরানের মুখের দিকে তাকায়। ইমরান প্লেটের দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে খাচ্ছে।
তুলি মুখের খাবার শেষ করে বলে,
_ তোমাকে রাতে কি বলেছিলাম মনে আছে ?
ইমরান প্লেট থেকে চোখ সরিয়ে তুলির মুখের দিকে তাকায়।
_ কি ?
_ আমি বাংলাদেশে ফিরে যাবো।
_ যাবে।
_ আগামী কালকের মধ্যেই সব কিছু ব্যবস্থা করে দেবে তুমি।
ইমরান খেতে খেতে বলে ,
_ টাকা নেই আমার কাছে।
তুলি চোখ দুটো বড় বড় করে অবাক হয়ে বলে ,
_ তোমার কাছে টাকা নেই ?
_ নাহ্।
_ তুমি যে রাতে বললে আগামী দুদিনের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবে।
_ এই কথা আমি বলেছি ?
_ হ্যাঁ।
_ মনে নেই আমার। জ্বরের ঘোরে বোধহয় উল্টা পাল্টা বলেছি।
_ তুমি জ্বরের ঘোরে কিছুই বলোনি, সব সজ্ঞানেই বলেছিলে।
_ সজ্ঞানে বললে মনে থাকতো আমার। ঘুমের ঘোরে বলেছি তাহলে।
_ যেভাবেই বলো না কেন , আগামী কালকের মধ্যে ব্যবস্থা করবে তুমি।
_ বলছি তো টাকা নেই।
_ তোমার কাছে টাকা নেই সেটা আমাকে বিশ্বাস করতে হবে ?
_ করা না করা তোমার ব্যাপার, আমার কাছে টাকা নেই এটাই সত্যি কথা।
_ অত শত বুঝি না আমি। যেভাবে পারবে সেভাবেই ব্যবস্থা করে দেবে।
_ এক মাস ওয়েট করতে হবে।
_ বাড়ি থেকে টাকা পাঠাতে বলো।
_ তোমার প্রয়োজন তুমি বলো।
_ আমি বলেছি।
_ তাহলে তো হয়েছেই।
_ তুমি টাকা দিতে নিষেধ করেছো কেন ?
_ জানিনা।
মেজাজ গরম হতে শুরু করে তুলির। রাগী স্বরে বলে,
_ তুমি কি চাইছো খোলাশা করে বলবে একটু ?
_ আপাতত পেট ভরে খেতে চাইছি।
_ আমি থাকবো না এখানে।
_ তাহলে রুমে গিয়ে শুয়ে থাকো।
_ এই দেশে থাকবো না।
_ এটা তো তোমার বাংলাদেশ না যে বললাম আর ফুড়ুৎ করে উড়ে চলে গেলাম।
,
খাওয়া শেষ করে মেডিসিন খায়। তারপর শুয়ে পড়ে বেডে। কল করে মায়ের ফোনে। রিং হওয়ার কয়েক সেকেন্ড পরেই রিসিভ হয়।
_ আসসালামু আলাইকুম।
_ ওয়ালাইকুম আসসালাম , কেমন আছিস ইমরান ?
_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো , তুমি কেমন আছো ?
_ আলহামদুলিল্লাহ, কি করিস ?
_ বসে আছি।
_ হসপিটাল নেই ?
_ ছুটি নিয়েছি।
_ ওহ , তুলি কি করে ?
_ টিভি দেখে।
_ সকালে খেয়েছিস ?
_ হুম। আচ্ছা আম্মু আমি এই বার বাংলাদেশে যাওয়ার পর রান্না কে করতো ?
_ কেন ?
_ না এমনি , রান্না গুলো অনেক ভালো হতো। তুমি রান্না করতে নাকি রাবেয়া আন্টি করতো ?
_ সকালে আমি করতাম দুপুরে আর বিকেলে তুলি করতো।
চুপ হয়ে যায় ইমরান। মিসেস ইরানী বলেন ,
_ তুই বিয়ে টা না মানলেও তুলি হয়তো আগেই মেনে নিয়েছিল। বিয়ের কয়েক দিন পর থেকে তুলি নিজের হাতে তোর পছন্দের সব কিছু রান্না করতো রোজ।
_ আব্বু কোথায় ? বাড়ি ফেরেনি এখনো ?
মিসেস ইরানী বুঝতে পারেন ছেলে কথা ঘোরানোর চেষ্টা করছে।
_ তোর আব্বু একটু পর ফিরবে। তুলিকে মেনে নে না বাপ। তুলির মধ্যে কোনো দোষ আছে ? কোনো কমতি আছে ? তুলির স্বভাব চরিত্র ভালো না ? ওকে মেনে নিতে এতো কিসের সমস্যা ? আল্লাহ তায়ালা চেয়েছেন বলেই তোদের বিয়ে টা হয়েছিল।
_ পরে কল করছি ভালো থেকো।
বলেই কল কে/টে দেয়।
গত কাল সন্ধ্যায় কথা হয়েছিল। মিসেস ইরানী নিজের সাধ্যমত ইমরানকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এই ছেলে বরাবরের মতোই পরে কথা বলছি বলে কল কে/টে দিয়েছিল।
মিসেস ইরানী ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন। তার ছেলে টা কি কোনো দিন বুঝবে না ? বিয়ে টা মেনে নিতে কিসের এতো সমস্যা কেউ বুঝতে পারে না। নির্দিষ্ট কোনো কারণ তো বলতে হবে , দেখাতে হবে। সেরকম কোনো কারণ বলতেও পারে না, দেখাতেই পারে না। অদ্ভুত একটা মানুষ।
____________________
সন্ধ্যার পর পর ফিরে আসে লিয়াম। ফ্রেশ হয়ে আটটা নাগাদ ইমরানের ফ্ল্যাটে নক করে।
ইমরান তুলি দুজনেই একে অপরের মুখের দিকে তাকায়। দুজন মতোই রাতের খাবার খেয়ে সোফায় বসেছে।
কে আসলো এখন ?
তুলি সোফা ছেড়ে উঠতে নিলে ইমরান ওকে থামিয়ে নিজেই ডোরের দিকে এগিয়ে যায়।
ডোর খুলে সামনে লিয়ামকে হাঁসি মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পায়।
_ কেমন আছো এখন ?
_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো,তুমি কেমন আছো ?
_ অনেক ভালো।
ভ্রু কুঁচকায় ইমরান। ইমরানকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে লিয়াম। ইমরান ডোর লক করে লিয়াম এর পেছন পেছন এসে সোফায় বসে।
_ হেই তুলি কেমন আছো ?
_ জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো, আপনি কেমন আছেন ?
_ আমিও অনেক ভালো আছি।
নিজের হাতে থাকা বড় বড় চকলেটের প্যাকেট দুটো তুলির দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,
_ তোমার জন্য।
_ এসব কেন এনেছেন আবার ?
_ তুমি খাবে সেজন্য এনেছি। এগুলো খেতে অনেক ভালো , খেয়ে দেখো।
তুলি প্যাকেট দুটোর দিকে তাকায়। এই চকলেট দুটো আগে খায়নি কখনো , দেখেও নি।
লিয়াম এর জোরাজুরিতে একটা প্যাকেট খুলে একটু ভেঙে মুখে দেয়। আসলেই খেতে অনেক ভালো।
একটু ভেঙে লিয়াম এর দিকে বাড়িয়ে দেয়।
_ তুমি খাও।
_ খাচ্ছি তো আপনিও একটু খান।
হাতে নেয় লিয়াম।
তুলি আরো কিছুটা ভেঙে ইমরানের দিকে বাড়িয়ে দেয়।
_ খাবো না।
_ একটু খেয়ে দেখো ভালো লাগবে।
_ বলছি তো খাবো না।
তুলি ইমরানের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। সারা দিন তো ভালোই ছিল , এখন আবার কি হলো ?
বেশি কিছু না ভেবে নিজেই খেতে শুরু করে। এই মুডি বয়ের মুড চেঞ্জ হতে সময় লাগে নাকি ?
তুলি আর লিয়াম কথা জুড়ে বসে। ইমরান চুপ চাপ দেখছে আর ফুলছে। নিজে ভালোবাসবে না , ধরবে না, ছুবে না , অন্য কারো সাথে কথা বললে সেটাও সহ্য হবে না। বদ লোক একটা।
ইমরান সোফা থেকে উঠে নিজের রুমে চলে যায় মেডিসিন খাওয়ার জন্য।
তুলি একটা ফ্যান্টাসি হরর থ্রিলার হলিউড মুভি প্লে করে। মুভি টা দেখেই লিয়াম এর ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে।
_ এই মুভি টা আমার অনেক পছন্দের। অনেক বার দেখেছি কিন্তু তার পরেও ভালো লাগে দেখতে।
_ আমিও কয়েক বার দেখেছিলাম।
_ আজকে তাহলে মুভি টা দেখা যাক।
_ হুম অবশ্যই।
_ আমার ফ্ল্যাটে পপকর্ন আর চিপস্ আছে। আমি ওগুলো নিয়ে আসছি এক্ষনি।
বলেই সোফা ছেড়ে উঠে নিজের ফ্ল্যাটের দিকে এগিয়ে যায়।
কয়েক মিনিট পরেই দুই হাত ভর্তি করে পপকর্ন, চিপস্ আর সফ্ট ড্রিংস নিয়ে ফিরে আসে।
_ এতো কিছু ?
_ মুভির রান টাইম অনেক। মুভি অর্ধেক শেষ হতে হতে এগুলো শেষ হয়ে যাবে।
লিয়াম এর বলার ধরণ দেখে মুচকি হাসে তুলি।
দুজনেই সোফায় বসে।
ইমরান জগ হাতে রুম থেকে বেরিয়ে আসে। জ্বর অনেক কমে এসেছে। আগের চেয়ে অনেক ভালোও লাগছে।
ইমরানকে দেখে লিয়াম বলে ,
_ ইমরান আসো মুভি দেখি।
ইমরান গম্ভীর গলায় বলে,
_ আমার ভালো লাগছে না তোমরা দেখো।
লিয়াম আর কিছু বলে না। ইমরান কিচেন চলে যায় পানি নেওয়ার জন্য। জগ ভর্তি করে ড্রইং রুম ক্রস করার সময় আড়চোখে তুলির দিকে তাকায়। তুলি টিভির দিকে তাকিয়ে আছে।
রুমে এসে লাইট অফ করে ডোর খোলা রেখেই বেডে শুয়ে পড়ে।
একটু পরেই ড্রইং রুমের লাইট অফ হয়ে যায়।
কয়েক মিনিট অতিবাহিত হতেই দুজনের হু হা করে হাসার শব্দ ভেসে আসে। আবার ভয় পেয়ে চিৎকার ও করছে একটু পর পর।
ত্রিশ মিনিটের মতো চলে এরকম।
আবার হো হো করে হেঁসে উঠতেই শোয়া থেকে লাফিয়ে উঠে বসে ইমরান। বুকের ভেতর এমন করছে কেন ? আর সহ্য হচ্ছে না। অস্থির অস্থির লাগছে।
বেড থেকে নেমে ড্রইং রুমে এসে দাঁড়ায়।
দুজন পূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে টিভির বড় স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে। ভয়ংকর সিন আসতেই দুজন এক সাথে আআআআ করে সোফার সাথে চিপকে যায়। কয়েক সেকেন্ড পরেই আবার হো হো করে হেঁসে ওঠে দুজন।
হাই ফাইভ করে দুজন। হাই ফাইভ করার শব্দ ইমরান শুনেছে বেশ কয়েক বার।
দ্রুত এগিয়ে গিয়ে দুজনের মাঝখানে বসে পড়ে রোবটিক ভঙ্গিমায়।
দুজনেই অবাক হয়ে ইমরানের মুখের দিকে তাকায়।
তুলি অবাক হয়েই বলে,
_ তুমি এখনো ঘুমাও নি ?
_ এভাবে চিৎকার করলে ঘুম আসে ?
লিয়াম বলে,
_ উঠে আসল কেন ইমরান ?
_ তোমাদের সাথে মুভি দেখবো।
লিয়াম খুশি হয়ে বলে,
_ তাহলে তো আরো মজা হবে।
_ হুম।
তুলি বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলো ইমরানের মুখের দিকে।
_ এভাবে তাকিয়ে কি দেখছো ?
তুলি দুদিকে মাথা নাড়ায়। কিছু দেখছে না।
এই বললো ভালো লাগছে না, চলে গেলো রুমে। আবার ফিরে আসলো বললো চিৎকার করার কারণে ঘুমোতে পারছে না। এখন আবার বলছে মুভি দেখতে এসেছে। এক মুখে কয় কথা বলে এই লোক ?