ইমরানের মুখ ভঙ্গি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গম্ভীর হয়ে থাকে। তুলির সাথে কোনো কথাই বলে না। তুলি কখনো কথা বলতে গেলেও বলে না, ইগনোর করে চলে যায়।
তুলিও তাই আজ কাল আর কথা বলার চেষ্টা করে না।
ভালো মন্দ কিছু জিজ্ঞেসও করে না আর। এক ফ্ল্যাটে দুজন থাকলেও মনে হয় এখানে একজন ব্যতীত দ্বিতীয় কেউ নেই। সপ্তাহ খানেক আগে লিয়াম টরন্টো শহরে গেছে নিজের ফ্যামিলির কাছে।
তুলির এখন ফোন ছাড়া সামনাসামনি কথা বলার মতো কেউ নেই। সারা দিন চুপ চাপ কে/টে যায়। বাংলাদেশ থেকে কেউ কল করলে কথা বলে , না করলে বলে না। চঞ্চল তুলি শান্ত হয়ে গেছে। মনের ভেতর পাহাড় সমান কথা জমা হয়ে থাকলেও বলার মতো কাউকে খুঁজে পায় না।
ইমরানকে এক বার বলেছিল ওকে বাইরে হাঁটতে নিয়ে যেতে। ইমরান নিয়েও গিয়েছিল। তবে তুলির মনে হচ্ছিল ও ওর হাসবেন্ডের সাথে আসেনি। অপরিচিত কোনো পুরুষের পাশে হাঁটছে।
মাজ রাস্তায় ইমরানকে রেখেই ফ্ল্যাটে ফিরে এসেছিল তুলি।
এখানে এসেছে তিন টা মাস পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে তিন বার এই ফ্ল্যাটের বাইরে গিয়েছিল। তুলির মাঝে মধ্যে মনে হয় , ও কোনো ফ্ল্যাটে নয় জেলখানায় আছে। জেলখানায় ও বোধহয় কথা বলার মতো কেউ থাকে, তুলি সঠিক জানে না।
বিষন্ন হয়ে বেডে চিৎ হয়ে শুয়ে ফোন স্ক্রল করছে তুলি। বিকেল চার টা পেরিয়ে গেছে অথচ এখনো দুপুরের খাবার খায়নি। ভালো লাগে না দম বন্ধ হয়ে আসে। কোনো কারণ ছাড়াই কান্না পায়। মায়ের কাছে ছুটে চলে যেতে ইচ্ছে করে। ফোনে কথা বলতে গেলে কান্নারা বেরিয়ে আসতে চায় তাই ফোনে কথা বলে না বেশি। কান্নারা বেরিয়ে আসার আগেই কল কে/টে দেয়।
সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে ভেবেই এই অব্দি , কিন্তু ঠিক কোথায় হচ্ছে ? দিন দিন যেন দূরত্ব বেড়েই চলেছে।
আগে যাও একটু একটু কথা হতো এখন তাও হয় না।
শোয়া থেকে উঠে বসে। ফোন টা পাশে রেখে ঝিম ধরে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে থাকে। এক মনে ভাবে অনেক কিছু। এর মধ্যে ফোনে রিং টোন বেজে ওঠে। ফোনের স্ক্রিনে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, মিসেস ইরানী কল করেছেন।
তুলি চোখের পানি মুছে কল কে/টে দেয়। তারপর অডিও কল করে। ভিডিও কলে কথা বলতে গেলে বেশি কান্না পায়।
_ কেমন আছিস তুলি ?
_ এইতো আলহামদুলিল্লাহ , তুমি কেমন আছো ?
_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি, তোর গলার স্বর এমন শোনাচ্ছে কেনো ? কি হয়েছে ?
_ আমি বাংলাদেশে ফিরে যাবো।
_ কেনো কি হয়েছে ?
_ আমি এখানে আর থাকতে চাই না।
_ কেনো সেটা তো বল। ইমরান কিছু বলেছে ?
_ বললে তো হতোই, তোমার ছেলে তো বলেই না কিছু। লাস্ট পনেরো দিনে তোমার ছেলে আমার সাথে টু শব্দ অব্দি করেনি। আমি কথা বলতে গেলে আমাকে ইগনোর করে চলে যায়। আমি ড্রইং রুমে থাকলে তোমার ছেলে ড্রইং রুমে আসতে চায় না। এক ফ্ল্যাটে দুজন থাকলেও আমার মনে হয় আমি একা একটা পৃথিবীতে বাস করি। এখানে আসার পর থেকে তোমার ছেলে এক রুমে আমি অন্য রুমে। তোমার ছেলের দিকে এক হাত আগালে তোমার ছেলে দশ হাত পিছিয়ে যায়। এভাবে সংসার হয় ? আমি আর থাকতে পারবো না এখানে, আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। এভাবে আর কিছু দিন থাকলে আমি ম/রেই যাবো। দুদিনের মধ্যে আমি বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই। ব্যবস্থা করো তোমারা , আর না হয় টাকা পাঠাও, আমার কাছে টাকা নেই।
কথা গুলো অনেক কষ্টে শেষ করে তুলি। দুই চোখ বেয়ে অশ্রু ধারা বয়ে চলেছে। গলার স্বর জড়িয়ে আসছে।
তুলির সব কথা শুনে চুপ হয়ে রয়েছেন মিসেস ইরানী।
ইমরান এখনো এমন রয়ে গেছে বুঝতে পারেননি তিনি। এত দিন তুলির সাথে কথা বললে তুলি বলতো সব কিছু ঠিক আছে। ইমরান ও তাই বলতো। কিন্তু দিন দিন যে দুজনের মাঝে দূরত্ব বেড়ে গেছে তিনি বুঝতে পারেননি। কিছু বলার মতো খুঁজে পেলেন না, দোষ টা তো তাদের নিজেরই।
_ কথা বলছো না কেনো ?
_ মাফ করে দে তুলি মা , আমরা তোর জীবন টা গোছাতে চেয়েও আরো বেশি অগোছালো করে দিলাম।
_ দোষ তো তোমাদের না , দোষ আমার কপালের। কপালে তো সুখের সংসার লেখাই নেই বোধহয় , তাহলে সুখের সংসার হবে কিভাবে ? উল্টো তো আমার মাফ চাওয়া উচিৎ তোমাদের সকলের কাছে। আমার জন্য তোমাদের ছেলের সুন্দর গোছালো জীবন এলোমেলো অগোছালো হয়ে গেছে। রাখছি ভালো থেকো।
বলেই কল কে/টে দেয় তুলি। আর কথা বলতে পারবে না। অনেক বলে ফেলেছে আজ।
বিয়ের প্রথম দিন গুলোতে ইমরানকে ওর পছন্দ ছিল না। আগে ভয় কাজ করতো , তারপর থেকে বিরক্ত লাগতো। কিন্তু আস্তে আস্তে ইমরানের প্রতি একটা টান জন্ম হয়েছে , মায়া জন্মেছে , ভালোবেসে ফেলেছে। অথচ ইমরান এই সবের ধারে কাছেও নেই। সব সময় ওর থেকে দূরে দূরে থাকে। এভাবে সংসার হয় নাকি ?
এক ছাদের নিচে দুজন থাকলেই সংসার হয় না। দুজনের মধ্যে মিল মহব্বত, ভালোবাসাও থাকতে হয়।
তুলি থাকবে না আর এখানে। এভাবে থাকলে খুব শীগ্রই মানসিক রোগীতে পরিণত হতে হবে।
ওর মাঝে মধ্যে মনে হয় , ইমরানের হয়তো গার্লফ্রেন্ড আছে। তাই ওকে মেনে নেয় না বা নিতে পারে না। যদিও ইমরান এরকম কিছু কখনো বলেনি। কিন্তু তুলির এখন এটাই মনে হয়।
ইমরানকে সব কিছু থেকে মুক্তি দিয়ে খুব শীগ্রই চলে যাবে তুলি।
মিসেস ইরানী ইমরানের ফোনে কল করেন। অনেক বার রিং হওয়ার পরেও রিসিভ হয় না। ইমরান হয়তো ব্যস্ত আছে। তাই ম্যাসেজ দিয়ে রাখেন পড়ে যেন ওনাকে কল করে।
,
সন্ধ্যার পর পরই ফ্ল্যাটে ফেরে ইমরান। তুলি তখন সোফায় বসে টিভি দেখছিল। ঘাড় ঘুরিয়ে ইমরানের দিকে তাকায়। ভীষণ ক্লান্ত দেখাচ্ছে ইমরানকে , চোখ মুখ ও কেমন যেন হয়ে আছে। কি হয়েছে ? অসুস্থ নাকি ? ইমরান তুলির দিকে একবার তাকিয়ে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায়।
ঢুলু ঢুলু পায়ে ভেতরে প্রবেশ ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে আগে। জ্বর আসবে বোধহয় , ভীষণ মাথা ব্যাথা করছে। অল্প সময়ের মধ্যে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে। টিশার্ট গায়ে জড়িয়েই বেডে শুয়ে পড়ে।
খিদেও পেয়েছে ভীষণ , সকালে দুটো সিদ্ধ ডিম খেয়েছিল শুধু। সারা দিন আর পেটে কিছু পরেনি। কিছু খেয়েই মেডিসিন খেতে হবে। কিন্তু এখন আর রান্না করার মতো শক্তি নেই। বাইরের খাবার ও খেতে ইচ্ছে করছে না। কোনো খাবারই খেতে ইচ্ছে করছে না।
ব্ল্যাঙ্কেট জড়িয়ে চুপ চাপ শুয়ে রইলো। শরীর ঝাঁকিয়ে জ্বর উঠছে।
টিভি অফ করে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় তুলি। ইমরানের সাথে কথা বলতে হবে। ও কি চাইছে সেটা ক্লিয়ার করে বলতে হবে আজ। একসাথে থাকার ইচ্ছে না থাকলে মুখ ফুটে বলুক। মুক্তি চাইলে তুলি নিজেই ডি/ভো/র্স দিয়ে চলে যাবে। এভাবে একটা সম্পর্কের মধ্যে ঝুলে থাকার কোনো মানে হয় না।
ধীর পায়ে এগিয়ে যায় ইমরানের রুমের দিকে। ডোর নক করে তবে ভেতর থেকে সাড়া শব্দ আসে না। আর নক না করে ডোর ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে। ব্ল্যাঙ্কেট জড়িয়ে শুয়ে থাকতে দেখে কপাল ভ্রু কুঁচকে যায়। পরমুহুর্তেই দ্রুত এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় ইমরানের শিয়রে। তখন ইমরানকে কেমন যেন লাগছিল।
_ কি হয়েছে তোমার ?
ইমরান চোখ খুলে তুলির দিকে তাকায়। ওর দুটো লাল লাল হয়ে আছে। চেহারা ফ্যাকাশে।
_ তুমি এখানে কেনো ?
_ কথা আছে তোমার সাথে।
_ বলো কি বলবে।
_ তোমার কি হয়েছে সেটা আগে বলো। ব্ল্যাঙ্কেট জড়িয়ে শুয়ে আছো কেনো এভাবে ?
_ কিছু হয়নি কি বলবে বলো।
তুলি ইমরানের কপালে হাত রাখে। ইমরান মুখ ঘুরিয়ে নেয়।
তুলি বির বির করে বলে,
_ অসুস্থ্য হয়ে ম/রবে তবুও তেজ কমবে না সাহেবের।
তারপর মুখ ফুটে বলে,
_ তোমার তো দেখছি অনেক জ্বর হয়েছে। মেডিসিন খেয়েছো ?
_ না।
_ এখনো মেডিসিন খাওনি কেন?
_ কথা বলতে ভালো লাগছে না যাও তো এখান থেকে।
_ খাবার খেয়েছো ?
_ না।
আর কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে যায় তুলি। ইমরান ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে তুলি চলে গেছে।
একটু পরেই প্লেট আর পানির জগ হাতে রুমে প্রবেশ করে তুলি। তুলির উপস্থিতি টের পেয়ে আবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় ইমরান। প্লেট হাতে এগিয়ে আসতে দেখে ব্লাঙ্কেটের নিচে মাথা ঢুকিয়ে দেয়।
তুলি দেখে ইমরানের কান্ড। পানির জগ আর খাবারের প্লেট সেন্টার টেবিলের উপর রাখে। গ্লাসে পানি ঢেলে ইমরানকে ডাকে ,
_ ওঠো খাবার খেয়ে মেডিসিন খাও।
নিশ্চুপ ইমরান।
_ কি হলো ? খাবার খেয়ে মেডিসিন খেয়ে ঘুমাও ভালো লাগবে।
_ খাবো না আমি।
_ জেদ না করে উঠে খাও।
_ বলছি তো খাবো না, তোমার খাবার তুমি খাও।
_ তেজ না দেখিয়ে ওঠো। অসুস্থ হয়ে ম/রে গেলে তেজ দেখাবে কার উপর ? তেজ দেখাতে হলেও তো বেঁচে থাকতে হবে, আর বেঁচে থাকতে হলে খেয়ে সুস্থ্য হতে হবে। তাই তেজ আর জেদ না দেখিয়ে উঠে খাও।
ইমরান ব্ল্যাঙ্কেটের ভেতর থেকে মাথা বের করে তুলির দিকে তাকিয়ে কিড়মিড় করে বলে,
_ তোর সাহস তো কম না, তুই আমাকে এসব কথা বলছিস !
ইমরানের উপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেট টেনে সরিয়ে নেয় তুলি। হাত টেনে ধরে তোলার চেষ্টা করে বলে,
_ ওঠো।
_ তুই আমার উপর জোর খাটাচ্ছিস ?
_ এটাকে জোর খাটানো বল ?
_ অবশ্যই।
_ তাহলে তাই করছি, ওঠো এখন।
তুলির টানাটানিতে শোয়া থেকে উঠে বেডের সাথে হেলান দিয়ে বসে ইমরান। মাথা ব্যাথার কারণে মাথা সোজা করতে পারছে না। জড়সড় হয়ে বসে বলে,
_ ব্ল্যাঙ্কেট দে দ্রুত শীতে ম/র/লাম।
ইমরানের গায়ের উপর ব্ল্যাঙ্কেট টেনে দেয় তুলি। গলা অব্দি ঢেকে ঘাড় কাত করে বসে রইলো।
_ হাত ধুয়ে খাবার খাও।
ইমরান বলে না কিছু।
_ খাবার খাও মেডিসিন খেতে হবে।
ইমরান একবার তুলির দিকে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে বসে রইলো। ওর এখন মোটেও হাত দিয়ে খেতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু খিদের কারণে পেটে আগুন ধরে গেছে।
তুলি ইমরানের দিকে কতক্ষন তাকিয়ে থেকে নিজেই হাত ধুয়ে নেয়। খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে ইমরানের সামনে বেডে উঠে বসে।
ভাত মাখাতে মাখাতে বলে ,
_ হাত দিয়ে খেতে না পারলেও গিলতে তো পারবে ! তাহলে তাই করো।
ইমরান তবুও কিছু বললো না। তুলি ভাত মাখিয়ে মুখের সামনে ধরে। চুপ চাপ মুখে নেয় ইমরান। ইমরানের গরম ওষ্ঠ দয়ের ছোঁয়া লাগে তুলির হাতে। কেঁপে ওঠে হাত টা। ইমরান খাবার চিবুতেই বুঝতে পারে দারুন হয়েছে রান্না। তুলি খাইয়ে দেয় চোখ বন্ধ করে খায় ইমরান। তুলির মুখের দিকে তাকায় না একবারও। তবে তুলি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে যায়। ওর মধ্যে কোনো দোষ আছে ? কমতি আছে ? ইমরানের যোগ্য না ? তাহলে মেনে নিতে এত সমস্যা কোথায় ? মুখ ফুটে বলেও না তো কিছু। ভালো না লাগলে , একসাথে থাকতে না চাইলে ডি/ভো/র্স দিয়ে দিলেই হয়। এভাবে ঝুলিয়ে রাখার মানে কি ? তুলি কিছু বলতে গেলেও ওর কথা শোনে না। না শুনলে কিভাবে বলবে ?
দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে ভেতর থেকে।
প্লেটের খাবার শেষ হয়ে যায়।
_ ভাত নিয়ে আসবো আরো ?
ইমরান চোখ মেলে তাকায়। খাবার ভালো লাগছে, পেটেও জায়গা আছে। খেতেও ইচ্ছে করছে কিন্তু বসে থাকতে ইচ্ছে করছে না। চোখ বন্ধ করে নেয় পুনরায় তারপর বলে ,
_ খাবো না আর।
হাত ধুয়ে প্লেট রেখে দেয়। মেডিসিনের বক্স খুঁজে বের করে মেডিসিন খাইয়ে দেয়।
_ বেড থেকে নামো।
_ কেনো ?
_ মাথায় পানি ঢাললে দ্রুত জ্বর নেমে যাবে।
_ লাগবে না।
_ জেদ না করলে ভালো লাগে না নাকি তোমার ?
হাত ধরে টেনেই বেড থেকে নামিয়ে ওয়াশরুমে নিয়ে আসে। পায়ের উপর ভর করে বসে ইমরান। হ্যান্ড শাওয়ার দিয়ে মাথায় পানি দিয়ে দিতে শুরু করে তুলি। পানি ঢালার ফাঁকে ফাঁকে চুলে হাত বুলিয়ে দেয়। ভালো লাগছে ইমরানের, আরম পাচ্ছে এখন।
বেশ অনেক টা সময় নিয়ে মাথায় পানি দিয়ে দেয়। বসে থাকতে থাকতে ইমরানের পা ব্যাথা হয়ে গেছে। মাথা ব্যাথা কমাতে গিয়ে পায়ের ব্যাথা বেড়ে গেছে।
টাওয়েল দিয়ে চুল গুলো মুছে দেয় তুলি।
_ বের হও এখান থেকে।
_ কেনো ?
_ পি করবো , দেখবে নাকি তাকিয়ে তাকিয়ে ?
তুলি দ্রুত ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে।
ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েই বেডে গিয়ে শুয়ে পড়ে। মাথা ব্যাথা একটু কমলেও জ্বর কমেনি এখনো।
তুলি টাওয়েল টা ভিজিয়ে নিয়ে আসে। দাঁড়ায় বেডের পাশে। ইমরানের গায়ের উপর থেকে টেনে ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে নেয় আবার। বিরক্ত হয় ইমরান। কপাল ভ্রু কুঁচকে বিরক্তির স্বরে বলে,
_ কি সমস্যা ? জালাচ্ছিস কেনো এভাবে ?
কিছু না বলে ইমরানের গায়ের টিশার্ট টেনে উপরের দিকে তুলে ভেজা টাওয়েল চেপে ধরে গায়ে। ছ্যাত করে ওঠে ইমরানের শরীর। সাথে সাথেই গায়ের প্রত্যেক টা লোম খাড়া হয়ে যায়। জোর করেই ইমরানের পুরো শরীর মুছিয়ে দেয় তুলি। তারপর টিশার্ট আর ব্ল্যাঙ্কেট ঠিক ঠাক করে দিয়ে বলে ,
_ এখন ঘুমাও আরামের ঘুম।
_ লাইট টা অফ করে দে।
তুলি ইমরানের ভেজা ড্রেস আর টাওয়েল বেলকনিতে মেলে দিয়ে আসে। শাওয়ার নিয়ে ড্রেস শুকিয়েও দেয়নি আজকে।
বেলকনি থেকে এসে দাঁড়ায় ইমরানের ড্রেসিং টেবিলের সামনে। কিছু একটা খোঁজে কিন্তু পায় না। তারপর নিজের রুমে চলে আসে। ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে তেলের বোতল টা নিয়ে হাতের তালুতে তেল ঢেলে নিয়ে ইমরানের রুমে ফিরে আসে। ইমরানের শিয়রে বসে হাতের সব টুকু তেল ইমরানের মাথায় দিয়ে মালিশ করতে শুরু করে। আরাম লাগছে তাই আর কিছু বলে না ইমরান। তুলি মালিশ করতে করতে বলে ,
_ দু'দিনের মধ্যে আমি বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই।
_ কেন?
_ থাকবো না এখানে।
_ কেন?
_ শুধু কেনো কেন কেন , থাকবো না এখানে। আমি বাংলাদেশে ফিরে যাবো। যত দ্রুত সম্ভব ডিভোর্স দিয়ে দেবে আমাকে। তোমার লাইফে ঝামেলা করতে আসবো না আর। আমার এই মুখও আর কোনো দিন দেখতে হবে না তোমাকে। নিজের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করে সুখে সংসার করো।
চুপ করে তুলির কথা গুলো শোনে ইমরান। তুলির চোখ টলমল করছে। তুলির হাত তখনো ইমরানের চুলের ফাঁকে ফাঁকে বিচরণ করছে। তুলি নাক টেনে ধরা গলায় বলে,
_ দু'দিনের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবে তুমি।
ইমরান ছোট করে বলে,
_ হুম।