অযাচিত প্রণয়

পর্ব - ৪

🟢

লাফিয়ে বেডে উঠে যায় ইমরান। ধড়ফড়িয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে তুলি। তুলির দুই পাশে হাত দিয়ে ওর দিকে ঝুঁকে যায় ইমরান। দুজনের মাঝে কয়েক ইঞ্চির দুরত্ব। ইমরান দাঁতে দাঁত চেপে কটমট করে বলে,

_ কি বললি আবার বল।

_ কি বলেছি ?

_ মনে নেই ?

_ না , কি বলেছি ?

_ বের হ আমার রুম থেকে।

_ হবো না, রুম তোমার একার নাকি ? এই রুম আমারও রুম। এই রুমে থাকবো নাকি থাকবো না সেটা আমার ইচ্ছে। এই রুম থেকে কখন বের হবো, কখন আসবো সেটাও আমার ইচ্ছে। তোমার ভালো না লাগলে ওই যে দরজা আছে , ওখান দিয়ে বেরিয়ে যাও।

_ তুলি ।

_ আস্তে বললেও শুনতে পাই আমি।

_ তুই ভয় পাশ না আমাকে ?

_ তুমি বা/ঘ না ভা/ল্লু/ক যে তোমাকে দেখে ভয় পেতে হবে ?

_ বা/ঘ ভা/ল্লু/কের মতো কা/ম/ড় দিয়ে খেয়েও ফেলতে পারি।

এই কথা ইমরানের মুখ দিয়ে বের করতে দেরি তবে এই কাজ তুলির করতে দেরি হয় না।

একটু সোজা হয়ে ইমরানের টিশার্টের উপর দিয়েই ওর বুকে কা/ম/ড় দিয়ে ধরে। হতভম্ভ হয় ইমরান। রা/ক্ষ/স নাকি এই মেয়ে ?

ব্যাথা পেয়ে তুলিকে নিজের কাছ থেকে সরানোর চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। এত জোড়ে কা/ম/ড় দিয়ে ধরেছে যে মনে হচ্ছে বুকের চামড়াই উঠে যাবে।

তুলির বাহু ধরে বলে,

_ তুলি ছাড় বলছি , নয়তো কিন্তু তোর কপালে দুঃখ আছে।

ঠেলে ঠুলে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দেয় তুলি কে।

সোজা হয়ে বসে ইমরান। তুলি একটু সরে যায় ওর কাছ থেকে। ইমরান বুকে হাত চেপে ডলা দেয় কয়েক টা।

ইমরানের মুখ লাল হয়ে গেছে। টিশার্ট উপরে তুলে বুকের দিকে তাকায়। র/ক্ত জমাট বেঁধে ফুলে উঠেছে।

কি জোড়ে কা/ম/ড় টা দিয়েছে ! মনে হচ্ছে জায়গা টুকু পচে গেছে। তুলিও তাকায় ইমরানের বুকের দিকে।

ফর্সা লোমশ বুকে তুলির সিলমোহর বসে গেছে।

ইমরান রেগে তুলির দিকে তাকায়।

_ রা/ক্ষ/স নাকি তুই ? কি করেছিস ?

_ জীবনে দ্বিতীয় বার আমাকে কা/ম/ড়ে খাওয়ার সখ যেন না জাগে সেই কাজ।

টিশার্ট ঠিক করে একটা বালিশ হাতে তুলে নেয় ইমরান। বালিশ দুই হাতে ধরে তুলির দিকে এগিয়ে বলে,

_ আজকে তোকে বালিশ চাপা দিয়ে মে/রে/ই ফেলবো।

_ ডাক্তারের কাজ মানুষ সুস্থ্য করা, খু/ন করা না। তাই ভুলেও এই কাজ করতে আসবে না ডাক্তার সাহেব।

_ জীবনে অনেক মানুষ সুস্থ্য করেছি একজন খু/ন করলে কিছুই হবে না।

তুলি লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে। ইমরানের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,

_ এখন মা/র/তে সুবিধা হবে।

তুলি যানে ইমরান যাই বলুক ওকে জানে মা/র/বে না।

রাগে ফোস ফোস করতে করতে হাতের বালিশ টা পাশে রেখে উপুর হয়ে শুয়ে পড়ে।

_ শ/য়/তা/ন মহিলা লাইট অফ করে দিয়ে আয়।

তুলি অন্য পাশ ফিরে শুয়ে বলে ,

_ ঠ্যাকা পড়েনি আমার। তোমার সমস্যা হলে তুমি অফ করে দিয়ে আসো।

বালিশ থেকে মুখ তুলে তুলির দিকে তাকায় ইমরান। তুলির মুখ দেখা যাচ্ছে না, শুধু পিঠ দেখা যাচ্ছে। দুজনের মাঝে দুই হাত দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দুজনেই বেডের দুই পাশে কিনার ঘেঁষে শুয়ে আছে।

ইমরান বুঝতে পারছে না হঠাৎ তুলির এত পরিবর্তন কিভাবে হলো ? এই তুলি তো সেই তুলি না। যেই তুলি বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পরে ভয়ে টেনশনে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিল সেই তুলি কিনা বিয়ের পরের দিন থেকে ওর মুখে মুখে তর্ক করছে ? এটাও সম্ভব ?

তুলিকে আর কিছু না বলে ইমরান নিজেই বেড থেকে নেমে লাইট অফ করে দিয়ে বেডে এসে শুয়ে পড়ে আবার।

_ ভুলেও আমার বুকের উপর উঠবি না। আর এই বালিশ টা তো কোনো ভাবেই ক্রস করবি না।

বলেই মাঝখানে কোলবালিশ রেখে দেয়। তুলি সাড়া শব্দ করে না। ইমরান ও আর কিছু না বলে চুপ চাপ শুয়ে রইলো। ছুটির এই এক'টা মাস কোনো ভাবে তুলিকে সহ্য করে নিতে পারলেই হয়। একবার কানাডা ফিরে গেলে ভুলেও আর বাংলাদেশে ফিরে আসবে না।

এই বিয়ে, সংসার , ভালোবাসা এসব ওকে দিয়ে হবে না। এই সব কিছুর প্রতি কোনো আগ্রহ নেই ওর সেই ছোট বেলা থেকেই। বিয়ের পর থেকে ওর মাথাই ঠিক ঠাক কাজ করছে না। ওর সাজানো গোছানো পরিপাটি সিঙ্গেল জীবন এলোমেলো হয়ে ডবল হয়ে গেছে। যেখানে বিয়েই করতে চায়নি , সেখানে নিজের অপছন্দের একজন কে কিছুতেই বউ হিসেবে মেনে নিতে পারছে না। কানাডা ফিরে যাবে বাংলাদেশে আর ফিরবে না এটাই ভালো বুদ্ধি।

কিন্তু ইমরান ভুলে গেছে মানুষ সব সময় যা ভাবে , যেভাবে করতে চায় তা প্রকৃতির নিয়মেই পরিবর্তন হয়ে যায়। আমরা চাইলেই সব হয় না।

যেখানে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা ওদের জুটি বেঁধে দিয়েছেন সেখানে ইমরান চাইলেই কি তুলির থেকে আলাদা হতে পারবে ?

বিজ্ঞাপন

________________

অনেক গুলো দিন পেরিয়ে যায়। দুজনের সম্পর্কের কোনো উন্নতি হয়নি। আগের মতোই রয়েছে এখনো। ইমরান সকালে বাড়ি থেকে বের হয় দুপুরে ফিরে খাবার খেয়ে আবার বেরিয়ে যায়। মাঝ রাতে বাড়ি ফেরে ততক্ষণে তুলি ঘুমে বিভোর। এসে নিজেই বেড়ে খেয়ে শুয়ে পড়ে।

এর মধ্যে দুবার তুলির বাবার বাড়িতে গিয়েছিল।

কারো কোনো কথা শোনে না ইমরান। কেউ বেশি কিছু বলেও না, বললেই রেগে যায়। এমনিতেই জোর করে বিয়ে টা করিয়েছে।

আর কোনো উপায়ও ছিল না তখন এটা করা ছাড়া। একটা মেয়ের বিয়ের দিন যখন কোনো কারণে বিয়ে টা ভেঙে যায় তখন সেই মেয়ে আর পরিবারের কেমন অবস্থা হয় তা অন্য কেউ আন্দাজ করতে পারবে না। সমাজের চোখে কতটা ছোট হতে হয় তা কারো অজানা নয়। এই একটা কথার জের ধরে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন কথা শোনায় মেয়ে টা কে, তার পরিবার কে। মেয়েটার দোষ নেই সেটা কারো চোখে পড়ে না। বিয়ে টা কেনো ভেঙে গেলো সেটাও কেউ দেখবে না। শুধু দেখবে মেয়েটার বিয়ে ভেঙে গেছে কোনো কারণে। মেয়েটা খারাপ , কোনো দোষ আছে, বড় কোনো ঘাপলা নিশ্চই আছে তাই বিয়ে টা হয়নি। এই সমাজের মানুষ জন বড়ই অদ্ভুত। তারা তিল কে তাল বানিয়ে তবেই ছারে।

ইমরান ম্যাচিউর একজন ছেলে হয়ে এমন আচরণ করবে কেউ ভাবেনি। ভেবেছিল একবার বিয়ে টা হয়ে গেলে আস্তে আস্তে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

কিন্তু ইমরান কিছুতেই তুলিকে মেনে নিতে পারছে না। তুলিকে দেখলে অটোমেটিক ওর রাগ বেড়ে যায়। রাগ হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই তবুও রাগ হয়।

আর এক সপ্তাহ তার পর ইমরানের ফ্লাইট। এই এক সপ্তাহ ইমরানের কাছে এক বছরের মতো লাগছে। সময় যেন আগাচ্ছে না। সময়ের কা/টা থেমে গেছে।

পরিবারের সাথেও সেরকম সময় পাড় করে না।

আজ রাতে বারোটার পর বাড়ি ফেরে ইমরান। ড্রইং রুমে এসে দেখে ওর মা সোফায় বসে আছে। একটু অবাক হয় মাকে দেখে। আজ এখনো জেগে আছে কেনো ?

_ আজ এখনো ঘুমাওনি কেনো আম্মু ?

মিসেস ইরানী ইমরানের দিকে তাকান। ইমরানকে বেশ ক্লান্ত লাগছে।

_ কোথায় ছিলি ?

_ রাস্তার মোড়ে।

_ কটা বাজে এখন ?

_ বারোটা পনেরো।

_ নতুন বউ ঘরে রেখে এত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকার মানে কি ইমরান ? এক সপ্তাহ পর তোর ফ্লাইট , এই কটা দিন মেয়ে টা কে একটু সময় তো দিতে পারিস।

ওর মনের উপর দিয়ে কি বয়ে যায় কখনো বোঝার চেষ্টা করেছিস ? তোর সামনে হাসি খুশি থাকে বলে তুই ভাবিস তুলি খুশি আছে ? ওর কষ্ট হয় না ? ওর খারাপ লাগে না ? মেয়েটা সারা দিন ওই রুমের মধ্যে চুপ চাপ বসে থাকে। কথা বলতে গেলে বলতে চায় না। আগে কামরানের সাথে কত হাসি খুশিতে সময় পাড় করতো, এখন কামরানের সাথেও কথা বলে না। প্রয়োজন ছাড়া রুমের বাইরে বের হয় না। মেয়ে টা ভেতরে ভেতরে গুমরে গুমরে শেষ। মাঝে মাঝেই দেখি ওর চোখ মুখ ফোলা ফোলা থাকে। চোখ লাল হয়ে থাকে। কিছু বলতে গেলে শোনে না, ইগনোর করে। জোর করে কিছু বলতেও পারি না। মেয়েটার ভালো করতে গিয়ে উল্টো খারাপ করে দিলাম বোধহয়। নিজের কাছে নিজেকেই অপরাধী মনে হয় এখন। আমার এই সিদ্ধান্ত টা ভুল ছিল হয়তো।

ইমরান কিছু বলে না। মাথা নিচু করে মায়ের সব কথা শোনে।

_ খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়।

কিছু না বলে ফ্রেশ হওয়ার জন্য চলে যায় ইমরান।

রুমে এসে বেশ অবাক হয়। আজ রুম ফাঁকা, তুলি নেই রুমে। ওয়াশরুম, বেলকনিতে কোথাও নেই তুলি। কোথায় গেলো ? ড্রেসিং টেবিলের উপর তুলির জিনিস গুলো নেই। ড্রেসিং টেবিল ফাঁকা। আলমারি খুলে দেখে, আলমারি ফাঁকা। তুলির একটা ড্রেস ও নেই।

হয়তো অন্য রুমে শিফ্ট হয়ে গেছে। ওর জন্য ভালোই হয়েছে। বেশি কিছু না ভেবে টাওয়েল নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে।

ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে আসে। মিসেস ইরানী তখনো সোফায় বসে আছেন। তার মন টা বিষন্ন হয়ে আছে।

ইমরান সোজা গিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে। নিজেই বেড়ে খেতে শুরু করে। কিন্তু আজকে কেনো যেনো খাবার গলা দিয়ে নামছে না। অল্প কিছু খাবার খেয়ে হাত ধুয়ে উঠে দাঁড়ায়। বাকি খাবার ফ্রিজে তুলে রেখে দেয়।

সব কিছু করে সোফার কাছে এসে দাঁড়ায়।

_ অনেক রাত হয়েছে ঘুমোতে যাও আম্মু।

_ তুই যা।

যায় না ইমরান। বুঝতে পারে কিছু একটা হয়েছে। অন্য দিন তো এমন করে না।

_ তুলি কোথায় আম্মু ?

মিসেস ইরানী মুখ তুলে ইমরানের মুখের দিকে তাকান।

_ চলে গেছে।

চমকায় ইমরান।

_ কোথায় গেছে ?

_ ওর বাবার বাড়িতে।

_ কেনো ?

_ তোর জন্য।

_ আমার জন্য ?

_ হ্যাঁ তোর জন্যই। তুলি এই বাড়িতে থাকলে তো তোর অনেক সমস্যা। ওর জন্য তুই নিজের বাড়িতেই থাকতে পারিস না। সারা দিন বাইরে বাইরে থাকিস। নিজের ফ্যামিলির সাথেও সময় কা/টা/তে পারিস না। তোর রুম দখল করেছে, তোর বাড়ি দখল করেছে, তোর ফ্যামিলি কে তোর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তাই তোর সব কিছু তোকে ফিরিয়ে দিয়ে চলে গেছে। তুই আমাদের বড় ছেলে। তোর প্রতি আমাদের টান টাও বেশি। কত গুলো বছর ধরে তো দূরে দূরেই থাকিস। ছুটিতে আসিস অল্প কিছু দিনের জন্য। এবার এক মাসের ছুটিতে আসলি। তোকে আমরা কাছে পেয়েও পেলাম না। বাংলাদেশে আছিস তো আর এক সপ্তাহ। এই এক সপ্তাহ যেন নিজের ফ্যামিলির সাথে সময় কা/টা/তে পারিস তাই চলে গেছে। তোর কোনো সমস্যার কারণ আর তুলি হবে না।

মায়ের কথা গুলো শুনে ইমরান বলতে পারে না কিছু। মিসেস ইরানীর চোখে টলমলে পানি।

_ কি বল তো বাবা আমরা যেমন টা পরিকল্পনা করি , যা সিদ্ধান্ত নেই সেরকম কিছুই হয় না বেশির ভাগ সময়, আমাদের সিদ্ধান্ত ও ভুল হয়। তুলির বাবা কেই দেখ না , মেয়ের জন্য শত শত ছেলে দেখে একজন পছন্দ করলো। একটা মাত্র মেয়ে , তাকে কিছুতেই দূরে বিয়ে দেবে না। সেজন্য খুঁজে খুঁজে কাছাকাছি মেয়ের বিয়ে ঠিক করলো। তার মনে কত আনন্দ ছিল , কত কিছু ভেবেছিল মেয়ের বিয়ে নিয়ে। সেসব করলোও, সবই ঠিক ঠাক মতোই হচ্ছিল। হচ্ছিল কিন্তু হয়নি, শেষ মুহূর্তে এসে বিয়ে টা ভেঙে গেলো। বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় মেয়ে টা কে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। সেজন্য আমি আর তোর বাবা একটা সিদ্ধান্ত নিলাম। তুলি আমাদের চোখের সামনে বড় হয়েছে , ধরতে গেলে কোলে পিঠে মানুষ করেছি। তুলি খুবই ভালো একজন মেয়ে। ওর মতো মেয়ে আজ কাল হয় না। তাই তোর সাথে জোর করেই বিয়ে টা দিলাম। ভেবেছিলাম দুজনেরই ভালো হবে। আমাদের ও একটা মেয়ে হবে। একে অপরের সাথে ভালো থাকবি। আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সেসব কিছুই হলো না। দুজনের ভালো করতে গিয়ে দুজনেরই খারাপ করে দিলাম।

মিসেস ইরানীর চোখ থেকে টুপ টুপ করে কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ে। দ্রুত সেই পানি টুকু মুছে নিয়ে উঠে দাঁড়ান। নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলেন,

_ গিয়ে ঘুমিয়ে পড় অনেক রাত হয়েছে।

ইমরান কিছু সময় আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। মায়ের বলা কথা গুলো মাথায় ঘুর পাক খাচ্ছে।

ড্রইং রুমের লাইট গুলো অফ করে ধীর পায়ে রুমের দিকে এগিয়ে যায়। খালি বেড দেখেই তুলির কথা মনে পড়ে। রুমের মাঝ খানে চুপ চাপ দাঁড়িয়ে বেডের দিকে তাকিয়ে রইলো।

বিজ্ঞাপন
অযাচিত প্রণয় গল্পটি সানা শেখ-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক লাভস্টোরি