অচেনা ছায়া তুমি

পর্ব - ৮

🟢

আরিশের ফোনে কি মেসেজ এসেছে এইটা শুধু আরিশ এবং যে মেসেজ করেছে সেই জানে।

আরিশ জবাবে উত্তর দিল ___

"যত খুশি তত উড়তে দাও।আমি তো এসেছি পাখা ভাঙ্গার জন্য। শুধু ভাঙবো না পুড়িয়ে ফেলব।আরিশ ইহতেশাম খান এর কখনো তার লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয় না।"

মেসেজ টা পাঠিয়ে আরিশ ফোন বন্ধ করে দিল। মনে মনে চক কষছে কিভাবে কি করা যায়।

_______________

ইনায়া তার পড়ার টেবিলে বসে পড়ছে।কাল তার মনোবিজ্ঞান পরিক্ষা।

ইনায়া মানবিক বিভাগের ছাত্রী। পড়াশোনা কোনো এক কালে খুব ভালো ছিল। এখন খারাপ তা না। পড়লে খুব ভালো পারে কিন্তু মাঝে মাঝে মনোবল হারিয়ে ফেলে। কোনো এক সময় স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবে। কিন্তু একটি অতীত। ভয়ংকর অতীত সব শেষ করে দিয়েছে। মেয়েটির স্বপ্ন, ইচ্ছে,ভারসা, সাহস,,,, কাউকে ভালোবাসার সাহস!!!! সব শেষ।

কিন্তু ইনায়া?,,,সে হায় মানেনি।লড়ে গেছে। মুখের হাসি কে আড়াল হতে দেয়নি। হাসি যেন তার জীবন। মা,বড় ভাই এবং আর একজন স্পেশাল মানুষের সাপোর্টে সে স্বাভাবিক আছে।মা এবং ভাই কখনো তাকে এইটা বুঝতেই দেয়নি,,,যে আজকে আমার বাবা থাকলে আমার সাথে এটা হত না, এইটা পেতাম।

মা এবং ভাই সব সময় ছায়ার মতো পাশে থেকেছে। কিন্তু বাবা তো বাবাই। তাও আবার ইনায়ার বাবা।তার জন্য বেস্ট।

ইনায়া পড়ছে পড়ছে,,_

হঠাৎ তার বাম হাতের দিকে নজর গেল। অনেক গুলো কাঁটা দাগ। সম্পূর্ণ বোঝা যায় না কিন্তু এতটুকু স্পষ্ট বোঝা যায় যে এখানটা কাঁটা হয়েছে।এক অক্ষর ,কিছুটা হলেও স্পষ্ট। অনেক গুলো কাঁটা দাগের আগে এই একটা অক্ষর যা ইনায়া কে বারবার মনে করিয়ে দেয়,,,___

"যে মেয়েদের অতীত থাকতে নেই। যে মেয়েদের অতীত আছে তারা ভালোবাসার যোগ্য না।একবার অতীত হয়ে গেলে সারাজীবন বয়ে নিয়ে যেতে হয়।আর সেই জায়গায় তো তার‌ অতীতের সাথে সাথে এই কাঁটা দাগ,এই অস্পষ্ট অক্ষর বয়ে নিয়ে যেতে হবে।"

ইনায়া দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো।আবার পড়ায় মনোযোগ দিল। তাকে যেভাবেই হোক ঢাবি তে চান্স পেতে হবে।অতীত কে সে পার করিয়ে ছাড়বেই। তার স্বপ্নে আসা সেই অচেনা ছায়া তাকে যেমন স্বপ্নে আগলে রেখেছে ঠিক তেমনি একদিন বাস্তবে তার অগোছালো জীবনে এসে তাকে আগলে নেবে। তাকে ভালবাসবে।তার অতীত নিয়ে পরোয়া করবে না।

ইনায়া চোখ বন্ধ করে মনে মনে বলল,,,,__

কবে আমার জীবনে আসবে #অচেনা_ছায়া_তুমি ?

কোথায় আছো এখন #অচেনা_ছায়া_তুমি ?

এখানে,,,,,, হঠাৎ একটি ধ্বনি ভেসে এল।

কথাটি আরিশ বলল।

ইনায়া‌ আচমকা চোখ খুলে আরিশের দিকে তাকালো।সে ভাবল,,__

"যত বার আমি আমার সে স্বপ্নেও অচেনা ছায়ার কথা ভাবি ততবারই এই লোক এসে পড়ে।"

ইনায়া নিজের চিন্তা ভাবনা দূর করে বলল,,,

__জী??

আরিশ বলল __

"বলছি এখানে তো আমি কিছু চিনি না। জন্ম হয়েছে লন্ডনে অথচ বাপের বাড়ি সম্পর্কে কোন ধারণা নেই।"

ইনায়া শব্দ করে হেসে উঠলো।আরিশ মুচকি হেসে মাথা চুলকে ইনার পড়ার টেবিলের পাশে আরেকটি চেয়ার ছিল সেই চেয়ারে বসে পরলো ইনায়া এখনো হাসছে।আর আরিশ মুগ্ধ নয়নে ইনায়া কে দেখছে।

আরিশ মনে মনে বলল,,,__

"কে বলেছে যে শুধুমাত্র সুন্দরী, চিকন, গালে টোল পরা, ঠোঁটের বাঁ পাশে তিল থাকা মেয়েদের হাসলেই সুন্দর লাগে।কোই আমার সপ্তদর্শী তো তেমন না তারপরও তার হাসি থেকে চোখ ফেরানো যাচ্ছে না কেন? আমার শ্যামপরী। শ্যামলা গায়ের রং, চোখের নিচে কালো দাগ, চোখের পাতাগুলো বড় বড়, গাল দুটো ফুলোফুলো। ইচ্ছে করে দুই গাল ধরে টানি। হাসলে গালে টোল পড়ে না তারপরও হাসিতে রয়েছে এক মুগ্ধতা। অবশ্য ঠোঁটে উপরের তিল আছে কিন্তু তা ডানপাশে। আরিশ মুচকি হাসল। গুলুমুলু মেয়ে একটা।এই মেয়েকে সে যত দেখছে ততই ভালোবেসে ফেলছে। এটাকে অবসেশন বলা যায়।"

ইনায়া হাসি থামিয়ে বললো,,,,__

" যেখানে আমি নিজেই নিজের বাপের বাড়ি ঘুরি নি ভালো করে আপনি কি করে চিনবেন।"

বিজ্ঞাপন

আরিশ হাসল।ভাবল অবশেষে তার প্রিয়সী তার সাথে একটু একটু করে কথা বলছে।

আরিশ বলল,,,,__

"আমার টা তো মানা যায় কিন্তু তুমি কেন ঘুরো নি।"

ইনায়া বলল,,, __

"আসলে বাসা থেকে স্কুল এবং এখন এই আমার ঘোরা। তাছাড়া প্রাইভেট এবং মাঝে মাঝে যদি বান্ধবীদের সাথে কোথাও যাই। তাছাড়া তেমন ভালোভাবে কোথাও ঘোরা হয়নি।"

আরিশ একটু কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল,,,__

"কেন? কখনো বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরতে যাওনি?"

ইনায়া অবাক হল তার হেসে বলল,,,___

"আস্তগফিরুল্লাহ। এই সব হারাম সম্পর্কে নেই আমি।"

আরিশ নিশ্চিত হয়ে মুচকি হাসলো।

( রিলেশন না করে অথবা সম্পর্কে না থাকলে আবার ইনায়ার অতীত আসল কোথা থেকে? গল্পে আস্তে আস্তে জানতে পারবেন।)

আরিশ বলল_

"তা বেশ দুজন মিলে একসাথে ঘুরবো। একসাথে মিলে শহড় ঘুরবো।"একসাথে চিনব নতুন পথ।

ইনায়া হাসল। জবাবে কিছু বলল না।

আরিশ বলল,,__"কি পড়ছো?"

ইনায় বলল,,, __"মনোবিজ্ঞান।কাল পরিক্ষা।"

আরিশ বলল,,,_

"তো কেমন লাগে এই বিষয়?"

ইনায়া বলল___

"আমার খুব পছন্দের।জানেন আমার না সাইকোলজিস্ট হবাই ইচ্ছা।"

আরিশ খুব খুশি হল।এই প্রথম ইনায়া আগ বাড়িয়ে কিছু বলল,,তার স্বপ্নের কথা।আরিশের ইচ্ছা করছে সারুক খান এর চেন্নাই এক্সপ্রেস মুভির লুঙ্গি ডান্স গান‌ ছেড়ে লুঙ্গি পড়ে নাচতে কিন্তু তা সম্ভব না। কারণ সে কখনো লুঙ্গি পড়েনি।খুলে গেলে মান ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি।

ইনায়া আবার বলল,,, __

"কিন্তু আম্মু যেমন তেমন,, আন্টি বলে যে সাইকোলজিস্ট এইসব কিছু না।অযথা। এইখানে নাকি কোনো ভবিষ্যৎ নেই।"

ইনায়া মন খারাপ দেখে আরিশ বলল,,,

"তোমার কি ইচ্ছে? সেইটা কে গুরুত্ব দেও। কে কি বলল তা নিয়ে মাথা ঘামিও না। মানুষ শুধু কথা বলে এবং শোনায় কখনো পাশে থাকে না। ভুল পথে মানুষ নিয়ে গিয়ে ছেড়ে আসে। তারপর যখন তুমি পথ হারিয়ে ফেলবে তখন তোমাকেই দোষারোপ করবে সেই পথে যাবার জন্য।"

ইনায়া তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,,,__

" এইটা আমার থেকে ভালো আর কেউই বলতে পারবে না।"

আরিশ অবাক হলো।আরিশ ইনায়ার হাসির পিছনে লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণা, কষ্ট, রহস্য সংমিশ্রন দেখতে পাচ্ছে।সে ভাবল,,_ কেউ কি তার প্রিয়শীকে খুব কষ্ট দিয়েছে?ভেঙ্গে দিয়েছে?

যদি কেউ করে থাকে তাহলে আরিশ তাকে ছাড়বে না।

আরিশের মনে হাজারো প্রশ্ন।কি ঘটেছিল ইনায়ার সাথে।ইনায়া কথায় এমন লুকানো কষ্ট, রহস্য কিসের।আরিশের সব জানতে হবে সব!!!!

বিজ্ঞাপন
অচেনা ছায়া তুমি গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক উপন্যাস