অতীতের খোলাসা প্রথমাংশ
সাল ২০১৪।আমি তখন ক্লাস ওয়ানে পড়তাম। ভালোবাসা বিয়ে এইসব কিছুই বুঝতাম না এবং এইটাই স্বাভাবিক। ভালোবাসা মানে বুঝতাম মা বাবা ভাই ফুফুরা যেমন আদর ভালোবাসা দিত তেমন। আর বিয়ে মানে বুঝতাম শাড়ি পরা, সাজগোজ করা এবং পেট পুরে খাওয়া দাওয়া। অন্যান্য মেয়েরা ছোটবেলায় কি করে তা আমার জানা নেই কিন্তু এতটুকু জানি বাঙালি মেয়েদের একটি অভ্যাস ছিল সেটি হল মায়ের ওড়না দিয়ে বিয়ের শাড়ি পরা এবং গামছা দিয়ে চুল বানানো। খুব বউ সাজতে ভালো লাগতো তখন আমার। ভাবতাম আমি বড় হলে বিয়ে করবো অনেক শাড়ি গহনা পাবো, পেট পুরে ভালো-মন্দ খাবার খাব। তখনকার সময় ছিল না কোনো আবেগ আর না ছিল কোনো মিথ্যাচার। শুধু ছিল এক নিষ্পাপ মন।শ্রবণ হতে যা শোনা যেত তা যেন হৃদয়ে গেঁথে যেত। একদিন রুবিনা আপু(ইনায়ার শেজ চাচার বড় মেয়ে।) মজা করে বলেছিল তার দেবরের সাথে আমার বিয়ে দিবে।তার দেবরের নাম ছিল সানিউল ইসলাম।তখন এইসব শুনে খুব রাগ দেখিয়েছিলাম।বাড়ির সকলে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল।আপু এর পর থেকে প্রায় এমন কথা বলতো।সবাই মজা নিত। একদিন শুধু আব্বুর সামনে বলাতে আব্বু রাগ দেখিয়ে ছিল। কিন্তু হয়তো ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।আমার মনে এইটা গেঁথে গিয়েছিল যে সানিউল ভাইয়ার সাথে আমার বড় হলে বিয়ে হবে। এমনকি তখন আমি তার পুরো নাম পর্যন্ত জানতাম না।আর না মনে পড়তো তার চেহারা।সে আমার থেকে পাঁচ বছরের বড় ছিল।আমি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকি, নতুন বছরে আসে পুরোনো বছর চলে যায়। নুতন ক্লাস, নুতন ড্রেস, নতুন বই খাতা কিন্তু রয়ে যায় মনে সে গেঁথে থাকা পুরাতন ইচ্ছে।সানিউল ভাইয়ার বউ হওয়া।
ইনায়া থামলা। নিজেকে আরো শক্ত করল যাতে সামনে যা বলবে সেটা বলার সময় যেন আরিশের সামনে কান্নায় ভেঙে না পড়ে।
আর আরিশ?সে এখনো আগের মতই তার ইনু কে জড়িয়ে ধরে বসে আছে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এই প্রথম ইনায়া তার বুকে থাকা সত্ত্বেও যেন তার বুকে জ্বালা পোড়া করছে।সে এক অদৃশ্য দহনে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে নিজের বুকের আগলে রেখে তার মুখ থেকে তার ভালোবাসার মানুষটির কথা শুনা বড্ড যন্ত্রণাদায়ক। এমন আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে যা থেকে না আরিশ বের হতে পারছে আর না পারছে সে আগুন নিভিয়ে দিতে।সেই যায়গায় সহ্য করা তো বিলাসীতা।
ইনায়া আবার বলতে শুরু করল__
ভালোবাসা কি বুঝতে হয়তো অনেক বয়স লেগেছিল কিন্তু বিয়ের স্বপ্ন সেই ছোট বেলা থেকেই ধরে রেখেছিলাম। রুবিনা আপুর শশুর বাড়ী ছিল টোকে। কাপাসিয়া দিয়ে টোক যেতে হয় সেখানেই।আমি ছোট থেকেই আমার শেজ চাচির সাথে বেড়াতে যেতাম। উনি যেতেন উনার বাবার বাড়ি এবং উনার বাবার বাড়ির সাথে ছিল রুবিনা আপুর শশুর বাড়ি। একদম পাশাপাশি।আমি মূলত সেখানে যেতাম সানিউল ভাইয়ার জন্য।তাকে শুধু এক নজর দেখার জন্য।
প্রথম শুধু দেখতাম আর মন কে মনে করিয়ে দিতাম সেই আমার ভবিষ্যৎ স্বামী।আমি তো ভাবতাম আপু যেহেতু বলেছে তাহলে সেও জানে।তাই কখনো তার সাথে বেশি কথা হয়নি আমার। আসলে আমার নিজেরই লজ্জা করতো। আমাদের সর্বোচ্চ ১০ কি ২০ বার কথা হয়েছে ১০ বছরের ভেতর। কিন্তু হ্যাঁ আমার লক্ষ্য থাকতো যে বছরে একবার হলেও টোকে যাব এবং তাকে মন প্রাণ ভরে শুধু দেখব। ছোটবেলায় তো শেজ চাচি যখন বেড়াতে যেত তখনই চলে যেতাম কিন্তু বড় হবার পর শুধু ডিসেম্বরের ছুটিতে যেতে পারতাম। ক্লাস ওয়ান থেকে ফোর পর্যন্ত কখনো কোন তারিখ মনে রাখিনি বা বুঝিনি কিন্তু ১০১৮ সাল, তখন আমি ফাইভে পড়তাম। ১৩ এপ্রিল রুবিনা আপু চাচি কে কল করে বলে তার ইচ্ছে করছে পহেলা বৈশাখ নিজের মার সাথে কাটাবে এবং তার মাকে বলেছিল যে আমাকে নিয়ে চলে আসতে।আমার জন্য তো এর থেকে বড় খুশির খবর কিছু হতেই পারতো না তখন। আমিও চলে এসেছিলাম চাচির সাথে।
১৩ এপ্রিল তখন ক্লাস ফাইভে পড়ার কারণে এসব তারিখগুলো মনে রাখা একটু সহজ হয়ে গিয়েছিল। সেদিন বিকালে আসি। কিন্তু কখন আসি কোন সময় আসি তা ঠিক মনে নেই। বিকেলে এসে দেখি সে নিজের পড়ার টেবিলে বসে পড়ছি। সে আবার খুব পড়ুয়া শিক্ষার্থী ছিল। তাকে তো এলাকার সবাই পছন্দ করত। সবার মতে তার মত ভদ্র শান্তশিষ্ট ছেলে হয় না। এবং আমার চোখে সে তো সবসময় বেস্ট ছিল। সেইদিন শুধু একবার তার সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম সে কেমন আছে এবং সে আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শুধুমাত্র বদলে আমাকে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস কতো।ব্যাস এতটুকুই কথা হতো আমাদের মাঝে। এবং এতেই আমি খুব খুশি হয়ে যেতাম। কিন্তু তার দৃষ্টি সবসময় আমাতেই থাকত।আমি এমন যায়গা দিয়ে হাঁটতাম, খেলতাম যেইখান থেকে তাকে দেখা যেত। তাদের ছিল মাটির ঘর। একটি পড়ার টেবিল ছিল ঘরে এবং অন্যটি ছিল ঘরের বাইরের বারান্দায়। সেখানে সে দিনের বেলায় বসে পড়তো।গ্ৰাম এলাকা তো তাই চারপাশ ছিল খোলামেলা, মাটির রাস্তা, বাঁশঝাড়। রাস্তায় বসে থাকলেও তাকে দেখা যেত।আমার তো অর্ধেক সময় সেই রাস্তায় কাটতো শুধু তাকে দেখার জন্য।সেও সবসময় আমাকে আড় চোখে দেখত। আমাদের চোখাচোখি হয়ে গেলেই আমি চোখ সরিয়ে নিতাম কিন্তু সে চোখ সরিয়ে নিত না। কিছু একটা তো ছিল তার চোখে।
এভাবেই যেত সময়।আমি বছরে একবার যেতাম এবং তাকে দেখতাম।সেও আমাকে দেখত।তার চোখেও আমি নিজের জন্য ভালোবাসা দেখেছিলাম।
২০১৯ আমি তখন ক্লাস সিক্সে। রোজার ঈদের পর গিয়েছিলাম টোকে তখন আম্মু, ভাইয়াও গিয়েছিল। সন্ধ্যায় আগ দিয়ে পৌঁছেছিলাম কিন্তু তখন সে ছিল না।ঘরে বসে সবাই আড্ডা দিচ্ছিলাম। কারেন্ট ছিল না বাহিরে ছিল ঘুটঘুটে অন্ধকার।সে বাড়ি ফিরে যখন তার মাকে পায়নি তখন বাড়ি থেকে ডাকতে ডাকতে সে এইদিকে আসছিল।তার মা আমাদের সাথেই ছিল। আম্মু সকল ছোটদের জন্য চকলেট এনেছিল।তার ভাগের চকলেট নিয়ে আমি দৌড় লাগলাম অন্ধকারে তাকে দেওয়ায় জন্য।সে জানি না কি করে বুঝে ফেলল এইটা আমি। অন্ধকারেই জিজ্ঞেস করল কেমন আছো।আমিতো খুশিতে শেষ যে সে আমাকে চিনে ছিল। আমিও উত্তর দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম।তার উত্তর পাওয়ার পর তার দিকে চকলেট বারিয়ে দিয়েছিলাম সেও নিয়েছিল। আঙুলের স্পর্শ লাগে শুধু।এতেই যেন ছিল আমার ভালোলাগা। সেখানে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াতে পারলাম না চলে এসেছিলাম সেখান থেকে।
সেইবার বাড়িতে ফিরে আসারা আগে আমি আমার চাচাতো ভাইয়ের ফোন দিয়ে তার ফোন থেকে তার ছবি নেই যাতে তাকে দেখতে পারি।তখন আমাদের স্মার্টফোন ছিল না বাটন ফোন ব্যবহার করতাম।বাড়ি ফিরে আমি আমাদের ফোন দিয়ে চাচাতো ভাইয়ের ফোন থেকে তার ছবি ওপেন করে নিজের ফোনে ছবি তুলতাম।যাতে আমি আমার ফোন দিয়ে তাকে দেখতে পারি।
২০২০ সালে যাওয়া হয়েছিল ডিসেম্বর মাসে। ভাইয়াকে ২০১৯ সালের শেষের দিকে একটি ফোন কিনে দেওয়া হয়েছিল। সেটিই আমি মাঝে মধ্যে ব্যবহার করতাম। ফোনে প্রথম প্যাটার্ন লক ছিল।আমরা টোকে গিয়েছিলাম ১৮ ডিসেম্বর এবং ফিরে আসব ২০ ডিসেম্বর। সেদিন আমি তার কাছে নিজ থেকে গিয়ে আবদার করেছিলাম__
" সানিউল ভাইয়া তুমি কি ফোনে লক দিতে পারো? ওয়ার্ড লক? পারলে একটু দিয়ে দাও।"
সে আমার হাত থেকে ফোন নিয়ে লক দিয়ে দেয়।লক ছিল ২৫২৫০৮ আনফরচুনেটলি আমার এখনো মনে আছে।আমি আমার ভাই এবং আম্মু কে বলেছিলাম এই লক ততদিন থাকবে যতদিন এই ফোন আছে।আমি চাইতাম না তার দেওয়া লক চেন্জ হোক।
২০২১ সালে যাওয়া হয়নি।তখন আমি এইটে পড়তাম।একটি বছর তাকে দেখিনি।কথা তো হতোই না।এই একটি বছর আমার কি করে কেটেছিল তা কেবল তখন শুধু আমিই জানি। তখন শুধু তার ছবি দেখতাম।আমি সাহস করে নিজের নাম দিয়ে প্রথমবারের মতোন ফেসবুক খুলি ফেব্রুয়ারি মাসে। তখন ছিল ২০২২ সাল আমি ক্লাস নাইনে পড়তাম।আর আমি জানতাম সেই বছরটি আমার টোকে যাওয়া হবে না এবং তাকে দেখা হবে না তাই এই আশা নিয়ে ফেসবুক খুলেছিলাম যে তার সাথে টুকিটাকি কথা হলে হয়তো মনটা হালকা হবে। তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দেই। সে ৪ই ফেব্রুয়ারি দুপুর ২:৭ এ আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করেছিল। আমি সাথে সাথে একটা স্ক্রিনশট নিয়েছিলাম।কারণ আমার অনেক ভালো লেগেছিল। আর টাইম গুলো মনের রাখলে কেমন জানি ভালো লাগতো। অনেক সাহস করে তাকে আমি রাত আটটা পঁচিশে মেসেজ দিয়েছিলাম। মেসেজে শুরু লিখেছিলাম আসসালামুয়ালাইকুম এবং জিজ্ঞেস করেছিলাম কেমন আছো। সেই ৮:২৮ এ মেসেজের উত্তর দেয়। সেই রাতে আমাদের 8:28 থেকে আটটা 35 পর্যন্ত খুবই নরমাল কথাবার্তা হয়েছিল। ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করেছিলাম,কি করে রাতের খাবার খেয়েছে নাকি এইসব ব্যাস এতোটুকুই। তারপর ভাইয়া আমার কাছ থেকে ফোন নিয়ে গিয়েছিল।তারপর নয়টার দিকে অনেক কষ্টে ভাইয়ার কাছ থেকে আবার ফোন নিয়েছিলাম শুধুমাত্র এইটা দেখার জন্য কি সে আর কোন মেসেজ দিয়েছিল কিনা। তারপর চ্যাট লিস্টে ঢুকে দেখলাম তাকে আর মেসেজ দেওয়া যাচ্ছিল না এমনকি তার আইডিতে ঢোকা যাচ্ছিল না। আমি ভেবেছিলাম হয়তো সে তার একাউন্ট ডিএক্টিভ করে ফেলেছে। তারপর তার ভাইকে মেসেজ করলাম। তার ভাইয়ের সাথে আমার মাঝে মধ্যে কথা হতো। তারা তিন ভাই ছিল একজন তো আমার দুলাভাই, তারপর তার আরেক বড় ভাই যার নাম বনি এবং সে সবার ছোট। তার ভাইকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে হয়তো সে তার একাউন্ট ডিএক্টিভ করেছে। তারপর সাথে সাথেই আমি সেই রাতে আরেকটি অ্যাকাউন্ট খুললাম এবং সেই একাউন্ট দিয়ে সার্চ করে দেখলাম সে একটিভ আছে এবং সে তার আইডি ডিএক্টিভ করেনি তার মানে সে আমাকে ব্লক মেরে। খুব অভিমান হয়েছিল তখন। কান্নাই করে দিয়েছিলাম তখন। মনে মনে পণ করেছিলাম তাকে আর বিরক্ত করব না। তারপর বিভিন্ন ফেক আইডি খুলে তার ফেসবুক আইডি স্টক করতে লাগলাম। এভাবেই দিন যাচ্ছিল। এক বছরে তার সাথে আমার কোন যোগাযোগ হয়নি।১৪ ই এপ্রিল গিয়েছিলাম।তখন অবশ্য যাওয়ার কোনো প্লেন ছিল না।১৩ই এপ্রিল রুবিনা আপু কল করে জানায় তার নানী শ্বাশুড়ি মারা গিয়েছেন।তো আমার চাচি তো যাবে সেইটা শুনে আমি ঘরে এসে আব্বু আম্মুর কাছে আবদার করি আমিও যাব এবং তারা রাজি হয়ে যায়।তখন সে পড়তো ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে ময়মনসিংহ নটরডেম কলেজে।আমরা টোকে পৌঁছেছিলাম সকাল ৮ টার পর।সে তখনো আসেনি।আমি নানু কে গিয়ে কয়েকবার দেখে তারপর রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলাম এবং তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম যে কখন সে আসবে। ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়ে থাকার পর যখন ক্লান্তি লাগল যেইনা তাদের ঘরে গিয়ে বসলাম উমনি শুনলাম দুলাভাই বলছে সে নাকি টোকে আসার পর গাড়ি পাচ্ছে না তাই হেঁটে আসতে হচ্ছে। ঘন্টাখানেক হাঁটতে হবে।আমি আর বসে থাকতে পারলাম না। ভাবলাম যেই জায়গায় সে কষ্ট করছে সেই জায়গায় আমি কি করে বসে থাকতে পারি। আবার গিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।সে আসে ১০:৫৫ তে। দূরে থেকেই তাকে দেখতে পেয়েছিলাম।সে আমার সামনে দিয়ে গেল কিন্তু একটিবারও কথা বলল না।আমিও বলিনি। জানাজা পড়ে কিছুক্ষণ সে ঘরে বসে রেস্ট নিল।আমি বাহিরে চেয়ার নিয়ে বসেছিলাম। এমন জায়গায় বসেছিলাম যেখান থেকে তার রুমের জানলা দিয়ে তাকে দেখা যেত। আমি আড় চোখে তাকে দেখছিলাম বারবার। সে তার বোনের ছেলেমেয়েদের সাথে কথা বলছিল। তারপর দেখলাম আমার চাচি সেই ঘরে ঢুকছে এবং তার সাথে কথা বলছে আমিও চাচির পিছনে পিছনে গিয়েছিলাম রুমের ভেতর শুধুমাত্র তাকে সামনাসামনি ভালোভাবে দেখার জন্য। সে সুন্দর ভাবে কথা বলছিল। মেডিকেল ছিল তার গোল। এবং স্টুডেন্ট খুব ভালো ছিল। ছোটবেলা থেকে আমারও স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবার। যার ফলে আমিও সাইন্স নিয়েছিলাম ক্লাস নাইনে।তো তার গাইড টেস্ট পেপার নিতে চেয়েছিলাম। আমার মন টার্গেট ছিল তার কিছু আমার কাছে রাখা তাহলে আমি স্মৃতি হিসেবে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারব। তখন সে আমার চাচীর সাথে কথা বলছিল কিন্তু আমি তার দিকে শুধু আর চোখে তাকাচ্ছিলাম। নিজ থেকে তার সাথে কথা বলিনি। কারণ আমার এখনো মনে আছে এক বছর আগে সে আমাকে অকারনে ব্লকে দিয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম হয়তো সে আমার সাথে কথা বলবে কিন্তু সেও আমার সাথে কথা বলেনি। তারপর আমি সেখান থেকে চলে গিয়ে আমার চাচাতো বোনের নানুর বাড়ি চলে যাই। মাথা হিজাব পরার কারণে মাথা ভীষণ ব্যথা করছিল সেখানে গিয়ে আগে হিজাব খুলে ফেলেছিলাম। তখন আমি এরকম সব সময় মাথায় ঘোমটা দিয়ে রাখতাম না। তো বাইরে থেকে তার কন্ঠ শুনে দৌড় দিয়ে বের হই। দেখলাম সে এলাকার আন্টিদের সাথে কথা বলছে। সবাই তাকে খুব পছন্দ করত তাই সে আসলে সবাই এসে তার সাথে দেখা করতো। তাদের এলাকায় সব থেকে ভাল স্টুডেন্ট সেই ছিল। আমি তখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে মাথা আঁচড়াচ্ছিলাম। সে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আন্টিদের সাথে কথা বলছিল এবং আমাকে আড় চোখে দেখছিল। এভাবেই অনেকটা সময় পার হয়ে যায় এবং চলে আসে তার চলে যাওয়ার সময়। কারণ কালকে তার কলেজে থাকা খুব জরুরী ছিল। সে যখন চলে যাবে তার আগ দিয়ে আমি রুম থেকে আবার বের হলাম। দেখলাম তার মা রুবিনা আপু সবাই তাকে এগিয়ে দিচ্ছে। আমি পিছন পিছন গিয়েছিলাম। সবাই অনেকটা সামনে ছিল আমি এবং সে কিছুটা পিছনে ছিলাম। সে খুবই আস্তে আস্তে হাটছিল। আমার থেকে হয়তো তিন চার পা দূরত্ব। সে হয়তো ভেবেছিল আমি কিছু বলবো এবং আমি ভেবেছিলাম হয়তো সে কিছু বলবে। কিন্তু দুজনের মধ্যে কোন কথাই হয়নি।
কিন্তু তখন আমার মনে খুব অভিমান জমে ছিল তার সেই দিনের করা ব্যবহারের। তাই আমি নিজ থেকে কিছু বলিনি তখন। সে একবার পিছনে ফিরে তাকালো কিন্তু আমার ব
দৃষ্টি তখন মাটির দিকে ছিল তারপর সে সামনে এগিয়ে গেল। আমি মোরের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম এবং তার চলে যাওয়া দেখছিলাম।তখন দুপুর ১:২৫ বেজেছিল যখন তাকে লাস্ট দেখেছিলাম।তখন রোজা ছিল খুব আশা ছিল তার সাথে রোজা কাটাবো তার সাথে ইফতার খাবো কিন্তু আশা আর পূরণ হলো না। সেদিন আমরা থাকলাম। আপুর বাসাতেই ইফতার করতে বলল আপু।সেখানে তার মা,ভাই,বোন,বোনের ছেলেমেয়ে সবাই ছিল। সামনে ইফতার নিয়ে বসে ছিলাম। কিন্তু মন জানি কেমন আনচান করছিল। বারবার ভাবছিলাম সে এখন কোথায় আছে সে কি পৌঁছেছে কিনা। আজানের ধ্বনি শুনেও পানি পান করতে মন চাচ্ছিল না। বারবার এটা ভাবছিলাম সেই যে রোজা রেখে এতটা জার্নি করেছে সে কি পানি খেয়েছে নাকি। তারপর খেয়াল করলাম সবাই খাওয়া শুরু করলেও আমি এবং তার মা কিছু খাইনি। এমন কি পানি ও না। তার মা তাকে কল করল। কল করে আগে জিজ্ঞেস করল যে সে পানি খেয়েছে কিনা এবং কোথায় আছে। সে বলেছিল তার আগে বোনের বাড়িতে। এইটা শোনার পর আমরা দুজন আগে পানি পান করলাম।সেই দিনটা খুব স্মরণীয় হয়ে ছিল আমার জন্য।তার পুরো পরিবারে সাথে ইফতার করা এবং পরে সাহরি করা যেন স্বপ্নের মত লেগেছিল আমার কাছে। পরের দিন আমিও চলে এসেছিলাম। এবং ফিরে আসার সময় তার টেস্ট পেপার গাইড নিয়ে এসেছিলাম। এবং রুবিনা আপুর ছেলে মানে রমিম কে সে মজা করে ৫ টাকার একটি কয়েন দিয়ে গিয়েছিল। আমি রমিমকে অনেক ভুলভাল বুঝিয়ে তারপর তার কাছ থেকে সে পাঁচ টাকার কয়েনটি নিলাম।সে বাড়িতে এসে যখন এসব বের করছিলাম তখন আমার ভাই বলেছিল, "বাহ্ বাহ্ তোকে তো দেখছি অনেক কিছু দিয়েছে কাহিনী কি বলতো? তার কাছ থেকেই আনতে হবে এমনকি কোন কথা ছিল? "
আমি কিছুটা থতমত খেয়ে গেলাম। কারণ তখন আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমার মনে সামিউল ভাইয়ার জন্য যা তৈরি হয়েছিল তার কেবলমাত্র আমার পরিবারের কথা শুনে। তখন আমি মনে করতাম হয়তো আমি তাকে নিজ থেকেই ভালবাসতাম। এবং আমি যে তাকে পছন্দ করি সেটা আমার পরিবারের কেউ জানতো না। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম স্বাভাবিক থাকার জন্য।
তখন আমার নানু মজা করে বলল__
"সমস্যা কি তার বেয়াই লাগে সে আনতেই পারে। সে তো ভাইয়া বলেই ডাকে। "
তখন আবার আমার আম্মু মজা করে বলল__
" ভাইয়া বলে ডাকলেই কি ভাইয়া থেকে সাইয়া হতে পারে।"
সবাই অনেক হাসলো। আমি মনে মনে ভাবলাম হয়তো ভবিষ্যতে এমন কিছু তারা প্ল্যান করে রেখেছে তাই হয়তো তারা এত আমাকে সাপোর্ট করে এ বিষয়ে। এরপর থেকে আরও বেশি আসক্ত হতে লাগলাম তার প্রতি। পড়াশুনা একদম মন উঠে গিয়েছিল। শুধুমাত্র এটা চিন্তা করতাম সে কলেজে ওঠায় কাউকে ভালোবেসে ফেলে? ভবিষ্যতে কি তাকে আমি পাব নাকি?তাকে তো কখনো নিজের ভালোবাসার কথা আমি বলতে পারিনি আদৌ কি আমি কখনো বলতে পারবো?এবং এইসব ভাবতেই ভাবতেই আমার আর ঠিকমত পড়াশোনা করা হয়ে উঠেনি।
নামাজ আগে পড়লেও তেমন ভাবে পড়া হতো না। মাঝে মাঝে বাদ যেত। কিন্তু ক্লাস নাইন থেকে কোনো নামাজ বাদ দিতাম না এমনকি তাহাজ্জুদ পর্যন্ত পড়া শুরু করেছিলাম শুধু মাত্র তাকে পাওয়ার জন্য।আমি শুধু মাত্র তার সাথে ফেসবুকে এড সবার জন্য ১৮ টি ফেইক আইডি খুলেছিলাম যে কোন না কোন একটা দিয়ে এড হতে পারব। নিজের রিয়েল অ্যাকাউন্ট দিয়ে তার বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে এড হই। এবং তার ভাইয়ের কাছ থেকে মাঝেমধ্যেই তার খোঁজ খবর নিতাম। তার বেস্ট ফ্রেন্ড জানতো আমি তাকে ভালোবাসি। একদিন ঈদে তার বেস্ট ফ্রেন্ড এর কাছে তার পিক চেয়েছিলাম তখন সে বলেছিল__
"যদি সানিউল জানতে পারে আমি তোমার সাথে কথা বলি তাহলে সে অনেক রাগ করবে। এবং আপাতত তার জন্য অপেক্ষা কর সে মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর তোমাকে তার উত্তর জানাবে।"
আমি ভেবেছিলাম হয়তো যেহেতু অপেক্ষা করতে বলছে তার মানে আমার জন্য কিছু আছে কিন্তু সে শুধুমাত্র নিজের পড়া লেখায় মনোযোগ দিতে চাচ্ছে। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করতাম নিজের পড়া লেখায় মনোযোগ দিতে কিন্তু পারতাম না তখন। তার ভাইকে অনেক সাহস করে বলে ফেলি। তার ভাই বলে এখন তাকে কিছু জানিও না এবং সে আগে মেডিকেল তারপর আমি নিজ দায়িত্বে সবকিছু ঠিক করব। সে আমাকে অনেক আশা দেয় এবং আমি এভাবেই তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি।
তারপর আমার জীবনের সবচেয়ে বড় এবং প্রথম ধাক্কা খাই যখন আমার আব্বু মারা যায়। ফোন হাতে নিয়ে বসেছিলাম ভেবেছিলাম হয়তো সে একবার অন্তত কল দিবে। আমি তাকে ভালোবাসি কখন সেইটা জানত । আম্মু ছিল তখন হসপিটালে। ভাইয়া ছিল সবার সাথে এবং কান্না করছিল। আমি এত তখন ছিলাম একা। একটুকুও কান্না করিনি। শুধু ফোন হাতে নিয়ে বসে ছিলাম এবং ভেবেছিলাম হয়তো সে একবার কল দিয়ে আমাকে সান্ত্বনা দেবে। আমাকে না দিত অন্তত আমার ভাইকে তো দিতে পারতো আফটার অল সেই আত্মীয় ছিল কিন্তু ফোন দেয়নি। আমি অনেক কষ্ট নিজের মনকে বুঝিয়ে ছিলাম হয়তো তার কোন পরীক্ষা অথবা সে জানে না। কিন্তু আমার আব্বুর মৃত্যুর চার দিন পর ছিল আমার জন্মদিন। এই চারদিনেও কি সেই বিষয়টি জানতো না? অবশ্যই জানতো কিন্তু একটি বার কল করল না। খুব কান্না এসেছিল। সিদ্ধান্ত নিলাম তাকে ভুলে যাব কিন্তু ভুলে যাব সিদ্ধান্ত নিলেই কি আর কাউকে এত সহজে ভুলা যায়? আমিও পারিনি। যখন আমার বান্ধবীরা জিজ্ঞেস করত সে কি এসেছিল তখন আমি উত্তর দিতে পারতাম। যখন তারা জিজ্ঞেস করল সে কি কল দিয়েছিল আমি সেটির উত্তর দিতে পারিনি তাদের কাছে। খুব ছোট মনে হয়েছিল নিজেকে। কাউকে ভালবাসলে যে তার জন্য এতটা ছোট হতে হয় তা আমার জানা ছিল না। আমার বান্ধবীরা আমাকে অনেক হিন্ট দিত যে সে হয়তো আমাকে ভালোবাসে না আমি শুধুমাত্র তার জীবনে অপশনাল চয়েজ তাই সে এখনো পর্যন্ত আমাকে ঝুলিয়ে রেখেছে যদি সে সাকসেসফুল হয়ে যায় তাহলে আমাকে ভুলে যাবেন কিন্তু আমি এসব বিশ্বাস করিনি। আমি শুধু এতোটুকু জানতাম যে আমি তাকে ভালোবাসতাম।
তার প্রত্যেকটি অক্ষরের জন্য আমি পাগল ছিলাম। একটি বোতল ছিল যেটির নাম সান বোতোল, সেটি খুব যত্ন করে রেখে দিয়েছিলাম। আমাদের শ্রীপুরে পাওয়া যেত না বলে মাওনা বিয়ে হয়েও সে বোতলটি কিনতাম। সেই বোতল নিয়ে যদি কেউ মজা করত তাহলে খুব রাগ দেখাতাম। কেউ মজা করে লুকিয়ে ফেলল অনেক কান্না করতাম। এবং সেই কয়েকটি খুব সুন্দর করে নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলাম।
তার যখন এইচএসসি পরীক্ষা ছিল তখন তার প্রত্যেকটি পরিক্ষার সময় রোজা রাখতাম। আর এইচএসসি রেজাল্ট দেবার সময় মানত রোজা রেখেছিলাম। তার মেডিকেল পরীক্ষার সময় তার জন্য রোজা রেখেছিলাম এমনকি তার মেডিকেল রেজাল্টের সময় তার জন্য রোজা রেখেছিলাম। যেদিন তার মেডিকেলের রেজাল্ট জানাবেন সেদিন আমি স্কুলের থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় এসে পড়েছিলাম। বাসায় এসে শুনলাম রেজাল্ট দিতে দিতে নাকি বিকাল হবে। বাধ্য হয়ে প্রাইভেটে যাই। কিন্তু মন একটু পড়াশুনায় ছিল না। বারবার দোয়া করছিলাম যাতে সে মেডিকেলে চান্স পায়। আম্মু স্যারের ফোনে কল দিয়ে আমাকে জানিয়ে ছিল সে রাজশাহী মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। শুনে খুব খুশি হলাম অনেক কষ্টে খুশিতে নিজের কান্না আটকে রাখলাম। ভাবলাম হয়তো এখন আমার অপেক্ষার অবসান ঘটবে।
কিন্তু বাড়িতে গিয়ে যা ঘটেছিল তার জন্য তখন আমি প্রস্তুত ছিলাম না। বাড়িতে যেতে না যেতেই আম্মু কড়া কন্ঠে জানান দিল সানিউল ভাইয়া কে ভুলে যেতে। আমার যেন পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেল। কি বলছে কেন বলছে তা সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। তারপর আম্মু বলল সে নাকি সানিউলের এর বড় ভাইকে কল দিয়ে বলে অর্থাৎ হালকা কিছু জানান দিয়েছিল এবং সে নাকি সরাসরি আমার আম্মুর মুখের উপরে বলে দিয়েছিল এইসব সম্ভব না এবং বলল আমাকে যাতে আমার আম্মু বোঝায়।
তখন যেন আমি অবাগের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম। ঠিক কয়েক মাস আগেও আমাকে বলেছিল সেই নিজ থেকে সবকিছু ঠিক করে দিবে। এমনকি আশ্বাস দিয়েছিল এটা সম্ভব। সেইসব মেসেজ এখনো পর্যন্ত আমার কাছে আছে। অথচ এখন তার ভাই মেডিকেলে চান্স পেতে না পেতে সবকিছু পরিবর্তন হয়ে গেল। তাহলে এতদিনে এইসব কি ছিল। তার ভাইয়ের যদি আমার প্রতি কোন ইন্টারেস্ট না থাকতো তাহলে কেন ওইভাবে তাকাতো আমার দিকে। সে তো জানতো তার বড় ভাই এবং বেস্ট ফ্রেন্ড আমার সাথে কথা বলে তাহলে কেন সে তাদেরকে দিয়ে আমাকে না করে দেয়নি। কেন সে আমাকে অপশনাল চয়েজ হিসেবে রেখে দিল। এবং আমিও তার অপশনাল চয়েজ হিসেবেই ঝুলে রয়ে গেলাম। এবং এরপর শুরু হলো বাড়ির মানুষের কথা। কেউ কোন কথা বলাতে একটুও থামেনি। সবাই আমাকে নির্লজ্জ বলতে লাগলো। আমাকে শোনাতে লাগল কেন ছোটবেলা থেকে তাকে ভালবাসতে গেলাম। তখন কি বুঝতাম আমি এসবের। এত পাকনা কেন অমুক সমুক। কিন্তু তারা এটা ভুলে গেল যেসব তারাই শুরু করেছিল। এবং তাদের জন্য আমার এত বড় ধাক্কা পেতে হলো। প্রথমেই আব্বু মারা যাওয়ার ধাক্কা তার কয়েক মাস পর আবার নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে না পাওয়ার থাকা এই সব কিছুই আমি সামলাতে পারছিলাম না শুরু হয়ে গেল পরিবারের খোঁটা। আমার মাও তখন কম শোনায় নি আমাকে। একদিন আম্মুর সামনে অনেক কেঁদেছিলাম। আমি কখনো কোন কারনে কাঁদে নি আম্মুর সামনে কিন্তু একদিন অনেক কান্না করেছিলাম। এবং ২০২৩ সাল থেকেই শুরু হলো আমার কান্না। এরপর থেকেই প্রত্যেক রাত যেত আমার কাঁদতে কাঁদতে। ঘুম থেকে উঠে বসে বসে কাঁদতাম। নিজেকে যখনই স্বাভাবিক করতাম তখন বাইরে গেলে কেউ কোন না কোনভাবেই এই প্রসঙ্গের কিছু না কিছু বলতো। এরপর থেকে রুম থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেই। ভাইয়ার রুমে বসে থাকতাম। অন্ধকার রুম পেলে একা একা বসে বসে কাঁদতাম। কারণ ঘরে থাকলেও আম্মু কোন না কোন বিষয়ে নিয়ে খোঁটা দিত। তখন পড়ালেখা থেকে একদম মন উঠে গিয়েছিল। যে জায়গায় ছোটবেলায় আসির নিচে পেলে কান্না করে ভাসিয়ে দিতাম সে জায়গায় দু এক সাবজেক্টে ফেল আসা শুরু করল। বাড়ি থেকে আরও বেশি ঝামেলা শুরু হলো। খুব বাজে ভাবে ভেঙে পড়েছিলাম কারণ সামনে আসছিল বোর্ড পরীক্ষা। তখন আমার ফুফাতো ভাই রাফি ভাইয়া একদিন আসলো এবং এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল ঘটনা কি আমি এরকম হয়ে গিয়েছি কেন? আমি ছোট থেকেই খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম। সে পড়াশোনার জন্য বাইরে ছিল বলে জানতো না সবকিছু। তারপর আমার
আম্মু তাকে সব বলে। এবং বলে যে আমাকে যাতে সে অনেক করে কথা শুনাই। কিন্তু রাফি ভাইয়া তারপর আমার আম্মুকে বলে___
"এই সব তো আপনাদের জন্য শুরু হয়েছিল। রুবিনা যদি এসব তাকে না বলতো এবং আপনারা যদি এই সবে সায় না দিতেন তাহলে তার নিষ্পাপ মনে এসব ঢুকতো না। সে তো ছোট ছিল যা শুনতো তাই মনে করতো। এখানে তো কোন দোষ নেই তার। সবকিছু শুরু হয়েছিল রুবিনার জন্য কিন্তু আপনারা চাইলে এগুলো অনেক আগেই বন্ধ করতে পারতেন আপনারা বন্ধ না করে মজা নিয়েছেন এবং এই মজা তার মনে ভালোবাসা হিসেবে তৈরি হয়। ভালোবাসা তো কোন অন্যায় নয়। অন্যায় আপনারা করেছেন এবং সেই অন্যায়ের শাস্তি সে পাচ্ছে। তাকে বকাবকি করলে খোটা শোনালে কোন কাজ হবে না। তাকে সময় দিন সে আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।"
রাফি ভাই আমাকে অনেক বোঝালো এবং আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এখন তাকে ভুলে যাব। আগে নামাজ এবং তাহাজ্জুদ পড়তাম শুধুমাত্র তাকে পাবার জন্য কিন্তু তারপর প্রত্যেক মোনাজাতে শুধু কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে চাইতাম যাতে তাকে আমি ভুলে যাই। এমন কোন মোনাজাত নেই যেখানে আমি তাকে ভুলে যাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চায়নি। একেই তো মাথা ব্যথা ছিল এসব কারণে মাথাব্যথা আরো বেশি বেড়ে গিয়েছিল জানি আমার এখনো ভুগতে হয়। মোটামুটি স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিলাম নিজেকে সামলিয়ে নিয়েছিলাম। সবার কাছ থেকে দূরত্ব বেড়ে যায় আমার। কি নিজের কাছে বান্ধবীদের কাছ থেকেও। একদম একা একা থাকতাম। হাসি কি তা তো ভুলে গিয়েছিলাম। তখন রিফাত ভাই না থাকতে হয়তো আমি কখনোই স্বাভাবিক হতে পারতাম না। সেসব অনেক কথা।
একদিন আন্টি আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করে বলল যে আমি কি সানিউল ভাইয়াকে নিজ মুখে বলেছি আমি যে তাকে ভালোবাসি। তখন আমি বললাম যে আমি কখনোই বলিনি। তিনি আমাকে বললেন তাকে কল দিয়ে যাতে আমি বলি যে আমি তাকে ভালোবাসি। আন্টির কথায় তাকে অনেক সাহস জুগিয়ে কল দিলাম।৯ আগস্ট বিকেল ৩:১৫ সে কল ধরলো। আমি তাকে বললাম তুমি তো জানোই সবকিছু এখন আমি শুধু তোমার কাছে উত্তর চাই। তারপর সে আমাকে জিজ্ঞেস করল কে তুমি? যে জায়গায় এই নাম্বারটি তার কাছে অনেক আগে থেকে ছিল। তারপর আমি বললাম যে আমি ইনায়া এবং আমার প্রশ্নের উত্তর দাও। তখন সে বিরক্তিকর ভঙ্গিতে চ শব্দ করে ফোন কেটে দিয়েছিল। আমি নিজেকে প্রস্তুত করেছিলাম এটার জন্য যে আমি তার কাছ থেকে উত্তর না শুনবো। কিন্তু তার কাছ থেকে কোন উত্তর না পেয়ে আরও বেশি ভেঙ্গে পড়ি। মনে নতুন আশা তৈরি হয়ে যায়। কারণ যেহেতু সে না বলেনি তার মানে তার উত্তর হ্যাঁ হতে পারে। আবার নতুন করে,,,,
ইনায়া থামলো।গলা আটকে আসছে তার।আরিশ কে খুব শক্ত করে চেপে ধরলো।পারলে যেন আরিশের বুকের ভেতর ঢুকে পড়বে। আরিশও তার মাথায় পর পর চুমু খেতে লাগলো। তাকে শান্ত করার চেষ্টা করল বিষয়টি এমন নয় যে আরিশের কষ্ট লাগছে না। তারও কষ্ট লাগছে নিজের ভালোবাসার মানুষের মুখ থেকে অন্য কারোর বর্ণনা শুনতে। কিন্তু সে তার ইনুকে এইখানে দোষারোপ করবে না। কারন এইটা তার অতীত। এবং সে চায়না তার ইনু নিজের অতীতের জন্য ভবিষ্যতে আরো কষ্ট দুঃখ পাক। তাই সে নিজে স্বাভাবিক থাকছে।