অচেনা ছায়া তুমি

পর্ব - ৫১

🟢

আরিশ একদম যোহরের নামাজ পড়ে তারপর বাড়ি ফিরল‌। মূলত ইনায়ার জন্য কিছু আনতে গিয়েছিল।ইনায়া সবে মাত্র নামাজ পড়ে উঠলো। প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছে তার কিন্তু আরিশ না আসা পর্যন্ত কিছু খেতেও পারছে না। হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠল।ইনায়া মাথায় ওড়না দিয়ে দৌড়ে গেল দড়জা খুলতে। দরজা খুলে যা দেখল তা দেখার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না সে।আরিশ এক হাতে পুচুঁ কে কোলে নিয়ে এবং অন্য হাতে এক প্যাকেট। মুখ নজর কাড়ে নেওয়া সেই হাসি। গালে টোল হাসার কারণ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।ইনায়া আরিশের কোল থেকে পুচুঁ কে নিজের কোলে নিল। তারপর ইচ্ছে মতো চুমু খেতে লাগল।পুচুঁর কপালে, দুই গালে, এমনকি ঠোঁট চুমু খেল।যা দেখে আরিশের ভীষণ রাগ হলো।যে যায়গায় সে এখনো নিজের বউ এর কাছ থেকে চুমু পেল না সেই যায়গা এক শিশু তার অধিকার নিয়ে নিল।আরিশের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। সে মনে মনে বলল ,,,

"আরিশ রে এই বাচ্চাটা তো দেখছি তোর থেকেও বেশি লাকি। ইস্ আমার হকটাও ও নিয়ে নিল। আমি কবে আমার হবে চুমু পাব? নাকি আমাকে আবার এই তিন বছরের বাচ্চার মতোন ছোট হতে হবে? অবশ্য আমার সপ্তদশীর ভালোবাসা পেতে আমি এক বছরের বাচ্চা হয়ে যেতেও রাজি কিন্তু সেটা তো অসম্ভব।"

ইনায়া পুচুঁ কে নিয়ে রুমের দিকে যেতে লাগল।আরিশ ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দিল। সাদমান আসে নি তার নাকি এক বিশেষ কাজ আছে।আরিশ হাতের প্যাকেট গুলো ড্রয়িং রুমের টেবিলের উপর রেখে নিজের রুমে চলে গেল।ইনায়া পুচুঁ কে এইটা সেইটা বলছে এবং দুজন মিলে হাসছে।আরিশ ইনায়া কে হাসতে দেখে নিজেও মুচকি হাসলো। তারপর নিজের শার্ট খুলে ওয়াশ রুমে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর হাত মুখ ধুয়ে বের হলো। মুখে পানি দেওয়ার কারণে সামনের চুল গুলো ভিজে গিয়ে কপালের সাথে লেপ্টে আছে। সেই ভেজা চুল থেকে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে নামলো তার গলায়, তারপর পানি মিলিয়ে গেল বুকের পশমে।বুকের পশম কিছুটা ভেজা।কলারবোনের স্পষ্ট ভি-লাইন। বুকের মাংসপেশি টানটান, যেন খোদাই করা ভাস্কর্যের মতো। পিঠের পেশিগুলো শক্ত আর সুষম। নড়াচড়া করলেই পেশি টানটান হয়ে উঠে। মনে হয় পিঠ যেন বাটারফ্লাই।

ইনায়ার চোখ গেল আরিশের পিঠে।আরিশ যখন নড়াচড়া করছে পিঠের পেশি তত টান টান হচ্ছে।ইনায়া খুব ইচ্ছে হলো আরিশের উদাম পিঠে হাত ছুঁইয়ে দিতে।সে নিজের চিন্তা ভাবনা দেখে নিজেই লজ্জা পেল। শুকনো ঢোক গিলে নিজের দৃষ্টি সংযত করল। পর মূহুর্তেই মনে পরলো আরিশ তো তার স্বামী কোনো পর-পুরুষ না।তাই সে তাকাতে পারবে।ইনায়া আবার আরিশের দিকে তাকালো। কিন্তু এইবার আরিশের চোখে চোখ পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে ইনায়া নজর সরিয়ে ফেলল।আরিশ মুচকি হেসে ইনায়ার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসল।ইনায়া কেমন হাঁসফাঁস করতে লাগলো।আরিশ উদাম শরীরের তার একদম কাছে এইটা ভাবতেই তার শরীরের পশম দাঁড়িয়ে গেল।ইনায়া আরিশের দিকে না তাকিয়ে বিছানায় খেলতে থাকা পুচুঁর দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু আরিশের শরীর থেকে আসা পুরুষালি ঘ্রাণ যেন তাকে মাতাল করে তুলছে।সে চোখের কোণা দিয়ে আরিশ কে দেখতে লাগলো।আরিশ তা দেখে মুচকি হাসলো। তারপর নেশালো কণ্ঠে বলল,,,

"আমি তো তোমারই আমার দিকে সরাসরি তাকিয়ে আমাকে দেখতে পারো।ট্রাস মি, আই ডোন্ট মাইন্ড।"

ইনায়া থতমত খেয়ে গেল। তারপর নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল,,,

বিজ্ঞাপন

"আমি কেন আপ,, আপনাকে দেখতে যাব? আর আপনার লজ্জা করে না এইভাবে এক যুবতী মেয়ের সামনে উদাম থাকতে? "

আরিশের ভ্রু কুঁচকে গেল নিজে নিজেই ইনায়ার কথা শুনে। তারপর ঠোঁটে দুষ্টু হাসি নিয়ে বলতে লাগলো ,,,

"যুবতী হলেই কি বউ লাগো আমার। যেভাবে খুশি সেভাবে থাকবো তোমার সামনে‌। শুধুমাত্র তোমার পুচুঁ ছিল বলে নয়তো আমি তো এই পেন্ট ও খুলে আসত,,,"

আরিশ আর নিজের কথা সম্পূর্ণ করতে পারলো না।তার আগেই ইনায়া নিজের হাত দিয়ে আরিশের ঠোঁট চেপে ধরলো।চোখ তার বড়বড় হয়ে গেছে। লজ্জায় মুখ লাল হয়ে গেছে।আরিশ নিজের এক চোখের ভ্রু উঁচু করে ইনায়ার হাতের তালুতে চুমু খেল।ইনায়া কিছুটা নড়ে চড়ে উঠলো কিন্তু নিজের হাত সরালো না।আরিশ যেন আরো সুযোগ পেয়ে বসলো।সে ইনায়ার হাতের তালুতে চুমু খেতে লাগল এবং নিজের জিভ বের করে ইনায়ার হাতের তালুতে লেহন করল।ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে চোখ বন্ধ করে নিল। কেঁপে উঠল সে।হাত সরাতে নিতেই আরিশ হাত ধরে নিল তারপর হাতের কব্জিতে আবার নিজের ওষ্ঠের‌ উষ্ণ স্পর্শ ছোঁয়ায়।ইনায়ার যেন জান যায় যায় অবস্থা। সে নিজের চোখ খোলার সাহসই পাচ্ছে না।আরিশ ইনায়া ভীত চেহারা দেখে যেন নিজের হুঁশ হারিয়ে ফেলল।ইনায়ার নিজের চোখ শক্ত করে বন্ধ করে রেখেছে। ঠোঁট তার তিরতর করে কাঁপছে।আরিশের দৃষ্টি গেল ইনায়ার কাঁপতে থাকা ঠোঁট।সে আস্তে আস্তে ইনায়ার মুখের কাছে চলে গেল। দুজনের নিঃশ্বাস একে অপরের উপর আছড়ে পড়ছে।আরিশ হাস্কি স্বরে বলল ,,,,,

--"কেন আই টেস্ট ইউর লিপস? ট্রাস মি আই উইল বি জেন্টেল।জাষ্ট এ সফ্ট কিস! প্লিস ডোন্ট সে মি নো ইনু।"

ইনায়ার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল।সে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো।বুক তার উঠানামা করছে।আরিশ যেন এই দৃশ্য দেখে আরো বেশি উন্মাদ হয়ে গেল।সে আর নিজেকে থামাতে পারলো না।ইনায়ার নিরবতা কে সম্মতি মনে করে ইনায়ার ঠোঁটের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো।ইনায়াও পিছিয়ে গেল না। এইভাবেই চোখ বন্ধ করে বসে ছিল। দুজন ভুলেই গিয়েছিল তাদের পাশে পুচুঁ নামক এক তিন বছরের বাচ্চা আছে।আরিশের একদম ইনায়ার ঠোঁটের কাছে চলে গেল।ইনায়ার নাকের ডগায় থাকা ছোট্ট কালো তিলে হালকা করে কামড় দিল। তারপর শব্দ করে চুমু খেয়ে ইনায়াল ঠোঁটের দিকে অগ্রসর হলো।তার নাক ইনায়ার নাকের সাথে লাগছে। দুজনের ঠোঁট একদম ছুঁই ছুঁই। দু-তিন ইঞ্চি দূরত্ব।আরিশ যেই না দূরত্ব গুছিয়ে ওষ্ঠ দ্বয়ের মিলন ঘটাবে ঠিক সেই মুহূর্তেই কলিং বেল বেজে উঠল।ইনায়া চোখ খুলে ফেলল।আরিশের মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট।ইনায়া যা ঘটতে যাচ্ছিল তা মাথায় আসতেই পিছনে সরে গেল। লজ্জায় তার মুখ লাল হয়ে গেল।তার মনে হয় না সে আর আরিশেল দিকে তাকাতে পারবে।আরিশ যেই না ইনায়া কে কিছু বলবে এর মধ্যেই আবারো কলিং বেল বেজে উঠল।আরিশ বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালো। তারপর দরজা খুলতে চলে গেল।ইনায়া তো লজ্জায় নিজের দু হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিল।

বিজ্ঞাপন
অচেনা ছায়া তুমি গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক উপন্যাস