অচেনা ছায়া তুমি

পর্ব - ৪৯

🟢

"ছিঃ ছিঃ ছিঃ কিসব গান আস্তগফিরুল্লাহ। এমন কিছুই না ওকে? তোমার মাইন্ড আল্লাহ,,,, এহেমম,,, এহেম,,, "

ইনায়া নাক ছিটকে কথা গুলো বলল। রিফাত হাসতে হাসতে শেষ। তারপর শ্লেষ স্বরে বলল,,,

"নাটক কম কর প্রিয়। মানে মানে বলে ফেল জামাই বাসর ঘরে কি উপহার দিল।"

ইনায়া নির্বিঘ্ন ভঙ্গিতে জবাব দিল,,

" নারিকেল।'

রিফাত চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল,,

"কিহ! নারিকেল মানে সিরিয়াসলি? বাসর ঘরে কি কেউ নিজের বউকে নারিকেল উপহার দেয়? "

ইনায়া আবারও স্বাভাবিক ভাবেই জবাব দিল,,,,

"হ্যাঁ দেয় তো।আমার স্বামী দিয়ে নতুন রেকর্ড করলো।"

রিফাত যেন আজ হাসতে হাসতে অক্কা পাবে। সে জীবনের প্রথম শুনলে কোন স্বামী তার স্ত্রীকে বাসর ঘরে নারিকেল উপহার দেয়। এমন উপহার দেওয়ার কাহিনী আজ পর্যন্ত সে শুনেনি।ইনায়া হাসছে। তারও যে ভীষণ হাসি পাচ্ছে। তার জীবনে আজকাল অদ্ভুত অদ্ভুত অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এবং এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলো যেন তার জীবনে আনন্দ বয়ে আনছে।

রিফাত অনেকক্ষণ ঠাট্টা করে তারপর স্বাভাবিক স্বরে বলতে শুরু করল ,,,

"অনেকে কিছুই তো সহ্য করেছিস অতীতে। এখন যেন তোর জীবনে সুখ আসে এই প্রার্থনাই করব। নিজের বোন না হয়েও বোনের থেকে কিছু কম না তুই আমার কাছে। আমার সব থেকে খারাপ সময় ছিলি তুই আমার পাশে। তোর খারাপ সময়ে পাশে থাকতে পেরেছি কিনা জানি না কিন্তু দেখেছি তুই কতটা ধৈর্য ধরে এই পর্যন্ত এসেছিস।তাই তো আমার দেখা সবথেকে স্ট্রং গার্ল তুই। এবং আশা করি আরিশ ভাই তোকে খুব খুশি রাখবে।আর হ্যাঁ আমার সাথে কিন্তু একদিন দেখা করিয়ে দিবি।"

ইনায়া মুচকি হেসে বলল ,,,

" অবশ্যই করাব। তুমি শ্রীপুর আসো তারপর না হয় দেখা করাব। এখন রাখি পরে কথা হবে। আবার ওই বাড়ি যেতে হবে।"

রিফাতের ও কিছু কাজ আছে তাই ফোন কেটে দিল।ইনায়া তার পড়ার টেবিল থেকে আপতত কিছু বই খাতা নিল ব্যাগের ভেতর। কারণ গত ৬/৭ দিন ধরে তার পড়াশোনা হচ্ছে না। এখন তো শুরু করতে হবে‌। ইন্টার লাইফে ১ দিন পড়াশোনা না করা মানেই তো অনেক পিছিয়ে যাওয়া। সেই জায়গায় তো ৬/৭ দিন।ইনায়া ব্যাগে বই, খাতা গোছাতে গোছাতে চলে গেল গত রাতের ভাবনায়।আরিশ যখন নামাজের মোনাজাতে কেঁদে ফেলেছিল।

গতরাতে ঘটনা_______

আরিশ ইনায়া কে দেওয়া দেন মোহরের টাকা যখন আলমারি তে রেখে যখন ইনায়ার জন্য নিজের টাওজার এবং শার্ট নিয়ে আসল এবং ইনায়ার হিজাব খুলে দেওয়া পর যেই না ইনায়া বাথরুমের যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়ে ছিল তখনই আরিশ থাকে থামিয়ে দিয়ে বলল ,,,,,

"অজু করে আসো নফল নামাজ আদায় করব।"

ইনায়াও কোনো কথা না বলে বাথরুম থেকে ওজু করে এলো‌। তারপর আরিশ নিজেও ওজু কর এলো। ওয়ারড্রব থেকে দুটি জায়নামাজ বের করে মেঝেতে পাশাপাশি বিছালো‌।তার টা আগে ইনায়ার টা কিছুটা পিছনে। দুজন মিলে দাড়িয়ে পড়লো নফল নামাজে। দুরাকাত নামাজ আদায় করার পর যখন মোনাজাত ধরল,তখন ইনায়া মনে মনে বলল,,,,

"হে আল্লাহ আমি কখনো তোমার কাছে শুকরিয়া আদায় করে কুলাতে পারবো না।যা কখনো পরিকল্পনা করি নি তা লিখে রেখেছিলে তুমি আমার ভাগ্যে। এমন আমি আমার ধৈর্যের ফল যেন পেয়েছি আজ। আমার একটাই প্রার্থনা তোমার কাছে যে আমাকে আরিশের যোগ্য করে দাও।আমি যেন উনাকে সবসময় খুশি রাখতে পারি। দুজন মিলে সুখে শান্তিতে জীবন কাটাতে পারি। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত একে অপরের পাশে থাকতে পারি। এবং আরিশকে সকল বিপদ আপদ থেকে সব সময় রক্ষা করো।"

ইনায়া থামলো কিন্তু চোখ থেকে তার কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। মোনাজাতে শেষ করে সে ঠোঁট কামড়ে নিজের কান্না আটকানোর চেষ্টা করল। কিন্তু তার কানে ভেসে আসলো কোনো পুরুষের গোঙানির আওয়াজ। যেন কান্নার আওয়াজ যাতে না হয় তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে তারপরও কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।ইনায়ার চোখ গেল আরিশের দিকে।আরিশ তার কিছুটা সামনে থাকাই সে আরিশের চেহারা না দেখতে পারলেও আরিশের কান্না করার কারণে যে শরীর কাঁপছে তার শেষ কষ্ট দেখতে পাচ্ছে। ইনায়া বুঝতে পারলো আরিশ তাকে পেয়েছে বলে কাঁদছে।এই কান্না হলো খুশির কান্না।ইনায়া নিজেও একজনকে খুব ভালোবাসতো তাই সে বুঝতে পারছে আরিশের মনের অবস্থা।তাই সে আরিশ কে বুঝতে দিল না যে সে আরিশের কান্নার আওয়াজ শুনেছে।

বর্তমান ______

ইনায়া গতরাতের ঘটনাগুলোকে মনে করার পর নিজে নিজে বলতে লাগলো,,,,,

"আচ্ছা একটা মানুষ আরেকটি মানুষকে এতটা ভালবাসতে পারে? তাও আবার আরিশের মতোন একজন পারফেক্ট মানুষ আমাকে?"

ইনায়া তার পড়ার টেবিলের পাশে থাকা আলমারির আয়নায় নিজেকে দেখতে লাগলো।কোই সে তো আগের মতোই আছে।সেই শ্যামলা গায়ের রং, ছোট ছোট চুল, অন্যান্য মেয়েদের তুলনায় মোটা,গাল গুলো ফুলো ফুলো, চোখের নিচে কালো দাগ, কপালে বসন্ত হবার ফলে রয়ে যাওয়া দু,এক গর্ত, ঠোঁটও ছবিতে থাকা নাইকা বা গল্পের নায়িকাদের মত গোলাপি না। আরিশের আইকিউ এর তুলনায় সে তুচ্ছ।কোই আরিশ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর অর্জন করছে আর কোই সে সে শ্রীপুরে এক সাধারণ স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষার পাশ করে শ্রীপুরেরই এক সাধারণ কলেজে পড়াশোনা করছে।তার তো এসএসসির ফলাফলও তেমন ভালো ছিল না। ফলাফল খারাপের পিছনে কারণ যাই হোক না কেন ফলাফল ভালো ছিল না এটাই তো আসল কথা। আর তাকে পেয়ে নাকি আরিশের মতোন নিখুঁত ব্যাক্তি নামাজের মোনাজাতে কাঁদছে। এতটা ভাগ্যবতী কি সে? তার ভাগ্যে এই সুখ সইবে তো?

ইনায়া মাথা নেড়ে উঠলো।সে আর এইসব ভাববে না।

নিজের ব্যাগ নিল‌। এতক্ষণে তার মাও ছাদ থেকে এসে পরেছিল‌।সে তার মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল আরিশের ফ্ল্যাটের উদ্দেশ্য।

____________

বিজ্ঞাপন

আরিশ খাটে পায়ের উপর পা তুলে বসে ছিল। কিছু একটা নিয়ে সে গভীর চিন্তায় মগ্ন।সে যেন এইসব চিন্তা থেকে বের হতেই পারছেনা। তার মাথায় ইশানের বলা একটি কথাই ঘুরছে,,,

"ওর কান বিধানো হয়েছিল যখন ও ক্লাস নাইনে পড়েতো কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো স্বর্নের কানের দুল নেই।আজও পর্যন্ত স্বর্ণের জিনিসের জন্য কখনো বায়না করেনি। নিজের পড়ার গাইড নিজের জমানো টাকা দিয়ে কিনে, যদি কোন একমাস প্রাইভেট বন্ধ থাকে তাহলে সেই প্রাইভেটের বেতনের টাকা দিয়ে নিজের জন্য বোরকা বানায়। নিজে কষ্ট পেয়ে মরে যাবে কিন্তু মুখ ফুটে কখনো কিছু বলবে না।"

তার ইনু এত ধৈর্যশীল,এত কিছু থেকে বঞ্ছিত হয়েছে অথচ সে নিজে লন্ডনে বসে লাক্সারি জীবন-যাপন করেছে। তার যেন নিজের উপর ভীষণ রাগ উঠছে এখন। সে যদি ইনায়ার বড় হবার অপেক্ষা না করে এর আগেই চলে আসতো তাহলে তার ইনুকে এত কষ্ট করতে হতো না, এবং ইনায়ার যেই অতীত আছে তা হয়তো তৈরি হতো না। আর হলেও অতীতের কষ্ট কিছুটা কমতো। কিন্তু সে তো ছিল না তার ইনুর পাশে যখন তার ইনুর তাকে সব থেকে বেশি প্রয়োজন ছিল। এইটা কি মানা যায়।

আরিশ নিজের চিন্তাভাবনায় এতটাই বিভোর ছিল যে ইনায়া কখন তার রুমে প্রবেশ করেছে তা যেন তার নজরে পড়ল না।ইনায়া টেবিলের উপর নিজের ব্যাগ রেখে খাটে বসে থাকা আরিশের দিকে দৃষ্টিপাত করতেই দেখল আরিশ যেন ধ্যান ধরেছে। ইনায়া মুচকি হাসলো।সে শিওর না থাকলে এতোটুকু বুঝতে পেরেছে যে আরিশের চিন্তাভাবনায় সেই আছে।ইনায়া গুটি গুটি পায়ে বিছানার দিকে এগুলো তারপর আরিশের মুখের সামনে তুড়ি বাজালো।আরিশ হকচকিয়ে উঠলো তারপর ইনায়াকে দেখতে পেয়ে মুচকি হাসি দিলো।ইনায়াও আরিশের হাসির বিপরীতে হাসি দিল‌।আরিশ ইনায়ার দিক নিজের বা হাত বাড়িয়ে দিতেই ইনায়া চলে এলো আরিশের হাতের মাঝে।আরিশ বিছানার দিকে কিছুটা চেপে বসে তার পাশেই ইনায়া কে বসালো।ইনায়াও আরিশের পাশে লক্ষী মেয়ের মত বসে পড়ল। আরিশ নিজের বা হাত দিয়ে ইনায়া কে ধরে রেখেছে।যেন হাত সরালেই তার ইনু তার কাছ থেকে দূরে চলে যাবে।

আরিশ নিজের গলা খাঁকারি দিয়ে ইনায়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করল।ইনায়া তার দিকে তাকাতেই আরিশ বলতে শুরু করল ,,,,,

"শুনো ইনু আগে তুমি নিজের খরচের টাকা সঞ্চয় করে নিজের প্রয়োজন পূরণ করেছ, কোন প্রয়োজন তোমার কাছে বিলাসিতা লাগলে তা কখনো মুখ ফোটে চাওনি। কিন্তু এখন আর সেটি হবে না। আমার যা যা মনে হবে তোমার জন্য প্রয়োজন তাই তোমার মুখ ফুটে বলার আগেই তোমার সামনে হাজির করব ‌,যদি কোন কমতি থাকে তাহলে তুমি নিজ মুখে বলবে আমাকে। আশা করি তুমি আর কোন দ্বিধা রাখবে না আমার কাছে। আমি তো তোমার স্বামী। স্বামী মানে বেস্ট ফ্রেন্ড আমার কাছে মন খুলে সব বলবে।"

আরিশের বলা কথাগুলো যেন ইনায়ার কর্ণপাত হলো না।তার দৃষ্টি তো ছিল আরিশের ডান হাতে।আরিশের ডান হাত ছিল তার পায়ের উপর।ইনায়ার নজরও আরিশের সেই হাতের দিকে‌ই ছিল।তার হাতের রগগুলো এমনভাবে ফুটে আছে যে, একবার চোখ পড়লে কেউ আর নজর সরাতে পারবে না। ইনায়াও পারে নি। হাতের প্রতিটা নড়াচড়ায় রগগুলো হালকা টান খায়,ফলে রগ গুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।গায়ের রঙে রগগুলোর নীলচে রেখা স্পষ্ট— না বেশি মোটা, না বেশি সূক্ষ্ম, ঠিক ততটাই যতটা নজর কাড়ার জন্য দরকার। মনে হয় যেন এই হাতে অজানা এক দৃঢ়তা লুকিয়ে আছে।ইনায়া যেন নিজের চোখ সরাতে পারছে না।

ইনায়া নিজের অজান্তেই হাত বাড়ালো আরিশের ডান হাতের দিকে।আর এইদিকে যে আরিশ তাকে সিরিয়াস কিছু বলছে সেই দিকে তার কোন খেয়াল নেই। সে আস্তে আস্তে নিজের হাত আরিশের ডান হাতের কাছে নিয়ে গেল।যেন আঙুল বাড়ালেই আরিশের হাতের রগ ছুঁয়ে দিতে পারবে।ইনায়া যেন নিজেকে আর আটকিয়ে রাখতে পারলো না। নিজের হাতের আঙুল ছুঁইয়ে দিল আরিশের ডান হাতের রগে।আরিশ তো এখনো ইনায়া কে এইটা সেইটা বুঝিয়ে যাচ্ছে।সে চায় না তার ইনু আর কোন কষ্ট পাক ‌অথচ ইনায়া আরিশের সিরিয়াস কথা না শুনে আরিশের হাতের রগ নিয়ে খেলা করছে।আরিশ যখন নিজের হাতে কারোর নরম স্পর্শ উপলব্ধি করতে পারলো তখন নিজের হাতের দিকে তাকাতেই ঠোঁটে মুচকি হাসি ফুটে উঠলো। তার ইনু তার হাত নিয়ে খেলা করছে‌। অথচ সে এতক্ষন পাগলের মতো একা একা কথা বলে যাচ্ছে।

আরিশ ইনায়ার কাদের কাছে নিজের মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল ,,,,,

"ডু ইউ লাইক হোয়াট ইউ সি?"

ইনায়ার ভেতরে কম্পন বয়ে গেল।সে যেন হিম হয়ে গেল।আরিশের এই কন্ঠে যেন এক আলাদা নেশা মিশ্রিত ছিল যা তার মনের মাঝে ঢেউ খেলিয়ে দিল।ইনায়া যেই না নিজেকে স্বাভাবিক করে নিজের হাত আরিশের হাতের উপর থেকে সরাতে নিবে তার আগে আরিশ ইনায়ার হাত হাত ধরে ফেলল। তারপর ইনায়ার হাত নিজের ঠোঁটের কাছে নিয়ে গিয়ে শব্দ করে চুমু খেল।ইনায়া চোখ বন্ধ করে নিল।তার শরীরে কম্পন বয়ে গেল।গলা শুকিয়ে এল।যেন সে নড়াচাড়া করবার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।

আরিশ ইনায়ার কানের কাছে আবার মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,,,,,

"ইউ ক্যান টাচ মি অ্যাজ মাচ ইউ ওয়ান্ট, এন্ড হোয়ারএভার ইউ ওয়ান্ট। আই ওয়োন্ট মাইন্ড উইফি‌।"

ইনায়ার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেল।কান দিয়ে যেন ধোঁয়া বের হচ্ছে।সে আর সহ্যে করতে না পেরে আরিশের বুকে মুখ লুকালো।আরিশ শব্দ করে হেসে উঠলো। তারপর নিজের দুই হাত দিয়ে ইনায়া কে আবদ্ধ করে নিল নিজের বুকের মাঝে। তারপর বলল ,,,

"আমার থেকে লজ্জা পেয়ে আমার বুকেই লুকানো হচ্ছে?"

____________

ইমন খান নিজের বোনের সামনে বসে আছে।তার মুখের ভাব বোঝা যাচ্ছে না। তিনি এতক্ষন তার বোন কে নিজের মনে জমিয়ে রাখা প্রশ্ন একের পর এক জিজ্ঞেস করেছে। এখন শুধু উত্তর শোনার অপেক্ষায় আছে।

রেশমা খান সোফায় বসে পান চিবোচ্ছিলেন। এতক্ষন ভাইয়ের ভাইয়ের প্রশ্নগুলো মন দিয়ে শুনলেন এখন উত্তর দেওয়ার জন্য নিজের মুখ থেকে পান ফেললেন‌। তারপর বলতে শুরু করলেন,,,,

--"আমি আরিশের সাথে ইনায়ার বিয়ে দিয়েছি কারণ অনেক গুলো। প্রথমটি ছিল ইনায়াকে তো বিয়ে দিতেই হতো তাই আর বাঁধা দিলাম না। তার উপর ছোট ভাইয়ের ইচ্ছেও ছিল।তার থেকে বড় কথা হচ্ছে আরিশ প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক। এবং ইমরান ভাইকে বাবা ত্যাজ্য করে দিলেও আইনিগতভাবে ইমরান ভাই সম্পদের মালিক।তাই পরবর্তীতে ইনায়াকে ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে চাইলেই আমরা কিছু অর্থ সম্পদ ভোগ করতে পারব। এবং আমরা চাইলে তাদের অধিকার থেকেও তাদেরকে বঞ্চিত করতে পারব। সেদিন আরিশের চোখে ইনায়ার জন্য আমি সত্যিকারের ভালোবাসা দেখতে পেয়েছি। এবং তার ভালোবাসার মানুষই যে তার দুর্বলতা তাও আমি বুঝতে পেরেছি। সেই দুর্বলতা কে আমি নিজের হাতের মুঠোয় আনবো এবং ইচ্ছে মতোন নাচাবো। তোমরা সবে পুতুল নাচ দেখবে।"

এই বলে রেশমা খান হাসতে লাগলো।তার সাথে সাথে ইমরান খানও হাসতে লাগলো। কারণ চাল যতই তার বোন চালুক না কেন শেষে অর্থ-সম্পদ সে নিজেই একা ভোগ করবে। অন্য কাউকে এর ভাগীদার হতে দিবে না। লোভ যে বড্ড খারাপ জিনিস। লোভে পড়েই মানুষ মানুষকে মারতে পারে। এবং হত্যা করার আগে একবারও চিন্তা করে না অপর পাশের মানুষটি তার কি হয়।

__________

ইনায়া আরিশের বুকে মুখ গুঁজে রেখেই বলে উঠলো,,,

"একটি কথা জিজ্ঞেস করবো?"

আরিশ ইনায়ার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বলল,,,

"এইটার জন্য আবার অনুমতি নিতে হয় নাকি? যা ইচ্ছে তাই জিজ্ঞেস কর।"

ইনায়া কিছুটা সময় নীরব থাকলো। হয়তো নিজের মনের মধ্যে প্রশ্নগুলোকে বারবার আওড়ালো। তারপর কন্ঠ স্বাভাবিক করে জিজ্ঞেস করল,,,,

"আপনার এমন অবস্থা হয়েছিল কি করে? আর এই অবস্থায় আপনি বাংলাদেশে আসলেন কি করে?"

আরিশ ইনায়ার এমন প্রশ্নে কিছুটা অবাক হলেও পর মূহুর্তে নিজেকে সামনে নিল। তারপর ইনায়া কে লন্ডনে ঘটে যাওয়া ঘটনা খুলে বললো।আরিশ যত নিজের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা ইনায়া কে বলছে ইনায়া তত যেন ঘাবড়ে যাচ্ছে। নিজের হাত দিয়ে আরিশের পরনের শার্ট খামচে ধরলো।ইনায়া বুঝতে পারল তার সেই খারাপ স্বপ্নের কারণ।কেন সেই অচেনা ছায়া আরিশের রূপে প্রকাশিত হয়ে তারপর তার থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল।হয়তো এইটা আল্লাহর কোনো ইশারা ছিল। ইনায়ার খামচি যেন আর শক্ত হলো।আরিশের শার্ট খামচে ধরাতেও যেন আরিশ তার বুকে ইনায়ার খামচি অনুভব করছে।সে বুঝতেই পারলো তার ইনু ভয় পাচ্ছ তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণে। তার সে তার হাতের পাশ দিয়ে গুলি লেগে যাওয়ার কথা বলেনি। শুধু মাথায় বাড়ি দেওয়া এবং হাতে বাড়ি দেওয়ার কথা বলেছে। এবং কথাগুলো বলতে বলতে ইনায়ার মাথার চুলে পরপর চুমু খেয়েছে।যাতে ইনায়া কিছুটা শান্ত থাকে। তারপর আবার বলতে শুরু করল,,,,

"সাদমান কে বলে রেখেছিলাম এয়ারপোর্টে গাড়ি পাঠিয়ে দিতে। এয়ারপোর্টে এসে দেখি গাড়ি আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল আমার জন্য‌। কিন্তু সমস্যা হল গাড়ির ড্রাইভারের।তার স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় হসপিটালে ছিল‌।তাই আরকি তাকে হসপিটালে চলে যেতে বলে নিজে গাড়ি চালিয়ে এসেছি। যার কারণে হাতে ব্যাথা ছিল‌।বলতে পারো এখনো চিনচিনে ব্যথা আছে।"

ইনায়া ছলছল চোখে আরিশের দিকে মুখ তুলে তাকালো।আরিশ ও তার দিকে তাকালো। দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেল। ইনায়ার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ল‌।একটা মানুষ তাকে এতটা ভালবাসতে পারে যা তার কল্পনার বাইরে।আরিশ ইনায়ার মুখের দিকে ঝুঁকে পড়ল। বিনা কোনো দ্বিধায় ইনায়ার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া পানি নিজের ওষ্ঠাধর দ্বারা শুষে নিল।ইনায়া আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলল।আরিশ ইনায়ার চোখের পানি শুষে নেওয়ার পর ইনায়ার চোখে চুমু খেল। তার দৃষ্টি গেল ইনায়া নাকের ডগায় থাকা ছোট্ট কালো তিলে।এই তিল যেন তাকে খুব করে টানছে।তার ইচ্ছে করছে এই তিলে কামড় বসাতে।আরিশ শুকনো ঢোঁক গিলল।তার গলা শুকিয়ে আসছে। কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে।মন চাচ্ছে ইনায়া কে নিজের করে নিতে। সম্পূর্ণরূপে নিজের। যাতে দুজনার মাঝে আর কোন দূরত্ব না থাকে। দুজন একে অপরে পরিপূর্ণভাবে মিলিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
অচেনা ছায়া তুমি গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক উপন্যাস