অচেনা ছায়া তুমি

পর্ব - ৪৬

🟢

আরিশের বলা কথা গুলো শুনে ইনায়ার ছল ছল চোখ থেকে যেন এক্ষুনি বৃষ্টি ঝরে পড়বে এমন অবস্থা।সে অনেক কষ্টে নিজেকে স্বাভাবিক করে কান্না গিলে তারপর বলল,,,,,

--"আপনার ধারণা আছে যে আমি কতটা চিন্তিত হয়ে পরেছিলাম? একটি বার অনন্ত জানাতে পারতেন নাকি? চিন্তায় আমার ঘুম আসতো না রাতে। কাকে জিজ্ঞেস করব, কি জিজ্ঞেস করবো আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।দিশা হারিয়ে ফেলেছিলাম আমি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি। জঘন্য রকম বাজে স্বপ্ন দেখিছিলাম আপনাকে নিয়ে।ভয় পেয়েছিলাম এই না আপনাকে না পেয়েই,,,,, "

ইনায়া থেমে গেল। তার গলা দিয়ে আর আওয়াজ বের হচ্ছে না। আরিশ এখনো এক দৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে আছে।তার যেন বিশ্বাস হচ্ছে না তার ইনায়া তার জন্য চিন্তিত ছিল। ইনায়া আরিশের এই দৃষ্টি সহ্য করতে পারলো না।সে আরিশ কে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে নিজের উপর থেকে সরালো।আরিশ ও বাঁধা না দিয়ে সরে গেল।সে এখনো ঘোরে আছে।ইনায়া আরিশ কে নিজের উপর থেকে সরিয়ে বিছানায় বসলো।সে কেমন হাঁসফাঁস করছে।সে কখনো নিজের মুখ থেকে কাউকে নিজের মনের অনুভূতি বলেনি আজ কিনা সে আরিশ কে নিজের মনের কথা বলে ফেলল।এত সহজেই?

অনেকক্ষণ নিরব থাকার পর আরিশ নিরবতা ভেঙ্গে প্রশ্ন করে বসলো,,,,,

--"ভালোবাসতে পারবে তো আমার ইনু?আমার কোনো কিছুর অভাব নেই। আমার শুধু তোমার ভালোবাসার অভাব।আমি যে তোমার ভালোবাসার কাঙাল। আপন করে নিতে পারবে না এই হতভাগাকে?"

আরিশের অসহায় স্বর শুনে ইনায়ার বুক কেঁপে উঠলো।সে আরিশের দিকে ভরসা জনক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,,,,

--"আপনাকে আমায় জন্য আমি নিজে না বরং আল্লাহ তায়ালা বেছে নিয়েছে। আপনি যদি আমাকে যত্নে রাখেন কথা দিলাম কখনো আপনাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা চিন্তা করব না। আমৃত্যু শুধু আপনার রয়ে যাব।আর রইল আপনাকে ভালোবাসার কথা তাহলে সেটা তো হয়ে যায়। আপনার নিজের উপর ভরসা রাখা উচিত যে আপনি আমার ভালোবাসা অর্জন করতে পারবে কিনা।"

শেষের কথা ইনায়া চ্যালেঞ্জিং স্বর বলল।

আরিশ মুচকি হেসে ইনায়ার কাছে এলো তারপর ইনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,,,,

--" আই লাভ চ্যালেঞ্জ বউ। অ্যান্ড ডোন্ট ওয়ারি সুইট হার্ট ইউর হাসবেন্ড ইস তো ট্যালেন্টেড, ডেফিনেটলি আই উইল উইন দিস চ্যালেঞ্জ।"

আরিশের ফিসফিসিয়ে বলা কথাগুলো ইনায়ার শরীরের কম্পন বইয়ে গেল। ইনায়া শুকনো ঢোক গিলল।সে আরিশ থেকে কিছুটা দূরে সরে বসলো।আরিশ তা দেখে মুচকি হাসলো তারপর বলল,,,,

--"যতই পালাই পালাই করোনা কেন বউ, দিন শেষে কিন্তু তুমি আমার, কারণ দিন শেষ হলেই শুরু হয় রাত।"

আরিশের এমন কথা শুনে ইনায়ার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।সে অবাক দৃষ্টিতে আরিশের দিকে তাকাতেই আরিশ চোখ টিপ মারে। ইনায়া লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে তাকায়।আরিশ শব্দ করে হেসে ফেলে তারপর বিছানার ছেড়ে উঠে আলমারির দিকে এগিয়ে যায়। এবং আলমারি খুলে কিছু একটা বের করতে থাকে। কিন্তু অন্যদিকে তো ইনায়া তো লজ্জায় মরে যায় যায় অবস্থা। একেই তো যেই মেয়ে সব সময় বলতো তার কাজিন কাজিন বিয়ে পছন্দ না আজ সে নিজের উগান্ডা থেকে উড়ে সে জুড়ে বসা চাচাতো ভাইকে বিয়ে করে ফেলল, তার ওপর আরিশ সবার সামনে তার হাতে চুমু খেল, আবার নিজের মা-বাবার সামনে কোলে নিয়ে আসলো, বাসর ঘরে নারিকেল উপহার করল, এবং এখন আবার নির্লজ্জের মত কথা বলে চোখ টিপ দিচ্ছে। একদিনে কত কি হজম করতে হচ্ছে।কখন না তার বদহজম হয়ে যায়।

আরিশ ইনায়ার দিকে ফিরে এলো।হাতে তার টাকার বান্ডিল। ইনায়া নড়েচড়ে বসল।আরিশ এসে ইনায়ার সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো তারপর টাকার বান্ডিল টা ইনায়া দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,,,,,

--"আমার বিবি জান, আমার অর্ধাঙ্গীনি, আমার একান্ত চাঁদ এই সামান্য টাকা গুলো আপনার দেন মোহর।এই সম্মানি গ্ৰহণ করে এই পাগল প্রেমিক পুরুষের উপর দয়া করুন।"

ইনায়া আরিশের এমন কথায় কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল।তার অবশ্য হাসিও পেল।তার থেকে গুনে গুনে এগারো বছর বড় আরিশ আর সে কিনা কথায় কথায় নিজের ভালোবাসার মানুষের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। এবং এতে একটুও দ্বিধা করেনা। তারপর আরিশের দিকে তাকিয়ে বলে,,,,

--"এখানে তো অনেক টাকা মনে হচ্ছে।"

আরিশ মুচকি হেসে বলল,,,,

--" অনেক টাকা নাতো। তুমি নিজের দেনমোহর ঠিক যত টাকা চাইতে তত টাকাই এখানে আছে।"

ইনায়া আরিশের কথায় অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,,,,

--"আমি! কিন্তু আমি তো কখনো এই ব্যাপারে না কাউকে কিছু বলেছি আর না ভেবেছি। তাহলে আপনি কি করে বলছেন এই কথা?"

আরিশ বাঁকা হেঁসে বলে,,,,

--"কাউকে কিছু না বলো কিন্তু নিজের ইনস্টাগ্রাম হাইলিস্টে তো ঠিকই দিয়েছো যেখানে লেখা ছিল,,, -" Only Readers know about This (3752960)" আমি তো প্রথম কিছুই বুঝতেই পারছিলাম না তারপর অনেক খোঁজাখুঁজি করে জানতে পারলাম এইটা তোমার সেই বিখ্যাত সালার সিকান্দার যে নিজের স্ত্রীকে ৩৭৫২৯৬০ টাকা দেন মোহর দিয়েছিল।তাই ভাবলাম আমিও আমার বউয়ের ইচ্ছা পূরণ করি।আর তাছাড়াও তোমার ইনস্টাগ্রাম হাইলিস্টে আরেকটি ভিডিও দেখলাম যেখানে ছিল --"koi Mujhse kitaabo wala ishq keu karega?"(কেই আমায় উপন্যাসের মতোন ভালো কেন বাসবে) তাই ভাবলাম তোমাকে তোমার প্রিয় বইয়ের মতো কিছু সিন উপহার দেই। তাহলে আর এই আক্ষেপ থাকবে না।"

ইনায়া অবাক হয়ে গেল।সে তো এমনিতেই রিলস দেখে স্টোরিতে দিয়ে ইনস্টাগ্রাম হাইলিস্টে দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু কখনো ভাবতে পারেনি কেউ এই সামান্য বিষয় গুলো এত খেয়াল করবে। কারণ মানুষের যা ভালো লাগে তাই তারা স্টোরি দেয়। আর খুব বেশি ভালো লাগলে হাইলিস্টে দিয়ে রাখে এই আশায় যদি কেউ তার ভালোলাগাকে বাস্তবে পরিণত করে। আর আজ ইনায়ার সেই ভালোলাগা জিনিসগুলো বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। যা ইনায়ার বিশ্বাস হচ্ছে না।সে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরিশ আবার বলে উঠল,,,,

--" শোনো ইনু মানলাম এখন তুমি আমার স্ত্রী তোমার আমাকে শাসন করার,বকার সম্পূর্ণ অধিকার আছে। কিন্তু এই টাকা নিয়ে আমি আর একটা কথাও শুনতে চাই না। এইটা তোমার অধিকার। তুমি চাও আর না চাও এই টাকা তোমাকে নিতেই হবে। আর তাছাড়াও তো গতকাল তোমার জন্মদিন ছিল কিন্তু আমি আসতে পারিনি।সেই আফসোস এখনো আমার ভেতর থেকে পুড়াচ্ছে।তাই আমার ভিতরের জ্বলে যাওয়াতে পানি ঢালার জন্য এই টাকাগুলো গ্রহণ করো প্লিজ।"

কথা গুলো বলে আরিশ ইনায়ার হাতে টাকার বান্ডিল ধরিয়ে দিল।সে মূলত যেদিন ইনায়ার সাথে ইনস্টাগ্রামে এড হয়েছিল সেইদিনই এই বিষয় গুলো লক্ষ্য করে রেখছিল।আর যেহেতু সে একজন সাকসেসফুল বিজনেসম্যান এবং সিক্রেট এজেন্ট তাই এই টাকা তার জন্য কিছুই না।

ইনায়া টাকা গুলো হাতে নিল। কারণ সে জানে আরিশ এখন তার কথা শুনবে না। কিন্তু সে খুব বেখেয়ালি তার দ্বারা এতগুলো টাকা সামলানো‌ সম্ভব না।তাই আরিশের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে মিনমিনিয়ে বলল,,,,

বিজ্ঞাপন

--"এত গুলো টাকা আমি কখনোই সামলাতে পারবো না। আপনি দয়া করে আপনার কাছে রাখেন তারপর আমার যখন থাকবে আমি আপনার থেকে নিয়ে নিব। আমি অনেক বেশি কেয়ার লেইস আপনি তো জানেন তাই প্লিজ এগুলো সাময়িকের জন্য আপনার কাছে রাখেন পরে আমি নিয়ে নিব পাক্কা প্রমিস।"

আরিশ ইনায়ার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো তারপর টাকা গুলো হাতে নিয়ে বলল,,,

--" ঠিক আছে। কিন্তু পরে লাগলেই নিবে কেমন? "

ইনায়া লক্ষ্যি মেয়ের মতো মাথা নাড়ল।আরিশ টাকা গুলো আলমারিতে রেখে দিল।

আলমারি থেকে তার দুটি ট্রাউজার এবং এবং শার্ট বের করে ইনায়ার কাছে ফেরত এলো। তারপর ইনায়ার দিকে একটি ট্রাউজার এবং সাদা শার্ট এগিয়ে দিয়ে বলল,,,,

--"তারাতাড়ি চলে আসাতে তো তোমার কোনো জামা কাপড় আনা হয়নি।আর এই গ্রাউন পড়ে ভালোভাবে ঘুমাতে পারবে না। তাই এখনকার জন্যে এগুলো পরে নাও।"

ইনায়া আর উপায় না পেয়ে আরিশের হাত থেকে ট্রাউজার এবং শার্ট নিল।যেই না সে বিছানা ছেড়ে উঠতে নিবে তার আগেই আরিশ তাকে থামিয়ে দিল এবং তার একদম কাছে এসে যত্ন সহকারে তার মাথার হিজাবের পিন খুলতে লাগল।সেই কখন থেকে মেয়েটা হিজাব পড়ে আছে।আরিশ ইনায়ার মাথার হিজাবের পিন খুলে দিয়ে খাটের পাশে থাকা ছোট কেবিনেট এর উপর লাগলো। তারপর কিছু একটা ভেবে পিছনে সরে গেল। ইনায়া আরিশের দিকে একবার তাকিয়ে চলে গেল ওয়াশ রুমে চেঞ্জ করার জন্য।

আরিশ মুলত ইনায়াকে আনকম্ফোর্টেবল ফিল করতে চায় না। সে তার ইনু কে সময় দিতে চায়। যেখানে ১৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে সেখানে না হয় আরো কিছু মাস অপেক্ষা করলো। ভালোবাসার মানুষকে তো পেয়েই গেছে। এখন আর কোন অনিশ্চয়তা নেই, আর কোন অপেক্ষা নেই। মনের মিলন তো হয়েই গেছে। দুই দেহের মিলন দেরি করে হলে সমস্যা কি? ভালোবাসার মানে যদি শুধু শরীর উপভোগ করা হতো তাহলে তো আর আরিশ না দেখে তার ইনু কে ১৫ বছর যাবৎ ভালোবাসতে পারতো না। তাই এখন কথায় কথায় তার ইনু কে স্পর্শ করে সে বিভ্রান্তে ফেলতে চায় না। আস্তে আস্তে সব হবে।

আরিশ আর দেরি না করে আগে পেন্ট চেঞ্জ করে নিল। কিন্তু শেরওয়ানি খুলতে গিয়ে সে বিপদে পড়লো। কারণ হাতে এখনো ক্যানুলা লাগানো আছে খুলা হয়নি।আর হাত অনেকটা ব্যথাও করছে ভালোভাবে নাড়াতে পারছে না। ঠিক সেই মুহূর্তে বাথরুমের দরজা খোলার শব্দ হলো। ইনায়া আরিশের ট্রাউজার এবং সাদা শার্ট পড়ে বের হয়ে এলো। মুখে পানি। সেই পানির ফোটা গড়িয়ে শার্টের ভেতর দিয়ে চলে গেল। আরিশ এই মুগ্ধ ময় দৃশ্য দেখে শুকনো ঢোক গিলল। তারপর তার চোখ গেল ইনায়ার মাথায়। এই প্রথম সে নিজের ঘোমটা ওয়ালিকে বিনা ঘোমটায় দেখছে। অবশ্য ইনায়া তার গ্ৰাউনের সাথে থাকা ওড়না এখন গলায় জড়িয়ে রেখেছে। কিন্তু সব সময় মাথায় ঘোমটা দিয়ে রাখে আজ সে দেই নি।আরিশ এক দৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার দিকে এগিয়ে গেল। ইনায়া এখনো চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।আরিশ একদম ইনায়ার কাছে চলে গেল।তার দৃষ্টি কেবল ইনায়ার কাঁধ বরাবর বাঁকা চুলে। অবশ্য এরকম প্যাচানো চুলকে অনেকেই কোঁকড়া চুল বলে কিন্তু ইনায়া চুল ঠিক কোঁকড়া না আবার সোজাও না।খুব লম্বা এবং ঘন না হলেও আরিশের কাছে মন্দ লাগছে না। কারণ সে তো আছে চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য এখন।

আরিশ ইনায়ার মুখের সামনে পড়ে থাকা চুলগুলো কানের পিছনে গুঁজে দিয়ে আস্তে আস্তে বলল,,,,

--"এই প্রথম আমি আমার ঘোমটা ওয়ালিকে ঘোমটা বিহীন দেখলাম।"

ইনায়া লজ্জা পেল। তখন তাড়াতাড়ি করে ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার সময় মাথায় সুন্দরভাবে ঘোমটা দেওয়ার কথা খেয়াল ছিল না। এমনিতেই তো আরিশের সামনে তার টাউজার এবং শার্ট পড়ে দাঁড়িয়ে আছে এতেই যেন তার অস্বস্তি শেষ নেই। তারপর এখন আরিশ একথা বলাতে বেশ লজ্জা পেয়েছে।

আরিশ ইনায়ার লজ্জাগ্রস্ত মুখ দেখে হাসলো আর ইনায়ার লজ্জা কাটাতে আদর মাখা কন্ঠে আবদার করল,,,

--"হাতের ব্যথার জন্য পরনের শেরওয়ানিটা খুলতে পারছিনা একা একা। একটু সাহায্য করবে কি ইনু?"

আরিশের এমন অসহায় আবদারের ইনায়ার বুক কেঁপে উঠলো। লোকটা যতই মুখে না না করুক কিন্তু বেশ ভালই ব্যথা পেয়েছে। ইনায়ার মনে এখন অনেক প্রশ্ন জমে আছে কিন্তু সে সেগুলো পরে করবে। আপাতত আরিশকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিল।

তারপর নিজের মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল। ইনায়ার সম্মতি পেয়ে আরিশ খুশিমনে বিছানায় বসলো। কারণ কে দাঁড়িয়ে থাকলে ইনায়ার তাকে সাহায্য করতে অসুবিধা হবে। আরিশ বসাতেই ইনায়া তার দিকে এগিয়ে গেল। তারপর কাঁপা কাঁপা হাতে আরিশের শেরওয়ানির গলার বোতাম খুলতে লাগলো। আরিশ এক দৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। ইনায়ার সাহস নেই আরিশের এই নেশালো চোখে চোখ রাখার। সে শেরওয়ানির বোতাম খুলে শেরওয়ানি নিচের অংশ ধরল খোলার জন্য।আরিশ নিজের হাত উঁচু করতেই ইনায়া খুব সাবধানতা অবলম্বন করে শেরওয়ানি খুলল। কিন্তু শেরওয়ানির খোলার সাথে সাথেই তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। তার চোখের সামনে আরিশের উন্মুক্ত ফর্সা বুক।বুকে পশম নেই বললেই চলে। নিয়মিত জিমের ছোঁয়ায় গড়া মাংসপেশি বুকটাকে করেছে আরও আকর্ষণীয়,যেন সৌন্দর্যের নিখুঁত মিশ্রণ। কাঁধ থেকে বুকের রেখা নামতে নামতে পেশিগুলো টানটান।গলায় সবুজ রঙের শিরা যেন আরো আকর্ষণ কেড়ে নিচ্ছে। তার উপরে গলার কন্ঠনালী। ইনায়ার মুখ লাল হয়ে গেল লজ্জায়। সে কখনো কোন পুরুষকে এত কাছ থেকে এবং এইভাবে দেখেনি।

আরিশ বিষয়টি লক্ষ্য করে মুচকি হাসলো। অনেক কথাই বলতে চেয়েছিলা কিন্তু এখন বলল না। ইনায়া তারাতাড়ি করে শেরওয়ানির চেয়ারের উপর রাখল। তারপর আরিশের থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে বিছানায় তার পাশে বসলো। কিন্তু আরিশের দিকে তাকালো না। কিন্তু হঠাৎ আরিশ দাঁড়িয়ে পড়লো এবং তার সোজাসুজি দাঁড়াল। ইনায়া কিছুটা অবাক হলো।

--"বউ রেডি তো?"

আরিশ ইনায়ার দিকে বাম চোখের ভ্রু উঁচু করে জিজ্ঞেস করল।

ইনায়া শুকনো ঢোক গিলে আমতা আমতা করে উল্টো প্রশ্ন করল,,,,,,

--"রে,,, রেডি,, মম,, মা,, মানে? কিকি,, কিসের জন্য?"

আরিশ ঠোঁটে দুষ্টু হাসি বজায় রেখে ইনায়ার দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়লো। তারপর হাস্কি স্বরে বলল,,,,,

--"সবাই বাসর ঘরে যা করে তার জন্য রেডি হওয়ার কথা বলছি আমি ইনু।"

কথাগুলো বলেই আরিশ ইনায়ার দিকে আরেকটু ঝুঁকে পড়লো।ইনায়ার গলা দিয়ে কথা বের হলো না।

আরিশ কাছে আসতেই ইনায়া কিছুটা হেলে পড়ে। এবং আরিশ ঠিক এইটার সুযোগ নিয়ে নিজের দু হাত দিয়ে ইনায়ার আবদ্ধ করে ফেলল।সে নিজের দু হাত ইনায়ার দুপাশে রাখলো। ইনায়া আরও পিছনে হেলে পড়ল। ফলস্বরূপ সে বিছানায় পড়ে যায় এবং আরিশ বাঁকা হেঁসে একদম ইনায়ার মুখের কাছে নিজের মুখ নিয়ে যায়। ইনায়া ভয়ে নিজের চোখ বন্ধ করে ফেলে। আরিশ তা দেখে মুচকি হেসে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকা ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ইনায়ার কপালে নিজের নিজের বৃদ্ধা আঙ্গুল এবং তর্জনী আঙ্গুলের সাহায্য টোকা দিল।

ইনায়া চোখ খুলে তাকতেই আরিশ বলে উঠলো,,,,,

--"আরে মানুষ বাসর ঘরে যা করে তার জন্য রেডি মানে ঘুমানোর জন্য রেডি হওয়ার কথা বলছি আমি।"

বিজ্ঞাপন
অচেনা ছায়া তুমি গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক উপন্যাস