গতকাল কোনো ভাবেই ডাক্তার আরিশ কে রিলিজ করবে না। কারণ আরিশ বেশি মাথা নাড়ালে বা হাঁটতে নিলে মাথা থেকে অল্প অল্প ব্লিডিং হয়। এবং ব্লিডিং না হলেও মাথা তার ব্যথা শুরু হয়ে যায়। এই অবস্থায় এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার প্রশ্নই উঠছে না। তাও আবার যেতে কমপক্ষে ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা জার্নি।এই অবস্থায় আরিশ কে দেশে ফিরতে দেওয়া মানে বিপদের মুখে ফেলে দেওয়া। সাদমান আরিশ কে কল করে অনেক বোঝায়।আরিশ কে বলে পাগলামি করে লাভ নাই যদি সে সুস্থ না থাকে তাহলে তার ইনুর খেয়াল কে রাখবে। তারপর আরিশ কিছুটা শান্ত হয়।
এখন সে বেডে শুয়ে আছে। শুয়ে আছে বললে ভুল হবে ঘুমিয়ে আছে। সকালে তাকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল ঘন্টাখানেক পর তার ঘুম কেটে যাবে। হাতে এখনো ক্যানুলা লাগানো। শরীরে তেমন শক্তি নেই। স্যালাইন দিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য আজকে কিছুটা সুস্থ হয়ে গেছে। জ্ঞান ফেরার পর বুঝা যাবে সে কতটা সুস্থ। যদি তার মাথা আগের মত ভার না থাকে এবং হাঁটলে ব্লিডিং হওয়ার কোন সম্ভাবনা না থাকে তাহলে বোঝা যাবে সে কিছুটা সুস্থ হয়ে গেছে।
_____________________
আজ চারদিন হলো ইনায়া আরিশেল কোনো খোঁজ খবর পাচ্ছে না। ইনস্টাগ্রামে আরিশ কে অনেক মেসেজ দিয়েছে কিন্তু কোনো রিপ্লাই পায়নি সে। ইরিনের কাছে যতবার গিয়েছিল ততবার ইরিন বলেছে যে তার ভাইয়া এরকম মিটিংএ যদি যায় তখন সব সময় আউট অফ কন্ট্রাক্ট থাকে। কারোর সাথে তেমন যোগাযোগ করে না। চিন্তা না করতে সে চলে আসবে। কিন্তু ইনায়া তো সত্যি টা জানে। সে তো জানে আরিশ কিসের জন্য লন্ডনে গিয়েছে এবং এই মুহূর্তে যদি আরিশের কোন খোঁজ খবর না পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই সেটা চিন্তার বিষয়। ইনায়ার এখন শুধু মোনাজাতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোন পথ নেই। সে তো এই কয়দিন আল্লাহর কাছে লাগাতার প্রার্থনা করে গেছে। এমনকি গত চারদিন যাবত কলেজে যাচ্ছেনা। মন মানসিকতা ভালো না থাকলে কোথাও গেলে কি আর শান্তি পাওয়া যায়? আর সেই জায়গায় তো তার মাথায় অনেক চিন্তা, মনে এক আকাশ সমান আশা। আরিশ কে না পেয়ে হারিয়ে ফেলার ভয়। এমন একজনকে হারিয়ে ফেলার ভয় যে তাকে পাগলের মত ভালবাসে।আরিশ যখন নিজের মনের কথা তাকে বলেছিল তখন তো সে ভেবেছিল অবশেষে সে হয়তো তাকে ভালোবাসার মত কাউকে পাবে। কিন্তু যখন আর আরিশ সকল সত্য বলল তখন তো ইনায়ার পুরো পৃথিবী থমকে গেল। আর এখন সে সেই ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। এবং আরিশের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছে।
_____________________
ইমন খান নিজের ছেলের সাথে দোকানের ব্যাঞ্চে বসে আছে। তাদের পাশে বসে আছে ঘটক। ঘটক এসেছে ইনায়া কে যারা দেখতে আসবে তাদের তো চারদিন পরে আসার কথা ছিল কিন্তু অর্থাৎ আজকে,ছেলে হলো পুলিশ অফিসার এবং তার কিছু কাজের জন্য কালকে সন্ধ্যায় আসবে। এই শুনে ইমন খান বললেন,,,
--"তাহলে এক কাজ কর উনাদেরকে বলো যেদিন মেয়ে দেখতে আসবে সেদিন একদম বিয়ের পিপারেশন নিয়ে আসে এবং সাথে ঘটক নিয়ে আসে। যাতে সেই দিনই বিয়ে পরিয়ে দিতে পারি কাবিন যাতে সেই দিনই করিয়ে দিতে পারি।"
ঘটক তাদের কথাই সায় জানালো।
অবশ্য বিষয়ে ইমন খান একা একা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধুমাত্র নিজের সন্তানদেরকে বলেছেন। এই বিষয়ে তিনি নিজের বোন অথবা ইনায়ার মাকে বলার প্রয়োজন বোধ করেননি। তিনি মনে মনে প্ল্যান করে রেখে যখন ছেলেপক্ষরা দেখতে আসবে তখন ভুলিয়েভালিয়ে ইনায়ার মা এবং নিজের বোনকে রাজি করিয়ে তারপর আকদ করিয়ে ফেলবে যাতে পরে আর সমস্যা না হয়।
সমস্ত কথা তাদের পিছনে থাকা সাদমান শুনে ফেলল। সাদমান সবসময় বাড়ির আশেপাশে ঘুরঘুর করে। তাকে এখনো পর্যন্ত কেউ চেনে না। ইমন খান তো তাকে দোকানের নরমাল কাস্টমার ভেবেছেন। সাদমান সাধারণ পোশাক পড়েছিল এবং চোখে চশমা ও মুখে মাস্ক লাগিয়েছিল। কথাগুলো শুনে সে বুঝতে পারল ঘটনা হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখনো যদি সে আরিশকে সব সত্য কথা না বলে তাহলে পরবর্তীতে সমস্যা হয়ে যাবে। সে চায় না তার জন্য আরিশের কোন কিছু হারাতে হয়, অথবা কোন বড় ক্ষতি হয়। সাদমান আর দেরি না করে সোজা ফ্ল্যাটে চলে এলো। এবং আরিশের খেয়াল রাখার জন্য যে এসিস্ট্যান্ট তার পাশে ছিল তাকে কল লাগালো এবং বলল আরিশকে ফোন দিতে।
আরিশের জ্ঞান ফিরেছে আধ ঘন্টা হবে। এখন সে আগে থেকে অনেকটা সুস্থ। কিছুক্ষণ আগে একা একা হেঁটে ওয়াশরুমে গিয়েছে এবং একা একা এসেছে। এখন হাঁটলে আর আগের মত মাথা ভার ভার লাগে না অথবা মাথা থেকে ব্লিডিং হবে এরকম কোন কিছু মনে হয় না। কিন্তু হাতের ব্যথাটা এখনো রয়ে গেছে। আরিশ সিদ্ধান্ত নিল আজই সে বাংলাদেশে ফিরে যাবে। সে ভাবছিল এখন সে সাদমান কে কল দিবে তাই নিজের অ্যাসিস্ট্যান্ট কে ডাক দিতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে তার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাদমানের কল নিয়ে এসে তাকে ধরিয়ে দিল এবং রুম ত্যাগ করে চলে গেল।
আরিশ কল ধরে যেই না বলতে যাবে তার বাংলাদেশের যাওয়ার ব্যবস্থা করতে তার আগেই সাদমান এক নাগাড়ে বলতে লাগলো,,,
--"ইনায়ার জন্য তার চাচা পাত্রপক্ষ দেখা শুরু করেছিল ৫ দিন আগ থেকেই। কিন্তু তখন শুধু কথা ছিল যে ইনায়াকে এসে শুধু দেখে যাবে তাই আমি তুই সুস্থ হওয়ার পর কিছু বলিনি। আমি ভেবেছিলাম এই দিকটা আমি ম্যানেজ করে নেব। কিন্তু আজ শুনতে পেলাম ছেলেপক্ষরা কাল সন্ধ্যায় দেখতে আসবে এবং শুধু দেখতে আসবে না বরং সাথে কাজি নিয়ে আসবে এবং সেই দিনই আকদ করে রাখবে।এবং এই সম্পর্কে ইনায়া, তার মা,ভাই অথবা ফুফু কেউই জানেনা। অবশ্য তার মা এবং ফুপু তাকে যে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে সেই সম্পর্কে জানে। আমি তোর বাংলাদেশে আসার সকল ব্যবস্থা করে ফেলেছি।১ ঘন্টা পর ফ্লাইট।কাল দুপুরের মধ্যে চলে আসবি।"
সাদমান থামলো। কিন্তু কথাগুলো শুনে আরিশের চোখ রক্তবর্ণে ধারণ করলো।সে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,,
--"গতকাল যখন তুই আমাকে ফোন দিয়েছিলি তখন তুই এই বিষয়গুলো আমাকে বলিস নি কেন? তখন বললে তো আর আমি একটি দিন নষ্ট করতাম না? আর আমার ইনু নিশ্চিত আমার চিন্তায় কষ্ট পাচ্ছে। আর আমি এখানে স্বার্থপরের মত শুয়ে আছি। নিজের উপর আমার ঘৃণা হচ্ছে কি করে নিজের ইনু কে এতটা কষ্ট দিতে পারছি আমি ।তোকে আর আমি কিছু বলবো না ।আমি আর এক মুহূর্ত এখানে থাকছি না এখনই বের হয়ে পড়ছি। আর ভুলেও আমাকে এয়ারপোর্টে পিক করার জন্য আসবি না। ওই খানের সবকিছু সামলাবি। কোন ধরনের যাতে গোলমাল না হয়। আর ইনুর সাথে যাতে অন্য কারো বিয়ে না হয়। এবং আমি এসেই ইনু কে নিজের করে নেব। অনেক সময় দিয়েছি আর না। আমি আর কোন রিস্ক নিতে চাই না। আর হ্যাঁ আমার জন্য সাদা শেরওয়ানি রেডি রাখবি। জীবনে বিয়ে একবারাই বিয়ে করব। ভালো পোশাক না পড়লে ছবি ভালো উঠবে না।"
এই বলে আরিশ ফোন কেটে দিল। সাদমান থ হয়ে গেল আরিশেল শেষের কথাগুলো শুনে। এমন সময় যে আরিশের মুখ থেকে এই ধরনের কথা আসতে পারে তার চিন্তার বাইরে।তার উপরে গত চারদিনে সে ইরিনের মুখ দেখা তো দূরের কথা কন্ঠ পর্যন্ত শুনতে পারছে না। ইরিন কে যে সে মেসেজ দিবে বা কল দিবে তার কোনো উপায় নেই। ইরিন তাকে সবদিক থেকে ব্লক করে দিয়েছে। এমন কি সে যদি ইরিনদের ফ্ল্যাটে যায় খাবার খাওয়ার জন্য তখন সব সময় ইরিনের রুমের দরজা লক থাকে।এই চারদিনে ইরিনের এমন উপেক্ষা তাকে ভেতর ভেতর শেষ করে দিয়েছে। সাদমান প্রতিনিয়ত তার বলা কথাগুলোর জন্য পস্তাচ্ছে। তার ইচ্ছে করছে ইরিনের পা ধরে ক্ষমা চাইতে কিন্তু সে জায়গায় সে ইরিনের কন্ঠ পর্যন্ত শুনতে পারছে না। তার কান যেন ইরিনের কণ্ঠ শোনার জন্য অধীর অপেক্ষায় বসে আছে। সাদমান সোফায় বসে পরলো এবং নিজের হাত দিয়ে মাথার চুল গুলো খামসে ধরে নিজে নিজে বলতে লাগলো,,,,
--"ইরিন প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি কখনো তোমাকে আঘাত করে কথা বলতে চাইনি। আমি জানিনা তখন আমার কি হয়ে গিয়েছিল যে তোমাকে এভাবে অপমান করেছি। তোমার ছোট ছোট দুষ্টামি,আমাকে থ্রেড দিয়ে কথা বলা সব কিছু যে আমি এখন প্রতিনিয়ত মিস করছি। আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা প্রকাশ করা সবকিছু এখন আমি প্রতিনিয়ত মিস করে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে আমার ভেতর থেকে আমার জান বেরিয়ে যাচ্ছে। যদি এটিকে তুমি ভালোবাসা বলো তাহলে আজ আমি স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি যে হ্যাঁ আমিও তোমাকে ভালোবাসি। তোমার করা সকল পাগলামিকে ভালবাসি। তোমার করা শত দুষ্টুমি কে ভালোবাসি। এখন তোমার করা উপেক্ষাকেও আমি ভালোবেসে ফেলছি। এবং খুব শীঘ্রই তোমার রাগ অভিমান ভাঙ্গিয়ে তোমাকে নিজের করে নেব। যত কষ্ট দিয়েছি সব নিজের ভালোবাসা দিয়ে ভুলিয়ে দিব। যেহেতু আমি কষ্ট দিয়েছি সে কষ্ট ভুলিয়ে দেবার অধিকার এবং দায়িত্ব আমার। শুধুমাত্র একটিবার আমাকে সুযোগ দাও।"
সাদমান নিজে নিজে কথাগুলো বলে থামলো। তার চোখ দিয়ে দু এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল।সে এখন হারে হারে বুঝতে পারছে সে কি হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এখন তাকে ভেঙে পড়লে চলবে না বরং শক্ত থেকে আরিশের সাহায্য করতে হবে। কিন্তু এই সময় যদি ইরিন তার পাশে থাকতো তাহলে আরো বেশি সুবিধা হতো। সাদমান সোফা থেকে উঠে বসল এবং চলে গেল ইরিনদের ফ্ল্যাটে।
ইরিন মনমরা হয়ে ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে ছিল।তার মা নিজের ঘরে এবং বাবা বাইরে। ঠিক সেই মুহূর্তে সাদমান ফ্ল্যাটে প্রবেশ করল।ইরিন খেয়াল করেনি সাদমান কে।সে একদৃষ্টিতে মাটির দিকে তাকিয়ে ছিল। সাদমান একদম তার পায়ের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বলতে লাগল,,,,
--"ইরিন I'm Really Sorry. আমি ঐসব কথা মিন করে বলতে চাইনি। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি তোমার সামনে হাত জোড় করছি। প্লিজ প্লিজ প্লিজ!!"
সাদমান কথা গুলো নিজের হাত জোড় করে তারপর বলল। হঠাৎ এরকম ঘটনা ঘটে যাওয়ায় ইরিন থ হয়ে গেল। ঘটনাটি এত তাড়াতাড়ি ঘটে গিয়েছিল যে সে বুঝতে পারেনি। টনক নড়তেই খেয়াল হলো সাদমান তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আছে ।সে নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল,,,
--"এটা কি করছেন ভাইয়া? আপনি আমার থেকে বড় আপনি ক্ষমা চাইবেন না প্লিজ ভাইয়া। উঠে বসুন এভাবে হাত জোড় করে বসে থাকবেন না আমার সামনে। আর আমি সেই দিনের কথা অনেক আগেই ভুলে গিয়েছি।তাই দয়া করে সেই কথা বাদ দিন।"
কোন অনুভূতি প্রকাশ না করে ইরিন কথাগুলো স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল। কিন্তু এই কথাগুলো যেন সাদমানের কলিজায় গিয়ে লাগলো।ইরিনের এমন ঠান্ডা জবাব তাকে খুব পুড়াচ্ছে। ভেতর ভেতর শেষ করে দিচ্ছে। যবে থেকে সাদমান কে ইরিন চেনে তবে থেকে তাকে কখনো ভাই বলে ডাকেনি অথচ আজ ভাই বলে ডেকেছে। সাদমান ইরিনের কন্ঠ শুনে স্পষ্ট বুঝতে পারছে ইরিন তার উপর খুব অভিমান করেছে। এবং সাদমানের এই অভিমান ভাঙ্গাতে খুব পরিশ্রম করতে হবে। কিন্তু সাদমান কি পরিশ্রম করতে রাজি। যত কষ্টই হোক সে তার অভিমান ভেঙ্গে যাবে।
সাদমান নিজেকে সামলালো এবং মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল এখন আপাতত নিজের ব্যক্তিগত বিষয় সাইডে রেখে আগে আরিশকে সাহায্য করবে। কারণ এখন আরিশের প্রয়োজন তাকে সব থেকে বেশি।
সাদমান আবার বলতে লাগলো,,,,
--"আরিশ আজকের ফ্লাইট ধরে বাংলাদেশে চলে আসবে। এবং বাংলাদেশে এসেই ইনায়াকে বিয়ে করে ফেলবে। এবং তার জন্য আমার তোমার সাহায্যের খুব প্রয়োজন। ইনায়াকে এই বিষয়ে এখন কিছুই জানানোর প্রয়োজন নেই। তুমি শুধু তাকে শক্ত থাকতে সাহায্য করবে এবং বলবে যদি পাত্রপক্ষ তাকে দেখতে আসে তাহলে যাতে চুপচাপ তাদের সামনে বসে যায়। এবং তোমার দায়িত্ব হল ইনায়ার হাতে মেহেদি লাগিয়ে দেওয়া এবং হাতের মাঝে যাতে আরিশের নাম থাকে।"
ইরিন কথা গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিল এবং রোবটের মত শুধু মাথা নাড়ালো। সাদমান অবশ্য কিছুটা আঘাত পেলো। কারণ ইরিন তার প্রশ্নের উত্তরে শুধু মাথা নাড়াচ্ছে কিংবা ছোটখাটো উত্তর দিচ্ছে বেশি কথা বলছে না তার সাথে। যা সাদমান কে বারবার কষ্ট দিচ্ছে। কিন্তু সাদমান নিজেকে ধাতস্থ করে উঠে দাঁড়ালো এবং ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার জন্য রুমের ডোর পর্যন্ত চলে গেল এবং ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার আগে আবার শীতল কন্ঠে বলল,,,
--"আমি খুবই দুঃখিত ইরু। খুব কষ্ট দিয়েছি তোমাকে জানি এবং খুব শীঘ্রই তোমার এই কষ্টগুলো আমি ভুলিয়ে দিব কথা দিলাম তোমাকে।"
এই বলে সাদমান ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে গেল এবং দরজা মিশিয়ে গেল। ইরিন পলকহীন ভাবে সাদমানের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। সাদমান এইমাত্র তাকে যে কথাগুলো বলল তা সে বিশ্বাস করতে পারছে না। সাদমান সবসময় তাকে ইরিন বলে ডাকে অথচ এই প্রথমবার তাকে ইরু বলে ডাকলো। এবং ডাকটি ছিল কিছুটা আদুরে।