অচেনা ছায়া তুমি

পর্ব - ৩৯

🟢

ইনায়া রুমে এসে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো।তার হাত পা কাঁপতে লাগল।ভেতর থেকে এক অদ্ভুত যন্ত্রণা অনুভব করল। একবার তো না পেয়ে হারিয়ে ছিল। তাহলে এইবার কি পেয়ে হারাতে হবে।না না। ইনায়া মাথা নেড়ে উঠলো তারপর নিজে নিজে বলতে লাগলো,,,,

--"আমার আল্লাহ এত নির্দয় হতে পারে না। যাকে চেয়েছিলাম তাকে পাই নি। কারণ সে আমার জন্য উত্তম ছিল না।১০ বছরের ভালোবাসা হাসতে হাসতে ছেড়ে দিয়ে ছিলাম। কিন্তু যে আমাকে ভালোবাসে তাকে আমি হারাতে পারবো না।আমি চাই আমি আরিশ থেকে কিংবা আরিশ আমার থেকে দূরে না যাক। আল্লাহ আপনি উনাকে সহি সালামত ফিরিয়ে আনবেন এর বেশি আর কিছুই চাই না।"

ইনায়া থামলো।চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। কিন্তু মনে ছিল এক অজানা ভয়।

_______________

আরিশ নিজের ব্যাগ গুছিয়ে মা বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি থেকে বের হল। খুব ইচ্ছে ছিল যাওয়ার আগে আরেকটি বার তার ইনুর সাথে দেখা করার কিন্তু সেই ইচ্ছে কে সে নিজের মনের মাঝে দমন করল। কারণ ইনায়ার সামনে গেলে দুজনেই দূর্বল হয়ে পড়বে।আর ইনায়া কে সময় দেওয়া উচিত।হোট করে মেয়েটা যা শুনলো তারপরও যে নিজেকে শক্ত রেখেছে এইটাই তো অনেক।

আরিশ তখন ছাদ থেকে নেমেই আগে দু রাকাত নফল নামাজ পড়ে নিল।তার ইচ্ছে পূরণ হতে চলেছে।সে নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে পেতে চলেছে। আল্লাহর কাছে তো অবশ্যই শুকরিয়া আদায় করা উচিত।তাই তখন আগে নামাজ পড়ে নিল।

আরিশ গেট থেকে বের হতে নিবে কিন্তু কিছু একটা অনুভব করে তার পা থমকে গেল।তার মনে হলো তার খুব কাছের কেউ তাকে দেখছে।আরিশ এই ভেবে ইনায়া দের ঘরের দিকে তাকালো। তার ভাবনা একদম ঠিক ছিল। ইনায়া তার ঘরের জানালা দিয়ে আরিশের দিকে তাকিয়ে আছে।

দুজনের চোখাচোখি হলো। দুজনেরই যেন দুনিয়া থমকে গেল।চোখ যেন কথা বলছে।

আরিশের চোখ বলছে,,,

--"তুমি কেঁদো না প্রিয়সি। তোমার আরিশ শুধু তোমার এবং সকল বাঁধা পার করে সে তোমার কাছে ফিরে আসবে। তোমাকে অতীতের পাওয়া সকল যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবে। ভালোবেসে সব ভুলিয়ে দেবে।"

আর ইনায়ার চোখ বলছে,,,,

--"আপনাকে ফিরতে হবে। আপনার ইনুর কাছে ফিরে আসতেই হবে। আপনার ইনু আপনার ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকবে।"

ইনায়া আর বেশি আরিশের চোখে চোখ রাখতে পারল না।তার ভেতর থেকে কান্না দলা পাকিয়ে বের হবে মনে হলো।সে জানালা থেকে সরে এলো।আর আরিশ, সে বের হয়ে গেল বাড়ির গেট থেকে। সাদমান বাড়ির সামনে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে।আরিশ দেরি না করে গাড়িতে উঠে বসলো।রাত ১২ টায় তার ফ্লাইট।

গাড়ি আগে বারছে কিন্তু আরিশের মন পিছনে রেখে এসেছে।গাড়ি চলছে আপন গতিতে।আরিশ তার মানিব্যাগ বের করল। সেখানে ইনায়ার একটি ছবি।সেই দিন নৌকায় লুকিয়ে তোলা ছবি আরিশ বের করে মানিব্যাগে রেখেছে।আরিশ এক নজরে ছবির দিকে তাকিয়ে আছে।

________

ইনায়া ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসলো।তার কিছুই ভালো লাগছে না।সে শুধু আরিশের জন্য প্রার্থনা করে যাচ্ছে।তখন কাঁদার কারণে ইনায়ার মাথা ধরেছে।তাই সে ভাবলো এখনি ঘুমিয়ে পড়বে।কাল থেকে উঠে নামাজ ধরবে আবার।আর পড়াশোনাও শুরু করবে। তাকে শক্ত থাকতে হবে।এই ভেবে ইনায়া বিছানা গুছিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

________

রেশমা খানের বাড়িতে মিটিং বসেছে।ইমন খান এবং তার দুই ছেলে ও মেয়ে ‌।তারা মিলে রেশমা খান কে বোঝাচ্ছে ইনায়ার বিয়ে যেন তারাতাড়ি দিয়ে দেয়।

ইমন খান বলছে,,,,,,

--"দেখ রেশমা, ইনায়ার বয়স তো কম না।আর মেয়েও ভালো। অনেক ভালো ভালো ঘর থেকে সম্পর্ক আসছে।তাই বিয়ে দিয়ে দে। সময়কালে মেয়েদের বিয়ে দিতে হয়, পরে নয়তো ছেলে পাবি না। আর বাপ মরা মেয়ে।আমরা বেঁচে আছি।আমরা বেঁচে থাকা অবস্থায় না হয় দেখে শুনে বিয়ে দেই।আর ইশান কত দিন এই মেয়েকে খাওয়াবে পড়াবে।তার ও জীবন আছে।তার ও বিয়ে দিতে হবে।আর ইনায়া কে দেখতে আসলেই তো আর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে না। এখন আসুক দেখে যাক। পরে না হয় আমরা কথা বলে সিদ্ধান্ত নিব।"

ইমন খান থামলো।তার ছেলে মেয়েও তার সাথে তাল দিল। ইমন খানের মেয়ে রুকছানা বলল,,,,

--"একবার তো মেয়ে একজন কে ভালোবেসেছিল। তখন কতো না কাহিনী ঘটে ছিল। আপনি কি চান আবার সেই জিনিসের পুনরাবৃত্তি ঘটুক?তাই বলছি বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।"

রেশমা খান এতক্ষণ যাবত নিজের ভাই এবং ভাতিজির কথা মন দিয়ে শুনছিল। তারপর বলল,,,

--" তাহলে তোমরা ব্যবস্থা করো। ছেলে ভালো হলে বিয়ে দিয়ে দিব।"

ইমন খান এবং তার সন্তানদের মুখে এক তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল।

_________

রাত ১১:৫৫। ইনায়া গভীর ঘুমে না থাকলে তার ঘুম খুব একটা হালকাও না। কিন্তু হঠাৎ তার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে মেসেজের শব্দে। ইনায়া হালকা করে চোখ খুলল।ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকার। ইনায়া হাত দিয়ে নিজের বালিশের পাশে থাকা ফোন হাতে নিল।ফোন অন করতেই দেখলো আরিশের মেসেজ।

আরিশ লিখেছে,,,,

--"ফ্লাইটে উঠে পড়েছি আমি প্রিয়তমা।জানি ঘুমিয়ে আছো। তোমার কন্ঠ শুনতে খুব ইচ্ছে করছিল।জানি না আর শোনা হবে কি না।তাই ভাবলাম ফোন বন্ধ করার আগে তোমার সাথে কথা বলি। কিন্তু কল দিয়ে তোমার ঘুম নষ্ট করতে চাই না। এমনিতেই তো অনেক কেঁদেছো। নিশ্চিত মাথা ব্যথা করছে।আর এখন শান্তিতে ঘুমাচ্ছ।তাই কল করলাম না।থাক না কিছু ইচ্ছে অপূর্ণ। তোমাকে নিজের মনের কথা বলতে পেরেছি এইটাই তো অনেক। কিন্তু বিশ্বাস কর এখন কেন জানি না Regret হচ্ছে,তোমাকে আমার জন্য অপেক্ষা করতে বলে।আমি কি তোমার সুন্দর জীবন নষ্ট করে দিয়েছি? জানি না ইনু। জানি না আমি বেঁচে ফিরব কিনা। হয়তো আমি খুব স্বার্থপর। কিন্তু আমি যে সহ্য করতে পারবো না অন্য কাউকে তোমার পাশে।তাই না হয় তোমার উগান্ডা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা ভাই একটু স্বার্থপর থাকুক। তোমার কাছে আমার একটি আরজি।যদি আমি বেঁচে ফেরার বদলে আমার মৃত দেহ ফিরে তাহলে সেই মৃত আরিশের কানের কাছে এসে বলো --"আমিও আপনাকে ভালোবাসি।" মিছে মিছে হলেও বলো। বিশ্বাস কর এই মিথ্যা কথা বললে তোমার কোনো গুনাহ হবে না। বরং তোমার এই মিথ্যা দ্বারা কোনো অভাগার আত্মা শান্তি পাবে। ভালোবাসি ইনু খুব খুব ভালোবাসি। Please এই স্বার্থপর পাগল পুরুষের জন্য অপেক্ষা করে নিজের বাকিটা জীবন পার করে দিও।দয়া করে কারোর হইও না। শুধু আমার থেকো।"

ব্যাস এটুকুই মেসেজ ছিল আরিশের। এবং এতটুকুই যথেষ্ট ছিল ইনায়াকে বোঝাতে যে আরিশ তাকে কতটা ভালোবাসে। ইনায়ার হাত কাঁপছে।সে টাইপিং করতে পারছে না, আর না পারছে কল‌ লাগাতে।চোখ দিয়ে পানি পড়ছে তার। অনেক কষ্টে নিজেকে ধাতস্থ করে কল লাগালো আরিশের ফোনে। কিন্তু না‌ সে অনেক দেরি করে ফেলেছে। সময় ১২:০৪।আরিশের ফ্লাইট ছিল ১২ টায়। তারমানে এতক্ষণে ফ্লাইট ছেড়ে দিয়েছে।আরিশের ফোন বন্ধ আসছে।

ইনায়া ফুঁপিয়ে উঠলো। কান্না দলা পাকিয়ে বের হয়ে আসছে।সে দেরি করে ফেলেছে।যে তাকে এত ভালবাসে, এমনকি তার কন্ঠ শুনতে ইচ্ছে হচ্ছিল কিন্তু শুধু মাত্র তার ঘুম ভেঙ্গে যাবে বলে নিজের ইচ্ছে কে দমন করলো আরিশ।আরিশ কে না দেখলে ইনায়া জানতেই পারতো না এতটা নিঃস্বার্থভাবেও ভালোবাসা যায় কাউকে।অথচ ইনায়া এতদিন ভুল পথে হাঁটছিল।এমন একজনকে ভালোবেসেছিল যার কারণে ইনায়ার প্রায় এক দেড় বছরের মতো রাত কেটে ছিল জেগে কান্না করে।আর তাকে এমন একজন ভালোবাসে যে কিনা নিজের ইচ্ছার থেকে ইনায়ার ঘুম কে বেশি গুরুত্ব দেয়। আসলেই আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী।তাই তো যাকে সে তাহাজ্জুদ পরে চেয়েছে তাকে সে পাই নি। বরং সে তাকে পেতে চলেছে যার কথা সে কল্পনাও করেনি।

বিজ্ঞাপন

ইনায়া অনেকক্ষণ কান্না করল।তার কেমন জানি অশান্তি অশান্তি লাগছে। মনে মনে এক অজানা ভয় নাড়া দিচ্ছে।আরিশ কে না পেয়ে হারিয়ে ফেলার ভয়। এমন একজনকে হারানোর ভয় যে তাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে। Unconditional Love. Unconditional Obsession.

ইনায়া অনেকক্ষণ নিঃশব্দে কান্না করলো। কিন্তু হঠাৎ তার কানে আরিশের বলা কথা ভেসে আসলো,,,,

--"একদম কাঁদবে না। আমার তোমার কান্না যে সহ্য হয় না ইনু।"

ইনায়া নিজের চোখের পানি মুছে ফেলল। নিজের ধাতস্থ করল। তাকে আরিশের জন্য শক্ত থাকতে হবে।আরিশের জন্য হাসতে হবে। ইনায়া মনে মনে বলল,,,,

--" আমি আপনার জন্য অপেক্ষা করবো না, কখোনোই অপেক্ষা করব না আরিশ। কারণ আমি জানি আপনি আপনার ইনু কে অপেক্ষা করাবেন না। আপনি ফিরে আসবেন। এবং সুস্থ ভাবেই ফিরে আসবেন। আমার জন্য, আপনার পুরো পরিবারের জন্য। আপনাকে যে ফিরে আসতেই হবে।"

ইনায়া বিছানায় শুয়ে পড়লো আবার। আল্লাহর কাছে শুয়ে শুয়ে প্রার্থনা করতে লাগলো। এবং প্রার্থনা করতে করতে একসময় ঘুমিয়ে পড়লো।

_________

সকাল ১০ টা। ইনায়া আজ কলেজ যাই নি। চিন্তা কিংবা অশান্তি নিয়ে কলেজে যেতে ইচ্ছে করছিল না। তাই যায়নি।

ইরিন বলল সে নাকি মার্কেট যাবে কিন্তু কিছু চিনে না।তাই ইনায়া বলল সেও সাথে যাবে। বাহিরে গেলে হয়তো তার মন কিছুটা ভালো লাগবে।

ইনায়া বোরকা হিজাব পরে নিজের মার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বের হলো বাড়ি থেকে। ইনায়াদের বাড়ি থেকে মার্কেট হেঁটে যেতে সবোর্চ্চ ১০ মিনিট লাগে। ইনায়া এবং ইরিন দুজনে মিলে হেঁটে যাচ্ছে।তাদের মনে হলো তাদের কে কেউ ফলো করছে। কিন্তু পিছনে তাকিয়ে দেখল অনেক মানুষ।যে যার রাস্তায় যাচ্ছে। কিন্তু ইরিনের চোখ একজনের চোখে গিয়ে আটকালো।

পরনে তার কালো বোরকা, নেকাব দিয়ে মুখ ঢাকা। একদম মহিলা দের মতো। কিন্তু ইরিনের কেন জানি মনে হচ্ছে এই চোখ তার খুব চেনা।সে অনেক দেখেছে।

ইরিনের চিন্তায় ছেদ পড়ল যখন ইনায়া বলল,,,

--"ইরিন চলো।"

ইরিন সম্মতি জানিয়ে ইনায়ার সাথে হাটা ধরলো।

অন্যদিকে বোরকার ভেতর লুকিয়ে থাকা সাদমান যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।সে যেন তার জান ফেরত পেল।সে তো ভেবেছিল এই না ইরিন তাকে চিনে ফেলে।একেই তো বোরকা পরেছে তার উপর ভয়ে বেচারা ঘেমে একাকার।তার মনে মনে ইচ্ছা মতোন আরিশ কে বকলো। কারণ সব আরিশের প্লেন।আরিশের কারণে তার আজ এই বোরকা পরতে হয়েছে।

আরিশের প্লেন__________

আরিশের তখন সাদমানের ঘর থেকে চলে এসেছিল। সাদমান তারাতাড়ি করে কাপড় পরে আরিশের জন্য লন্ডনের টিকিট বুক করে আরিশের রুমে যায়।আরিশের রুমে যেতে না যেতেই আরিশ তার মুখের উপর এক প্যাকেট ছুড়ে মারে। সাদমান সেটা ধরে তারপর সেটা খুলে দেখে কুচকুচে কালো রঙের বোরকা। বয়স্ক মহিলারা যেমন পরে আরকি।

সাদমান আরিশের দিকে প্রশ্নশুলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।আরিশ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল,,,,

--"আমার অবর্তমানে তুই এইটা পরে ইনায়া কে ফলো করবি। ইনায়ার সব নিরাপত্তা তোর উপর।"

সাদমান একবার বোরকার দিকে তাকিয়ে যেই না কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরিশ তাকে হাত দেখিয়ে থামতে বলে নিজে বলতে লাগলো,,,,

--"আর কোনো প্রশ্ন না সাদমান। তুই এই বাড়িতে এসেছিস তা কেউ দেখেনি। যদি স্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বের হোস তাহলে সবাই সন্দেহ করবে। তাই তোকে বোরকা পরে বের হতে হবে। তখন ইনুর পিছনে পিছনে ঘুরলেও কেউ সন্দেহ করবে না। এতে কোনো বিপদ বা ক্ষতি হবে না। আর আমার বোন থেকে সাবধানে থাকবি। ইনায়া এবং ইরিন যদি কোনো জায়গায় একসাথে যায় তখন এই বোরকা পড়া তোর জন্য সবথেকে বেশি প্রয়োজন। কারণ তোকে দেখেই ইরিন তোর সাথে কথা বলবে এবং তা যদি বাড়ির কেউ দেখে তাহলে বুঝতে পারবে তুই আমার লোক এবং তারা সতর্ক হয়ে যাবে। তাই আর কোন উপায় নেই তোকে এই বোরকা পরা ছাড়া। আশা করি তুই আমার কথা বুঝতে পেরেছিস।"

সাদমান এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো। তার আর কিছুই বলার নেই। সে মনে মনে বলল,,,

--"কোন দুঃখে যে আমি এই দুই ভাই বোনের পাল্লায় পড়েছি একমাত্র আল্লাহ খোদা জানে।"

বর্তমান _______

সাদমান ইরিন এবং ইনায়ার পিছন নিল। ইনায়া এবং ইরিন নিজেদেরকে কেনাকাটা শেষ করে একটি ফুচকা স্টোরে বসলো। দুজন মিলে ফুচকা খাবে। তখনি ইনায়া ইরিন কে বললো,,,,

--" আচ্ছা তোমার ভাই যে কাউকে ভালবাসে এই সম্পর্কে তোমাকে কি কিছু বলেছে? "

ইরিন কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেল তারপর বুঝতে পারলে হয়তো তার ভাই নিজের ভালোবাসা সম্পর্কে প্রকাশ করেছে তাই তাকে ইনায়া হঠাৎ এই প্রশ্ন করল।ইরিন আর কিছু লুকিয়ে রাখল না।সে সব খুলে বলল,,,

ইনায়ার জন্মের সময় আরিশের ইনায়ার বাবার কাছে ইনায়া কে বিয়ে করার আবদার, ইনায়ার নিউমোনিয়া হয়েছে বলে পাগলের মতো কান্না করা, ইনায়ার কান্নার শব্দ শুনে তাকে ভালোবেসে ফেলা, ইনায়া জন্মের পর তার প্রত্যেক জন্মদিন তার নামে অনাথ আশ্রমে শিশুদেরকে উপহার দেওয়ার, গরিব দের থাকার যায়গা করে দেওয়া। এমনকি নিজের ফোনের লক ইনায়ার জন্ম সাল,মাস এবং তারিখ দেওয়া।সব খুলে বলল।

ইনায়া সব শুনে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলল।তার চোখে নোনা জল জমে গেল। তাকেও কেউ এত ভালোবাসে তা তার কল্পনার বাইরে ছিল। ইনায়া ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকানোর চেষ্টা করল এবং মনে মনে বলল,,,,,

--"আপনি প্লিজ ফিরে আসেন আরিশ। আমার জন্য হলেও প্লিজ ফিরে আসেন সুস্থভাবে। আপনি আমাকে যতটা ভালবাসেছেন আমিও আপনাকে ঠিক ততটা ভালোবাসা ফেরত দিতে চাই। আমি কখনো আপনার যোগ্য হতে পারব না। কিন্তু নিজেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব আপনার যোগ্য বানানোর। নিজের অনুভূতি ভালোবাসা যা মরে গিয়েছিল তা মন থেকে ফালিয়ে দিয়ে আপনার জন্য নতুন ভালোবাসার উৎপাদন করব। এবং শুধুমাত্র আপনাকে ভালোবেসে যাবো।"

বিজ্ঞাপন
অচেনা ছায়া তুমি গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক উপন্যাস