অচেনা ছায়া তুমি

পর্ব - ৩৬

🟢

✦ লেখিকার নোট ✦


এই পর্বে কিছু কঠোর ও ভয়াবহ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে (যেমন—গরম লোহা দিয়ে শাস্তির বর্ণনা)। তাই এই অংশ পড়া শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদের জন্য উপযুক্ত।

আপনার ইচ্ছে হলে এই দৃশ্যগুলো স্কিপ করতে পারেন।

ঘুটঘুটে অন্ধকার রুমে আরিশ একটি চেয়ারে বসে আছে। স্পষ্ট রাগ এবং ঘৃণা নিয়ে সামনের ব্যাক্তির দিকে তাকিয়ে আছে।আর আরিশের সামনে বসে থাকা ব্যক্তি ভয়ে কাঁপছে। ব্যক্তিটির হাত,পা, মুখ বাঁধা।না কথা বলতে পারছে আর না নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা। ভয়ে ঘামছে লোকটা।

আসলে তখন আরিশ রুম থেকে বের হয়ে এসে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল।তার কলিজা মনে হচ্ছে বের হয়ে আসবে এত কষ্ট হচ্ছে।তার মনে হচ্ছে এই না সব শেষ,এই না ইনায়া তার থেকে হারিয়ে যায়,এই না তার এত বছরের একপাক্ষিক ভালোবাসা অপূর্ণ রয়ে যায়।আরিশ আর কিছু ভাবতে পারছে না।

আরিশ নিজের চোখ বন্ধ করে হাত মুষ্টিবদ্ধ করল। নিজেকে স্বাভাবিক করার যথার্থ চেষ্টা চালিয়ে গেল। খানিকক্ষণ পর কিছুটা শান্ত হলো।আরিশ চোখ খুলে নিজেকে বলল,,,,,

--"ইনায়ার অতীত যা খুশি তাই হোক না ইনায়ার বর্তমান এবং ভবিষ্যতে ইন শা আল্লাহ শুধু মাত্র আমার অস্তিত্ব থাকবে।আর অন্য কেউ যদি আমার এবং ইনুর মাঝে আসার চেষ্টা করে তাহলে তার অস্তিত্ব আমি ধূলিসাৎ করে দিব।সব কিছু ছারখার করে দিব। অনেক হয়েছে এই দূরত্ব। এখন এই দূরত্ব ঘোচানোর সময় এসেছে। খুব শীঘ্রই ইনু‌ তুমি আমার হয়ে যাবে।তুমি চাও আর না চাও।"

এইসব আরিশ নিজেকে বলে বের হয়ে গেল সেই পুরনো ফ্যাক্টরির উদ্দেশ্যে। এখন তার উদ্দেশ্য এখানকার ঝামেলা আগে শেষ করা।

___________

আরিশের সামনে বেঁধে থাকা অবস্থায় লোকটা ছটফট করছে। এবং তা দেখে আরিশ পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছে।আরিশের পরনে তার সেই Black Diamond Dress up.শুধু তার ধূসর বাদামি চোখ দেখা যাচ্ছে।যা এখন ধূসর বাদামি রঙের পরিবর্তে লাল রক্ত বর্ণে ধারণ করেছে।যা দেখে মনে হচ্ছে এখান থেকে এক্ষুনি আগুনের লাভা বের হবে এবং এই আগুনের লাভা দ্বারা পুরো পৃথিবী জ্বালিয়ে দিবে। কিন্তু এইটা কি আদৌ সম্ভব? না!!

আরিশ সেই লোকটির মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে দিল। লোকটি জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিল এবং কাশছিল।আরিশের ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল।সে নিরব থাকলো, লোকটির মুখ থেকে কিছু শোনার অপেক্ষা করছিল।

তার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে লোকটা আস্তে আস্তে বলল,,,,

--"কে আপনি আর আমাকে এখানে এইভাবে বেঁধে রেখেছেন কেন?কি করেছি আমি? ছেড়েদিন আমাকে।আমি তো আর আপনার কোনো ক্ষতি করি নি।ক্ষতি করা তো দূরের কথা আমি তো আপনাকে চিনিই না।"

একদম কথা গুলো বলে থামলো ব্যাক্তি টি।আরিশ কিছু বলল না। শুধু তার ঠোঁটে রহস্যময় হাসি যা কালো মাস্কের আড়ালে লুকোনো।

কিছুক্ষণের ভিতর এক লোক গরম লোহা আনল।দেখেই বোঝা যাচ্ছে লোহা এতক্ষণ আগুনে ছিল। এখনো লোহায় আগুনের রঙে রঙিন।লাল বর্ণ।যা দেখে ব্যক্তিটির চোখ ছানাবড়া।সে ভয়ে কাঁপছে এবং কিছু বলতে চাচ্ছে কিন্তু বলতে পারছে না।মুখ থেকে যেন শব্দ বের হচ্ছে না।

আর আরিশ এইসব দেখে খুব আনন্দিত হচ্ছে। যাকে বলে পৈশাচিক আনন্দ।আরিশ আর দেরি না করে গরম লোহা আস্তে আস্তে সেই লোকটির কাছে নিয়ে যেতে লাগলো।সে লোকটি জোরে চিৎকার করার চেষ্টা করল কিন্তু পারল না। হয়তো ক্লান্ত শরীর এবং গত রাতে যে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে ছিল সেই কারণে।

আরিশ গরম লোহা লোকটার হাতের তালুতে চেপে ধরল। লোকটি চিৎকার করল যত জোরে সম্ভব, কিন্তু তার শব্দ বেশি হলো না।আরিশ লোহাটি লোকটির হাতের তালুতে চেপে ধরে গাঢ়, এবং ভয়ানক কন্ঠ বলল,,,,,

--"এই হাত দিয়ে আমার ইনু কে বাজে ভাবে স্পর্শ করেছিল না তুই?এই হাত তাই না? কিরে কথা বলছিস না কেন?গলা দিয়ে কি আওয়াজ বের হচ্ছে না?আমার ইনুর ও তেমনি লেগেছিল রে। শব্দ ছিল অনেক কিন্তু কাউকে বলতে পারেনি। নিজের বুকে চেপে রেখেছিল। কতটা কষ্ট, যন্ত্রণা পেলে ক্লাস ফোরে ঘটা বাজে ঘটনা এখনো মনে রেখেছে একবার ভাব। তোকে কি করা উচিত তুই বল।"

এই বলে আরিশ গরম লোহা হাতের তালুতে আরো জোরে চাপ দিল। হাতের মাংস পুড়ে একদম গলে যাচ্ছে। একদম ভেতর থেকে পুড়ে যাচ্ছে।লোকটির চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে যা দেখে আরিশ আরো আনন্দ পাচ্ছে।

আরিশ গরম লোহা এক হাত থেকে উঠিয়ে আরেক হাতে চেপে ধরল। লোকটি কেঁপে উঠলো। চিৎকার করার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।আরিশ আবার বলতে লাগলো,,,,,

--"কষ্ট হচ্ছে তাই না? খুব কষ্ট?যখন নিজের চাহিদার জন্য মেয়েদের বাজে ভাবে স্পর্শ করেছিলি,যখন মেয়েদের সম্মান নিয়ে খেলেছিলি তখনও তাদের যন্ত্রণা হয়ে ছিল। এর থেকে বেশি যন্ত্রণা হয়েছিল।কত মেয়ে আছে হয়তো আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। তাদের তুলনাই তো তোর কষ্ট কিছুই নারে।"

বিজ্ঞাপন

লোকটি অস্পষ্ট স্বরে বলল,,,,,

--"ভাই মাপ করেন,,,আর সহ্য করতে পারছি না। আমার প্রাণ ভিক্ষা দিন।আমি আর কখনো কিছু,,,,,"

লোকটির কথা সম্পূর্ণ হবার আগেই আরিশ গরম লোহা দিয়ে লোকটির মুখে বারি মারলো। লোকটির গালের অংশ পুড়ে গেল।আরিশ হিংস্র পশুর মত গড়জে উঠে বলল,,,,

--"তোদের মত নরপশুদের জন্য মাপ নেই।"

এই বলে আরিশ লোহা দিয়ে আরেকটা বারি দিল। সাথে সাথে লোকটি চেয়ার সহ নিচে পরে গেল।আরিশ আবার বলতে শুরু করল,,,,,

--"তোকে মাড়াতেও আমার ঘৃনা করছে।তোকে তো এখানেই রেখে যাব। আস্তে আস্তে পচে মরবি তুই। তৃষ্ণার্ত হয়ে ছটফট করবি কিন্তু পানি পাবি না। আস্তে আস্তে মারবি ঠিক যেভাবে তোর কারণ শত শত মেয়ে মরেছে। প্রকৃতি যা পায় তা ফেরত দেয়। এতদিন তোর কাছ থেকে প্রকৃতি শুধু নোংরামি, অশ্লীলতা, এবং মেয়েদেরকে নরম যন্ত্রণায় ভোগতে থাকা দৃশ্য পেয়েছে। এখন তোকে ফেরত দিবে।"

এই বলে আরিশ গরম লোহা লোকটার পায়ের উপর ফিকে মারলো। তারপর সেখান থেকে বের হয়ে গেল। এবং আসার সময় তার লোকজন কে বলল এখানকার ঝামেলা যেন খুব সুন্দর ভাবে সমাধান করে ফেলে।

____________

আরিশ বাড়ি ফিরছে ঘন্টাখানেক হয়েছে।সে বাড়ি ফিরে আবার গোসল করে নিল।তার মাথা ব্যথা করছে।রাগে? নাকি ভেতরে লুকিয়ে থাকা চাপা কষ্টে। হয়তো দুটোই।আরিশ আর কিছু না ভেবে সাদমানের রুমে চলে গেল।

সাদমান সবে মাত্র গোসল করে বের হয়েছে। আসলে কিছুক্ষণ আগেই সে ঘুম থেকে উঠেছে।তাই আগে গোসল করে নিল। পরনে তার সাদা টাওয়াল।চুল দিয়ে টপটপ পানি পরছে। লাগেজ থেকে নিজের পড়ার জন্য একটি ধূসর রঙের টাউজার এবং কালো রঙের টি শার্ট বের করল। তারপর নিজের জন্য বের করা টাউজার পড়তে লাগলো। সবে মাত্র এক পা ঢুকিয়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তে আরিশ দড়জা নক না করে রুমের ভেতর প্রবেশ করে।

সাদমান জোরে চিৎকার দিল,,,

--"আআআআআআআ,,,,"

সাদমান টাওজারের যেই একটি সাইট পড়েছিল আকস্মিক ঘটনায় টাওজার হাত থেকে পিছলে মাটিতে পড়ে যায়।টাওয়াল কোমর থেকে খুলে পড়তে নিবে তার আগেই সাদমান টাওয়াল কোমরের সাথে চেপে ধরে।"

আরিশ ভাবশীল ভঙ্গিতে বলল,,,,

--"এমন ভাব করছিছ যে তুই মেয়ে আর আমি তোর সব দেখে ফেলেছি যার কারণে তুই এখন আর অন্য কারোর সামনে মুখ দেখাতে পারবি না। শোন তোর যা আছে আমারো তাই আছে তো‌ এত লজ্জার কিছু নাই ডিয়ার।আর যখষ তখন এইভাবে অশ্লীল আওয়াজ করবি না।এই রুমে আমরা দুজন থাকি লোকে কি বলবে হুম?তোর না হয় অনেক লজ্জা সরম বিয়ে করবি কি করবি না তার কোনো ঠিক নেই ভাই। কিন্তু আমার এত লাজ লজ্জা নেই। আমি বিয়ে করব, আমার ডজন ডজন বাচ্চা হবে।কত স্বপ্ন।তাই এমন আওয়াজে চিৎকার করবি না। মানুষ Gay ভাববে‌।"আস্তাগফিরুল্লাহ হাল্লাজি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"

সাদমান অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল‌ আরিশের এমন নির্লজ্জ মার্কা কথা বার্তা শুনে।সে জানে ছেলেরা নির্লজ্জ হয়,তার মতো এত Innocent and Decent হয় না। কিন্তু সে জানতো না যে ছেলেরা আরিশের মতোন এমন ঠোঁট কাটা হয়‌।

সাদমানের ভাবনায় ছেদ ঘটিয়ে আরিশ আবার বলে উঠল,,,,,,

--"তারাতাড়ি চেঞ্জ করে আমার রুমে আয় এবং হ্যাঁ আমার লন্ডন যাওয়ার সব ব্যবস্থা কর।আর হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। এখন ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো পরে দেরি হয়ে যাবে। এবং আমার অনুপস্থিতিতে তোর কি করতে হবে আশা করি তা তোকে দ্বিতীয় বার রিপিট করতে হবে না।তোর কাজ শুধু ইনুর সেইফটি‌।আর রইলো বাকি আমার বোনের সেইফটির কথা তাহলে সেটা নিয়ে না ভেবে কি করে আমার বোন থেকে নিজেকে সেইফ করবি সেটা নিয়ে ভাব।আর সব ব্যবস্থা করে তারাতাড়ি আমার রুমে আয় নায়তো পরনে যেই টাওয়াল আছে সেটা টেনে খুলে ফেলতে এই আরিশ ইহতেশাম খান একবারও ভাববে না।"

একদমে কথাগুলো বলে আরিশ রুম থেকে বের হয়ে গেল।আর সাদমান হা করে তাকিয়ে রইল।হোশ ফিরতেই সাদমান নিজেকে বলল,,,,,

--"সাদমানের বাচ্চা তারাতাড়ি চেঞ্জ করে নে,নয়তো এই নির্লজ্জ পুরুষ ঠোঁট কাটা মার্কা কথাবার্তা বলে তোর মান ইজ্জতের আচার বানিয়ে দিবে। যেমন ভাই তার তেমন বোন।"

নিজে নিজে এইসব বলে সাদমান তারাতাড়ি কাপড় পড়ে নিল। এবং আরিশের লন্ডনে যাওয়া জন্য সবকিছু ঠিকঠাক করল।

বিজ্ঞাপন
অচেনা ছায়া তুমি গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক উপন্যাস