অচেনা ছায়া তুমি

পর্ব - ৪৮

🟢

ইনায়ার যেন নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম।সে শক্ত করে নিজের চোখ বন্ধ করে নিল। মনে মনে ভাবল সত্যি যদি আরিশ এখন তার অধিকার চায় তাহলে সে কি করবে। একদিন না একদিন তো তাকে আরিশের প্রাপ্ত অধিকার আরিশ কে দিতে হবে কিন্তু তার জন্য যে তার এখনো সময়ের প্রয়োজন।ইনায়া চায় আরিশ কে ভালোবাসতে,মন থেকে ভালোবেসে নিজেকে উজাড় করে দিতে। কিন্তু এখনো সে এইসবের জন্য প্রস্তুত না।

আরিশ তার ইনুর ভীত মুখশ্রী দেখে মুচকি হাসলো।সে অনেকটা আন্দাজ করতে পারছে ইনায়া কি ভাবছে।আরিশের হাত এখনো ইনায়ার গাল স্পর্শ করছে।আরিশ মনে মনে বলল,,,,

--"এত বোকা কেন তুমি প্রিয়শি। এই চিনলে আমায়? মানলাম আমি পুরুষ তাই বলে কি নিজের পুরুষত্ব খাটাবো তোমার উপর? যদি কোনো পুরুষ সত্যিকারের ভালোবাসে তাহলে কখনোই ভালোবাসার মানুষটির উপর জোর খাটাতে পারেনা।জোর করে নিজের কাছে রেখে দেয় কিন্তু শারীরিক চাহিদা মেটায় না।আমি প্রয়োজন পরলে বাকিটা জীবন তোমাকে না ছুঁয়ে ভালোবেসে যাব কিন্তু কখনো নিজের পুরুষত্বের জোর খাটাবো না। তোমাকে পেয়েছি এইটাই তো অনেক।আমি চাই তুমি নিজ থেকে ভালোবেসে আমার কাছে ধরা দাও।"

আরিশ মনে মনে কথা গুলো বলে থামল।ইনায়া এখনো চোখ বন্ধ করে আছে।আরিশ মুচকি হেসে ইনায়ার কপালে নিজের দু হাতের আঙুল দিয়ে টোকা দিল।ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে চোখ খুলে তাকালো।আরিশ নিজের ঠোঁট দুষ্টু হাসি বজায় রেখে বলল,,,

--"আরে মেডাম আমি তো অধিকার ভোগ করার কথা বলতে বুঝিয়েছি তুমি যে আমাকে ঘুমের মধ্যে বিরক্ত করো তার মানে অবশ্যই আমিও তোমাকে ঘুমের মাঝে বিরক্ত করার অধিকার পাবো এবং সেই অধিকার নিঃসন্দেহে আমি ভোগ করবো তাই না? বাই দ্যা ওয়ে তুমি মনে মনে যেটা ভাবছো সেটা কিন্তু ভুল ভাবোনি। আই রিয়েলি লাভ ইউর মাইন্ড। তোমার চেহারা দেখে তোমাকে ইনোসেন্ট মনে হলেও তোমার মাইন্ড ইস সো নটি।"

আরিশ কথা গুলো বলে ইনায়ার কাছ থেকে সরে উঠে বসল।ইনায়া যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। কিন্তু আরিশের বলা কথাগুলো মনে পরতেই মুখ আবার লজ্জায় লাল হয়ে গেল।সে এর বিপক্ষে কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। পরে দেখা যাবে এই লোক লাগাম ছাড়া কথা বলবে পরে আর সে সামলাতে পারবে না।তাই চুপচাপ উঠে বসলো।ওড়না গায়ে থাকলেও এলোমেলো ভাবে ছিল। ইনায়া নিজের গায়ের ওড়না ঠিক করল।আরিশ বিছানা ছেড়ে উঠে জানালার কাছে গেল।জানলা থেকে পর্দা সরিয়ে জানলা খুলে দিল।পুরো রুম আলোকিত হয়ে উঠল।আরিশ রুমের সাথে থাকা বারিন্দার দড়জাও খুলে দিল। তারপর আবার ইনায়ার দিকে আসলো।ইনায়া আরিশের দিকে তাকিয়ে সাথে সাথে চোখ নামিয়ে ফেলল।তার যেন কেমন লজ্জা লজ্জা লাগছে।এই প্রথম কোনো পুরুষের সাথে একঘরে, এক বিছানায় রাত কাটিয়েছে। কিন্তু তার থেকে বেশি লজ্জা লাগছে এটা ভেবে যে এখন তাকে তার পরিবারের সবার সামনে যেতে হবে।

আরিশ ইনায়ার কাছে এসে বলল,,,

--"ইনু যাও ফ্রেশ হয়ে আসো। আমি ইরিন কে বলছি তোমার পড়ার জন্য কাপড় এনে দিতে‌।"

ইনায়া আর কোনো কথা না বলে বিন বাক্যে ওয়াশ রুমে চলে গেল।আরিশ ইরিন কে কল করে বলল ইনায়ার বাড়ি থেকে যেন তার পড়ার জন্য কাপড় এনে দেয়।ইরিন ভাইয়ের কল কেটে নিজের রুম থেকে বের হতেই চোখে পরে সাদমানের ঘুমন্ত মুখশ্রী। সাদমান ড্রয়িং রুমের সোফাতে ঘুমিয়েছিল। ফ্ল্যাটে দুটি রুম থাকাতে একটিতে আরিশের মা-বাবা এবং অন্যটিতে ইরিন ঘুমিয়েছে যার ফলে সাদমান কে ড্রইং রুমের সোফাতে ঘুমাতে হয়েছে।ইরিন দেখল সাদমানের হাত সোফা থেকে পড়ে যাচ্ছে‌।ইরিন তাড়াতাড়ি গিয়ে সাদমানের হাত উপরে তুলে সাদমানের বুকে রাখলো তারপর সাদমানের পায়ে থাকা চাদর সাদমানের গলা পর্যন্ত টেনেই দিল।ইরিনের খুব ইচ্ছে করছিল সাদমানের কপালে এসে পড়ে থাকা চুল গুলোকে নিজের হাত দিয়ে ছুঁয়ে সরিয়ে দিতে কিন্তু তার যে এই অধিকার নেই। তাকে তো সাদমান ঘৃণা করে। ঘৃণা! এই কথাটি ভাবতেই ইরিনের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরলো।ইরিন তাড়াতাড়ি চোখের পানি মুছে ফেলল এবং সে যায়গা ত্যাগ করল। কারণ সে যত সাদমানের সামনে থাকবে তত দূর্বল হয়ে পড়বে। এবং সে আর নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করতে চায় না।ইরিন চলে গেল ইনায়াদের বাড়িতে ইনায়ার জন্য কাপড় আনতে।

________________

ইনায়া ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে দেখে বিছানার উপর তার পড়ার জন্য কাপড় আছে আর আরিশ রুমে নেই।ইনায়া কাপড় গুলো নিয়ে আবার ওয়াশ রুমে চলে যায়। কিছুক্ষণ আগেই ইরিন এসে তার ভাইকে ইনায়ার পড়ার জন্য কাপড় দিয়ে গিয়েছে এবং বলে গিয়েছে সে এসে একটু পর খাবার দিয়ে যাবে।।আরিশ কাপড়গুলো তার রুমের বিছানার উপর রেখে চলে গেল পাশের রুমে যেই রুমে মূলত সাদমান থাকে।আরিশ ওয়াশ রুমে ঢুকে একেবারে শাওয়ার নিয়ে বের হলো। চুল দিয়ে টপটপ পানি পড়ছে। গোসল করবার সময় মাথায় ব্যান্ডেজটা খুলে ফেলেছে।এখন আর তেমন ব্যাথা নেই।আরিশ কাপড় পড়ে চলে গেল নিজের রুমে। ভিতরে গিয়ে দেখল ইনায়া বিছানা গোছাচ্ছে।আরিশ মুচকি হেসে দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বলল,,,,,

--"বউ বউ ভাব দেখছি।"

ইনায়া আরিশের দিকে না তাকিয়েই নিজের কাজ করতে করতে বলল,,,,

--"এখানে বউ বউ ভাবের কি আছে? আমি তো বাড়িতেও এমন ভাবেই কাজ করতাম।"

আরিশ রুমের ভেতর সম্পূর্ণ ভাবে প্রবেশ করবে তখনই কেউ কলিং বেল বাজল।আরিশ গিয়ে দরজা খুলে দিল দেখল ইরিন খাবার নিয়ে এসেছে।ইরিন কে ফ্ল্যাটে ঢোকার জন্য জায়গা দিল। ইরিন খাবার নিয়ে ঢুকে পড়ল। ইনায়া রুম থেকে বের হয়ে ইরিন কে দেখতে পেয়ে মুচকি হাসলো।ইরিনও ইনায়া কে দেখে মুচকি হাসলো। ইরিন খাবার বেড়ে দিচ্ছিল ভাই এবং ইনায়ার জন্য। ইনায়া ইরিনের কাছে গিয়ে বলল,,,,

--" আমাকে দেও আমি করছি।"

ইরিন মুচকি হেসে বলল,,,

--" থাক ভাবি আপনি বসুন আপনার ননদিনী তো আছে তাই না।"

ইরিন এতদিন তাকে নাম ধরে ডেকছে আজ আবার ভাবি বলে ডাকাতেই ইনায়া ভীষণ লজ্জা পেল।ইরিনের খাবার বাড়া শেষ হলে বলল,,,,,,

--"আমি যাচ্ছি। ঘরের দরজা খোলাই আছে কিছু লাগলে আমাকে ডাক দিও।"

ইনায়া জিজ্ঞেস করলো সে খেয়েছে কিনা ইরিন উত্তরে বলল সে খেয়েছে তারপর বের হয়ে গেল ফ্ল্যাট থেকে।

ইরিন চলে যেতেই আরিশ ইনায়ার বসার জন্য চেয়ার টেনে দিল। ইনায়া মুচকি হেসে বসে পড়লো।সামনে খাবার বাড়া ছিল প্লেটে।আরিশের ক্ষুধাও পেয়েছে তার ভীষণ কিন্তু হাতে এখনো চিনচিনে ব্যথা।এই ব্যাথা নিয়ে তো তৃপ্তিতে খেতেও পারবে না। ইনায়ার অবশ্য এই দিকে খেয়াল আছে।তাই সে আরিশের সামনে থেকে খাবার বেড়ে রাখা প্লেট নিজের দিকে টেনে নিল।আরিশ ইনায়ার দিকে তাকালো‌। ইনায়া সুন্দর করে ভাত মেখে নলা করে আরিশের মুখের দিকে নিল।আরিশ মুগ্ধ হয়ে নিজের প্রিয়শিকে দেখল।

ইনায়া আরিশের দৃষ্টি লক্ষ্য করে বলল,,,,,

--"আমাকে না দেখে চুপচাপ খাবার খান।"

আরিশও আর কিছু না বলে চুপচাপ ভদ্র লোকের মতোন।নিজের ইনুর হাতে খাবার খেয়ে নিল।

_____________

ইমন খান এবং তার মেয়ে ঘরে বসে রাগে ফুঁসছে।তাদের বিশ্বাস হচ্ছে না ইনায়ার সাথে আরিশের বিয়ে হয়ে যাবে।তারা যা ভয় পেয়েছিল তাই ঘটে গেল।তারা তো চেয়েছিল আরিশ থেকে ইনায়া কে দূরে সরিয়ে দিবে কিন্তু তার আগেই সব এলোমেলো হয়ে গেল। এখন তো ইনায়া এবং আরিশ আরো কাছাকাছি হয়ে গেল।

রুকসানা হঠাৎ বলল,,,,

বিজ্ঞাপন

--"বাবা তুমি গিয়ে ফুপি কে জিজ্ঞেস কর কেন তিনি আরিশের সাথে ইনায়ার বিয়ে দিতে রাজি হলেন? তিনি চাইলেই এই বিয়ে আটকানো যেতে।ছোট চাচ্চি কখনোই সাহস দেখাতো না সবার বিপক্ষে গিয়ে ইনায়া আর আরিশের বিয়ে দিতে কিন্তু ফুপির কারণে সব ভেস্তে গেল।আর আরিশও বলিহারি,,, ইনায়ার অতীতের প্রসঙ্গ তুললাম যাতে ইনায়া কে অপমান করে কিন্তু সে তা না করে আমার মুখের তালা লাগিয়ে দিল। আমি এই শোধ তুলব তাও ইনায়ার উপর দিয়ে।"

শেষের কথা গুলো রুকসানা রাগে গজগজ করতে করতে বলল।ইমন খান নিজের মেয়েকে রেগে যেতে দেখে গম্ভীর কন্ঠে বলল,,,,,

--" আহ্ রুকসানা হচ্ছে টা কি? এত উত্তেজিত হলে চলবে না।আর ভুলে যেও না এখন ইনায়ার সাথে আরিশ আছে।ওর কথাতেই বোঝা যাচ্ছে ও ইনায়া কে কতটা ভালোবাসে।ইনায়ার ক্ষতি আর যাই হোক আরিশ বেঁচে থাকতে করা সম্ভব না।ও সবসময় ইনায়ার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়াবেই যেই ঢাল ভাঙ্গা অসম্ভব।তাই বেশি বাড়াবাড়ি করতে যেও না পরে নিজেই বিপদে পড়ে যাবে।আর আমি রেশমার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করছি ওর এমন সিদ্ধান্তের কারণ কি।"

এই বলে ইমন খান নিজের ঘর থেকে বের হয়ে গেল। উদ্দেশ্য তার রেশমা খানের বাড়ির উদ্দেশে।

কিন্তু রুকসানা এখনো আগের মতোন বসে আছে।তার বাবা চলে যাওয়ার পরই সে একা একা বলল,,,,

--" আরিশের দূর্বলতাই এই ইনায়া।আর ইনায়ার দূর্বলতা তার অতীত এই দুটোকে একসাথে করে নিজের গুটি বানিয়ে তারপর আমি চাল চালব। আমাকে কথা শুনানোর শাস্তি তো ইনায়া কে পেতেই হবে। কারণ সব কিছু তার জন্যই ঘটেছে।আমরা এত সাধারণ হাসবেন্ড পেয়েছি তাহলে সে কি করে এত পারফেক্ট হাসবেন্ড পাবে।আর আরিশের তো তার স্ত্রীর অতীত নিয়ে কোনো সমস্যা নেই কারণ তা অতীত বলে।কিন্তু যদি সেই অতীত আবার সামনে চলে আসে তখন আরিশ কি করবে?"

এই সব বলে রুকসানা সয়তানি হাসি দিল।সে মনে মনে কি ফন্দি এঁটেছে সে একাই জানে।

______________

ইনায়া আরিশ কে খাইয়ে দিয়ে নিজেও খেয়ে নিল। তারপর আরিশ কে ঔষধ খাইয়ে দিল। তারপর আরিশ কে রুমে রেস্ট নিতে বলে আগে চলে গেল আরিশের মা, বাবার সাথে দেখা করতে যতই যাই হোক সে তো এখন এই পরিবারের একমাত্র ছেলের বউ। অবশ্য ইমরান খান ইনায়া তাদের কাছে যেতেই বলে দিয়েছে ইরিন যেমন ভাবে এই বাড়িতে থাকে ঠিক তেমনি ভাবে ইনায়া এই বাড়িতে থাকবে। ইনায়া তো মনে মনে অনেক খুশি হয়েছে।সে তো এমন শশুর বাড়ি চেয়েছিল। ইনায়া নিজের শশুর শাশুড়ির সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে তারপর চলে গেল নিজের বাড়ি।কাল রাতের পর থেকে মায়ের সাথে আর কথা হয়নি।

শারমিন ঘর গোছাচ্ছিল।ঘরটা যেন একদম খালি খালি লাগছে।ছেলে অফিসে চলে গেলেও মেয়ে থাকতো কিন্তু এখন তাও নেই এই ভেবে তিনি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লেন। মেয়েদের কি আর সারাজীবন নিজের ঘরে রাখা যায়।তাও তো ভালো আরিশের মতোন এত ভালো ছেলের কাছে নিজের মেয়ে বিয়ে দিয়ে এখন নিশ্চিত আছেন তিনি। তিনি যখন এইসব ভাবছিলেন ঠিক সেই সময় ইনায়া পিছন থেকে এসে তার মাকে জরিয়ে ধরলো। শারমিন বুঝতে পারলো তার মেয়ে এসেছে।তিনিও পিছনে ঘুরে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলো। মেয়ের কপালে চুমু খেল। তারপর মেয়েকে বিছানায় বসিয়ে জিজ্ঞেস করল,,,,,,

--"মা আমার খেয়েছিস?"

ইনায়া মুচকি হেসে বলল,,,,

--"হ্যাঁ মা।আমি খেয়েছি। তুমি খেয়েছো তো? আর রাতে খাবার খাওয়ার পর কি ঔষধ খেয়েছিলে? আর রাত ঘুমিয়েছিলে তো ভালো করে?"

শারমিন নিজের মেয়ের এত যত্নে খুব খুশি হলো। আসলে যার স্বামী দিয়ে শান্তি তার পৃথিবীতে কোনো কিছু নিয়ে অশান্তি থাকে না।এই যেমন তার স্বামী যখন জীবিত ছিল তার যেমন যত্ন নিত ঠিক তেমনি তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার ছেলে মেয়ে তার যত্ন নেওয়া ভুলে না‌। আদর্শ বাবার আদর্শ সন্তান।

শারমিন মুচকি হেসে মেয়ের সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন। তারপর দুজন মিলে অনেকক্ষণ গল্প করলেন। হঠাৎ শারমিনের মনে পড়ল তিনি বাথরুমে কাপড় ধুয়ে দরজার পিছনে ঝড়িয়ে রেখেছেন। সেগুলো ছাদে লাড়া বাকি।তাই মেয়েকে বসতে বলে বাথরুম থেকে কাপড় নিয়ে চলে গেলেন ছাদে তে। ইনায়ার হঠাৎ মনে পড়ল সে গতকাল রাতে নিজের ফোন নিয়ে যেতে ভুলে গেছে তাই পাশের রুমে গিয়ে দেখল তার ফোন তার টেবিলের উপর। ইনায়া ফোন হাতে নিয়ে সবার আগে চলে গেল ওয়াটস আপে। তারপর মেসেজ দিল তার সব থেকে কাছের এবং বিশ্বাসী একজন কে।তার রিফাত ভাই কে।

ইনায়া মেসেজে লিখল,,,,,

--"আমার বিয়ে হয়ে গেছে।"

রিফাত সাথে সাথে মেসেজ সিন করে রিপ্লাই দিল,,,,

--"মজা লস আমার লগে না?"

ইনায়া সাথে সাথে কল দিল রিফাত কে এবং রিফাত কল ধরতেই রিফাত কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সব কথা খুলে বলল। কারণ সে জানে এখন যদি রিফাত কে কথা বলার সুযোগ দেয় তাহলে আর সে কথা বলতে পারবে না।রিফাত ইনায়ার কথা গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। কথাগুলো শুনে তো সে অবাকের শেষ পর্যায়ে চলে যায়। ইনায়া নিজের কথা বলে থেমে গেল ঠিক পরমুহূর্তেই ফোনে তো কাছ থেকে হাসার বিকট শব্দ ভেসে আসলো। ইনায়া জানতো এমনটাই হবে। রিফাত পাগলের মতোন হাসলো কমপক্ষে ১০ মিনিট।এই ১০ মিনিট ইনায়া কানে ফোনে রেখে হাসি শুনলো রিফাতের।এই হাস্যকর মানুষটি তার জীবনে ছিল বলেই সে আজ হাসতে জানে নয়তো ইনায়া তো হাসতেই ভুলে গিয়েছিল।

রিফাত অনেকক্ষণ এমন পাগলের মতো হেসে তারপর অনেক কষ্টে নিজের হাসি থামিয়ে বলল,,,,

--"আহারে বিয়ে টা করেই ফেললি।আর তাও নাকি নিজের লন্ডন ও না থুক্কু উগান্ডা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা চাচাতো ভাই কে।"

এই বলে আবার হাসতে লাগলো। তারপর আবার বলল,,,,

--"আর যদি গতকাল তোদের বিয়ে হয়ে থাকে তার মানে গত রাত ছিল তোর বাসর রাত।তো গান টা কি তুই গিয়েছিল নাকি তোর জামাই ‌"

ইনায়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,,,

--"আরে ভাই কোন গান?"

রিফাত গানের লাইন গাইতে লাগলো,,,,,

--"তুমি দিও নাগো বাসর ঘরের বাত্তি নিভাইয়া

আমি বন্ধ ঘরে অন্ধকারে যাবো মরিয়া..."

বিজ্ঞাপন
অচেনা ছায়া তুমি গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক উপন্যাস