আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৯

🟢

(ঘুমন্ত সানিকে কোলে নিয়েই কোনোমতে আদ্র দরজার বেল বাজালো।তখনই রুসা এসে দরজা খুলে দিলো।আদ্র একটু ঝুকে দেখলো সায়মান আর রিসব ড্রয়িংরুমে বসে আছে। তা দেখে আদ্র বললো...)

আদ্র-রিসব,সায়মান।রুমে যা তোরা।

(আদ্রের কন্ঠ সুনে রিসব এগিয়ে আসতে নিলেই...)

আদ্র-তোদের রুমে যেতে বলেছি।এখানে আসতে নয়।

(ব্যপারটা বুঝতে পেরে রিসব বললো...)

রিসব-সায়মানের বাচ্চা,,চল ঘরে চল।

সায়মান-আজিব তো ঘরে যাবো কেন??আদ্রভাই,,পিচ্চি কে এনেছে নাকি দেখবো না??(বোকার মতো)

রিসব-নাহ,,দেখবিনা।

সায়মান-এ্যা,,,কেন??

রিসব-ঐ সব তোর মাথায় ঢুকবে না।আগে বড় হ।তো বড় হতে হলে পিটার খেতে হবে।চল।তোকে রুমে নিয়ে পিটার খাওয়াই।চল চল চল।

(বলেই রিসব সায়মানের কাধে হাত দিয়ে জোড় করে রুমে নিয়ে গেলো।,,,তারা চলে।যেতেই আদ্র ভেতরে ঢুকলো।)

রুসা-পিচ্চির কি হয়েছে ভাইয়া??ও এভাবে...

আদ্র-কুল,,কিছু হয়নি।ডলতো ঘুমাচ্ছে।কি মিষ্টি লাগছে,,তাই না বল??

রুসা-এ্যা,,,ঘুমাচ্ছে?তাহলে তুই ওকে এভাবে আনলি কেন??ডেকে দিলেই তো ও চলে আসতে পারতো।দাড়া,আমিই ডেকে দিচ্ছি।পি...

আদ্র-চুপ,,,ডাকবি না ওকে।

রুসা-ওমা,,কেন??

আদ্র-এত সাবধানে ওখান থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় এনেছি তুই ডেকে দেওয়ার জন্য??রাবিস।

রুসা-কি,,ওখান থেকে মানে??

আদ্র-হুম,,,।ডলতো জানেই না ও এখন আমার কাছে আছে।

রুসা-মানে??এই,, পিচ্চি ভিজলো কি করে??আর ওর ড্রেস এভাবে...

আদ্র-তোকে পরে বলবো।আগে ওকে চেঞ্জ করে দিবি।আর হ্যা,,হেল্প লাগলে মাম্মামকে ডেকে নে।ওকেয়??

রুসা-ভাইয়া,,পিচ্চিতো দুপুর থেকে কিছু খায়নি।এখনো কি না খেয়ে ঘুমিয়ে পরবে নাকি??

আদ্র-আগে ওকে চেঞ্জ করিয়ে দে,তারপর আমিই ওকে খাওয়ানোর ব্যাবস্থা করছি।

রুসা-আচ্ছা,তুই ওকে নিয়ে রুমে যা।আমি চাচিকে ডেকে আনছি।

(আদ্র সানিকে কোলে নিয়ে সিড়ি বেয়ে সানির রুমে গেলো।সানিকে খাটে শুইয়ে দিয়ে তার কপালে আলতো করে একটা কিস করলো।কিছুক্ষণ পরে আরিফা,আয়শা আর রুসা,, সানির ড্রেস চেঞ্জ করিয়ে দিলো।,,,সবাই বেড়িয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আদ্র রুমে আসে।দেখলো সানি কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে।,,,আদ্র দুষ্টু হেসে বললো...)

আদ্র-না,,খেয়েতো ঘুমাতে দিচ্ছি না তোমায় ডল।দাড়াও।আব আয়েগা মাজা।

(আদ্র আস্তে করে সানির গা থেকে কম্বলটা টেনে নিলো।এতে সানি কিছুটা নড়েচড়ে উঠে চোখ বন্ধ অবস্থায় হাতরিয়ে কম্বলটা আবার গায়ে জরিয়ে নিলো।আদ্রও ছাড়ার পাত্র নয়।সে আবার কম্বলটা টান দিলো।ঠিক আগের মতো করেই সানি আবার নিজের গায়ে জরিয়ে নিলো কম্বলটা।এবার আদ্র কম্বলটা নিয়ে একদম সোফায় নিয়ে রাখলো।এতে করে সানি কিছুক্ষণ হাতরিয়ে কম্বলটা পাওয়ার বৃথা চেষ্টা করলো।কিন্তু কোনো লাভ হলো না।এসব দেখে আদ্র মিটিমিটি হাসছে।সানি এবার কুজো হয়ে সুয়ে পরলো।তা দেখে আদ্র ভাবলো।..)

আদ্র-(ব্যপারটা কি,,।এত জালাচ্ছি,,তবুও ডল উঠছে না???এমনটাতো হওয়ার কথা নয়।)(মনে মনে)

(আদ্র এবার সানির বাহুতে হাত রেখে ডাক দেয়...)

আদ্র-ড......

(আর বলতে পারলো না আদ্র।কারন সানির গা জ্বরে পুরে যাচ্ছে।আদ্র তারা হুরো করে সানির কপালে হাত রাখলো।প্রচন্ড জ্বরে ভুগছে সানি।আদ্র কি করবে বুঝতে পারছে না।তারাতাড়ি করে সোফা থেকে কম্বলটা এনে সানির গায়ে জরিয়ে দিলো।সানিও উষ্ণতা পেয়ে আরামে ঘুমাতে থাকলো।,,,,আদ্রের মাথা হ্যাং হয়ে যাচ্ছে।কি করবে ভেবে পাচ্ছে না ও।সানির কাছ থেকে সরে গিয়ে নিজের চুল খামছে ধরে পুরো ঘরে পায়চারি করতে লাগলো।)

আদ্র-কি করে হলো এটা।হঠাৎ এত জ্বর কিভাবে এলো।আমার ডলের তো খুব কষ্ট হচ্ছে।ওতো সহ্য করতে পারবে না।কি করবো আমি।,,,,, (মনে মনে)

(অনেকক্ষণ ধরে ভাবার পরে আদ্র তাদের ফ্যামিলি ডক্টরকে কল করলো।)

আদ্র-হ্যালো।ডঃ এহসান।

ডঃ- ইয়েস??

আদ্র-আদ্রিয়ান স্পিকিং।

ডঃ- হ্যা,,মিঃ আদ্রিয়ান।এনি প্রবলেম??আপনার কন্ঠ এমন উত্তেজিত শোনাচ্ছে কেন??

আদ্র-একসুয়ালি ডঃ,,,আমার এক রিলেটিভের অনেক জ্বর।গা পুরে যাচ্ছে একদম।আপনি কি একটু আসতে পারবেন??

ডঃ-নো মিঃ আদ্রিয়ান।আমি এখন আউট অফ বাংলাদেশ।আমি কিছু মেডিসিন লিখে দিচ্ছি।আপনি ওগুলো কন্টিনিউ করুন।

আদ্র-নো নো নো,,,অবস্থা এতটাই খারাপ যে ও কিছু খাওয়ার মতো নয়।সেক্ষেত্রে মেডিসিন কিকরে..

ডঃ-ওকেয়।তাহলে আমি একটা ইনজেকশনের নাম বলছি।আপনি আনিয়ে নিন।আর আপনাদের ফ্যামিলি ডঃ হিসেবে এটা বলতে পারি যে শারমায়া মেডিকেলে পরে,,তো ও ইনজেকশন পুশ করার নিয়ম জানে।আপনি ওকে দিয়ে পুশ করিয়ে দিন।ওকেয়??

আদ্র-ওকেয় ডঃ.,।থ্যাংকস আ লট।

(এরপর ডক্টর একটা ইনজেকশনের নাম বললো।আদ্র রুম থেকে বেরিয়ে সায়মান আর রিসবের রুমের দিকে গেলো।দরজা খোলা থাকায় সহজেই ঢুকে গেলো।রুমে গিয়ে দেখলো রিসব সুয়ে সুয়ে টিভি দেখছে।আর সায়মান রিসবের পেটের উপর শুয়ে ফোনে গেম খেলছে আর বলছে....)

সায়মান-এই এই এই,,এদিক দিয়ে না , এদিক দিয়ে না।ঐ যে স্টাম্বটার পেছনে যা।যা,,যা,, যা।আরে সালা,,আমার সামনে চলে এসেছে।এই,,সুট কর সুট কর তারাতারি।

(এসব দেখে আদ্রের মাথায় রক্ত উঠে গেলো।সে বললো..)

আদ্র-সায়মান,,ইমিডিয়েট বন্ধ কর এসব।ফার্মেসি থেকে একটা মেডিসিন লাগবে।

সায়মান-নো ভাই নো।এখন আমি কিছুতেই গেম ছেড়ে যাবো না।যা হওয়ার হোক।

আদ্র-সায়মান(চিৎকার দিয়ে)

সায়মান-আমাকে মেরে ফেললেও গেম বন্ধ করবো না।

আদ্র-আমি একটা ইনপর্টেন্ট ম্যাটার নিয়ে এসেছি।আর তোরা গেম নিয়ে বিজি??

রিসব-হোয়াট হ্যাপেন্ড ব্রো।এত রাতে ফার্মেসি কেন??তোর কি বদহজম হচ্ছে??আরে তাহলে ফার্মেসি যাওয়া লাগবে না।আমার কাছে ওষুধ আছে।নিয়ে নে।

আদ্র-যাস্ট সেট আপ রাবিস।আমার কিছু হলে আমি এখানে আসতাম না।

সায়মান-,,,ঐদিকে যা ঐদিকে যা।আরে জিপ নিয়ে নে,, নাহলে কিল করবে,, গো ফাস্ট।

(এদিকে সায়মানের এসব দেখে আদ্র আর থাকতে পারলো না।তারাতাড়ি গিয়ে ওয়াইফাইয়ের লাইন অফ করে দিয়ে আবার রিসবদের রুমে এলো।,,,,,এদিকে ওয়াইফাই কেটে যাওয়ায় নেট প্রবলেমের কারনে সায়মানের গেম অফ হয়ে গেলো।,,,)

সায়মান-দিস ইস নট ফেয়ার ভাই।এভাবে আমার গেম অফ করার কোনো মানেই হয় না।

রিসব-সায়মানের বাচ্চা,,অফ যা।কি ব্যপার ব্রো??এত হাইফার হয়ে আছিস কেন??কি সমস্যা তোর??পেট ব্যাথা করছে??

সায়মান-কি,,পেট ব্যাথা??ও মাই গড।ভাই,, কবে,,কখন??কিভাবে??এত বড় গুড নিউজ তুই এখন দিচ্ছিস??আরে তাহলে ফার্মেসি কেন,,এম্বুলেন্স ডাক।

আদ্র-স্টপ ইট ইডিয়েট।আমার কিছুই হয়নি।ওদিকে আমার ডল জ্বরে কাতরাচ্ছে,,আর তোরা আমাকে নিয়ে মজা করছিস??

রিসব-ডল??না,,মানে পিচ্চি??কি হয়েছে পিচ্চির??

(সানির কথা শুনে ওরা এবার সিরিয়াস হলো।দুজনেই উঠে দাড়ালো..)

সায়মান-পিচ্চির কি হয়েছে।তুই আগে বলবি তো।

আদ্র-জ্বরে গা পুরে যাচ্ছে ওর।ডক্টর ওষুধের নাম দিয়েছে।এটা আনা লাগবে।

(বলেই আদ্র হাতে থাকা কাগজটা রিসবের হাতে দিলো..)

রিসব-এটাতো হাই পাওয়ারের ইনজেকশন।

আদ্র-হুম।এটা নিয়ে আয় কুইক।আমিই যেতাম।কিন্তু ডলকে একা ছাড়াটা ঠিক হবে না।তাই

সায়মান-আচ্ছা যাচ্ছি।রিসব চল চল চল।

(ওরা দুজন চলে গেলো ওষুধ আনতে।,,,,,আদ্র গেলো সারমায়ার রুমে।দরজায় নক করতেই,,,,সারমায়া দরজা খুললো...)

সারমায়া-কি হয়েছে ভাইয়া,,এত রাতে এখানে তুই।কোনো দরকার আছে??

আদ্র-হ্যা,,তুই আমার সাথে একটু চল।

শারমায়া-কোথায়??

আদ্র-ডলের রুমে।একটা ইনজেকশন পুশ করতে হবে।খুব জ্বর এসেছে ওর।

শারমায়া-কি,,পিচ্চির জ্বর এসেছে।আচ্ছা,চলতো দেখি।

(বলেই ওরা হাটা ধরলো।তখনই আয়শা আর আরিফা তাদের সামনে এসে বললো...)

আয়শা-কিরে তুই এখানে??

আরিফা-হ্যা,,,তুই তো মামনিকে ডাকতে গিয়েছিলি।ও উঠেছে??আমি ওর খাবার বেড়ে দিই।

আদ্র-মাম্মাম।ডলের জ্বর এসেছে।তোমরা চলো আমার সাথে।

(এরপর সবাই সানির রুমে পৌছালো।কিছুক্ষণ পরে রিসব আর সায়মান ইনজেকশন নিয়ে এলে শারমায়া ওটা সানির বা হাতে পুশ করে দিলো।,,,,,,)

আরিফা-আমি জানতাম,,মেয়েটা এমন কিছু একটা বাধাবে।কি দরকার ছিলো ওতক্ষন ধরে শাওয়ার নেওয়ার।

আদ্র-শাওয়ার??

আরিফা-হ্যা।দুপুরে ঐ ঘটনার পরে রুমে এসেই যে শাওয়ার নিয়েছে।সেটা আমি দেখেছি।আমি তো প্রায় এক ঘন্টা পরে এসে দেখি ও তখনো শাওয়ারই নিচ্ছে।আবার ঐ ভেজা জামায় কতক্ষন ছিলো কে জানে??

আয়শা-কতক্ষন মানে??ওতো ঐ জামা নিয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলো।দেখোনি ফেরার পরে ঐ সাদা জামাটাই গায়ে ছিলো।

আদ্র-কিহ!!তারমানে ডল ঐ ভেজা শরীরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে।??

রুসা-মনে তো হয় তাইই।

আদ্র-এটা তুমি ঠিক করোনি সানি।এর মাসুল তোমাকে দিতেই হবে।

(আদ্রের রাগ চরম পর্যায়ে পৌছে গেছে।ওর ভাবতেই রাগ লাগছে যেওর ডলকে ঐ আবেদনময়ী রুপে কে কেই না দেখেছে।)

আরিফা-আদ্র,,, আমি তোর রাগের কারনটা বুঝতে পারছি।কিন্তু তুই মামনিকে কিছু বলবি না।হয়তো তখন ওর মাথা ঠিক ছিলো না তাই ওমন করে পেলেছে।এমনিতেই তোর ঐ ব্যবহারে মেয়েটা কষ্ট পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে।আর আমি ওকে হারাতে চাই না।

(আদ্রের মনে পরলো তখনকার সেই কবরের কথা।সানির সেই কথা গুলো।যার দ্বারা ও নিজের মৃত্যু কামনা করেছে।)

আদ্র-(নাহ,,তুমি আমার কারনে নুজের মৃত্যু কামনা করেছো।এটা আমি হতে দেবো না।তোমাকে আমি এতটাও কষ্ট দিতে পারবো না।কিন্তু এর মাসুল তোমাকে দিতেই হবে ডল।,,,)(মনে মনে)

রিসব-আমাদের এখন পিচ্চিকে র

একা ছাড়া উচিৎ।রেস্ট নিক ও।

আদ্র-আমি ডলকে একা রেখে যাবো না।

আয়শা-এটা হয়না আদ্র।আচ্ছা,,,ভাবি,,তুমি নাহয় আজ রাতে মামনির সাথেই থাকো।

সফিক-হ্যা আরিফা।তুমি থেকে যাও ওর কাছে।কিছু দরকার হতে পারে।

(শেষমেশ আদ্র আর না করতে পারলো না।আরিফা আর আয়শা, দুজনই সানির কাছে থেকে গেলো।আর বাকি সবাই যার যার রুমে চলে গেলো।,,,)

পরদিন সকাল।

(রাতে প্রায় ১০ বারের উপরে আদ্র সানির রুমে এসেছে।আদ্রের কান্ড দেখে আরিফা আর আয়শা সিরিয়াস টাইমেও মিটিমিটি হাসে।,,,সকাল হতেই আরিফা আর আয়শা নিজেদের কাজে ব্যাস্ত হয়ে পরে।রান্না ঘরে কাজ করতে করতে বলে...)

আরিফা-বুঝলি আয়শা,,,আমার ছেলেটা যে কবে এই পিচ্চি মেয়েটাকে এত ভালোবেসে ফেললো কে জানে।??একটা মুহুর্তও মামনিকে ছাড়া থাকতে পারে না।

আয়শা-হুম,,কাল রাতে তো ঠিক মতো ঘুমায়ও নি।।।

(তখনই সেখানে আদ্র এলো।)

আদ্র-মাম্মাম,,,ডল উঠেনি??

আয়শা-নিজে গিয়েই দেখ না।

আদ্র-না,,আমি ওর কাছে যাবো না এখন।

আরিফা-আচ্ছা,,নাস্তা করে নে।

(আদ্র নাস্তা করে নিলো।)

আদ্র-আজ রাতে একটা কনসার্ট আছে।তাই তখন বাড়িতে থাকতে পারবো না।ডলকে দেখে রেখো।

আয়শা-কলেজ যাবিনা??

আদ্র-হুম কাকিয়া।এখুনি যাবো।তবে ফিরে আসবো তারাতাড়ি।

(আদ্র রেডি হতে রুমে চলে গেলো।,,,,,,,,তখনই বাসার বেল বেজে উঠলো।,,,,,এদিকে রুসা রুম থেকে বেরিয়ে সোফায় বসতে বসতে একজন সার্ভেন্টকে বললো...)

রুসা-কে এসেছে,,দেখুন তো।

(সর্ভেন্ট গিয়ে দরজা খুলতেই বিহান ঘরে ঢুকলো।,,,,,রুসাকে সোফায় বসে থাকতে দেখে,,,বলে উঠলো....)

বিহান-আলালের দুলারি,,,,কেমতে হারো তুউই এচ্ছা বই হুতি থাইকতা??

রুসা-বিহাআআআআআন,,,,তুমি??

(বলেই খুশিতে দৌড়ে গিয়ে বিহান কে জরিয়ে ধরলো।)

বিহান-আরে,,ছারো।মাইনসে দেখবো তো।ছাওছাই বেকগুনে রেনি রইছে।মান ইজ্জত হারাম নাই তোওওর।

(রুসা বিহানকে ছেড়ে দাড়িয়ে রাগি স্বরে বললো...)

রুসা-বিহানের বাচ্চা।তুমি এতদিন আমার সাথে একবারও কথা বলছো?একটা গান গেয়ে সেলিব্রিটি হইয়া গেলে নাকি হুহ,,যে আমাকে কলই করোনাই।

বিহান-একটু বেশিই বিজি ছিলাম জানটুস।দেখ,,চলে এসেছি তোমার কাছে।

রুসা-আমার কাছে না ছাই

জানি,,তুমি তো ভাইয়ার সাথে দেখা করতে এসেছো

বিহান-আদ্র কোথায়,,

রুসা-রুমে আছে।

বিহান-ওকে,,পরে কথা বলছি তোমার সাথে।

(বিহান রুসাকে ছাড়িয়ে আদ্রের রুমের দিকে গেলো।,,,,এদিকে রুসার কাছে এসে শারমায়া বললো...)

শারমায়া-ওহে এত প্রেম আমি,,,কোথা গেলে পাই,,,,,,

রুসা-চুপ কর।

শারমায়া-আজ আমি একটু কালো বলে কপালে প্রেম জুটেনা।

(এর মধ্যেই রিসব আর সায়মান এসে বললো...)

রিসব-শুধু কি তুই??আমাদের কপাল খানা দেখ।

সায়মান-আমি কিন্তু পেয়ে গেছি।

(সবাই অবাকের চরম পর্যায়ে)

রুসা-পেয়ে গেছিস???

শারমায়া-কে সে,,নাম কি??কোথায় থাকে??

রিসব-সে কি তোকে ভালোবাসবে??না মানে,,কোন মেয়ে এমন ফ্রি ফায়ার প্লেয়ারের সাথে রিলেশন করবে???

সায়মান-দিস ইজ নট ফেয়ার রিসবের বাচ্চা।আমি পেয়েছি মানে পেয়েছি।

রুসা-আরে কে সে,,সেটা তো বলবি।

(তখনই হেলেদুলে ইরুনি এসে ওদের মাঝে বসলো..)

ইরুনি-কি নিয়ে কথা বলছো তোমরা???

সায়মান-ডাইনি নিধন গল্প,,, সুনবে???

ইরুনি-এটা আবার কোন গল্প??

শারমায়া-ওমা,,,তোমার তো জানার কথা।,,জানো না??

(ইরুনি ভালোই বুঝতে পারলো ওরা যে ইরুনিকে অপমান করছে।তাই দাত কটমট করতে করতে উঠে চলে গেলো সে।যেতেই সবাই একসাথে হেসে উঠলো।,,,)

শারমায়া-এই ভাইয়া বলনা।কে সে??

সায়মান-ওয়েট দেখাচ্ছি।

(বলেই পকেট থেকে ফোন বের করে একটা ছবি দেখালো।,,,,তা দেখে রুসা বললো...)

রুসা-এটাতো পিচ্চি??

রিসব-আর ইউ ম্যাড সায়মান??ব্রো শুনলে খুন করে ফেলবে।

সায়মান-আরে ধুর।পিচ্চি তো আমার বোনের মতো।ওর পাশের টা।

(এবার সবাই আবার ছবির দিকে তাকালো।ছবিতে সানি,নিডো আর ইমু আছে,,,,সায়মান যে নিডোর কথা বলছে,,তা সবাই বুঝেই গেছে।,,)

শারমায়া-মাঝখানের মেয়েটা??সানির পরিচিত হবে তাই না??

সায়মান-হুম।নিডো দুধ পাওডার।

রুসা-এ্যা!!

সায়মান-হ্যা,,ওর নাম নিডো।মাই নিডো।পিচ্চির বেস্টফ্রেন্ড।

রিসব- তারমানে ঐ পাশের মেয়েটাও পিচ্চির ফ্রেন্ড??? (ঘোর লাগা কন্ঠে,,ক্যাবলা হাসি দিয়ে)

সায়মান-নাহ,,,পিচ্চির সিনিয়র। এই মেয়েটা ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে পরে।

রিসব-যাই হোক।চেনা তো??

সারমায়া-এর আবার কি হলো??কুচ তো গরবর হে।

সায়মান-কেয়া ভাই,,,ক্রাশ খেয়ে গেলে নাকি??

রিসব-হ্যা,,বড়সর ক্রাচ খাইছি।

রুসা-আউউউউ।।

রিসব-এই ওর ব্যপারে সব বল।

সায়মান-জানতে হলে আমার মতোই পিচ্চির স্কুলে যেতে হবে।এখন শুধু নামটাই বলতে পারবো।

রিসব-আমি এখুনি যাবো।তুই শুধু নামটা বল।

সায়মান-ইমু।

রিসব-কি,,ইমু নম্বরও আছে??তাহলে দে।দেরি করছিস কেন??

সায়মান-আরে সালা।ওর নামই ইমু।

শারমায়া-এটা কোনো নাম??

রিসব-ইমু,,,ওহ,,দিলমে যাকার লাগা

রুসা-ইয়ে তো গেয়া।

রিসব-আমি রেডি হয়ে আসছি।পিচ্চির স্কুলে যাবো।

সায়মান-আমিও যাবো।

রুসা-এই আমিও ঐ দিকে কলেজে যাবো।রেডি হয়ে আসছি।

শারমায়া-হুমমমম,আমি বসে বসে ললিপপ খাই।(মন খারাপ করে)

(সবাই চলে গেলো রেডি হতে।,,,,,ড্রয়িং রুমে তেমন কেউই নেই আয়শা আর আরিফা রান্না ঘরে।রফিক আর সেলিম অফিস গেছে । সফিকের তেমন কাজ নেই অফিসে, তাই সে যায় নি।,,,,,,)

(৫মিনিট পরে ধীরে ধীরে সিড়ির রেলিং ধরে নিচে নেমে আসছে সানি।পরনে স্কুল ড্রেস।কাধে স্কুল ব্যাগ।,,,শরীরের অবস্থা খুব একটা ভালো নাহ।হাটার শক্তিও তেমন নেই।টাল সামলাতে না পেরে পরে যেতে নিলেই সফিক তার হাত ধরে ফেলে।)

সফিক-মামনি,,,,এখন স্কুলে কেন যাচ্ছো।তোমার শরীরতো ভালো নেই।জ্বর কমেছে??

সানি-জ্বর কমেছে আঙ্কেল। আর স্কুলে যাওয়া উচিৎ।আমি ক্লাস মিস দিতে চাইনা।

সফিক-তাই বলে এই অসুস্থ শরীরে??

সানি-একটু নিচে নিয়ে চলনা আঙ্কেল

(সানির এমন অনুরোধে সফিকের না করার ক্ষমতা নেই।সে সানিকে ধরে ধরে ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে নিয়ে বসালো।)

সফিক-আরিফা,,,কোথায় তুমি??এদিকে এসো।

(আরিফা রান্না রুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখলোসানি বসে আছে)

আরিফা-উঠে গেছিস মামনি??শরীর কেমন আছে??

সানি-ভালো।আন্টি।,,,বলছিলাম যে,,,,খুব খিদে পেয়েছে।কিছু খাবার...

আরিফা-এভাবে বলছিস কেন মামনি??আমি এখুনি আসছি।

সফিক-আমি একটু বাইরে যাচ্ছি।

(বলেই সফিক চলে গেলো।আরিফা এক বোল নুডলস এনে সানির সামনে রাখতেই আয়শা,তাকে ডাক দিলো।)

আরিফা-তুই খেয়েনে মামনি,,আমি আসছি।

(সানি বোলটা নিজের দিকে টানতে যাবে তখনই কোথা থেকে ইরুনি এসে বোলটা টেনে নিয়ে গেলো...)

ইরুনি-ইউ নো ওয়াট???এটা আমার।

(বলেই ইরুনি বোলটা নিয়ে চলে গেলো।সানি কিছুই বললো না।মন খারাপ করে শুধু পানি খেয়েই উঠে গেলো।ড্রয়িংরুমে আসতেই.....)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৯