আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৭

🟢

(আদ্র কি করছে বুঝতে পারছে না।ওর মাথা হ্যাং হয়ে আসছে।কিছু করার সক্তি যেন হারিয়ে ফেলছে ও।সানির দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছে সে।,,,,,ওদিকে সানি দৌড়ে গিয়ে নিজের দু হাত প্রসারিত করে মুখভরা হাসি নিয়ে গেইটের দিকে এগুলো।ঐ ছেলেটাও একই ভঙ্গিতে সানির কাছে এগিয়ে আসছে।,,,,,,,হঠাৎ আদ্র যা দেখলো তা দেখে আদ্র তব্দা খেয়ে গেলো।কারন সানি ছেলেটিকে পাস কাটিয়ে গিয়ে পেছনে থাকা একটা মেয়েকে জড়িয়ে ধরলো।.....)

সানি-জানু জানু জানু।আই মিসড ইউ জানু।কেমন চলছে দিনকাল বল,,,,,আচ্ছা নিডো তুই আমাকে একবারও কল করিস নি কেন??আমার কথা মনে পরেনা বুঝি তোর??

নিডো-আমার জানুকে কি করে ভুলি??কেমন আছিস সেটা বল।আর এতদিন ছিলি কোথায় তুই??তোকে নাকি তোর চাচি....

সানি-ছিলাম কোথাও একটা। এখনো সেখানেই আছি।আর উনারাই আমাকে স্কুলে আসতে বলেছে।

নিডো-ওয়াও জানু,,,তুই তো এবার রানির জিবন পাবি।আম সো হ্যাপি ফর ইউ।

সানি-হয়েছে,,,হয়েছে।এবার ক্লাসে যেতে হবে।চল।

নিডো-হুম,,,অনেক দিন পর তোকে পেয়েছি।আজ জমিয়ে মজা করবো।ওহ,,ইমু আপি তোর কথা জিজ্ঞাসা করেছিলো।উনার সাথে দেখা করে নিস।

সানি-হুম,,করবো।এখন চল।

নিডো-হুম।

(বলেই দুজনে দুকদম এগিয়ে যেতেই হঠাৎ সানি থেমে গেলো...)

নিডো-কি হলো??

(সানি কিছু না বলে পেছনে ফিরলো।দেখলো আদ্র এখনো ওখানেই দাড়িয়ে আছে।সানি নিজের কপালে নিজেই একটা চাটি মেরে বললো..)

সানি-উহ,,,সানি,, তুই কিকরে ভুলে গেলি,, তোর সাথে কেউ এসেছে।আসলেই গাধি তুই।

নিডো-কিরে,,তোর আবার কি হলো??চল ক্লাসে??

(সানি নিজের কাধের ব্যাগটা নিডোর হাতে দিয়ে বললো....)

সানি-তুই এটা নিয়ে ক্লাসে যা,,আমি দু মিনিটে আসছি।আমাকে যে এনে দিয়েছে,,তাকে না বলেই চলে এসেছি।তাই আসছি আমি।

নিডো-আচ্ছা যাচ্ছি।,,,তারাতারি আসিস।

(বলেই নিডো চলে গেলো....আর সানি এগিয়ে গেলো আদ্রের দিকে।,,,,,,)

(এদিকে সানিকে এই ভাবে একটা মেয়েকে জড়িয়ে ধরতে দেখে আদ্রের জানে পানি এলো।সে তো কি না কি ভেবেছিলো।,,,,মনে মনে বললো....)

আদ্র-(যাক,,,এইই তাহলে আমার ডলের জানু।কি যে করে মেয়েটা,,,ভয় পাইয়ে দিয়েছিলো।)(মনে মনে)

(আদ্র এবার ঐ ছেলেটার দিকে তাকালো।দেখলো ছেলেটা ক্যাবলা কান্তের মতো সানির দিকে তাকিয়ে আছে।আদ্র ঠিকই বুঝতে পেরেছে যে ছেলেটা বড় সর একটা ব্যামবো খেয়েছে।,,,,এটা দেখে আদ্র ফিক করে হেসে দিল।,,,,আর মনে মনে বললো...)

আদ্র-তোকে তো পরে দেখে নিচ্ছি।খুব শখ না আমার ডলকে জড়িয়ে ধরার।দেখাবো মজা।

(এসব ভাবতে ভাবতেই আদ্র দেখলো সানি তার কাছেই এগিয়ে আসছে।দুজন রাস্তার দু পাশে থাকায় আদ্র সানিকে হাতে ইশারা করে বোঝালো।যেন ওখানেই দারায় ও।ওমনি সানি থেমে গেলো।আর আদ্র সানির সামনে গেলো।,,,)

আদ্র-এভাবে কেউ ছুটে??বোকা মেয়ে??এখন যদি রাস্তায় বেশি গাড়ি থাকতো??(হালকা ধমকের সুরে)

সানি-সরি,,,আসলে অনেকদিন পর জানুকে,,,আই মিন,আমার বেস্টফ্রেন্ডকে দেখলাম তো তাই, তখন এসব মাথায় আসেনি।,,,

আদ্র-আচ্ছা,,,আর কখনো এমন করবে না ওকে??

সানি-হুম।আপনি কি চলে যাবেন এখন??

আদ্র-প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে যাবো।

সানি-উনার সাথে কি কথা??আপনি কি কলেজে পরেন নাকি??যে প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলবেন??

আদ্র-তুমি বুঝবে না ডল।এসব বাদ দাও,,যাও ক্লাসে যাও।আর হ্যা,,,তুমি খুব বেশিই দুষ্টুমি করো।এটা কিন্তু বেড ম্যানার্স।সো স্কুলে দুষ্টুমি কমাও।তুমি না বড় হয়েছো??.।

সানি-আমি কোথায় দুষ্টুমি করলাম(মুখ ছোট করে)

আদ্র-আবার কথা বলে।,,,থাক ওসব।ক্লাস শেষ হলে গেইটের বাইরে যাবে না।আমি আসলে তোমাকে নিয়ে যাবো।ওকেয়?

সানি-ওকে।

আদ্র-আর শোনো...

(আর বলতে পারলো না,,তখনই কেউ একজন চিৎকার করে সানিকে ডেকে উঠলো।মেয়েটির মুখে সানির নাম শুনে আদ্র তার দিকে তাকালো।,,,,,,এদিকে সানির মুখেও হঠাৎ হাসি ফুটে উঠলো।সে আদ্রের দিকে তাকিয়ে তারাহুরো করে বললো....)

সানি-ছুটি হলে আমি এখানেই থাকবো।এখন আসি আমি।

(বলেই দৌড়ে চলে গেলো মেয়েটির দিকে।আদ্র অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।কিছুই তার বোধগম্য হচ্ছে না।,,,,সানি গিয়ে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরলো।আর মেয়েটিও।,,,কিছুক্ষণ পরে ছেড়ে দাড়িয়ে বললো...)

সানি-কেমন আছো ইমু আপি??

ইমু-তোকে ছাড়া ভালো থাকা যায় নাকি বল??কোথায় ছিলি এতদিন??

সানি -সব বলবো,,,আগে বলো তোমার ক্লাস কখন শেষ হবে??তখন দেখা করবো।,,নিডো ক্লাসে ওয়েট করছে।

ইমু-ওকেয়,,যা এখন।ক্লাস শেষে আমি তোকে ডেকে দিবো।

সানি-আচ্ছা।বাই এখন।

(বলেই সানি চলে গেলো।,,,,ইমু হলো সানিদের স্কুলেরই স্টুডেন্ট।,,সরি স্কুলের নয়। কলেজের।এখানে স্কুল এন্ড কলেজ এক সাথেই আছে।ইমু এবার ইন্টার ১ ইয়ারের স্টুডেন্ট।সানি তার আপন কেউ না হলেও এদের মধ্যে বোনের চেয়েও নিবির সম্পর্ক রয়েছে।অনেক আগে থেকেই এরা একে অপরের পরিচিত।,,)

সানিকে এভাবে খুশি হতে দেখে আদ্রের মন জুরিয়ে গেলো।কিন্তু স্কুলে সানি খুশি হলেও আদ্রের চিন্তার কারন হয়ে দাড়ালো।কারন,,,আদ্র আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো,, স্কুল আর কলেজ এক সাথে হওয়ার,,অনেক ছেলেই সানির দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।আদ্র বেশ ভালোই বুঝতে পারছে এরা রোজই এরকম করে।এসব আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতেই আদ্র চলে গেলো প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে সানির ব্যপারে কথা বলতে।আদ্রের সাথে তার আগে থেকেই ভালো সম্পর্ক আছে।তাই আদ্রের তেমন কোনো সমস্যা হলো নাহ।,,,কথা আদ্র তার কাজে রওয়ানা দিলো।,,,,)

+++++++

দুপুর ২ টা,,,,,আদ্র গাড়ি ড্রাইভ করে দ্রুত গতিতে সানির স্কুলের দিকে এগোচ্ছে।এর এক মাত্র কারন স্কুল ছুটি হওয়ার সময় হয়ে গেছে,,,আদ্র সানিকে কোনো রকমেই ঐ খানে একা রাখতে চায় না।,,,,,,,,স্কুলের সামনে গাড়ি থামাতেই দেখলো স্কুল ছুটি হয়ে গেছে।আদ্র গাড়ি থেকে নেমে স্কুলের গেইটের ভিতর পা রাখলো।একটু এগোতেই দেখলো একটা শিউলি ফুল গাছের নিচে সানি,, কয়েকটা মেয়ের মধ্যমনি হয়ে বসে আছে।দুর থেকেই দেখা যাচ্ছে,,সানি প্রান খুলে হাসছে।এটা দেখে আদ্রও হালকা হাসলো।আদ্র কিছু একটা ভেবে সানিদের থেকে একটু দুরে,,, তবে তাদের কথা শোনা যায় এমন একটা টুলে গিয়ে বসলো।এটা সানির নজরে পরলো না।সে নিজের মতোই হাসছে আর কথা বলছে।,,,,)

(সানিদের সিনিয়র এন্ড জুনিয়র দের একটা ফ্রেন্ড গ্রুপ আছে।এখনে প্রত্যেক ক্লাসেরই কিছু মেয়ে স্টুডেন্ট আছে।এদের সাথেই আড্ডা দিচ্ছিলো সানি।)

(অনেকক্ষণ পর আদ্র উঠে সানিদের কাছে গেলো।, সানি তখন খাতার মধ্যে কিছু একটা নোট করছিলো।আর আদ্র তার পেছনে থাকায় সে দেখতেও পায় নি।,,,,বাকি সবাই আদ্রকে দেখলেও চিনতে পারেনি।কারন আদ্র রোজকারের মতো মাথায় ক্যাপ,মুখে মাস্ক লাগিয়ে রেখেছে।,,,,,আদ্র গিয়ে সানির কাধে হালকা ছুতে যাবে তখনই ইমু বলে উঠলো...)

ইমু-এই,,এই,,,কে আপনি,,,,ওকে টাচ করছেন কেন।(রাগি কন্ঠে)

আদ্র-আ....

নিডো-এই চুপ করুন।কোন সাহসে ওকে টাচ করছেন আপনি।,,,ইতু আপি,,এক্ষুনি পুলিশ কে কল করে।এই ছেলেটা ইভটিজিন করছে স্কুল ক্যাম্পাসে।

(সানি একবার ইমুর দিকে আরেক বার নিডোর দিকে তাকিয়ে তাদের দৃষ্টি অনুসরন করে নিজের পেছনে তাকালো।বাকিরা তাকে চিনতে না পারলেও সানি তাকে ঠিকই চিনেছে।,,)

সানি-আপনি??কখন এলেন??

ইমু-সানি,, তুই এই ছেলেটাকে চিনিস??

সানি-হুম,চিনি তো।

নিডো-এই ছেলেটা তোকে টাচ করতে যাচ্ছিলো।

আদ্র-দেখ,,আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই।আমি তো ওকে শুধু ডাকতে যাচ্ছিলাম।

ইমু-এই,,,সানি,,,তুই একে চিনিস কিভাবে??কে হয় তোর??

সানি-আপনি,,মাস্কটা খুলুন না।আপনাকে চিনতে পারছে না তো??

আদ্র-নাহ,,থাক।তুমি চলো ডল??

নিডো-ডল???

সানি-হ্য,,,উনি আমাকে ডল বলে ডাকে।

আদ্র-নাও উঠো।আবার কালকে কথা বলো।খিদে পেয়েছে তো নাকি??চলো চলো।

সানি-ইমু আপি,,নিডো।আজ যাই কেমন??আর তোমরা চিন্তা করো না।এবার থেকে রেগুলার আসবো।বাই।

নিডো-আচ্ছা যা।

(সানি ব্যাগ গুছিয়ে নিতেই আদ্র সানির দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়।সানি তার বিশ্বজয়ী হাসি দিয়ে আদ্রের হাতে হাত দিয়ে উঠে দাড়ায়।,,)

আদ্র-ব্যাগ দাও আমায়।

সানি-কেন?

আদ্র- উহ,ডল,,,তুমি একটু বেশিই কথা বলো।দিতে বলেছি দাও।

সানি-ওকেয়।

(সানি তার ব্যাগ আদ্রের হাতে দিলো।আদ্র বা কাধে ব্যাগটা নিয়ে ডান হাত দিয়ে সানির হাত আকড়ে ধরে।সানি হাতের ইশারায় সবাইকে বায় যানায়।সবাইও তাকে হাসি মুখে বিদায় জানায়।আদ্র সানিকে নিয়ে গাড়ি তে গিয়ে বসে।,,,)

আদ্র-ডল,,,তুমি কি এখন বাসায় যাবে??নাকি লোথাও ঘুরতে যাবে?

সানি-আজ নাহ।টায়ার্ড লাগছে।

আদ্র-ওকেয়।আইসক্রিম খাবে???

সানি-স্ট্রবেরি ফ্লেভারের?? (খুশি হয়ে)

আদ্র-ওকে বাা,,স্ট্রবেরি ফ্লেভার।চলো??

সানি-হুম।

(আদ্র গাড়ি স্টার্ট দিলো।কিছুক্ষণ পরে আদ্র বলে উঠলো....)

আদ্র-ওরা তোমার কেমন ফ্রেন্ড হয় ডল??

সানি-ওটা আমাদের গ্রুপ।সিনিয়র জুনিয়র,, সবাই আছে।আমরা একসাথেি থাকি।

আদ্র-গ্রুপে কোনো ছেলে আছে???

সানি-ছিলো।তবে,,, সে একটা আপুর সাথে খারাপ আচরন করেছে,,তাই তাকে গ্রুপ থেকে রিমোভ করা হয়েছে।

আদ্র-ওহ,,আচ্ছা।

সানি-হুম।

আদ্র-ডল,,তুমি গাড়িতে থাকো।আমি তোমার জন্য আইসক্রিম নিয়ে আসছি।

সানি-বাড়িতে গিয়ে খাবো।আপনি বরং সবার জন্য নিয়ে নিন।সবাই মিলে একসাথে খাব।

আদ্র-ওকে। as your wish,,,,

(আদ্র গিয়ে আইসক্রিম নিয়ে এলো।তারপর আবার গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দিলো।,,,,,,)

+++++

সন্ধ্যা ৭টা।,,,আদ্র সবে অফিস থেকে ফিরেছে।তখন সানিকে বাড়িতে দিয়ে সে আবার অফিসে চলে যায়।ইতোমধ্যে সবাইই,,চলে এসেছে।সানি আয়ন্তির রুমে আছে।শারমায়া আর রুসাও সেখানে।ড্রয়িংরুমে আরিফা,আয়শা,রফিক, সফিক,সেলিম, রিসব, সায়মান সবাই আছে।আদ্রও ফ্রেশ হয়ে সেখানে এসে সোফায় গা এলিয়ে দিলো।....)

সায়মান-ওয়াটস আ্যাপ ব্রো??খুব ক্লান্ত দেখছি।

আদ্র-এই আদ্রিয়ান জুনায়েদ এত সহজে ক্লান্ত হয় না,ইউ নো??

রিসব-আদ্র ভাই,,,তোকে কিছু বলার ছিলো।।।

আদ্র-আমার এখানে সবাইকে কিছু বলার আছে।

রিসব-ওকেয়,,আগে তুই।

আদ্র-মাম্মাম, বাবাই,,,,আমি একটা কাজ করতে চাই।

আরিফা-বল কি করবি??তোকে কি মানা করবো নাকি।

আদ্র-বাবাই,,,আমি এখন থেকে অফিসে তেমন সময় দিতে পারবো নাহ।

সরিফ-সে কিরে??তুই না থাকলে আমাদের বিজনেস তো লাটে উঠবে।

আরিফ-হ্যা,,তাই তো।আর তুই এতদিন যেভাবে বিজনেস সামলাচ্ছিস,,ঐ ভাবে তো আমরা পারবো না।

সেলিম-হুন,,,অফিসের প্রায় সমস্ত ভারই তো তোর কাছে।ক্লাইন্ট মিট গুলাও তোকে ছাড়া হয় না।

সরিফ-তো,,কেন, অফিসে সময় দিতে পারবি না বাবা??

আদ্র-বাবাই,,,আমি ভাবছি সানিদের স্কুলে আমি গেস্ট টিচার হিসেবে জয়েন করবো।

সায়মান-ওয়াট!!তুই আর টিচার???

আদ্র-হ্যা,,,দেখ তোমরা,,,আমি রেগুলার একবার করে হলেও অফিসে যাবো।তবে আগের মতো বেশি টাইম দিতে পারবো না এই আর কি।আর যদি কোনো ক্লাইন্ট মিট বা জরুরি মিটিং থাকে তাহলে তা করবো আমি,, নো প্রবলেম।আমি তো আর পার্মানেন্ট টিচার না,,যে ছুটির দরকার হলে আবেদন করতে হবে।আমি যখন ইচ্ছে ছুটি নিতে পারি।আর,, প্রিন্সিপাল আঙ্কেল তো আমাকে,কাকাই ও বাবাইকে চেনেই।তো কোনো সমস্যাই হবে না।

রিসব-তোর শো এর কি হবে??

আদ্র-যেদিন শো থাকবে সেদিন নাহয় ছুটি নিয়ে নেবো।সিম্পল??

আরিফা-ছেলের কথা শুনো।এই বয়সে বিয়ে করে বউয়ের সাথে থাকবি তা নয়,,,ও শুধু শুধু টিচিং করতে যাচ্ছে।বলি,,,আমার হবু বউমা কবে দেখবো শুনি??এবার তো ছেলেদের বিয়ের কথা বলতে হবে??

আদ্র-মাম্মাম,,,তুমি এই চিন্তা যাস্ট ফেলে দাও।কারন আগামী দু বছরেও আমি বিয়ে করছি না।আর আমি যা করছি তা তো তোমার বউমার জন্যই করছি।

আয়শা-বউমা??কে বৌমা??কার জন্য করছিস এসব??

আরিফা-হ্যা,,তাই তো।।কার জন্য তুই বিজনেস ছেড়ে টিচিং করতে যাচ্ছিস??কোথাকার বৌমা শুনি,,আমার পছন্দ হবে তো??

আদ্র-ঘরে বউ এনে দিলাম,তবুও তোমরা এসব বলছো।

আয়শা-ঘরে বউ মানে??

আদ্র-কেন,, তোমাদের বউমাকে পছন্দ হয়নি??

আরিফা-কার কথা বলছিস তুই??

সায়মান-আরে চাচ্চি,,বুঝোনা কেন??,পিচ্চিটাকে তোমার ছেলে মন প্রান সব দিয়ে ফেলেছে।আয়শা-পিচ্চি মানে......

সেলিম-সানি???

সায়মান-তো আর কে??

আরিফা-তুই মামনিকে পছন্দ করিস??

আদ্র-হুম,,কেন মাম্মাম??ওকে তোমার পুত্রবধু হিসেবে মানতে কোনো সমস্যা আছে??,কেন মানতে পারবে না মাম্মাম??হ্যা মানছি ও ছোট এখনো।তোমাদের সাথে হয়তো এখনো মানিয়ে নিতে পারেনি।কিন্তু সময়ের সাথে সব গুছিয়ে নেবে ও,,, তুমি দেখো মাম্মাম।(উতলা হয়ে)

রফিক-আরে,,,,তুই হাইফার হচ্ছিস কেন?

সফিক-ও কি জানে এসব?

আদ্র-নাহ,,আমি চাইনা ওর এস এস সি এক্সামের আগে এই সব বিষয়ে ও জানুক।

আরিফা-আমি ভাবতে পারছি না তুই মামনিকে পছন্দ করবি। আর আমার ওকে পছন্দ কেন হবে না??ও তো অনেক ভালো।খুব সহজেই সবার সাথে মিশে যায়।দেখতেও একদম পরীর মতো।আর চেহারার মায়াটা আমাকে খুব টানে ওর কাছে।

আদ্র-তার মানে??

আরিফা-আমি মামনিকে পুত্রবধু রুপে দেখতে চাই।

(আদ্র খুশিতে ওর মাকে জরিয়ে ধরলো।,,,)

আদ্র-রিয়েলি ইউ আর গ্রেট মাম্মাম।

আরিফা-হয়েছে,,হয়েছে।তো কবে থেকে কলেজ জয়েন করবি?

আদ্র-কাল থেকেই।আমি চাইনা আমার ডল একা থাকুক।

সায়মান-আরে ওয়াহ,,ইসে কেহেতা হে পেয়ার কি মাজনু।

রিসব-আদ্র,,,আমি বলছিলাম যে,,,আমি কাল থেকে অফিস জয়েন করতে চাই।তোর কোনো আপত্তি আছে??

আদ্র-এটা তো খুব ভালো কথা।আমার আপত্তি থাকবে কেন?বরং আমি খুব খুশি এই ব্যাপারে।দেখ কাকাই,,তোমাদেরও কাজে হেল্প হয়ে যাবে।

সায়মান- কাহানি মে টুইস্ট হে।যেই ছেলে এতদিন এত করে বলার পরেও অফিস জয়েন করে নি।সেই ছেলে আজ নিজে থেকে অফিস জয়েন করার কথা বলছে?কি ব্যাপার রে রিসব ভাই??

রিসব-শালা,তুই নিজে তো জয়েন করবি না,,আমাকেও করতে দিবি না।

সায়মান-আরে আমি কেন জয়েন করবো।আমি তো এখনো শিশু।কি বলিস আদ্র ভাইয়া??

(আদ্র কিছুই বললো না।যাস্ট মুখ ঘুরিয়ে সোফায় গিয়ে বসলো।)

+++++++

পরদিন।,,,,,রোজকারের মতো আজও সানি আদ্রের পাশের সীটে বসে স্কুলে পৌছালো।গেটের ভেতরে আসতেই সানি বলে উঠলো....)

সানি-আজও কি প্রিন্সিপালের সাথে দেখা করবেন নাকি??

আদ্র-না,,,অন্য কাজ আছে।

সানি-কি কাজ?

আদ্র-এত কথা ভালো লাগে না আমার।

(তখনই কোথা থেকে নিডো দৌড়ে এসে সানুর সামনে দাড়ায়।)

নিডো-জানু,,,এসে গেছিস তুই??

সানি-হুম।

নিডো-ক্লাসে চল??

(সানি আদ্রের দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে বললো...)

সানি-যাচ্ছি আমি।

(আদ্রও হালকা হাসলো।তারপর সানি নিডোর সাথে ক্লাসে চলে গেলো।)

(২য় পিয়ডের সময় প্রিন্সিপাল স্যার সানিদের ক্লাসে প্রবেশ করলো।সবাই তাদে দেখে দাড়িয়ে সালাম জানালো।সানি খেয়াল করলো স্যারের সাথে আদ্রও ক্লাসে প্রবেশ করলো।তাকে দেখে সানি কিছুটা অবাক হলেও স্যারের সামনে আর কিছু বললো না।তখন সবার উদ্দেশ্যে প্রিন্সিপাল স্যার বলে উঠলো....)

স্যার-স্টুডেন্টস,,,ইনি হচ্ছেন তোমাদের নিউ টিচার মি.....

(এটুকু বলেই স্যার আদ্রের দিকে তাকায়।,,, এরপর তিনি ইশারায় কিছু বলে আবার স্টুডেন্টদের দিকে তাকিয়ে বললো...)

স্যার-আচ্ছা যাই হোক,,তোমাদের টিচার নিজেই পরিচয় দেবে।,,,,আমি এখন যাই।

(বলেই প্রিন্সিপাল চলে যায়।এদিকে সানি পুরাই অবাক।সে ভাবছে...)

সানি-(ইনি হঠাৎ এই স্কুলে টিচিং কেন করবে??)(মনে মনে)

(এসব ভাবতে ভাবতেই আদ্র বলে উঠলো..)

আদ্র-হেই ইউ।সিট ডাউন।

(আদ্রের কথায় সানি ভাবনা থেকে বেড়িয়ে দেখলো সে ছাড়া বাকি সবাই বসে গেছে।সানিও বসে পরলো।এরপর আদ্র বলে উঠলো...)

আদ্র-স্টুডেন্টস।আম ইউর নিউ টিচার,,,, মিঃআদ্রিয়ান জুনায়েদ।

(এই নামটা শুনে অনেকেই নিজের মধ্যে কিছু একটা নিয়ে সমালোচনা করতে লাগলো।এর পর একটা মেয়ে উঠে দাড়িয়ে বলে উঠলো...)

----স্যার,,,মেয় আই সি ইউর ফেইস প্লিজ??

আদ্র-উমমম,,ওকেয়।

(বলেই আদ্র নিজের চোখের গ্লাস আর মুখে থাকা মাস্কটা খুলে ফেললো।এখন তাকে দেখে অনেকেই অবাক।একটা ছেলে উঠে দাড়িয়ে বললো...)

----সুপারস্টার আদ্রিয়ান জুনায়েদ!!!

আদ্র-নো,,,,নাউ আম ইউর টিচার।নট আ সিঙ্গার।ওকেয়??

(তখন আরেকটা মেয়ে উঠে দাড়িয়ে বললো....)

---স্যার,,আমি কি আপনার অটোগ্রাফ নিতে পারি.?

আদ্র-আমি বলেছি,,এখন আমি তোমাদের টিচার।কোনো গায়ক নই।তাই স্কুল ক্যাম্পাসে আমাকে টিচার হিসেবেই দেখবে তোমরা।অন্য বিষয়ে আর কোনো কথা নয়।ওকেয়?

---ওকে স্যার(মন খারাপ করে)

আদ্র-সীট ডাউন অল প্লিজ।

(সবাই বসে পরলো।এরপর আদ্র আরো কিছু টুকটাক কথা বলে ক্লাস ত্যাগ করলো।,,,এদিকে সানি ভেবেই পাচ্ছে না আদ্রের এমন বিহেভিয়ারের কারন।)

++++++++

(এর মধ্যেই কেটে গেলো দুই সপ্তাহ।এ কয় দিনে সানি এবাড়ির সবার সাথে অনেক ভালো বন্ডিং তৈরি করেছে।এমনকি আদ্রের সাথেও।,,আদ্র সানিকে বারং করেছে স্কুলে যাতে কেউ না যানে যে সে তার পরিচিত।সানিও আদ্রের কথা মেনে নিলো।,,,,,,,,,,আয়ন্তির বিয়ের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি আছে।এর মধ্যেই পুরো বাড়িতে বিয়ের তোরজোর শুরু হয়ে গেলো।,,,,,,সকাল বেলা।।।।সবাই একসাথে বসে নাস্তা করছে,,তখন আরিফা বলে উঠলো...)

আরিফা-আজ নাকি ইরুনা আসবে এই বাড়িতে।

শারমায়া-ও তো ইউ কে আছে,,,

সফিক-নাহ,,কালকেই ফিরেছে।তো আয়ন্তির বিয়ে উপলক্ষে ও এই কয়দিন এখানেই থাকবে

সানি-তোমরা কাকে নিয়ে কথা বলছো???

আয়শা-ইরুনা হলো আদ্রের ফুফাতো বোন।বিদেশে থাকে তাই তুই চিনিস না।আজকে আসবে দেখে নিস।

সায়মান-হুম,,,ডাইনিকে দেখবে না তো কাকে দেখবে(বিরবির করে।)

আদ্র-ডল,,তোমার হয়েছে??লেট হয়ে যাবে তো এবার??

সানি-হুম,,চলুন।আন্টি,,, আসি আমি।বাই অল।

সরিফ-বাই মামনি।

আরিফা-বাই।

(সবার থেকে বিদায় নিয়ে রীতরমতো আদ্র আর সানি স্কুলের দিকে রওয়ানা দিলো।)

++++++++++++

দুপুর ২টা,,,

(সানি আর আদ্র স্কুল থেকে এসেই ঘরে ঢুকতেই একটা মেয়ে আদ্রকে এসে জড়িয়ে ধরে....)

------আদ্র,,,,,,হাউ আর ইউ মাই ইয়ার??

আদ্র-ইরুনা,,,,লিভ মি,,,,,,,

(কথা শুনেই ইরুনা মুখ কালো করে আদ্রকে ছেড়ে দিলো।,,,)

আদ্র-ডল,,তুমি যাও,,, ফ্রেম হয়ে খেতে এসো।

সানি-হুম।

আরিফা-আজ তুই অফিসে যাবি না বাবা??

আদ্র-আজ তেমন কোনো কাজ নেই মাম্মাম।তাই ভাবছি যাবো না।

আয়শা-আচ্ছা,,তাহলে তুইও ফ্রেশ হয়ে আয়।আমরা খাবার রেডি করছি।

(সানি চলে যায়।আদ্রও চলে যেতে নিলে ইরুনির কথায় থেমে যায়...)

ইরুনি-এই মেয়েটা কে??,,,বাসার মেইড নাকি??

আদ্র-ইরুনি,,,সি ইজ আওয়ার ফ্যামিলি মেমবার।সো রেসপেক্ট হার।

(বলে(বলেই আদ্র গদগদ করে উপরে চলে গেলো।,,,আয়শা ইরুনিকে সানির ব্যাপারে সব বললো।এটা শুনে ইরুনির কিছুটা রাগ হলেও পরে কিছু একটা ভেবে বাকাহাসি দিলো সে।)

(সানি ফ্রেশ হয়ে এসেই দেখলো সবাই খাবার টেবিলে উপস্থিত,, শুধু আদ্র ছাড়া।সানি গিয়ে নিজের চেয়ার টেনে বসে বললো...)

সানি-ওও আন্টি,,,তুমি আমাকে কত্ত বুঝ,,দেখ আমার পেট তোমার নামে গুনগান গাইছে।

আরিফা-শুন মেয়ের কথা।

শারমায়া -পিচ্চি,,খিদে পেয়েছে এটাই বলে দে না?.

আয়ন্তি-হ্যা,,তাতো লাগারই কথা,,সেই সকালে হালকা নাস্তা করে গেছে।,,

রুসা-হুম,,কই আম্মু,, পিচ্চিকে খাবার দাও।

রিসব-পিচ্চি,,,তোরতো মনে হয় সামনে এক্সাম।

সায়মান-হুম,,,আমিও শুনলাম

সানি-আরে তোমরা চাপ নিওনা,,,কোনো প্রবলেম নেই।

সায়মান-আরে বাহ,,,,পিচ্চি দেখি আমার মতোই চিল মুডে থাকে।গুড গুড।

ইরুনি-তাতো থাকবেই,,,অন্যের বাড়িতে ভালো থাকতে পারছে,,আর কি চাই।

(কথাটা শুনে সবারই মন খারাপ হয়ে গেলো।সানি ছলছল দৃষ্টিতে ইরুনির দিকে তাকালো...)

ইরুনি-আমি কি ভুল বলেছি নাকি সানি?আচ্ছা বলোতো,,,অন্যের বাড়ির খাবার গিলতে কষ্ট হয় না তোমার???কিভাবে খাও তুমি??

(সানি আর থাকতে পারলো না।আড়ালে চোখের জল মুছে খাবার ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে পরলো...)

আরিফা-আর ইরুনি,,এভাবে কেউ কথা বলে???

আয়শা-সানি মা,,,তুই বস,,,তোর না খিদে পেয়েছে।আয় আমি তোকে আজ খাইয়ে দিচ্ছি।

সানি-কাকিয়া,,,আমি,,,,,,আমি একটু আসছি।

(বলেই একপা এগোতেই ইরুনি পেছন থেকে বলে উঠলো....)

ইরুনি-তা তোমার মরা মা বাবা বুঝি তোমাকে এই শিক্ষা দিয়ে গেছে যে কিভাবে অন্যের বাড়িতে ফ্রী তে সব হাসিল করা,যায়??

(এতক্ষণ দম ধরে থাকলেও মা বাবার কথা তুলায় সানি আর শান্ত থাকতে পারলো না।তেড়ে গিয়ে ইরুনির গলায় থাকা স্ক্রাপটা টেনে ধরে বলে....)

সানি-আপনার সাহস কি করে হলো,,এই কথা বলার??আমি অন্যের বাড়িতে ফ্রীতে....

(একথা বলতেই পেছন থেকেহঠাৎ আদ্র হেচকা টানে সানিকে টেনে এনে কসিয়ে একটা থাপ্পর দেয়।,,,,,আদ্রের এমন ব্যবহারে সানি সহ বাকি সবাই অবাক।)

আদ্র-তোমার সাহস কিকরে হলো ওর গায়ে হাত তুলার??ছিহ,,,এতটা নিচ কি করে হলে তুমি??

সানি-আরে উনি আমাকে বলেছে.....

আদ্র-ঠিকই তো বলেছে ও,,।কেন তুমি আমাদের বাড়িতে থাকছো না?খাচ্ছো না?যা চাইছো তা পাচ্ছো না?তাহলে ও ভুল কি বললো?

(আদ্রের কথায় সবাই অবাক।সানি একদিকে আদ্রের কথায় চোখ বেয়েনোনা পানি পরতে লাগলো,আর একদিকে রাগে গা রি রি করতে লাগলো।,,,)

আদ্র-আর কখনো যদি কারোর সাথে এমন মিস বিহেভ করো,,তাহলে দেখে নিও কি হয়।যাও

(বলতেই সানি মাথা নিচু করে সিড়ির কাছে পৌছাতেই আদ্র আবার বলে ওঠে...)

আদ্র-ওকে সরি না বলে কোথায় যাচ্ছো তুমি??

(সানি আবার একপা দুপা করে ইরুনির দিকে এগিয়ে গেলো।সামনে দাড়িয়ে ইরুনির দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো।এরপর হঠাৎ সে হাটু গেরে বসে ইরুনির একপা চেপে ধরে বললো...

সানি-আমাকে ক্ষমা করে দিন।

(বলেই দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেলো সে।এদিকে তার কান্ডে আদ্র অবাক...)

আদ্র-(এই মেয়েকে আমি বললাম সরি বলতে,,,ও পায়ে পরলো কেন..)(মনে মনে)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৭