----আ্ আদ্রিয়ান স্ স্যার
(শুনেই থেকমে গেলো আদ্র।কন্ঠটা কেমন যেন পরিচিত লাগছে তার কাছে।কিন্তু কে হতে পারে।,,,,,আর কিছু না ভেবে আদ্র আস্তে আস্তে ভীরের দিকে এগোতে লাগলো।ভীর ঠেলে ভিতরে ঢুকতেই দেখলো একটা কম বয়সী মেয়ে উপুর হয়ে পড়ে আছে।মুখটা ঠিক দেখা যাচ্ছে না।কিন্তু মেয়েটার বা হাতের দিক থেকে রক্ত গড়িয়ে পরছে।আদ্র এবার আশেপাশের লোকজনদের দিকে তাকালো।দেখলো তারা,কেউ ছবি তুলছে,, কেউ ভিডিও করছে।কেউ আবার একে অপরের সাথে কথা বলছে।এসব দেখে আদ্র খুব রেগে গেলো।,,,,কিছু বলতে যাবে তখনই কয়েকজন লোক আদ্রের সামনে এসে তার থেকে অটোগ্রাফ চাইতে শুরু করলো।,৷এতে আদ্র আরো বিরক্ত হলো।,,,এর মধ্যেই আবার সেই ডাক...)
---আদ্রিয়ান স্ স্যার।
(আদ্র বুঝতে পারলো যে পড়ে থাকা মেয়েটাই তাকে ডাকছে।কিন্তু কেন।???তাই বুঝতে পারছে না নিজে।তাহলে মেয়েটাকি আমাকে চিনে???,,,এসব ভাবনার মাঝেই ওখানে থাকা একটা মহিলা বলে উঠলো.....)
---হায়রে,,,একি হাল হলো মেয়েটার।কত ভালো মেয়ে,,তাকে কিনা কেউ এভাবে দোতলা থেকে ফেলে দিলো।ছি ছি ছি,,,কেমন মানুষ এরা??,,সানির মতো মেয়ের সাথে এতটা অন্যায় করে।
(শেষের কথাটা শুনে আদ্র কেমন যেন থমকে গেলো।,,,,,,নিজের অজান্তেই বুকের বা পাশটায় সে চিনচিন ব্যাথা অনুভব করলো।,,,অস্থির কন্ঠে বলে উঠলো...)
আদ্র-স্ সানি???
(বলেই পেছনে তাকিয়ে পড়ে থাকা মেয়েটির কাছে দৌড়ে গেলো।হাটু ভাজ করে বসেকাপা কাপা হাতে মেয়েটিকে উলটো করে ঘুরালো।ঘুরিয়েই অস্থির হয়ে বলে উঠলো....)
আদ্র-স্ স্ সানি??!!!!!
(আদ্র দেখলো সানির কপাল থেকে রক্ত ঝরছে।শরীরের অনেক জায়গায়ই আঘাত।,,,,এটা দেখে আদ্র আরো অস্থির হয়ে উঠলো।কেন যেন এই মুহুর্তে মেয়েটাকে নিজের বলে মনে হচ্ছে ওর।মনে হচ্ছে এই মেয়েটার কিছু হলে তার নিজের জিবনই শূন্য হয়ে যাবে।,,,,,,,আদ্রের ডাকে অনেক কষ্টে পিটপিট করে চোখ খুললো সানি।....)
সানি-আদ্র্ আদ্রিয়ান স্যার???
আদ্র-তোমার এই অবস্থা কি করে হলো সানি???কে করেছে এমনটা।,,,কি হলো তোমার বলো।কষ্ট হচ্ছে??না,না,না,,,কষ্ট হবেনা তোমার।আমি কিছু হতে দেবোনা তোমার।রমেস,,,রমেস??
রমেস-জ্বী স্যার??
আদ্র-গাড়ি স্টাড দাও।এক্ষুনি হসপিটাল যেতে হবে।,,
(সানি কাপাকাপা হাতে আদ্রের হাত ধরলো।এতেই যেন আদ্র চুপ হয়ে গেলো।,,অনেক কষ্টে সানি বললো....)
সানি-আ্ আপনি ব্যাস্ত হবেন না,,,,,আমাকে হসপিটাল নেওয়া লাগবে নাহ,,,এই নিন,,,এটা ধরুন।
(বলেই রক্তাক্ত হাতটা এগিয়ে আদ্রের হাতে কিছু একটা দিলো।,,,,আদ্র অবাক হয়ে বললো....)
আদ্র-টাকা???সানি,,,এসব কি??
সানি-এখানে,,দ্ দশ হাজার টাকা আছে স্যার।,,,এটা আপনি রাখুন।আর,,,আরো দশ হাজার টাকা বাকি আছে।য্ যদি বেচে থাকি,,, ত্ তাহলে সেটাও শোধ করার চেষ্টা করবো।,,,,
আদ্র-তোমার কিচ্ছু হবেনা,,,সানি।আমরা এক্ষুনি হসপিটা যাবো।,,,,,রমেস,,,গাড়ি বের করতে বলেছি তোমার
(আদ্র রমেসের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলে সানির দিকে ফিরতেই দেখলো সানির চোখ বন্ধ।কেমন যেন ঢলে পরে আছে।,,,,আদ্র অস্থির হয়ে বলে উঠলো...)
আদ্র-সানি,,,এই সানি,,,কি হলো,,,চ্ চোখ খুলো।
(আর কিছু না বলে আদ্র সানিকে পাজা কোলে তুলে নিলো।গাড়ির সামনে আসতেই রমেস গাড়ির পেছনের দরজা খুলে দিলো।সানিকে বসিয়ে আদ্র নিজেও তার পাশে বসে পরলো।রমেসও গাড়ি স্টার্ট দিলো হসপিটালের উদ্দেশ্যে।)
------------
(অফিসে নিজের কেবিনে বসে আছে আদ্র।তখন সানিকে নিয়ে হসপিটালে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তার পিএ কল করে বলে যে ইনপর্টেন্ট মিটিং আছে।আদ্রকে যেতেই হবে।তাই বাদ্য হয়ে সানিকে ছেড়ে অফিসের দিকে ছুটলো আদ্র।,,,অফিসে আসার পর নানা কাজে এতটাই ব্যস্ত ছিলো যে সানির কথা তার মাথায়ই নেই।কাজ শেষ করে রাত ৮টার সময় সে কিছুটা ফ্রী হলো।তাই নিজের কেবিনে গিয়ে বসলো। রকিং চেয়ারটায় হেলান দিকে চোখগুলো বুঝতেই হঠাৎ চোখের সামনে ভেসে উঠলো সানির রক্তাক্ত শরীরটা।তারাহুরো করে চোখ খুলে ফেলে ও।বুকের ভীতর কেমন যেন মোচর দিয়ে উঠছে।যার কারন তার নিজেরই অজানা।,,,,সে ভাবতে লাগলো....)
আদ্র-সানি হসপিটালে একা রয়েছে,,,আর আমি কিনা ভুলে গেলাম,,,সীট।।আচ্ছা,,,আমি ওকে নিয়ে এতো ভাবছি কেন???আমার এমন লাগছে কেন??আমিতো ওকে সাস্তি দেওয়ার কথা।তাহলে??কি হচ্ছে আমার সাথে।আমি কি ঐ পিচ্ছিটার মায়ায় পরে যাচ্ছি??না না না,,,এটা কিকরে সম্ভব।ওতো ভালো মেয়ে নয়,,,,,ছোট হলেও খুব খারাপ ও।আমাকে ছোটলোক বলেছিলো ও,,,না না,,,এই বাচ্চা মেয়ের প্রতি দুর্বল হলে চলবে না,,,,বি এ ম্যান আদ্রিয়ান,,।,,,, কিন্তু ও এখন কেমন আছে???আসার পরতো একবারও খোজ নিলাম না।আমি কি যাবো একবার হসপিটালে,,,,,???(মনে মনে)
(এসব আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতেই আদ্র ঠিক করে সে হসপিটালে যাবে।,,,যেই ভাবা সেই কাজ।হসপিটালের দিকে রওয়ানা দিলো সে।,,গাড়িতে বসে আদ্র তার ছোট বোন আয়ন্তির কাছে ফোন দিলো।ফোন রিসিভ করতেই.....)
আয়ন্তি-হ্যালো,,,ভাইয়া তুই কোথায়,,,এখনো ফিরলি না।আম্মু তোর জন্য টেনশন করছে।
আদ্র-তুই আম্মুকে টেনশন করতে মানা কর।আমার ফিরতে দেরি হবে একটু।বলে দিস।
আয়ন্তি-কেন??কোথায় তুই,,,কেন দেরি হবে??
আদ্র-একটু হসপিটালে যাচ্ছি।
আয়ন্তি-হসপিটাল??কি হয়েছে তোর ভাইয়া??কি রে বল কি হয়েছে??
আদ্র-আরে রিলেক্স,,,আমার কিছু হয়নি।,,,,একটু দরকার আছে তাই যাচ্ছি।বাড়ি ফিরে সব বলবো।,,,ওকে??
আয়ন্তি-ওকে,,,
আদ্র-মাকে বল ঘুমিয়ে পরতে।রাখছি।
(বলেই আদ্র ফোন রেখে দিলো।,,,তারপর একটু গাড়ির সীটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করতেই ভেসে উঠলো সানির সেই রক্তাক্ত শরীরটা।ঝট করে চোখ খুলে ফেললো।মনে মনে বলতে লাগলো....)
আদ্র-কেন ঐ মেয়েটার কথা বারবার মনে পরছে??কি আছে ঐ মেয়েটার মাঝে??(মনে মনে)
(ভাবনার মাঝেই রমেস বলে উঠলো...)
রমেস-স্যার,,এসে গেছি আমরা।
আদ্র-হ্যা?ও,, হসপিটাল এসে গেছে।,,,,,আচ্ছা তুমি তো বাড়ি যাবে তাইনা??,,গাড়ির চাবিটা আমায় দাও।তুমি চলে যাও।আমার লেট হতে পারে।
রমেস-স্যার,,,সমস্যা নেই।আমি ওয়েট করছি।,
আদ্র-নাহ,,তুমি বাড়ি যাও।আর এই নাও।
(বলেই মানি ব্যাগ থেকে ১০০০ টাকা নিয়ে রমেসের দিকে এগিয়ে দিলো...)
রমেস-স্যার,,এটা??
আদ্র-ভাড়া,,এখন যাবে কিভাবে।তাই এটা রাখো।
রমেস-স্যার,,এতটাকা লাগবে না।ভাড়া তো মাত্র ১০০ টাকায়ই হয়ে যাবে।
আদ্র-এটা রাখতে বলেছি।,,,নাও।
(রমেস আর না করতে পারলো না।টাকাটা নিলো।,,,এরপর আদ্র মুখে মাস্ক আর চোখে কালো সানগ্লাস পরে নিলো।যাতে কেউ তাকে চিনতে না পারে।কারন আদ্রের ফ্যানরা যখন তখন অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য ঘিরে ধরতে পারে।তাই এসব থেকে বাচার জন্য আদ্র প্রায়ই এভাবে থাকে। গাড়ি থেকে বেরিয়ে হসপিটালে গিয়ে ডক্টরের সাথে দেখা করলো...)
আদ্র-ডক্টর,,,হাউ ইজ সি।আই মিন,,মাই পেসেন্ট??
ডক্টর -মিঃআদ্রিয়ান।সি ইজ ফাইন।বাট,,,এখনো অনেকটাই দূর্বল। শরীরে অনেক আঘাত পেয়েছে।কমপক্ষে একমাস ওকে রেস্টে থাকতে হবে।আর হ্যা,,মেয়েটা হয়তো কোনো ব্যপারে ডিপ্রেশনে আছে।তাই একটু কেয়ার করবেন।আর হ্যা,,,কাল সকালেই রিলিজ করা হবে।,,,,,
আদ্র-ওখেয়,,,থ্যাংক ইউ ডক্টর।,,আমি কি এখন ওর সাথে দেখা করতে পারি??
ডক্টর-ইয়েস।পারলে আজ রাতটা উনার কেবিনেই থাকুন।কিছু দরকার হতে পারে।আর হ্যা,,, এখনো জ্ঞান ফিরেনি।আই হোপ কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরবে।,,,,
আদ্র-ওহ,,,ওকে।,,আমি আছি ওর কাছে।
ডক্টর-ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড,,, একটা প্রশ্ন করবো মিঃ আদ্রিয়ান??
আদ্র-হ্যা,,,বলুন??
ডক্টর-ঐ মেয়েটা কে হয় আপনার??
(কথাটা শুনে আদ্র ভাবনায় পরে গেলো।কি বলবে ও?? অনেক ভেবে বললো...)
আদ্র-সি ইজ মাই রিলেটিভ।
ডক্টর-ওহ,,ওকে।,,আপনি যান তাহলে।
আদ্র-ইয়াহ,।
(আদ্র এগিয়ে গেলো সানির কেবিনের দিকে।দরজার সামনে আসতেই আদ্র থেমে গেলো।,,সে ভাবছে...)
আদ্র-(যাওয়াটা কি উচিৎ হবে??,,,,,)(মনে মনে)
--------------
(চোখ পিটপিট করে খুলতেই নিজেকে একটা রুমে আবিষ্কার করলো সানি।নীলছে ড্রীম লাইট জলছে।।অনেকক্ষণ ধরে পর্যবেক্ষণ করার পর বুঝতে পারলো যে সে একটা হসপুটালে আছে।আরো খেয়াল করলো তার হাতে ক্যানেলা।স্যালাইন চলছে।প্রায় শেষের দিকে। অনেক কষ্টে উঠে বসার চেষ্টা চালিয়ে একটু উঠতেই কোমরের ব্যাথায় আহ করে আর্তনাদ করে উঠলো।)
--------
(ভেতর থেকে কারো আর্তনাদের কন্ঠ শুনে আর কিছু না ভেবে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো আদ্র।,,,দেখলো সানি চোখ খিচে বন্ধ করে আছে।আর শক্তির বিরুদ্ধে উঠে বসার চেষ্টা করছে।আদ্র গিয়ে তার কাঠে একহাত দিয়ে শোয়ানোর চেষ্টা করে বললো...)
আদ্র-কি হলো তোমার??কোথায় কষ্ট হচ্ছে বলো??,,
সানি-আমি ন্ নামবো।ছ্ ছাড়ুন।
আদ্র-কেন নামবে তুমি।তুমি অসুস্থ,,, রেস্ট নিতে হবে তোমায়।আমাকে বলো কি দরকার??
সানি-আমি্ আমি ব্ বাড়িতে যাবো।,,,,
আদ্র-এখন নয়।আচ্ছা তুমি আগে শোও,,তারপর কথা বলছি।,,,কোথাও কষ্ট হচ্ছে তোমার??
সানি-ক্ কোমরে,, লেগেছে এক্ একটুহ
আদ্র-আচ্ছা,,শোও,,,,,আমি হেল্প করছি।শুয়ে পরো তুমি।
(এরপর আদ্র সানিকে শুইয়ে দিলো।,,,সীটের পাশে একটা টুল টেনে নিয়ে সেখানে বসলো আদ্র।,,,,)
আদ্র-তোমার মা বা বাবার নম্বরটা দাও।আমি ফোন করে বলে দিচ্ছি।,,বলো।
(আদ্রের কথা শুনে সানি মন খারাপ করে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।,,,)
আদ্র-কি হলো বলো??
সানি-নেই।
আদ্র-সেকি,,,এতবড় হয়ে গেছো,,আর মা বাবার ফোন নম্বর মনে রাখতে পারো না??
সানি-মা বাবাই নেই আমার।
আদ্র-হোয়াট??,,মা বাবা নেই মানে?কি বলছো এসব।,,(অবাক হয়ে)
সানি-হুম,,সত্যি বলছি।আমার মা বাবা নেই।
আদ্র-তাহলে তুমি কার কাছে থাকো??
সানি-চাচা,চাচির কাছে।
আদ্র-আচ্ছা তাহলে ওদের নম্বর দাও,,আমি ওদের জানিয়ে দিচ্ছি,,যাতে তোমাকে নিয়ে টেনশন না করে।
সানি-তার আর দরকার নেই।তারা আমাকে নিয়ে টেনশন করবেই না।,,ওসব থাক এখন।আমায় এখন যেতে হবে।
আদ্র-আরে,,আরে,,থামো।কাল সকালের আগে কোথাও যাওয়া হচ্ছে না।,,আচ্ছা তোমার ঐ অবস্থা হলো কিভাবে??
সানি-এমনি,,,
(সানির কথা শুনে আদ্র ঠোট কামড়ে হালকা হেসে নিলো সানির অগোচরে)
আদ্র-মেয়েটা সত্যিই অনেক বোকা।না হলে কি এই অবস্থা এমনি এমনি হয়??ও বললো আর আমি বিশ্বাস করে নিলাম,,,হয়তো নিজেও যানেনা,,,কি বলছে।(মনে মনে)
আদ্র-এমনি???এমনি কারোর এমন হয়??,,জবাবটা কেমন অদ্ভুত দেখায় না??পিচ্চি??
(এতক্ষণে সানি আদ্রের দিকে ফিরে তাকালো।,,,)
সানি-অদ্ভুত মানে??এমনিই হলো।(বোকা বোকা ফেইস করে)
আদ্র-আচ্ছা,,ঠিক আছে।আমি ওখানে যাওয়ার আগে কি হয়েছিলো,, সেটা বলো
সানি-কিছুই হয়নি।।
আদ্র-তুমি কিন্তু এবার আমায় রাগিয়ে দিচ্ছো পিচ্চি।সত্যি সত্যি বলো কি হয়েছে।নাহলে ভালো হবে না কিন্তু।
(আদ্রের কথায় সানি একটু ভয় পেয়ে গেলো।তবুও ঢোক গিলে কথা ঘোরানোর জন্য বললো...)
সানি-আপনি আমাকে এখানে কেন নিয়ে আসতে গেলেন??শুধু শুধু কষ্ট করছেন।
আদ্র-ওটা আমার ব্যপার।তুমি সত্যিটা বলবে না তাইতো??আচ্ছা,,থাক ওসব।পরে দেখে নেবো।,,,,,রাত হয়েছে।ঘুমিয়ে পরো আরাম লাগবে।
সানি-রাত হয়ে গেছে??তাহলে আপনি এখানে কি করছেন??
আদ্র-কেন??তোমার সাথে তো থাকতে হবে তাইনা??
সানি-আপনি চলে যান,,, কাল সকাল হলে আমি চলে যেতে পারবো।
আদ্র-চুপচাপ ঘুমাও,,আর কথা নয়।(ধমকের সুরে)
(সানি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো...)
সানি-আপনি আমার ঋণ বাড়িয়ে দিচ্ছেন।এবার কিন্তু শোধ করাটা কঠিন হয়ে পরবে।
(আদ্র কি বলবে।এতক্ষণ পরে সানির ঐ হাসি দেখে সে কেমন যেন সানিতেই বিভোর হয়ে রইলো।অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সানির দিকে।,,,কিছুক্ষণ এভাবে তাকিয়ে থাকার পর তার ঘোর ভাঙে সানির ডাকে...)
সানি-কিছু বলছেন না যে???
আদ্র-হ্যা??,,,,
সানি-আমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না বুঝি??আচ্ছা,,,আমি আর কথা বলছি না।ঘুমিয়ে পরছি।আপনি চলে যান বাড়িতে।অজথা এখানে থেকে লাভ নেই।
আদ্র-তুমি ঘুমাও তোহ।
(সানি চোখ বন্ধ করলো।,,,,,,,ক্লান্ত থাকার কারনে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুম নেমে এলো চোখে।,,,আদ্র উঠে গিয়ে ক্যান্টিনে কিছু খেয়ে নিলো।আবার সানির কেবিনে এসে টুলে বসলো।,,,খেয়াল করলো সেলাইনটা শেষ।আদ্র সানির হাতের ক্যানেলাটা খুলে দিলো।যাতে ঘুমাতে কষ্ট না হয় সানির।,,,,,হঠাৎ আদ্রের চোখ যায় সানির ফর্সা হাতের দিকে।কেন যেন হাতটা খুব ধরতে ইচ্ছে করছে আদ্রের।নিজের ইচ্ছেকে দমিয়ে রাখতে না পেরে শেষমেশ ধরেই ফেললো সানির হাতটা।নিজের হাতের মুঠোয় পুরে নিলো।,,,,মনে মনে বলতে লাগলো...)
আদ্র-তোমার উপরতো আমার রাগ করার কথা।কিন্তু কেন যেন রাগ হচ্ছে না এখন।আমি নিজেও বুঝতে পারছি না এটা কোন ধরনের ফিলিংস।এরকম আগে কখনো হয়নি আমার।,,,,,আমি কি তবে এই পিচ্চির উপর আসক্ত হয়ে পরছি??হায়,,শেষমেষ,,,, দা গ্রেট আদ্রিয়ান জুনায়েদ আদ্র কিনা একটা ১৫বছরের মেয়ের প্রেমে পরছে।হাউ ফানি,,,(মনে মনে)
(এসব ভাবতে ভাবতেই আদ্রের ফোনটা বেজে উঠলো।হাতে নিয়ে দেখলো রবিন কল করেছে।রিসিভ করে বললো.....)
আদ্র-হ্যা বল
রবিন-ফোন ধরেই হ্যা বল??,,তুইই পারিস এসব।শুনলাম তুই নাকি হসপিটালে??
আদ্র-হুম
রবিন-কার কি হয়েছে??
আদ্র-উমমম,,বলতে পারছি না।সরি,,
রবিন-বলবিনা,,সেটা বল।পারছি না কি??হু।আচ্ছা,,একটা খবর শুনেছিস??
আদ্র-কি বলবি বলে ফেল।
রবিন-ঐ যে সানি আছে না???
(বলতেই আদ্র সানির হাত আরো শক্ত করে ধরলো।)
আদ্র-কি??
রবিন-শুনেছি,যে,,,,,,,,,আচ্ছা প্রথম থেকেই বলি।,,তুই কি জানিস যে ওর মা বাবা নেই??
আদ্র-হুম যানি।
রবিন-,,,ঐ দিন যে তোর সাথে ভেজাল হয়েছিলো,, সেটা ওর চাচি জেনে গেছে।তাই বাসায় ফেরার পর সানিকে তার চাচি প্রচুর মারধর করে এই ব্যপারে।আর....
(আদ্র আহত দৃষ্টিতে সানির দিকে তাকালো।মনে মনে ভাবতে লাগলো...)
আদ্র-তারমানে সানির এই অবস্থা আমার জন্যই হলো??(মনেমনে)
রবিন-আর,,,শুনেছি কাল রাতে নাকি সানিকে ওর চাচি দোতলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলো।,,,এরপর কেউ নাকি ওকে নিয়ে গেছে।এখনো পাওয়া যায়নি ওকে।
আদ্র-তোকে এসব কে বলেছে??
রবিন-আরে সৌরভের বউ।তাকে নানি সানির চাচাতো ভাই অনুজ বলেছে ফোন করে।,,,,
আদ্র-ওহ,,আচ্ছা।
রবিন-কি আচ্ছা??মেয়েটার এই হাল তোর জন্যই হয়েছে।কেন যে রাগ করে সেদিন এমন করলি।দেখছিস তো,,,,,কি হচ্ছে এখন???আর তোর কোনো চিন্তা নেই তাই না??
আদ্র-নাহ,,নেই
রবিন-এতটা নিচু কিভাবে হলি তুই??মেয়েটাকে এখনো খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।কোথায় আছে কে জানে।বেচে আছে কিনা তাও সন্.....
আদ্র-স্টপ।এসব বলা বন্ধ কর।
রবিন-তুই আমাকে আটকাচ্ছিস??কে যানে কেমন আছে মেয়েটা।আর কে নিয়ে গেলো???
আদ্র-চিন্তা করিস না,,ও এখন ঠিক আছে।
রবিন-মানেহ??
আদ্র-হুম,,,আমি যার কারনে হসপিটালে আছি সে আর কেউ নয়,,,সানিই।,,,,আর হ্যা,,,ওকে আমিই তখন নিয়ে এসেছিলাম।হসপিটালে ভর্তি করানোর জন্য।এখন আমার চোখের সামনেই আছে ও।
রবিন-হোয়াট??ও তোর কাছে??হোয়াট আ কোইন্সিডেন্স।,,,কিভাবে???
আদ্র-তোর না জানলেও চলবে।এখন রাখ,,নাহলে আমার কথা শুনে ওর ঘুম ভেঙে যাবে।
রবিন-কেমন আছে ও??
আদ্র-এখনও পুরোপুরি সুস্থ নাহ,,তবে ঠিক আছে।কাল সকালে রিলিজ দেওয়া হবে।,,
রবিন-ওকেয়,,,খেয়াল রাখিস ওর।রাখছি।,,,ভালোই হলো তুই বলে দিয়েছিস।এদিকে বন্যা,,,আই মিন সৌরভের শালি তো চিন্তায় শেষ।
আদ্র-কেন??
রবিন-সানি মেয়েটা অনেক আদুরে।সবাইকে নিজের হাসি দিয়ে কথা দিয়ে আপন করে নিতে পারে।ঠিক তেমনি বন্যাকেও আপন করে নিয়েছে।তাই বন্যা চিন্তা করছে।আচ্ছা রাখছি।ভালো থাকিস।কাল দেখা হচ্ছে।
আদ্র-ওকে।বায়।