আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ১

🟢

""কোন এঙ্গেল থেকে আমাকে ছোটলোক মনে হয়। আন্সার মি,,,আমাকে দেখে কি ছোটলোকের মতো লাগছে??হুহ???বলো???কতটাকা লাগবে তোমাদের বলো???কত টাকা??জাস্ট সেয়,,,কত লাগবে??"""

(চিৎকার করে কথা গুলো বললো আদ্রিয়ান। সামনে দাড়িয়ে থাকা দুটো মেয়ে বারবার করে তাকে থামানোর কথা বলছে।কিন্তু কে শোনে কার কথা।কথা গুলো বলেই আদ্র পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে বিশহাজার টাকা একটি মেয়ের হাতে জোর করে ধরিয়ে দিলো।মেয়েটি তা নিতে চাচ্ছে না।সে বলছে....)

...দেখুন,,,আমি আপনাকে ছোটলোক বলিনি।আপনি ভুল বুঝছেন আমাকে।বোঝার চেষ্টা করুন।,,,,,আমার টাকা লাগবে না,,,আপনি আমার কথাটা শুনুন।

(তখনই আরেকটা লোক এসে উপস্থিত হলো তাদের মাঝে।,,লোকটির নাম রবিন।)

রবিন-হোয়াটস আ্যাপ গাইজ।তোমরা এভাবে ঝগড়া করছো কেন,,,,আশেপাশের অনেকেই তাকিয়ে আছে দেখো।,,,আর আদ্র ,,, তুই কি নিয়ে এত মাথা গরম করলি,,যার কারনে এই পিচ্চি মেয়েগুলোর সাথে এভাবে কথা বলছিস???

আদ্র -রবিন,,এই মেয়েটা,,,এই মেয়েটা আমাকে কি বলেছে জানিস??

রবিন-আরে কোন মেয়েটা??বন্যা নাকি ওর পাশের?

আদ্র -আরে ওর পাশে,,,ঐ যে রেড শারি।এই মেয়েটা,,,,

(আদ্রের কথা মতো রবিন মেয়েটার দিকে তাকালো,,,লাল রঙের কাতান শারি পরেছে মেয়েটি।,,,দেখেই বোঝা যাচ্ছে মেয়েটা প্রচুর পরিমানে ভয় পাচ্ছে কোনো কারনে।চোখের কোনে জল চিকচিক করছে।,,,,,,)

আদ্র-এই মেয়ে আমাকে ছোটলোক বলেছে।কতবড় সাহস,,,,,আমাকে,,,এই আদ্রিয়ান জুনায়েদকে ছোটলোক বলছে।,,,,,

----দেখুন,,,ভাইয়া,,,,আমি এনাকে ছোটলোক বলিনি,,,আমি বারবার বলছি,,এনাকে আমি ছোটলোক বলিনি।

আদ্র-রবিন,,,এই মেয়ে বলেছে,,,আমি নাকি ছোট লোক।আরে,, বিয়ে বাড়িতে একটু মজা করেছি বলে ছোটলোক বলবে নাকি??

রবিন-দেখ,,আদ্র,,,,তুই শান্ত হ,,,বিয়ে চলছে ওদিকে।কেউ শুনলে খারাপ হয়ে যাবে।আর দেখ মেয়েটা ভয় পাচ্ছে।

আদ্র-জানুক।দেখুক সবাই,,,মেয়েপক্ষ হয়ে কিভাবে অপমান করছে।আর এই মেয়ে,,,,,,নাম কি তোমার হুহ??ধ্যাত,,,নাম যেনে কি করবো।,,,কান খুলে শুনে রাখো।,,ছোটলোক বলছিলে না???তুমি নিজে ছোটলোক,,,বুঝেছো?তুমি ছোটলোক,, তোমার বাবা মা ছোটলোক।,,

(এতক্ষন মেয়েটি ভয় পেলেও এবার চোখ তুলে আদ্রের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করে তার কলার চেপে ধরে।...)

---এই যে,,,আমাকে যা ইচ্ছে তাই বলুন,,,কিন্তু আমার বাবা মাকে নিয়ে যদি আর একটা কথাও বলেন তাহলে খারাপ হয়ে যাবে।

(তখনই আরেকটা ছেলে রক্তিম এসে মেয়েটির হাত থেকে আদ্রের কলার ছাড়ায়।)

রক্তিম-আরে আরে আরে,,,সানি,,,কি করছো তুমি।,,,উনার কলার ধরেছো কেন?কি হয়েছে এখানে বন্যা?

বন্যা-ভাইয়া,,,,এইলোকটা সানি আপুর মা বাবাকে ছোট লোক বলেছে,,তাই আপু রাগে উনার কলার চেপে ধরেছে।

(বন্যার কথা শুনে রক্তিম আদ্রের দিকে তাকায়।)

আদ্র-দেখুন,,,,, এই মেয়েটা,,,আগে আমাকে ছোট লোক বলেছে।,,,তাই আমি,,,,

রক্তিম-সানি,,,তুমি উনাকে ছোটলোক বলেছো??

সানি-না ভাইয়া,,,আমি বলিনি।আপনি বন্যাকে জিজ্ঞেস করুন,,,,,,,আর,,আর এই টাকা,,,লাগবে না আমার টাকা।এই নিন আপনার টাকা,,,

(বলেই আদ্রের হাতে টাকা ধরিয়ে দিতে গেলে রবিন বাধা দেয়,,,)

রবিন-আরে আরে,,,আপনি টাকা কেন দিয়ে দিচ্ছেন??টাকাটা রাখুন,,,এটাতো আপনাদের হক।,,

সানি-না,,আমি রাখবো না এটা।

রক্তিম-আহ,,সানি,,,তুমি টাকাটা আমায় দাও।,,আমি দেখে নিচ্ছি।,,,আম সরি গায়েজ।,,সানির হয়ে আমি ক্ষমা চাইছি।,,,সানি,,, চলো খাবে চলো।,,বন্যা তুমিও চলো।,,,,,আর আপনারা,,প্লিজ,,এই ব্যাপারটা নিয়ে আর কিছু বলবেন না।বাচ্চা মেয়ে,,,হয়তো ভুল করে বলে ফেলেছে।,,,এমনিতেই অনেকে জেনে গেছে ব্যাপারটা।আপনারা খেয়েছেন তো??

রবিন-না,,,এইতো আমরা আসছি,,,আপনারা যান।আর বিয়াইনরা,,,আদ্রের হয়ে আমি সরি বলে দিচ্ছি।

{আপনারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন না,,ঝগড়ার মুল কারন,,,তাহলে চলুন প্ল্যাসবেক থেকে ঘুরে আসা যাক।}

**********ফ্ল্যাশব্যাক***********

(চাচার মামাতো ভাইয়ের মেয়ের বিয়েতে এসেছে সম্মোহিনী,,,অরূপে সানি।সাথে তার চাচা আরিফ,,, চাচি নূর আর সমবয়সী চাচাতোভাই অনুজ।,,,,,,""সানি,,,এবার নিউ টেন এ পরে।পড়ালেখায় খুব একটা ভালো না হলেও খারাপও নয় কিন্তু।,,,বাবা মা মারা যাওয়ার পর চাচা চাচির কাছেই বড় হয়েছে ১৬ বছরের সানি।বিয়েতে আনতে চায়নি তার চাচি।কিন্তু আরিফের মামাতো ভাই,অনেক অনুরোধ করেছে সানি নিয়ে আসতে।তাই না চাইতেও সানিকে আনতে হলো তাদের সাথে।,,,সানি আজ শারী পরেছে।লাল রঙের কাতান শারি।,,অবশ্য নূরই তাকে শারি পরতে বলেছে।,,,কারন সানির তেমন ভালো জানা নেই।যা আছে তা যদি পড়ে আসে তাহলে সবাই বুঝে যাবে যে চাচা চাচির কাছে ছোট্ট মেয়েটা একেবারেই ভালো নেই।তাই।,,,শারিটা নুরেরই।সাথে অর্নামেন্স গুলোও।,,,,বিয়েটা রাতে হবে।চারিদিকে মানুষের আনাগোনা।ঘরের বাইরে উঠোনটায় একদিকে ব্যান্ডপার্টি বাজনা বাজাচ্ছে,,,আরেকদিকে হলুদের স্টেজটা আছে।বিয়ের ব্যাবস্থাও সেখানেই।,,,ঘরে বসে থেকে বোর হচ্ছে সানি,,,চাচা আর অনুজকে কোথাও দেখতে পাচ্ছে না সে।অন্য দিকে তার চাচি কিছু মহিলার সাথে বসে কথা বলছে।সানি দাড়িয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিলো।এমন সময় একটা মেয়ে এসে.....)

----হেই,,,, তুমি এখানে একা একা কি করছো??আমার সাথে চলো??

(পেছনে ফিরে সানি দেখলো বন্যা দাড়িয়ে আছে।বন্যা হলো সানির চাচার মামাতো ভাইয়ের ছোট মেয়ে।এখন পর্যন্ত শুধু নামটাই জেনেছে সানি।,,,,,সানি হালকা হেসে বললো..)

সানি-কোথায় যাবো??

বন্যা-আমার বোনের বিয়ে হলেও আমি এখানে শালিদের লিস্টে একা।তুমিও তো শালিই হবে তাই না???

সানি-হুম

বন্যা-তো আমাকে একটু সাহায্য করোনা।,,বরযাত্রী এলে গেটে যেতে হবে।আর সবকিছু আমি একা সামলাতে পারছিনা।তাই একটু থাকোনা আমার সাথে।

(সানি একবার পেছনে তার চাচির দিকে তাকালো,,,সে দেখলো তার চাচি তাকে চোখের ইশারায় যেতে বলছে।তাই সে বন্যাকে বললো...)

সানি-ওকে,,,ওকে চলো।

বন্যা-থ্যাংক ইউ।তোমার নামটা যেন কি??

সানি-সম্মোহীনি।,,তুমি আমাকে সানি ডাকতে পারো।

বন্যা-তুই করে বলি??আসলে তুমি করে বললে কেমন দুরের দুরের লাগে।

সানি-ওকেয়।

বন্যা-তো কোন ক্লাসে পরিস তুই??

সানি-টেন।তুই??

(সানির কথা শুনে বন্যা কেমন যেন সন্দেহের চোখে তার দিকে তাকালো)

সানি-তোর আবার কি হলো??

বন্যা-সরি আপু,,,আপনাকে নাম ধরে ডেকে ফেলেছি

সানি-তুই আমাকে তুই করেই বলবি।এখন চল সব রেডি করতে হবে।

বন্যা-হুম,,চল।

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ১