(সকাল ৭টা,,,
বাড়ির সবাই ব্রেকফাস্ট করছে।,,,)
সফিক-সানি মা,,,,তোর স্কুল নিয়ে কি ভাবলি???
সানি-আসলে....
আদ্র-এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে।,,
সফিক-কি??
আদ্র-ও এখন টেন এ,,,তাই স্কুল চেঞ্জ করা সম্ভব নয়।তাই রোজ আমি ওকে দিয়ে আসবো আর ছুটি হলে নিয়ে আসবো।,,,আর ডল,,,
সানি-হ্যা??
আদ্র-পরশু থেকে তুমি আবার ক্লাস জয়েন করবে।ওকে??
সানি-হুম।
আদ্র-মাম্মাম,,,তারাতাড়ি খাবার দাও।বেরোবো আমি।শো আছে।
সফিক-সে কিরে??তুই না বললি অফিস যাবি??
আদ্র-হ্যা বাবাই।অফিস থেকেই চলে যাবো।আর তুমি আর কাকাইরা,,,তোমরা একটু তারাতাড়ি অফিস যেও আজকে।আমি বেশিক্ষণ থাকতে পারবো না।
রফিক-আচ্ছা।
শারমায়া-ভাইয়া,,,কাল নাকি বিহান ভাইয়ার বার্থডে??
আদ্র-হুম।
রুসা-তো কিছু স্পেশাল আছে নাকি??
আদ্র-হুম।দিনে কিছু নেই।তবে রাতে ও আর আমি একসাথে কনসার্টে ফারফর্ম করছি।
আয়ন্তি-ওয়াও,,,বিহান ভাইয়া,, গান গাইবে??এই ভাইয়া,,আমরা কাল যাবো তোদের শো দেখতে।
আদ্র-টিভিতে দেখে নিস।
রিসব-নো ভাই নো।আমরা কাল।যাবোই।কি কচ ভাই??
সায়মান-হ্যা,,,,সবাই যাবো কালকে।আকাইম্মা লেডিসগন,,, তোমরা চিন্তা করো না।আমরা তোমাদের নিয়ে যাবো।
আদ্র-আচ্ছা বাবা,,,যাস তোরা।আর হ্যা,,,তোরা গেলে ডলও যাবে।
রুসা-হ্যা,,,বোনু তো যাবেই।
শারমায়া-হুম,,,বাই দা চিপাগলি।। ভাইয়া,,,পিচ্চির জন্য কিছু ড্রেস লাগবে।আমরা কি আজ ওকে নিয়ে একবার সপিংএ যাবো??
আদ্র-একদম না।ওকে নিয়ে কোথাও বের হবি না।তোরা গেলে যা।
রুসা-মানে কি??ওকে না নিলে ওর ড্রেস কিনবো কিকরে??
আদ্র-তাহলে তোদের এসব নিয়ে ভাবতেও হবেনা।আমি দেখে নিবো।,,,,ডল,,,আমি বেরোচ্ছি।কিছুর দরকার হলে নির্দিধায় সবাইকে বলতে পারো।,,,আর হ্যা,দুষ্টুমি একদম নয়।তুমি এখনো সুস্থ হওনি।
সানি-আমি দুষ্টুমি করি???
আদ্র-তো কে করে??যাই হোক।মাম্মাম,,,,
আরিফা-হ্যা,,বল বাবা??
আদ্র-ডলকে একটু দেখে রেখো।আমি ফিরে আসবো,,, সন্ধ্যার দিকে।
আরিফা-ওতো আমার মেয়েরই মতো।আমি দেখবো না তো কে দেখবে?
আদ্র-হুম,,,ডল,,,,তোমার কিছু লাগবে??আসার সময় নিয়ে আসবো??
সানি-নাহ।
(সানির কথা শুনে আদ্র উঠে সানির কাছে এগিয়ে এলো।সানির চেয়ারের ঠিক পাশের চেয়ারটা টেনে একদম সানির সামনা সামনি বসলো।,,,)
আদ্র-এদিকে তাকাও ডল??
(সানি নর্মাল ভাবে আদ্রের দিকে তাকায়,।)
সানি-কি??
আদ্র-মন খারাপ??
সানি-না তো??
আদ্র-তাহলে আমার সাথে কথা বলছো না কেন??
সানি-কারন আপনি আমাকে মিথ্যা বলেছেন।(বাচ্চাদের মতো করে)
আদ্র-মিথ্যা???কখন??
সানি-কেন??কালকে বলেন নি??যে এখানে ডক্টর আছে।যে আমাকে মেরে ফেল....
(এটুকু বলতেই আদ্র সানির ঠোঁটে হাত চেপে তার কথা আটকে দিলো।আর মুখে বললো...)
আদ্র-হুসসসয়,,,একদম এই কথা বলবা না।আরে বোকা,,, আমি তো মজা করছিলাম।তুমি তো মজাটা বোঝার কথা।কেন বুঝলেনা?
সানি-কেন মানে??আমি কি আপনাকে চিনি নাকি??যে আপনি বললেই আমি ওটাকে মজা ভেবে নিবো??পচা আপনি।একদম এত্তো এত্তো পচা।
(আদ্র সানির বাচ্চামো দেখে মুচকি হাসে।)
আদ্র-আচ্ছা,,,তারমানে তুমি আমার উপর রেগে আছো।তাহলে,,,,,,ঠিক আছে,,,স্ট্রবেরি ফ্লেভারের চকলেট আইসক্রিম কিছুই আর আনবো না।তুমি তো রাগ করেছো তাই না??
সানি-সত্যিই??আপনি আনবেন??
আদ্র-তোমার তো এগুলা খুব পছন্দ। তাহলে কি করে না আনি বলো??
সানি-আচ্ছা।আমি রাগ করিনি।আপনি আনবেন তো??(খুশি হয়ে)
আদ্র-হুম।আসার সময় নিয়ে আসবো ওকে?
সানি-হুম
আদ্র-তাহলে এখন আসি। বাই ডল।নিজের খেয়াল রেখো।
সানি-বাই।
(আদ্র মুচকি হেসে উঠে চলে গেলো।সবাই আদ্রের এভাবে রাগ ভাঙানোর পদ্ধতি দেখে অবাক।কারন আগে কখনোই আদ্র কারোর রাগ এভাবে ভাঙায়নি।আজই প্রথম।)
+--------------+
(দুপুর ১ঃ৩০,,,,,,,,বাড়ির ছেলেরা সবাই বাড়িতে নেই এখন।আরিফা ও আদ্রের চাচিরা নিজের মতো কাজ করছে।এদিকে আয়ন্তি,রুসা,শারমায়া আর সানি ড্রয়িং রুমে বসে গল্প করছে।তখনই হঠাৎ আয়ন্তির ফোন বেজে উঠলো,,,ফোন হাতে নিয়ে আয়ন্তি মুচকি হাসে।উঠে দাড়িয়ে বলে...)
আয়ন্তি-,তোরা কথা বল।আমি একটু আসছি।
শারমায়া-হ্যা,,,হ্যা,,,যা।উড বি বলে কথা।যাও কথা বলো।
আয়ন্তি-ধ্যাত।
(বলেই আয়ন্তি চলে গেলো।)
সানি-উড বি!!!(অবাক হয়ে)
রুসা-হ্যা,,,আপুর বিয়ে। আর মাত্র ২০ দিন বাকি।
সানি-ওও,,,তাহলে তো চেতাইতে হয়??(বলেই দুষ্টু হাসি দিলো।সানির কথায় বাকি দুজনও সায় দিলো।,,,,
++++++
(সন্ধ্যা বেলায়,,,,সানি পুরো ড্রয়িংরুম জুড়ে দৌড়াচ্ছে, আর তার পিছু পিছু আয়ন্তিও দৌড়াচ্ছে। তখনই বাড়ির বেল বেজে উঠলো।রুসা গিয়ে দরজা খুলে দিতেই আদ্র হাতে গিটার নিয়ে ঘরে ঢুকে।ঢুকতেই সানির এমন বাচ্চামো দেখে আদ্র একটা তৃপ্তির হাসি হাসে।)
আদ্র-(যাক,,,মেয়েটা একদিনেই সবার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে।)(মনে মনে)
(আদ্র অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সানির দিকে।সানির মুখে উচ্ছ্বাসের হাসি দেখে আদ্রের মন জুরিয়ে যাচ্ছে।,,,,,এদিকে সানি দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ সোফার কার্নিসের সাথে পা লেগে ব্যাথা পায়।হঠাৎ ব্যথা অনুভব হওয়ার সানি "আহ" করে উঠে।,,,,সানির এটুকু শব্দেই আদ্র ঘোর থেকে বেড়িয়ে আসে।সানির এমন অবস্থা দেখে আদ্র হাতের গিটারটা সোফায় ফেলে তরিৎ গতিতে সানির কাছে দৌড়ে যায়।সানিকে ধরে সোফায় বসিয়ে সানির পায়ে হাত দিয়ে বলে...)
আদ্র-হোয়াট হ্যাপেন্ড ডল??কোথায় ব্যথা পেয়েছো বলো??,,,দেখেছো??কেন দৌড়াতে গেলে বলো??,,,দেখ এখন লেগে গেলো তো??
সানি-আমি ঠিক আছি
আদ্র-কি ঠিক আছো??ব্যথা পেয়ে বলছো ঠিক আছি।কেন দৌড়াতে গেলে বলো।একদম কথা শুনোনা তুমি।
সানি-আরে,,আমি ঠিক আছি তো??(হালকা,চেচিয়ে)
(আদ্র এবার পা ছেড়ে সানির মুখের দিকে তাকালো।গম্ভীর হয়ে বললো....)
আদ্র-বারন করেছিলাম না দুষ্টামি না করতে,,, আমার কথা অমান্য করা তাই না,,,,আর কখনো যদি আমার কথা না শুনো তাহলে দেখ কি করি তোমার।,,,এখন যাও,,, রুমে গিয়ে রেস্ট নাও।
সানি-এখন রুমে??(বিরক্ত হয়ে)
আদ্র-হ্যা,,,রুমে।
সানি-আমি একা একা রুমে যাবোনা।
আদ্র-দেখ......
(তখনই পেছন থেকে একজন স্টাফ বলে উঠলো....)
স্টাফ-স্যার,,,,ব্যাগ গুলো কোথায় রাখবো?
আদ্র-এখানে রাখো।
স্টাফ-ওকে,,,স্যার।
(বলেই স্টাফটি কতগুলো ব্যাগ সোফার উপর রাখতে লাগলো)
আদ্র-ডল,,,তুমি রুমে যাও,,, আমি আসছি।
সানি-কিন্তু আমি....
আদ্র-রুসা,শামু,,তোরা একটু ওর সাথে যা তো।আমি একটু পরেই আসছি।
শারমায়া-ঠিক আছে ভাইয়া।চল পিচ্চিবোনু।
(বলেই তারা সানিকে নিয়ে সানির রুমে চলে গেলো।এদিকে প্রায় ৩০ মিনিট হয়ে গেলো,কিন্তু আদ্র আসবে বলেও আসছে না।এতে চরম বিরক্ত লাগছে সানির।একেই জোর করে রুমে পাঠিয়ে দিয়েছে তার ওপর নিজেও লেট করে আসছে।,,,,,এসব ভাবতে ভাবতেই দরজার সামনে থেকে আদ্রের কন্ঠ শোনা গেলো।...)
আদ্র-উহুম উহুম
(রুসা আর শারমায়া এতক্ষণ সানির সাথে বকবক করছিলো।আদ্রের কন্ঠ শুনে তারাও থেমে গেলো।,,,,,)
রুসা-এসে গেছিস ভাইয়া,,,তোর হাতে ওগুলো কি??
আদ্র-আমি এসে গেছি মানে তোরা এখন বের হবি।আর এইখানে কি তা বলতে আমি বাদ্ধ নই।সো আউট।
রুসা-যাচ্ছি,,যাচ্ছি,,,বললেই তো পারতি যেতে হবে,,,এভাবে অপমান করার কি আছে।হুহ।চল শামু।
সানি-হুম চলো।
আদ্র-চলো মানে,,তুমি কোথায় যাচ্ছো,,,
সানি-কেন,,আপনিই তো বেরিয়ে যেতে বলেছেন।
আদ্র-উহ,,,ওদের বলেছি তোমাকে নয়।চুপচাপ খাটে গিয়ে বসো।
সানি-বসছি(ভেংচি কেটে)
(রুসা আর শারমায়া, চলে গেলো।,,,আদ্র ৩০ সেকেন্ড ওখানেই দারিয়ে ছিল।এরপর আবার দরজার সামনে গিয়ে বলে উঠলো....)
আদ্র-লুকিয়ে লুকিয়ে কারো কথা শুনা ব্যাড ম্যানার্স।
(বলেই ঠাস করে দরজাটা বন্ধ করে দিলো।এদিকে এতক্ষণ দরজার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সারা ও শারমায়া বেরিয়ে এসে বললো...)
রুসা-ধরেই ফেললো।
শারমায়া-হুম,,,এখন চল,,,,
রুসা-হুম,,,এখানে থেকেও কোনো লাভ নেই।
(এরপর ওরা দরজার সামনে থেকে চলে গেলো।,,,,,,,,এদিকে আদ্র দরজা বন্ধ করে এসে হাতে থাকা প্যাকেট গুলো সোফার উপর রেখে সানির পাশে এসে বসলো।সানি তার সেই জগৎবিতারনি হাসি দিয়ে বললো....)
সানি-কিছু বলবেন??
(কিন্তু আদ্রের দিক থেকে কোনো শব্দ এলোনা।সে তো তার প্রিয়তমার হাসি দেখতে ব্যাস্ত।সানি আবার বলে উঠলো....)
সানি-আমার মুখে কি কিছু আছে???এভাবে তাকিয়ে আছেন যে??
(আদ্র ঘোরের মধ্যেই বলে উঠলো...)
আদ্র-হুম,,,আছে তো।এই মুখে আছে একরাশ মুগ্ধতা,, আর মন জুরিয়ে দেওয়ার মতো মায়া।
সানি-কি??বুঝলাম না,,,,একটু বুঝিয়ে বলুন তো??
(আদ্র ঘোর থেকে বেরোতেই নিজের কথায় নিজেই অবাক হলো।,,নিজেকেই মনে মনে গালি দিতে লাগলো...)
আদ্র-উহ,,,আদ্র,,,কি বলছিস এসব।ও এখনো এসবের জন্য প্রস্তুত নয়।তোকে ওয়েট করতেই হবে তোর ডলের জন্য।(মনে মনে)
সানি-কি হলো কিছু বলছেন না কেন??
আদ্র-হ্যা,,??ওহ,হ্যা,বলচ্ বলছি তো কথা।কি বলছিলে জানি তুমি??
সানি-আমি আবার কি বললাম,,,যা বলার আপনিই তো বললেন।
আদ্র-আচ্ছা বাদ দাও ওসব।এখন বলোশরীর কেমন আছে??
সানি-ভালোই(রিলাক্স মুডে।)
আদ্র-ওকেয়।তুমি বসো,,,,,আমি আসছি।
(বলেই আদ্র উঠে সোফার ব্যাগগুলো এনে খাটের এক কোনে রাখলো।একটা প্যাকেট খুলে কতগুলো স্ট্রবেরি ফ্লেভারের চকলেট সানির দিকে এগিয়ে দিলো।সানি খুশিতে গদগদ করেই বলে উঠলো....)
সানি-ওয়াও,,,এত্ত চকলেট,,,,??
আদ্র-হুম,,,ওনলি ফর ইউ।সরি ডল,,, আইসক্রিম আনিনি।আসলে তুমি অসুস্থতো,,তাই।তুমি সুস্থ হয়ে নাও তারপর আমি তোমার জন্য আইসক্রিমও নিয়ে আসবো।
সানি-ওকেয়।আমি এতেই খুশি,,,এখন আর আইসক্রিম লাগবেই নাহ।হিহি।আপনি কত্ত কত্ত কত্ত ভালো,,,,
(বলেই সানি খুশির চোটে আদ্রকে জরিয়ে ধরে আদ্রের ডান গালে একটা কিস করে দিলো।আদ্র যেন এতেই জমে গেলো।,,,,,,,সানি নিজের মতোই চকলেট খুলতে যাবে তখনই আদ্র সানির হাত ধরে বলে উঠলো...)
আদ্র-এই এখন নাহ।
সানি-এখন না মানে??
আদ্র-আগে ডিনার,,, তারপর যত ইচ্ছে চকলেট খেও।এখন চলো ডিনার করে নেবে।
সানি-ওনলি একটা খাই??(আবদারের সুরে)
আদ্র-নো,,,ডিনার করার পরে।চলো এখন।
(বলেই আদ্র সানির হাত ধরে নিয়ে গেলো নিচে ডিনার করতে।,,,,,এরমধ্যেই বাড়ির সবাই ফিরে এলো।তাই সবাই মিলে ডিনার করে নিলো।,,,,,ডিনার শেষে আদ্র আবার সানিকে নিয়ে রুমে এসে বললো....)
আদ্র-ডল,,,,ঐ প্যাকেট গুলোতে কিছু ড্রেস আছে তোমার।দেখো,,, পছন্দ হয় কি না।ঠিক আছে??
সানি-এখানে তো অনেকগুলা প্যাকেট।
আদ্র-হুম,,,সবগুলোর মধ্যেই আছে।আর শোনো কাল রাতে বেরোনোর সময় ঐখানে একটা পিংক কালার ড্রেস আছে৷ ঐটা পরবে ওকেয়।মনে থাকে যেন।
সানি-আচ্ছা।
আদ্র-তো এখন যত খুশি চকলেট খাও।আর হ্যা,,রাত হয়েছে,,রুমের বাইরে যাওয়ার দরকার নেই।খাওয়া হয়ে গেলে ঘুমিয়ে পরো।বেশি রাত একদম করবে না।ওকেয়।।
সানি-ওকেয়।।
আদ্র-আচ্ছা বাই।
(বলেই দরজা ওবদি গিয়ে আদ্র আবার ফিরে এলো সানির সামনে।,,)
সানি-কিছু বলবেন?
(আদ্র কিছু না বলেই সানিকে নিজের সাথে জরিয়ে নিলো।কিছুক্ষণ ওভাবেই ধরে দাড়িয়ে ছিলো।তারপর আলতো করে সানির চুলের উপর একটা চুমু দিয়ে ানিকে ছেড়ে দাড়ালো।,,,)
আদ্র-ঠিক এখন যেমন আদর করছি,,,কথা না শুনলে এর থেকেও তিনগুন বেশি শাস্তি দেবো।,,,কথাটা মনে রেখো।গুড নাইট।তারাতাড়ি ঘুমিয়ে পরো।
(বলেই আদ্র চলে গেলো।,,,আর সানি তার মনের আনন্দে চকলেট খেতে থাকলো।
++++++
(পরদিন রোজকারের মতো আদ্র ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে গেলো।,,,,আর বাকি সবাইও নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পরলো।সানি তো সারাদিন রুসা আর শারমায়ার সাথেই দুষ্টামি করে কাটিয়ে দেয়।সন্ধ্যায় সারমায়া আর রুসা সানিকে আদ্রের দেওয়া পিংক ড্রেসটা পরিয়ে হালকা করে সাজিয়ে দেয়।সানিও খুশি মনে শারমায়া আর রুসার সাথে রেডি হয়ে নেয়।কিছুক্ষণ পরেই সায়নাম আর রিসব সহ তারা পাচজন বেড়িয়ে পরে আদ্রের শো এর উদ্দেশ্যে।,,,,,,প্রায় ৩০ মিনিটের পথ শেষে সানিদের গাড়ি এসে থামে একটা বিশাল অডিটোরিয়ামের সামনে।সানি শারমায়ার হাত শক্ত করে ধরে আছে।,,,তা দেখে শারমায়া বললো...)
শারমায়া-বোনু,,ভয় পাচ্ছিস??
(সানি হ্যা বোধক মাথা নাড়ে।সারা মুচকি হেসে বললো..)
রুসা-আরে বোকা ভয় পাচ্ছিস কেন।কিছু হবে না।
সানি-উনি কোথায়??
(শারমায়া দুষ্টু হেসে বলে....)
শারমায়া-উনিটা কে??
সানি-কে আবার,,,ঐ পচা আদ্রিয়ান জুনায়ে...
(এটুকু বলতেই রিসব সানির মুখে হাত চেপে ধরে বললো...)
রিসব-আরে আস্তে,,, কেউ শুনলে রক্ষা থাকবে না।
সানি-কেন??কি হবে কেউ শুন...
(এটুকু বলতেই পাশ থেকে একটা ছেলে সানির দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো....)
------এই মেয়ে,,,,তুমি আদ্রিয়ান স্যারকে,,,,পচা বলছো??জানো উনি কত ভালো সিঙ্গার??কোন সাহসে তুমি উনাকে পচা বললে বলো??
(সানি ছেলেটার কথার আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারলো না।তাই বলে উঠলো...)
সানি-তো কি হয়েছে উনাকে পচা বললে??আমি তো উনাকে এই নামেই ডাকি।
-----কিহ,, তোমার সাহসতো কম না।দা গ্রেট আদ্রিয়ান কে তুমি পচা বলো....দারাও দেখাচ্ছি।।এই কে কোথায় আছো??দেখে যাও এই মেয়ে আদ্রিয়ানের শোতে এসে আদ্রিয়ানকেই পচা বলছে।
(ছেলেটির কথায় অনেকেই সানিকে ঘিরে ধরলো।,,,,সানি পরলো মহা মুসকিলে।ও বুঝতেই পারছে না,, এরা এমন করছে কেন।অবস্থা বেগাতিক দেখে সায়মান আদ্রিয়ানকে কল দিলো।.....)
সায়মান-হ্যালো??
আদ্র-হ্যা বল।পৌছেছিস তোরা??আমার ডল এসেছে?
সায়মান-রাখ তোর ওসব কথা।এদিকে কেলেঙ্কারি হয়ে গেছে।
আদ্র-মানে??কি হয়েছে খুলে বল।
সায়মান-আরে,,, সানি সবার সামনে তোর নিকনেম,, আই মিন পচা বলে ফেলেছে।তাই তোর ফ্যানরা ওকে ঘিরে ধরেছে।আমরা সামলাতে পারছি না।কি করবো বল??
(সায়মানের কথা শুনে আদ্র হাসবে না কাদবে তাই ভেবে পাচ্ছে না।,,কিছুক্ষন চুপ করে থেকে সায়মানকে বললো....)
আদ্র-আমি আসছি।
(বলেই কল কেটে দিলো।,,,,এদিকে সানিকে লোকজনরা নানা রকম কথা বলতে লাগলো।সানির এবার ভয় করতে শুরু করলো।কিছুক্ষণ পরে এই ভীরের মাঝে আদ্র মুখে মাস্ক,চোখে ব্ল্যাক গ্লাস আর মাথায় ক্যাপ দিয়ে আসলো।যাতে কেউ তাকে চিনতে না পারে।আদ্রকে অন্যকেউ চিনতে না পারলেও সায়মান,রিসব, শারমায়া,রুসা আর সানি ঠিকই চিনতে পারলো।আদ্রের এই রুপ তাদের কাছে নতুন নয়।,,,সানির পাশে গিয়ে আদ্র জোরে বললো...)
আদ্র-এক্সকিউজ মি গায়েজ,,,,প্লিজ কিপ কোয়াইট। প্লিজ লিসেন টু মি।
(আদ্রের কথা শুনে ভীরের মধ্যে থেকে একটা মেয়ে বলে উঠলো...)
-----এই কে আপনি,,,এই মেয়ের হয়ে সাফাই দিচ্ছেন কেন।আপনি জানেন এই মেয়ে দা গ্রেট আদ্রিয়ান কে পচা বলেছে।
(সানি আদ্রের হাত শক্ত করে ধরে বললো...)
সানি-এইতো আপনি,,এই ওরা আমার সাথে এমন করছে কেন??আমি কি এমন বলেছি বলুন??আমি তো আপনাকে এমনিই এই সব বলি।কই আপনিতো তখন কিছু বলেন না,,তাহলে ওরা এমন করছে কেন।
আদ্র-ডল,,তুমি ভয় পেওনা,,,আমি দেখছি দাড়াও।
-----আরে,,কি দেখবেন আপনি,,,এই মেয়েকে ছারবোনা আমরা,,,,ওর সাহস দেখেছো তোমরা।
(আদ্র আর কোনো উপায় না পেয়ে সানির হাত শক্ত করে ধরে আশেপাশে থাকা গার্ডস দের চোখে ইশারা করতেই,,গার্ডস গুলো লোকজনকে সরাতে শুরু করলো।,,,আদ্রের থেকে কিছুটা পিছনে যেতেই আদ্র নিজের গ্লাস আর মাস্কটা খুলে ফেললো।সবাই তাকে দেখে হা হয়ে রইলো।এটাই ভাবছে সবাই,,,যে আদ্রিয়ান তাদের মাঝে এসে এতক্ষণ ধরে আছে।,,আদ্র বলে উঠলো....)
আদ্র-ও আমাকে যেই নামেই ডাকুকনা কেন কেউ ওকে কিচ্ছু বলবেন না প্লিজ।আমি ওকে এই অধিকার দিয়েছি।,,,,,,,,,
(আদ্র এবার সানির দিকে তাকিয়ে বললো...)
আদ্র-চলো ডল।
(বলেই আদ্র সানির হাত ধরে আবার স্টেজের কাছে এগোতে লাগলো হাজার হাজার মানুষের ভীর ঠেলে।আর তার গার্ডসরা দুপাশে লোকজনকে পিছে নামিয়ে মাঝখানে রাস্তা করে দিলো যাতে আদ্র সহজেই যেতে পারে।,,,,,)