আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৮

🟢

(সানি ইরুনির পা ধরা অবস্থায় বললো...)

সানি-স্ সরি আপু।আর কখনো করবো না এমন।

(এদিকে সানিকে নিজের পায়ে ফেলতে পেরে ইরুনি বিশ্ব জয়ের হাসি দিচ্ছে সবার আড়ালে।তবে এটা রুসার চোখে ঠিকই ধরা পরলো।,,,,,সানি আর কিছু না বলে দৌড়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে নিজের রুমে চলে গেলো।,,,,,,)

ইরুনি-আদ্র,,, তুমি একদম ঠিক করেছো।এই ধরনের মেয়েকে আমি হারে হারে চিনি,,এরা এমনই।

(আদ্র কি বলবে বুঝতে পারছে না নিজের উপর নিজেরই রাগ হচ্ছে।,,,কোনো উপায় না পেয়ে নিজের চুল খামছে ধরে গিয়ে সোফায় মাথা ঝুকে বসে রইলো।,,,,)

আয়ন্তি-এটা তুই ঠিক করিস নি ভাইয়া।

(বলেই আয়ন্তি চলে গেলো।একে একে সবাই ড্রয়িংরুম ত্যাগ করলো।কিন্তু আদ্র সেই আগের মতোই বসে আছে।)

আদ্র-(আমি কিভাবে পারলাম আমার ডলের গায়ে হাত তুলতে,,কিভাবে পারলাম ওর সাথে এমন বিহেভ করতে।কেন করলাম আমি এমন।কেন কেন কেন৷...) (মনে মনে)

(তখনই রান্নারুম থেকে আয়শা চেচিয়ে বললো...)

আয়শা-শামু,,,,,,শামু।সানি মায়ের খাবারটা নিয়ে ওর রুমে যাতো,,মেয়েটার বড্ড খিদে পেয়েছিলো।বেচারি ঠিক মতো খেতেও পারেনি।গিয়ে ওকে দিয়ে আয় তো।

(শারমায়া এলো না।হয়তো ও শুনতেই পায়নি।কিন্তু আদ্র এসব ঠিকই শুনেছে।)

আদ্র-(খায়নি মানে??আমার ডল না খেয়ে আছে,,,,,ওর তো খিদে পেয়েছে।আর আমি ওকে খেতেই দিলাম না,,,?না না,,,আমাকে যেতে হবে।আমার ডল যে না খেয়ে আছে।)(মনে মনে)

(এসব ভেবেই উঠে দাড়ালো আদ্র।রান্নারুমে গিয়ে আয়শার থেকে সানির খাবারের প্লেটটা হাতে নিয়ে সানির রুমের দিকে রওয়ানা দিলো।রুমে গিয়ে দেখলো সানি নেই।বারান্দায় চেক করলো কিন্তু ওখানেও সানি নেই।ওয়াশরুমের সামনে যেতেই আদ্র খেয়াল করলো ভেতর থেকে ঝর্ণার আওয়াজ আসছে।এটা শুনে আদ্র সত্থির নিঃশ্বাস ফেললো।,,,)

আদ্র-(না না,,সানির সাথে রুড বিহেব করতেই হবে।ওকে বুঝতে হবে,,ও যা করেছে তা ভুল।আর আমি ওকে কখনোই ভুল শিক্ষায় এগোতে দেবোনা।)(মনে মনে)

আদ্র-সানি,,,সানি,,, ভেতরে কি করছো??তারাতাড়ি বের হও।খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে।(ধমকের সুরে)

(সানির দিক থেকে কোনো শব্দই এলোনা।আদ্র এবার খাবারের প্লেটটা টেবিলে রেখে ওয়াশরুমের দরজায় টোকা দেয়।...)

আদ্র-সানি,,,এসব ঢং বন্ধ করো।তুমি ভুল করেছো।কেন তুমি ওর উপর এভাবে হামলে পরলে?তুমি না ছোট??

(কিছুক্ষণ পরে সানির ভাঙা ভাঙা কন্ঠ ভেসে এলো...)

সানি-আ্ আমি্ আমি্ খাব্ খাবো না্।

আদ্র-যাস্ট সেট আপ। বন্ধ করতে বলেছি না এসব??কি করো তুমি সারাদিন?সারাদিন এদিক থেকে এদিক,, এদিক থেকে এদিক করে বেড়াও।পড়ালেখা কোথায় তোমার??সারাদিনে একটুও পরোনা।শিক্ষার অভাবে তুমি দিন কে দিন হিংস্র হয়ে যাচ্ছো।,,,যাই হোক,,,বেরিয়ে আসো বলছি।

সানি-আচ্ আচ্ছা,,আমি আসছি,,,আপনি যান।

আদ্র-আা...

(কিছু না বলতেই আদ্রের ফোন বেজে উঠলো।আদ্র দেখলো বিহান কল করেছে।)

আদ্র -সানি,,,বের হয়ে খাবারটা খেয়ে নাও।

(বলেই রুম ত্যাগ করলো।,,,,,)

(প্রায় পাচ মিনিট পরে আরিফা সানির রুমে এলো।তখনো সানি ওয়াশ রুমেই ছিলো।আরিফা গিয়ে ওয়াশরুমের দরজায় টোকা দিতেই সানি বলে উঠলো...)

সানি-আমি আসছি বললাম তো।কেন এমন করছেন?

আরিফা-মামনি??

সানি-আন্টি??

আরিফা-মামনি,,একটু দরজাটা খুল না,,,কি হয়েছে তোর??মামনি,,খোল না একটু

সানি-আন্টি আমি...

আরিফা-শুধু একটি বার মামনি।

(সানি আর কিছু না বলে শাওয়ার বন্ধ করে চোখের পানি মুছে উঠে গিয়ে দরজাটা একটু খুললো....)

আরিফা-এ কি রে মামনি,,ওমন ভিজতে গেলি কেন??আদ্রের উপর রাগ হচ্ছে?

সানি-নাহ,,কিছু বলবে তুমি??

আরিফা-খেতে হবে তো নাকি??তারাতাড়ি বেড়িয়ে আয়।আমি যাচ্ছি।

(আরিফা চলে গেলো।সানি আবার দরজা বন্ধ করে দিলো।)

রাত ৮ টা;;;;

(আদ্র সানির রুমে প্রবেশ করলো।সানিকে ড্রয়িংরুমে দেখতে পাচ্ছে না তাই এখানে এলো।)

আদ্র-ডল????ডল।।কোথায় তুমি??এখানে আছো কি??

(কোনো শব্দ না পেয়ে আদ্র ভাবলো)

আদ্র-এই মেয়েটাও না,।নিশ্চয় শামুদের সাথে আড্ডা দিতে ব্যাস্ত।

(শারমায়ার সাথে আছে ভেবে আদ্র রুম থেকে বেরুতে যাবে তখনই সেখানে শারমায়া এসে হাজির।)

আদ্র-কিরে তুই এখানে??

শারমায়া-পিচ্চিকে ডাকতে এসেছি।তখন থেকে একবারও দেখা করেনি।কি করছে ও??দেখি সরতো।

আদ্র-তার মানে কি,,,ডল তোদের সাথে নেই??

শারমায়া-না,,ও আমাদের সাথে কেন থাকবে।থাকলে কি ওকে খুজতে আসতাম নাকি আমি?

আদ্র-তাহলে কোথায় গেলো আমার ডল?

শারমায়া-কোথায় গেলো মানে??ও তো রুমেই থাকবে।

আদ্র-নাহ,,ও রুমে নেই।

শারমায়া-ওয়াট!!পিচ্চি আবার অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে.....

আদ্র-না,,,এটা হতে পারে না।আমার ডল আমাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারেনা।কিছুতেই নাহ।(অশান্ত হয়ে বললো)

শারমায়া-কেন নয় ভাইয়া?এটাইতো স্বাভাবিক তাই নয় কি???তুই ওর সাথে যা করেছিস,,তাতে তো ওর কষ্ট পাওয়াটা ভুল কিছু নয়।

(এদের কথা শুনে পাশের রুম থেকে আরিফা ছুটে এলো..)

আরিফা-কিরে,,কি হয়েছে।তোরা এখানে কেন?আর মামনি কোথায়??

শারমায়া-চাচি,,পিচ্চিকে পাওয়া যাচ্ছে না।

আরিফা-কিহ??মামনি,,,,কোথায় গেছে আমার মামনি??

আদ্র-সানি তখন ওভাবে ইরুনিকে মারতে গেছিলো।তাই ওর ওটা প্রাপ্য ছিলো।

শারমায়া-তোর মনে হয় পিচ্চি বিনা কারনে কারোর সাথে এমন ব্যবহার করে??

আদ্র-মানে?

শারমায়া-ইরুনি কি করেছে জানিস না তুই?ওর কথা শুনেই তো সানি তখন...

আরিফা-আমার মামনিকে এনে দে তোরা।ও কোথায় আছে।কি করছে মেয়েটা।

আদ্র-নাহ,,আমার ডল,,,,আমার ডল।আমাকে ছেড়ে যেতে পারে না।আমি তখন না যেনে শুনে ওর গায়ে হাত তুলে ফেললাম।ছিহ,,,কি করলাম আমি?কি করলাম।এখন কি হবে,,, কিকরে খুজবো আমার সম্মোহীনিকে।

(তখনই শারমায়ার চোখ গেলো টেবিলেথাকা একটা ভাজ করা কাগজের উপর।সে গিয়ে কাগজটা খুললো।তার সাথে আরিফা আর আদ্রও গেলো...)

শারমায়া-এটা কিসের কাগজ??

আরিফা-খুলেই দেখ না??

(শারমায়া কাগজটা খুলতেই তার হাতে পরলো ২০০০০ টাকা।,,,এটা দেখে সবাই অবাক হলো।তারপর শারমায়া চিঠিটি পড়া শুরু করলো..)

স্যার,,,,

(এটুকু পড়েই শারমায়া আদ্রের দিকে তাকালো।তা দেখে আদ্র ছো মেরে শারমায়ার হাত থেকে কেড়ে নিলো।সে মনে মনে পরতে লাগলো...)

স্যার,,,

ক্ষমা করবেন।আপনাদের কোনো ঋণ আমি শোধ করতে পারিনি।তবে ওখানে কিছু টাকা রেখে গেলাম।আমার এ কদিনের বেতন, খাওয়া খরচ,,পড়া খরচ।আশা করি এতে হয়ে যাবে।তাই দিয়ে দিলাম।সরি।আর কখনো দেখা হতে না পাড়ে যেন।আর হ্যা,,আমি জানি আমার মতো মেয়েকে আপনি ফিরিয়ে আনতে যাবেন না।তাই আমি এটা আশাও করিনা।sorry for west your time.ভালো থাকবেন।

(এটা পরার পরে আদ্র যেন কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।,,,কি করবে বুঝতে পারছে না ও।)

আদ্র-আমা্।আমার ডল,,আমাকে ছেড়ে চলে গেছে??এটা হতে পারে নাহ,, না না না।আমি যাবো,, আমার ডলকে খুজে বের করতেই হবে।

(আদ্র দৌড়ে বাইরে চলে গেলো।গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিবে তখনই কোথা থেকে রিসব দৌড়ে এসে বললো..)

রিসব-ভাই,,যা করবি ঠান্ডা মাথায় করবি।এভাবে ভেঙে পরলে তুই কিন্তু পিচ্চিকে আর পাবিনা।

(রিসবের কথায় আদ্র একটু শান্ত হয়ে জোড়ে একটা নিঃশ্বাস ফেলে। তারপর গাড়ি স্টার্ট দেয়।)

(কিছুক্ষণ পরেই আদ্র পৌছে যায় সানির চাচা আরিফদের বাড়ি।তারাহুরো করে গিয়ে দরজার বেল বাজাতেই অনুজ এসে দরজা খুলে দেয়।)

অনুজ-আরে ভাইয়া আপনি এখানে??

আদ্র-হ্যা।আচ্ছা তোমাদের এখানে সানি এসেছে কি??

অনুজ-সানি এসেছে মানে?? ও তো আপনার সাথে থাকার কথা।

(আদ্র অনুজকে সব কিছু খুলে বলে।সব শুনে আদ্র বলে...)

অনুজ-ভাইয়া,আস্তে কথা বলুন।আম্মু শুনতে পেলে খুব খারাপ হয়ে যাবে।হ্যা,সানিকে ঐ টাকা গুলো আমিই আজকে দিয়েছিলাম স্কুলে।

আদ্র-তুমি দিয়েছো??

অনুজ-হ্যা,,কারন ওগুলো সানিরই টাকা।ওর রুমেই ছিলো।টিউশন পরিয়ে জমিয়েছিলো।কিন্তু পরিস্থিতিটা এমন হয়ে গেলো যে,, ও আর এই টাকা গুলোর কথা মাথায়ও রাখেনি।

আদ্র-অনুজ প্লিজ।আমাকে বলো সানি কোথায় আছে??আমার ওকে খুব দরকার।

অনুজ-আমি হয়তো জানি সানি কোথায় আছে।

(অনুজ একটা জায়গার নাম বললো।)

আদ্র-থ্যাংক ইউ সো মাচ।

(বলেই পেছনে ফিরে চলে যেতে নিলে অনুজ পেছন থেকে বলে উঠে...)

অনুজ-ভাইয়া,,ও যদি ওখানে থাকে।তাহলে ওকে কিছুক্ষণ একা থাকতে দিয়েন প্লিজ।ওর মন হালকা হওয়া উচিৎ।

(আদ্র মাথা ঝাকিয়ে আবার রওয়ানা দিলো অনুজের দেওয়া ঠিকানায়।,,,,,,,,,কিছুক্ষণ পরেই আদ্র পৌছে গেলো কেন্দ্রীয় কবরস্থানে। রাস্তায় গাড়ি ব্রেক করতেই পাশে থাকা কবরের মধ্যে খানে চোখে পরলো এক হুর।সে যে আর কেউ নয়,,তার সেই ডল।ধপধপে সাদা রঙের পাতলা থ্রি পিসে সানিকে পরীর চেয়ে কোনো অংশে কম লাগছে না।,,,আদ্রের প্রানে যেন পানি ফিরে এলো।গাড়ি থেকে নামতে গিয়েও নামলো না অনুজের শেষ কথাটা মনে করে।গাড়ীর ভেতরে বসেই তার ডলকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো।)

(এদিকে সানি ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে একটা কবরের দিকে।,,,সেখানে গিয়েই থেমে যায় সে।দুই সেকেন্ড পর হঠাৎ ধপ করে বসে পরে সানি।,,,,,,,,,,পুরো জায়গা নিরিবিলি।কোনো জনমানব নেই।রাত হওয়ার কারনে সানি দুরে থাকা আদ্রের গাড়িটা খেয়ালই করলো না।,,,,,,,,

(হঠাৎ সানি এক বিকট শব্দে আআআআআ করে চিৎকার দিয়ে উঠে।যেন নিজের সর্বশক্তি ব্যয় করছে সে।এরপর জোড়ে জোড়ে কান্না করতে করতে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো...।তারপর সে ঐ কবরটার দিকে তাকিয়ে উচ্চস্বরে বলে উঠলো.....)

সানি-আমি পারিনি,,,,পারিনি মা,,।তোমার অপমানের জবাব দিতে আমি পারলাম না।তবুও আমকে ঐ মেয়ের পায়ে পরতে হলো।মা?আমার সাথেই কেন এমন হয়?কেন আমাকে এইখানে একা রেখে চলে গেলে??কেন,,,,?আমি যে আর পারছি না।এই জীবনযুদ্ধে হেরে যাচ্ছি আমি।আমার তোমাদের দরকার,,,।খুব দরকার মা।তুমিও আমায় একা করে দিলে।আর বাবাও।কেন ভাবলে না তোমরা আমার কথা,,কেন??আমার সুখ কি সহ্য হয় না তোমাদের??কি হলো,,,, আমার কষ্ট দেখে হাসি পাচ্ছে তাই না?ঠিক ঐ মাটির গর্তে লুকিয়ে হাসছো।আমি তোমাদের অপমানের জবাব দিতে পারিনি,,,আমার এই হাত দিয়ে ঐ মেয়ের পাছুতে হলো।এটাই কি আমার নিয়তি ছিলো.??সুখ জিনিসটা কি আমার জন্য তৈরিই হয়নি?,,,

(এসব বলতে বলতে, কাদতে কাদতে ঐ কবরের উপর মাথা এলিয়ে দিলো সানি।)

(এদিকে আদ্রের নিজের উপরই রাগ হচ্ছে।মনে মনে বলছে....)

আদ্র-আমার ডলকে আমি এতটা কষ্ট দিয়ে ফেললাম যে,,নিজের মৃত্যু কামনা করছে?কি করে পারলাম আমি??এতটা স্বার্থপর কিভাবে হলাম আমি।কিভাবে??

(এসব ভাবতে ভাবতে গাড়ির সীটে মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলো আদ্র।হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠলো।রিসিভ করে ইয়ারফোনে কথা বলতে লাগলো আগের ভঙ্গিতে।)

রিসব-হ্যালো,,,ভাই।পিচ্চিকে পেয়েছিস??,বল না,,বাড়ির সবাই টেনশন করছে।

আদ্র-হুম,,পেয়েছি।আর কখনো হারাতে দেবো না আমি আমার ডলকে।

(তারপর আদ্র সব কিছু খুলে বললো রিসব কে।)

রিসব-তুই এখন কোথায়?

আদ্র-গাড়িতে।

রিসব-পিচ্চি কোথায়?

আদ্র-ও বাইরে।

রিসব-বাইরে মানে??ও ভিজছে নাকি??

আদ্র-ভিজছে মানে??

রিসব-আরে ইয়ার,,,,বাইরে তাকা ভাই।

(রিসবের কথায় আদ্র চোখ খুলে বাইরে তাকালো।একি,,,বৃষ্টি এলো কোথা থেকে।আদ্র বলতেই পারবে না যে বাইরে এতক্ষণ ধরে বৃষ্টি হচ্ছে।সে তারাহুরো করে রিসবের কল কেটে গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে গিয়ে সানির কাছে পৌছালো।সানি সেই আগের মতো কবরের উপর চোখ বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।আদ্র গিয়ে সানিকে অস্থির হয়ে ডাকলো।)

আদ্র-ডল,,এই ডল,,চোখ খোলো প্লিজ??কি হলো তোমার???

(তখনই সানি একটু নড়ে চড়ে উঠলো।তা দেখে আদ্র একটু শান্ত হলো...)

আদ্র-যাক বাবা,,,অজ্ঞান হয়নি।,,ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরেছে।

(আদ্র সানিকে পাজা কোলে তুলে নেয়।এরপর সানিকে নিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসে।,,,সানি তার কোলেই,,,এই ভাবেই আদ্র নিজে আর সানিকে জড়িয়ে সীটবেল্ট বেধে নেয়।,,,এতক্ষণ সানিকে খুব একটা ভালো করে দেখা যাচ্ছিলো না।এখন গাড়ির ভেতর লাইটের আলোয় স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে।আদ্র খেয়াল করলো,,, ভিজে যাওয়ার ফলে সানির পরনে সাদা পাতলা জামাটা ভেদ করে শরীরের কিছু অংশ ভাসমান হয়ে উঠেছে।,,,সানিকে এমন আবেদন ময়ী রুপে দেখে আদ্র একটা শুকনো ঢোক গিলে।সানিকে নিখুদ ভাবে পরখ করে দেখতেই আদ্রের চোখ যায় সানির অধরের দিকে।বিন্দু বিন্দু পানি জমে থাকা অধরজুগোল আদ্রকে অন্য কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।,,,,আদ্র একহাত সানির গলায় গলিয়ে দিলো।সানিকে নিজের দিকে আরেকটু টেনে সানির অধরে নিজের অধরজুগল মিলিয়ে দিলো।ডুব দিলো এক অজানা সুখের মাঝে।,,,,,,,প্রায় পাচ মিনিট পর আদ্র সানিকে ছেড়ে দিয়ে মনে মনে বললো....)

আদ্র-এই রুপে কেন তুমি দেখা দিলে সম্মোহীনি???সত্যিই তুমি আমাকে সম্মোহন করছো।কি করে আমি নিজেকে সামলাবো বলো??আমার যে আর সহ্য হচ্ছে না।নিজেকে তোমার সাথে মিশিয়ে নিতে ইচ্ছে করছে যে।কি করবো আমি???

(এসব ভেবে আদ্র একটা মুচকি হাসি দিলো।,,,তারপর সানিকে কোলে নিয়েই গাড়ি চালানো শুরু করলো।)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৮