(ড্রয়িং রুমে আসতেই দেখলো রুসা সিরি বেয়ে নিচে নামছে।,,,সানির কাছে এসে বললো..)
রুসা-ওকি পিচ্ছি।তুই উঠেছিস কেন??জ্বর গায়ে তুই স্কুলে যাচ্ছিস??
সানি-আপু,,স্কুলে যাওয়াটা দরকার।আর আমি এখন ভালো আছি।
রুসা-তুই দাড়িয়ে আছিস কেন??বস।
(রুসার কথায় সানি সোফায় বসলো।এমনিতেও দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছিলো।এরই মধ্যে কথা বলতে বলতে আদ্র আর বিহান বেরিয়ে এলো।সানির দিকে চোখ পরতেই আদ্র রেগে গেলো।,,)
বিহান-এ কে রে আদ্র?
আদ্র-বিহান।তুই যা,, আমি আসছি।
বিহান-সে কিরে তুই না বললি একসাথে যাবি?
আদ্র-কথা বারাস না।এখন যা।(রাগি কন্ঠে)
(বিহান আর কিছুই বললো না।চলে গেলো ওখান থেকে।আদ্র তেরে গিয়ে সানির থুতনি চেপে ধরলো।হঠাৎ এমন হওয়ায় সানি ঘাবড়ে যায়।নিজেকে ছাড়ানোর জন্য মোচড়ামুচড়ি করতে থাকে।কিন্তু আদ্রের শক্তির সাথে পেরে উঠছে না সে।)
আদ্র-কেন কালকে ওভাবে ভেজা শরীরে বাইরে গিয়েছিলে???বলো কেন??মাথায় এমন নিচু চিন্তা কিভাবে ঢুকলো??আর এই বুদ্ধিতো পড়ালেখার কাজে ব্যবহার করতে দেখিনা??তুমি তো পরোই না। ডাফার গার্ল একটা।ইলিটারেট।পড়ালেখার কিছুই পারে না,মাথায় আজে বাজে চিন্তা নিয়ে ঘুরো??কি হলো বলো???
আরিফা-আদ্র!!কি করছিস তুই??ও ব্যথ পাচ্ছে।ছেড়ে দে ওকে।
(আরিফা এসে সানিকে আদ্রের হাত থেকে ছাড়ালো।সানির নিঃশ্বাস জোড়ে জোড়ে নিস্রিত হচ্ছে।বুক কাপছে আদ্রের এহেন কাজে।,,,,আরিফা সানিকে পানি দিলে ঢকঢক করে গিলে ফেলে সে।,,,,,,আদ্র নিজের চুল খামছে ধরে সামনের সোফায় বসে আছে।রাগের মাথায় কি যে করে ফেলেছে।,,,,,,,পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই আরিফা সানিকে জিজ্ঞাসা করলো...)
আরিফা-মামনি,,,,কাল তুই ওভাবেকেন বেরিয়েছিলি।
সানি-কিভাবে??
আরিফা-তোর ঐ ভেজা কাপর নিয়ে বেরোনো উচিৎ হয়নি মামনি।
সানি-আমি তো ভেজা কাপড় নিয়ে বের হইনি?
আরিফা-মানে??
সানি-হ্যা,,,তখন তো জামা শুকনোই ছিলো
(সানির কথা শুনে আদ্র এক ঝটকায় মাথা তুলে তাকায়।)
আরিফা-তুই না তখন শাওয়ার নিয়েছিলি??
সানি-হ্যা,,,
আরিফা-তাহলে তো জামা ভেজা থাকার কথা
সানি-আমি জানিনা,,,জামা তো শুকনোই ছিলো।
আরিফা-তুই সবটা খুলে বলতো।আমি বুঝতে পারছি না।
সানি-দুপুর বেলা রুমে যাওয়ার পর শাওয়ার নিয়েছিলাম।তুমি যখন ডাকতে গেলে তখন আমি ঐ ওয়াশরুমেই ঘুমিয়ে পরেছিলাম।এরপর ঘুম থেকে উঠে দেখি জামা শুকনোই।আর তারপরই আমি....
আদ্র-কতক্ষন ঘুমিয়ে ছিলে তুমি?
(আদ্রের কথা শুনে ভয় আর অভিমান মিশ্রিত চোখে আদ্রের দিকে তাকায় সানি।)
আদ্র-কি হলো বলো...
আরিফা-মামনি,,,বল??
সানি-আমি ঠিক জানি না আন্টি।তবে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সন্ধ্যা হয়ে গেছিলো।
আরিফা-তার মানে জামা তোর গায়ে থাকতেই শুকিয়েছিলো।এই জন্যই বলি,, এত জ্বর কেমনে বাধালি।
(সানির কথা শুনে আদ্রের এবার নিজের উপর রাগ হতে লাগলো..)
আদ্র-(আমার ডলকে আমি শুধু শুধু কষ্ট দিলাম??ছিহ,,,এতটা নির্দয় কিকরে হলি তুই আদ্র?সবটা না জেনে তুই ডলকে এভাবে কষ্ট দিলি??আমার ডলের তো কোনো দোষ ছিলো না।তবুও আমি কিকরে ওকে আঘাত করলাম?)(মনে মনে)
সানি-আন্টি,,,আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। এখন আমার যাওয়া উচিৎ।
আদ্র-তুমি এখন কোথাও যাবে না এই শরীরে।
(সানি আদ্রের কথাকে পাত্তা না দিয়ে রুসার দিকে তাকিয়ে বললো...)
সানি-রুসা আপি,,,যাবে?
রুসা-তুইতো আদ্র ভাইয়ার সাথে যাস।
সানি-না,,,কেন?তুমি আমাকে নিয়ে যেতে সমস্যা আছে??তাহলে বলো?
রুসা-না,না,সমস্যা কেন হবে।আচ্ছা,,তুই আমার সাথেই যাবি।
সায়মান-ভাই,,তুই কলেজ যাবি না??
আদ্র-যাবো।ও যখন তোদের সাথে যাবে বলছে তখন যা।আমি একটু পরেই আসছি।
সায়মান-ওকেয়।
(রুসা,সানি,সায়মান আর রিসব বেরিয়ে পরলো।কিছুক্ষণ পর আদ্রও বেরোলো।,,,)
*****
(২য় ক্লাস চলছে সানির।গনিত ক্লাস এটি।এতক্ষণ ভালো লাগলেও এখন কেমন জানি আবার জ্বর জ্বর ভাব লাগছে।মাথাটাও কেমন জানি করছে।,,,,পাশেই বসে আছে নিডো।সানিকে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখে বলে উঠলো....)
নিডো-এই জানু,,,কি হলো তোর??শরীর খারাপ লাগছে??
সানি-না,,,এমনিই।
(তখনই সানির নাম ধরে স্যার বলে উঠলো...)
স্যার-সানি,,,বোর্ডে এসো।এই ম্যাথটা সল্ব কর,,,,
সানি-আ্ আমি?
স্যার-হ্যা,,তুমি।এসো বলছি।
(সানি ধীরে ধীরে হোয়াইটবোর্ডের কাছে এগোচ্ছে।স্যার তার হাতে মার্কার ধরিয়ে দিলো।এটা ধরতে কষ্ট হচ্ছে সানির।হাতে যে প্রচুর জ্বালা করছে।কিন্তু এই কথা স্যার কে কিকরে বলবে???অগত্যা বোর্ডে গেলো সানি।অল্প একটু লিখতেই হাত ফসকে মার্কারটা নিচে পরে যায়।,,,হাতের ব্যাথায় বলে উঠে সানি...)
সানি-আ্ আমি পারবো না স্যার।
স্যার-কি,,পারবে না?? এই শিক্ষা নিচ্ছো তুমি??এর শাস্তি পেতে হবে..(কড়া গলায়)
(তখনই বাইরের করিডোর দিয়ে হেটে যাচ্ছিলো আদ্র।হঠাৎ তার চোখ পরলো স্যার সানিকে বকছে।তা দেখে আদ্র ঐ ক্লাসের দিকে এগোতে থাকলো।কিন্তু বিপত্তি সে যাওয়ার আগেই হয়ে গেলো।,,,শাস্তি হীসেবে স্যার সানির ডাক হাতে ব্যাত দিয়ে কসিয়ে একটা বাড়ি দেয়।ব্যাথায় সানি কুকড়ে উঠে।)
সানি-আহহ,,,
আদ্র-ডল!!!
(বলতে বলতে সানির কাছে আসতে লাগলো আদ্র।,,,,,কিন্তু একি,,সানির হাত থেকে চিরচির করে রক্ত গড়িয়ে পরছে।হাত কাপছে সানির।এই ঘটনার জন্য কেউই প্রস্তুত ছিলো না।স্যারও অবাক,,, শুধু তো একটা মাইরই দিলো।তাহলে রক্ত বের হওয়ার কারন কি!!!)
(আদ্র গিয়ে সানির হাত ধরতেই সানি এক ঝটকায় আদ্রের হাত ছাড়িয়ে নেয়।,,,জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলতে থাকে।দেখেই বোঝা যাচ্ছে সানি রেগে আছে।,,,,,আদ্রের দিকে অপরাধী দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিচে থেকে মার্কারটা তুলে নেয় রক্ত মাখা হাতে।,,,কাপা কাপা হাতে বোর্ডে অঙ্ক করতে শুরু করে।,,,এদিকে সানির এই অবস্থা দেখে আদ্রের বুক ফেটে যাচ্ছে।সে গিয়ে সানিকে থামানোর চেষ্টা করলে সানি সেই আগের মতোই আদ্রকে দুরে সরিয়ে দেয়।,,,,)
আদ্র-ডল,,ডল প্লিজ,,এমনটা করো না।তোমার কষ্ট হচ্ছে তো।প্লিজ আমার কথা শুনো।
(সানির আদ্রের কথায় পাত্তা না দিয়েই নিজের মতো ম্যাথ সল্ব করতে লাগলো।পুরো ক্লাসের সবাই অবাক।এমনকি স্যারও।,,,,,,,অনেকাংশ করার পর সানির কেমন মাথাটা ঘুরে উঠলো,,,।ভর সহ্য করতে না পেরে চোখ বন্ধ করে এক কদম পিছিয়ে যায় মাথায় হাত চেপে।তা দেখে আদ্র সানিকে ধরে ফেলে।হুস আসতেই সানি আবার সোজা হয়ে দাড়িয়ে আবার ম্যাথ সল্ব করতে লাগলো।অবশেষে সম্পুর্ন হলো সানির ম্যাথ।শেষ হতেই সানি ঢুলতে শুরু করলো।কোনো রকমে হাতের মার্কারটা স্যারের হাতে ধরিয়ে দিয়ে ঘুরে পরে যেতে নিলেই আদ্র তাকে ধরে ফেলে,,)
আদ্র-ডল,,,ডল??কি হয়েছে তোমার??এই ডল,,চোখ খোলো প্লিজ।
(আদ্র সানিকে পাজা কোলে তুলে নিলো।তখনই স্যার বলে উঠলো...)
স্যার-একি মিঃ আদ্রিয়ান? কি করছেন আপনি।ওকে নামান।ওর ফ্যামিলিকে খবর দেওয়া হোক।ওরাই যা করার করবে।আপনি নামান ওকে??
(আদ্রের রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে,,,স্যারের দিকে ঘুরে বললো...)
আদ্র-ইউ কান্ট স্টপ মি। ওকেয়??অর ফ্যামিলি মেমবার???আই এম হার ফ্যামিলি মেমবার।ইস ইট ক্লিয়ার??
স্যার-বললেই হয়ে গেলো নাকি?আপনি কে হন ওর??দেখুন মিঃ আদ্রিয়ান।আপনি এটা করতে পারেন না।
আদ্রিয়ান-এখানে ও অসুস্থ হয়ে পরেছে আর আপনি ফ্যামিলি নিয়ে পরে আছেন??রাবিস,,,(রাগি কন্ঠে)
(এদের চেচামেচি শুনে প্রিন্সিপাল এলেন...)
প্রিন্সিপাল-কি হয়েছে কি।ক্লাসে এতো চেচামেচি কেন???আরে??একি হলো ওর??সানির কি হয়েছে??
আদ্র-স্যার,,,ওকে ইমিডিয়েট চিকিৎসা করতে হবে।হাত থেকে রক্ত পরছে ডলের??
প্রিন্সিপাল-হ্যা,,,হ্যা,,,তুমি ওকে মেডিকেল হলে নিয়ে যাও।ওখানে ডক্টর আছেন।
আদ্র-হুম।
(আদ্র সানিকে নিয়ে কলেজের মেডিকেল হলে ছুটলো।এটি কলেজেরই একটি হলরুম।কোনো মেডিকালি প্রবলেমের জন্য বরাদ্দ এটি।আদ্র সানিকে নিয়ে এখানে আসতেই ডক্টর সানির হাত ব্যান্ডেজ করে দিলো।,,,,,আদ্র সানিকে নিকের থেকে আলাদা করছেই না।এখনো কোলেই রেখে দিয়েছে।)
ডক্টর-মিঃআদ্রিয়ান।ওকে সুইয়ে দিন না বেডে।
আদ্র-নো।সি ইজ ওকেয় ইন দেয়ার।
ডক্টর-আই নো সি ইজ ওকেয়।বাট,,আপনার কষ্ট হচ্ছে না??
আদ্র-হচ্ছেই তো।তবে আমার ডলের এই অবস্থা দেখে।কি হয়েছে ওর ডক্টর??
ডক্টর-দেখুন,,, ও হয়তো সকাল থেকে কিছু খায়নি।তাই মাথা ঘুরে গেছে।আর জ্বরও এসেছে।কোনো কিছু নিয়ে টেন্সনে ছিলো কি??বা ভয় পেয়ে ছিল??
আদ্র-ইয়েস ডক্টর।বাট নাও আই কান্ট সেয় দিস ম্যাটার।,,,আচ্ছা ডক্টর??ইদানিং ও একটু বেশিই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।আর বার বার এই জ্ঞান হারাচ্ছে।
ডক্টর-দেখুন,,,ওর এই জ্ঞান হারানোটা আগে থেকেই।কোনো কিছু নিয়ে বেশি চিন্তা করলে বা ভয় পেয়ে গেলে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ও।ওর ব্রেন এতটা প্রেসার নিতে পারে না।তাই এমন হয়।আর আই থিংক ওর এই রোগটা জন্মগত নয়।কোনো এক কারনে মানে হয়তো অতীতে এমন কিছু একটা হয়েছে যে ও তখন নিজের জ্ঞান শূন্য হয়ে গিয়েছিলো।একটু বেশিই সক্ড জাতীয় কিছু???
আদ্র-কি হতে পারে ডক্টর??
ডক্টর-আই ডোন্ট নো।বাট কিছু তো একটা হয়েছেই।
আদ্র-ওর বাবা,মায়ের মৃত্যু???
ডক্টর-এক্সাকলি।হয়তো এই বিষয়টাই ওকে এমন করে তুলেছে।যাই হোক,,আমি মেডিসিন দিয়ে দিচ্ছি।ওর ফ্যামিলি মেমবারে এটি দিয়ে দিবেন।
আদ্র-আমিই ওর মেন গার্জিয়ান
ডক্টর-এটা কি করে???
আদ্র-সি ইজ মাই উডবি ওয়াইফ।
ডক্টর-হোয়াট!!!!আর ইউ ম্যাড?
আদ্র-ইয়েস।ওনলি ফর হার।
ডক্টর-দেখুন,,,ও এখনো বাচ্চা।এখন যদি আপনি ওকে বিয়ে করেন,,তাহলে আপনার বিরুদ্ধে লিগেল স্টেপ নেওয়া হবে।
আদ্র-আপনি ভুল বুঝছেন।ও প্রাপ্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত ওর কোনো ক্ষতি আমি করবো না।
ডক্টর-গুড।আপনার ডিসিশনকে আমি সমর্থবন করছি।
আদ্র-আমরা কি এখন যেতে পারি?
ডক্টর-হুম,,অবশ্যই। আর ওকে কিছু খাইয়ে দেবেন।জ্ঞান ফিরলে।
আদ্র-ওকেয়।
(আদ্র সানিকে নিয়ে তার গাড়িতে বসালো।তারপর দরজা বন্ধ করে আবার স্কুলে গিয়ে প্রিন্সিপালের সাথে দেখা করলো...)
আদ্র-স্যার।আমি ডল আই মিন সানিকে নিয়ে যাচ্ছি।
প্রিন্সিপাল-ওকেয়।আদ্র,,,তোমার আর সানির সম্পর্কের কথা যদিও আমি জানি,,তুমি তো বারন করলে কাউকে কিছু জানাতে না।আজকের ঘটনার পরে অনেকেই অনেক কিছু জিজ্ঞেস করছে।কি বলবো এখন??
আদ্র-যে যাই বলুক।আমি কাল কথা বলবো।এখন আমার ডলের পাশে থাকাটা জরুরি।তাই আমি সবার সাথে কালকে কথা বলবো।আর স্যার।এই বিষয়ে ডল যেন কিছু না জানে।প্লিজ।
প্রিন্সিপাল-ওকেয়।ইউ ডোন্ট ওয়ারি।তুমি যাও।আর হ্যা,,,ওকে যেন সুস্থ দেখি আমি।
আদ্র-ওকে স্যার।,,,বাই।
(বলেই আদ্র হনহন করে গিয়ে গাড়িতে উঠলো।গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চালাতে শুরু করলো।কিছুক্ষণ পরে সানি পিটপিট করে চোখ খুললো।এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো সে গাড়িতে আছে।পাশে তাকাতেই দেখলো আদ্র সামনে তাকিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে।)