আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ১৪

🟢

সন্ধ্যা ৭টা

(সবাই রেডি হচ্ছে আয়ন্তির হলুদ অনুষ্ঠানের জন্য।,,,এই অনুষ্ঠানেও থিম করা আছে ড্রেসআপ নিয়ে।,,ছেলেরা পরেছে নেভিব্লু কালারের পাঞ্জাবি। সাথে ব্লাক পাজামা।,,, আর মেয়েটা পরেছে সাদা জরজেট লেহেঙ্গা। সাথে ফুলের গহনা।শুধু আয়ন্তি পরেছে হলুদ লেহেঙ্গা। তার সাথে পুতুির অর্নামেন্স।,,,,হলুদের অনুষ্ঠান হবে বাড়ির ছাদে।সেখানে পাশাপাশি দুটো স্টেজ করা হয়েছে।একটা হলুদের স্টেজ।আর একটা ডান্স ফ্লোর।যেটা একটু বড়।সবাই এক এক করে বাড়ির ছাদে উঠছে।আদ্ররা সবাই ছাদেই ছিলো।শারমায়া এসে বললো...)

শারমায়া-এই ভাইয়া।

আদ্র-হুম বল।ডল কে ঠিক মতো রেডি করেছিস তো??

শারমায়া-তার কথাই তো বলছি।

আদ্র-হুম??কেন কি হয়েছে ওর???

শারমায়া-আরে,,,ওকে সবার মতোই সাজিয়ে দিলাম।কিন্তু ও গিয়ে রুমে বসে আছে।বলছে নাকি ও আসবে না।

আদ্র-কি!!

শারমায়া-হুম।তুই যা না একটু।ওকে নিয়ে আয়।

আদ্র-আচ্ছা,,তোরা তাক।আমি দেখছি।ওর আবার কি হলো কে জানে?

(বলেই নিচে গেলো। সানির রুমের সামনে এসে দেখলো সানি রুমের দরজা বেড়িয়ে রেখেছে।আদ্র দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো।,,,দেখলো।সানি উলটো ঘুরে জানালার সামনে দাড়িয়ে আছে।আদ্র পুরোই ঘায়েল সানিকে এই রুপে দেখে।,,,সাদা লেহেঙ্গায় একদম সাদা পরী লাগছে। জানালা দিয়ে বাতাস বইছে।যার দরুণ সানির খোলা চুলগুলো উরছে।সাথে জানালার দুপাশের পর্দাগুলোও সমান তালে দোল খাচ্ছে।এ যেন ওয়েদারটাকে আদ্রের পুতুলের সাথে মিলিয়ে তৈরি করেছে।,,আদ্র এক ঘোরের মধ্যে হারাতে লাগলো।মূহুর্তটাকে নিজের কাছে বন্ধি রাখার জন্য হাতে থাকা ফোনটা দিয়ে কয়েকটা ছবি তুলে নিলো তার পুতুলের।,,, আবার ফোন রেখে বুকে দুহাত ভাজ করে সানিকে দেখতে লাগলো আদ্র।)

(এদিকে দরজা খুলার আওয়াজ পেয়ে সানি ওদিক ফিরেছিলো।কিন্তু অনেকক্ষণ হলো কারোর আওয়াজ পাচ্ছে না সানি।তাই কাপাকাপা কন্ঠে বললো...)

সানি-ক্ কে??

(আদ্রের ঘোর ভাঙলো।সে অপ্রস্তুত হয়ে বললো..)

আদ্র-হুম??হুম, না হ্যা,,আমি।

(সানি সেই আগের মতো থেকেই বললো..)

সানি-আ্ আপনি,, এখন এ্ এখানে??

আদ্র-হুম,,তুমি ওখানে কেন যাচ্ছো না ডল??কি হলো তোমার?

সানি-এমনি,,ক্ কিছু হয়নি তো।আমার ইচ্ছে করছে না।

আদ্র-বললেই হলো।আর তুমি ওদিক ফিরে আছো কেন??

(বলপই সানির কাছাকাছি এসে দাড়ালো।)

সানি-এ্ এমনি।

আদ্র-দেখি এদিকে ফেরো।

সানি-না,,,

আদ্র-কেন??কি সমস্যা তোমার??আমাকে বলো।কোনো প্রবলেম??

সানি-না,,এমনিই।

আদ্র-দেখি কি হয়েছে তোমার।

(বলেই আদ্র জোর করে সানিকে নিজের দিকে ঘোরালো।লজ্জায় +ভয়ে সানি চোখ খিচে বন্ধ করে ফেললো।,,,,, তা দেখে আদ্র ভ্রু কুচকে ভাবলো..)

আদ্র-ডল ব্লাশ করছে?বাট কেন??আমার দিকে তাকাতে ওকে ব্লাশ করার কি আছে??(মনে মনে)

আদ্র-এভাবে আছো কেন ডল??

সানি-(চুপ)

আদ্র-কি হলো বলো??আর যেতে চাইছো না কেন??

সানি-আমি এই অ্ অবস্থায় যাবো না ওখানে।

আদ্র-কোন অবস্থার কথা বলছো তুমি??আমি তো বুঝতে পারছি না।

সানি-না,,না,,ক্ কিছু না।

আদ্র-তুমি বলবে নাকি আমি তোমাকে জোর করে নিয়ে যাবো?

সানি-না না,,আমি যাবো না।

আদ্র-তাহলে বলো কি প্রবলেম হচ্ছে।

(সানি এবার কাপাকাপা হাতে তার নিজের কোমরের দিকে ইশারা করলো।,,, তার ইশারা অনুযায়ী আদ্র সেদিকে তাকাতেই বুঝতে পারলো যে সানি এভাবে কোমর দেখাতে চায় না।তাই যেতে লজ্জা পাচ্ছে।কিন্তু সেটাতো পরের কথা,,, এই মূহুর্তে আদ্রের একটা অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করে ফেলতে ইচ্ছে করছে যেটা হয়তো উচিৎ না।কিন্তু তার অবচেতন মন তা শুনতে নারাজ।,,,,,আদ্র এক ঝটকায় নিজের চোখ বন্ধ করে জোরে জোড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলো।,,,,কিছুক্ষণ এমন করার পর নিজেকে একটু সামলে চোখ খুলে দেখলো সানি এখনো আগের মতোই চোখ খিচে দাড়িয়ে আছে।৷)

আদ্র-আরে,,এবার তো চোখ খুলো।

(সানি আস্তে আস্তে চোখ খুললো।,,,দেখলো আদ্র তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।)

সানি-আমি এভাবে যাবো না।

আদ্র-আমি এখন যা যা বলবো তুমি তাই তাই করবে ওকেয়??

সানি-কি করবো??

(আদ্র এবার সানিকে আস্তে আস্তে বলতে লাগলো কি করতে কি করবে সে।আদ্রের কথা মতো সানি এখন মোটামুটি লেহেঙ্গাটার ওরনা ঠিক করে পরেছে।,,,)

আদ্র-এবার ঠিক আছে??

সানি-হুম।

আদ্র-এবার যাওয়া যাক??

সানি-বলছিলাম যে না গেলে হয়না??

আদ্র-ডল,,তুমি আবার ওসব ভাবতে শুরু করলে??বাদ দাও না ওসব বাজে চিন্তা।আমি আছি তো?,,,,

সানি-হুম

আদ্র-চলো।

(বলেই সানির হাত ধরে হাটতে গিয়ে আবার থেমে গেলো।)

আদ্র-তোমার হাতের ব্যানডেজ কোথায়?.

সানি-খুলে ফেলেছি।আসলে শাওয়ার নেওয়ার সময় ভিজে গিয়েছিলো।তাই।

আদ্র-ওহ আচ্ছা।ভালো করেছো।ভেজাটা হাতে থাকলে আরো ইনফেকশন হতো।এখন হাতে জালা করছে??

সানি-না,,ঠিক আছে।

(আদ্র এবার সানির হাত ধরে হাটা শুরু করলো।,,সিড়ির কাছে আসতেই আদ্র অনেক সাবধানে সানিকে ধরে উপরে উঠালো।,,,,,এতক্ষণে অনুষ্ঠান জমজমাট।আয়ন্তিকে সবাই হলুদ লাগাচ্ছে।আদ্র সানিকে নিয়ে সেখানে গেলো।প্রায় সবার হলুদ লাগানো শেষ।আদ্র সানিকে আয়ন্তির পাশে বসালো।তারা দুজনেই আয়ন্তিকে হলুদ লাগিয়ে দিলো।এরপর উঠে যেতে নিলে আয়ন্তি সানির হাত ধরে বললো...)

আয়ন্তি-আমার সাথে বস না পিচ্চি।

সানি-আচ্ছা।

আদ্র-ডল,,,তুমি বসো,, আমি আছি এখানেই।

সানি-আচ্ছা।

(আদ্র চলে গেলো।,,,,,কিছুক্ষণ পরেই সায়মান পাশের বড় স্টেজে উঠে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বললো...)

সায়মান-সম্মানিত মান্য গন্য মাথা শূন্য বদ্রলোক গন।,,,এতক্ষণে আমাদের আয়ন্তি রানির গায়ে হলুদ টাচ করানো হয়ে গেছে।সো আমরা এখন শুরু করতে যাচ্ছি একটু মসলাদার,,মজাদার,,জমজমাট নাচা গানা।,,, So guys,,, are you ready for this???

(সবাই একসঙ্গে বললো...)

----Yessssss

সায়মান-তো সবার প্রথমে আমাদের নাচ দিয়ে মুগ্ধ করতে আসছে আমাদের আজকের অনুষ্ঠানের মধ্যমনি,,,,,,,,,কে বলুন তো????

-----আয়ন্তিইইইই!!!!!

(সবাই হাততালি দিয়ে উঠলো।,,,,,আয়ন্তি গিয়ে পারাম সুন্দরী গানে নাচলো।,,,নাচ শেষে সবাই হাততালি দিয়ে উঠলো।,,,,এবার সায়মান আবার বললো...)

সায়মান-এবার আমরা শুরু করতে যাচ্ছি একটা গেম।,,,,যেই গেমে অংশ নিতে যাচ্ছে এখানে থাকা সকলেই।,,,,তো সবাই কি জানতে চাও কি এই গেম???

সবাই-হ্যা,,,,

সায়মান-তো চলো আমরা শুনি কি এই গেম??তো আমাদের এই গেম সম্পর্কে বলবে আমার একমাত্র পেতনি,, শাঁকচুন্নি বোন শারমায়া।।

(এবার শারমায়া মঞ্চে উঠলো।উঠেই সায়মানের পিঠে একটা চাটি মারলো।তারপর মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বললো...)

শারমায়া-তো গায়েজ,,, আমাদের গেমের রুল্স হলো।ছেলেরা একপাশে এবং মেয়েরা থাকবে আরেক পাশে।আমাদের কাছে অনেকগুলো ভাজ করা চিরকুট আছে যাতে লিখা আছে অনেক গানের নাম।আর এক এক জন করে এখানে এসে একটা করে চিরকুট তুলবে আর যেই গানের নাম আসবে সেই গানটা গাইতে হবে।আর না হয় সেই গানের সাথে নাচতে হবে।আর একটা কথা হলো।সে চাইলে অপরপক্ষ থেকে একজন পার্টনারও নিতে পারে।,,,,,,,সবাই রাজি তো???

সবাই-ইয়েসসসসস

শারমায়া-তো কথায় আছে,,, যেখানে লেডিস সেখানেই লেডিস ফাস্ট।তো এখনো আমাদের গেম লেডিস দিয়েই শুরু হবে।তো সবার আগে আসবে আমাদের সবার ছোট,,,ছোটর থেকেও ছোট বন্যা....

(সবাই হাততালি দিয়ে উঠলো।বন্যা হাসি মুখে স্টেজে উঠলো।সে চিরকুট তুলতেই দেখলো তার চিরকুটে লিখা আছে,,,,নাচ মেরি রানি।,,,সবাইকে কার্ড দেখালো সে।এরপর সে গানটার সাথে মোটামুটি সুন্দর করে নাচলো।নাচ শেষে সবাই হাততালি দিয়ে উঠলো।,,,,সায়মান বলে উঠলো...)

সায়মান-এবার আসতে চলেছে আমার বোনের একমাত্র বোন আই মিন আমার চাচার ঘরের অন্ন ধ্বংসীনি রুসা,,,,,,,,

রুসা-সায়মানের বাচ্চা,, তোকে আমি পরে দেখে নেবো।

(রুসা এবার স্টেজে উঠলো,,, তার চিরকুটে লিখা আছে,,,, পরে না চোখের পলক,,,,,,।রুসা ছেলেদের দিকে তাকিয়ে বললো....)

রুসা-বিহান জি,,,প্লিজ কাম।

বিহান-আহারে,,,তুমি আর কেউরে পাইলানা??আরেই ডাকন লাইগছে ক্যান??না ডাইকলে কি ওইতো ছাই হুনি।নিজে একলা একলাও তো নাইছতা হাইত্তা।

(বিহানের মুখে খাস নোয়াখালীর ভাষা শুনে অনেকেই হেসে দিলো।সাথে রুসাও।কারন ও জানে বিহান এসব মজা করেই করছে।,,,বিহানের পাশেই ছিলো আদ্র।সে বিহানের কানে ফিসফিসিয়ে বললো....)

আদ্র-যা ইয়ার যা।ইসসস,,গানটার সাথে ওয়েদারটা মিলছে না।সো সেড।বাট নো টেনশন দোস্ত।লাভারের সাথে নাচতে গেলে এমনিই ওয়েদার ক্রিয়েট হয়ে যায়।

বিহান-সালা,,,তুইও খেপাচ্ছিস।আসছি।দেখবো তুই কি করিস।আশা করি সব মেয়েরাই তোকে পার্টনার হিসেবে চাইবে।

(বলেই বিহান এক চোখ টিপে উঠে স্টেজে গেলো।এরপর রুসার সাথে নাচলো নানা ভঙ্গিতে।,,,নাচ শেষ হলে সবাই আবার হাততালি দিয়ে উঠলো।,,,,,,সায়মান বলে উঠলো...)

সায়মান-এবার পালা এমন একজনের,, যে এখন আমাদের মধ্যে থাকলেও তার মাইন্ড কিন্তু একানে নেই।তার মাইন্ড আটকে আছে আমাদের রায়াতমনির উপর।

(তার কথা মতো সবাই রায়াতের দিকে তাকালো।সবাই দেখলো সানি রায়াতকে কোলে নিয়ে নানা রকম দুষ্টুমি করছে।তার কোনো হুস নেই যে তার নাম এনাউজ হয়েছে।সানির এমন কান্ডে আদ্র ফিক করে হেসে দিলো এটা ভেবে যে কি মাসুম মেয়েটা,, একটা বাচ্চার সাথে এমন ভাবে মিশে গেছে যে তার অন্য দিকে কোনো খবরই নেই।,,,,সায়মান এবার আবার বলে উঠলো...)

সায়মান-পিচ্চি??

(কিন্তুর সানির কোনো হেলদোল নেই।,,,এবার শারমায়া মাইক্রোফোন হাতে তাকে ডেকে উঠলো...)

শারমায়া-সানি????

(এবারও সানির কোনো হেলদোল নেই।রেশমি সানির পাশেই বসে ছিলো।রেশমি সানির কাধে হালকা ধাক্কা দিতেই সানি তার দিকে তাকিয়ে বললো...)

সানি-হ্যা,,কিছু বলবে আপু??

(রেশমি এবার সানিকে চোখের ইশারায় সামনে তাকাতে বললো..।তার কথা মতো সানি সামনে তাকাতেই দেখলো সবাই তার দিকে কেমন অদ্ভুত হাসি নিয়ে তাকিয়ে আছে।তা দেখে সানি অবাক হয়ে গেলো...)

সানি-আপু,,সবাই আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছে কেন??আমি কি কোনো ভুল করেছি??

সায়মান-পিচ্চি।আপুকে নয়।আমার সাথে কথা বল।বলি এবার তো তোর পালা আসলো।তো চলে আয় স্টেজে।

সানি-আমি!!(অবাক হয়ে)

শারমায়া-হ্যা,,তুই।আয়।

(সানি এবার অপ্রস্তুত হয়ে আদ্রের দিকে তাকাতেই দেখলো আদ্র তাকে চোখের ইশারায় আস্বস্ত করে যেতে বলছে।অনেক কিছু ভেবে সানি আস্তে আস্তে স্টেজে উঠলো।,,তারপর কাপাকাপা হাতে চিরকুট তুলে যা দেখলো তা দেখে সানির মাথায় হাত।চিরকুট হাতে সে চুপ করে দাড়িয়ে আছে।)

শারমায়া-কি এসেছে পিচ্চি।দেখা সবাইকে।

সায়মান-পিচ্চি।নাচ না পারলে গেয়ে দে।ইজিতো।

(সানি এবার কাপা কাপা হাতে সবাইকে চিরকুটটা দেখালো,,,সবাই দেখলো চিরকুটে লেখা আছে৷,,, সোনা কিতনা সোনা হেয়,,,,,।।)

সায়মান-আরে,,,এই গান তো গাওয়াও সম্ভব না।তোকে তো নাচতেই হবে।

(সানি রুসার দিকে তাকাতেই দেখলো সে তাকে আস্বস্ত করছে।সানি মাথা নেড়ে রুসাকে বোঝালো সে পারবে না।,,তা আদ্রের চোখ এড়ালো না।,,,আদ্র সায়মানকে ইশারায় ডাক দিলো।সায়মান যেতেই আদ্র তাকে কানে কানে কিছু একটা বললো।তারপর সায়মান গিয়ে গান প্লে করলো।গানটা শুনে সবাই অবাক। কারন গানটা মেল ভার্সনে বাজিয়েছে,,,।শারমায়া আস্তে করে স্টেজ থেকে নেমে এলো।সানি ভাবতে লাগলো...)

সানি-গানও প্লে হয়ে গেছে।কিন্তু আমি নাচবো কিভাবে।,,,,(মনে মনে)

(এসব ভাবনার মাঝেই সানি শুনতে পলো সবাই হাততালি দিচ্ছে আর চিল্লাচ্ছে।যেন কোনো সেলিব্রিটি স্টেজে উঠেছে।তা শুনে সানি অবাক হয়ে সামনে তাকালো।তখনই কেউ একজন পেছন থেকে বাদিক থেকে সানির কোমর জরিয়ে ধরলো।আর তার ডান হাত দিয়ে সানির ডান হাত আকড়ে ধরলো।,,,,সানি চমকে মাথা উচু করে পেছন দিকে ফেরালো।দেখলো এটা আর কেউ নয়,,, তার পচা লোকটা।হ্যা,,এটা আদ্রই।আদ্র গানের তালে তালে নিজেও নাচছে আর সানিকেও নাচাচ্ছে নিজের দারা।,,,সানি অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আদ্রের দিকে।তা দেখে আদ্র মুচকি হেসে ফিসফিসিয়ে বললো...)

আদ্র-কি দেখছো হুম??সবাই দেখছে তো তোমাকে।একটু হাসো??আর পুরোটা সময় কি আমিই তোমাকে এভাবে ধরে ধরে নাচাবো??নিজে নাচবে না??অবশ্য তুমি চাইলে সারা জীবন আমি তোমাকে এভাবে নাচাতে পারি।

(এদিকে সানির অবস্থা নাজেহাল।কারন,, আদ্র সচরাচর তার এত কাছে আসেনা।আর না এমন ভাবে টাচ করে।তাই সানির এক অজানা অনুভুতি হচ্ছে,,যার সাথে সে নিজেও পরিচিত না।,,,,,)

সানি-এমন কেন হচ্ছে আমার।এর আগে তো কখনো এমনটা হয়নি।,,,,

(সানির ভাবনার মাঝেই আদ্র তাকে নিয়ে নানা ভঙ্গিতে নাচতে লাগলো।কখনো তাকে নিজের দিকে ঘোরাচ্ছে কখনো দুরে ঠেলে আবার নিজের সাথে মিশিয়ে নিচ্ছে।এভাবেই আদ্র তার নাচ শেষ করলো সানিকে নিয়ে।নাচ শেষ হতেই সবাই হাততালি দিয়ে উঠলো।,,,,আদ্র সানিকে নেমে তাকে নিজের জায়গায় দিয়ে এলো।,,,এপর আদ্র আবার আগের জায়গায় বসলো।পাশে থাক বিহান এখনো ঘোরের মধ্যে আছে,,, সে ঐ ভাবে থেকেই বললো...)

বিহান-ইয়ার,,,এটা কি সত্যিই ছিলো??তুই স্বইচ্ছায় কোনো মেয়ের সাথে নাচলি??

আদ্র-মুখ বন্ধ কর সালা।মশা ঢুকে যাবে।

(বলেই বিহানের গালে একটা চাটি মারলো আদ্র।বিহান এবার সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললো...)

বিহান-কেসটা কি বলতো ইয়ার???কি চলছে শুনি???আর কে ঐ মেয়েটা???

আদ্র-আরে,,আমি জানিন।এমনিই হেল্প করলাম।

(বিহান জানে আদ্রকে জোর করে লাভ নেই সে কিছুই বলবে না।তাই সে আর কথা না বাড়িয়ে গেইমে মতো যোগ দিলো।,,,,আস্তে আস্তে অনেকেরই অংশগ্রহন শেষ হলো,,,।শেষ হতেই সায়মান বললো...)

সায়মান-যেই ছেলেরা কোনো পার্টনার পাননি বা কোনো মেয়ে তাদের পার্টনার হিসেবে সিলেক্ট করেননি তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা।তবে চিন্তা নেই বন্ধুগন।আমাদের জন্যেও অনেক সুন্দর গান আছে।শুনবেন নাকি একবার??

----হ্যা,,হ্যা,,শুনতে চাই

সায়মান-ওকেয়,,,,,♪সিঙ্গেল আছি ভালোই আছি

বিন্দাস জীবন ভাই

ভালোবাসা নামক পেরা এই জীবনে নাই।

(সায়মানের এমন আজগুবি গান শুনে সবাই হেসে দিলো।,,,এভাবেই চলতে লাগলো তাদের আনন্দ। অনুষ্ঠান শেষে যে যার রুমে চলে গেলো ঘুমাতে।কারন কাল আবার বিয়েতে অনেক পরিশ্রম আছে সবার।,,,)

পরদিন,,,,,,,,,

(সকাল গড়িয়ে বিকেল হলো।,,,আয়ন্তিকে পার্লার থেকে লোক এসে সাজাচ্ছে।তার সাথে সাথে বাকি মেয়েরাও সাজছে।এদিকে রুসা আর শারমায়া পরলো টেনশনে।কারন তারা সানির জন্য কিছু কিনেনি বিয়ে উপলক্ষে। যা কিনেছে সব আদ্রই কিনেছে।আর এখন আদ্রকেই পাওয়া যাচ্ছে না।কোথায় যে গেলো সে।আর এই নিয়ে সানির কোনো হেলদোল নেই।সে রায়াতকে নিয়ে মজা করতে ব্যাস্ত।,,,অনেকক্ষণ পরে আদ্র একটা প্যাকেট হাতে নিয়ে তাদের কাছে এলো।,,,,রুসাকে বললো..)

আদ্র-ডলকে এই শারীটা পরিয়ে দিবি।আর অর্নামেন্সও আছে।

রুসা-আচ্ছা।

(বলেই চলে গেলো সানিকে রেডি করতে।,,,অনেক কষ্টে রুসা সানিকে শারী পরিয়েছে।আদ্রের কেনা লাল কাতনে সানির সৌন্দর্য যেন দ্বিগু বাড়িয়ে দিচ্ছে।জোর করে রেডি করালো সানিকে।এরপর সবার সাথে নিয়ে গেলো বাড়ির বাইরে যেখানে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।,,,,,আদ্রও আছে সেখানে।,,,,,সানি গিয়ে এক কোনায় দাড়িয়ে সব কিছু দেখতে লাগলো।তখনই কোথা থেকে জিমান এসে বললো..)

জিমান-হেই গার্ল,,হাই।

(সানি কিছুটা ভয় পেলো।এমন অচেনা মানুষের সাথে কথা বলতে।তবুও সে সৌজন্যমূলক হাসি দিলো।)

জিমান-আম জিমান। ইউ??

সানি-আমি স্ সানি।

(এর মধ্যেই জিমানের পাশে আরে কয়েকজন ফ্রেন্ড এসে দাড়ালো।)

-----সানি??ইউ মিন সানি লিওন???

সানি-কি??এটা কি??

জিমান-কেন জানোনা???ঝগড়া তো ভালোই জানো।সানি লিওন কে সেটা জানোনা??

সানি-ক্ কে আপনারা।আমার সাথে কি দরকার??

জিমান-তু....

(তখনই বিহান জিমানকে ডাক দিলো।জিমান একটু বিরক্ত হলো এই মূহুর্তে।)

জিমান-এখন বেচে গেলে মিস সানি লিওন।তোমায় পরে দেখে নিচ্ছি।,,,,এই চলতো বিহান কেন ডাকছে দেখি।

(বলেই ওরা চলে গেলো।সানি তাদের দিকে আজব চাহানি দিয়ে তাকিয়ে আছে।কারন এদের কাজ সানির মাথায় ঢুকছে না।)

(বরপক্ষ চলে এসেছে।সবাই গেইটে গেলেও যায়নি সানি।কারন সে চায়না আবার এই বিয়ে তার সাথে কারোর জগড়া হোক।,,সানির এই ব্যপারটা আদ্রের চোখ এড়ালো না।আদ্ররা সবাই মিলে সানিকে অনেক বুঝিয়েছে যাওয়ার জন্য।কিন্তু এই ব্যপারে কেউ সানিকে রাজি করাতে পারেনি।,,,,,,)

(কিছুক্ষণের মধ্যেই বিয়ে শুরু হয়ে গেছে।,,,সানি আর বন্যা বসে আছে দুরের দুটো চেয়ারে।বন্যা বসে বসে স্পাইট খাচ্ছে।আর সানি তাকিয়ে আছে বিয়ের দিকে।,,,একটু পরেই তাদের কাছে একটা ছেলে এলো।এটাও আদ্রের এক ফ্রেন্ড। যে তখন জিমানের সাথেই ছিলো।,,)

সিমন-এই যে মিস সানি লিওন।

সানি-দেখুন,,আমি কোনো লিওন না।শুধু সানি।

সিমন- সে যাই হোক।তোমাকে ডাকছে।

সানি-কে??

সিমন-ঐ যে তোমার ঐ আপু।ইয়ে হ্যা রুসা,,,রুসা ডাকছে তোমাকে।বলেছে স্টোররুমে যেতে।,,,

সানি-রুসা আপু এখন ডাকছে।??

সিমন-হ্যা,,তারাতারি এসো।

(বলেই সিমন চলে গেলো।মুখে রইলো তার বাকা হাসি।,,,সানিও এগিয়ে গেলো স্টোররুমের দিকে।.......)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ১৪