সানি-ম্ মামনি???
(পছন থেকে সানির গলার আওয়াজ পেয়ে ঘুরে তাকায় আরিফা।,,,দেখলো আদ্র সানিকে ধরে দাড়িয়ে আছে।সানির চোখমুখ অন্যরকম হয়ে আছে।কেমন যেন ঝিমোচ্ছে সে যার কারনে নিজের পায়ে ভর দিয়ে ঠিক মতো দাড়াতেও পারছে না।,,আরিফা এগিয়ে গেলো সানির দিকে।সানির একগালে হাত দিয়ে আদুরে গলায় বললো..)
আরিফা-আমার মেয়েটার এই অবস্থা কি করে হলো রে মামনি??একটু আগেওতো ভালো ছিলো।আর এখন দেখো,,চোখমুখ কেমন যেনহয়ে গেছে।এখন কেমন লাগছে তোর?
সানি-ভালো মামনি।
আরিফা-তুই জ্ঞান হারালি কিকরে মামনি??
(আরিফার কথা শুনে সানি আদ্রের দিকে তাকায়।তা দেখে আদ্র বললো..)
আদ্র-মাম্মাম আমি তোমাকে পরে বলছি।,,বলছিলাম যে অন্তি খেতে বসেছে।ও সানিকে ডাকছে।
আরিফা-আচ্ছা যা তোরা।আর আদ্র,,ওকে খাইয়ে দিস তুই।আমার মেয়ে এখন অসুস্থ,, ওর খেয়াল রাখবি।
আদ্র-হ্যা মাম্মাম
সানি-ত্ তুমি খেয়েছো মামনি??
আরিফা-দেখ মেয়ের কান্ড।নিজে না খেয়ে জিজ্ঞেস করছে আমি খেয়েছি কিনা।আগে নিজেমখা গিয়ে,,,নাহলে শরীর আরো খারাপ করবে।
সানি-তুমি খাওনি এখনো তাই না???
আরিফা-আমি খেয়ে নেবো ক্ষন।আগে তোরা খেয়ে আয়।
সানি-তাহলে তুমিও চলো একসাথে খাবো।
আরিফা-এখন না মামনি,,এদিকে কিছু কাজ আছে।এগুলো শেষ হলে আমি খেয়ে নেবো।এবার তোরা যা,, খেয়ে নে।
সানি-তুমি চলো না,,,
আরিফা-আমি খাবো তো মামনি।একটু কাজ সেরেই খেয়ে নেবো।তুই যা,, আমার আরেক মেয়ে মানে তোর বড়আপু তোকে ডেকেছে,তুই তাদের সাথে খেয়ে নে।,,আদ্র,,যা,,ওকে নিয়ে যা।
আদ্র-হুম,,,আর মাম্মাম তুমি লেট করোনা।ডিনার করে ঠিক মতো মেডিসিন নিয়ে নিও।ডল,,চলো।
সানি-হুম
(এরপর আদ্র সানিকে নিয়ে এলো বাড়ির বাইরে যেখানে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।,,,)
আয়ন্তি-এইতো,,ভাইয়া আর পিচ্চি চলে এসেছে
সবাই বসে পরো।
রাহুল-ওকে??আয়ন্তি?
আয়ন্তি-ও আমার বোন রাহুল
রাহিল-তোমার তো বোন নেই শুনলাম ভাবি??
আয়ন্তি-ও আমারই বোন।তবে কিছুদিন পরে অন্য কিছু হবে।
রাহিল-তবে যাই হোক,,,ভালোই হলো।ভাবির বোন থাকাতো ভাগ্যের ব্যপার।তাও আরোএত কিউট একটা বোন।,ভালোই জমবে।
(রাহিলের মুখে এমন কথা শুনে আদ্রের মাথায় রক্ত উঠে গেলো। তবুও বোনের দেবর হিসেবে কিছুই বললো না।আদ্র সানিকে আয়ন্তির একপাশের চেয়ারে বসালো।তারপর সানির পাশে দাড়িয়ে বললো..)
আদ্র-আর কেউ বাকি আছে??
আয়ন্তি-আমাদের সাইডের তো আমরা তিনজনই,,আর মাম্মাম আর কাকিয়ারা একটু কাজ সেরেই খেয়ে নেবে।রাহুল,,তোমাদের আর কেউ বাকি আছে?
(রাহুল তাকিয়ে দেখলো রাহিল,,কারান,,সিফা, পিজুস সবাই বসেছে।এখানে রাহিল হলো রাহুলের আপন ভাই।আর বাকি সবাই কাজিন।,,)
রাহুল-হুম,,সবাই আছে এখানে।
আদ্র-ওকেয় গুড।
রাহুল-ভাইয়া,,,তুমি বসে পরো না।
(রাহুল আর আদ্র প্রায় সেম বসয়ের হলেও সম্মানের খাতিরে রাহুল আদ্রকে ভাইয়া বলেই ডাকে।কারন সে আদ্রের ছোট বোনের বর।)
আদ্র-হুম বসছি।তোমরা সবাই শুরু করো।
(হালকা হেসে বললো আদ্র।তারপর সানির অন্যপাশে চেয়ার টেনে একদম কাছাকাছি বসলো।সার্ভেন্ট এসে খাবার সার্ভ করতে লাগলো।আর সবাই নানা রকম কথার মাঝে খাওয়া শুরু করলো।এদিকে আদ্র তার আর সানির জন্য একই প্লেটে খাবার নিয়েছে।এতে সানি কিছুই বললো না।একেই এমন দুর্বল তাই কথা বলতে ইচ্ছে করছে না তার।,,,,,আদ্র সানির মুখের সামনে খাবার ধরে বললো...)
আদ্র-হা করো ডল??
(সানিও কথা না বারিয়ে হা করে নিলো।আর আদ্র এভাবে সানিকে খাওয়াতে লাগলো।)
সিফা-একি,,দা গ্রেট সিঙ্গার আদ্রিয়ান জুনায়েদ একটা মেয়েকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছে"!!!!আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছি না।
রাহুল-তুই বিশ্বাস কর বা না কর।এটাই হচ্ছে।
আয়ন্তি-আসলে পিচ্চি একটু অসুস্থ তো,,তাই ভাইয়া ওকে খাইয়ে দিচ্ছে।
রাহিল-আচ্ছা,, তো ভাবির বোন,,,আপনার নামটা কি??
(সানি আস্তে করে উত্তর দিলো..)
সানি-জ্বী,,,স্ সানি।
কারান-আরে,,,সানি??ইউ মিন সানি লিওন।
(কারানের কথা শুনে সানি কেমন খিপ্ত চোখে কারানের দিকে তাকালো।যা আদ্রের চোখ এড়ালো না।তাই আদ্র বলে উঠলো...)
আদ্র-নো,,,সানি লিওন নয়।শুধু সানি।
(সানি আদ্রের কথা শুনে তার দিকে তাকালো।আদ্র সানিকে চোখের ইশারায় আস্বস্ত করলো।তারপর আবার সানিকে খাইয়ে দিতে লাগলো)
সানি-আপনি খাবেন না??
আয়ন্তি-হ্যারে ভাইয়া,,তুইতো খাবারও নিলি না।দারা আমি খাবার আনতে বলছি।
আদ্র-আরে না,,ডাকিস না।আর ডল,,আমি খাবো তো,,তুমি খাও আগে তারপর আমি খাচ্ছি।আচ্ছা আমরা একসাথেই খাচ্ছি।
(বলেই আদ্র সানির প্লেট থেকে খাবার তুলে মুখে দিলো।)
সানি-আরে,, আপনি আমার এটো খেলেন কেন??
আদ্র-এমনিই,,ভালো লাগলো তাই খেলাম।নাও হা করো
(আদ্রের এমন কাজে সবাই অবাক।তবে কেউই কিছু বললো না।কারন তাদের কারোরই ক্ষমতা নেই দা গ্রেট আদ্রের সাথে কথা কাটাকাটি করার।এমনি এক দু ওয়ার্ড কথা বলতে পারছে,,এটাই তাদের সৌভাগ্য।)
রাহিল-আচ্চা বিয়াইন,,,,আপনার হয়েছেটা কি,,,মনে হচ্ছে উইক আছেন।
আয়ন্তি-আসলে ও একটু অসুস্থ হয়ে পরেছে।তাই।
সানি-শুনছেন??
(আদ্র অন্যদিকে তাকিয়ে ছিলো।তাই তাকে ডাকার জন্য এভাবে ডাকলো সানি।কিন্তু সানির কথা শুনে রাহিল বলে উঠলো..)
রাহিল-হ্যা,,বলুন না,,আমিতো শুনছিই।
(সানি এমন কথা শুনে রাহিলের দিকে বিরক্ত নিয়ে তাকালো।আর বাকি সবাই রাহিলের কথায় হেসে দিলো।আদ্র হাসলো না। কারন তার এমন কাজ সহ্য হয় নি।তাই একটু রাগ লাগলো তার।এই রাগের মাথায় সানির দিকে তাকিয়ে রুডভাবে বললো...)
আদ্র-আমার একটা নাম আছে ডল,,,এসব কি নাম হ্যা??ডিসগাসটিং।,,,
(বলেই আদ্র অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।সবাই আদ্রের এমন হঠাৎ রেগে যাওয়াতে অবাক হলো।,,,সানিও অবাক হলো আদ্রের এমন ব্যবহারে।কিন্তু পরেই নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো।না চাইতেওতার চোখে পানি চলে এলো।যা সবাই দেখছে। আয়ন্তি সানির কাধে হাত রেখে বললো..)
আয়ন্তি-এই পিচ্চি,,,কাদছিস কেন??আরে ভাইয়া এমনিই বললো।এই নিয়ে কাদা লাগে নাকি,,,চুপ কর।
(আয়ন্তির মুখে সানির কান্নার কথা শুনে আদ্র চমকে সানির দিকে তাকায়।,,মাথায় আসে রাগের মাথায় সে সানিকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছে।তাই চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করে নিলো।,,,তারপর সানির হাত ধরতেই সানি ঝটকা মেরে আদ্রের হাত সরিয়ে নিলো।পরপর দুবার এমন করলো সানি।এবার আদ্র জোর করে সানিকে ধরে নিজের কোলে বসালো।তারপর বাহাত দিয়ে সানির মাথা নিজের কাধে রেখে আদুরে গলায় বললো...)
আদ্র-সরি ডল,,আম রিয়েলি সরি।আর কখনো এমন হবে না।কাদেনা প্লিজ।,,
(সানি ওইভাবে থেকেই ফুপাতে লাগলো।)
আদ্র-বললাম তো ভুল হয়ে গেছে।আর করবো না এমন।এই দেখো আমি কান ধরছি।
(আদ্রের এমন ভাবে রাগ ভাঙাতে দেখে সবাই অবাক।,,,,কিছুক্ষণ পর সানি শান্ত হলো।,,,)
আদ্র-নাও,,এবার উঠো তো।খেয়ে নাও।
(সানি ঐভাবেই মাথা নাড়ে।)
আদ্র-আরে,,না বললে কি করে হবে।একটুতো খেতে হবে ডল।
সানি-আমার ইচ্ছে করছে না।
(অনেক জোর করার পরেও সানি খায়নি।আদ্রও আর জোর করলো না।সে সানিকে ঐ ভাবে রেখেই নিজে একটু একটু খেতে লাগলো।,,,অনেকক্ষণ হলো সানি সেই আগের মতো আদ্রের কাধে মাথা রেখে আছে।)
রাহিল-আরে,,, বিয়াইন কি ঘুমিয়ে পরলো নাকি??এটা কিন্তু ঠিক না,,, এত কিউট একটা বিয়াই থাকতে আপনি ভাইয়ের কোলে ঘুমালে??
(রাহিলের এমন কথা শুনে আয়ন্তি আর আদ্র অবাক হয়ে রাহিলের দিকে তাকায়।)
আয়ন্তি -ভাই!!!!
রাহিল-হ্যা,,,তুমিইতো বললে ভাবি,,,যে ও তোমার বোন।তার মানেতো ভাইয়ারও বোন।তাই না?
(আদ্র এবার স্বাভাবিক হয়ে বললো....)
আদ্র-না,,,ও অন্তির বোন হতে পারে,,বাট আমার না।
(আদ্রের কথার মানে কেউই বুঝলো না।,,,)
রাহিল-মানে??
পিজুস-রাহিল,,আর বকিস নাতো।খা এবার।পরে কথা বলতে পারবি।,,
(আর কেউ কিছু বললো না।,,,সবাই খাওয়া শেষ করে উঠে বাড়ির ভেতরে গেলো।সানিকেও আদ্র নিয়ে গেলো।সবাই ড্রয়িংরুমে নিচে গোল করে বসলো।আড্ডা দেওয়ার জন্য।আদ্র সানিকে নিয়ে চলে যেতে চাইলো কিন্তু সবাই জোরাজুরি করলো এখানে থাকার জন্য।তাই সে সানিকে নিজের পাশে বসিয়ে বসলো।এক এক করে সবাই এলো.।রুসা,শারমায়া,রিসব,আয়ন্তি,রাহুল,রাহিল,বিহান,বন্যা,কারান,পিজুস,সিফা।)
রিসব-শায়মান কোথায় ওকে তো দেখছি না।
শারমায়া-ভাইয়াতো জিমান ভাইয়াদের ডাকতে গেছে।চলে আসবে এক্ষুনি।,,
(জিমানের কথা শুনে আদ্র সানির দিকে তাকালো।কিন্তু সানির কোনো ভাবান্তর নেই।,,,)
আদ্র-(জানিনা জিমানকে দেখে সানির কি হবে)(মনে মনে)
(আদ্রের ভাবনার মাঝেই সায়মান জিমান আর সিমনকে নিয়ে এলো।,,,তাদের দেখেই সানি আদ্রের বা হাত পেচিয়ে ধরলো শক্ত করে।মুখ লুকালো আদ্রের পিছনে।এমন দেখে আদ্র সানিকে সামনে এনে নিজের সাথে এক হাত দিয়ে জরিয়ে নিয়ে বললো..)
আদ্র-ডল,,,ভয় পায় না। ওরা কিছু করবে না।দেখো।ওরা বসে আছে।আর আমি আছিতো তোমার সাথে।ভয় পেও না প্লিজ।
(সানি আস্তে আস্তে মুখ হালকা উপরে।তুলে তাকালো।দেখলো সত্যিই জিমান মাথা নিচু করে বসে আছে তার সামনাসামনি।তাই সানি আদ্রকে ওভাবেই ধরে রাখলো।,,,)
সায়মান-তো শুরু হো আজ আমাদের দুপক্ষের আড্ডা।আমাদের সাইডে আছে,,, আয়ন্তি,রুসা,শারমায়া, রিসব,বিহান,জিমান,সিমন,দাগ্রেট সিঙ্গার আদ্রিয়ান জুনায়েদ,আমাদের একমাত্র পিচ্চি বোন সানিএবং আমি নিজে,,গ্রেট থেকেও গ্রেট দা ওয়ান এন ওনলি সায়মান।এবার দেখা যাক বরের দিকে কে কে আছে??
রাহিল-আমাদের সাইডে আছে রাহুল,,,পিজুস,কারান, সিফা,,এন্ড মি।,,
শারমায়া-ওওও,,আমাদের মেমরার বেশি।,,ইয়েএএএ।
পিজুস-ওয়ে ম্যডাম,,আমাদের বাড়ি চলুন,,মেমবার কাকে বলে দেখিয়ে দেবো।
শারমায়া-সে যাই বলেন বিয়াইন।এখনতো আমরাই বেশি।
সায়মান-আপনারা দেখতে পাচ্ছেন,,শুরুতেই শুরু হয়ে গেলো যুদ্ধ বরপক্ষ ভিএস কনে পক্ষ।তো এখন এই ঝগড়া না বারিয়ে শুরু করি আমাদের আজকের আড্ডা।তো প্রথমেই আমাদের গান শুনাবেন বরপক্ষ থেকে,,,,,
পিজুস-বর পক্ষ থেকে???
সায়মান-স্বয়ং বর নিজেই।তো দুলাভাই,,,শুরু করুন।